পরীকাহিনি

লেখক:

বদরুন নাহার

পরীর গল্পটা আমি সাধারণত কাউকে বলি না। যদিও একদিন পরীর গল্পে হৃৎপিন্ডের সঞ্চালন বেড়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলাম! অনেকদিন বাদে আজ সে-গল্পকেই পুঁজি করে আমি যাচ্ছি আন্তর্জাতিক সেমিনারে। ল্যাপটপে সফট হয়ে যে-অক্ষরগুলো যাচ্ছে তা পরীকাহিনি। পরীর সঙ্গে আমার নিজেরও একটা গল্প আছে। সেটা আমার ভেতরের সফট কপি, ফাইলবন্দি। সেমিনারে আমি কেবল পরীর গল্পই বলব। পরীর জন্য ফান্ড আসবে। সেখানেও জমে উঠবে আমার নতুন গল্প, আমার প্রমোশন। পরী কি আদৌ সেখানে আছে? জানি না। বছর চার আগে গিয়েছিলাম। চার বছরের অনেক অনুদান। পরীদের পল্লি থেকে বরগুনার আমতলী পর্যন্ত প্রেক্ষাপট। নারী পুনর্বাসন থেকে সিডর-উত্তীর্ণ। টাকাগুলো উড়ে যায় ডলারের পেছন পেছন। পরীকে ভুলতে বসি আমিও।
অথচ ল্যাপটপ খুলতেই আজ পুরনো ট্রাঙ্কের জংধরা ঘর্ঘরে আওয়াজ। আমি মেঘের ভেতর যেতে যেতে পরীর দেখা পাই।
চার বছর আগের কথা। অফিস থেকে অর্ডার এলো পরীদের পল্লিতে সার্ভে করতে যেতে হবে। কথাটা ঠিক ছিল গ্রোথ-হেলথ, কেউ বলে পাড়া, কেউ বলে বেশ্যাবাড়ি – এরকম নানা নাম। কিন্তু আমি যখন ওটা পরীদের পল্লি বলি, তারও আগে আমার মনে উইপোকার বাসা। সেখান থেকেই মনে পড়ছে আজ। সার্ভে অর্ডারটা হাতে পেয়ে ভেতরে ভেতরে অজানা ভয় সমস্ত দেহে কাঁপুনি দিয়ে উঠল। যৌনকর্মীকে এতদিন নারী হিসেবে আমার মুখোমুখি ভাবিনি। কী এক অন্ধকারের ভয়, যৌনকর্মীর চেহারাটা অবিকল পুরুষের পৌরুষিক চেহারার ঘৃণিত অবয়ব মনে হলো। তাদের জীবনযাপন নোংরা ভেবে ঘিনঘিন করেছিল মন। তবু দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই মনে মনে প্রস্ত্ততি নিচ্ছিলাম। বাসায় ফিরে লোহানকে বিষয়টা জানাতেই শুরু হলো দ্বন্দ্ব। আমার অধিকারের গন্ডিকে বিভাজিত করে চলল তার সমাজ ও পরিবারের সম্মানকে বিশ্লেষণ। লোহান স্পষ্ট বলে দিলো, আমাকে চাকরি ছাড়তে হবে! চাকরি করার দরকার নেই। আমার দরকারটার রায় দিয়ে দিলো সে! আমি বুঝতে পারলাম, আমার স্বাধীন ইচ্ছার ঘুড়িটার নাটাই অন্য হাতে চলে যাচ্ছে। মেনে নিতে পারলাম না। রাগটাকে নিজের ভেতর পুষে রেখে কোনো উত্তর দিলাম না। সে আরো জানাল – এমনিতেই তার মায়ের ইচ্ছে না এখানে চাকরি করা, তার ওপর তিনি যদি শোনেন অফিসের কাজে যৌনপল্লিতে যাচ্ছি, তাহলে মা তা মেনে নেবেন না। আমি যেন চাকরি বা সংসার নয়, নিজেকেই হারিয়ে ফেলার ভয় পেলাম। আমাকে কাজটা করতেই হবে।
অবশেষে সহকর্মী জুলহাসকে নিয়েই পৌঁছে গেলাম যৌনপল্লিতে। রিকশা থেকে নেমে ওই দেখা যায় তালগাছের দূরত্বে সেই ঘরগুলো, দেখলাম যে-কোনো বস্তির আউটলুকের সঙ্গে কোনো অমিল নেই। গলি দিয়ে ঢুকতেই কানে এলো খিস্তি। প্রায় প্রতিটা ঘরের চালে টিভির অ্যান্টেনা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। কেউ কেউ সেখানে ভাতের হাঁড়ির ঢাকনা জুড়ে দিয়েছে। অবলীলায় চলতে থাকা ভয়ংকর সব গালাগাল আর যৌনতা-মিশ্রিত শব্দে পরিবেশটি আমার খুব যে অস্বাভাবিক মনে হলো তা নয়। এখানে আসার আগেই এ-জায়গা সম্পর্কে নিজের মনে এক অজানা ভয় জেগেছিল। মনে মনে ভেবেই নিয়েছিলাম এমনটি শুনতে হবে। কিন্তু আমার প্রথম কলেজে যাওয়ার দিন এমন প্রস্ত্ততি ছিল না, তখন মন ছিল স্বপ্নের জগতে। সেদিন কলেজগেটে একদল ছেলে আমাকে দেখে যখন বলে উঠেছিল, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত, খাঁটি দুধ। তখন ভীষণ কান্না পেয়েছিল। আজ সেই দুর্বল চোখের জলে নিজেকে খুঁজি না। খোঁজ করে সর্দার বীথি বেগমের ঘরে বসি।
জুলহাস চলে যায় পার্শ্ববর্তী এলাকা সার্ভে করতে। আমার মনে প্রচলিত চোরের গল্পটি ফিরে এলো। গ্রামে চোর ধরা পড়েছে, সবাই চোরকে মারছে। ছোট্ট একটি শিশু – সে চোর দেখবে বলে বায়না ধরল। বাবা তখন সন্তানকে কাঁধে তুলে নেয়। শিশুটি তো অবাক – ‘বাবা চোর কোথায়… ওখানে তো একটা মানুষ দেখা যাচ্ছে!’ আমার অবস্থা ওই শিশুটির মতো হলো সর্দার বীথির সঙ্গে কথা বলে। নানামুখী প্রান্তিক সমস্যায় জর্জরিত এসব যৌনকর্মী আমাদের মতো যে-কোনো নারী। বিচ্ছিন্ন দু-চারজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভিন্ন কেউ বলে মনে হলো না, আমাদের মতোই মানুষ। অথচ নিজের মনে কত অন্যরকম ভেবেছি। লোহানকে যদি বলা যেত। গতকাল থেকে সে আমার সঙ্গে কথাই বলছে না। সর্দার বীথি আমার কাজটা সহজ করে দিতেই যেন পরীকে ডেকে এনেছে। আর আমি ডুবে যাই এক পরীকাহিনিতে।
সে পরী। আমাদের মনের মধ্যে অহরহ কত পরী ওড়ে, তাদের রঙিন ডানা রাঙাই আমাদের ইচ্ছের রঙে। কিন্তু সত্যি সত্যি যখন পরী এলো, তখন ওর কোনো ডানা দেখতে পেলাম না। বয়স তিরিশে পড়েনি। তার সঙ্গে কথা বলে জেনে গেলাম একটি একটি করে হারানো ডানায় নতুন পালক গুঁজে নেওয়ার সাহস। যেন সে-সাহসের উত্তাপে আমার বুকের ভেতর গত কয়দিনের জমা বরফ গলে গলে পড়ছিল। আমি যে ভদ্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে চিহ্নিত, সে-সমাজের বউ হিসেবে যে-পরাধীনতাকে মেনে নেওয়ার তাগিদ এসেছে, তা জানলে অট্টহাসিতে আমার দম্ভকে খানখান করে দিতে পারে পরী। পরীই এতদিন বাদে আমার নিজের সামনে নিজেকে দাঁড় করিয়ে দেয়।
পরী জানায়, তিন বোনের মধ্যে মেজো সে। চঞ্চল-উচ্ছল মফস্বলের মেয়ে। নাচে-গানে তালিম নেওয়া। তাকে দেখে শহরের কিশোরদেরও মুখে রেজার চালাতে ইচ্ছে হয়। তখন সে নবম শ্রেণিতে। কে জানত এক উন্মাতাল হাওয়া খেলা করছিল তার নাচের তালে, সুরের ভেলায় আর বিজ্ঞানমনস্কতায় গলিপথে। আদনান নামে যুবকের চিবুকে ছিল মোহ, মুগ্ধ করার মতো বিকশিত হাসি, কথায় ছিল শব্দের সকল প্রাচুর্য। পরী সহসাই পরিস্ফুটিত হতে থাকে আদনানের প্রেমে। সে ছিল অন্য শহরের লোক। কী এক অফিসিয়াল কাজেই মাঝেমধ্যে আসতে হতো পরীদের শহরে। তথাকথিত প্রেমে বাঁধা প্রেমকে যে জোয়ারের দিকে ঠেলে দেয়, তাই ঘটল পরীর জীবনে।
পরীর মুখে এসব গল্প শুনে আমি খুব স্পর্শ করতে পারছিলাম। আমার জীবনেও একদিন এমন সময় এসেছিল। স্কুলের সে-প্রেমটা আমার কারণেই ভেঙে গেল। ভীষণ কেঁদেছিলাম, কতদিন আত্মধিক্কারে নিজেকে প্রশ্ন করেছি। কিন্তু বিষয়টি কারো সঙ্গে শেয়ার করতে পারছিলাম না। এতদিন বাদে পরীর মুখে গল্প শুনতে শুনতে যেন আমার আত্মগ্লানির পাপ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেল।
পরী জানায়, উচ্ছলতার বশে অজানার উদ্দেশে ঘর ছাড়ে সে। আদনান তাকে নিয়ে সোজা চলে যায় পাহাড়ে। স্বপ্নের মতো দিন; কিন্তু এই উড়ালসময় খুব বেশিদিনের নয়। দশদিন বাদেই তারা ফিরে আসে অন্য শহরে। আদনানের রহিমা খালার বাসায়। আদনান জানায়, লুকিয়ে থাকতে হবে পরীকে। থানায় ডায়েরি হয়েছে, পুলিশ তাকে খুঁজছে। আদনান চলে গেলে রহিমা খালা জানায়, তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে নিজের ডানা খসে পড়বে বুঝতে পারেনি। কিশোরীর চোখে তখন হতবিহবলতা, শুধু মায়ের মুখটা মনে পড়েছিল। সে-সময়ে এ-পল্লির সর্দার ছিলেন রহিমা খালা। প্রথম দিন, ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল। বেবি নামে এ-পল্লির এক কর্মী দেখে ফেলে। মৃত্যুকে ছোঁয়া হয় না। বরং মানুষকে জড়িয়ে ধরে মানুষ। পরী বলে – কেন জানি সেদিন হাউমাউ করে কান্নায় বেবি আপার বুকে আছড়ে পড়েছিলাম। আপা আমাকে অনেক আদর করল, সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দিলো। বেবি আপার মুখটা কেমন মায়ের মুখের মতো লাগছিল!
প্রথম দিন এ-পর্যন্তই কথা হলো। ফেরার সময় হয়ে গেল, কিন্তু মন চাইছিল না। পরীকে খুব আপন মনে হচ্ছিল। কী জানি নিজের চেহারাটা পর্যন্ত তার মতোই মনে হলো। আর পরীরই বা কেন মনে হলো বেবি আপার সঙ্গে মায়ের চেহারার মিল রয়েছে! আশ্রয় মানেই কি মায়ের মুখ? সারাটাক্ষণ মনে প্রশ্ন জেগে রইল – পরী কেন মায়ের মুখ খোঁজে?
বাসায় ফিরে সব স্বাভাবিকই লাগল। বাড়ির অন্য কেউ এখনো বিষয়টি জানতে পারেনি। শুধু লোহান তার কথা বলা বন্ধ রেখেছে। আমিও ঘরের প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া নীরবেই রইলাম। সারারাত লোহানের সঙ্গে এমন ঠান্ডা লড়াই করতে যেয়ে বারবার পরীর মুখটি মনে পড়ছিল। রাতে মাকে ফোন করে সব জানালাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে মা বলেন – মা রে, এমন পাগলামি করিস না। লোহান যখন চাইছে না, চাকরিটা ছেড়ে দে। আমাকে দুর্বল করে ফেলল মায়ের কথাগুলো। সারারাত ঘুম হলো না। একা জেগে রইলাম। মনে হলো পরী মায়ের মুখে আশ্রয় খোঁজে… অথচ মায়েরা কত ভীতু!
পরদিন ব্যাকুল হয়ে ছুটে গেলাম পরীর কাছে, যেন কাজ আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে। নাকি মানুষ নিজের খোঁজে ছোটে। সর্দার বীথির ঘরের সিঁড়িতে পা রাখতেই দরজা দিয়ে যে-পুরুষটি বেরিয়ে এলো তাকে চিনতে এতটুকু ভুল হলো না আমার। নতচোখে সে দ্রুতপায়ে গলিপথ ধরে চলে গেল আর আমি বিস্ময়ে ভারাক্রান্ত পাটাকে টেনে বীথির ঘরে ঢুকি। বিস্ময় কাটে না, বধিরের মতো দাঁড়িয়ে থাকি।
বীথি বলে – আফা আইচেন… চলেন আইজ পরীর ঘরে নিয়ে যাই। ছোট্ট করে আচ্ছা বলি। তাকে অনুসরণ করে যেখানে আসি, সেটা পরীর ঘর। শুরুতেই লম্বা বারান্দায় মাটিজুড়ে খেজুরপাতার পাটি পাতা, এক কোনায় বাঁশের র্যা কভর্তি বইখাতা। দৃশ্যটা চোখ ঠিক দেখলেও মন মেনে নিতে পারছিল না। কল্পনাতীত লাগল, মনে হলো একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় চোখে ভুল দেখছি না-তো। পরি বারান্দা পেরিয়ে ঘরে এনে বসায়। বিছানা পরিপাটি করে গোছানো। একদিকে টেবিল-চেয়ার, আলনায় কাপড় পাটপাট ভাঁজ করা, এক কোণে টিভি। ঘরের ভেতরেও একটা বাঁশের র্যারকভর্তি বই! না ভুল নয়। বই দেখে প্রশ্ন জমা হয় মনে-চোখে, কিন্তু করি না। সকল ধকল ভুলে আমি কাজে একাগ্র হতে চেষ্টা করি, গতদিনের থেকেই শুরু করতে চাই। দুজন বিছানায় মুখোমুখি বসি। জিজ্ঞাসা করি – তুমি আত্মহত্যা করতে গেলে অথচ বাড়ি ফিরে যেতে পারতে? পরীর ঠোঁটে বাঁকা হাসির রেখা। বলে – না, তখন চাইলেই এইখান থেকে বাইরে যাইতে পারতাম না। তাছাড়া প্রথমে বাড়ি ফিরতেও চাইছিলাম না। তাই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। এই কাজে নেমে যখন মায়ের মুখ ভেসে উঠল মনে, বাবা, আমার বোনদের মুখ মনে হলো। আমি আর তাদের সামনে দাঁড়াতে চাইনি। কিন্তু তবু বাড়ির জন্য মন কেমন করত। মাস ছয় পর বাড়িতে খবর পাঠাই; কিন্তু সেই খবর তারা পায় না।
কী করে খবর পাঠালে? সহজাত ভঙ্গিতে প্রশ্ন করি।
পরী জানায় – মাস ছয় বাদে হঠাৎ একদিন এখানে মোতালেব চাচাকে দেখি, বাবার সঙ্গে চাকরি করেন। তারে একটা ঘরে ঢুকতে দেখে গলির মুখে দাঁড়ায়া থাকি। বেরিয়ে এলে ডেকে উঠি, চাচা…। সে চমকে ফিরে তাকায়, চোখে বিভ্রান্তি। আমি অনুনয় করে বলি, আববাকে একটু খবর দেবেন। আমি এখানে। চাচা কোনো রকমে ঠিক আছে বলে ছুটে পালান। ভদ্র আর অভদ্রের ভেদগুলো কেমন গুলাইয়া ফেলি, তবু তার ভরসায় অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু অনেকদিন যখন আববা আমার খোঁজ নেয় না, তখন আমার মনে হয় খবর পায় নাই। আববা জানলে ঠিকই ছুটে আসত। কিন্তু বছরখানেক যেতেই বুঝে যাই খবর পেলেও বাবা ছুটে আসতেন না।
পরীর মুখ আহত মলিন, আমার চোখে নত মাথায় বেরিয়ে যাওয়া মানুষটির অবয়ব। লোকটি আর কেউ নয়, লোহানের ছোট বোনের স্বামী রফিক। রফিককে এখানে দেখব ভাবতে পারিনি। নিজের মনের ধাক্কা মনেই রাখি। পরীকে বলি – কেন? পরী জানায়, ফোন পেয়ে প্রথমে আববা বেশ উৎকণ্ঠার সঙ্গে বলে ওঠে – তুই কোথায়? তখন কান্নায় ভেঙে পড়ে আমার অবস্থান জানালাম। মুহূর্তে ওই পাশের উৎকণ্ঠার স্বর গেল পালটে। আববা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যেন ফিরে না যাই। আমার জন্য সে সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না। দুবোনের বিয়ে হবে না। তাছাড়া আমার এ-পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী নন। যেন আমার পূর্বপরিচয় কাউকে না দিই। সেদিন আবার কান্নায় ভেঙে পড়ি। এতদিন মনে যে ভালোবাসার অবশিষ্ট আশা জেগেছিল, তা মুছে যায়। আমি পুরোপুরি পরী হয়ে যাই। মোতালেব চাচা আর আববা আমাকে লুকাইয়া রাখে, ভদ্রলোক থেকে যায়! কথাগুলো বলতে বলতে পরীর চোখে হীরের কুঁচির মতো কী যেন জ্বলজ্বল করে… নাকি আমার চোখে!
আমার রফিকের কথা মনে হলো। মনে এলো লোহানের কথাও, যে আমার সম্মান নিয়ে চিন্তিত! ভদ্রতার অদ্ভুত বেড়ি হাতে দাঁড়িয়ে থাকে পাশে। অথচ ওদের বাড়ির জামাইটি যে ভদ্রতার সীমা ভেঙে বসে আছে, তা কি লোহান জানে? ভদ্রতার শিক্ষা এমনই, যা পরীকে তার বাবা শেখায়! আমাকে শেখায় লোহান। বুকের মাঝে হীরের টুকরো লুকিয়ে খনি থেকে কুরে কুরে নিতে চাই কয়লাগুলো। বলি – তারপর?
তারপর রহিমা খালার বানানো পরী যেন সত্যিকারের পরী হয়ে গেলাম।
মানে?
আদনান, বাবা এদের প্রতি ক্ষোভ, অন্যদিকে বেবি আপার শ্লোক শুনে পাই সাহস। বেবি আপা মাঝেমধ্যে শ্লোক পড়ে মজা করে। একদিন বেবি আপা বলেছিল – নাক ঘুমটা কপাল টান, যত ঘুমটা তত নাঙ্গ। ঠিক বুঝে উঠতে পারি নাই, জিজ্ঞাস করেছিলাম – কী বলেন? আমার মুখে টোকা দিয়ে বলে – যে যত বড় ঘোমটা টানে, তারে নাঙ্গে বেশি টানে। তুই যেমুন মরতে চাইছিলি আসলে তোরে জেবনে টানে। সেদিন আমি ভাবলাম এই অশিক্ষিত মহিলা কত কী জানে! তার কথা সত্যি হয়। আমি এই জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাই।
আমি প্রশ্ন করি – এরপর থেকে কি তুমি এ-জীবনকে উপভোগ করছ?
পরী বলে – না। বাধ্য হয়ে অভ্যাস হয়ে গেল। তবে একদিন খুব সুখ পাই… ভোগের সুখ। যেদিন আমাদের নিয়মিত কাস্টমার তার এক আনাড়ি বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আসে। সর্দার সে-লোকটিকে আমার ঘরে এনে বলে – নতুন নাগর, একটু বানাইয়া নিস…। বলে হাসতে হাসতে চলে যায়। আমার মনের মাঝে সেই হাসি বেজে চলে। লোকটিকে আমার বিছানায় কোনায় আড়ষ্ঠ ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখে খুব খুশি লাগে। এগিয়ে যাই। লোকটি একটু সরে বসে, বলে – ঠিক আছে… অন্য একদিন…। হাসতে হাসতে বলি – অন্যদিন মানে… এইখানে তো এমনি এমনি ফিরে যাবার নিয়ম নাই…। আমার চোখে আদনানের চেহারাটা ভেসে ওঠে। আমি যেন লোকটিকে আমার জায়গায় বসিয়ে দিই। ওই রাত আমার জীবনে অন্যরকম রাত। লোকটি যেন ভোগ করে না, আমিই লোকটিকে ভোগ করতে মেতে উঠি। জীবনে যেন চরম আনন্দের সময় সেইক্ষণ। আমি লোকটিকে ইচ্ছেমতো খুলি, ভাঙি। নিজের ইচ্ছেমতো তাকে পরী বানাই!
পরীর চোখগুলোতে যেন আলো জ্বলে, আমি সে-আলোয় কী খুঁজি জানি না, কেবল ভাবি, আসলেই তো এই ভোগের অধিকার পরীরও আছে। মনে হতে থাকে কী অবলীলায় লোহান আমার অধিকারগুলোকে শিকল পরাতে চায়, তার ইচ্ছেমতো! গোপনে আমি পরীর কাছ থেকে সাহস নিই, না তাকে কিছুই বলি না। ওর কথাগুলো এত গোছানো, শুনতে শুনতে আবার চোখ চলে গেল বুক সেলফটির দিকে। এবার আর অপেক্ষায় থাকি না, বলি – বইগুলো জোগাড় করলে কী করে?
ওই যে বলছিলাম অস্থিরতায় ভুগছিলাম এমন হতাশা তো সবসময়ই লাগে। এ থেকে মুক্তি তো আমার নেই, যে-গন্ডির মানুষ হয়ে গেছি তা পেড়িয়ে অন্য জগতে যাওয়া সম্ভব নয়। বিষণ্ণ হয়ে ভাবতাম। তারপর একদিন আমাদের এক বাবুকে বলে খবরের কাগজ কিনে আনালাম।
বাবু মানে?
আমাদের সঙ্গে কিছু পুরুষ মানুষ বাস করে। ওরা বাবু। আমাদের টাকায় চলে, আমাদেরই রক্ষা করে। এরা বেশ্যাদের স্বামীর মতো। বাইরের জগতের সঙ্গে ওদের মাধ্যমেই আমাদের সম্পর্ক ছিল। ওরা কাস্টমার আনে। ওদের মুখে গল্প শুনি, কোথায় খুব গন্ডগোল হইতেছে। যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করতেছে, ঘর ছেড়ে অনেকেই পথে পথে কাস্টমার খোঁজে। পেপার আনায়। সেখানে আমাদের পেশাজীবীদের উচ্ছেদের কাহিনি সবাইকে পড়ে শোনালাম। সবাই আরো জানতে চায়, তারপর থেকে মাঝেমধ্যে খবরের কাগজ ওদের পড়ে শোনায়। টিভির খবরে তো এইসব দেখায় না। ওরা জানে, আমি পড়তে জানি। সবাই বেশ সমীহ করল। বই কিনে আনাতে থাকি। বাবুরা শহরে গেলে টাকা দিতাম, ওরা আমার বই কিনে দিত। বই পড়ে মনে হতো বেঁচে আছি।
ওর খবরের কাগজ পড়ার খবর শুনে ঠিক মনে মেনে নিতে কষ্ট হলো। বলে ফেললাম – তোমাদের কি টিভি ছাড়াও খবরের কাগজ পড়া জরুরি ছিল?
হ্যাঁ জরুরি ছিল। আমরা উচ্ছেদ সম্পর্কে খবর পেতাম। কিছু পত্রিকা হাতে এলো, যা থেকে এই পেশার আইন-কানুন সম্পর্কে জানি। সেই খবর পাঠের সময় একদিন আমাদের সর্দার বলেন, অনেকের এই পেশায় নিবন্ধন নাই। যাদের আঠারো বছর বয়স হয়ে গেছে তাদের নিবন্ধন করতে পাঠাল।
নিবন্ধনটা কী? তুমি করেছ?
পরী হেসে বলে – হ করছি। ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে বা রোটারি অফিসে যেয়ে একটা ঘোষণাপত্র লেখাতে হয়। বাবার নাম বা নিজের নাম ঠিক-বেঠিক দেওয়া কোনো বিষয় না। যখন আমি বনিতা হয়ে যাই। যখন আমি দেহ বিক্রিকে পেশা করে নিই, তখন আমার নামে কিছু যায়-আসে না। কাস্টমাররা চাইলে তাদের ইচ্ছামতো নামে আমাদের ডাকতে পারে। হাসতে হাসতে বলে – তাদের সোহাগের নাম…।
আমি পরীর প্রতিটি কথায় চমকে উঠি, যদিও আর দশটা যৌনকর্মীর মতো শ্লাঘামিশ্রিত ভাষায় সে আমার সঙ্গে কথা বলে না। যেন তার এই বুদ্ধিদীপ্ত আর প্রত্যয় মেশানো স্বরই আমাকে অনেক বেশি ধাক্কা দেয়। যদি সে অন্য সবার মতো বলত, তাহলে তা হতো একেবারেই আমার কাজের উপযুক্ত। কিন্তু তার এই সচেতন স্বরের নিচে আমি নিজেকেও হারিয়ে ফেলি। এই পল্লির সবাই যেন সেই সত্য বুঝেই তাদের প্রতিনিধি করে পরীকে আমার সঙ্গে কথা বলতে পাঠিয়েছে! ওরা জেনে গেছে, ওদের জীবনের মতো অনিশ্চয়তা সারাক্ষণ আমাকে শাসায়। সেদিনের মতো সময় ফুরিয়ে আসে। ফিরতে হবে, তাই মনকে জোর করেই যেন দেহবন্দি করে উঠে পড়ি। কিন্তু প্রতিটাক্ষণ আমার সামনে ভেসে থাকে পরীর পরী হওয়া জীবন আর রফিকের নতমাথায় বেরিয়ে যাওয়া… নানা ভাবনা। ভদ্র আর অভদ্রের ভেদ যে কত তুচ্ছ সুতোয় গাঁথা! হাজার হাজার প্রশ্ন, পরীর কাছে নয় বরং নিজের কাছেই নিজের। ওদের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগসূত্র করে বাবুরা, লোহান কি স্বামী হিসেবে এমনভাবেই গৃহবন্দি করতে চায় আমাকে? আর রফিক কেন এখানে? মনের মধ্যে উষ্ম বাতাস জমিয়ে রাখি, আজ লোহানকে উত্তর দিতে হবে? মনে মনে প্রচন্ড একটা ঘূর্ণি বাতাস নিয়ে বাড়ি ফিরি। কিন্তু বাড়ির আবহাওয়া জানা ছিল না। ফিরতেই শাশুড়ি ধিক্কার দিলেন – অমন নষ্টপাড়ায় ভদ্রঘরের বউঝি কী করে যায়। লোহান ফিরে এলে এর একটা বিহিত তিনি করবেন। তার মানে সবাই জেনে গেছে। মনে হলো আমাদের পুরুষেরা কত নির্লজ্জ ক্ষমতাবান! আজ আমি চুপ করে থাকব না। কিন্তু কিছুই বলা হলো না, যখন আমার ছোট ননদ নাঁকিসুরে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়ে গেল আমার জন্য তাকে স্বামীর কাছে কতটা ছোট হতে হলো। আমি তাদের কথার কোনো উত্তর দিলাম না, মনে মনে খুব করুণা হলো তাদের অজ্ঞতা দেখে। মনে মনে ভাবলাম, তাদের মাথাটা শুধু ছোট নয়, ধর থেকে নাই হয়ে গেছে যেন। সে-মাথায় এ-কথা এলো না। গতকাল রাতে স্বামী কোথায় ছিল? যে-ঝড় বইয়ে দেব ভেবেছিলাম, তা সহসাই উবে গেল। পরীর মুখটি মনে পড়ল। কেন জানি আমার ভেতরের আমিটা অনেক সাহসী হয়ে উঠলাম। একটা স্বস্তি বোধ করলাম এই ভেবে, কী হবে বা হতে পারে লোহান ফিরে এলে। তার চেয়েও আজ আমি নিজের জন্য কতটা প্রস্ত্তত তাই ভেবে নিলাম।
রাতে কখন ঘুমিয়েছি জানি না। লোহানের সঙ্গে সেদিনই আমার শেষ রাত পার হলো। সকালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেরি হয়ে গেছে বুঝতে পারি। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিই। ওই বাসায় আমার জায়গা নেই। আমাদের এক বাসা ছেড়ে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাই বাবার বাড়ি। এটাও আমাদের বাসা ছিল; কিন্তু আমার এভাবে ব্যাগ হাতে দেখে মায়ের চাহনিতে বুঝে ফেলি, ওটা বাবার বাড়ি। মাকে কোনো কথা না বলে ব্যাগটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছুটে চলি পরীর কাছে।
গলিমুখে ঢুকতেই জোরালো ঝগড়া শোনা যায়। সর্দার বীথি যেন ভিন্ন মানুষ। সামনে দাঁড়ানো দুজন যৌনকর্মীকে যে-ভাষায় গালাগাল করছে, তা শুনে আমার পা পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। আমি দাঁড়িয়ে পড়ি। পা চলে না। পাশে কয়েকটি শিশু ঝগড়ার তালে তালে একে অপরকে মুখ ভেঙচি কাটছে। পুরো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গা গুলিয়ে, বমি ঠেলে আসছে। একজন বয়স্ক মহিলা এগিয়ে এসে যেন আমাকে উদ্ধার করে।
আপনি হেই এনজি আপা নাহ্?
এবার আমি চিনতে পারি বেবিকে। সে হেসে বলে, খাড়াইয়া ক্যান?… ভাতেই কুরকড়্যায় না… যৌবনের কুরকুড়্যায়…
বুঝতে না পেরে বলি – মানে?
সে হাসে… বুঝন লাগবো না… চলেন আপনে রে পরীর কাছে দিয়া আসি।
আবার আমি পরীর ঘরে। মনটা ভালো হয়ে গেল। বিছানায় আরাম করে বসি, বেবির সঙ্গে চলে গল্প। মহিলা অদ্ভুত প্রকৃতির, কতসব ছড়া জানে। বলে ছোটবেলায় তার দাদি নাকি বলত এমন। একসময় ম্যালা কাজ পড়ে আছে জানিয়ে চলে যায়। বেবি চলে যেতেই, পরী জানায় – বেবি আপা খুব ভালো মানুষ। আমি যখন খুব গুমরে উঠছিলাম ভেতরে ভেতরে, তখন একদিন বেবি আপাই তার মেয়েকে আমার কাছে এনে, বলেছিল – নে আমার তো ভাতই ভাতার… মাইয়াডার যেন তা না হয়। অবাক হয়েই বেবি আপার দিকে তাকায়, সে বলে – তুই তো পড়তে জানোস, আমার মাইয়াডারে একটু শেখা। যদিও মাইনষে কয় নারী বাইচলে পরের… মইলে গোরের…। তবু মন কয় যদিও ও কিছু শিখবার পারে। সেদিন আমিও ভেবে দেখলাম, এখানকার বাচ্চাগুলো সারাদিন ঘোরেফিরে। দু-একজন স্কুলে দিতে চাইলেও দিতে পারে না। ধারেকাছের স্কুলে এই পাড়ার বাচ্চাদের ভর্তি নেওয়া হয় না। ঠিক করলাম ওদের পড়াশোনা করাব। সেই থেকে আমি ওদের টিচার আপা। ওদের পড়াইতে আমার ভীষণ ভালো লাগে, আমি এই বারান্দায় স্কুলটা বানাচ্ছি। ওরা এখন আমারে খুব ভালোবাসে আর ওইসব কচিকচি মুখের মাঝেই যেন আমার স্বপ্ন! ওদের কারো কারো ভালো গলা, আমি একটা হারমোনিয়াম কিনছি। ওদের সঙ্গে গান গাইতে অনেক সুখ। এমনি এমনি পড়াই না। ওদের মায়েরা দেহবেচা টাকার থিইক্যা আমারে বেতন দেয়। এ-কথাগুলো বলতে বলতে পরীর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। অনেক কথা হয়, অনেক কথা না বলেই যেন জানিয়ে দেয় আমাকে।
আমার মাথা নত হয়। আমারও নিজের কোনো বাড়ি নেই! বাবা বা লোহান ঠাঁই না দিলে মুহূর্তেই গৃহহীন হয়ে যাই! এমন সময় দুটো শিশু এসে দরজায় দাঁড়িয়ে বলে, টিচার আপা… আমরা আইসা গেছি… পড়াইবেন না?
পরী জানায়, গত দুদিন ওদের পড়াতে পারে নাই। এখন সে পড়াতে যাবে। তারপর একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে, এই তো… সবই তো জানলেন… এ-ই…
আমি বেরিয়ে আসতে যেয়ে দেখি, প্রায় পনেরো-বিশটি শিশু বসে আছে, বইখাতা নিয়ে, তারা কেউ খালি গায়, কেউ বা রঙিন জামা পরা। তাদের পায়ে মাটি লেগে আছে, চুলে রুক্ষতা কিন্তু মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি অবিকল শিশুমুখ!। বেরিয়ে যেতে যেতে শুনি, পরী ওদের পড়াচ্ছে, আ = আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে…। আমি সেই ধ্বনিতে কিছুই খুঁজি না, পরীর নিরুচ্ছ্বাস হাসিটা কানে বাজে। নীরবে রঙিন পরীর গল্প বুকে নিয়ে ফিরে আসি।
অফিসে বসে আমি পরীর গল্প সাজাই, রিপোর্ট তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আর অফিস শেষে ভাড়া বাসার দরদাম করি। এভাবে দিনগুলো পালিয়ে যেতে থাকে, অবশেষে আমিও ঘরের অধিকারী হই। কিন্তু আমার নতুন ভাড়া করা ঘরের চালে আষাঢ় মাস না হলেও তাল পড়ে। তারপর ব্যক্তিগত জীবনের বিপর্যয় থেকে পরিবার আর এলাকাবাসীকে পরিত্রাণ দিতে ঢাকায় বদলি হয়ে আসা। তাও বছর তিন হয়ে গেল।
পরীর কথা ফাইলের রিপোর্ট হয়ে বসে থাকে। আমার ব্যস্ততার মাত্রা বেড়ে যায়। এই সেমিনারে যাওয়ার অফার পেতেই নিয়ে নিলাম। পরীকে নতুন করে সাজিয়েছি এমএস ওয়ার্ডের ফাইলে, কিছু ছবি আর ক্যাপশনসহ। পরীর ছবি! সেই মুখ, মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে মিছিলের সামনের মেয়েটি পরী! শহরে যৌনকর্মীরা তাদের কবরের জায়গা চেয়ে মিছিল করেছিল। পরী কবরের জায়গা আদায়ের দাবিতে পথে নেমেছিল। ভাবি, পরীর জন্য আমিও কত কি-ই না করলাম। কী করেছি ভাবতে যেয়ে খুঁজে পাই না। বরং পরীর কাছ থেকে জেনে যাওয়া জীবন-সংগ্রাম থেকে সাহসী হওয়ার কথা চেপে যাই। আমি সবটুকু বলব না। কেবল পরীকাহিনি বলব, নীল পরীর কথা। আমি ফুলপরী হয়ে উড়ে যাই শক্ত তথ্য হাতে। প্লেনের জানালায় ঘন মেঘ, আমি আনমনে পরীর হাত ধরে মিছিলে চলে যাই। যেন আমিও পরী! কিন্তু ফুলপরী। তাই মিছিল এগিয়ে যাই আমি স্থির পথের মাঝে। দূর থেকে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু আমার পা স্থির। পরী সেদিকে ফিরে তাকায় না। মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়, নিজ পায়ে।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার