নদী কারো নয়

লেখক:

সৈয়দ শামসুল হক

 

\ ৩৭ \

 

অর্জুনদের দল থানায় এসে হাঁপাতে হাঁপাতে সংবাদ দেয়, নদীর ঘাটে হিন্দু নারী! মোছলমানের হাতে! দলেবলে তারা ভোগ করিচ্ছে! পাকিস্তানের মাটিতে হিন্দু নারীর ইজ্জত আর নাই! অর্জুনদা পাঠেয়া দিলে থানায় সম্বাদ দিতে। – তুমি কে? – মুই সুগ্রীব। সঙ্গে সঙ্গে মন্মথ দারোগার মুখে খিস্তি ছোটে, শালার শালা রামের সাথি মহাবীর! সুগ্রীবের নাম ধরিয়া পাছার তলে লাঙুল! পুটকি মারা দিতে আসিছিস থানায়! জাত-রক্ত অগ্নি হয়ে ওঠে মন্মথ দারোগার শরীরে। কী! এতবড় কথা! পাকিস্তান হতেও পারে নাই, এর মধ্যেই শালার

মোছলমানের দল হিন্দু নারী ভোগ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে! হবেই তো! এর জন্যেই শালারা পাকিস্তান চেয়েছিলো। মন্মথ দারোগা কি দেখে নাই জলেশ্বরীতে মুসলমান যুবকের দল কীভাবে দুর্গাপূজার সময় মন্ডপে এসে হামলে পড়ে? ঠেলাঠেলি করে? যুবতীদের হাত ধরে আইসো গো তোমাকে পথ করি দেই বলে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছে দেবার নাম করে টেপন-টাপন করে? তারপর সরলা বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক খেলাধুলায় মোছলমান খচ্চরদের কি সে দেখে নাই ইস্কুলের দেয়ালের ওপরে বাঁদরের মতো চড়ে বসতে? ঝাঁকাঝাঁকি করে লোভলালসার চোখে ছোট ছোট মেয়েদের দৌড়ঝাঁপ দেখতে? ছোট হলেও তাদের অনেকেরই বুক ঠেলে উঠছে, পাছায় দোলা এসে গেছে। পারে তো দেয়াল থেকে ঝাঁপেয়া বা পড়ে মাইয়ার দঙ্গলে।

মন্মথ দারোগার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই একটু আগের অবিশ্বাস্য সেই দৃশ্য – ব্রিটিশের নিশান নামছে,  পাকিস্তানের পতাকা উঠছে। কুড়ি বছরের চাকরিকালে দুঃস্বপ্নেও সে ভাবে নাই যে এই ঘটনা তাকে চোখে দেখতে হবে। দুই মাসও হবে না, পাকিস্তানের ঘোষণা দিলো ইংরেজ, তখনো মন্মথ ভাবে নাই যে সেটা কার্যে পরিণত হবে। সে ভেবেছে ওটা একটা খেলার খেলা, কথার কথা, জিন্নাকে একটা বুঝবাঝ দেওয়া মাত্র, এর অধিক কিছু নয়। রাজ যেমন ছিলো তেমনই চলবে। আর যদি ইংরেজের পরে নতুন রাজ আসে তো সে রাজ হবে গান্ধী মহারাজের।

কিন্তু হলো তো, শেষ পর্যন্ত হলোই, চোখের সামনেই হলো। আজ চোদ্দই আগস্টে পাকিস্তানের নিশান সত্যি সত্যি উড়লো। চোদ্দই! মন্মথ দারোগা কেবল হান্টার নয় কাঁচা খিস্তি চালাতেও ওস্তাদ। তারিখটা চোদ্দই শুনে মনের মধ্যে তার খিস্তি ওঠে, চোদ্দই না চোদ্ দিবার আগস্ট! চোদা খাইবে পাকিস্তান! চোদং মুই পাকিস্তানকে। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে তার, কিন্তু ডিউটি বলে কথা, এই চোদনের চোদ্দই আগস্টে তার ডিউটি পড়েছে কাছারির মাঠে সিপাহিসান্ত্রী নিয়ে গার্ড অব অনার দেবার। সঙ্গে আছে রামখিলাওন, সে বিউগিল মাস্টার, সে যে বিউগিল বাজাতে জানে এটা আগে জানা ছিলো না মন্মথ দারোগার। বহুদিন এ বিউগিল বাজানো হয় নাই, পড়ে ছিলো থানার মালখানায়, শেষ বাজানো হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষে বাংলার ছোটলাট লর্ড কেসি যখন তাঁর শাদা রঙের স্পেশাল ট্রেনে কয়েক ঘণ্টার জন্যে জলেশ্বরী এসেছিলেন, তিনি এসেছিলেন পঞ্চাশের মন্বন্তরে বাংলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, অনাহারে সবচেয়ে অধিক মৃতের এলাকা জলেশ্বরী নিজচোখে দেখতে। আরো একটি পর্যবেক্ষণের বিষয় তাঁর ছিলো – আসন্ন প্রাদেশিক নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপরীতে মুসলিম লীগের অবস্থানটি কতটা জোরদার হয়েছে কি হয় নাই। ব্রিটিশ বাংলার এত এলাকার ভেতরে বিশেষ করে জলেশ্বরীতেই ইংরেজ ছোটলাটের আগমনের কারণ ছিলো আরো এক – বহুদিন থেকেই জলেশ্বরীই হচ্ছে কমিউনিস্টদের প্রধান একটি নিরাপদ এলাকা, ইংরেজের হাতে গ্রেফতার এড়াতে কমিউনিস্টরা তিস্তা পেরিয়ে একবার জলেশ্বরী এলেই আর তাদের ধরে কে! কিংবা আধকোশা পেরিয়ে ওপারে গেলেই – ইংরেজকে কাঁচকলা! এই বিষয়েও সংবাদ নেওয়াটাও ছিলো ছোটলাটের সফরের একটা কারণ। তাঁর আগমনে, ইস্টিশানে তাঁর ট্রেন না থেমে ইস্টিশানের আগেই ডাকবাংলার কাছে থামে, ডাকবাংলাতেই খোঁজখবর সেরে, শহরের গণ্যমান্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে, এখান থেকেই কলকাতায় ফিরে যাবেন লাটবাহাদুর। ট্রেনের সমুখে এনজিনের বুকে ব্রিটিশ মুকুটের সোনালি ফলক, ব্রিটিশের লাল নীল ডোরাকাটা নিশান ড্রাইভারের পাশ বরাবর জানালা থেকে। লর্ড কেসি নেমে আসতেই বেজে ওঠে বিউগিল, সারিবদ্ধ থানার সিপাহিরা তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। সেই সেদিনের পরে এ-তল্লাটে বিউগল বাজাবার কোনো রাজকীয় মুহূর্ত জলেশ্বরীতে আর আসে নাই।

তারপর সাতচল্লিশের এই চোদ্দই আগস্ট। ব্রিটিশকে, এতদিনের প্রভুকে বিদায় যদি জানাতেই হয়, তবে হেলাফেলা করে নয়, রীতিমতো জাঁকজমক করেই। হাকিম নেয়ামতউল্লাহ স্বাধীন পাকিস্তান দেখার জন্যে অধীর, কখন চোদ্দই আগস্ট আসবে তার দিনক্ষণ গুনছেন। লখনৌর জমিদার কন্যা তাহমিনার সঙ্গে তাঁর বিয়েটা ছিলো অভাবিত, গরিবের কাছে চাঁদ পাওয়া, স্বপ্নেও অভাবিত সেই বিয়ের দিনের মতো কি তারও অধিক উত্তেজিত তিনি, কবে চোদ্দই আগস্ট আসে। কিন্তু তারপরও কথা এই যে আঠারোটি বছর তিনি ইংরেজের চাকরি করেছেন, ব্রিটিশের স্বার্থ দেখেছেন, মনেপ্রাণে পদসেবা করেছেন সাগরপাড়ের গোরা প্রভুদের, আজ পাকিস্তান আসছে বলেই সেই দিনগুলো সেই হা-হুজুর জো-হুজুর ভুলে যাবেন, এতটা নেমকহারাম তিনি নন। অতএব তিনি দারোগার কাছে খবর পাঠান – শুধু বন্দুক তুলে গার্ড অব অনার নয়, আরো চাই বিউগিল; শহরের মুসলিম যুবকদের তিনি এত্তেলা করেন – ঈদের দিনে তারা যেমন তোপ দাগে কাছারির মাঠে চোদ্দই আগস্টের ভোরে ঠিক তেমনই দাগতে হবে।

যুবকেরা কাজে লেগে যায়। মন্মথ দারোগাও হাঁফ ছেড়ে বাঁচে মালখানায় যখন বিউগিলটি খুঁজে পাওয়া যায়, আর মনটা তার একেবারে ফুরফুরে হয়ে পড়ে যখন রামখিলাওন একপাটি দাঁত বের করে জানায় যে, হাঁ, টেরেনিং নিয়েছিলোম বটে গো বিগিল ফুঁকবার! সারাদিন ঘষামাজা করে সে বিউগিলটিকে সোনার বরণ দেয়, আর বহুকালের অনাভ্যাসে ভুলে যাওয়া বিদ্যেটি ফিরে আনতে গভীর রাত পর্যন্ত বিউগিলটি সে বেসুরেই বাজাতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না সুর ফোটে।

রোজার মাস, সেহরি খাবার পর টাউনের লোক আর ঘুম যায় নাই, ভোর হওয়ার আগেই তারা কাছারির মাঠে দলে দলে হাজির। মাঠ এখন মানুষে মানুষে আধকোশা নদীর বুকে প্লাবনের মতো পাড়ভাঙা। মন্মথ দারোগার ওপর প্রথম ডিউটি, ভোর হওয়ার আগেই ব্রিটিশের নিশানটি শেষবারের মতো তাকে উড়িয়ে রাখতে হবে। কাছারির মাঠে বা সারা জলেশ্বরীর কোথাও কখনো ব্রিটিশের নিশান আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হয় নাই, ব্রিটিশের বিক্রম দেখানোর জন্যে নিশান তোলা এ অনুষ্ঠানেরও দরকার এদিকে পড়ে নাই একশ নববই বছরের মধ্যে, যদিও গোটা রংপুর অঞ্চলটাই ব্রিটিশের দখলে চলে আসে পলাশীর মাত্র কয়েক বছর পরেই। বলতে গেলে এ অঞ্চলে ফকির সন্ন্যাসী আর নূরলদীনের বিদ্রোহের পরপরই তাদের দমন করে নবাব সিরাজদ্দৌলার সুবে বাঙ্গালার সকল অঞ্চলের মধ্যে এই রংপুরেই ব্রিটিশের দাঁত সবচেয়ে শক্ত হয়ে বসে।

কিন্তু ব্রিটিশের নিশান এ-অঞ্চলে কেউ চোখে দেখেছে বলে মনে করতে পারে না, এতবড় যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ হয়ে গেলো, জলেশ্বরীতে ব্রিটিশের ঘাঁটি বসলো – আসামের পথ ধরে জাপানিরা যদি বাংলায় ঢুকে পড়ে এই জনপদের ওপর দিয়ে – তখনো ব্রিটিশের নিশান তারা তাঁবুতে তাঁবুতে ওড়ায় নাই। এমনকি মহকুমার ট্রেজারি কি থানার মালখানাতেও বাপের জন্মে সে-নিশান কেউ দেখে নাই বা কোনো রাজ কারণে ওড়ানোর দরকার পড়ে নাই। হাকিম নেয়ামতউল্লাহ রংপুরে খবর পাঠান জেলা হাকিমের কাছে, সেখান থেকে ব্রিটিশের নিশান আগের দিন রাতের ট্রেনে শেষ মুহূর্তে জলেশ্বরী এসে পৌঁছায়। শাদার ওপরে লাল-নীল ডোরা কাটা নিশান। স্টেশন মাস্টার নিজে সেটা অত রাতে পৌঁছে দেয় হাকিমের বাংলোয়। নিশানটা ভাঁজ করা, ভাঁজ খুলে নিশানের পুরোটা প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের মধ্যে ভক্তিভাব জেগে ওঠে নেয়ামতউল্লাহর, মুহূর্তের জন্যে ভুলে যান যে এ-নিশান আর কয়েক ঘণ্টা পরেই বাতিল হতে চলেছে। যেন এখনো ব্রিটিশের রাজত্ব আগের মতোই আরো অন্তত এক শতাব্দীর দিকে ধাবমান, তিনি খুব সম্ভ্রম করে নিশানটি ঈষৎ একবার হাতের ওপর দোলান, তারপর যত্ন করে ভাঁজ করতে থাকেন আবার।

সেদিকে শেয়ালের মতো চোখ রেখে স্টেশন মাস্টার খ্যালখ্যাল করে হাসতে হাসতে বলে, স্যার, তা হইলে বিটিশের দিন সত্য সত্যেয়ে শ্যাষ হয়া যাইচ্ছে! হাকিম সাহেব এ-কথায় চমকে ওঠেন, হুঁশ ফেরে তাঁর, কথাটাকে তিনি বেয়াদবি বলে গ্রহণ করেন। কিছুক্ষণ থম ধরে থেকে শুষ্ক কণ্ঠে বলেন, এখনো শেষ বলা যায় না, মাস্টার। আজ রাতটা তো ব্রিটিশ আমলেরই, কালকের কথা কাল। স্টেশন মাস্টার একই সঙ্গে ইস্টিশানের টেলিগ্রাফ মাস্টার, টরেটক্কায় তার কাছে অনেক খবর হাকিম-টাকিমের অনেক আগেই পৌঁছায়। সে বলে, আইজের রাইতটাই বা বিটিশের ক্যামন করি কই? আইজ যে তেরো তারিখ, আইজের দিন জিন্না সায়েব করাচিতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে বসিবেন কি বসিয়া গেছেন, ভাষণ দিবেন কি দিয়া ফালাইছেন, নাকি এগারো তারিখেই। হাকিম নেয়ামতউল্লাহ চোখ সরু করে স্টেশন মাস্টারকে একবার দেখেন। তাঁর মনে একটা সন্দেহের উদয় হয়। জানা দরকার, লোকটা হিন্দু কি মুসলমান? প্রশ্ন করেন, আপনার নাম? – আজ্ঞা, শ্রী উপেন্দ্রনাথ সরকার। – ও! হাকিম সাহেব ঠাহর করে ওঠেন, ও তাই! মনে মনে বলেন, ইস্টিশানের মতো টেলিগ্রাফের সুবিধাওয়ালা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এইসব হিন্দু থাকাতেই টাউনের কংগ্রেস নেতাদের কাছে কোনো খবর গোপন থাকার উপায় নাই। অবিলম্বে লোকটির বদলি ঘটাতে হবে। এইসব হিন্দু কর্মচারীর জন্যেই শিশু পাকিস্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি শিউরে ওঠেন। তাঁর মনে পাকিস্তানের জোশ ফিরে আসে। আগামীকাল তাঁরই হাতে যে পাকিস্তানের নিশান জলেশ্বরীতে উড়বে, সেই কল্পনা তাঁকে চাঙ্গা করে তোলে। অচিরে লোকটিকে তিনি প্রায় ধমক দিয়েই বিদায় করে দেন। তারপর আর্দালি বশীরকে ডেকে বলেন, এই নিশান নিয়ে থানায় যাও, দারোগাবাবুর হাতে দেবে, আর বলবে ভোরের আগেই নিশানটা উড়িয়ে রাখতে। খবরদার, ভোর হওয়ার পরে যেন ওড়ানো না হয়।

আর কথা কী? মন্মথ দারোগা তার সিপাহিসান্ত্রী নিয়ে শেষ রাতেই কাছারির মাঠে হাজির। দারোগী কাজে রাজশাহীর সারদায় তার ট্রেনিং পাওয়া। তার জানা আছে কোনো নিশানই রাতের অন্ধকারে ওড়ানোর নিয়ম নাই, কিন্তু হুকুম বলে হুকুম। নিয়মের বরখেলাপ হলেও আগে হুকুমের পালন তারপরে অন্য কথা। কাছারির মাঠে মুসলিম লীগের কর্মীরা চৌকির ওপর শালুর থান পেতে মঞ্চ বানিয়ে রেখেছে, মঞ্চের সমুখেই বাঁশ পোঁতা হয়েছে নিশানের দন্ড হিসেবে। সেই বাঁশে নারকোলের দড়িও বাঁধা হয়েছে নিশানের  জন্যে। কর্মীরা আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। – কী দারোগাবাবু, আপনার হাতে ওইখান কী? মন্মথ দারোগার সংক্ষিপ্ত উত্তর, নিশান। – কার নিশান? পাকিস্তানের নিশান? সে-নিশান তো হেথায় হামার হাতে। আপনার ওইটা তবে কী? মন্মথ দারোগার আবারো বিরস সংক্ষিপ্ত উত্তর, বিটিশের। কর্মী জনতা তাজ্জব হয়ে যায় উত্তরটা শুনে। – বিটিশের নিশান! বিটিশের নিশান দিয়া কী হইবে? আইজ  পাকিস্তানের ভোর! মন্মথ দারাগা এর উত্তরে নারকোলের দড়িতে ব্রিটিশের নিশান বাঁধতে বাঁধতে হতভম্ব মুসলিম লীগ কর্মী যুবকদের বলে, রাইত এখনো পোহায় নাই। বিটিশ এখনো যায় নাই। তার নিশান উঠিবে, তারপরে নামিবে, তবে পাকিস্তানের নিশান। অচিরে হাকিম নেয়ামতউল্লাহ এসে পড়েন। বাংলো থেকে এতটা পথ হেঁটে আসার কারণে তাঁর কপালে মুখে ঘামের ফোঁটা, রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে তিনি চারদিকে তাকিয়ে দেখেন। একটা দিনের মতো দিন বটে। লোকের ভিড় পলকে পলকে বাড়ছে। অসময়ের স্লোগানও শোনা যাচ্ছে – লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান, কবুল মোদের জানপরান! – আরে লড়কে নিবি কী? কী বাকি আছে নেবার? পাকিস্তান তো এসেই গেছে! উল্লুকের দল! হাকিম নেয়ামতউল্লাহর ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে। জনতার জোশ তাঁর সিনা আরো টানটান করে তোলে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তোপধ্বনি! জলেশ্বরী কেঁপে ওঠে বুম বুবুম শব্দে। মুসলিম লীগের কর্মী যুবকেরা কাছারির মাঠে পরপর তিনটি বাঁশের নলিতে বারুদ পুরে রেখেছিলো, তারই একের পর এক বিস্ফোরণ – আর সেইসঙ্গে হাকিম নেয়ামতউল্লাহর মঞ্চে আরোহণ। মঞ্চের পাশে বাঁশ থেকে উড়ছে ব্রিটিশের নিশান। জনতা বোধহয় আতান্তরেই পড়ে যায়, তারা যে পাকিস্তানের নিশান আশা করেছিলো। ভিড়ের ভেতরে এমন কথাও ফিসফাস শোনা যায়, তবে কি কংগ্রেসের রাজেনবাবুরই এটা কোনো অপকীর্তি! নাহলে পাকিস্তানের বদলে ব্রিটিশের নিশান আজ ভোরে কাছারির মাঠে ওড়ে কী করে? হঠাৎ সোল্লাসধ্বনি জনতার ভেতর থেকে – জিন্দাবাদ! কায়েদে আজম জিন্নাবাদ! হাসির  লহর ওঠে – আরে! জিন্না বাদ নোয়ায়, কন জিন্দাবাদ! কায়েদে আজম জিন্দাবাদ! তখন তুমুল আওয়াজ ওঠে – পাকিস্তান জিন্দাবাদ! পাকিস্তান জিন্দাবাদ! সেই জিন্দাবাদ ধ্বনির তাড়ানায় নেয়ামতউল্লাহর হাতের দড়িতে টান পড়ে, ফুরফুর করে নেমে আসে ব্রিটিশের লাল-নীল ডোরাকাটা নিশান। আবার ওঠে জিন্দাবাদ ধ্বনি। পাকিস্তান জিন্দাবাদ!  বিরস মুখে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো মন্মথ দারোগা, সে এবার চিৎকার করে ওঠে – বাজাও! রামখিলাওনের বিউগিল আকাশ বাতাস চিরে নতুন দিনের আওয়াজ তোলে – পম্-প পম্-প পম্।

হাকিম নেয়ামতউল্লাহর হাতে নিশান ওঠে পাকিস্তানের। বিছানার চাদরের মতোই বিশাল! একপাশে শাদা জমিন, তারপরেই সবুজ, সবুজে চাঁদতারা। আমরা জানবো মুসলিম লীগের দলীয় নিশান ছিলো সবুজ জমিনে চাঁদতারা, পাকিস্তানের নিশান হিসেবে তারই পাশে শাদা কাপড়ের ফালিটি লাগানো হয়। আরো পরে জলেশ্বরীতে আমাদের কাছে ক্রমে ক্রমে পরিষ্কার হবে, মুসলিম লীগের নজির মিয়ার এক ভাষণে জানা যাবে পাকিস্তানে যে-হিন্দুরাও আছে সেই কথাটা মনে রেখে তারই প্রতীক হিসেবে ওই শাদা ফালিটি নিশানে যোগ করা হয়েছে। আর অচিরেই অর্জুনদের দল বলবে, তবে ওই শাদা ফালির ভিতর দিয়াই নিশানের বাঁশ যে ঠুকে, খেয়াল করি দ্যাখো মোছলমানের মতলবখান, ওই বাঁশ হিন্দুরে পুটকিতে!

বুম বুবম! আবার তোপধ্বনি। তারপর হাকিম নেয়ামতউল্লাহর গদগদ ভাষণ। – আজ থেকে আজাদ এই মাটি, আজাদ আজ মুসলমান, আজাদির চেয়ে মিঠা লব্জ আর ইনসানের জবানে নাই! ইয়ে আজাদি আজ মুসলমান কো লিয়ে এক নয়া ইশারা লেকে হাজির হুয়া। ইয়ে খোদা কি শান হ্যয় কে মুসলমান আজ ছে আজাদ হ্যয়। আল্লাহ্ জিন্না সাহাব কো হায়াত দরাজ করে! আইয়ে হাম দরুদ পড়হে, দোয়া মাঙ্গে, আল্লাহকে দরবার মে হাত উঠাকে শুকরিয়া আদা করহে! আজাদ মানে যে মুক্ত, এই শাদা বাংলা শব্দটি সেদিন নেয়ামতউল্লাহ্র জিহবায় ফোটে নাই। ইনসান মানে যে মানুষ, সেই মানুষের ভাষায়, বাংলাভাষায় আগস্টের চোদ্দ তারিখে জলেশ্বরীতে সরকারি ভাষণ উচ্চারিত হয় নাই। হাজির ছিলেন কাছারি মসজিদের ইমাম, তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় মোনাজাত।

পাকিস্তানের নিশান সদ্য ওঠানো হয়েছে। বাতাসে ফরফর করে উড়ছে। পায়ের কাছে পড়ে আছে বিদায়ী ইংরেজের লাল নীল ঢ্যাঁড়াকাটা নিশানটি। হাজার হোক পুরনো মনিবের নিশান – পুরনো মানে কত আর পুরনো, মাত্রই আধঘণ্টা আগে, সূর্য ওঠার আগেই তো রাজ ছিলো ব্রিটিশের। এর মধ্যেই এত অবহেলা সেই নিশানের! হাকিম নেয়ামতউল্লাহ মঞ্চ থেকে নেমে কাছারিতে তাঁর দফতরে রওনা হয়েছেন কি হন নাই, মুসলিম লীগের নজির মিয়া সদ্য পাকিস্তানের বিজয় গর্বে তখনো সর্বতুচ্ছ করা হাসিমুখে হাকিমের পেছন পেছন অগ্রসরমান, কাছারির ঘরে সবাই এখন গিয়ে বসবে, রোজা রমজানের দিন, অতএব চা শরবত নাই, তবু শহরের গণ্যমান্য মানুষেরা এই সুযোগে হাকিম সাহেবের গা ঘেঁষতে পারবে, অতএব প্রচন্ড ঠেলাঠেলি। মঞ্চের ওপর থুবড়ে পড়া ইংরেজের নিশান বুঝি মানুষজন পায়ে দলিয়াই যায়, মন্মথ দারোগা আর স্থির থাকতে পারে না। ভিড় ঠেলে সে মঞ্চের দিকে এগোয়, ইংরেজের বিদায়ী নিশানটিকে ভক্তিভরে সে কেবল হাতে তুলেছে কি তোলে নাই, এরই মধ্যে সিপাহি রামখিলাওন কানের কাছে ভ্যানভ্যান করে বলে, থানা খালি পড়া হ্যায়, হামলোগ ক্যা আভি থানা যায়ে হজৌর? অন্য সময় হলে মন্মথ দারোগা কড়া ধমক লাগাতো একটা, কিন্তু না, রামখিলাওনের মুখের দিকে চোখ পড়তেই তার মনে হয় ইংরেজের বিদায়ে আর ওই নিশানের অবহেলায় মাটিতে একখন্ড কাপড়ের মতো পড়ে থাকাটা ব্রিটিশের পুরনো এই ভোজপুরি সিপাহির বুকেও বেজেছে। অতএব ধমক না দিয়ে বরং তার দিকে স্বাভাবিক চোখে ফিরে তাকায় মন্মথ দারোগা, নিজেই সে টের পায় দারোগার পক্ষে স্বভাববিরুদ্ধ অপ্রস্ত্তত একটা হাসি এখন তার সারা মুখে ঝুলে পড়ছে। এর কারণটা সে ঠাহর করতে পারে না। হাতে ব্রিটিশের নিশান, মুখে অমন একটা করুণ হাসি! লোকে না পাছে ভুল বোঝে! হাজার হোক, হিন্দু সে। পাকিস্তানের চোদ্দই আগস্টে ব্রিটিশের বিদায় সে মেনে নিতে পারছে না, এই কথাটা চাউর হলেই মহা বিপদ! মন্মথ দারোগার তখন মনে হয় – নিশানটা হয়তো তার নিজের হাতে তোলা ঠিক হয় নাই। কিন্তু হাতে যখন একবার নেওয়া হয়ে গেছে আর করা কী? নিশানটা সে ইচ্ছে করেই তাচ্ছিল্যভরে রামখিলাওনের হাতে প্রায় ছুড়ে দিয়ে বলে, থানা মে লে যাও! যাও! যাও! হাম বাদ মে আতা!

সেই আসা। থানায় এসে বসতে পারে কি পারে নাই, অর্জুনদের দল হাঁপাতে হাঁপাতে এসে হাজির। নদীর ঘাটে হিন্দু নারী! মোছলমানের হাতে! দলেবলে তারা ভোগ করিচ্ছে! – অ্যাঁ! বলে কী! কোথায়? কখন? আর কখন? এই সবে যখন কাছারির মাঠে পাকিস্তানের নিশান তোমরা উড়াইলেন তখন! – বলিস কী? দলের মধ্যে মুখে খই ফুটছিলো সুগ্রীবের, তার কাছেই বিস্তারিত জানা যায়, বিস্তারিতের মধ্যে এতটুকুই যে মুকুলের মাকে তারা ব্যাপারীদের চালায় নিয়ে তুলেছে, পরণের বস্ত্র নিয়ে টানাটানি চলছে, এতক্ষণে বা ভোগকর্ম শেষ! এমন সংবাদের পর আর বসে থাকা যায় না। অবিলম্বে সিপাহিদের নিয়ে মন্মথ দারোগা রওনা হয় ব্যাপারীদের চালার উদ্দেশে। সিপাহিদের চরণ ভরসা, খইনিতে মুখ তাদের রসালো, কাছারির মাঠে ডিউটির পর সবে তারা একটু জিরোবার অবকাশ পেয়েছে, এর মধ্যে ডবল মার্চ! বললেই হলো! এতকাল, এত বছর, আজকের এই ভোররাত পর্যন্ত তারা ছিলো ব্রিটিশের সিপাহি, মুহূর্তের মধ্যে পাকিস্তান, অতএব ভোজপুরের এরা যে হনুমানভক্ত, পাকিস্তানে বুঝি এদের এখন ছুটিই হয়ে গেলো – এই রকম একটা ভাব তাদের এসে গিয়েছিলো। নিজেদের মধ্যে তারা বলাবলিও করছিলো দেশের কথা, দেশের সেই ভুট্টার ক্ষেত যেন তাদের চোখের সমুখে দিগন্ত-বিস্তার নিয়ে দেখা দিচ্ছিলো, কানেও যেন তারা শুনতে পাচ্ছিলো ছাতু পেষার চাক্কি ঘুরে চলেছে বহু-বেটিদের হাতে, দেখতে পাচ্ছিলো স্পষ্টই যেন বাচ্চারা গাছ থেকে পটাপট লাল লংকা ছিঁড়ছে, সেই লাল আর ঝালের সেই স্বাদ, আঠালো সেই ছাতু, সিপাহিদের জিভ আতুর হয়ে পড়ছিলো, ঠোঁট যেন বহুদিন পরে গেয়ে উঠতে চাইছিলো সেই পুন্নমাসি রাতের গান – ভগলুকি বহিনিয়া ভজুয়াকে বিটিয়া/ কে করোসে শাদিয়া হো কে করোসে শাদিয়া! দেশে ফিরে যাবার কী যে মর্মান্তিক টান তাদের নাড়ির ভেতরে। এই তো কাউনিয়া জংশন কত আর দূর জলেশ্বরী থেকে, সেখানে গেলেই কাটিহারের লাইন, ব্যস বিহার! বিহার জেইসন দেশ জগতমে একঠোই কি না কহো! আওর রামভকত ভি এক ওহি হনুমান বিনা আওর কৌন! আর এরই মধ্যে কিনা ডবল মার্চ! বললেই হলো!

ঘোড়ার পিঠে বিদ্যুৎবেগে নদীর পাড়ে হাজির হয় মন্মথ দারোগা, সিপাহিদের অনেক আগেই সে পৌঁছে যায়। আধকোশা পারাপারের খেয়াঘাট, এরই পাশে ব্যাপারীদের চালা, পরপর তিনটি চালা তিন কারবারির। নদীর ওপারে হস্তিবাড়ি, মান্দারবাড়ি, বল্লার চর, হাগুরার হাট, হরিষাল, আরো কত দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে চাষীরা বস্তায় বস্তায় ধান-সুপারি, ধামায় ধামায় পানের বিড়া, নারীর কেশের মতো খোঁপাবান্ধা পাট আর তামাকপাতা নিয়ে আসে এপাড়ে ব্যাপারীদের কাছে। আমের সময়ে আম, জামের সময়ে জাম, মিঠাকুমড়ার সময়ে তার পাহাড়! খর চোখ নিয়ে ব্যাপারীরা নদীর এপাড়ে চালায় চালায় ওঁৎ পেতে বসে থাকে দাঁতাল শুয়োরের মতো। চালানের নৌকা ভিড়তে না ভিড়তেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে চাষিদের ওপর, খপ করে হাত ধরে টেনে তোলে যে যাকে পারে তাদের চালায় – আইসো, আইসো, আগে হামার চালায় আইসো, পানগুয়া খাও, দরের কথা পাছে হইবে, দরের চ্যায়া তোমার আমার সম্পক্ক আগে, দাম? দাম যা চাইবেন নগদে পাইবেন। আগোতে তোমার বেটাবেটির সম্বাদ কও, বেটার কি বিয়া দিছেন? বেটি যে পোয়াতি শুনিছিলোম তাই কী বিয়াইলো, বেটা না বেটি? বেটার মাওয়ে যে হাউস করছিলো কানের মাকড়ি নিবে, এলাও দ্যান নাই বুঝি? তোমার তবনখান ঝে গত বচ্ছরের দ্যাখোঁ, পাবনার নত্তুন খোপ তবন উঠিছে বাজারে হায়দর শ্যাখের দোকানে, মুল করিয়া নিবেন নিজের হাউসে! হইবে হইবে সগলে হইবে, আগে সুস্থির হয়া বসেন! এইসব ভালাভালি কথার তুবড়ি ছোটে ব্যাপারীদের মুখে, ভেতরের কথা যত কম দরে পারেন চাষির শস্য গস্ত করেন!

মন্মথ দারোগা চোখ চালিয়ে দেখে, নাহ্, সুনসান। চালার একটিতেও ব্যাপারীরা আজ নাই, তা তাদের না থাকারই কথা, আজ পাকিস্তানের দিন, নিশ্চয় কাছারির মাঠে এখনো সবাই তামশা দেখছে। তামশাই বটে, পাকিস্তানের তামশা! বিটিশের নিশান নামিলো, লাত্থি মারো বিটিশের গোড়ে, জিন্না নামে আওয়াজ তোলো হে, জিন্নার নামে আওয়াজ তোলো, নবীর পরে ইসলামের এই এক বড় সিপাহি, আওয়াজ উঁচা করি বলো – জিন্নাবাদ! আরে জিন্না বাদ নোয়ায় – জিন্দাবাদ! কায়েদে আজম জিন্দাবাদ! মন্মথ দারোগা ঠাহর করে, হাঁ, চালা যখন ফাঁকা তখন এখানেই তো হিন্দু নারীকে ওরা তুলবে, এই সুযোগ! মন্মথ দারোগা লাফ দিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে নামে, চালার ভেতরে দ্রুত পায়ে যায়, তালাশ করে, না, নাই। একটিও প্রাণী নাই, কোনো শব্দ নাই, নদীর গভীর বুক থেকে উঠে আসে বাতাসের ঝাপট শুধু। শ্রাবণ মাস, কাল রাতেও এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে জলেশ্বরীতে, এখনো দূরান্তে কোথাও বুঝি বৃষ্টি হয়, বাতাস বড় শীতল। অথচ এখানে নদীর পাড়ে রোদ কী তেজালো, ছুরির মতো শান তার, চোখ ঝলসে যায়। মন্মথ দারোগা চালা থেকে বেরিয়ে এসে দূরে নজর করে, সিপাহিরা এলো কিনা। না, তারাও নাই। আজ কি জগৎ তবে লোকশূন্য? সদ্য পাকিস্তানের আবির্ভাবে ভগবানও তবে গভীর শোকে তাঁর সৃজিত মানুষজন ফিরে নিয়ে গেছেন জগৎ থেকে? ভূতগ্রস্তের মতো মন্মথ দারোগা নদীপাড়ের বালির ওপরে পা টেনে টেনে চলেন।

দারোগাবাবু! অকস্মাৎ কে যেন ডেকে ওঠে। চমকে ফিরে তাকায় মন্মথ দারোগা। রোদের ঝলকে চোখে কিছু ঠাহর হয় না। আবার স্বর ওঠে, দারোগাবাবু! কী তল্লাশ করেন? তখন মূর্তিটি নজরে আসে তার। ওয়াহেদ ডাক্তার! অচিরে লোকটি তার সমুখে এসে দাঁড়ায়। মুখের এক খাবলা থুতু ফেলে বলে, হামাকে তালাশ করেন? কাছারির মাঠে পাগলা মোখলেছকে যে বলিলোম – এই যে বিটিশ দ্যাশ হতে চলি গেইলো, এই যে হাকিম সায়েবে কইলো আজ ছে আপলোগ আজাদ হ্যয় – কথাটা কী বুঝিলো তুঁই? বুঝিবি দুইদিন বাদে। আমি হরিষাল ফিরি যাই। সেথা হতে আজাদির নয়া ঘোষণা মুঁই দেমো। দারোগাবাবু, সেই কথা শুনিয়া কি মোর তল্লাশে নদীর পাড়ে আসিচ্ছেন হামাকে অ্যারেস্ট করিতে? তবে শোনেন নদীর ঘাটে মাঝিকে মুই আরো কইছোঙ – পাকিস্তানেরও গুষ্টি মারো মুঁই। জিন্নাহ্র পুটকিতে আছোলা বাঁশ। গান্ধীর পুটকিতেও। আর ইংরাজের ঝাঁই রাজা, তার মায়েকে চোদং মুঁই। এ-কথা শুনে মন্মথ দারোগার বাক্য সরে না। পাকিস্তান আর জিন্নার বিষয়ে ঠিক আছে, কিন্তু ওই গান্ধীর পুটকিতে? ইচ্ছে হলো লোকটাকে ধরে বেদম হান্টার পেটা করে সে। r (চলবে)

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার