বেল্লিসসিমো

লেখক: মাহবুব রেজা

তিন নম্বর বিয়ারটা শেষ করে বুলু বেশ ভালো করে উপলব্ধি করলো যে, সে ঝুলবারান্দায় চিৎপাত হয়ে শুয়ে আছে। শুয়ে থেকে বুলু টের পায় জল বিয়োগের তীব্র চাপ তার তলপেটে দলা পাকিয়ে উঠছে, ব্যথায় শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছে। তারপরও বুলু চেপে রাখে ব্যথাটা। ওর নিজের কাছে এক রুমের বাড়ির সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হলো এই বারান্দা। রোজা যেদিন বুলুকে বাড়িটা দেখাতে নিয়ে এলো, সেদিন এই বারান্দা দেখে বুলুর মন ভালো হয়ে গিয়েছিল। ঝুলবারান্দাটা দেখেই বুলু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। একচিলতে বারান্দা। মসৃণ মেঝে। বারান্দার তিনদিকে বরফি কাটা গ্রিল – তাও পাথরের বারান্দা থেকে পেছনের খোলা প্রান্তর পুরোটাই দেখা যায়। আর কী বাতাস!

বারান্দাটা দেখে বুলু ‘বেল্লিসসিমো’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠেছিল। সত্যিই দারুণ!

পুরনোকালের দু-ইউনিটের দোতলা বাড়ি।  বাড়িটা রাস্তার পাশে। দুধারে অল্পবিস্তর ঘরবাড়ি আর চারদিকটা ফাঁকা এলাকা। খোলা প্রান্তরে সবজির চাষ হয়। ভুট্টার ক্ষেত। গমক্ষেত। দিগন্তজোড়া জায়গা নিয়ে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। সান দোনাতো শহরের এই দিকটা এখনো পুরনো ঢঙেরই রয়ে গেছে। না গ্রাম, না শহরের মাঝামাঝি একটা জায়গায় রয়ে গেছে এই এলাকাটা। ইতালির বিভিন্ন শহরের আশপাশে এ-ধরনের এলাকা এখনো চোখে পড়ে। সান দোনাতো সেদিক থেকে পিছিয়ে নেই। এখানকার মানুষজন এখনো পিছিয়ে আছে। ছোট ছোট পিজার দোকান। হাতেগোনা কফির দোকান। সিগারেটের দোকান। সাপ্তাহিক হাটবাজারে স্থানীয় মানুষজন নিজেদের ক্ষেত-খামারের উৎপাদিত জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হয়। বিক্রি করে।

বুলু সপ্তাহে একদিন বাজারহাট করে। মানে ঘরের প্রয়োজনীয় সবকিছু কেনে। কাছেই একটা আলিমেন্টারি শপ আছে। এক ইতালিয়ান বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সেই আলিমেন্টারি চালায়। এই দোকানে কম দামে সবকিছু পাওয়া যায়। সপ্তাহের কেনাকাটার সময় বুলু বেশি করে বিয়ার কিনে আনে। ওর পছন্দের বিয়ার বেকস। কখনো কখনো দু-চার ডজনের কয়েক কার্টন বেকস একসঙ্গে কিনে ফেলে বুলু। বিয়ারের জন্য সপ্তাহে দু-তিনবার বুলুকে এখানে আসতে হয়।

একদিন বৃদ্ধ মহিলাটি বুলুকে একসঙ্গে অতগুলো বিয়ার কিনতে দেখে জিজ্ঞেস করে বসলো, তুই কি পানির বদলে বিয়ার খাস!

বৃদ্ধার কথায় বুলু আর কী জবাব দেবে? সে আলতো করে মুখে একটা ম্লান হাসি এনে জবাব দিলো, চেষ্টা করে দেখি পারি কিনা। তুই আমার জন্য দোয়া করিস।

বুলুর কথায় বৃদ্ধা অবাক হয়। হাসে।

 

সন্ধ্যা নেমে গেছে অনেকক্ষণ হয়। একটা ঠান্ডা হাওয়া বুলুর গায়ে এসে তাকে জানান দিচ্ছে, সিনোরে বুলু, শীত এসে যাচ্ছে। আতেমেত্মা (সাবধান)। বেশ ঠান্ডা।

বারান্দায় শুয়ে থেকে বুলু টের পায়, তার ঘুম আসছে না। পরপর তিনটি বিয়ার খাওয়ার ফলে তার পেট ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। তাকে এখুনি বাথরুমে গিয়ে জলবিয়োগ করতে হবে। জলবিয়োগের তীব্র চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে হয় বুলুকে। সে কোনোমতে  শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ায়। জলবিয়োগের চাপ অসহনীয় হয়ে উঠলে কোমরে এক ধরনের চিনচিনে ব্যথা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ওঠে।

বুলু ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে। পুরো ঘরে অন্ধকার কিলবিল করছে। দরজার সঙ্গেই সুইচ। বুলু আলো জ্বেলে দিলো। বড় একটা ঘর, তাতে সটান শুয়ে থাকে লম্বা এক সোফা। একপাশে ছোট কাচের গোল টেবিল। টেবিলে কাচের অ্যাশট্রে। টেবিলের সামনে একটু খালি জায়গা। ঘরের দেয়ালজুড়ে মনিকা বেল­yচির একটা বড় সাইজের সাদা-কালো বুকখোলা ছবি। মহিলার বুকজোড়াও মাশাল্লা দেখলে শুধু দেখতেই ইচ্ছে করে। দেয়ালের সঙ্গে একটা ছোট কাঠের ওয়ার্ডরোব তার ওপরে একটা ফ্ল্যাট টিভি। টিভির পাশে মেঝেতে একটা ম্যাট্রেস। তার ওপর একটা ফুলতোলা চাদর।

বুলু এই ঘরটাকে ড্রইংরুম বানিয়েছে। রোজাই তাকে এই বুদ্ধিটা দিয়ে বলেছে, এই বড় ঘরটাকে ড্রইংরুম কাম গেস্টরুম আর ভেতরের ছোট রুমটাকে বেডরুম বানিয়ে ফেল। বান্ধবীদের পটিয়ে-পাটিয়ে ধরে এনে ফুর্তি-ফার্তি করবি আর ভেতরের ঘরে আরামসে  ঘুমাবি।

ড্রইং কাম গেস্টরুম মানে!

তোমার গেস্ট আন্দ্রেয়া যখন আসবে, তখন তুমি তাকে কই রাখবা?

আন্দ্রেয়া!

বুলু ভারি বিস্ময় মানে, আন্দ্রেয়া! সে আবার কে?

যখন আন্দ্রেয়া আসবে তখন বুঝবা – রোজার অফুরান হাসি।

রোজা পিস্নজ আমার সঙ্গে রসিকতা করিস না। আমি এসব পছন্দ করি না।

আন্দ্রেয়াকে দেখলে তোমার মন ভালো হয়ে যাবে। ও খুব ভালো মেয়ে।

বুলু যাকে কখনো দেখেনি তাকে দেখলে ওর মন ভালো হয়ে যাবে! এটা কেমন ধরনের কথা?

আন্দ্রেয়াকে দেখলে আমার মন ভালো হয়ে যাবে!

এবার বুলুর সত্যি সত্যি হাসি পায়।

রোজা ওর মুখে রহস্য ঝুলিয়ে রাখে, আন্দ্রেয়া বেশ সুন্দরী। সিসিলির রাজকন্যা।

তো!

ও খুব লক্ষ্মী মেয়ে।

তো!

ওর ফিগারও হেভি।

তো!

ও খুব উত্তেজকও বটে – বলে রোজা ওর মুখে রহস্যটা ধরে রাখল আগের মতোই।

ওর ফিগার ভালো, ওর উত্তেজনা অনেক বেশি, তাতে আমার কী হইছে।

বুলু এবার রেগে যায়।

আন্দ্রেয়া আলবের্তোর কাজিন। চাচাতো বোন। আন্দ্রেয়া এক ইহুদি জার্মান ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়েটা বেশিদিন টেকেনি। দু-বছর সংসার করার পর ছেলেটা আন্দ্রেয়াকে ছেড়ে চলে গেছে। তবে যাওয়ার আগে আন্দ্রেয়াকে সে খালি হাতে রেখে যায়নি। আন্দ্রেয়ার এক বছরের একটা কন্যা আছে। আন্দ্রেয়া ওর এক বান্ধবীর সঙ্গে একা থাকে।

বুলু যত রেগে যায়, রোজার হাসির মাত্রাও তত বাড়ে।

আন্দ্রেয়া তোকে আমার বারে একদিন দেখেছে। তোকে নাকি ওর খুব ভালো লেগেছে।

আমাকে দেখেছে? তাহলে তুমি ওর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিলে না কেন?

আমি পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আন্দ্রেয়াই মানা করেছে।

মানা করেছে!

হ্যাঁ, রোজা মাথা নাড়ায়।

কেন?

আন্দ্রেয়া বলেছে বুলুর সঙ্গে এখন নয়, পরে পরিচিত হব।

পরে কেন?

সেদিন তুমি অসম্ভব রকমের ম্লান ছিলে।

আমি কবে সজীব ছিলাম! আমি তো সবসময় ম্লানই থাকি।

বুলুর কথায় রোজা আবারো হাসে। বোঝা যায় সে বুলুর কথায় আনন্দ পেয়েছে।

তুমি যে সবসময় ম্লান থাকো এটা ঠিক না।

কেন ঠিক না?

তুমি কী হতাশাবাদী?

কেন?

এটাও বোঝো না?

না, আমি এসব বুঝি না। আর বুঝতেও চাই না।

সেটা তোমার ব্যাপার কিন্তু-

কিন্তু আবার কী? থামলে কেন?

না, এই যে তুমি সবসময় মুখ গম্ভীর করে রাখো, ম্লান করে রাখো এটা তোমার জন্য যেমন খারাপ, তোমার পাশে যে থাকবে তার জন্যও খারাপ।

আমার পাশে যে থাকবে তার জন্যও খারাপ মানে!

তোমার সম্পর্কে মানুষের ইমপ্রেশন খারাপ হয়ে যায়।

হোক খারাপ তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।

এই দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে কিছু জিনিস মেনে চলতে হয়।

আমি মানতে পারবো না।

মানুষের ভাবনাকে তুমি মূল্য দিবা না?

আমি কি টাকা-পয়সা দিয়ে এসব কিনতে বসেছি? আমার মুখ দেখে কে কী ভাবলো না ভাবলো তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।

বুলুর কথায় রোজা আর কথা বাড়ায় না। বুলুকে রোজার বেশ পছন্দ। সারাক্ষণই বুলু নীরব থাকে। নিজের মধ্যে মগ্ন থাকার ধ্যান করে। ওকে দেখলে যে কেউ ভাববে লোকটা বুঝি দার্শনিক। ভাবুক। প্রয়োজন ছাড়া বুলু কারো সঙ্গে কথা বলে না। আর বুলু যখন কারো সঙ্গে কথা বলে তখন মনে হয় পাল্লা-পাথর দিয়ে খুব মেপে মেপে কথা বলে। বেশ গম্ভীর। ভারী গলায় কথা বলে। বুলুর এসব বিষয় রোজার ভালো লাগে। অথচ আলবের্তো সারাক্ষণ ওর সঙ্গে বকবক করবে। কারণে-অকারণে ঝগড়া করবে। আর মেয়েলোক দেখলে কাঙালের মতো চেটেপুটে দেখবে। রোজাকে ঘন আদরে ভরিয়ে দেওয়ার সময় মাঝেমধ্যে আলবের্তো মুখ ফসকে বলে ফেলে, রোজা, আজ মেট্রো থেকে ওঠার সময় একটা সেরকম মেয়ে দেখলাম, দেখে আমার মাথা ঘুরে গেল। যা খাসা না!

ধরে ঘরে নিয়ে আসতে পারলে না!

তুমি যে কী বলো!

আলবের্তো প্রায় সময়ই এ-ধরনের কথা বলে। ও যখন এ-ধরনের কথা বলে, তখন রোজার গা ঘিনঘিন করে। সে তখন চুপ থাকে।

 

দুই

বাথরুমে ঢুকে কোনোমতে জিপার খুলে কমোড বরাবর দাঁড়িয়ে বুলু টের পায় জলবিয়োগেও আছে আনন্দ। প্রচুর বিয়ার খাওয়ার ফলে পেট ফুলে ঢোল হয়ে আছে। অনেকক্ষণ ধরে জলবিয়োগের কাজটি করলো সে। জলবিয়োগের কাজটি অনেকক্ষণ চেপে রাখার ফলে জননতন্ত্রে এক ধরনের জ্বলুনি বোধহয় বুলুর। বাথরুমের দরজাটা হাঁ করে খোলা। টিভিঘরের আলোটা পেছন থেকে বুলুর শরীরে আড়াআড়িভাবে পড়ায় বাথরুমের দেয়ালে ওর নিজেরই অদ্ভুত একটা অবয়ব তৈরি হয়। বুলু সেটা দেখে। বাথরুম থেকে চলে আসার সময় বুলু কী মনে করে পেছন ফিরে তাকায়। আর তখন কে যে বুলুকে বলে, কী মিয়া, তুমি কি হাসন কারে কয় ভুইল্যা গেছো!

বুলু বোকার মতো হাসে। হাসতে হাসতে বুলু বিড়বিড় করে উত্তর করে, আমিও এক চ্যা… বা… আবদুল্লাহ, আমার মুখে হাসি থাকলেই কী আর না থাকলেই কী – বলে শব্দ করে হাসলো বুলু। তারপর একটু থেমে বললো, হাসলে কি টেকাটুকা দিবানি মিয়া?

হাসিটা ধরে রাখলো বুলু। পেছনে আবার ভালো করে তাকালো সে। এরপর বারান্দায় ফিরে গেল। বারান্দায় আসার সময় ফ্রিজ থেকে দুটো বিয়ার সঙ্গে করে নিয়ে গেল। মাথাটা ধরে আছে তার।

 

সন্ধ্যার অন্ধকারে তলিয়ে গেছে চারপাশ। বেশ কিছু দূরে নতুন বাড়িঘর তৈরির কাজ হচ্ছে। সারাদিন ক্লান্তিকর আওয়াজ লেগেই থাকে। সন্ধ্যার আগে আগে কাজ শেষ হয়। বুলুদের এদিকটায় এখনো এসব শুরু হয়নি। তবে এখানকার বাড়িঘর বেশ পুরনো। পঞ্চাশ-ষাট বছরের পুরনো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কাজের সন্ধানে এখানকার মানুষ শহরমুখো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বেকারত্ব বেড়ে গেলে অনেকে ঘরবাড়ি বেচে দিয়ে ইতালির বাইরে গিয়েও থিতু হয়েছে।

বুলু যে-বাড়িটার দোতলায় থাকে তার মালিক এক ইহুদির কাছে বাড়িটা বিক্রি করে সুইজারল্যান্ডে চলে গেছে। ফ্রাংকো ইহুদি হলেও ধর্ম-টর্ম খুব একটা মানে না। ফ্রাংকোর মিলান শহরে বেশ কয়েকটা বার আর কফিশপ রয়েছে। সে সান দোনাতোতে খুব একটা আসে না। ফ্রাংকো ওর বারের রাশিয়ান কর্মচারী লুসিয়ানাকে কম ভাড়ায় এখানে থাকতে দিয়েছে। কেয়ারটেকার হিসেবে কাউকে রাখলেও ফ্রাংকোকে বেতন দিতে হতো। তার চেয়ে নিজের কর্মচারী রাখলে মন্দ কী! মাসে-দুমাসে ইচ্ছা হলো তো লুসিয়ানার সঙ্গে সময় কাটানো গেল বিনা পয়সায়। বাড়িটা দেখাও হলো। ফ্রাংকো ব্যবসাটা বেশ ভালো বোঝে। মধ্যবয়সী লুসিয়ানা দেখতে আহামরি গোছের সুন্দরী না হলেও একেবারে ফেলে দেওয়া যায় না। শরীর-স্বাস্থ্যে লুসিয়ানা যেন বর্ষাকালে নতুন পানির সঙ্গে বেড়ে ওঠা ধনচে গাছ। লকলকে তার আগাপাশতলা।

মাঝেমধ্যে লুসিয়ানার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় বুলুর।

ধবল দুধের মতো গায়ের রং লুসিয়ানার।

বুলুকে দেখে মুখ টিপে হাসে লুসিয়ানা।

দেখা হলে কমেস্তাই বুলু (কেমন আছো বুলু), কিংবা চাউ বেল্লো (বিদায় বন্ধু) বলে লুসিয়ানা।

লুসিয়ানাকে নিয়ে একতলা-দোতলা মিলিয়ে এ-বাড়িতে মোট তিনজন ভাড়াটিয়া।

একতলায় দুই ইউনিটে থাকে সোমালিয়ার একটি পরিবার। স্বামী-স্ত্রী দুজনে থাকে। তরিতরকারির ব্যবসা করে। স্বামী-স্ত্রী সকালবেলা বড় একটা গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায় ব্যবসায়। তরিতরকারি বিক্রি করে সন্ধ্যার পর বাসায় ফেরে। কখনো কখনো সন্ধ্যার পর দুজন সেজেগুজে বাইরে যায়। এরা যে এ-বাড়িতে ভাড়া থাকে সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই।

বুলুর সঙ্গে একদিন দেখা হয়ে গিয়েছিল সোমালিয়ান মহিলার। অসম্ভব কুচকুচে কালো। তবে মহিলার শরীর-স্বাস্থ্য বেশ পেটানো। মহিলা যখন সারাশরীর দুলিয়ে হাঁটে তখন মনে হয় একটা মাংসের পাহাড় যেন গড়িয়ে চলেছে। সারাশরীরে ঢোলাঢালা কাপড়ের জোববা। মাথায় একটা রঙিন স্কার্ফ টাইট করে বাঁধা। মহিলাকে দেখে এস এম সুলতানের আঁকা দেহাতি মহিলাদের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল বুলুর। সোমালিয়ান মহিলার হাত-পা, মুখ, বুক, কোমর, পশ্চাদ্দেশ সব যেন সুলতানের হাতে তৈরি!

বুলুকে দেখে সোমালিয়ান মহিলা কিছু বলেনি। শুধু তাকিয়ে দেখেছে ওকে।

কী বলবে! অমন রোগা-পটকা শরীরের বুলুকে হয়তো মহিলা পাত্তাই দেয়নি। তবু চোখের সামনে পড়ে যাওয়া বুলুকে ভদ্রতা করে জিজ্ঞেসও করেনি, কমেস্তাই।

অস্ট্রেলিয়ান গাই গরুর মতো নাদুস-নুদুস সোমালিয়ান মহিলা বুলুকে কমেস্তাই বলেনি তাতে বুলুর কি কোনো বা… ছেঁড়া গেছে! মোটেই না।

আচ্ছা লুসিয়ানা কিংবা সোমালিয়ান মহিলা যদি কখনো হুট করে রাত-বিরাতে বুলুর ঘরে ঢুকে পড়ে তখন সে কী করবে?

সে তখন দুজন মহিলাকে কি সামাল দিতে পারবে!

বুলু ভাবে, লুসিয়ানাকে কষ্ট-মষ্ট করে কোনোমতে সামাল দিতে পারলেও সোমালিয়ান মহিলার সঙ্গে বুলু কখনোই পেরে উঠবে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত।

আচ্ছা, এ-ধরনের চিন্তা কেন বুলুর মধ্যে উদয় হয়। সে নিজেও এর কারণ জানে না।

বুলু রাতের বারান্দায় শুয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে বুলু বারান্দার মেঝে মোছমাছ করে। এই জায়গা ওর খুব প্রিয়।

এসব কী আবোল-তাবোল ভাবছে বুলু!

আরেকটা বিয়ার পুরো খেয়ে বুলু টের পায় ওর পিঠে যেন কেউ দুটো পাখা জুড়ে দিয়েছে। ওর সারাশরীর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। বারান্দা থেকে নিচের গমের ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে উড়ে বুলু যে কোথায় যাচ্ছে!

বুলু ওর বাড়ির চারপাশে ফড়িংয়ের মতো উড়ে বেড়ালো।

কতক্ষণ উড়ে বেড়ালো!

চারদিকটা বেশ খোলামেলা।

অনেকক্ষণ ওড়াউড়ির পর বুলু ক্লান্ত হয়ে গেল। জানালা খোলা পেয়ে ঢুকে পড়লো শোবার ঘরে। বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে এক ঘুমে রাতটা পার করে দিলো সে।

 

ঘুমের ভেতর বুলু কি বুঝতে পেরেছিল দরজা খোলা পেয়ে লুসিয়ানা ঢুকে পড়েছিল ওর ঘরে! r

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার

নতুন কলম

শতবর্ষী

আহমাদ ইশতিয়াক শতবর্ষী গগন শিরিষ গাছের তলে রোদ ঢাকা ছাতির নিচে উবু দৃষ্টিতে নিথর পাথরের মতো চলন্ত দুটো হাত...