তিনি

লেখক:

এনামুল করিম নির্ঝর

তিনি চলে গেলেন।
তার দুদিন আগে, যেহেতু আমার মা ইউনাইটেড হাসপাতালে শয্যাশায়ী, পায়চারির একসময়ে অনুজ চিকিৎসক সজল জানায়, মাজহারুল ইসলাম স্যার আইসিউতে। যেহেতু সজল সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত – জিগ্যেস করে, আমি স্যারকে একবার দেখতে চাই কিনা। আমি বলি, … না। সে হতাশ হয়।
কেন?
এসব মানুষকে মুমূর্ষু, মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায় দেখতে ইচ্ছে করে না রে।
কেন ভাই? এটা তো বাস্তবতা। সবাইকে যেতে হবে একদিন না একদিন। চলেন, দেখবেন ওনাকে। প্রথমে তো বুঝিনি তিনি এতো বিখ্যাত কেউ; কিন্তু আইসিইউতে আসার পর বসদের খোঁজখবরের মাত্রা দেখে বুঝলাম …
অবশেষে আমি যাই। জানালার কাচের ওপাশে লেকের আধময়লা পানি। রোদ-ঝলমলে ঢাকার আকাশ। দেখি মাজহার স্যার বেশ কাঁচুমাঁচু হয়ে একাকী শুয়ে আছেন কলকব্জার ভেতর। মুখে ভেন্টিলেটরের পাইপ আর মনিটরের কালো পর্দায় উঁচুনিচু লাইন।
সজল ডাকে,  বাবা, বাবা, স্যার …। না, কোনো সাড়াশব্দ নেই। স্যার ঘুমিয়েই আছেন।
এর দুদিন পর জানলাম তিনি চলে গেছেন। তারপর যা হয়। নতুনভাবে মানুষটাকে স্মরণ করা। কার কার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক… তাঁর এভাবে চলে যাওয়াটা অপূরণীয় ক্ষতি ইত্যাদি বিবৃতি। কবর দেওয়ার স্থান নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সহায়তার আকাক্সক্ষা, হতাশা। টক শো এবং তাঁর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী, স্মরণসভা ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর একটা সময় পর সবকিছু আবছা হয়ে যাবে এবং শুরু হবে জন্ম ও মৃত্যুদিবস উদযাপন। এটাই ঘড়ির কাঁটার মতো একটা নিয়ম হয়ে গেছে। এবং এই নিয়মিত গল্পের ঘুরপাকে আমাদের একধরনের মানসিক চাপ নেওয়া ছাড়া আর কিইবা করার আছে?
তাঁকে নিয়ে আমার মাত্র কয়েক টুকরো স্মৃতি। সেটুকু নাড়াচাড়া করে যদি কিছু প্রশ্ন এবং উত্তরের সমীকরণ তৈরি করা যায়, যেখান থেকে কিছু উদ্যোগ, কিছু সচেতনতাকে সঙ্গী করে স্যারের কাজ ও চিন্তাগুলো বিভিন্নভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা হওয়া উচিত।
যোজন নামের যে সমকালীন চিত্রশালা গড়েছিলাম সেন্ট্রাল রোডে, ১৯৯৩ সালে তার প্রথম বর্ষপূর্তিতে মাজহার স্যার এলেন প্রধান অতিথি হয়ে। যেহেতু আমি তখনো স্থাপত্যচর্চার রাস্তায় শামিল হইনি এবং শুনেছি তিনি ভীষণ রাগী মানুষ, তো একটু দূরে দূরেই ছিলাম। কিন্তু কী অসাধারণ মমতায় তিনি কাছে ডাকলেন। উৎসাহ দিলেন। বুঝিয়ে বললেন, সত্যিকারের স্থপতি হতে চাইলে দরকার অন্যান্য শিল্পমাধ্যম ও মননশীল মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি কতটা জরুরি বিষয়। স্থাপত্যচর্চা মানেই সমাজের সঙ্গে আরো গাঢ়ভাবে সংযুক্ত হওয়া, সাংস্কৃতিকভাবে নিজের পরিষ্কার একটা অবস্থান গড়ে তোলা। সেটাই আসলে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠা। স্যার সারাটা জীবন এ-বিশ্বাস ধারণ করে রেখেছিলেন এবং অনড় ছিলেন।
সেদিনের আসলে খুব ছোটখাটো মানুষ হিসেবে আমাদের উদ্যোগ ছিল শিল্পী আমিনুল ইসলামকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো, যার তাৎপর্য আমরা হয়তো খুব সামান্যই বুঝেছিলাম, কিন্তু স্যার যেহেতু খুব সরাসরি কথা বলতেন, তাই তিনি খুব স্বচ্ছভাবে আমাদের ব্যাখ্যা করেছিলেন কাউকে প্রকৃত সম্মান দেখানোর ভেতরই নিজের অবস্থানকে সম্মান দেখানোর প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মাজহারুল ইসলাম স্যারকে প্রকৃতভাবে আমরা কতটা সম্মান দিতে পেরেছি? পরবর্তী প্রজন্মের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে স্যারের ভাবনা ও অবস্থান ছিল অনেক বেশি ভবিষ্যৎমুখী। আমরা নানান অজুহাতে সেসব চিন্তার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারিনি।
তারপর সেদিনের সে-মুহূর্তগুলো পেরিয়ে লম্বা সময় এগিয়ে যায়। আমার নিজস্ব জীবনসংগ্রাম ও স্থাপত্যচেষ্টায় কেটে যায় বেশ কতকগুলো বছর।

দুই
তাঁকে নিয়ে তিনি শিরোনামের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মুহূর্ত। হঠাৎ করেই বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোবাশ্বেরভাই উদ্যোগ নিয়ে বললেন তাঁকে নিয়ে ছবি বানাতে। সঙ্গে উৎসাহ দিলেন ইনস্টিটিউটের সাঈদ ভাই এবং নাসির ভাই। সেটা ২০০৩-এর কথা। শুরু হলো প্রস্তুতি। প্রথমত, আমাদের আয়োজন দেখে মাজহার স্যার খুব বিরক্ত হলেন, রাগ করলেন ঠিকই। কিন্তু যখন নাছোড়বান্দা হয়ে বসে রইলাম, তখন একটা সময় সে-মানুষটা হয়ে গেলেন শিশু। যেভাবে বলি সেভাবেই হেঁটে যান ক্যামেরার সামনে দিয়ে। কথা বললেন অনেক… অনেক কথা। দেশ নিয়ে, মানুষ নিয়ে, স্থাপত্য নিয়ে, জীবন নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে অনেক ধরনের বিশ্লেষণ। সবই স্বপ্নের। প্রাথমিকভাবে স্থাপত্য নিয়ে তাঁর এগিয়ে যাওয়া বেশ সফল হলেও পরবর্তীকালে কেন তেমনভাবে তাঁর স্বপ্ন বা ভাবনাগুলো পূরণ হলো না? তাঁর সাক্ষাৎকার পর্বে কেনইবা বিশিষ্টজনরা তাঁদের বক্তব্যে তাঁকে ’ট্র্যাজিক হিরো’ হিসেবে আখ্যা দিলেন?
আমার মনে হয় এ-বিষয়টাই মুখ্য। এটা নিয়েই কথা হতে পারে, হওয়া উচিত। মানুষগুলো স্বপ্ন দেখবেন, চেষ্টা করবেন, লড়াই করবেন এবং অবশেষে অভিমান করে চুপচাপ থাকবেন, তারপর একটা সময় যখন চিরতরে চলে যাবেন পৃথিবী ছেড়ে, তখন তাঁকে নিয়ে শুরু হবে আলাপ-আলোচনা। এটা বললাম এ-কারণে যে, স্যারকে নিয়ে কথাগুলো উঠলেও এটা তো আমরা অবশ্যই ভাবনায় নিতে পারি, পরম্পরায় এ-বিষয়টা কত জরুরি। যদিও এদেশে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের চেয়ে স্থাপত্য ও স্থপতিদের প্রতি নজরটা অনেক বেশি পক্ষপাতপূর্ণ। কোনো জাতীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে স্থপতিদের অংশগ্রহণ, মতামত বা স্বীকৃতির প্রতি কারোরই খুব একটা আগ্রহ দেখা যায় না। যদিও মাজহার স্যার শুরুতে তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় আন্তঃশিল্পচর্চায় সংযোগ স্থাপন এবং জাতীয় ক্ষেত্রের স্থাপত্য সিদ্ধান্ত বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে সেটা ক্রমশ ম্লান হয়ে যেতে থাকে। তাঁর উক্তি ‘বিশ্বকে জেনে বাঙালি হবো’ বিষয়ে তাঁর অবস্থান এবং পেশাচর্চায় প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে পরবর্তী প্রজন্মের বিচ্ছিন্নতা। যে-কারণে কসমেটিক আর্কিটেকচারের জঙ্গল তৈরি হয়েছে এদেশে।
প্রামাণ্যচিত্র তিনি নির্মাণে আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য ছিল মাজহার স্যারের জীবদ্দশায় কাজটা শেষ করা। দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবে যখন ছবিটা দেখানো হয়, তখন দর্শকদের প্রধানতম কৌতূহল ছিল, স্যারের স্থাপত্যকর্মগুলোর বর্তমান অবয়ব পরিস্থিতি, তাঁর চিন্তাগুলো দেশের স্থাপত্য শিক্ষার সঙ্গে কতটা সংযুক্ত হতে পেরেছে এন স্থাপত্যচর্চার গোড়াপত্তনের কারিগর বা সংসদ ভবন ডিজাইনের জন্য বিশ্বখ্যাত লুই কানকে সম্পৃবং দেশ কেন তাঁকে কাজে লাগাতে পারেনি। এ প্রশ্নের দায় কিছুটা হলেও এদেশের স্থপতিদের নিতে হবে। কারণ তাঁরা যদি প্রকৃতভাবে এ-মানুষটার সঙ্গে, অন্তত পাশে থাকতে চেষ্টা করতেন, তবে হয়তো এসব প্রশ্নের বদলে ছবিটা অন্যরকম হতে পারত।
বিশেষত মাজহার স্যারের স্থাপত্যস্বপ্ন, ভাবনা, চেষ্টা সবদিক থেকেই প্রশ্নাতীত। হয়তো সাধারণভাবে দেখলে সে-সময়ের চারুকলা ইনস্টিটিউশনসহ তাঁর অন্যান্য কাজে এদেশে সমকালীক্ত করার বিষয়টাকে বড় করে দেখছি আমরা। কিন্তু সদ্য স্বাধীন দেশ গড়ার জন্য স্থপতির ভূমিকা, স্থাপত্য শিক্ষায় নিজ সংস্কৃতির প্রয়োগ বিষয়ে তাঁর প্রচণ্ড আকুতির সামান্যটুকুও জন্মভূমির মানুষরা কি জানতে বা বুঝতে পেরেছে?  অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর এটা নিশ্চিত, এই স্বচ্ছ দর্শনের কিছুটা বুঝতে পারলেই আসলে এদেশ অথবা এদেশের স্থপতিসমাজ ধন্য হতে পারত কিংবা পারে।
তিনি নির্মাণের সময় স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারপর্বটা ছিল বেশ নাটকীয়। প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাইতেন না কিছুতেই। হয়তো সেটা অতি অভিমানের কারণেই। আমি একটা প্রশ্নপ্রসঙ্গ ছুড়ে দিলেই শুরু হতো স্থাপত্য + সংস্কৃতি, বিশ্বাস আর জন্মভূমির কথা। তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত রাখতে একটা বিশেষ ব্যাগের ভেতর ক্যামেরা লুকিয়ে রাখতাম। মুখটা খুলে দিলেই তিনি থামতেন একটু, তারপর প্রশ্নের লেজটা টানতেই বলে যেতেন অবিরাম। স্থাপত্যে এদেশে অনেকেই আছেন, যাঁরা থিওরিটিক্যাল বিষয় নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা নিয়েই সময়টা পার করে দেন, যার অনেকটাই থাকে জীবন থেকে দূরে। প্র্যাকটিক্যাল বা পেশাচর্চার দিকে তাঁরা খুব একটা এগোতে চান না, বা চাইলেও পারেন না। কিন্তু মাজহার স্যার যে-সময়টায় শুরু করেন তাঁর দখল ও চেষ্টা ছিল সবদিকেই। তাঁর স্থাপত্যকর্ম যেমন ছিল বিশ্বমানের, তেমনি মুক্তবুদ্ধিচর্চায় একটা নির্দিষ্ট দর্শন নিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিলেন। যদিও এগুলো সবই আমাদের কমবেশি জানা।
সামান্য স্থপতি হিসেবে তিনি নির্মাণের সময়টা হাতড়ে একটা বিষয় পরিষ্কার খুঁজে পাই, এরপর স্থাপত্য বিষয়ের গভীরে যাওয়ার আগ্রহ বেড়েছে আমার অনেক অনেকগুণ। মাজহার স্যার সে-সময়ে এতটা সার্থকভাবে স্থাপত্যের সঙ্গে জীবনকে জড়াতে পেরেছেন যেভাবে, অথচ আমরা চারপাশে এসব কী করছি এখন? এখন স্মৃতিচারণের চাইতে বরং কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে যদি কথা বলি, তবে অসংখ্য জিজ্ঞাসা আসবে। আমার মনে হয়, যা অনেক বেশি জরুরি এ-সময়ে। তাঁর এই অভিমানী চলে যাওয়াটাকে শ্রদ্ধা করে অন্তত কিছু বিষয় যদি আমরা বুঝতে চেষ্টা করি, তবে সেখান থেকেই নতুন কিছুতে যাত্রা শুরু হতে পারে।
এক, স্যারকে কেন আমরা সরাসরি শিক্ষক হিসেবে পাইনি?
দুই, কী কারণে একটা সময়ের পর স্যারকে পেশাচর্চা থেকে দূরে রাখা হয়েছে?
তিন, জাতীয়ভাবে এতটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কেন দেশ গড়ার কাজে লাগানো হয়নি?
চার, তাঁর সুহৃদ স্থপতি, যাঁরা তাঁর স্থাপত্যচেষ্টা সম্পর্কে জানতেন, কেনই বা তাঁরা এসব বিষয়ে নীরব থেকেছেন?
পাঁচ, যদি সচেতনতার কথা বলি, সে-বিষয়ে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে তাঁর অবস্থান ছিল খুব স্বচ্ছ। এ-বিষয়টা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি কেন স্থাপত্যের শিক্ষকরা পেশাজীবী করেননি বা করছেন না?
ছয়, তাঁর যেসব স্থাপত্যকর্ম, ভীষণ অবহেলায় কখনো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে, কখনো স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, সেগুলো কেন ঠিকঠাক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা হচ্ছে না?  এ বিষয়গুলোই যদি আলোচনার প্রধানতম বিষয় হয়ে ওঠে, তবে কি তাঁকে প্রকৃত শ্রদ্ধার অবস্থানে রাখা হতো না?
একটা মুহূর্ত খুব মনে পড়ে। পরীবাগে স্যারের বাড়ি আর তার সামনে বিশ্বব্যাংক ভবনের নিচতলায় তাঁর বাস্তুকলাবিদের অফিস। এক বিকেলে স্থাপত্য কনফারেন্সে আসেন নানা বিদেশি অতিথি। সকলের আগ্রহ তাঁকে নিয়ে। স্যার ড্রয়িং দেখালেন, গল্প করলেন। তারপর একটা সময় অতিথিরা চলে গেলে স্যার চুপচাপ বসে থাকেন মাঝখানের আঙিনায়। যেহেতু তখন জানি, স্যারের পুরো জমিটা ডেভেলপারকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সাহস করে অতি কৌতূহলে জিজ্ঞেস করি, স্যার প্লিজ এ-রাস্তার পাশের বাড়িটা না ভেঙে কিছু একটা করা যায় না। মাজহারুল ইসলাম স্থাপত্যকেন্দ্র, যেখানে থাকবে  গ্যালারি, স্কুল…। আপনি বলবেন, আমরা আপনার কাছে অনেক কিছু শিখতে চাই।
স্যার চুপ করে থাকলেন। তারপর শূন্যদৃষ্টি দিয়ে বললেন, এখানে এসব কিছুই হবে না। কারা থাকবে সঙ্গে? আপনি যে ভালো চিন্তা নিয়ে এসব বলছেন, সেটা কেউ বুঝবে না।
আমি অস্থিরভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রস্তাব বলতে থাকলে স্যার খুব বিরক্ত হলেন। যে-বিরক্তির মধ্যে দীর্ঘ সময়ের হতাশা। তাঁকে আমরা যতই ট্রাজিক হিরো হিসেবে আখ্যা দিই না কেন, আসলে ক্ষতিটা হলো কার? স্থাপত্যের, স্থপতিদের, দেশের।
তিনি প্রামাণ্যচিত্রের সাক্ষাৎকার পর্বটা ছিল বেশ দীর্ঘ। সবটা ছবিতে জুড়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না। আরেকটা বেশ বড় অংশজুড়ে ছিল অভিমান আর আফসোস। দেশ এবং স্থাপত্যকে প্রকৃতভাবে যুক্ত করে অনেক জাতি এগিয়ে গেছে সামনে। যাঁরা আধুনিক মানসিকতায় সমাজকে গড়ে তুলতে চান, তাঁরা কখনই স্থাপত্যকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না। স্বাধীনতার পর তিনি সেটাই চেয়েছিলেন, চেষ্টাও করেছিলেন। স্থাপত্য মানেই বিল্ডিং-এ-ধারণা পালটে সবাইকে বোঝাতে চেয়েছেন, একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার সবকিছু নতুন করে গোছানোর। একটা অবকাঠামো ভুলভাবে গড়ে উঠলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। অকার্যকর হয়ে পড়বে সুস্থ চেতনা। হলোও তাই, স্থাপত্যের দার্শনিক দিকগুলো কমবেশি ধুলোয় মিশে গিয়ে একধরনের বোকা বোকা চর্চায় এগিয়ে গেল সময়।
স্যার বেঁচে রইলেন অনেকদিন, হলো তাঁর জন্মদিবস পালন আর স্মৃতিচারণ। কিন্তু তাঁর কাজ ও চিন্তাগুলোকে মানুষের সঙ্গে পরিচয় করানোর আরো জোরালো চেষ্টা প্রয়োজন ছিল। তাঁকে নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেও কেন ক্ষমতাধরদের বোঝাতে পারলেন না, যা বলছেন সেটা দেশের জন্যে কল্যাণকর। তাঁর আশেপাশে যাঁরা ছিলেন, যাঁদের অনেকেই ছিলেন তাঁর সরাসরি শিষ্য, নিজ নিজ স্বার্থ হাসিল করে সরে পড়েছেন একটা সময়। একগুচ্ছ স্বপ্ন নিয়ে তিনি হয়ে পড়েছেন ক্রমশ একাকী। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, স্থাপত্যপাঠের ক্ষেত্রেও তাঁকে করে রাখা হয়েছে বিচ্ছিন্ন।
এখন যেটুকু বাকি, তাঁর কাজগুলোকে প্রকৃত পরিকল্পনামাফিক অক্ষত রাখার চেষ্টা। অন্তত পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে এদেশের আধুনিক স্থাপত্যের জনককে আরো ভালোভাবে পরিচিত করানো যে একটা জরুরি কাজ, এটা বিশ্বাস করে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেটা কে বা কারা নেবেন সেটাই আসল প্রশ্ন!

 

wZwb

Gbvgyj Kwig wbS©i

 

wZwb P‡j †M‡jb|

Zvi `yw`b Av‡M, †h‡nZz Avgvi gv BDbvB‡UW nvmcvZv‡j kh¨vkvqx, cvqPvwii GKmg‡q AbyR wPwKrmK mRj Rvbvq, gvRnvi“j Bmjvg m¨vi AvBwmD‡Z| †h‡nZz mRj †mLv‡b `vwqZ¡cÖvß Ñ wR‡M¨m K‡i, Avwg m¨vi‡K GKevi †`L‡Z PvB wKbv| Avwg ewj, … bv| †m nZvk nq|

†Kb?

Gme gvbyl‡K gyg~ly©, g„Zz¨c_hvÎx Ae¯’vq †`L‡Z B‡”Q K‡i bv †i|

†Kb fvB? GUv †Zv ev¯—eZv| mevB‡K †h‡Z n‡e GKw`b bv GKw`b| P‡jb, †`L‡eb Ibv‡K| cÖ_‡g †Zv eywSwb wZwb G‡Zv weL¨vZ †KD; wKš‘ AvBwmBD‡Z Avmvi ci em‡`i †LuvRLe‡ii gvÎv †`‡L eySjvg …

Ae‡k‡l Avwg hvB| Rvbvjvi Kv‡Pi Icv‡k †j‡Ki Avagqjv cvwb| †iv`-Sjg‡j XvKvi AvKvk| †`wL gvRnvi m¨vi †ek KuvPzguvPz n‡q GKvKx ï‡q Av‡Qb KjKâvi †fZi| gy‡L †fw›U‡jU‡ii cvBc Avi gwbU‡ii Kv‡jv c`©vq DuPywbPz jvBb|

mRj Wv‡K,  evev, evev, m¨vi …| bv, †Kv‡bv mvovkã †bB| m¨vi Nywg‡qB Av‡Qb|

Gi `yw`b ci Rvbjvg wZwb P‡j †M‡Qb| Zvici hv nq| bZzbfv‡e gvbylUv‡K ¯§iY Kiv| Kvi Kvi m‡½ Zuvi Nwbô m¤úK©… Zuvi Gfv‡e P‡j hvIqvUv Ac~iYxq ¶wZ BZ¨vw` wee„wZ| Kei †`Iqvi ¯’vb wbe©vPb wb‡q RvZxq mnvqZvi AvKv•¶v, nZvkv| UK †kv Ges Zuvi Ici wbwg©Z cÖvgvY¨wP‡Îi cÖ`k©bx, ¯§iYmfv BZ¨vw` BZ¨vw`| Zvici GKUv mgq ci mewKQy AveQv n‡q hv‡e Ges ïi“ n‡e Rb¥ I g„Zz¨w`em D`hvcb| GUvB Nwoi KuvUvi g‡Zv GKUv wbqg n‡q †M‡Q| Ges GB wbqwgZ M‡íi Nyicv‡K Avgv‡`i GKai‡bi gvbwmK Pvc †bIqv Qvov Avi wKBev Kivi Av‡Q?

Zuv‡K wb‡q Avgvi gvÎ K‡qK UzK‡iv ¯§„wZ| †mUzKz bvovPvov K‡i hw` wKQy cÖkœ Ges Dˇii mgxKiY ˆZwi Kiv hvq, †hLvb †_‡K wKQy D‡`¨vM, wKQy m‡PZbZv‡K m½x K‡i m¨v‡ii KvR I              wPš—v¸‡jv wewfbœfv‡e Kv‡R jvMv‡bvi †Póv nIqv DwPZ|

†hvRb bv‡gi †h mgKvjxb wPÎkvjv M‡owQjvg †m›Uªvj †iv‡W, 1993 mv‡j Zvi cÖ_g el©c~wZ©‡Z gvRnvi m¨vi G‡jb cÖavb AwZw_ n‡q| †h‡nZz Avwg ZL‡bv ¯’vcZ¨PP©vi iv¯—vq kvwgj nBwb Ges ï‡bwQ wZwb fxlY ivMx gvbyl, †Zv GKUz `~‡i `~‡iB wQjvg| wKš‘ Kx AmvaviY ggZvq wZwb Kv‡Q WvK‡jb| Drmvn w`‡jb| eywS‡q ej‡jb, mwZ¨Kv‡ii ¯’cwZ n‡Z PvB‡j `iKvi Ab¨vb¨ wkígva¨g I gbbkxj gvby‡li m‡½ ms‡hvM ˆZwi KZUv Ri“wi welq| ¯’vcZ¨PP©v gv‡bB mgv‡Ri m‡½ Av‡iv Mvpfv‡e mshy³ nIqv, mvs¯‹…wZKfv‡e wb‡Ri cwi®‹vi GKUv Ae¯’vb M‡o †Zvjv| †mUvB Avm‡j mvgvwRK I ivR‰bwZKfv‡e m‡PZb n‡q IVv| m¨vi mvivUv Rxeb G-wek¦vm aviY K‡i †i‡LwQ‡jb Ges Abo wQ‡jb|

†mw`‡bi Avm‡j Lye †QvULv‡Uv gvbyl wn‡m‡e Avgv‡`i D‡`¨vM wQj wkíx Avwgbyj Bmjvg‡K we‡klfv‡e m¤§vb Rvbv‡bv, hvi Zvrch© Avgiv nq‡Zv Lye mvgvb¨B ey‡SwQjvg, wKš‘ m¨vi †h‡nZz Lye mivmwi K_v ej‡Zb, ZvB wZwb Lye ¯^”Qfv‡e Avgv‡`i e¨vL¨v K‡iwQ‡jb KvD‡K cÖK…Z m¤§vb †`Lv‡bvi †fZiB wb‡Ri Ae¯’vb‡K m¤§vb †`Lv‡bvi cÖwµqv| wKš‘ cÖkœ n‡”Q, gvRnvi“j Bmjvg m¨vi‡K cÖK…Zfv‡e Avgiv KZUv m¤§vb w`‡Z †c‡iwQ? cieZx© cÖR‡b¥i AvaywbK `„wófw½ M‡o Zzj‡Z m¨v‡ii fvebv I Ae¯’vb wQj A‡bK †ewk fwel¨rgyLx| Avgiv bvbvb ARynv‡Z †mme wPš—vi m‡½ mshy³ n‡Z cvwiwb|

Zvici †mw`‡bi †m-gyn~Z©¸‡jv †cwi‡q j¤^v mgq GwM‡q hvq| Avgvi wbR¯^ RxebmsMÖvg I ¯’vcZ¨‡Póvq †K‡U hvq †ek KZK¸‡jv eQi|

 

                                `yB

Zuv‡K wb‡q wZwb wk‡ivbv‡gi cÖvgvY¨wPÎ wbg©v‡Yi gyn~Z©| nVvr K‡iB evsjv‡`k ¯’cwZ Bbw÷wUD‡Ui mfvcwZ †gvev‡k¦ifvB D‡`¨vM wb‡q ej‡jb Zuv‡K wb‡q Qwe evbv‡Z| m‡½ Drmvn w`‡jb Bbw÷wUD‡Ui mvC` fvB Ges bvwmi fvB| †mUv 2003-Gi K_v| ïi“ n‡jv cÖ¯‘wZ| cÖ_gZ, Avgv‡`i Av‡qvRb †`‡L gvRnvi m¨vi Lye wei³ n‡jb, ivM Ki‡jb wVKB| wKš‘ hLb bv‡Qvoev›`v n‡q e‡m iBjvg, ZLb GKUv mgq †m-gvbylUv n‡q †M‡jb wkï| †hfv‡e ewj †mfv‡eB †nu‡U hvb K¨v‡givi mvg‡b w`‡q| K_v ej‡jb A‡bK… A‡bK K_v| †`k wb‡q, gvbyl wb‡q, ¯’vcZ¨ wb‡q, Rxeb wb‡q, ivRbxwZ wb‡q A‡bK ai‡bi we‡k­lY| meB ¯^‡cœi| cÖv_wgKfv‡e ¯’vcZ¨ wb‡q Zuvi GwM‡q hvIqv †ek mdj n‡jI cieZx©Kv‡j †Kb †Zgbfv‡e Zuvi ¯^cœ ev fvebv¸‡jv c~iY n‡jv bv? Zuvi mv¶vrKvi c‡e© †KbBev wewkóRbiv Zuv‡`i e³‡e¨ Zuv‡K ÕUª¨vwRK wn‡ivÕ wn‡m‡e AvL¨v w`‡jb?

Avgvi g‡b nq G-welqUvB gyL¨| GUv wb‡qB K_v n‡Z cv‡i, nIqv DwPZ| gvbyl¸‡jv ¯^cœ †`L‡eb, †Póv Ki‡eb, jovB Ki‡eb Ges Ae‡k‡l Awfgvb K‡i PzcPvc _vK‡eb, Zvici GKUv mgq hLb wPiZ‡i P‡j hv‡eb c„w_ex †Q‡o, ZLb Zuv‡K wb‡q ïi“ n‡e Avjvc-Av‡jvPbv| GUv ejjvg G-Kvi‡Y †h, m¨vi‡K wb‡q K_v¸‡jv DV‡jI GUv †Zv Avgiv Aek¨B fvebvq wb‡Z cvwi, ci¤úivq G-welqUv KZ Ri“wi| hw`I G‡`‡k Zzjbvg~jKfv‡e Ab¨vb¨ wkígva¨‡gi †P‡q ¯’vcZ¨ I ¯’cwZ‡`i cÖwZ bRiUv A‡bK †ewk c¶cvZc~Y©| †Kv‡bv RvZxq I mvgvwRK Kg©Kv‡Ê ¯’cwZ‡`i AskMÖnY, gZvgZ ev ¯^xK…wZi cÖwZ Kv‡iviB Lye GKUv AvMÖn †`Lv hvq bv| hw`I gvRnvi m¨vi ïi“‡Z Zuvi Avš—wiK †Póvq Avš—twkíPP©vq ms‡hvM ¯’vcb Ges RvZxq †¶‡Îi ¯’vcZ¨ wm×vš— wel‡q h‡_ó ¸i“Z¡c~Y© f~wgKv iv‡Lb| wKš‘ ¯^vaxbZv-cieZx©Kv‡j †mUv µgk ¤­vb n‡q †h‡Z _v‡K| Zuvi Dw³ Ôwek¦‡K †R‡b evOvwj n‡evÕ wel‡q Zuvi Ae¯’vb Ges †ckvPP©vq cÖfve we‡k­lY Ki‡j †`Lv hv‡e cieZx© cÖR‡b¥i wew”QbœZv| †h-Kvi‡Y Km‡gwUK AvwK©‡UKPv‡ii R½j ˆZwi n‡q‡Q G‡`‡k|

cÖvgvY¨wPÎ wZwb wbg©v‡Y Avgv‡`i cÖavbZg j¶¨ wQj gvRnvi m¨v‡ii RxeÏkvq KvRUv †kl Kiv| `w¶Y †Kvwiqvi Avš—R©vwZK cÖvgvY¨ Pjw”PÎ Drm‡e hLb QweUv †`Lv‡bv nq, ZLb `k©K‡`i cÖavbZg †KŠZ‚nj wQj, m¨v‡ii ¯’vcZ¨Kg©¸‡jvi eZ©gvb Aeqe cwiw¯’wZ, Zuvi wPš—v¸‡jv †`‡ki ¯’vcZ¨ wk¶vi m‡½ KZUv mshy³ n‡Z †c‡i‡Q Ges †`k †Kb Zuv‡K Kv‡R jvMv‡Z cv‡iwb| G cÖ‡kœi `vq wKQyUv n‡jI G‡`‡ki ¯’cwZ‡`i wb‡Z n‡e| KviY Zuviv hw` cÖK…Zfv‡e G-gvbylUvi m‡½, Aš—Z cv‡k _vK‡Z †Póv Ki‡Zb, Z‡e nq‡Zv Gme cÖ‡kœi e`‡j QweUv Ab¨iKg n‡Z cviZ|

we‡klZ gvRnvi m¨v‡ii ¯’vcZ¨¯^cœ, fvebv, †Póv mew`K †_‡KB cÖkœvZxZ| nq‡Zv mvaviYfv‡e †`L‡j †m-mg‡qi Pvi“Kjv Bbw÷wUDkbmn Zuvi Ab¨vb¨ Kv‡R G‡`‡k mgKvjxb ¯’vcZ¨PP©vi †Mvovcˇbi KvwiMi ev msm` feb wWRvB‡bi Rb¨ wek¦L¨vZ jyB Kvb‡K m¤ú„³ Kivi welqUv‡K eo K‡i †`LwQ Avgiv| wKš‘ m`¨ ¯^vaxb †`k Movi Rb¨ ¯’cwZi f~wgKv, ¯’vcZ¨ wk¶vq wbR ms¯‹…wZi cÖ‡qvM wel‡q Zuvi cÖPÊ AvKzwZi mvgvb¨UzKzI Rb¥f~wgi gvbyliv wK Rvb‡Z ev eyS‡Z †c‡i‡Q?  Aš—Z Zuvi g„Zz¨i ci GUv wbwðZ, GB ¯^”Q `k©‡bi wKQzUv eyS‡Z cvi‡jB Avm‡j G‡`k A_ev G‡`‡ki ¯’cwZmgvR ab¨ n‡Z cviZ wKsev cv‡i|

wZwb wbg©v‡Yi mgq m¨v‡ii m‡½ mv¶vrKvice©Uv wQj †ek bvUKxq| cÖ_‡g K¨v‡givi mvg‡b K_v ej‡Z PvB‡Zb bv wKQz‡ZB| nq‡Zv †mUv AwZ Awfgv‡bi Kvi‡YB| Avwg GKUv cÖkœcÖm½ Qy‡o w`‡jB ïi“ n‡Zv ¯’vcZ¨ + ms¯‹…wZ, wek¦vm Avi Rb¥f~wgi K_v| Zuv‡K ¯^Ztù‚Z© ivL‡Z GKUv we‡kl e¨v‡Mi †fZi K¨v‡giv jywK‡q ivLZvg| gyLUv Ly‡j w`‡jB wZwb _vg‡Zb GKUz, Zvici cÖ‡kœi †jRUv Uvb‡ZB e‡j †h‡Zb Aweivg| ¯’vc‡Z¨ G‡`‡k A‡b‡KB Av‡Qb, huviv w_IwiwUK¨vj welq wb‡q eyw×e„wË PP©v wb‡qB mgqUv cvi K‡i †`b, hvi A‡bKUvB _v‡K Rxeb †_‡K `~‡i| cÖ¨vKwUK¨vj ev †ckvPP©vi w`‡K Zuviv Lye GKUv G‡Mv‡Z Pvb bv, ev PvB‡jI cv‡ib bv| wKš‘ gvRnvi m¨vi †h-mgqUvq ïi“ K‡ib Zuvi `Lj I †Póv wQj mew`‡KB| Zuvi ¯’vcZ¨Kg© †hgb wQj wek¦gv‡bi, †Zgwb gy³eyw×PP©vq GKUv wbw`©ó `k©b wb‡q wb‡Ri k³ Ae¯’vb ˆZwi K‡i wb‡qwQ‡jb| hw`I G¸‡jv meB Avgv‡`i Kg‡ewk Rvbv|

mvgvb¨ ¯’cwZ wn‡m‡e wZwb wbg©v‡Yi mgqUv nvZ‡o GKUv welq cwi®‹vi Luy‡R cvB, Gici ¯’vcZ¨ wel‡qi Mfx‡i hvIqvi AvMÖn †e‡o‡Q Avgvi A‡bK A‡bK¸Y| gvRnvi m¨vi †m-mg‡q GZUv mv_©Kfv‡e ¯’vc‡Z¨i m‡½ Rxeb‡K Rov‡Z †c‡i‡Qb †hfv‡e, A_P Avgiv Pvicv‡k Gme Kx KiwQ GLb? GLb ¯§„wZPvi‡Yi PvB‡Z eis wKQz wbw`©ó welq wb‡q hw` K_v ewj, Z‡e AmsL¨ wRÁvmv Avm‡e| Avgvi g‡b nq, hv A‡bK †ewk Ri“wi G-mg‡q| Zuvi GB Awfgvbx P‡j hvIqvUv‡K kÖ×v K‡i Aš—Z wKQy welq hw` Avgiv eyS‡Z †Póv Kwi, Z‡e †mLvb †_‡KB bZzb wKQy‡Z hvÎv ïi“ n‡Z cv‡i|

GK, m¨vi‡K †Kb Avgiv mivmwi wk¶K wn‡m‡e cvBwb?

`yB, Kx Kvi‡Y GKUv mg‡qi ci m¨vi‡K †ckvPP©v †_‡K `~‡i ivLv n‡q‡Q?

wZb, RvZxqfv‡e GZUv ¸i“Z¡c~Y© e¨w³ nIqv m‡Ë¡I Zuv‡K †Kb †`k Movi Kv‡R jvMv‡bv nqwb?

Pvi, Zuvi myü` ¯’cwZ, huviv Zuvi ¯’vcZ¨‡Póv m¤ú‡K© Rvb‡Zb, †KbB ev Zuviv Gme wel‡q bxie †_‡K‡Qb?

cuvP, hw` m‡PZbZvi K_v ewj, †m-wel‡q mvs¯‹…wZK I ivR‰bwZKfv‡e Zuvi Ae¯’vb wQj Lye ¯^”Q| G-welqUv Zi“Y‡`i g‡a¨ Qwo‡q †`Iqvi KvRwU †Kb ¯’vc‡Z¨i wk¶Kiv †ckvRxex K‡ibwb ev Ki‡Qb bv?

Qq, Zuvi †hme ¯’vcZ¨Kg©, fxlY Ae‡njvq KL‡bv i¶Yv‡e¶‡Yi Afv‡e, KL‡bv †¯^”QvPvwiZvi Kvi‡Y aŸs‡mi w`‡K hv‡”Q, †m¸‡jv †Kb wVKVvK ivLvi e¨e¯’v †bIqv nqwb ev n‡”Q bv?  G welq¸‡jvB hw` Av‡jvPbvi cÖavbZg welq n‡q I‡V, Z‡e wK Zuv‡K cÖK…Z kÖ×vi Ae¯’v‡b ivLv n‡Zv bv?

GKUv gyn~Z© Lye g‡b c‡o| cixev‡M m¨v‡ii evwo Avi Zvi mvg‡b wek¦e¨vsK fe‡bi wbPZjvq Zuvi ev¯‘Kjvwe‡`i Awdm| GK we‡K‡j ¯’vcZ¨ Kbdv‡i‡Ý Av‡mb bvbv we‡`wk AwZw_| mK‡ji AvMÖn Zuv‡K wb‡q| m¨vi Wªwqs †`Lv‡jb, Mí Ki‡jb| Zvici GKUv mgq AwZw_iv P‡j †M‡j m¨vi PzcPvc e‡m _v‡Kb gvSLv‡bi AvwObvq| †h‡nZz ZLb Rvwb, m¨v‡ii cy‡iv RwgUv †W‡fjcvi‡K †`Iqvi cÖwµqv Pj‡Q| mvnm K‡i AwZ †KŠZ‚n‡j wR‡Ám Kwi, m¨vi wc­R G-iv¯—vi cv‡ki evwoUv bv †f‡O wKQy GKUv Kiv hvq bv| gvRnvi“j Bmjvg ¯’vcZ¨‡K›`ª, †hLv‡b _vK‡e  M¨vjvwi, ¯‹zj…| Avcwb ej‡eb, Avgiv Avcbvi Kv‡Q A‡bK wKQy wkL‡Z PvB|

m¨vi Pzc K‡i _vK‡jb| Zvici k~b¨`„wó w`‡q ej‡jb, GLv‡b Gme wKQyB n‡e bv| Kviv _vK‡e m‡½? Avcwb †h fv‡jv wPš—v wb‡q Gme ej‡Qb, †mUv †KD eyS‡e bv|

Avwg Aw¯’ifv‡e wewfbœ cwiKíbv, cÖ¯—ve ej‡Z _vK‡j m¨vi Lye wei³ n‡jb| †h-weiw³i g‡a¨ `xN© mg‡qi nZvkv| Zuv‡K Avgiv hZB UªvwRK wn‡iv wn‡m‡e AvL¨v w`B bv †Kb, Avm‡j ¶wZUv n‡jv Kvi? ¯’vc‡Z¨i, ¯’cwZ‡`i, †`‡ki|

wZwb cÖvgvY¨wP‡Îi mv¶vrKvi ce©Uv wQj †ek `xN©| meUv Qwe‡Z Ry‡o †`Iqv m¤¢e wQj bv| Av‡iKUv †ek eo AskRy‡o wQj Awfgvb Avi Avd‡mvm| †`k Ges ¯’vcZ¨‡K cÖK…Zfv‡e hy³ K‡i A‡bK RvwZ GwM‡q †M‡Q mvg‡b| huviv AvaywbK gvbwmKZvq mgvR‡K M‡o Zzj‡Z Pvb, Zuviv KLbB ¯’vcZ¨‡K `~‡i mwi‡q ivL‡eb bv| ¯^vaxbZvi ci wZwb †mUvB †P‡qwQ‡jb, †PóvI K‡iwQ‡jb| ¯’vcZ¨ gv‡bB wewìs ­Ñ G-aviYv cvj‡U mevB‡K †evSv‡Z †P‡q‡Qb, GKUv myôz cwiKíbv `iKvi mewKQy bZzb K‡i †MvQv‡bvi| GKUv AeKvVv‡gv fzjfv‡e M‡o DV‡j me G‡jv‡g‡jv n‡q hv‡e| AKvh©Ki n‡q co‡e my¯’ †PZbv| n‡jvI ZvB, ¯’vc‡Z¨i `vk©wbK w`K¸‡jv Kg‡ewk ay‡jvq wg‡k wM‡q GKai‡bi †evKv †evKv PP©vq GwM‡q †Mj mgq|

m¨vi †eu‡P iB‡jb A‡bKw`b, n‡jv Zuvi Rb¥w`em cvjb Avi ¯§„wZPviY| wKš‘ Zuvi KvR I wPš—v¸‡jv‡K gvby‡li m‡½ cwiPq Kiv‡bvi Av‡iv †Rviv‡jv †Póv cÖ‡qvRb wQj| Zuv‡K wb‡q Avgv‡`i A‡bK cÖkœ| mivmwi ivRbxwZi m‡½ hy³ †_‡KI †Kb ¶gZvai‡`i †evSv‡Z cvi‡jb bv, hv ej‡Qb †mUv †`‡ki R‡b¨ Kj¨vYKi| Zuvi Av‡kcv‡k huviv wQ‡jb, huv‡`i A‡b‡KB wQ‡jb Zuvi mivmwi wkl¨, wbR wbR ¯^v_© nvwmj K‡i m‡i c‡o‡Qb GKUv mgq| GK¸”Q ¯^cœ wb‡q wZwb n‡q c‡o‡Qb µgk GKvKx| me‡P‡q Avð‡h©i welq, ¯’vcZ¨cv‡Vi †¶‡ÎI Zuv‡K K‡i ivLv n‡q‡Q wew”Qbœ|

GLb †hUzKz evwK, Zuvi KvR¸‡jv‡K cÖK…Z cwiKíbvgvwdK A¶Z ivLvi †Póv| Aš—Z cieZx© cÖR‡b¥i m‡½ G‡`‡ki AvaywbK ¯’vc‡Z¨i RbK‡K Av‡iv fv‡jvfv‡e cwiwPZ Kiv‡bv †h GKUv Ri“wi KvR, GUv wek¦vm K‡i D‡`¨vM †bIqv cÖ‡qvRb| wKš‘ †mUv †K ev Kviv †b‡eb †mUvB Avmj cÖkœ!

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার