এখন যা আছে, নেই

লেখক:

ওবায়েদ আকাশ

এখন যা আছে তার চেয়ে বেশি কিছু ছিল –
পৈতৃক সম্পদের মতো তুচ্ছতর অহংকার, কখনো শালপ্রাংশু মনে হতো তাকে

এখনো জলাজংলা, পলিবাহিত মাঠ আছে
পৃথিবীর নিভৃত ক্রোড়ে শরীরের বাকল খুলে উড়ছে তো দুরন্ত শৈশব
ঠোঁটে কাদা মেখে যে শালিক ধান খুঁটে খেত
আর মাছরাঙা ঝুপ করে ঠোঁটে তুলে নিত মাছ –
তাদের শৈশব থেকে যৌবনে তুলে এনে দেখি – আজ তারা গাছ-ঝোপ বাড়ির
উঠোন ছেড়ে জুড়ে বসছে পরা-পৃথিবীর অপার বিস্ময়

আজ তারা নেড়ি কুকুরের মতো ইটসুরকির দেয়ালে বসে
নাগরিক হুইসেল ধরে আকণ্ঠ তুলে ধরছে সন্ধ্যার কলহ-কূজন –
আর ক্রমে নগ্ন হয়ে ওঠে চাঁদ। ছায়াহীন, নৈসর্গিক শ্রদ্ধাহীন
নিরন্তর বিবেচনাহীন যুদ্ধক্লান্ত নাগরিক আকাশের তলে তারা ঘুমকাতুরে খুব

পথের পাশে শিশিরে প্রণত ঘাসফুল, শান্ত পুকুরের পাশে ঠায় বসে থাকা পাতিহাঁস
আর মাঘ মাসের রোদে – নাড়ার আগুনে গা সেঁকে নেওয়া বৃদ্ধদের অমলিন
স্মৃতিগুলো এখন জানালার পর্দা তুলে কেড়ে খাচ্ছে একচিলতে রোদ –
গা ছমছম ভুতুড়ে অন্ধকার কিংবা বাঁশবনে উড়ন্ত জোনাকির লেজে
নিভু নিভু জোছনার ঝিলিক – গোগ্রাসে ছিঁড়ে খেতে চায়

এখন যা খেলছে, উড়ছে – ভেতরে বাহিরে –
দোলনায় শিস দিচ্ছে – কল্পনার তেমাথা-চৌরাস্তায় চেরাগের আলোয়
জেগে থাকা ম্লানমতো বিপণিবিতানে – তারই চারপাশে তুমিও তো ঘুরছো-ফিরছো
হাতে হারিকেন ধরে – পাড়ার স্কুলঘরে মেতে উঠছো কলব্রিজ নিয়ে
আবার ষাণ্মাসিক শেষ হলে টিনের চালে গাছের পাতায় শিশিরের টিপটিপ শুনে
মধ্যরাতে জেগে উঠছো – সিলেবাসের সারিবদ্ধ গ্রন্থতালিকায়

এখন যা নেই তার চেয়ে বেশি কিছু – কিংবা যা ছিল না তাও
একপ্রস্থ বাড়িয়ে তোমাকে বিষণ্ণ করে – চার দেয়ালের ধূসর সবুজ আর
লাবণ্যের তুমি মহান জনক এক – একবার ঘুমিয়ে যেতেই টের পাও
সামান্য গাছের পাতা পড়লেও – একদিন
তাতে সাড়া না দিয়ে কোনোই উপায় ছিল না তোমার

শেয়ার করুন

Leave a Reply