‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ নাট্যোৎসব আয়োজনে নাট্যদ্যুতি ছড়িয়ে গেল সবখানে

লেখক:

অলোক বসু

মঞ্চের ওপর লাফাই ঝাপাই আমরা কুশীলব অকিঞ্চিৎকর

আড়াল থেকে শিল্পের জাল বুনে যাও তুমি চৌকস বাজিকর’

এটি একটি মুঠোফোনের ক্ষুদে বার্তা। শুভেচ্ছা বার্তা হিসেবে সৈয়দ শামসুল হকের উদ্দেশে পাঠানো এক অনুজ নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতার। সেদিন ২৫ এপ্রিল। সন্ধে ৭টা। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে একটি আসনও আর ফাঁকা নেই। বিপুলসংখ্যক দর্শক ও নাট্যজন মিলিত হয়েছেন প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের আমন্ত্রণে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে শুভেচ্ছা জানাতে। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘নাট্যকারের সান্নিধ্যে’। নাট্যকারের সান্নিধ্য পেতে এবং তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল-হাতে দলে দলে এসেছেন তাঁর

ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীরা। আগের দিন ঘটে যাওয়া সাভার ট্র্যাজেডির কারণে সেদিন জাতীয় শোকদিবস চলছিল। হয়তো শোকের ব্যথা নিয়ে ফুল-হাতে মঞ্চে গিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে মনে সায় মেলেনি, তাই বলে প্রিয় নাট্যকারকে শুভেচ্ছা জানাবেন না, তার দীর্ঘজীবন ও লেখনীর সমৃদ্ধি কামনা করবেন না, তা কি হয়? সে-কারণেই বুঝি প্রিয় নাট্যকারকে এরকম ক্ষুদে বার্তায় শুভেচ্ছাবাণী জানানো হলো নীরবে-নিভৃতে। সৈয়দ শামসুল হক এদেশের পাঠক ও নাট্যদর্শকদের কাছে যে কী পরিমাণ জনপ্রিয়, এটি হয়তো তারই একটি প্রমাণ।

এই জনপ্রিয় লেখক এবং এদেশের প্রধানসারির নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হকের নাটক নিয়ে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ শীর্ষক নাট্যোৎসব। এ উৎসবটি প্রকৃত অর্থে একটি সৈয়দ শামসুল হক নাট্যমেলা, যার আয়োজন করেছিল ‘প্রাঙ্গণেমোর’ নাট্যদল। গত ১৯ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমীতে চলে এ-নাট্যোৎসব।

ইতিপূর্বে আবদুল্লাহ আল-মামুন, মামুনুর রশীদ ও সেলিম আল দীনের নাটক নিয়ে এ-ধরনের উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও সৈয়দ শামসুল হকের নাটক নিয়ে এবারই প্রথম এ-উৎসব অনুষ্ঠিত হলো। প্রথম তিন নাট্যকারের নিজ নিজ নাট্যসংগঠন সেসব উৎসবের আয়োজন করেছিল। সৈয়দ শামসুল হক যেহেতু কোনো নাট্যসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন, সেহেতু অগ্রজ নাট্যজন হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিয়ে                 এ-ধরনের উৎসব হলো অনেকটা দেরিতে। প্রাঙ্গণেমোর এ-উৎসবের আয়োজন করে এই বর্ষিয়ান নাট্যকারকে যেমন সম্মানিত করেছে, তেমনি দর্শক-নাট্যকর্মীদের একসঙ্গে সৈয়দ হকের অনেকগুলো নাটক দেখার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে নিজেদেরকেও গৌরাবান্বিত করতে সমর্থ হয়েছে।

উপর্যুপরি হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে বছরের শুরু থেকেই আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে এক ধরনের মন্দাভাব চলছিল। যে শিল্পকলা একডেমীর তিনটি মঞ্চ প্রতি সন্ধ্যায় আলোকিত করত কোনো-না-কোনো নাট্যদল, সেই মঞ্চগুলো  কোনো কোনো সন্ধ্যায় নিষ্প্রদীপ থেকে যেতে শুরু করেছিল। আলো-অন্ধকারের এই ঘোর কাটিয়ে হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে ঝলমল করে উঠল আমাদের মঞ্চের চিত্ত। আর এই চিত্তপট (চিত্রপট নয়) জুড়ে যিনি, তিনি আর কেউ নন, সৈয়দ শামসুল হক। তাঁর অনেকগুলো নাটক নিয়ে এই পটটি নির্মাণের কারিগর প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদল।

গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় এ-নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন সৈয়দ শামসুল হকের নাটকের নির্দেশকবৃন্দ। উদ্বোধন করেন সম্মিলিতভাবে আতাউর রহমান, সারা যাকের, তারিক আনাম খান, গোলাম সারোয়ার ও সুদীপ চক্রবর্তী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক কোনো বক্তব্য রাখেননি বরং যারা তাঁর নাটক নির্দেশনা দিয়ে সফল মঞ্চায়নের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরাই বলেছেন, তিনি শুনেছেন।

উদ্বোধন শেষে মঞ্চস্থ হয় থিয়েটারের নাটক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। এই নাটকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধোত্তর ঢাকার মঞ্চে নাট্যকার হিসেবে অভিষেক ঘটে সৈয়দ হকের। আবদুল্লাহ             আল-মামুনের নির্দেশনায় এই কাব্যনাটকটি ঢাকার মঞ্চে তখন তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ-নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে ফেরদৌসী মজুমদারের অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের বিমুগ্ধ করেছিল। নির্দেশক আবদুল্লাহ আল-মামুনের প্রয়াণের পর  এ-নাটকটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তরুণ মেধাবী নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় আবার নতুনভাবে মঞ্চে আসে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর এ-প্রযোজনাটি।

দ্বিতীয় সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় পদাতিক নাট্যসংসদের নাটক ম্যাকবেথ। ম্যাকবেথ অনুবাদ করেন সৈয়দ শামসুল হক। এ নাটকটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তার ঢাকার মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। তখন এ-নাটকটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছিল নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় ও থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠী। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ নাট্যনির্দেশক ক্রিস্টোফার স্যানফোর্ড। সৈয়দ শামসুল হক-অনুবাদকৃত উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ম্যাকবেথ নাটকটি ঠিক ৩০ বছর পর নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন তরুণ নির্দেশক ও নাট্যশিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী। ত্রিশ বছর আগের প্রযোজনায় আলী যাকের, সারা যাকের, আতাউর রহমান,  ফেরদৌসী মজুমদার, রামেন্দু মজুমদার, তারিক আনাম খান, খালেদ খানসহ অনেক গুণী অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছিলেন।             সে-বিবেচনায় ত্রিশ বছর পর যখন সুদীপ পদাতিক নাট্যসংসদে নাটকটি নির্দেশনার দায়িত্ব পান, তখন তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল দক্ষ অভিনয়শিল্পীর সংকট। পূর্বোক্ত অভিনয়শিল্পীদের তুলনায় তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পী পাননি সুদীপ চক্রবর্তী। তবে, নাটকটি নির্দেশনার ক্ষেত্রে সুদীপ যে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিতে সমর্থ হয়েছেন, তা দর্শকমাত্রই স্বীকার করবেন। শিল্পী-সংকট সুদীপ চক্রবর্তীকে এতটুকু দমাতে পারেনি। তিনি তাঁর রিসোর্স সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত ছিলেন বলেই চলার পথটি কেটে নিয়েছেন নিজের ছকে। নাটকটি তিনি নির্মাণ করেছেন ভিন্নতর এক গাণিতিক মাত্রিকতায়। নাটকের মঞ্চ-পরিকল্পনায় যেমন তিনি ব্যবহার করেছেন জ্যামিতিক ত্রিমাত্রিক কলাকৌশল, তেমনি কালার ও শেপের মননশীল সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন প্রপস ও পোশাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে। আবহসংগীত ও অভিনয়ের যে-দুর্বলতাগুলো রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারলে সুদীপ চক্রবর্তীর ম্যাকবেথ একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনার গৌরব অর্জন করতে পারবে বলেই দর্শকদের ধারণা।

এ নাটকের সংগীত-পরিকল্পনায় শিশির রহমান ও পোশাক- পরিকল্পনায় ছিলেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আলোক পরিকল্পনায় আতিক জয়। মঞ্চ ও দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনায় ছিলেন সুদীপ চক্রবর্তী। অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, সায়েকা, ওয়ালিদ, ইকরাম, জনি, জয়, শুভ প্রমুখ।

উৎসবে আরো যেসব নাটক প্রদর্শিত হয় সেগুলো হলো -আতাউর রহমান-নির্দেশিত পালাকারের প্রযোজনা বাংলার মাটি বাংলার জল  ও নারীগণ, অনন্ত হিরা-নির্দেশিত প্রাঙ্গণেমোর প্রযোজনা ঈর্ষা, আতাউর রহমান-নির্দেশিত নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় প্রযোজনা অপেক্ষমাণ এবং গোলাম সারোয়ার-নির্দেশিত কণ্ঠশীলন প্রযোজনা ‘উত্তরবংশ’। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা হিসেবে না হলেও আলী যাকের-নির্দেশিত নাগরিকের আলোচিত প্রযোজনা নূরলদীনের সারাজীবন নাটকটির অংশবিশেষ প্রদর্শিত হয়। নূরুলদীনের সারাজীবন নাটকের অংশবিশেষ উপস্থাপনে অংশ নেন আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, সারা যাকের, আতাউর রহমান প্রমুখ।

উৎসবে পালাকার নাট্যগোষ্ঠী মঞ্চস্থ করে তাদের দুটি বিখ্যাত নাটক বাংলার মাটি বাংলার জল এবং নারীগণ। এ দুটি নাটকের নির্দেশনা দেন প্রবীণ নাট্যনির্দেশক আতাউর রহমান।

বাংলার মাটি বাংলার জল নাটকটি সৈয়দ শামসুল হক রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ-পতিসর পর্বের জীবন ও সাহিত্যকর্মকে উপজীব্য করে। এ নাটকে তরুণ রবীন্দ্রমানস দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন সৈয়দ শামসুল হক। এ নাটকটি সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত একটি নাটক হিসেবে উভয়বঙ্গে দর্শকের মনোযোগ কাড়তে সমর্থ হয়েছে।

উৎসব শেষ হয় নারীগণ নাটকের প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। নারীগণ নাটকের প্রেক্ষাপট – বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়, শত্রুকর্তৃক ধৃত ও হত্যা এবং সে-প্রেক্ষাপটে প্রাসাদের জেনানা মহলের তিন নারীর ভবিতব্য বিষয়ক।

পর্দার অন্তরালে অসহায় তিন নারীর ভবিষ্যৎ জীবনমৃত্যুর দোলাচলে দোদুল্যমান। আত্মীয়তার সূত্রে সিরাজের খুব কাছের তিনজন নারী তাঁরা। একজন মাতামহী শরিফুন্নেসা, দ্বিতীয়জন জননী আমিনা এবং অন্যজন জায়া লুৎফুন্নিসা। পর্দার আড়ালে তাঁরা তাঁদের ভবিতব্য নিয়ে শংকিত, করণীয় সম্পর্কে দ্বিধান্বিত। এরকম একটি অন্তরালের ঘটনা ইতিহাসের পাতা থেকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে নাট্যসাহিত্যে তুলে ধরেছেন সৈয়দ শামসুল হক, তাঁর নাটক নারীগণে। আর বর্ষিয়ান নির্দেশক আতাউর রহমান অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে তার মঞ্চরূপ দিয়েছেন। নির্দেশক নাটকের আবহটি শুরুতেই দর্শকদের মানসপটে গেঁথে দিতে ব্যবহার করেছেন অসংখ্য পর্দার। এই শিল্পব্যঞ্জনায় খুব সহজেই দর্শক পৌঁছে যান আড়াইশো বছর আগের ঘটনাপ্রবাহে।

সৈয়দ শামসুল হক এ-নাটকটিও রচনা করেছেন কাব্যের গড়নে। ইতিহাসের উপাদানগুলো তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করেছেন। কথিত আছে, পরাজিতের ইতিহাস কখনো লিখিত হয় না। কিন্তু পরাজয়ের প্রান্তে দাঁড়িয়েও তিন নারীর বেঁচে থাকার সংগ্রাম যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তার এক অভূতপূর্ব মঞ্চনিদর্শন নারীগণ। সিরাজের জন্মদাত্রী নারী আমিনা বেগম, যিনি আলীবর্দির কন্যাও, তিনি পরাজয়ের মুহূর্তেও অবিচল। ভবিতব্য সম্পর্কে তাঁর অনুমান বাস্তবসম্মত। তার এই ধারণা ইতিহাসের গতিপথ বিশ্লেষণ থেকে আহরিত। কিন্তু আমিনা বেগমের মা শরিফুন্নিসা যতটা না বাস্তব ভাবনায় ভাবিত, তার থেকে বেশি কল্পনাপ্রবণ। তিনি খুঁজতে থাকেন কোনো একটা উপায়, যাতে এই মরণদশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অন্যদিকে লুৎফুন্নিসা ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহবল। তার নিজের মত প্রকাশে অপারগ। নাট্যঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে আমিনার মুখে বেরিয়ে আসে সেই সত্য –

‘যে কোনো যুদ্ধের এক বাস্তবতা এই –

যুদ্ধ করে পুরুষেরা।

বিজয়ী বা পরাজিত কোনো পক্ষে নারীযোদ্ধা নেই।

নারী শুধু পরুষের নর্মসহচরী!

রমিত রমণী।

ইতিহাস তাই বলে থাকে।

যুদ্ধে তাই পুরুষের পরাজিত হবার আগেই

রাজপুত রমণীরা আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে,

ব্যর্থ হয় মোগলের চূড়ান্ত বিজয়।

বর্গিদস্যুদল নারীধর্ষনের তান্ডব চালায়।

কারণ, নারীরা হয় অধিকার স্থাপনের চূড়ান্ত উপায়।

যুদ্ধের প্রান্তরে নয়, জয়-পরাজয়

নারীর শরীরে হয় নির্ধারিত-ইতিহাসে রয়েছে প্রমাণ।’

যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে নারীর মনোস্তত্ত্ব অত্যন্ত চমৎকারভাবে সংলাপ প্রতিসংলাপে উপস্থাপন করেছেন নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক। নাটকের পটভূমিতে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত সিরাজের তিন নিকটাত্মীয়ার কথা বর্ণিত হলেও তা সময়কালদেশ ভেদে পৃথিবীর সব অসহায় নারীর অবস্থায়ই প্রকাশ করে।

নারীগণ নাটকে প্রত্যেকের অভিনয়ই চমৎকার, বিশেষ করে কয়েকজনের নাম না বলে পারা যাচ্ছে না। আমিনা বেগম চরিত্রে দীপ্তা রক্ষিত লাভলী, শরিফুন্নিসা চরিত্রে ফারহানা মিঠু, নর্তকী চরিত্রে জয়িতা মহলানবিশ, কতুব চরিত্রে শামীম সাগর এবং সিরাজের চরিত্রে কাজী ফয়সলের অভিনয় অসাধারণ। নারীগণ নাটকের আলোক, সংগীত ও পোশাক-পরিকল্পনাও ছিল চমৎকার।

‘নাট্যকারের সান্নিধ্যে’ শিরোনামের অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু করেছিলাম এ-লেখা। সেখানেই ফিরে আসতে হবে আমাদেরকে।  কেননা এ-উৎসব নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হককে ঘিরে। তাঁর নাটক যেমন ছিল এই উৎসবের মূল আকর্ষণ, তেমনি তাঁর সান্নিধ্যও ছিল উপভোগ্য। তবে ২৫ তারিখের সেমিনারটিও কিন্তু কম আগ্রহের বিষয় ছিল না। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন নাট্যসমালোচক মফিদুল হক। প্রাবন্ধিক মফিদুল হক তাঁর বক্তব্যে পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে চমৎকার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। বিপুলসংখ্যক নাট্যকর্মী, নাট্যবোদ্ধা ও নাট্যামোদিদের অংশগ্রহণে সেমিনারটি সরব ও সফল হয়ে ওঠে।

‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ স্লোগানে সৈয়দ শামসুল হক নাট্যমেলার এ-আহবান দীর্ঘদিন ঢাকার দর্শকদের কানে-মনে অনুরণন ঘটাতে থাকবে। এ ধরনের একটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলকে সবিশেষ ধন্যবাদ। r

 

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার