আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে শূন্যতার স্বরূপ

লেখক:

কানন পুরকায়স্থ

বাংলায় ইংরেজি ‘Vacuum’ শব্দটিকে বলা যেতে পারে শূন্যতা। গ্রিক দার্শনিকরা বায়ুর অনুপস্থিতিকে শূন্যতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, শূন্যতা হচ্ছে বায়ুশূন্য। আর কারো মতে, শূন্যতা বলতে কোনো কিছু নেই। কেউ কেউ বলেছেন, সৃষ্টির উদ্ভব হয়েছে শূন্যতা থেকে, যাকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানীরা বলেছেন –  ‘Creation of something out of nothing’।

ঋক্বেদের নবম ম-ল ১২৯ সূত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘সেকালে যা নেই তাও ছিল না, যা আছে তাও ছিল না। পৃথিবী ছিল না, অতিদূর বিস্তার আকাশও ছিল না। আবরণ করে এমন কী ছিল? কোথায় কার স্থান ছিল?’

এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে ঋক্বেদ নানা সৃষ্টিতত্ত্বের উল্লেখ করেছে। এই সূত্রে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, ‘সর্বপ্রথমে অন্ধকারের দ্বারা অন্ধকার আবৃত ছিল। সমসন্তই চিহ্নবর্জিত ও চতুর্দিকে জলময় ছিল। অবিদ্যমান বস্ত্ত দ্বারা সে সর্বব্যাপী আচ্ছন্ন ছিল।’ এই ‘অবিদ্যমান’ বস্ত্তটি কী?

এ-ধরনের প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। আধুনিক বিজ্ঞান, গ্রিক দর্শন ও উপনিষদের আলোকে এই শূন্যতার স্বরূপ অন্বেষণ করা এ-প্রবন্ধের লক্ষ্য।

দুই

খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক থেইলস (Thales) শূন্যতার অসিন্তত্বকে অস্বীকার করেন। তাঁর মতে, ‘Something can’t emerge from nothing, nor can things disappear from nothing’। গ্রিক যুক্তিবাদীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘Does thinking about nothing make it something?’ গ্রিক দার্শনিক আরো মনে করেন – ‘Nothing means absence of something’। থেইলস ‘hylogism’-এ বিশ্বাসী ছিলেন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী প্রাণ থেকে বস্ত্তকে অথবা বস্ত্ত থেকে প্রাণকে পৃথক করা যায় না এবং এই বিশ্বব্রহ্মা–র সবকিছুই ঈশ্বরের প্রকাশ। তবে প্রশ্ন হলো, এই বিশ্বব্রহ্মা- কোথা থেকে সৃষ্টি হলো। থেইলসের মতে, এ সবকিছু জল থেকে সৃষ্টি হয়েছে। থেইলসের ছাত্র দার্শনিক এনেক্সিম্যান্ডার (Anximander) থেইলসের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্রহ্মা- জল থেকে সৃষ্টি হতে পারে না, বরং বিশ্বব্রহ্মা- কোনো অবস্ত্ত বা ‘Immaterial’ থেকে জাত। এই অবস্থাকে এনেক্সিম্যান্ডার ‘principle’ বলে আখ্যায়িত করেন। আমরা অ্যারিস্টটলের Physics গ্রন্থেও পাই – ‘everything is either a principle or derived from a principle, but the limitless has no principle for then it would be a limit. It is ingenerated and indestructible and so is a principle’। এনেক্সিম্যান্ডারের ছাত্র এনেক্সিমেনাস (Anaximenes) এই ‘principle’-কে বললেন ‘limitless air’। তাঁর মতে, সবকিছু বায়ু থেকে সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীকালে অ্যারিস্টটলের ছাত্র
থিওফ্রেটাস (Theophrastus) এনেক্সিমেনাসের ধারণাকে বর্ণনা করেন এভাবে-

‘Being made rarer (or finer) air becomes fire, being made thicker it becomes wind, the cloud then when thickened still more water, the earth, then stones, and the rest comes into being from these.’

অর্থাৎ বায়ু থেকে অগ্নি, অগ্নি থেকে বায়ুপ্রবাহ, তা থেকে মেঘ, জল, ভূমি, পাথর ইত্যাদির সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে দার্শনিক হেরাক্লিটাস (Heraclitus) উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্রহ্মা–র সবকিছু অগ্নি থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

 

তিন

খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে দার্শনিক এমপিডোকলেসকে (Empedocles)  প্রশ্ন করা হয় – বায়ু কি একটি পদার্থ, না শূন্যস্থান? তখন এমপিডোকলেস সৃষ্টির মৌলিক উপাদান সম্পর্কে বললেন, এই বিশ্বব্রহ্মা- বায়ু, জল, অগ্নি ও ভূমি – এই চার উপাদানে তৈরি। তাছাড়া, শূন্যস্থানে রয়েছে বায়ুর চেয়ে হালকা ‘ইথার’ নামে এক ধরনের পদার্থ। শূন্যতা মানে ইথারে পূর্ণ।

অপরদিকে গ্রিক দার্শনিক এনেক্সগোরাস (Anaxagoras) শূন্যস্থানের ধারণাকে সম্পূর্ণ বাতিল করে দেন। তাঁর মতে, সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে সৃষ্ট এক ধরনের সুশৃঙ্খল অবস্থা। শূন্যতা থেকে কোনো কিছুর সৃষ্টি হতে পারে, এ-ধরনের ধারণাকে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাসও বর্জন করেছিলেন। তবে ডেমোক্রিটাস শূন্যতার অসিন্তত্বকে অস্বীকার করেননি। তাঁর অ্যাটমিক তত্ত্ব অনুযায়ী কোনো বস্ত্ত শূন্যস্থান এবং অসংখ্য অবিভাজ্য কণা বা পরমাণুর সমষ্টি। ডেমোক্রিটাস মনে করতেন বাসন্তবতা বা ‘reality’-র রয়েছে দ্বৈত সত্তা। একটি হলো ‘being’ যেমন পরমাণু এবং অপরটি হলো ‘not being’ অর্থাৎ শূন্যতা। পরমাণুকে গতিশীল হতে হলে এ দুয়েরই প্রয়োজন। রোমান কবি লুক্রিটাস (Lucretius) ডেমোক্রিটাসের তত্ত্বকে কল্পনা করেন এভাবে, পরমাণুগুলো একটি হুকের সাহায্যে একটির সঙ্গে অপরটি যুক্ত। লুক্রিটাস আরো বলতেন, ‘Nothing can be created from nothing’। উপনিষদের ‘বায়ু সূত্রে গাঁথা’ – ধারণার সঙ্গে আমরা লুক্রিটাসের কল্পনার মিল খুঁজে পাই। এখানে উল্লেখ্য, হেরাক্লিটাস (খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪০-৪৮০) বায়ু সূত্রের ধারণাকে না মানলেও গ্রিক দর্শনে তিনি একটি নতুন পথের সন্ধান দেন। তিনি মনে করতেন, পরিবর্তন হচ্ছে প্রকৃতির একমাত্র স্বভাব। তাঁর ভাষায়, ‘All things are in a state of flux’। একটু উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘You can not step into the same river twice, for fresh waters are ever flowing in upon you।’ এখানে আমরা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের দ্বৈত সত্তার ধারণা পাই। যেমন বাসন্তবতা ভিন্ন হলেও এক এবং অভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ টেমস নদীতে যদি কেউ পা রাখে, তারপর তুলে ফেলে এবং আবার পা রাখে, তাহলে প্রথমবার পা যে-জল স্পর্শ করবে, দ্বিতীয়বার সে-জল হবে ভিন্ন। তাই বাসন্তবতা ভিন্ন, কিন্তু টেমস নদী অভিন্ন।

অ্যারিস্টটল যুক্তির সাহায্যে শূন্যতার অসিন্তত্ব যে নেই, তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, শূন্য বলে যদি কিছু থাকে এবং তাতে কোনো কিছু রাখা সম্ভব হয়, তাহলে একই স্থান ও কালে শূন্যস্থান বলে কিছু থাকতে পারে না। তাঁর মতে, প্রকৃতি শূন্যতাকে পরিহার করে। সেন্ট অগাস্টিন তাঁর Confessions গ্রন্থে উল্লেখ করেন –   ‘It was not absolute nothingness, it was a kind of formlessness without any definition… True reasoning convinced me that I should wholly subtract all remnants of every kind of form if I wished to conceive the absolutely formless. I could not achieve this’ অর্থাৎ সেন্ট অগাস্টিন সম্পূর্ণরূপে শূন্য কোনো কিছুর অসিন্তত্বকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। রেনে দেকার্ত (Rene Descartes) তাঁর Discourse of Method গ্রন্থে উল্লেখ করেন – ‘I am in a sense something intermediate between God and naught.’ বস্ত্তত দেকার্ত শূন্যতার অসিন্তত্বকে অস্বীকার করতেন। তার কারণ হিসেবে আমরা পাই যে, তিনি শূন্যতাকে ভয় করতেন এবং ভয় থেকেই উপেক্ষা। এক্ষেত্রে আমরা দেকার্তের সঙ্গে অ্যারিস্টটলের মিল খুঁজে পাই। তবে আমরা দেকার্তের অন্যান্য রচনায় যেমন Meditations and other metaphysical writtings-এ লক্ষ করি, তিনি শূন্যতায় ঈশ্বরের অসিন্তত্ব এবং অসীমকে (infinite) উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। ‘গ্যালিলিও প্রথম পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্যে শূন্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। গ্যালিলিও দেখান যে, বাতাসের ওজন আছে। কোনো পাত্র থেকে বাতাস চলে গেলে তার ওজন কমে যায়। যদিও গ্যালিলিও বাতাসশূন্য পাত্র পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্যে দেখাতে ব্যর্থ হন, তাঁর ছাত্র টরিসেলি (Toricelli) ১৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দে একটি টিউব এবং পারদের সাহায্যে শূন্যতা তৈরি করতে সমর্থ হন। বিজ্ঞানী প্যাসকেল (Blaise Pascal) পরবর্তীকালে ফ্রান্সে টরিসেলির পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করেন। প্যাসকেল তাঁর Pensees গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন –  ‘What is man in nature? Nothing in relation to the infinite, everything in relation to nothing, a mean between nothing and everything। বস্ত্তত শূন্যতা নিয়ে প্যাসকেলের পরীক্ষার পর থেকেই এটি বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়বস্ত্ত হয়ে ওঠে।

শূন্যতা নিয়ে বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের মধ্যে চিন্তাভাবনার কি কোনো পার্থক্য রয়েছে? বিশিষ্ট জার্মান দার্শনিক হিদেগার (Heidegger) মনে করেন – ‘nothingness is not a problem for science and can be of no interest to it; for science it is simply a word meaning that something is not there।’ হিদেগার Nothingness-এর অসিন্তত্বকে অস্বীকার করেননি। বরং তিনি বলতেন, আমাদের এ-বিষয়টি জানার চেষ্টা করতে হবে। অপরদিকে যুক্তরাজ্যের জ্যোতির্বিদ স্যার মার্টিন রিজের (Martin Rees) মতে, ‘To physicist vacuum has all particles and forces latent in it. It’s far richer substance than the philosopher’s nothing.’ মার্টিন রিজের বক্তব্যে আমরা শূন্যতার ‘latent’ বা সুপ্ত অবস্থার সন্ধান পাই এবং শূন্যতা যে শূন্য নয়, তাও মনে করিয়ে দেয়। এই পরিপ্রেক্ষেতে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম বলবিদ্যার আলোকে এখন শূন্যতার অসিন্তত্বের আলোচনা করব।

 

চার

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে শূন্যতাকে দুভাবে ভাগ করা হয়েছে। একটি কোয়ান্টাম শূন্যতা (Quantum Vacuum) এবং অপরটি হল ক্লাসিক্যাল শূন্যতা (Classical Vacuum)। এর বিশদ ব্যাখ্যার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্র (Heisenberg’s Uncertainty Principle)। এই সূত্রমতে কোনো কণার অবস্থান বা ভরবেগ বা ‘Momentum’ একই সময়ে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। হাইজেনবার্গ মনে করেন, ‘The making of measurement alters the state of the object being measured’। গাণিতিকভাবে বলা যায় যে, যদি কোনো কণার অবস্থান কোনো কিছু থেকে ‘r’ দূরত্বে রয়েছে বলে জানা যায়, তাহলে তার ভরবেগ পরিমাপের অনিশ্চয়তার পরিমাণ হবে ‘p’। এই ‘r’ এবং ‘p’-এর মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে ‘pxr = h’ এই (h)-কে বলা হয় পস্ন্যাংকের ধ্রম্নবক। এটি প্রকৃতির একটি ধ্রম্নবক (Constant), যার পরিমাণ এত ছোট যে, বৃহৎ পদার্থ বা ‘macroscopic object’-এর ক্ষেত্রে তার কোনো মূল্য না থাকলেও অণু-পরমাণুর ক্ষেত্রে এই ধ্রম্নবক তাদের স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে। গাণিতিকভাবে এর পরিমাণ হল ৬.৬ x ১০২২ মিলি ইলেকট্রন ভোল্ট। হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্রটি শক্তি ও সময়ের হিসেবেও প্রকাশ করা যায়। কারণ কোয়ান্টামবিশ্বে স্থান এবং ভরবেগকে যথাক্রমে সময় ও শক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায়। এক্ষেত্রে আমরা যে গাণিতিক সম্পর্ক দেখতে পাই তা হলো – ‘AExAr = h’

যদি ‘Ar’ ছোট হতে থাকে, অর্থাৎ সময়ের পরিবর্তন কমতে থাকে, ‘AE’ ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। এ-অবস্থায় অসদকণা-প্রতিকণা জোড়া (virtual particle-antiparticle pair) সৃষ্টি হয়। কোয়ান্টাম শূন্যতায় এই অসদ বাসন্তবতাকে (virtual reality) অনেকে ‘cosy cosmology’-এর সঙ্গে তুলনা করছে অর্থাৎ এই বিশ্বব্রহ্মা-
হচ্ছে ক্রমবিবর্তনশীল দ্বিমাত্রিক লিঙ্গের প্রকাশ, যেমন – মেয়ে-ছেলে (female-male), ঢেউ কণা (wave particle), বিশৃঙ্খল-সুশৃঙ্খল (chaos-order ইত্যাদি। কোয়ান্টাম শূন্যতায় এ-ধরনের কণা-প্রতিকণা প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে আবার ধ্বংস হচ্ছে। তাই কোয়ান্টাম শূন্যতা সবসময় সক্রিয়। এ-ধরনের ক্রিয়াকলাপ ক্লাসিক্যাল শূন্যতায় নেই। উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম শূন্যতা সাধারণভাবে অদৃশ্যমান। তবে এটি একটি মাধ্যম বা ‘medium’-এর মতো। অনেকটা একটি পাত্রে রাখা অতি স্বচ্ছ জলের মতো। এই পাত্রকে নাড়া দিলে যেমন জলের অসিন্তত্ব দেখা যায় বা অনুভব করা যায়, ঠিক তেমনি কোয়ান্টাম শূন্যতাকে তড়িৎ-চুম্বকীয় বলের সাহায্যে নাড়া দিলে এর অসিন্তত্বকে অনুভব করা যায় এবং এর গঠন সম্পর্কে জানা যায়।

কোয়ান্টাম শূন্যতা থেকে যে ফোটন কণা বেরিয়ে আসে, তা ওই শূন্যতার তথ্য বহন করে। কোয়ান্টাম ইলেকট্রোডায়নামিক্সে দেখানো হয়েছে যে, কোয়ান্টাম শূন্যতায় চৌম্বক বলকে প্রবাহিত করলে যে-ঘটনাগুলো ঘটে, তা ম্যাক্সুয়েলের সমীকরণ দ্বারা প্রকাশ করা যায়। ডানা জোহার (Danah Zohar) তাঁর The Quantum Self গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন – ‘The quantum vacuum is very inappropriately named because it is not empty. Rather it is the basic, fundamental and underlying reality of which in this universe – including ourselves – is an expression’। পদার্থবিজ্ঞানী প্যাট্রিক ওয়ালটার এবং টনি হের ভাষায়, ‘instead of a place where nothing happens, the empty box should now be regarded as a bubbling soap of a virtual particle/ anti-particle pairs।’ আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী ডেভিড বম (David Bohm) এবং এফ ডেভিড পিট (F. David Peat) এই কোয়ান্টাম শূন্যতাকে ‘zero point energy’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁদের ভাষায় – ‘Current quantum field theory implies that what appears to be empty space contains an immense ‘zero point energy’ coming from all the quantum field that are contained in this space, Matter is then a relatively small wave or disturbance on top of this ocean of energy।’১০ সুতরাং কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা থেকে আমরা পাই যে, কোয়ান্টাম শূন্যতায় বিদ্যমান শক্তির পরিমাণ এই বিশ্বব্রহ্মা–র সমসন্ত বস্ত্ত কণার শক্তির পরিমাণের চেয়ে বেশি। তবে একজন বিজ্ঞানী পরীক্ষণ পদ্ধতি দ্বারা কোনো কিছু নিশ্চিত হতে বিশ্বাসী। তাই ক্যালিফোর্নিয়ার হিউজ রিসার্চ ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী রবার্ট ফরওয়ার্ড (Robert Forward) দেখান যে, কোয়ান্টাম শূন্যতা থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি আহরণ করা সম্ভব। তার ফলাফল Physics Review জার্নালে প্রকাশিত হয়। সমসন্ত সৃষ্টির শক্তি এই ‘zero point energy’-তে নিহিত। এই শক্তিই ব্রহ্মস্বরূপ। ইতিপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি, এর গঠনকেও মানুষ জানতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন সহায়কশক্তি। এই শক্তি অসীম। অসীমের অনুভবেই আনন্দ। তাই তো আমরা ছান্দোগ্য উপনিষদে পাই, যেখানে অসীম সেখানেই আনন্দ, সীমার মাঝে আনন্দ নেই।১১ গাণিতিক কসমোলজিস্ট ব্রায়ান সুইম (Brain Swimme) কোয়ান্টাম শূন্যতা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম শূন্যতা থেকে বিগ ব্যাং এবং এর যাত্রাপথে ঘটে কোয়ান্টাম ওঠা-নামা বা Quantum fluctuation। এর কারণ অপ্রতিসাম্য অবস্থায় সৃষ্টি হওয়া। অর্থাৎ প্রতি বিলিয়ন এন্টিপ্রোটনে রয়েছে একটি অতিরিক্ত প্রোটন, যাকে বলা হয় billion plus one প্রোটন। কোয়ান্টাম বিশ্বে এই অপ্রতিসাম্যতার কারণে এই সবকিছুর সৃষ্টি। সুতরাং প্রতিসাম্য অবস্থা থেকে অপ্রতিসাম্য অবস্থার রূপান্তর এবং তা থেকেই সৃষ্টি। ব্রায়ান মনে করেন, আমাদের ছায়াপথ, আন্দ্রোমিদা এবং সবকিছু মাইক্রো স্কেলে এই ‘Fluctuation’-এর কারণেই সম্ভব হয়েছে।১২ তাছাড়া বিগ ব্যাং যে হয়েছে তার তিনটি প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। এক. অন্যান্য গ্যালাক্সির দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা আমাদের ছায়াপথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। দুই. ১৯৬৫ সালে পেনজিয়াস এবং গ্যামো ‘মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন’ আবিষ্কার করেন, যা জর্জ গ্যামো ও লেমিত্রি তাত্ত্বিকভাবেও গণনা করেছিলেন। তিন. মহাবিশ্বের শুরুতে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং লিথিয়াম গ্যাসের প্রাধান্য ছিল।১৩ এ-ধরনের হালকা মৌলিক পদার্থই সে-সময় তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল। পরীক্ষাপদ্ধতির সাহায্যে তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং ধ্বংস ও সৃষ্টির নেপথ্যে যে-শক্তি কাজ করে তাকে জর্জ লেমিত্রি ১৯২৯ সালে বলেছিলেন, ‘Cosmic egg’ যা বস্ত্ত এবং শক্তির অন্তর্নিহিত রূপ, যাকে অ্যারিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা অথবা অগাস্টিয়ানের বিশ্বাস দ্বারা পুরোপুরি আন্তস্থ করা না গেলেও প্রাচীন ভারতের বেদান্ত, উপনিষদ এবং রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ভাবনায় যে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সে-সম্পর্কে এখন আলোকপাত করব।

 

পাঁচ

আমরা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের শূন্যতার সঙ্গে উপনিষদে বর্ণিত নানা দর্শনের মিল খুঁজে পাই। স্বামী লোকেশ্বরানন্দ শ্বেতা শ্বতর উপনিষদের১৪ একটি সেত্মাত্রের (নং ৫/৩) ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ‘বেদান্ত মতে সৃষ্টি ও ধ্বংস, অর্থাৎ জগতের ব্যক্ত হওয়া এবং অব্যক্ত অবস্থায় ফিরে যাওয়া’ – এ অনন্তকাল ধরেই চলছে। ব্রহ্মা একবার এই জগৎকে প্রকাশ করেছেন, আবার কিছুদিন পরে তাকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।

কিন্তু গুটিয়ে নেওয়া মানে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে ফেলা নয়, এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় যাওয়া। তাকে রূপান্তরও বলা যায়। জগৎ কখনো ব্যক্ত অর্থাৎ প্রকাশিত আবার কখনো অব্যক্ত বা অপ্রকাশিত। কিন্তু প্রকৃত বিনাশ বলে কিছু নেই। কোয়ান্টাম শূন্যতায় চলছে এ-ধরনের প্রক্রিয়া। ব্যক্ত হওয়া বা অব্যক্ত অবস্থায় ফিরে যাওয়া। যখনই ব্যক্ত হয়, তখনই আমরা বলি ‘creation of something out of nothing’। যদিও আমরা ওপরের আলোচনায় লক্ষ করেছি, শূন্যতা মানে শূন্য নয়, সেখানে রয়েছে কণা-প্রতিকণার লীলাখেলা। বিশিষ্ট গণিতবিদ রজার পেনরোজও মনে করেন, ‘there is always something rather than nothing।’ কোয়ান্টাম শূন্যতাও তাই। ছান্দোগ্য উপনিষদে১১ আমরা এর সুস্পষ্ট উল্লেখ পাই ৩/১৯/১ শেস্নাকে-

আদিত্য ব্রহ্মতি আদেশঃ তস্যোপব্যাখ্যা নং-অসৎ এবেদমগ্র

আসীৎ,

তৎ সৎ আসীৎ,

তৎ সমভবৎ, তৎ আমত্মং নিরবর্তত,

তৎ সম্বভসরস্য মাত্রান অশয়ত,

তৎ নিরভিদ্যত,

তে আন্ড কপালে রজতং চ সুবর্ণং চা ভরতাম।

অর্থাৎ আদিত্যই ব্রহ্মা। এই জগৎ প্রথমে নামরূপবিহীন অসৎ অবস্থায় অব্যক্ত কিন্তু সূক্ষ্ম অবস্থায় ছিল। তারপর বীজ থেকে যেভাবে অঙ্কুরোদ্গম হয় তেমনি ধীরে ধীরে এই জগৎ প্রকাশিত হয়। প্রথমে ডিম্বাকার রূপ ধারণ করল। এই অবস্থায় এক বছর থাকার পর সেই ডিম্ব দুভাগে বিভক্ত হলো – এক ভাগ রৌপ্যময়, অপর ভাগ সুবর্ণময়। এখানে লক্ষণীয় যে, আমরা এই শেস্নাকে ‘cosmic egg’ অথবা ‘virtual reality’-এ সবকিছুর ধারণা পাই। স্বামী লোকেশ্বরানন্দ এই শেস্নাকের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন, বেদান্তমতে শূন্য থেকে কিছু সৃষ্টি হতে পারে না। এই জগৎ আগে বীজাকারে ছিল, নামরূপের পরে অব্যক্ত অবস্থায় ছিল। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃতে১৫ আমরা এই ভাবনার নির্যাস পাই। শ্রীরামকৃষ্ণ গল্পচ্ছলে বলতেন, ‘বাড়ীর বুড়ীদের একটা হাঁড়ি থাকে। তাতে তাঁরা সব রকমের বীজ তুলে রাখে। সময় অনুযায়ী হাঁড়ি থেকে বীজগুলো বের করে জমিতে ছড়িয়ে দেয়। সেই বীজ থেকে গাছ হয়, গাছ ফল ধরে, ফলের মধ্যে আবার বীজ থাকে এবং সেই বীজ আবার সঞ্চয় করে রাখে। এই সৃষ্টিচক্র এভাবেই চলছে।’ এখানে অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত হওয়া এবং ‘cyclic universe’-এর যে সাম্প্রতিক ধারণা পল স্টিনহার্স্ট (Paul Steinhardt) এবং নিল তুরক (Neil Turok) তাঁদের Endless Universe১৬ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন তার সঙ্গে সাযুজ্য রয়েছে। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃতে আমরা লক্ষ করি, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ বলেছেন, ‘জ্ঞানীরা যাকে ব্রহ্ম বলে, যোগীরা তাকেই আত্মা বলে, আর ভক্তরা তাকেই ভগবান বলে।’ এখানে আমরা পর্যবেক্ষণনির্ভর সত্যের সন্ধান পাই। জ্ঞান সত্য নাও হতে পারে। তবে ধ্রম্নব সত্যই সত্য। পাশ্চাত্য দর্শনে আমরা পাই মানবমন ও বিশ্বব্রহ্মা–র মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে যে সেই জ্ঞান ও সত্য এক জিনিস নয়। শুধু জ্ঞান ধ্রম্নব সত্য নাও হতে পারে। অসিন্তত্বের বাসন্তবতা অর্থাৎ ‘feeling of existence’ এবং বাসন্তবতার জ্ঞান অর্থাৎ ‘the reality of knowledge’ একে অপরের সম্পূরক ও পরিপূরক। তাই লুক্রিটাস (Lucretius) বলতেন, ‘The nature of phenomena can’t be understood by the eyes।’ ব্রহ্মা, আত্মা এবং ভগবান এই ত্রয়ী ধারণার মূল হচ্ছে ব্রহ্ম। এই সত্যের বাসন্তবতা পর্যবেক্ষণনির্ভর নয়, যদিও পর্যবেক্ষক এই বাসন্তবতাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। কখনো বাসন্তবতার দ্বৈত স্বভাব থাকতে পারে, যা আমরা কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় দেখেছি। কিন্তু ধ্রম্নব সত্য বা ‘absolute truth’ সব সময় এক। তাই বলছি কোয়ান্টাম শূন্যতা যদি সত্য হয়, তাহলে ব্রহ্মও সত্য। এই সত্যের উপলব্ধি সহজ কাজ নয়। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ বলেছেন, ‘যে জ্ঞানী জ্ঞানযোগ ধরে আছে, সে নেতি নেতি এই বিচার করে। ব্রহ্ম এ নয়, ও নয়, জীব নয়, জগৎ নয়। এই রূপ বিচার করতে করতে যখন মন স্থির হয়, মনের লয় হয়, সমাধি হয়, তখন ব্রহ্মজ্ঞান।’ ব্রহ্মজ্ঞানেই কোয়ান্টাম শূন্যতার অসিন্তত্ব অনুভূত হবে। এর জন্য প্রয়োজন ক্রমবিবর্তনশীল প্রচেতনা (consciousness)। ফ্রিৎজফ কাফরা তাঁর The Tao of Physics গ্রন্থে উল্লেখ করেন, The central aim of eastern mysticism is to experience all phenomena in the world as manifestations of the same ultimate reality. This reality is seen as the essence of the universe underlying and unifying the multitude of things and events we observe. The Hindus call it Brahman, the Buddhists Dharmakaya and the Taoists Tao।১৭ এই চূড়ান্ত বাসন্তবতার সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া ঘটানোর জন্য প্রয়োজন প্রচেতনা। তাই কোয়ান্টাম শূন্যতাকে আমি বলব মানবিক প্রচেতনা (Human consciousness) এবং ঈশ্বরীয় প্রচেতনার (God consciousness)-মধ্যে একটি সেতুবন্ধ।

আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষেক তত্ত্ব এবং স্রোয়েডিন্জারের (Schrodinger) সমীকরণের সাহায্যে আমরা এর আরো বিশদ ব্যাখ্যা দিতে পারি, যা অন্যত্র আলোচনা করা যাবে। আইনস্টাইন বলতেন, জীবনটা হচ্ছে একটি সাইকেল চালানোর মতো। তাঁর ভাষায়, ‘Life is riding a bicycle. To keep your balance you must keep moving’। তাই ভারসাম্য রক্ষার জন্যই প্রয়োজন আমাদের জীবনের গতি। ওপরের আলোচনায় আমরা লক্ষ করেছি, কোয়ান্টাম শূন্যতায় চলছে প্রতিনিয়ত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। বিশ্বব্রহ্মা–র ভারসাম্য রক্ষার জন্যই এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন। আবার সৃষ্টির প্রয়োজনে সাম্য অবস্থা থেকে অসাম্য অবস্থায় যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই ফরাসি দার্শনিক সার্ত্রের Being and Nothingness গ্রন্থে সাম্য ও অসাম্য এই দুই অবস্থার অনুরণন লক্ষ করি।

ছয়

ফরাসি গণিতবিদ লেইননিজ (Leibniz)-এর মতে, সত্য দুধরনের রয়েছে। একটি হলো ‘Truths of reasoning’, এবং অপরটি হলো ‘Truths of faith’। কোয়ান্টাম শূন্যতাকে আমাদের উপলব্ধি করতে হলে এ দুয়েরই প্রয়োজন। সত্যের এই দ্বৈত সত্তা থেকেই আমরা এক এবং অদ্বিতীয় ধ্রম্নব সত্যে উপনীত হতে পারি। আর এই অন্বেষণের পথে রয়েছে অনিশ্চয়তা, যা আমরা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্র থেকে জানি। অনিশ্চয়তার পথ ধরে বিজ্ঞানীর অন্বেষণ। বিজ্ঞানীর বিশ্বাসপদ্ধতিতে এবং অনিশ্চিত পদ্ধতির বিচার-বিশেস্নষণে। তাই তো কার্ল পপার (Karl Popper) বলতেন, ‘Science is perhaps the only human activates in which errors are systematically criticized।’ এই পদ্ধতিনির্ভর অন্বেষণেই বিজ্ঞানীর আনন্দ আর ধর্মবিশ্বাসীর আনন্দ বিশ্বাসে। শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতে আছে – আনন্দই ব্রহ্ম। আনন্দকে অথবা ব্রহ্মকে কি পরিমাপ করা যায়? এটি অনুভবের বিষয়। কোয়ান্টাম শূন্যতায় ঈশ্বরানুভূতিকে উপলব্ধি করতে হলে আমাদের বেশি দূরে যেতে হবে না। আমাদের বেদ, উপনিষদেই রয়েছে সে-পথের সন্ধান। আর এই অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন আমাদের ক্রমবিবর্তনশীল প্রচেতনা।

 

তথ্যসূত্র

১.    বেদ সমগ্র, ড. অলোক কুমার সেন-সম্পাদিত, তৃতীয় সংস্করণ,  নারায়ণ পুসন্তকালয়, কলকাতা ২০১০।

২.    Nickloaos Bakalis, Handbook of Greek Philosophy: From Thales to the Stoics Analysis and Fragments, Trafford Publishing, UK, 2005.

৩.    Martin Litchfield West, Early Greek Philosophy and the Orient, Clarendon Press, Oxford 1971.

৪.       Rene Descartes, Discourse on Method and Meditations, Laurence J. Lefleur (trans.), New York 1960.

৫.       Rene Descartes, Meditations and Other Metaphysical Writings, Translated by Desmond M. Clarce, Penguin, UK 1999.

৬.    Blaise Pascal, Pensee and other writing, (Translated by Honor Levi), Oxford University Press, Oxford 1995.

৭.    Martin Rees, Before the Beginning : Our Universe and Other, Helix Books, London 1998.

৮.    Warner Heisenberg, A Scientists Case for the Classics, Harper Magazine, p 25-29, 1958.

৯.    Donnah Zohar, The Quantum Self, Flamingo, 1991.

১০.  A. Vilenkin, Creation of Universe for Nothing, Phys, Letts. 117B, 25, 1982.

১১.   উপনিষদ সংগ্রহ, চিত্তরঞ্জন ঘোষাল (সংকলন ও ভাষান্তর), গ্রন্থিক, কলকাতা ১৯৮৭।

১২.  E. P Tryon, Is the Universe a Vacuum Fluctuation?, Nature, p  246, 396; 1973.

১৩.  Paul Davis, God and the New Physics, Penguin, London, 1983.

১৪.   উপনিষদ, স্বামী লোকেশ্বরানন্দ, আনন্দ, চতুর্থ মুদ্রণ, কলকাতা ২০০৪।

১৫.  শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত, শ্রীম-কথিত, বিংশ পুনর্মুদ্রণ, কথামৃত ভবন, কলকাতা ২০০৬।

১৬.  Paul J Steinhardt & Neil Turok, Endless Universe & Beyond the Big Bang, Phoenix, UK 2008.

১৭.                 Fritz of Capra, The Tao of physics Flamingo, UK 1995. r

শেয়ার করুন