জিনের মোহর ও ল্যালহা

লেখক:

নীহারুল ইসলাম

ল্যালহা ভোর-ভোর কালিপালের ডিহিতে ঝাড়া-ফিরতে আসে। গাঁ ছেড়ে মাঠের আল ধরে একটু হাঁটতে হয় ঠিকই, তবে জায়গাটা নির্জন। ঝোপঝাড় আছে। নানা ধরনের পাখি দেখা যায়। তাদের কলরব ভেসে আসে। এখানে এলে শরীরের সঙ্গে তার মনটাও বেশি খোলসা হয়।
তেমন খোলসা শরীর-মন নিয়ে সে হেঁটে বেড়াচ্ছে ডিহির ওপর। গেল রাতে কখন বৃষ্টি হয়েছে, টের পায়নি। এখন ফুরফুরে ঠান্ডা-হাওয়া বইছে, টের পাচ্ছে। শুধু টেরই পাচ্ছে না, সে-হাওয়া গায়ে মেখে ডিহির ভেজা মাটির ওপর নাঙা পা ফেলে হাঁটতে শরীরে এক ধরনের খুশি অনুভব করছে। তার ভালো লাগছে।
কোনোকালে এই ডিহিতে কালি নামে এক কুমোরের বাস ছিল। যত্রতত্র তার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে। খোলামকুচি আর মাটি যেন সমান-সমান। কালি নামের সেই কুমোরের খুব রবরবা ছিল নাকি। তাহলে এসব ছেড়েছুড়ে কালি কোথায় গেল? এসব কথা ল্যালহা ভাবে না। এসব কথা তার ভাবনাতেই আসে না। আর ভাবনাতে আসে না বলেই তো সে ল্যালহা। তার বুঝে যা আসে সে সেটা করে। এই এখন যেমন করছে, সে তার বুঝ অনুযায়ী মনের ডিহিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তার পায়ের চাপে ডিহির ভেজা-মাটি কতটা বসছে, পরীক্ষা করে দেখছে যেন।
এই করতে করতে হঠাৎ ল্যালহার চোখ চলে গেল চকচকে গোলাকার একটা কিছুর ওপর। সূর্য উঠতে তখনো অনেক দেরি। অথচ জিনিসটা থেকে চ্ছটা বেরোচ্ছে সূর্যের মতো। ল্যালহা সব ভাবনা, সব অনুভূতি ফেলে সেটার দিকে ছুটে গেল। দেখল একটা চকচকে কী পড়ে থাকতে! কয়েন! এক টাকার কয়েন! ভালোভাবে পরখ করে ল্যালহা যখন বুঝতে পারে যে, এটা কয়েন হলেও তার মা যে কয়েন দিয়ে মুদিদোকানে সওদা আনতে পাঠায়, এটা সে-ধরনের নয়। এদিক-ওদিক তাকায় ল্যালহা। কেউ কোথাও আছে কিনা দেখে। কিন্তু আশপাশে কেউ নেই যে তাকে জিজ্ঞেস করে জানবে জিনিসটা কী? যদিও ল্যালহা মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে কয়েনটা আলতো করে হাতে তোলে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে। সাধারণ কয়েনের চেয়ে সাইজ বড়। আবার একপিঠে মুকুটপরা কার ছবি আঁকা। কোনো রানীসাহেবা হবে হয়তো। অন্য পিঠে কী সব লেখাও আছে। আনপড় ল্যালহা বুঝতে পারে না। তবে একটা মূল্যবান বস্তু তার হস্তগত হয়েছে বুঝতে পারে। হঠাৎ করে সে খুব সাবধানী হয়। তার খুব ভয় করে। ডিহির ভেজা-মাটি যদি তার পা আঁকড়ে ধরে?
ল্যালহা আর ডিহিতে হেঁটে বেড়ায় না, সটান বাড়ি চলে আসে।

দুই
ল্যালহাকে আসময়ে বাড়ি ঢুকতে দেখে মায়ের খুব তাজ্জব লাগে। আঙিনা ঝাঁট দিতে দিতে মা থমকে দাঁড়ায়। ছুঁড়ার কিছু হলো নাকি? এত জলদি বাড়ি ফিরে এলো কেনি! পোঁহাতে বাড়ি থেকি বেরহিন তো ডুমুরের ফুল হুন যায়। তাহেলে আইজ এত জলদি বাড়ি ফিরে এল যি উ? ভয় পেয়ে মা জিজ্ঞেস করল, কিছু হলছে নাকি বেটা তোর?
ল্যালহা কোনো উত্তর করল না। বলতে গেলে মাকে পাত্তা না দিয়ে সটান ঘরে গিয়ে ঢুকল।
মায়ের আন্দাজ করে, নিশ্চয় তাহলে এই ভোরবেলায় তার ল্যালহা-বেটার পেছনে লেগেছিল কেউ।
বেটার জন্য মায়ের কষ্ট হয়। বেটার জন্য মায়ের মন আফসোস করে উঠে, হায় খোদা! এই ল্যালহর-বেটাকে নি কী করবো হামি? হামার মওতের পরে এ্যাকে কে দেখবে খোদা?
ল্যালহা কিন্তু ঘরে ঢুকে তার প্রিয় কৌটোটা খুঁজছে, যার ভেতর তার কুড়িয়ে পাওয়া ভালো জিনিসগুলো সযতেœ রক্ষিত আছে। কিন্তু কোথায় সেটা? খুঁজে পাচ্ছে না কেন? রেখেছিল তো চৌকির তলায়। একেবারে ভেতর থেকে।
অগত্যা সে বাইরে বেরিয়ে আসে। মাকে কৌটোটার কথা জিজ্ঞেস করবে ভাবে, কিন্তু জিজ্ঞেস করতে পারে না। মায়ের মন পড়তে পারে সে। মা তার জন্য কষ্ট পাচ্ছে। বুঝতে পারে। মাকে সে আর কষ্ট দিতে চায় না। মায়ের দিলখুশ রাখতে চায়। সেজন্য পকেট থেকে কয়েনটা বের করে মাকে বলে, এদ্দ্যাগে মা!
মায়ের চোখ পিটপিট শুরু হয়। জিজ্ঞেস করে, কী ওটো?
ল্যালহা বলল, কয়েল।
মা কিন্তু চিনতে পারে। বলে ওঠে, কয়েল না তোর মাথা! ওটো মোহর। জিনের মোহর। আঁতকে উঠে মা জিজ্ঞেস করে, কুনঠে পেলি?
– কালিপালের ডিহিতে পড়ে পেনু।
– যেখানকার জিনিস সেইখ্যানে ফেলে আয়গা বাপ। উ-জিনিসে হাত দিতে নাই। হাত দিলে বংশ লাশ হয়। রোওশনমিঞার বংশের মুতোন!
রোওশনমিঞা কে, ল্যালহা জানে না। বংশ নাশ হওয়া ব্যাপারটাও তার বুঝের বাইরে। অগত্যা সে মায়ের মুখের দিতে তাকায়। কিন্তু মায়ের মুখে সাংঘাতিক রকম ভয় দেখতে পায়। সে তখন তাকায় নিজের হাতের তালুর দিকে। তালুতে জ্বলজ্বল করছে চাঁদির মোহরটা।
মায়ের কথার গুরুত্ব বেশি না মোহরটার, ল্যালহা বুঝতে পারে না।
মা কিন্তু বেটার চরিত্র জানে। তার হাবাগোবা বেটা! ল্যালহা বেটা! দুনিয়ার অতশত কিছু জানে না, বোঝেও না। মনে বেটার জন্য মমতা থাকলেও ওপরে সে কঠোর হয়। বেটাকে ধমক দেয়, কী হইল হামার কথা কানে ঢুকছে না নাকি তোর? বুলনু না, যেখ্যানকার জিনিস সেখ্যানে ফেলি আয় গা!
ল্যালহা এবারে বুঝতে পারে, মা খুব রেগেছে তার ওপর। এবার কথা না শুনলে আর রক্ষে থাকবে না। মা হাতে যে-ঝাঁটাটা ধরে আছে সেটা দিয়ে পেটাতে শুরু করবে।
ল্যালহা আর দাঁড়িয়ে থাকে না, ভয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কালিপালের ডিহির দিকে আবার হাঁটতে শুরু করে।

তিন
কালিপালের ডিহিতে যাওয়ার রাস্তাটা গ্রামের যেখান থেকে কাট মেরেছে সেখানে একটা তেঁতুল গাছ আছে। গাঁয়ের সবচেয়ে প্রাচীন গাছ। বহু কিছুর সাক্ষী।
গরমকালে দিনের বেলা এই গাছের তলায় রীতিমতো মেলা বসে। এখন গরমকাল। কিন্তু সকালবেলা। তাই কেউ নেই। একটু পর বেলা বাড়লে ভিড় জমবে। ছুঁড়া-ছুঁড়ি, বুড়া-বুড়ি, সংসারে যাদের কোনো কাম নেই কাজ নেই। যাদের কামকাজ আছে, তারাও দুদণ্ড এখানে জিরোতে আসবে ভরদুপুরে। খালি সে নিজে আসতে পারবে না। সে এলে সবাই তাকে নিয়ে মজা করবে। সবাই তার পেছনে লাগবে। এসব ভাবতে ভাবতে ল্যালহা কালিপালের ডিহির রাস্তাটা ধরে। জিনের মোহর জিনকে ফিরিয়ে দিতে হবে। মোহরটা তার মুঠিতে ধরা। খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মায়ের আদেশ। মৌলবীসাহেবের মুখে শোনা, ‘…মায়ের পায়ের তলায় সন্তানের জান্নাত…’। তাহলে মায়ের আদেশ অমান্য করবে কী করে? যত তাড়াতাড়ি সে-আদেশ পালন করতে পারে ততই মঙ্গল।

চার
কিছুক্ষণের ভেতর কালিপালের ডিহিতে পৌঁছে যায় ল্যালহা। মোহরটা যেখানে পেয়েছিল সে-জায়গাটা কোথায় বুঝতে পারে না। গোটা ডিহিটাকে একরকম মনে হয়। ডিহিজুড়ে বিভিন্ন আকৃতির খোলামকুচির ছড়াছড়ি। এর মাঝে কী করে যে মোহরটা চোখে সুঝেঁছিল, এখন ভাবতেই তাজ্জব লাগছে তার। যদিও সে কখনো কোনোকিছুতেই তাজ্জব হয় না। তাই বুঝি একসময় জায়গাটাকে খুঁজে বের করে। ভেজা মাটি। মোহরটার ছাপ সে-মাটিতে স্পষ্ট দেখতে পায়। ছাপ মিলিয়ে মোহরটাকে রাখতে যায় সেখানে। তখনই কার কণ্ঠস্বর ভেসে আসে তার কানে, ল্যালহা কী করছিস ওখানে?
চমকে উঠে ল্যালহা। জিজ্ঞেস করে, কে! কে! আপনি কে গো?
– হামি!
– হামি-আপনিট্যা কে?
– হামি জিন।
– জিন!
এরপর কথা বন্ধ হয়ে যায় ল্যালহার। তার মনে পড়ে যায় মৌলভীসাহেবের আরো কিছু কথা, জুমার নামাজ কিংবা কারো বাড়ির মিলাদ-মাহফিলে শুনেছিল, ‘…জিন দুই প্রকারের। ভালো জিন আর খারাপ জিন। মানুষের জন্ম মাটি থেকে। আর জিনের জন্ম আগুন থেকে…।’
এ-কথা মনে পড়তেই ল্যালহার মনে একটু সাহস জাগে। আগ্রহও বাড়ে। সে জানতে চায়, বুলেন হুজুর। কী বুলছিলেন?
– কী করছিস ওখ্যানে?
কী উত্তর করবে ভাবে ল্যালহা। সত্য বলবে না মিথ্যা? তখনই মৌলভী আসাদুল্লা সাহেবের কণ্ঠ ভেসে আসে তার কানে, ‘…জিনের অজানা কিছুই নাই। জিনের অগম্য কোনো জায়গা নাই এ-দুনিয়ায়। জিন যেখানে খুশি যেতে পারে, যেমন খুশি রূপ ধারণ করতে পারে। ভালো জিন হলে ভালো রাস্তা দেখায়। খারাপ জিন হলে খারাপ            রাস্তা…।’
ল্যালহা ভয় পেয়ে সত্য কথা বলে ফেলে, মাফ করিয়েন হুজুর। আপনার মোহর ভুল করি তুলে লিয়ে গেলছিনু এখ্যান থেকে।
– জানি। তা, তুলে লিয়ে গেলি কেনি? জানতিস ন্যা তোর গুনাহ হবে?
– কী গুনাহ হবে হুজুর?
– কেনি শুনিসনি খো, তোর মা-র মুখে যে হামার মোহর লিলে বংশ লাশ হয়। তোরও বংশ লাশ হবে। রোওশন মিঞার মুতোন।
– হামার তো কুনু বংশই নাই হুজুর।
– কী বুল্লি বেয়াদব! জানিস তুই কার সুথে কথা বুলছিস?
জিনের ধমকে ছমছম করে উঠে কালিপালের ডিহি। ল্যালহার মনেও ভয় এসে ভিড় করে আবার। সে-কারণেই হয়তো সে সত্য কথা বলে, মাফ করি দ্যান হুজুর। হামি ল্যালহা। হামার হুঁশ-বুদ্ধি কম।
– কে বুল্লে তু ল্যালহা? তোর হুঁশ-বুদ্ধি কম হবে কেনি? যদি কম হতো তাহলে তুই হামার মোহর তুলে লিয়ে যেতিস না। তোর মুনে লোভ আছে। তু জেনিশুনি পাপ কর‌্যাছিস। তোকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
ল্যালহা আর তর্ক করে না। আত্মসর্মপণ করে। বলে, শাস্তি ভোগ করতে হবে যখুন দ্যান কী শাস্তি দিবেন! ভোগ করি। বলেই ল্যালহা কালিপালের ডিহিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। ঠিক মোনাজাতের ভঙ্গিতে।
জিন এমনটা আশা করেনি। সে ভেবেছিল ল্যালহা হয়তো ভয় পেয়ে মোহর ফেলে ছুটে পালাবে। কিন্তু এ তো উলটো ঘটনা। মহামুশকিলে পড়ে যায় জিন। কচুর জঙ্গলে বসে থাকা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। যা মশা! পাছা-পায়ের কোথাও কামড়াতে বাদ রাখেনি। ফুলে গেছে। জ্বালা করছে। পালাতে পারলে বাঁচে; কিন্তু সামনেই ল্যালহা! পালাতে পারছে কই?
ল্যালহাকে ফ্যাসাদে ফেলতে এসে জিন নিজেই ফ্যাসাদে পড়েছে। তা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছে। কী করলে ছুঁড়ার কাছ থেকে মুক্তি মিলবে, ভাবছে।
হঠাৎ বুদ্ধি খুলে যায় জিনের। ল্যালহাকে সে লোভ দেখায়। বলে, ল্যালহা সত্যিই যে তু সরলসোজা মানুষ সেটোই এতক্ষুণ হামি পরখ করছিলাম। যা, ওই মোহর তোকে ফ্যারৎ দিতে হবে না। ওটো তোরই, তু লিয়ে যা।
– হামার মোহর? কিন্তু মা যি বুল্লে আপনার, আপনিও বুল্লেন। আর, যারা আপনার মোহর লিবে তাদের বংশ লাশ হবে। রওশন মিঞার বংশ যেমুন লাশ ////।
মশার কামড়ে জিনের নিজেরই বংশ নাশ হওয়ার জোগাড় এখন। সে আর পারছে না। পারছে না কী, সত্যিই পারল না। কচুর জঙ্গল ছেড়ে মানুষের বেশে বেরিয়ে এলো।
ল্যালহা দেখল একটা লোককে কচুর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে। সে যে জিনের সঙ্গে কথা বলছে, সেটা ভুলে গেল। কচুর জঙ্গল থেকে যে বেরিয়ে এলো তাকে দেখতে আরো মনোযোগী হলো। মাথায় বাবরি চুল। মুখে লম্বা দাড়ি। পরনে আলখাল্লা। লোকটাকে সে আগেও দেখেছে কোথাও। কিন্তু কোথায় দেখেছে মনে করতে পারল না। তখন লোকটাকেই তার জিন বলে মনে হলো। আর তার মাথায় গোলমাল দেখা দিলো। কী করবে ভেবে পেল না। অগত্যা তার যা স্বভাব সে তাই করল। জ্ঞান হারাল। অজ্ঞান হয়ে গেল।

পাঁচ
ল্যালহা চোখ খুলে পিরবাড়ির উঠানে নিজেকে আবিষ্কার করে। তাকে ঘিরে আছে পাড়ার যত মানুষ। প্রত্যেকের মুখ দেখে চিনতে পারে। জিজ্ঞেস করে, কী হলছে? তুমরা সব হামাকে ঘেরি আছো কেনি? হামিই বা এখ্যানে কেনি? কে আনলে হামাকে এখানে?
পীরবাড়ির পীরসাহেব জিজ্ঞেস করেন, কালিপালের ডিহিতে কী করতে গেলছিলি তু?
ল্যালহা উত্তর করে, হাগতে।
হাসির রোল ওঠে চারদিকে। ভ্রƒক্ষেপ করো না ল্যালহা। সে পিরসাহেবের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। পিরসাহেব কী করে জানলেন যে, সে কালিপালের ডিহিতে গেছিল? তারপরই তার মনে হয় পিরসাহেব জানবে না তো আর কে জানবে? পিরসাহেব কী আর এমনি পীরসাহেব হয়েছেন? ১৫৯টা জিন বশ করে তবেই পির হয়েছেন। ১৫৯টা জিন দুনিয়া-জাহানের সব খবর এনে দিচ্ছে তাঁকে।
এ-কথা তার মায়ের কাছে শোনা। বিছানায় পেচ্ছাব করে বলে মা একবার তাকে নিয়ে এসেছিল এই বাড়িতে। পিরসাহেব তাকে দেখেশুনে বলেছিলেন, ‘রাইতে যখন মুতিস, মুনে হয় যি মিঞা সাহেবের বাঁশড়ায় মুতছিস বোল ল্যালহা?’
‘জি হুজুর।’
‘আর মুতা হুন গেলে?’ পিরসাহেব জিজ্ঞেস করছিলেন।
‘ভিজা বিছানায় লিজেকে লটাপটি দেখি।…
পিরসাহেব আর কিছু জিজ্ঞেস করেননি। মাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘তোর বেটার ওপর জিনের লজন আছে রসলুন। তবে চিন্তার কিছু নাই। হামি আছি। দেখছি কী গতিক করা যায়।’
ব্যবস্থা করেছিলেন পিরসাহেব। ঝাড়ফুঁক করেছিলেন।  পানিপড়া- তেলপড়া দিয়েছিলেন। সঙ্গে একটা তাবিজ, যেটা এখনো তার গলায় ঝুলছে।
ল্যালহা চুপ করে আছে। ইন্তেজার করছে।
পিরসাহেব ল্যালহার মন পড়তে পারেন। ছুঁড়া অধীর আগ্রহে কিছু শুনতে চাইছে তাঁর মুখ থেকে। বুঝতে পারেন। তাই বলেন, জিনের পাল্লায় পড়েছিলি?
– জি হুজুর।
– জিন দেখতে কেমন রে ল্যালহা?
– আপনার মুতোন হুজুর।
ল্যালহার কথা শুনে সবার হাসি বন্ধ হয়ে যায়। কার নাম উচ্চারণ করছে ছোঁড়া? ছোঁড়ার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল? ল্যালহা থেকে ছোঁড়া পাগল হয়ে গেল?
সকলে ভয় যায়। অথচ ল্যালহার কোনো বিকার নেই। সে যেমনকার তেমনি।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার