বহুমুখী সৃষ্টি : বহুমাত্রিক সাহিত্যিক

লেখক:

সুরঞ্জন মিদ্দে


৯৫২ সাল! রক্তাক্ত মাতৃভাষা আন্দোলন চলছে। সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের (১৯৩৫-২০১৬) তখনো আঠারো বছর পূর্ণ হয়নি। তখনই দক্ষ ও স্থিতধী গল্পকার হয়ে উঠেছেন। প্রকাশিত হয়েছে তাস গল্পগ্রন্থ (১৯৫৪)। তাসের গল্পগুলি একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে – নিজস্ব বৈভবে বৈচিত্র্যময় কাহিনির সংঘাতে, নানান ঘটনার প্রক্ষেপণে আধুনিক মাত্রা লাভ করেছে। শুধু শুরুতে নয়, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সাহিত্যের সব ধারাতেই সমান সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছেন। শুধু কথাশিল্প নয়, নাটক থেকে অনুবাদ-প্রবন্ধে তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সব্যসাচী সাহিত্যিকের উপমায় ভূষিত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনি মানবতার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে মেতে উঠেছিল গণহত্যায়। লাখ লাখ বাঙালি শহীদ হয়েছেন পাকিস্তানিদের পাশবিক হত্যাযজ্ঞে। কবি সৈয়দ শামসুল হকের কবিতায় সেই নির্মম-বর্বরতার ছবি ফুটে উঠেছে –
– হঠাৎ চব্বিশটি রক্তাক্ত দেহ –
রমণী, শিশু, যুবক, প্রৌঢ় –
… এক মুহূর্তের জন্যে, রক্তাক্ত এবং লুণ্ঠিত,
দ্বিতীয়বার আর নয়,
রক্তাক্ত, লুণ্ঠিত এবং প্রাণহীন –
দেওয়ালের পায়ের কাছে চত্বরে তারা শুয়ে আছে।
শুধু কবিতায় নয়, গদ্যেও সহজ-সরল-সাবলীল। যদিও সেই গদ্যে কাব্যময়তার স্পর্শ অনুভব করা যায়। তাঁর রচনায় হৃদয় ছুঁয়ে যায় – বাংলাদেশের সাহিত্যে নয়, বাংলা সাহিত্যের ভুবনে। তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি কখনো থেমে থাকেননি, তাঁর দীর্ঘ ৮১ বছরের জীবনে লিখেছেন প্রচুর; এবার তিনি থেমে গেলেও তাঁর সাহিত্যসম্ভার পাঠকের দরবারে স্থায়ী আসন লাভ করেছে। সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক, বাঙালির হৃদয়ের সম্পদ।
সৈয়দ শামসুল হকের অনুবাদও স্মরণীয়। তাঁর অনুবাদও সৃজনশীল অনুবাদ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইংরেজি নাটক ও উপন্যাস বাংলায় অনুবাদ করে তিনি বাংলাদেশের অনুবাদ-সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। শ্রাবণরাজা, গোলাপের বনে দীর্ঘশ্বাস, ম্যাকবেথের চমৎকার অনুবাদ পাঠকমহলে সাড়া জাগিয়েছে। একজন সৃজনশীল সাহিত্যিক অনুবাদ-সাহিত্যেও সমান কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। পাশ্চাত্যের পটভূমিকে প্রাচ্যের শিকড়ের সন্ধান দিয়েছেন। ইংরেজি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নিপুণ কারিগর হিসেবে আক্ষরিক অনুবাদ না হয়ে সৃজনশীল সাহিত্য অনুবাদ হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। একজন সৃজনশীল সাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাস-কবিতা-নাটক, আলোচিত হতে হতে প্রবন্ধগুলি উপেক্ষিত থেকে যায়। সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধগুলি এককথায় অনবদ্য। বাংলার সমাজ-সংস্কৃতিসহ বাঙালির জীবন-মননের বিচিত্র বিষয়কে প্রবন্ধের মণিমালায় গেঁথেছেন। রুচিশীল ইতিবাচক উদারতায় প্রবন্ধগুলি এক স্বচ্ছচিন্তার পরিপক্ব ফসল। তাঁর সিরিয়াস প্রবন্ধগুলি সরসতার হৃদয়স্পর্শে সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আত্মতামূলক এসব প্রবন্ধে হয়তো হক সাহেবের কবিমনস্কতার পরিচয় আছে, কবিত্বের পরিচয় থাকাটাও খুবই স্বাভাবিক, তবু মননশীলতার রসভাষ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হৃৎকলমের টানে (প্রথম ও দ্বিতীয় খ-) ও মার্জিনে মন্তব্য অসামান্য গদ্যগ্রন্থ। গদ্য পাঠক সাম্রাজ্যে প্রাবন্ধিক সৈয়দ শামসুল হক একজন অতি-আধুনিক চিন্তক হিসেবে মর্যাদা পাবেন।
প্রাবন্ধিক-অনুবাদক সৈয়দ শামসুল হকের ‘পরাণের গহীন ভিতর’ কবিতা পড়তে-পড়তে মনে হয় তিনি বহুমাত্রিক। তাঁর সনেটগুচ্ছ ভরা নদীর মতো সৌম্য-শান্ত হয়েও অন্তস্তলে রয়েছে গতিময় স্রোতস্বিনী। তাঁর কবিপ্রত্যয় বাংলা কবিতার ভুবনে স্বদীক্ষিত স্বচিহ্নিত
উত্তর-আধুনিক সাহিত্যবীক্ষার নতুন পলিমাটিপ্রাপ্ত জিজ্ঞাসা। কবি এখানে নাগরিক হয়েও মধ্যবিত্তের স্মৃতি নস্টালজিয়ার সঙ্গে প্রকৃতির মধ্যে লীন হয়ে গেছেন। তাঁর কবিতা সিরিজে ‘চাঁদ’, ‘পাখি’, ‘জ্যোৎস্না’, ‘নিদ্রা’, ‘স্বপ্ন’ জীবন্ত হয়ে ওঠে এক মরমিয়া আরতিতে। লোকোত্তর মিলনবিমুখ বিরহকাতরতায় তাঁর কবিতায় মানবতার আনন্দ প্রতিধ্বনিত হয়। তাই তিনি শুধু স্বকালের নন, ভাবীকালেরও কবি। তাঁর অসংখ্য কবিতায় লোকায়ত জীবন, প্রান্ত সংস্কৃতি, মধ্যবিত্তের মাত্রিকতার সঙ্গে প্রতিরোধী চেতনা বিচ্ছুরিত হয়। কবি সৈয়দ শামসুল হকের কবিতায় মধ্যবিত্তের সংস্কৃতি ও রুচির বিনির্মাণে সমকালের দেশাত্মধারা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ‘পহেলা মার্চ ১৯৭১’, ‘একাত্তরের পঁচিশে মার্চের অসমাপ্ত কবিতা’, ‘স্বাধীনতা’, ‘আমি জন্মগ্রহণ করিনি’, ‘ফিরে এসো রক্তাক্ত বাংলাদেশ’, ‘মুজিবের রক্তাক্ত বাংলায়’ কবিতাগুলি পাঠক চেতনায় শ্রেয়বোধের জন্ম দেয়; সৃষ্টি করে ভূমিপুত্রের উদাত্ত আহ্বান। জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধও করে তাঁর কবিতা। কবি এখানে আপসহীন, তাঁর কবিতা দায়বোধের সমকালে আবর্তিত।
‘একটি জন্মের’ কথা বলেন, যে-জন্মের অপেক্ষায় অধীর কবি। গরবিনী দেশ যে-জন্মের প্রতীক্ষায় আছে। কবির জন্মগ্রহণ সেই প্রত্যয়ে, কবির অবিচ্ছেদ্য আশাবাদ – ‘আমি জন্মগ্রহণ করব…’। আবার দেশজন্ম প্রসঙ্গে আরো তীক্ষèধী স্বরে বলেন – ‘আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমাকে জন্ম দেয়া হয়েছে।’ ‘বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা’ কবিতায় খেদোক্তির চেয়ে বেশি আছে নির্মিত জীবনের আশাময় আনন্দসংবাদ। মধ্যবিত্তের পরিবৃত্ত অতিক্রম করে থাকে বিশ্বমেজাজের বিচিত্র পটভূমি। কৃত্রিম আরোপিত নয়, স্বতঃস্ফূর্ত প্রবহমান যাত্রাপথের ছন্দোবন্ধনে মূর্ত হয়ে উঠেছে তাঁর কবিতা। যেখানে পুরাণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, যৌনতা, মনস্তত্ত্ব, আর্থ-সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সূক্ষ্ম সুকুমার শিল্পে বিধৃত হয়েছে। আলংকারিক মাত্রায় পুরনো আঙ্গিকেরই ঘটান নবতর উত্থান। কবি সৈয়দ শামসুল হকের আধুনিকতার বার্তাটি থাকে লোকায়ত শিকড়ের গভীর গহনে। প্রেম ও প্রকৃতি আর্থ-সামাজিক-সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়।
– এ বড় দারুণ বাজি, তারে কই বড় বাজিকর
যে তার রুমাল নাড়ে পরানের গহীন ভিতর।
বাংলা কবিতায় জীবনের ক্ষয়, সংকট, বিপর্যয়, বিচ্ছেদ, অবসাদ কিংবা আজন্ম সংস্কার-কুসংস্কারের দ্বন্দ্ব এক নতুন কাব্য চিত্ররীতি অর্জন করেছে। যেখানে মানবের পূর্ণাঙ্গ সত্যের রূপটি উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে চরিত্র নির্মাণে, ঘটনার গ্রন্থনে কবিতা যেন এক রূপকথার কাহিনির গভীর রেখাপাত করে।
১৯৫৯ থেকে ২০১২ সময় পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে, বাংলা কবিতার জগৎকে নবায়িত করেছেন। অভিনব শব্দমালা, প্রেম-প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত চিত্রকল্পগুলি বাংলা কবিতার আকাশে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। বুনোবৃষ্টির গান (১৯৫৯), বিরতিহীন উৎসব (১৯৬৯), অপর পুরুষ (১৯৭৮), রজ্জুপথে চলেছি (১৯৮৮), শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯০), রাজনৈতিক কবিতা (১৯৯১), প্রেমের কবিতা (১৯৯৬), কবিতা সংগ্রহ (১৯৯৮), তোমার নক্ষত্র এই রক্তের লোহিতে (২০১০), ভালোবাসার পদাবলির (২০১২) কাব্যযাত্রায় প্রকাশিত হয়েছে আগুনের ফুলকি। যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসরূপ থেকে পাতা ঝরার নিসর্গগানের সঙ্গে আগুন ও গুলির আর্তনাদ শোনা যায় তাঁর কবিতায়। দেশজ আঞ্চলিক শব্দের সঙ্গে গদ্যস্পন্দন, কথনরীতি, নাট্যসংলাপ, দৃশ্যপটের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে, কবি সৈয়দ শামসুল হক, এক
অতি-আধুনিকতম শিল্পী। একই সঙ্গে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিভঙ্গ কবিকে সৃজিত করে। তাঁর বিচরণ হয়ে ওঠে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের ইংল্যান্ড। কবির ভাষায় বলা যায় ‘একটি আমার জন্মভূমি, অন্যটি মনোভূমি’। বাংলাদেশ থেকে বহির্বঙ্গে তাঁর কবিতার অনুষঙ্গ এক থেকে বহুমাত্রার আলোছায়ায় বহুব্যাপ্ত হয়। সময় বাস্তবতায় তাঁর কবিতার সংসার সর্বজনীনতার স্বাদে উত্তীর্ণ হয়েছে। পঞ্চাশের দশকের বাংলাদেশের ছোটগল্প সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে – মৃত্তিকামূলস্পর্শী, জাতিসত্তার শিকড়ের সন্ধান। গল্পের বিষয়ের সঙ্গে-সঙ্গে প্রকরণ-পরিচর্যার প্রতি কবি মনোযোগী। বিষয়াংশ উপস্থাপনার অভিনবত্বে ও নিরীক্ষাশীল ভাষারীতি ষাটের দশকের ছোটগল্পের যাত্রাকে ঋদ্ধ করেছে। সৈয়দ শামসুল হকের তাস (১৯৫৪) গল্পগ্রন্থটি সেই সূচনা পথের সন্ধান দিয়েছে। সৈয়দ শামসুল হকের গদ্যরীতির প্রধান লক্ষ কাব্যময়তা। সেই সঙ্গে প্রতীক-উপমা-উৎপ্রেক্ষা ব্যবহারে অভিনব সাহিত্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন। আবার মৃত্তিকাজাত মানুষের জাতিসত্তা নয়, মানুষের মনোগহনের জটিলতা উন্মোচন করেছেন, কথাশিল্পী সৈয়দ শামসুল হক। প্রথম পর্বে বৃহত্তর জনজীবনের পটচিত্রে গল্প লিখেছেন, দ্বিতীয় পর্বে মানবজীবনের অন্তঃঅসঙ্গতি ও অন্তর্বাস্তবতার গল্পরূপ অঙ্কন করেছেন। তাঁর গল্পে জীবন ভিন্ন সুর পেয়েছে, চরিত্র হয়ে উঠেছে জীবন্ত, প্রাণবান। দেহের কাঠামো ছাড়িয়ে গল্পে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। শুধু গল্পের জন্য গল্প – এই সাবেকি ধারণা থেকে তিনি ছোটগল্পকে মুক্তি দিয়েছেন। বাংলাদেশের ছোটগল্প তাঁর কলমেই প্রথম সার্থকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
নাগরিক মধ্যবিত্তের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, অসঙ্গতি আর নির্বেদ অঙ্গনেই সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে মনোযোগ দিয়েছেন। গার্হস্থ্য জীবনসংসারে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান পরিবেষ্টিত জননীর শাশ্বত মূর্তি অঙ্কন করেছেন ‘তাস’ গল্পে। একাধিক ভাষায় অনূদিত তাস গল্পের বৈচিত্র্যময় কাহিনি নানা ঘটনার প্রক্ষেপণে আধুনিক মাত্রা লাভ করেছে। বিশেষ করে বিধবা জননীর স্মৃতিকাতরতা, যন্ত্রণা, অন্তর্দাহন প্রতীকী বার্তায় চিত্রিত হয়েছে। ‘আনন্দের মৃত্যু’ তাঁর আরেকটি অনবদ্য ছোটগল্প। নাগরিক মধ্যবিত্তের অসার, ভুঁইফোড় জীবনকে চমৎকার দৃশ্যপরিকল্পনায় তুলে ধরেছেন।
শুধু নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প নয়, পারিবারিক, আঞ্চলিক গল্পের সঙ্গে সঙ্গে প্রেম মনস্তত্ত্বের জটিলতার গল্পে তিনি সিদ্ধহস্ত। প্রেম এবং মনোবিকলনধর্মী গল্পেও সৈয়দ শামসুল হক বেশ পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। গ্রামীণ জীবনপটে আঞ্চলিক গল্পে তাঁর দেশজ শব্দের ব্যবহারে নিপুণতার ছাপ আছে। সমাজের শোষণ-সংস্কারকে কেন্দ্র করে নিরীক্ষাধর্মী জলেশ্বরীর গল্পগুলো (১৯৯০) অভিনবত্ব
এনেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের গ্রামকেন্দ্রিক শ্রেণিচরিত্রের শোষণ-সংস্কার নির্যাতনের চালচিত্র ধরা পড়েছে।
ছোটগল্পকার সৈয়দ শামসুল হক দীর্ঘায়িত গল্প পরিচর্যার পথপরিক্রমায় বিষয়ের সঙ্গে আঙ্গিকেরও প্রভূত পরিবর্তন এনেছেন। বাংলা ছোটগল্পে প্রতীক নির্মাণ, বাস্তবানুগ সময়সন্ধিৎসা, ইমেজে বর্ণিত আবেগের বিচ্ছুরণ – এক অসামান্য গদ্যভঙ্গি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তাঁর ঋজু গদ্যশক্তি বাংলা ছোটগল্পকে প্রখর জীবনবাদী করে তুলেছে। বাংলাদেশের সাহিত্যে সৈয়দ শামসুল হক দক্ষ ও স্থিতধী গল্পকার। তাস থেকে গল্পসমগ্র (২০০১) পর্যন্ত তাঁর রয়েছে কয়েক দশকের গল্পচর্চার প্রবাদপ্রতিম অভিজ্ঞতা। বাংলা গল্পের ভুবনে ফুটে উঠেছে বিচিত্র-বিষয়ের গল্প; মনস্তত্ত্ব-মনোবিকলনধর্মী থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বাংলা ছোটগল্পের
দূরগামী-দ্যুতিময় গল্পকার।
তাস, শীতবিকেল (১৯৫৯), আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭), প্রাচীন বংশের নিঃস্বসন্তান (১৯৮১), একসঙ্গে সৈয়দ শামসুল হক (গল্পসংকলন, ১৯৮৬), প্রেমের গল্প (১৯৯০), শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯০), গল্পসংগ্রহ গ্রন্থের মধ্যে নগরজীবনের অবক্ষয় ও নৈরাশ্যের সঙ্গে
নর-নারীর মনোবিশ্লেষণ নানান মাত্রায় ফুটে উঠেছে। সেই ১৯৬৬ সালেই তিনি পেয়ে গেছেন ছোটগল্পে বাংলা একাডেমি পুরস্কার। তাঁর মৃত্যু শুধু বাংলাদেশের গল্পে নয়, বাংলা ছোটগল্পের ইতিবৃত্তেও এক অপূরণীয় ক্ষতি। শুধু ছোটগল্পে নয়, উপন্যাস রচনায় সিদ্ধহস্ত সৈয়দ শামসুল হক। তিনি বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাশিল্পী। শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনের আত্মকেন্দ্রিকতা, মানবজীবনের বলিষ্ঠ কথাশিল্পী তিনি। তাঁর সহজ-সরল, সাবলীল ভাষা পাঠককে মুগ্ধ করে। তাঁর উপন্যাসের লিপিচাতুর্য ও বাকনির্মিতি সহজেই পাঠককে আকর্ষণ করে। তাঁর উপন্যাসের চরিত্রগুলো অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত আধুনিক জীবনকে প্রকাশিত করেছে। বিশেষ করে বাঙালি মধ্যবিত্তের উত্তরণ ও রূপান্তরের চিত্র অঙ্কন করেছেন সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে ক্রমবিকশিত হয়েছে মধ্যবিত্তের মনোজগৎ, বিকারগ্রস্ততা, যৌনতা, অচরিতার্থতা, আত্মকা-ূয়ন,, স্ববিরোধিতা বিচিত্রভাবে নিরীক্ষিত হয়েছে তাঁর উপন্যাসে। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় বাঙালি শ্রেণি-চরিত্রের সংঘাত ও সংগ্রামের রূপরেখা প্রস্ফুটিত হয়েছে। বাঙালির বহমান লোকায়ত সংস্কৃতির পুনর্নির্মাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে তাঁর উপন্যাসে।
এক মহিলার ছবি (১৯৫৯), জনক ও কালোকফি (১৯৬২), সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪), খেলারাম খেলে যা (১৯৭৩), অন্য এক আলিঙ্গন (১৯৮২), এক যুবকের ছায়াপথ (১৯৮৭), কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন (১৯৮৯), বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ (প্রথম খ- ১৯৮৯, দ্বিতীয় খ- ১৯৯০), ধনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল (১৯৮৯), তুমি সেই তরবারি (১৯৮৯), মেষ ও মেশিন (১৯৯১), মহাশূন্যে পরান মাস্টার (১৯৯২), বালিকার চন্দ্রযান (১৯৯২), আলোর জন্য (১৯৯৫), একমুঠো জন্মভূমি (১৯৯৭), নারীরা (১৯৯৯), বাস্তবতার দাঁত ও করাত (১৯৯৯), প্রান্ত পর্যন্ত (২০১৩), ও কেরানীও দৌড়ে ছিল (২০১৩) উপন্যাসসমূহে বাঙালির সংকট ও স্বার্থপরতা ধরা পড়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যবিত্ত বাঙালির সংঘাত ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
১৯৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির আশাভঙ্গের বেদনা সমগ্র জাতিসত্তাকে নিক্ষেপ করে নিরাশার কালো অন্ধকারে। সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা উপন্যাসে রূপায়িত হয়েছে সমাজসত্তা বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির বিকার, আত্মসুখপরায়ণতা ও ভোগবাদী চেতনা। বাবর আলীর ক্লেদাক্ত ও বিকৃত জীবনচর্যার মূলে রয়েছে লিবিডোপ্রাণতা। অসংখ্য নারীর মধ্যে বাবর আলীর যৌনকামনার ভোগ প্রেমশূন্য। ভোগ-তৃপ্তি ও রিরংসার জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হলেই বাবর আলীর মধ্যে দেশভাগের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জন্মভূমি থেকে ছিন্ন হওয়ার স্মৃতির জাগরণ ঘটে। বাবর আলীর ছোট বোন হাসনু নিঃশেষিত হওয়ার দুঃখময় জগতে পরিভ্রমণ করে। খেলারাম খেলে যা উপন্যাসে মধ্যবিত্ত মানসের যে-স্বরূপ উন্মোচিত হয়, তা আধুনিক বাঙালির এক নতুন বৃত্তান্ত, যা আজো প্রাসঙ্গিক।
সৈয়দ শামসুল হকের নীল দংশন (১৯৮১) ও নিষিদ্ধ লোবান (১৯৮১) উপন্যাসদুটি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালি জাতিসত্তার সামগ্রিক জাগরণ নয়, বরং একটি খ-িত পরিচ্ছেদের শব্দরূপ। নীল দংশনে নীলকণ্ঠ যন্ত্রণার হলাহল ধারণ করতে হলো, কারণ সে বাঙালি; বাবা কাজী সাইফুল ইসলাম, ছেলে কাজী নজরুল ইসলাম। যুদ্ধ শুরু হলে জাফরগঞ্জে যাওয়ার পথে নজরুল ধৃত হয়। পাকিস্তানি সেনাদের কাছে দুঃসহ নির্যাতনের নজরুল ‘নজরুল’কে অস্বীকার করে না। সে ‘জয়বাংলা’র লোক, ভারতের অনুচর। এখানে দায়বোধের বিষয়টিই নজরুলের নীলকণ্ঠ দংশন-যন্ত্রণা। ছোট্ট পরিসরে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্যময় তত্ত্বটি শক্তিশালী শৈলীতে চিত্রিত হয়েছে।
নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাসে ঢাকা ছেড়ে বিলকিসের গ্রামে ফেরার পথে অনিশ্চয়তা, অবরুদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতার চালচিত্র ফুটে উঠেছে। ঔপন্যাসিক নিষিদ্ধ লোবানে সংগ্রাম আর বিজয়ের চিত্র না এঁকে পাকিস্তানি সৈন্যদের রিরংসাবৃত্তির উল্লাস অঙ্কনেই অধিক উৎসাহ দেখিয়েছেন, যা হয়ে উঠেছে সমসময়ের জীবন্ত দলিল। দ্বিতীয় দিনের কাহিনীতে (১৯৮৪) স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে এসেছে গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের কথা। উপন্যাসের নায়ক শিক্ষক তাহের মনে করেন – মুক্তিসংগ্রাম ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়নি। কারণ, স্বাধীন বাংলাদেশে এখনো অশুভশক্তির অন্ধকার থেকে গেছে। তাহেরের আত্মোপলব্ধিতে জ্বলে ওঠে প্রতিশোধের আকাক্সক্ষা –
– সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি, শেষ স্বাধীন হয়েছে বলেই দেশ থেকে এক লহমায় অশুভ শক্তিসমূহ অন্তর্হিত হয়নি; এখনো অস্ত্র ধারণ করবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সম্ভবত আগের চেয়ে, মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ের চেয়ে, এখনই প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি করে রয়েছে।
মৃগয়ায় কালক্ষেপ (১৯৮৬) উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের তীব্র ব্যঙ্গ। স্বদেশের অর্থে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে বিলাসী জীবনকে শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভুঁইফোড় মধ্যবিত্তের প্রতারণা-প্রবঞ্চনা, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কঠোর-বাস্তবতার চিত্র এঁকেছেন। প্রকাশিত হয়েছে পূর্ব-বাংলার নির্মম আর্থ-সামাজিক-রাজনীতির দিনলিপি। আয়না বিবির পালায় (১৯৮৬) গীতিকার কাঠামোতে কাহিনিকে বর্ণিত করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মানুষের গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা ও বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। তেমনি শহরও বস্তির পতিতাপল্লিসহ নানা অপরাধের মোকামে পরিণত। আয়নাবিবিরা প্রথাবদ্ধ নারীর যাবতীয় সংস্কার ও বিশ্বাস নিয়ে শহরে আসে। সেই আদিম সংস্কার থেকে ক্রমশ তাদের উত্তরণ ঘটে। মহুয়া পালার অনুসরণে উপন্যাসের কাহিনি বয়ান করেন সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। কবিতার সঙ্গে লোকজ চেতনা, লোকায়ত ভৌগোলিক ভাবনায় উপন্যাসটি – উপস্থাপনভঙ্গিতে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। অভিনব নির্মিত শৈলীতে বাংলা উপন্যাসের গতিপথ ভিন্নপথে যাত্রা করে। কথাশিল্পী সৈয়দ শামসুল হক বাংলা উপন্যাসের ভুবনে নিজস্ব সুর ও স্বরকে প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর সাত খ-ে প্রকাশিত উপন্যাসসমূহ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর মৃত্যু বাংলা সৃজনশীল সাহিত্যের বাগানে এক বৃন্তচ্যুত ফুল। বিচিত্র বিষয় আর আঙ্গিকের বৈচিত্র্যে বাংলা উপন্যাসকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির আয়না করে তুলেছেন তিনি, যেখানে লোকজ ও দেশজ ভাবনার মোড়কে বাঙালির ব্যর্থতা ও সাফল্য চিত্রিত হয়েছে। সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক সার্থক নাটক লিখেছেন। সেই নাটক মঞ্চসফলও বটে। বিশেষ করে কাব্যনাটক, অমর পঙ্ক্তিমালায় শিল্পোত্তীর্ণ হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬) ও নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২) দুটি কাব্যনাট্যে সংলাপ-ভাষা-শব্দ নির্মাণে পুরাণ-প্রতিমার সঙ্গে লোকায়ত ঐতিহ্য মিশে এক অনুপম শৈলীতে বিধৃত হয়েছে। বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চে সফল থিয়েটার হিসেবে দর্শক-সমাদৃত হয়েছে। শুধু সার্থক নাটক সৃষ্টি নয়, সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক মঞ্চ-পরিকল্পকও বটে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে সার্থক ও মঞ্চসফল নাটক লিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাব্যনাটকটি এ-প্রসঙ্গে বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের শেষে মুক্তিবাহিনি গ্রামে ফিরে এসে দেখে গ্রামের মাতবর পাকিস্তানের দালালি করছে। এমনকি নিজের কন্যাকে মাতবর পাকিস্তানি সেনা-অফিসারের হাতে তুলে দিয়েছে। ভীতসন্ত্রস্ত অসহায় মাতবরকন্যা মাতবরের সামনে আত্মহত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধারা মাতবরকে হত্যা করে। মর্মভেদী কান্নায় মুক্তিযুদ্ধের ভিন্ন মুখ উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাভাষার গতিময়তা, আঞ্চলিক শব্দের কুশলী প্রয়োগে যুদ্ধের জীবনবাস্তবতার কাব্যিক উচ্চারণে পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় বাংলাদেশের নাট্য-সাহিত্যে এক যুগান্তকারী, পালা বদলকারী নাটক হিসেবে চর্চিত হয়েছে।
১৯৭১-পরবর্তী কালসীমায় বাংলাদেশের নাটকের একটি অন্যতম প্রধান প্রবণতা ইতিহাস-ঐতিহ্য-পুরাণের নবমূল্যায়ন। সৈয়দ শামসুল হকের নাটকে যেমন নানা কৌণিক রূপায়ণ ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধের, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাত্তর সমাজবাস্তবতার। নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২) নাটকে দুশো বছরের পুরনো ইতিহাস থেকে তুলে এনেছেন রংপুরের বীর কৃষক-নেতা নূরলদীনকে। ১৭৮৩ সালে রংপুর-দিনাজপুরে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কৃষক নেতা নূরলদীনের সাহস আর সংগ্রামের উপাদানে সৃষ্টি করেছেন – নূরলদীনের সারাজীবন। নূরলদীনের ব্রিটিশবিরোধিতার সঙ্গে নাট্যকার অসামান্য নৈপুণ্য মিলিয়ে দিয়েছেন। ১৭৮৩ কিংবা ১৯৭১ সাল বাঙালির জাগরণের বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামী চেতনা উপস্থাপনের জন্য নূরলদীনের সারাজীবন কাব্যনাট্যটি কালোত্তীর্ণ সিদ্ধি লাভ করেছে। বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে প্রতিরোধ-পরাক্রম জীবন-মৃত্যুকে সামনে রেখে, নিজের ভূমিতে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সাহস দেখান নূরলদীন। –
এক নূরলদীন যদি চলি যায়,
হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।
… … …
এ দ্যাশে হামার বাড়ি উত্তরে না আছে হিমালয়
উয়ার মতন খাড়া হয় য্যান মানুষেরা হয়।
এ দ্যাশে হামার বাড়ি দক্ষিণেতে বংগপসাগর,
উয়ার মতন গর্জি ওঠে য্যান মানুষের স্বর।
এ দ্যাশে হামার বাড়ি পূর্ব দিকে ব্রহ্মপুত্র আছে,
উয়ার মতন ফির মানুষের রক্ত য্যান নাচে।
লোকনাট্যের সাংগীতিক রীতির অমিত সম্ভাবনাকে নাট্যকার ব্যবহার করেছেন নূরলদীনের সারাজীবন নাটকে। বাংলা নাটকের উদ্ভব পাশ্চাত্য নাটক থেকে নয়; বরং হাজার বছরের দেশজ ঐতিহ্য থেকে – এই বিশ্বাস নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হককে নাটকে নতুন ফর্ম নিরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেছে। নাট্যকার শামসুল হক মনে করেন, লোকায়ত কাব্যনাট্যের আঙ্গিকেই রচিত হতে পারে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ মহানাটক। সেই শ্রমসাধ্য পরীক্ষায় সফল নাট্যকার তিনি। বাংলাদেশের নাটকে নতুন মাত্রায় শুধু নয়, বাংলা নাটকের নতুন ভুবন সৃষ্টির আলোয় তিনি স্মরণযোগ্য। নূরলদীন কালসীমা অতিক্রম করে বাঙালির সম্মিলিত শক্তি চেতনার প্রতীকে পরিণত।
সব্যসাচী সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক বাংলা ভাষায়, সাহিত্যের সর্বস্তরে সফলগামী যাত্রিক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের সাহিত্য-আলোচনায় তিনি অপরিহার্য। তাঁর বহুমাত্রিক সাহিত্যসম্ভার উভয় বাংলার পাঠকবর্গে সমৃদ্ধ হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে তাঁর মতো বহুমুখী প্রতিভার শক্তিশালী লেখক, একমাত্র তিনিই। তাঁর মৃত্যুতে বাঙালি পাঠক বেদনার নদীতে বহমান।

তথ্যসহায়ক গ্রন্থতালিকা
* বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (আধুনিক যুগ) – আজহার ইসলাম, অনন্যা, চতুর্থ সংস্করণ, ঢাকা, ২০০৯।
* সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও বাংলা নাটক, গোলাম মুরশিদ, ঢাকা, ১৯৮৪।
* বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, মুহম্মদ ইদরিস আলী, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৮৫।
* বাংলাদেশের সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত, শহীদ ইকবাল, কথা প্রকাশ, ঢাকা, ২০১৬।
* বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি, বিশ্বজিৎ ঘোষ, সোনার বাংলা প্রকাশন, কলকাতা, ২০১৪।
* সমকালীন বাংলা সাহিত্য, খান সারওয়ার মুরশিদ, ঢাকা ১৯৮৯।
* বাংলা নাটক : উৎস ও ধারা, নীলিমা ইব্রাহিম, ঢাকা ১৯৭২।
* বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ), সৈয়দ আলী আহসান ঢাকা, ষষ্ঠ সংস্করণ ১৯৮৩।
* পূর্ব বাংলার রাজনীতি সংস্কৃতি ও কবিতা, সাঈদ-উর-রহমান, ঢাকা ১৯৮৩।
* উত্তরাধিকার (সম্পাদক মযহারুল ইসলাম) শহীদ দিবস সংখ্যা, ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
* বইয়ের খবর (সম্পাদক বিজলীপ্রভা সাহা), দ্বিতীয় বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, জানুয়ারি-মার্চ ১৯৮০, ঢাকা।
* আধুনিক বাংলা থিয়েটার (শিল্প ও রাজনীতি), বিপ্লব বালা, সোনার বাংলা প্রকাশন, কলকাতা, ২০১৫।
* নাট্যপরিক্রমা (চার দশকের বাংলাদেশ), রামেন্দু মজুমদার- সম্পাদিত, নবযুগ প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১৩।
* বাংলাদেশের পঁচিশ বছরের সাহিত্য (১৯৭২-৯৭), সাঈদ-উর রহমান, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০০৩। 

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার