প্রচ্ছদ-পরিচিতি

লেখক:

শিরোনামহীন

চারুকলা ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নকালে তরুণ ঘোষ বাস্তবধারার কাজের জন্য শিল্পানুরাগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তাঁর কাজের শিল্প সুষমা, বিষয় বৈচিত্র্য তখন থেকেই প্রণিধানযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। পরবর্তীকালে তাঁর ভেতর শিল্পের পথ অন্বেষণের তাগিদ সৃষ্টি হয়। তিনি বন্ধুদের নিয়ে ঢাকা পেইন্টার গ্রুপ গঠন করেন। ইউরোপের সমকালীন চিত্রকরদের কাজ তাঁদের প্রবলভাবে আন্দোলিত করে। তরুণ ঘোষ এই সময়ে পরাবাস্তববাদী ধারায় সামাজিক বাস্তবতা ও মানবজীবনের নানা অনুষঙ্গকে বিষয় করে চিত্র অঙ্কন করেছিলেন।
তরুণ ঘোষ ১৯৮২ সালে উচ্চতর চিত্রশিক্ষা গ্রহণের জন্য বরোদার মহারাজা সাওয়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই শিল্পশিক্ষা তাঁর মানসভুবনকে নানা দিক থেকে সমৃদ্ধ করে। তিনি এই সময়ে নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হন। লোক-গবেষণা প্রকল্পের কাজে যুক্ত হওয়ার ফলে পটুয়াদের কাজের ধারা ও প্রকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
বরোদা থেকে দেশে ফিরে আসার পর তিনি লোক-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন। বেহুলা ও মনসাকে নিয়ে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে অসংখ্য চিত্রের অঙ্কন তখন থেকেই শুরু হয়। রেখার বলিষ্ঠতা, রঙের ব্যবহার ও মানবিক সম্পর্কের কারণে তাঁর এই সৃষ্টিগুচ্ছ হয়ে ওঠে অনন্য। বেহুলা সিরিজে তিনি নারীমুক্তির আকাক্সক্ষাকেও প্রতীকে মূর্ত করেন।
১৯৯৭ সালে তিনি এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীতে গ্র্যান্ড প্রাইজ অর্জন করেন। ওই বছরেই তিনি জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে আরব-বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৭৭ সালে বি এফ এ ডিগ্রি ও ভারতের বরোদার মহারাজা সাওয়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে এম এফ এ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ১৯৫৩ সালে রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। জাতীয় জাদুঘরের সমকালীন শিল্পকলা বিভাগের ডেপুটি কিপার ছিলেন। বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করলেও নিয়মিত চিত্রচর্চা করে চলেছেন।
প্রচ্ছদে ব্যবহৃত অ্যাক্রিলিকে করা ছবিটি ২০১০ সালে অঙ্কিত। সংগ্রাহক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার