ক্যারল অ্যান ডাফির কবিতা

লেখক:

তিতাশ চৌধুরী

ক্যারল অ্যান ডাফি এক ভিন্ন মেজাজের কবি। তাঁর অধিকাংশ কবিতাই সহজ, কিন্তু হৃদয়ঙ্গম কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে ই ই  কামিংস অপেক্ষাও জটিল ও দুরূহ মনে হয়। আসলে তাঁর কবিতা উপলব্ধি কিংবা অনুভূতিজাত; ব্যাখ্যা করে বোঝানো যায় না।
ডাফির কবিতার একটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যা তাঁর সমসাময়িক কবি থেকে তাঁকে পৃথক করেছে। তিনি মূলত আলাদা কণ্ঠস্বরের কবি। তাঁর কবিতায় ইঙ্গিতময়তা আছে, সান্ধ্য-ভাষা আছে, আর আছে ঐন্দ্রজালিকতা। এই তিনে মিলেই তিনি অনন্যা, অন্যরকম।
তাছাড়া, ডাফির কবিতায় মনোবিকলনচিত্রও অল্প দেখা যায় না। যেটা দাদাবাদী আন্দোলনে লক্ষ করা গেছে। সেখানে বলা হয়েছে : Take newspaper, take scissors, choose an article, cut it out, then cut out each word, put them all in a bag, shake. অন্যভাবে বলা যায়, Let us reduce it, let us transform it into a charming true language. ডাফির কবিতার ক্ষেত্রে এসব চিত্রও অবিরল নয়। অধিকন্তু, তাঁর কবিতার শব্দের জাদুময়তা কিংবা শব্দের খেলা লক্ষ করার মতো।
সে-কারণেই বোধ করি মালার্মে একদিন শব্দকেই কবিতা অর্থাৎ ‘শব্দই কবিতা’ বলে উচ্চারণ করেছিলেন।
ক্যারল অ্যান ডাফি বর্তমানে ম্যানচেস্টারে বসবাসরত। তিনি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক ও রাইটিং ইশ্কুলের ডিরেক্টর। তিনি মূলত এবং প্রধানত শিশু-কিশোর ও বড়দের জন্য লিখে থাকেন।
তিনি নানা পুরস্কারেও ভূষিত। তন্মধ্যে Signal Prize for Children’s Verse, Whit bread and forward prizes, আমেরিকা থেকে  Lannan and E.M. Forster Prize, ২০০৫ সালে Rapture কাব্যগ্রন্থের জন্য  T. S Eliot Prize ইত্যাদি অন্যতম।
২০০৯ সালে রাজকবি (Poet-Laureate) ) হিসেবে তিনি নিযুক্তি লাভ করেন।
ডাফি প্রায়ই যাচ্ছেতাইভাবে তাঁর কবিতায় ‘শব্দ  ও বাক্য’ ব্যবহার করেন। তাঁর কবিতাপাঠেই তা স্পষ্ট হয়। এটি কি তাঁর এক ধরনের চতুরতা, না একধরনের কবিতা লেখার কৌশল, বলা শক্ত। গ্রন্থে সবকটিই গদ্যকবিতা।
আমি এখানে ডাফির (Carol Ann Duffy) ছোট-বড় ১২টির মতো কবিতা তর্জমা করেছি। এগুলো হচ্ছে – 1. Head of English. 2. Girl Friend. 3. To the Unknown lover, 4. Love Sick. 5. Home Sick, 6. Valentine, 7. All days lost days 8. Drunk. 9. Steam. 10. Ape. 11. Mrs Darwin I 12. Lazzie Six । এই কবিতাগুলো ডাফির সম্প্রতি প্রকাশিত New Selected Poems (1984-2004) গ্রন্থ থেকে চয়ন করি।]ইংরেজির প্রধান

আজকে আমরা একজন কবিকে ক্লাসে পেয়েছি।
প্রকাশিত গ্রন্থ হস্তে একজন প্রকৃত কবি।
মেয়েরা তার কালির ছোপযুক্ত আঙুলগুলির দিকে লক্ষ করো,
সম্ভবত এখনি আমরা তার কবিতা প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছি
যা-সদ্য প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
কে জানে, প্লিজ, তোমরা কবিকে হাততালি দিয়ে প্রশংসাসূচক কিছু দেখাও খুব শোরগোল করে নয়। এখন

বেঞ্চে তোমরা সোজা হয়ে বসো আর মনোযোগ দিয়ে শোন, মনে রেখো,
ধ্বনি বা স্বরসদৃশ পাঠ, সব কবিতার ক্ষেত্রে খাটে না।
দুঃখজনকভাবে আজকাল কবিতার রাইম অর্থাৎ অন্ত্যমিল নিষ্ক্রিয়
কখনো মনে নিও না, যেমন হরহামেশা ফিসফিসিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ
কিন্তু কিছু প্রশ্ন করতে সর্বদাই তোমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।
আফটার অল, আমরা এ জন্য ৪০ পাউন্ড দিচ্ছি।

তোমাদের মধ্যে যারা ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে নিয়েছো,
ক্লাস শেষে আমার সঙ্গে দেখা করো। আমাদের মধ্যে একজনকে পেয়ে আমরা সৌভাগ্যবান মনে করছি।
কুয়াশা ঋতু অর্থাৎ সময়কাল এবং এইরূপ সব কিছু আমি নিজেও কিছু ছোটখাটো কবিতা লেখার চেষ্টা করি,
নিæ চতুর্থ শ্রেণিতে আমি কিপলিং পড়ছি।

ঠিক আছে, এই আমার জন্য যথেষ্ট। মিউজের* সঙ্গে আমি আছি
পেছনে একটি জানালা খুলে দাও। এই স্থানে আবহাওয়ার
আমরা পরিবর্তন চাই না। নোটস রেখো,
তবে দিস্তা দিস্তা কাগজে নয়। কবির থিম অর্থাৎ ভাব সম্পর্কে
মাত্র একটি রচনা, ব্যস। আমরা এখন যাই। তবে
প্রমাণযুক্তি দিয়ে বোঝাও যে এমন কিছু আমরা জানি না।

উত্তম, অতিউত্তম, মেয়েরা এখনই কাজ শুরু করে দাও।
আমি নিশ্চিত যে এগুলি বিষয় সম্পর্কে তোমাদের একটা সুস্পষ্ট ধারণা দেবে।
এখন হাততালিই যথেষ্ট। আজকে এখানে আসার জন্য
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। মধ্যাহ্নভোজ কি ডাইনিং হলে?
অবশ্যই খেয়ে যাবেন। দুর্র্ভাগ্যবশত আমাকে এক্ষুনি ছুটতে হবে
ট্রেসি আপনাকে যাবার পথ দেখিয়ে দেবে, ওকে।

(* মিউজ : মহাকাব্য বা গীতিকবিতার দেবী, প্রেমের কবিতার দেবী, বিয়োগান্ত নাটকের দেবী, অনুপ্রেরণার অধিষ্ঠাত্রী দেবী, কাব্যলক্ষ্মী ইত্যাদি)

মেয়েবন্ধু

সেই সেপ্টেম্বরের উত্তপ্ত রাত্রে এক বিছানায় আমরা নগ্ন হয়ে ঘুমিয়েছিলাম
এবং আমাদের ভঙ্গুর শরীরের ঘাম ঠান্ডা হয়ে আসছিল
এক সময় আমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে আসলাম।
আমার হাত তোমার দিকে বাড়িয়ে দিলাম
আর তুমি আমার বুকে হাত রেখেছিলে এবং চুমা খেয়েছিলে
তখন পীতাভ বিকেল।

আমাদের রাত্রিবাস মেঝেতে পড়েছিল, তুমি সেখানে
হাঁটু গেড়ে বসেছিলে এবং বন্য হয়ে উঠেছিলে
আর আমার পেটে মাথা দিয়ে গুঁতো দিচ্ছিলে
তোমার মুখ লাল স্বর্ণের দিকে, ফ্যাকাশে লাল ছায়া ব্যতিরেকে
আমি তখন এর মতো আর কিছুই দেখিনি
কিন্তু আমার পশ্চাৎদিক ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে গিয়েছিল।

গুমোট আবহাওয়া থেকে নিংড়ানো জল
আমার মুঠোয়। আমার আরো পরিষ্কার মনে পড়ে
কোনো দূরবর্তী রাস্তায় সাইরেনের ডিডে ডিডে ডিডে শব্দ
আমার অসম্ভব (অ্যাবসার্ড) চিৎকারের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল
এমনকি যখন আমি ওইদিকে তাকিয়েছিলাম –
আমার আঙুলগুলি তখন নিজেই হিসাব কষছিল আর নাচছিল।

অজানা প্রেমিকের উদ্দেশে

তোমাকে নিয়ে যে-কোনো চিন্তাই ভয়ংকর
তুমি যে কেউ হও না কেন?
আমার ক্ষতিচিহ্নে ভবিষ্যৎ ছুরি
তুমি যেখানে আছো, সেখানেই থাকো।

সুদর্শন হও, সুন্দর হও, নিশ্চল হও
কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ হও, এবং দূরে সরে যাও
আমার ওষ্ঠ পাঠ করো
কোনো উপায় নেই, ওকে?
আমার পুরনো এই হৃদয়
একটি শূন্য থলি
কান সব বন্ধ
টেলিফোন করো না, নৈশভোজ চাই

ঠাস, চড়ে বসো এবং দেয়ালে
ঝোলাও, – টিকিট বিক্রি করো,
আমি আসবো না। ফিরে যাও, হারিয়ে যাও।
বাস্তববাদী হও, জীবন উপভোগ করো, নীরব থাকো।
অবশ্য মনে রেখো –
সেখানে কোনো চুম্বন নয়, কোনো আলিঙ্গনও নয়
যুগলনৃত্য নয়, নয় সত্যিকার রোমাঞ্চ
তুমি অজ্ঞাত। কে তুমি?

তোমার দিকে তাকিয়েও না, হে তরুণ!

 

লাভ-সিক

আমি একটি আপেল পেয়েছিলাম
একটি লাল এবং উজ্জ্বল আপেল
আমি এর একটি আলোকচিত্রও নিয়েছিলাম।
আপেলটি আমি চিলেকোঠায় লুকিয়ে রেখেছিলাম
আকাশ-প্রদীপে একদিন আমি এটি উন্মুক্ত করলাম
তখন সূর্যদেবতা বলল : আহ্ (Aah!)

রাত্রিকালে চতুর চাঁদ আর নক্ষত্রের ফিকফিক হাসির আলোয়
আমি আপেলটি পরীক্ষা করলাম
তখন এটি অক্ষত ছিল।
আমার ঠান্ডা আপেল!

বিষয়টাকে তুমি যেভাবেই চিন্তা করো না কেন
আমার এই ব্যাপারে কোনো ইন্টারেস্ট নেই
সুবৃহৎ দণ্ডসমেত
তুমি বরং প্রস্থান করো।
(* লাভ-সিক : প্রণয়-পীড়িত)

স্বগৃহ কাতর
আমরা যখন পরস্পরকে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই
প্রথম প্রেমের কথা চিন্তা করার পূর্বেই
আমরা কোনো একসময় এর জন্য কাতর হই।
আমরা তখন কক্ষের পুনর্বিন্যাস করি
এবং বসবাসেই এর সমাপ্তি ঘটে
আমরা তখন আলোরও প্রত্যাশা করি
অথচ আমরা আলোকে আলো হিসেবে চেনার পূর্বে
ওই সময়কার আলোর বিন্যাস –

কিংবা সংগীতের কথাই যখন বলি –
আমরা এ সম্পর্কে কথা বলতে পারি না
কিন্তু পুনরায় সংগীত সম্পর্কে বলি :
C Major, A Flat Minor,  আমরা প্রথম শব্দটাতেই
জোর দিচ্ছি – যা আমরা একদিন শুনেছিলাম
হারানো ঐকতানে ও শব্দহীন ভাষায়।

আমরা কোন দেশ থেকে এসেছি? এই দেশ?
যে-দেশে সূর্য উত্তপ্ত
এবং রাত্রি…? যে দেশে
চাঁদ ঠান্ডা, অন্য কোথাও, সম্ভব?

কেন আমাদের ভালোবাসা অসম্পূর্ণ?
সংগীতেও একই প্রতিধ্বনি
আলোকরশ্মি কি ভ্রম?

বস্তুত স্বগৃহ কাতরতায়
আমরা প্রতিনিয়ত লাঠি দিয়ে ধুলোয় আঁচড় কাটি
কিসের জন্য, কখন এবং কোথায়।
(*স্বগৃহ কাতর (হোম সিক) : স্বদেশে প্রত্যাবর্তনে কাতর)

ভ্যালেন্টাইন

লাল গোলাপ নয় কিংবা শুভ্র হৃদয়*
আমি তোমাকে একটি পেঁয়াজ দেবো
বাদামি কাগজে মোড়ানো একটি চাঁদ
তাতে আলোর প্রতিশ্রতি থাকবে
প্রযতশীল নগ্ন প্রেমের মতো

এখানে
এটা অশ্র“ দিয়ে তোমাকে অন্ধ করে দেবে
একজন প্রেমিকের মতো
যা তোমার প্রতিচ্ছবিকে
একটি কল্পিত দুঃখের ছবি বানাবে।
আমি সত্যবাদী হবার চেষ্টা করছি।
কোনো সম্ভাষণ-লিপি নয়, কিংবা চুম্বন বার্তা *
আমি তোমাকে একটি পেঁয়াজ দেবো
এর ভয়ংকর চুম্বন তোমার ওষ্ঠে
স্থায়ী হবে। অধিকার সূচক এবং বিশ্বস্ত
যেমন আমরা
যতক্ষণ আছি।

এটি নাও
এর প্লাটিনাম লুপস সংকুচিত হয়ে বিয়ের আংটিতে পরিণত হবে।
যদি তুমি পছন্দ করো
মারাত্মক
তবে এর সুগন্ধি তোমার আঙুলে জড়িয়ে থাকবে
এবং তোমার চাকুতে।
(* ভ্যালেন্টাইন : দুজন খ্রিষ্টান সাধুর নাম। তাঁদের মৃত্যুতে ১৪ ফেব্র“য়ারি পাখিরা নিজ নিজ সঙ্গী নির্বাচন করে বলে রূপকথায় বর্ণিত আছে। ভ্যালেন্টাইনের অন্য অর্থ পাখির প্রেম-সংগীত। অথচ আমাদের এই দেশে এই দিনটি (১৪ ফেব্র“য়ারি) এখন মূল সংস্কৃতিধারার অন্তর্গত বিষয়। কী অ্যাবসার্ড ব্যাপার!? * স্যাটিন হার্ট : শুভ্র হৃদয়। * চুম্বন বার্তা : Kissogram)

সারাদিন হারানো দিন
অনির্বচনীয়রূপে
বিস্মৃতির হাত থেকে বাঁচো
অতীতের ভেতর এবং বাইরে

আমার ভেতর
অনেক জিনিসই মরে গেছে
ভেতরে এবং বাইরে জোয়ার-ভাটার মতো
প্রতিটি অশ্রুবিন্দুকে
একটি ছোট্ট হলোগ্রাম ধরে আছে।
এমনকি, এই সকালে
আমি পূর্ণতায় পৌঁছে গেছি

এখানে ছোট ছোট গ্রেইভ স্টোন* আছে।

যেখানে স্মৃতিগণ
বুনো ঘাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে
বড় কালো একসারি গাড়ি এখানে
ভবিষ্যতের আগমন অবলোকন করে।

সমস্ত দিন –
হারানো দিন – তাদের ভেতর এবং বাহির
স্বপ্নের মধ্যে
এবং পুনরায় স্বপ্নে
এর অর্ধেক কেবল স্মরণযোগ্য।
(* গ্রেইভ স্টোন : কবরের ওপর স্থাপিত স্মৃতি-প্রস্তর)

মাতাল

হঠাৎ বৃষ্টির উল্লাস
চাঁদ সন্ধ্যায় দ্বিধাগ্রস্ত

কি রসিকতা! অদৃশ্য ব্যাঙগুলি
আর্দ্র ঘাসে ঢেঁকুর তোলে।

ছায়াচ্ছন্ন বৃক্ষগুলির অচেনা সৌরভ
সস্তা লাল মদ
এবং সমস্ত  পৃথিবী একটি মুখগহ্বর
আমাকে দ্বিগুণ দাও, এবং একটি চুম্বন।

বাষ্প

বলতে গেলে খুব বেশি দিনের কথা নয়,
একজন প্রেমিক এবং আমি –
একটি বাষ্পময় কক্ষে –

একটি ধূত, তৃষ্ণার্ত, রুপালি শব্দরাজি ধরল
বিপরীত প্রান্ত, এবং অদৃশ্য হয়ে গেল।

অতিসম্প্রতি,  যদিও আমাদের মধ্যে একজন বসল
কিংবা দাঁড়াল, অথবা আড়মোড়া ভাঙল, নগ্ন হলো
টিস্যু পেপারের পশ্চাতে
নরম পেনসিলে আঁকা নগ্ন পোজ

দৃষ্টিগোচর হয়েছিল, ধীরে, ঘর্ষণে আবার মুছে গেল
একটি ধূমায়িত বস্ত্রে।

বলতে গেলে এক মাসের কথা। এই হাত
বাষ্পের ভেতর পৌঁছে গেল।

সত্যিকারের বস্তুকে স্পর্শ করার জন্য
বেদনাদায়ক হলেও সেখানে কিন্তু
কোনো গোস্ট বা ভূত ছিল না।

উল্লুক

ক্যালেন্ডারের পাতায় রুপালি কেশযুক্ত একটি পুরুষ উল্লুক
পশ্চাতে তার অস্পষ্ট জঙ্গল
একটি কর্নার ছাড়া
গাছবিরিক্ষি সেখানে
সূর্য গারগল্ করে।

তুমি দিন গণনা শেষে
পৃষ্ঠাগুলি ছিঁড়ে ফেলো।
উল্লুকের চোখে তোমার চোখ স্থির
যেমনভাবে তুমি একটি অরণ্যকে
হাতের মুঠোয় কুঞ্চিত করো।
(*এপ : উল্লুক কিংবা লাঙুলবিহীন বানরবিশেষ)

মিসেস ডারউইন

৭ এপ্রিল ১৮৫২
চিড়িয়াখানায় যাও –
আমি তাঁকে বললাম
ওখানকার শিম্পাঞ্জি সম্পর্কে কিছু একটা
যা তোমার কথা-আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।

লিজি, সিক্স

তুমি কী করছো?
আমি চাঁদ দেখছি।
আমি তোমাকে চাঁদ দেবো।
আমি যখন সেখানে উঠবো।

তুমি কোথায় যাচ্ছো?
খেলতে মাঠে যাচ্ছি।
আমি তোমাকে মাঠ দেবো
চেয়ারটি বাঁকা করো।

তুমি কী ভাবছো?
আমি প্রেম নিয়ে ভাবছি।
আমি তোমাকে প্রেম দেবো।
আমি যখন এই সিঁড়িতে আরোহণ করবো।

তুমি কোথায় লুকোচ্ছো?
গভীর অরণ্যে।
আমি তোমাকে অরণ্য দেবো।
অনাবৃত যখন তোমার তলদেশ।

তুমি কাঁদছো কেন?
অন্ধকার ভয়ে।
আমি তোমাকে অন্ধকার দেবো।
এবং এ নিয়ে আমি ভাবি না।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার