সংগীত ও সমঝদার

লেখক:

আবদুশ শাকুর
আমার মতে, ‘শর্তহীন’ সংগীত শব্দটি কেবল মৌলিক সংগীতই বোঝায় – তাকে মার্গসংগীত বলুন, শাস্ত্রীয়সংগীত বলুন, উচ্চাঙ্গসংগীত বলুন, রাগসংগীত বলুন, আর যা-ই বলুন। শৈলীপ্রধান গান, রাগপ্রধান গান, ধর্মপ্রধান গান, রঙ্গপ্রধান গান, লোকগান, পপগান ইত্যাদিকে বলা যায় ‘শর্তযুক্ত’ সংগীত বা যৌগিক সংগীত। এ ধারণার প্রেক্ষিতেই বর্তমান আলোচনাটি চলবে।
প্রাচীন কালে দেবমন্দিরে নিবেদিত হতো ধর্মসংগীত। মধ্যযুগের রাজদরবারে চর্চিত হতো রাগসংগীত। নব্যযুগে এই চারুশিল্পটি দরবার থেকে চলে এলো সরকারে। শিল্পচর্চায় অনুদার সরকারের অপর্যাপ্ত চর্যায় পুষ্টিহীন সংগীতের দিকে কালে কালে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু প্রাইভেট কর্পোরেট হাউস এবং আসর বসিয়ে চলেছে প্রশস্ত অডিটরিয়াম থেকে মুক্তাঙ্গনের প্যান্ডেলে, অবশেষে সুবিশাল স্টেডিয়ামে। এতে করে সবচেয়ে গণতান্ত্রিক চারুশিল্প হিসেবে সংগীতের জনগণতন্ত্রায়ন হলো বটে, তবে গানের শ্রোতা এবং গায়কের গুণগত পরিবর্তনও ঘটে গেল এই প্রক্রিয়ায়। ঘটে গেল গায়কের ‘আদাকারি’ এবং শ্রোতার ‘গুণবিচারি’র প্রধান দুটি ক্ষেত্রেই।
দেবমন্দির থেকে কলামন্দির পর্যন্ত ছয় শতাধিক বৎসরের দীর্ঘ যাত্রাপথে শাস্ত্রীয়সংগীত লালিত হয়েছে প্রধানত তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে – দরবার, সমঝদার আর সরকার। সমঝদারের পর্বটিকে দরবারি এবং সরকারি পর্ব-দুটির মধ্যবর্তী কিংবা সন্ধিক্ষণিক পর্বও বলা চলে। মোটামুটি মধ্য-ঊনবিংশ শতক থেকে মধ্য-বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত শতবর্ষকাল জুড়ে ব্যাপ্ত ছিল হিন্দুস্তানি সংগীতের ওই স্বর্ণপর্বটি, কলকাতা ছিল যার রাজধানী।
সংগীত বিষয়ে দরবারের সম্পর্ক পৃষ্ঠপোষকতার হলে, সরকারের ভূমিকা কর্তব্যপরায়ণতার। দরবারের সমবেত সভাসদ সকলেই সংগীতের প্রস্তুত শ্রোতা ছিলেন না। সরকারের আমন্ত্রিত পারিষদ তো সাধারণত সংগীতের শ্রোতাই নন, ক্ষমতাপ্রার্থী দলগুলোর হোতা – রাজনীতিক, কি আর্থনীতিক। কিন্তু বর্ণিত দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যবর্তী তৃতীয় প্রতিষ্ঠানস্বরূপ সমঝদারের ঘরে আয়োজিত সংগীতাসরে আমন্ত্রকসহ সকল শ্রোতাই থাকতেন সংগীতগুণী কিংবা সংগীতপ্রেমী। ফলে সেই আসরে শিল্পীর সৃজন চলতো শুদ্ধ মেজাজে এবং সংগীত সৃষ্ট হতো পূর্ণ মহিমায়।
প্রকৃতপক্ষে তদানীন্তন কলকাতার সম্পন্ন সমঝদারের সংগীতগৃহ ছিল সংগীতমন্দিরের মতোই, যেখানে উচ্চাঙ্গসংগীতের পুরোহিতের নিত্য আনাগোনা থাকতো আর সকাল-সন্ধ্যা চলতো সুরের দেবীর নিয়মিত অর্চনা। এমনি সংগীতময় গৃহের ঐতিহ্যে কলকাতা নগরীর তুলনা নেই উপমহাদেশে। একসে-এক বিখ্যাত এই সব গান্ধর্বালয় বিভিন্ন লেখায় উল্লিখিত হয় বিভিন্ন ভাষায় – যেমন মিউজিক-হাউস, গানের বাড়ি ইত্যাদি।
এসব বাড়ির মালিকগণ প্রথমত নিজেরা তালিম নেওয়ার জন্য মুজরা বা সম্মানীর বিনিময়ে কিংবা মাসিক বৃত্তি দিয়ে জীবন্ত কিংবদন্তিরূপী উস্তাদদের উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আমন্ত্রণ করে এনে নিজ নিজ গৃহে আবাসিক হিসেবে রাখতেন। তাঁদের কেন্দ্র করে এঁদের ঘরে ঘরোয়া আসর বসতো সর্বস্তরের সংগীতগুণী সমাবেশে। এই সুবাদে এসব পরিবারের লোকজন সংগীতমহলে গৃহীত হতেন শাস্ত্রীয়সংগীতের অভিভাবকের ভূমিকায়।
কেউ কেউ গুরুমুখী বিদ্যাটিতে মাঝারি মানের খ্যাতিও পেতেন, ঘরানাদার উস্তাদের তত্ত্বাবধানে রেওয়াজের প্রক্রিয়ায়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কঠোর সাধনার পথে বিপুল শ্রম কবুল করে বড় মাপের গায়ক-বাদকরূপে গড়ে না-উঠে, সংগীতের সমঝদারি অর্জনকারী এসব ধনী গৃহের গৃহকর্তাগণ যথা অর্থেই সংগীতের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠতেন। সেটাও সংগীতের প্রতি তাঁদের অপ্রতিরোধ্য প্রেমের কারণেই। সে যা-ই হোক, তাঁদের পোষকতায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেত মৌলিক সংগীত।
এই শ্রেণীর সমঝদার বিত্তবানদের গৃহে পূজ্যপাদ আবাসিক হবার আশায় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গায়ক-বাদকগণের আগমন ঘটতো কলকাতায়। এর ফলে আবাসিক উস্তাদ পেতেন অবাধ সাধনার সুযোগ আর কলকাতা পেতো অমূল্য শিক্ষা ও শ্র“তির সুযোগ। এই সূত্রে লাহোর, বারাণসী, আগ্রা, রামপুর, জয়পুর, বরোদা, ইন্দোর, ভূপালের মতো মহান গায়ক-বাদক ততো তৈরি করতে অবশ্য পারেনি কলকাতা, তবে বড়মাপের শ্রোতা তৈরি করেছে দেদার।
কথাটা বলা হলো, সেখানে এসে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাওয়া ইমদাদ খাঁ-হাফিজ আলী খাঁ সাহেবদের মতো পশ্চিমে-ঘরানাদারদের বাদ দিয়ে। তবে তাঁদেরই মাপের সমঝদার শ্রোতা এমনই প্রস্তুত করতে পেরেছে, যেমনটি সমসময়ের ভারতবর্ষের আর কোনো শহরই পারেনি। এবং এজন্যেই পশ্চিমের মহাগুণিজনও পূর্বের এই শহরটির স্বীকৃতিকে নিজের কৃতির চূড়ান্ত অর্জন জ্ঞান করতেন।
উচ্চাঙ্গসংগীতের বিচার-বিশ্লেষণ ও রসোপলব্ধিতে পারঙ্গম শ্রোতা হিসাবে আমন্ত্রিত পেশাদার গায়কের অপরিসীম কৃতিত্ব ও অ্যামেচার নবিশের গভীর সমঝদারিত্ব এসব আসরকে করে তুলতো অবিস্মরণীয়রকম রোমাঞ্চকর। শতবর্ষব্যাপী কলকাতার রাগসংগীতচর্চার এই একক খ্যাতি বিভিন্ন রাজ্যের নানান ঘরানার মহত্তম গায়ক-বাদকদের টেনে নিয়ে আসতো তদানীন্তন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী এবং ভারতবর্ষের অদ্বিতীয় সংগীতপ্রেমী সেই রাজধানী শহরটিতে।
সমগ্র দেশের দিকপাল শিল্পীদের সংগীত শুনে স্থানীয় শ্রোতাশিল্পীদের পরিণত সংগীতবোদ্ধা হয়ে ওঠার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল উপমহাদেশের এই প্রশাসনকেন্দ্রটি। দরবারি পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে বিত্তবান সংগীতরসিকের আন্তরিক সংগীতচর্চার হাত ধরে নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীদের সঙ্গে একনিষ্ঠচিত্ত শ্রোতৃগোষ্ঠীর সংযোগ সম্ভব হয়েছিল এখানে, শিল্পীকুল পেয়েছিল আত্মপ্রকাশ এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার বিরাট একটি কেন্দ্র।
কেউ কোনো সূত্র ধরে সুযোগ করে সংগীতের কোনো দিকপালকে কলকাতায় নিয়ে এলো, অমনি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে তৈরি শ্রোতা-শিল্পীর দলটি ছোটাছুটি করে খবরটি পৌঁছিয়ে দিলো বিত্তবানদের বিভিন্ন জলসাঘরে কি সংগীতগৃহে। তাঁরাও আসরের ব্যবস্থা করলেন একের পর এক, উদার হস্তে যথাযোগ্য উপঢৌকন সহযোগে। জমা হতে লাগল অবিস্মরণীয় স্মৃতির পর স্মৃতি, সমঝদার শ্রোতার অন্তরের অতলে। আসরে কখনো হলো শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, কখনো বড় হলো ঘরানার অভিমান। কিন্তু সবকিছুকে তুচ্ছ করে বেড়ে চলল শাস্ত্রীয়সংগীতে কলকাতার সমঝদারির গৌরব।
হারমোনিয়ম-জাদুকর, ‘সুঘরপিয়া’ ভনিতায় ঠুমরি রচয়িতা এবং ঠুমরিগুরু, গোয়ালিয়র রাজবংশের গণপৎ রাও ওরফে ‘ভাইয়া সাহেব’ (১৮৫২-১৯২০)-এর শিষ্য বিশিষ্ট হারমোনিয়মশিল্পী শ্যামলাল ক্ষেত্রীর (১৮৬০-১৯২৮) ১০১ নম্বর হ্যারিসন রোডের দোতলার বৈঠকখানাটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী এক মাইফেলের  আস্তানা। এটি ছিল গুণী শিল্পীদের মিলনক্ষেত্র। অমিয়নাথ সান্যাল (১৮৯৫-১৯৭৮) লিখেছেন, ‘গান কখন হবে, কিছু ঠিক নেই। অন্তরঙ্গদল রাত্রি আটটার মধ্যেই খুঁটি গেড়ে বসতেন। গুরুজীর বৈঠক যেন একটা ‘হট্হাউস’; গুণী আর গুণমুগ্ধ লোকেরা এসে তাপ সঞ্চয় করে নিতেন নানারকমের আশা-আকাক্সক্ষার মধ্যে, নানারকমের জল্পনা-কল্পনা করে।’
এখানকার আসরগুলি অন্যান্য আসর থেকে ভিন্ন ছিল, ক্রিয়াসিদ্ধ সংগীতশিল্পের উভয় দিকের সমান চর্চার জন্য – ক্রিয়াত্মক উপস্থাপনা এবং তত্ত্বীয় আলোচনা। অকৃতদার এবং ব্রহ্মচারী এই গৃহকর্তার দোতালার ফরাশ-বিছানো ঘরটিতে প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় মহ্ফিল বসতো। সেখানে প্রায়শই মধ্যমণি হয়ে থাকতেন বদল খাঁ সাহেব। তাঁকে কেন্দ্র করে আসরে আসতেন ভাইয়া সাহেব গণপৎ রাও, ইমদাদ খাঁ, আলাউদ্দিন খাঁ, মজিদ খাঁ, হাফিজ আলী খাঁ, মুশতাক হোসেন খাঁ, সাজ্জাদ হোসেন, মির্জা সাহেব, ফিদা হুসেন, মৌজুদ্দীন খাঁ, বশির খাঁ, বিশ্বনাথ রাও, বীরু মিশ্র, রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী, গিরিজাশঙ্কর প্রমুখ।
শ্যামলালজীর শিষ্যত্বের সূত্রে আসতেন গহরজান, আগ্রাওয়ালী মালকাজানও। একদিন এসেছিলেন ফৈয়াজ খাঁ সাহেবও, তাঁর শিষ্যা এবং প্রিয়পাত্রী এই আগ্রাওয়ালীর সঙ্গে। সে আসরে এসে পড়েছিলেন গহরজানও (মজলিসে উপস্থিত অমিয়নাথ সে-আসরটির অবিস্মরণীয় বিবরণ দিয়েছেন তাঁর স্মৃতির অতলে গ্রন্থে)। নিত্য আসতেন তন্নুলালজীর মতো উচ্চাঙ্গসংগীতের উচ্চগুণগ্রাহী শ্রোতৃবৃন্দ এবং অবশ্যই মৌলিক সংগীতের রসপণ্ডিত অমিয়নাথ সান্যাল, যিনি রসোত্তীর্ণ ভাষায় এই বৈঠকখানার মহফিলের চরিত্র অঙ্কন করেছেন তাঁর ‘গুরুজীর বৈঠকে বদল খাঁ সাহেব’-শীর্ষক রচনায়।
সংগীতের রসস্নিগ্ধ এই কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংগীতানুষ্ঠান ছাড়াই যাঁরা সর্বদা আসতেন তাঁরা কেউ ছিলেন সংগীতশিক্ষার্থী, কেউ অন্য ঘরানার পরিপক্ব গায়ক, তবে রসচেতনার সম্যক উদ্বোধনের জন্য অন্যান্য শিল্পীদের সাধনার পরিচয়লাভে উন্মুখ। মোটকথা, সকলেই সংগীতের নানাবিধ সুলুকসন্ধানে ব্যাকুল। স্বভাবতই একত্র হওয়ামাত্রই এঁদের উপজীব্য হতো সুরের রহস্যের আলোচনা আর রাগের ধ্যানরূপের জল্পনা, বসে থাকতেন বুজুর্গদের সংগীতক্রিয়া এবং সংগীতকথা শোনার আকুল আশায়। কেননা উচ্চাঙ্গসংগীতের শাস্ত্রীয় বিচার বিবেচনা এবং রাগরাগিণীর রহস্যের হদিস ও রূপায়ণ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণাত্মক আলোচনার জন্য শ্যামলালজীর মাইফেল অদ্বিতীয় ছিল কলকাতায়।
আলোচনায় মতভেদের ক্ষেত্রে বদল খাঁ সাহেবকে ‘চিফ আরবিট্রেটর’ মানা হতো একবাক্যে, এবং তাঁর মত অথবা রায় নতমস্তকে গ্রহণ করতেন সকলেই। ১৯২৮ সালে ক্ষেত্রীজীর মৃত্যু পর্যন্তই তাঁর বৈঠকখানাটি ছিল সংগীতস্রষ্টা ও সংগীতভোক্তাদের প্রাত্যহিক আড্ডাখানা এবং কলকাতার শ্রোতা-শিল্পী তৈরির শ্রেষ্ঠতম কারখানা। এই ‘গুরুজী’র শিষ্য অমিয়নাথ সান্যাল শাস্ত্রীয়সংগীতের অবিস্মরণীয় ভাষ্যকাররূপে গড়ে উঠেছিলেন প্রধানত এই বৈঠকেরই প্রশিক্ষণে।
সান্যাল মশায়ের ‘স্মৃতির অতলে’ অমৃতরূপে স্থায়ী আমানত হিসাবে জমা হয়েছে কেবল খাস শ্রোতার ঘরোয়া আসরের শুদ্ধতম পরিবেশে মহান গায়কের সৃষ্ট সংগীত, তাঁদের আম শ্রোতার বারোয়ারী সম্মেলনে সৃষ্ট সংগীত নয়। তিনি নিজেই লিখেছেন, ‘খেয়াল ত খেয়ালই! আর গুণীর আপন খেয়ালই চরম কথা। পরের খেয়ালে গান করা ত চাকরি করার সামিল। মাত্র এই কথাটি মনে করলে কালে খাঁ সাহেব, মৌজুদ্দীন খাঁ আর আবদুল করিম খাঁ সাহেব ছাড়া আর কাউকে মনে করতে পারিনে’ (পৃ ১৭৮ স্মৃ. অ.)।
অথচ পরম স্বতন্ত্র এই ত্রয়ীর মধ্যেও সান্যাল মশায়ের স্মৃতির অতলে জমা পড়েছেন তিনজনের মধ্যে কেবল দুজন। কারণ তৃতীয় জনকে, মানে আবদুল করিম খাঁ সাহেবকে, (১৮৭২-১৯৩৭) তিনি খাস আসরে শোনেননি। শুনেছেন আম আসরে – ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের হলে ‘নিখিল বঙ্গ সংগীত সম্মেলনে’র তৃতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানে, ১৯৩৭ সালে।
আম শ্রোতার সম্মেলনে পরিবেশিত সংগীত আর খাস শ্রোতার আসরে সৃষ্ট সংগীতের প্রভাববিষয়ে দৃষ্টান্তস্বরূপ ফৈয়াজ খাঁর কথাই বলা যায়। কলকাতার সিনেট হলের ১৯৩৪ সালের ‘নিখিল বঙ্গ সংগীত সম্মেলন’ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মিউজিক কনফারেন্সে শোনা ফৈয়াজ খাঁ সাহেবের সংগীতও অস্থায়ী সম্পদরূপে জমা পড়েছে অমিয়নাথের সঞ্চয়ী হিসাবের খাতে।
কিন্তু স্থায়ী আমানতরূপে তাঁর স্মৃতির অতলে জমা হয়ে আছে – ১৯১৫ সালের এক সন্ধ্যায় স্যান্যাল মশায়ের গুরু শ্যামলাল ক্ষেত্রীর সংগীতগৃহে অ্যামেচার গায়ক সুধাংশুরঞ্জন বাগচি ওরফে ননী আর পেশাদার গায়িকা মালকাজান আগ্রাওয়ালীসহ একই ফরাশে পাশাপাশি বসে শোনা ফৈয়াজ খাঁ সাহেবের সৃষ্ট চিরস্মরণীয় সংগীত। স্মৃতিধৃত সেই অভিজ্ঞতাটি সাঁইত্রিশ বৎসর পরও কলকাতার সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার (১৯৫২ সালে দেশ পত্রিকা সাপ্তাহিক ছিল) রচনায় হুবহু বর্ণনা করতে গিয়ে কিছুই খুঁজতে হয়নি সমঝদার এই সংগীতশ্রোতার। তাঁর সে-স্থায়ী আমানতটি বাংলাভাষারই স্থায়ী আমানত হয়ে আছে স্মৃতির অতলে গ্রন্থরূপে।
উল্লিখিত বিষয়টি সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে, ঢাকার মাওলা ব্রাদার্স ও কলকাতার প্রতিভাস প্রকাশিত আমার মহান শ্রোতা বইটিতে। মহান শ্রোতা আখ্যায়িত হয়েছে একটি স্থান আর একটি পাত্র। স্থানটি কলকাতা, আর পাত্রটি তারই সৃষ্ট অমিয়নাথ। গ্রন্থটির আধারিত বিষয় তদানীন্তন অবিভক্ত বঙ্গদেশের শাস্ত্রীয়সংগীত চর্চার স্বর্ণপর্ব – খ্রিষ্টীয় মধ্যউনিশশতক থেকে মধ্যবিশশতক পর্যন্ত শতবর্ষ।
বইটিতে দেখা যাবে যে, রাগসংগীতের সমঝদার শহর কলকাতার নির্মিতিতে পূর্ববঙ্গের শিল্পী-শ্রোতা-উদ্যোক্তাদের বেশ সারবান অবদানই ছিল। অবদানটা রাখার স্থান ঢাকা  না-হওয়ার কারণ, তখন কলকাতাই ছিল পরাধীন দেশটার সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। এখন যেমন আমাদের স্বাধীন দেশটার যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্ররূপে গড়ে উঠেছে ঢাকা, বিগত চারটি দশক ধরে।
এই ঢাকাকে কলকাতার মতো উচ্চাঙ্গসংগীতের সমঝদার শ্রোতার শহররূপে আমরাও কি গড়ে তুলতে পারি না? উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম শাস্ত্রীয়সংগীত-শিল্পীদের যথাযোগ্য আতিথেয়তায় নিয়মিত বরণ করে? সংগীতশিল্পী এবং বোদ্ধা শ্রোতার জলসাঘরে সকলে মিলে অনুধ্যান সহকারে তাঁদের সসম্ভ্রম শ্রবণ করে?
উচ্চাঙ্গসংগীতশিল্পীর সঙ্গে সমঝদার শ্রোতার সম্পর্কটি যে কী, সেটি সম্যক মর্মঙ্গম হবে উস্তাদ বিস্মিল্লাহ্ খাঁর (১৯১৬-২০০৬) দীর্ঘ জীবনটি অনুধাবন করলে। তিনি ইউরোপ-আমেরিকার দামি গাড়িবাড়ি, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকাকড়ি, এমনকি নাগরিকত্বের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আমন্ত্রণও প্রত্যাখ্যান করতেন কেবল এই বলে যে, সেসব দেশে তিনি সবকিছু পেলেও, তাঁর প্রাতিস্বিক শিল্পের বেসুমার সমঝদার তো পাবেন না।
এ-ও আমরা জানি যে, অনেক বিস্ময়কর প্রতিভাধর শাস্ত্রীয়সংগীতশিল্পী বাংলাদেশেরও এখানে সেখানে পড়ে আছেন অনবধানে, যেন পরিত্যক্ত। ফলে তাঁরা অপচিত হচ্ছেন অবিকশিতরূপেই – সমঝদার শ্রোতার প্রেরণার অভাবে এবং সংগীত পরিবেশনের অনুকূল পরিবেশের অনটনে। যথা উদ্যমে আবিষ্কৃত এবং যথা উদ্যোগে পরিবেশিত হলে এঁরাও মাতিয়ে তুলতে পারতেন ঢাকাকে, যেমন ১৯৩১ সালে কলকাতাকে মাতিয়ে তুলেছিলেন আগ্রার অজানা-অচেনা খেয়ালিয়া মুশতারি বাঈ।
[কলকাতার অকালপ্রয়াত টপখেয়ালিয়া লালচাঁদ বড়ালের স্মৃতিতে তাঁর সংগীতজ্ঞ পুত্র রাইচাঁদ বড়াল কর্তৃক আয়োজিত ‘লালচাঁদ উৎসবে’ তাঁরই সমঝদার পুত্র বিষণচাঁদ বড়াল কর্তৃক আগ্রা থেকে আনীত ও পরিবেশিত মুশতারির খেয়ালের রেডিয়ো-রিলে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে বসে শুনে অভিভূত হয়ে, বড়াল-বাড়িতে টেলিফোন করে, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাইচাঁদ বড়ালকে বলেছিলেন – এই কিন্নরকণ্ঠ দেবীকে কোথায় পেলে? এমন গান তো সচরাচর শোনা যায় না। এঁর গান আমি সামনে বসে শুনতে চাই। ব্যবস্থা করো।]
কলকাতার বড়ালদের মতো সচ্ছল সাংগীতিক পরিবার কিংবা মিত্রদের মতো ধনাঢ্য সংগীতপ্রেমী গৃহ ঢাকাতেও আছে। আছে রাজধানী ছাড়া বৃহত্তর বাংলাদেশেও। নেই কেবল সেই মানসিকতা, চর্চা এবং উদ্যোগ। থাকলে, কালে কালে, কোটি-লোকের এই মহানগরটিও হয়ে উঠতে পারে উচ্চাঙ্গসংগীতের সমঝদার শহর। সেই সুবাদে দেশময় প্রসার লাভ করতে পারে শাস্ত্রীয়সংগীত এবং উঠে আসতে পারে রাগসংগীতের কালজয়ী শিল্পী, একের পর এক – প্রজন্ম পরম্পরায়।
নেই বলাটা অনবধানবশত। মানসিকতা, চর্চা এবং উদ্যোগ না-থাকলে আজ থেকে একশত ছয় বৎসর পূর্বে চট্টগ্রামের বুকে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হতো না ‘আর্য সংগীত সমিতি’। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হতো না তারই উত্তরাধিকারী অবিভক্ত বঙ্গদেশের প্রথম সংগীত বিদ্যালয় হিসেবে ‘আর্য সংগীত বিদ্যাপীঠ’। এ প্রতিষ্ঠান দেশভাগের আগেই বড় মাপের সর্বভারতীয় উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলনের সফল আয়োজনের মাধ্যমে এদেশের শাস্ত্রীয়সংগীতে নিবেদিতচিত্ত অনেক উল্লেখযোগ্য শিল্পীর সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সঙ্গতির অভাবে এই বনেদি প্রতিষ্ঠানটি ধীর-অথচ-নিশ্চিত গতিতে মলিন হতে থাকে – তবে আজো একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি।
উচ্চাঙ্গসংগীতমনস্কতা, চর্চা ও উদ্যোগের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে চলেছে ঢাকার সংগীতপ্রেমী দম্পতি শফিউর রহমান ও ঊষা রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘শুদ্ধ সংগীত প্রসার গোষ্ঠী’-শীর্ষক প্রতিষ্ঠানটিও – সেই ১৯৭৪-৭৫ সাল থেকে। প্রায় চার দশক বয়সী এ-প্রতিষ্ঠান সঙ্গতির অভাবে শাস্ত্রীয়সংগীতের আন্তর্দেশীয় সম্মেলনের আয়োজন তেমন একটা করতে না পারলেও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিষ্ঠা সহকারে খুঁজে পেতে উচ্চাঙ্গসংগীতের উচ্চমানের শিল্পীদের ঢাকা মহানগরে এনে প্রায়শই একরাতের, কখনোসখনো দু-তিন দিনের দিবারাত্রির অনুষ্ঠানও, নিয়মিত মঞ্চস্থ করে যাচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে যাচ্ছেন তাঁর সহধর্মিণী ও সাধনসঙ্গিনী ঊষা একাই।
চট্টগ্রামের কৃতী উচ্চাঙ্গসংগীতশিল্পী স্বপ্নময় চক্রবর্তী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গসংগীত পরিষদ’ ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত করে যাচ্ছে দেশীয় শিল্পী নিয়ে দ্বিমাসিক এবং আন্তর্দেশীয় শিল্পী সমন্বয়ে বার্ষিক উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন। এ প্রতিষ্ঠানটির একক অবদানটি হল ‘সুরশৃঙ্গার’-শীর্ষক উচ্চমানসম্পন্ন আনুষঙ্গিক একটি উচ্চাঙ্গসংগীত-পত্র প্রকাশন। অর্থগত সীমাবদ্ধতার কারণে মনের মতো আয়োজন করে উঠতে পারছে না এরাও।
উল্লিখিত প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চাঙ্গসংগীতপ্রেমী বেঙ্গল এবং আইটিসির মতো করপোরেট কালচারের সম্মিলিত আনকূল্য লাভ এদেশের উচ্চাঙ্গসংগীতচর্চা ও এ-সংগীতের সমঝদার সৃষ্টির বর্তমানকে সচ্ছল এবং ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করে তুলবে। সংগীতবান্ধব এই যুগলসম্মিলনই মৌলিক সংগীতের জগতে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত ‘সাংগীতিক সাক্ষরতা’র প্রসারেও বহুলবাঞ্ছিত গতি আনবে। এখানে ‘সাংগীতিক সাক্ষরতা’-বিষয়টির কিঞ্চিৎ প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যাদান প্রয়োজন।
সংগীতের মহান অনুষ্ঠানে সুশিক্ষিত অতিথিদের ভাষণে গতানুগতিক কথাবার্তা শুনে সর্বদাই আমার মনে হয়েছে যে কেবল শাব্দিক সাক্ষরতা আর সাংস্কৃতিক সাক্ষরতাই শেষকথা নয়, সাংগীতিক সাক্ষরতাও অপরিহার্য। অতঃপর ধারণাটা আরো জোরদার হতে থাকে মহান শিল্পীদের অনুষ্ঠান শুরু হবার পর থেকে, সামনের সারিতে বসা সম্মানিত শ্রোতাদের ভুল তালে ভুল লয়ে হাত-পা চালানোর উৎপাতে। এঁরা প্রায়শই অনুষ্ঠানের ব্যয়নির্বাহে অংশ-নেওয়া বা উচ্চতম হারের টিকিট-কেনা সুশীল সমাজের প্রথম সারির শিক্ষিত নাগরিক। এঁদের অভাব শুধু সাংগীতিক শিক্ষারই। সে অভাবটুকু মোচনের দায়িত্ব প্রথমত সংস্কৃতিধারকদের এবং দ্বিতীয়ত সংগীতকারকদের।
তাই বলে আমি বলব না যে কোন্টা কাজরী, কোন্টি চৈতী, কোন্টা মান্দ্, কোন্টি লাউনী, কোনটি প্রবন্ধ, কোনটি ধ্র“পদ, কোনটি খেয়াল, কোনটি টপ্পা, কোনটি ঠুংরি- এসবও জানতে-বুঝতে হবে শ্রোতৃসাধারণের। বলছি কেবল, ইংরেজিতে যাকে বলে, ‘অ্যাবিলিটি টু রেসপন্ড্’ – তা-ই থাকার কথা। মানে গান শুনে সাড়া দিতে পারার কথা, ন্যূনতম গুণাবধারণের ক্ষমতার কথা।
প্রসঙ্গক্রমে বনফুলের একটি গল্পের কথা মনে পড়ছে। এক গৃহস্থ গানের আসর থেকে ফিরে এসে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। গৃহিণীর প্রশ্ন ‘কি শুনলে হ্যাঁগা, আড়াই ঘণ্টা ধরে?’ ‘বুঁদেরিয়া’ বলে ভদ্রলোক পাশবালিশ আঁকড়ে চক্ষু বুজলেন। তাই বলে আমি বলছি না যে পণ্ডিত ওঙ্কারনাথ ঠাকুর কী করে কেবলমাত্র ‘মিতওয়া’-শব্দটি দিয়ে নানারকমের ‘ভার্বাল শেপ’ বা বাচিক আকৃতি এবং ‘সাউন্ডস্কেপ’ বা ধ্বনিচিত্রের সাহায্যে নতুন নতুন ‘শ্র“তিমূর্তি’ ও ‘শ্রাব্যগঠন’ উপহারের ডালি সাজিয়ে একটি বন্দিশকে অবিস্মরণীয় করে তুলতেন সেটাও বুঝতে হবে শ্রোতার।
বিষয়বস্তু-বিশেষজ্ঞ হওয়ার কথা আমি আদৌ বলছি না। সেটা সময়বিশেষে কেমন বিরক্তির সৃষ্টি করে তার একটা দৃষ্টান্ত দিচ্ছি। আমি তখন চট্টগ্রাম কলেজে আইএসসির ছাত্র, সাল ১৯৫৭। শহরের বনেদি উচ্চাঙ্গসংগীত-প্রতিষ্ঠান ‘আর্যসংগীত’-এর তিন দিনব্যাপী বাৎসরিক সংগীতানুষ্ঠানে কলকাতা-বারাণসী থেকেও বড় বড় শিল্পীগণ এসেছেন। বিভিন্ন সেশনে ভাগ করা দিবারাত্রির অনুষ্ঠান – প্রভাতী, বৈকালী, সান্ধ্য, নৈশ ইত্যাদি।
মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ গাইছেন খেয়াল আর সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ রাগপ্রধান গান। তবলা সঙ্গত করছেন বেনারসের আশুতোষ ভট্টাচার্য ও ঢাকার মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ। মঞ্চসংলগ্ন প্রথম-দ্বিতীয় সারির বিশিষ্ট শ্রোতৃমণ্ডলী নিজেদের আঙুলের করে গুণে গুণে সম-ফাঁক আর খানাপুরি-চক্রদারির এমন পাক্কা হিসাব করছেন, যেন পরীক্ষকমণ্ডলী গায়ক-বাদকের পরীক্ষাই নিচ্ছেন।
দুপুর নাগাদ মঞ্চে এসে একতালের একটা রাগপ্রধান গান ধরলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। আস্থাটিই বার দুই-তিন ঘুরে-ফিরে গেয়ে – মেজাজ পাচ্ছেন না বলে উঠে গেলেন। বঞ্চিত শ্রোতাদের কথা দিলেন, রাতের আসরে শোনাবেন। তখনো তিনি তত পরিচিত হয়ে ওঠেননি বলে আমরা, কলেজের ত্যাঁদোড় ছাত্ররা, শিল্পীর ওই নাটকীয় আচরণকে পাকামো জ্ঞান করে সেশন শেষে জিজ্ঞেস করলাম – অমন করে উঠে গেলেন কেন? নায়কোচিত চেহারার জমিদারি ঠাটবাটের মানুষটা মুচকি হেসে বললেন : আমরা মঞ্চে উঠি মেজাজে গান করবার জন্য, তাল-লয়-সম-ফাঁকের পরীক্ষা দেবার জন্যে নয়। এক পাল ভাটপাড়ার পণ্ডিতের পাল্লায় পড়ে গানের স্বতঃস্ফূর্ত মেজাজটাই হারিয়ে ফেলেছিলাম।
এ তো গেল গায়কের মেজাজ হারানোর কথা। এবার শ্রোতার মুড হারানোর কথা শুনুন কুমারপ্রসাদ মুখার্জির ভাষায় :
‘এক বাবু নতুন কনফারেন্সে গান শুনতে গেছেন, তিনি দুটি রাগের নাম শুনেছেন জীবনে। প্রথমে এক সেতারি এসে বসলেন, তাঁর বাজনা শুরু হতে পাশের ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলেন ‘কী রাগ বাজাচ্ছে মশাই, জয়জয়ন্তী না ললিত?’ ভদ্রলোক মন দিয়ে শুনছিলেন, সংক্ষেপে জবাব দিলেন ‘পুরিয়া ধ্যানশ্রী’। পরের আর্টিস্ট গানে বসতেই আবার সেই প্রশ্ন। পাশের ভদ্রলোক এবার একটু বিরক্ত হয়েই বললেন ‘শুনলেন না উনি আগে বেহাগ গেয়ে তারপর মালকোষ গাইবেন, অ্যানাউন্সমেন্টেই তো বলা হল।’
তারপর আবার বাজনার পালা। এবার ওই একই প্রশ্ন করায় আমাদের বাবুটি ধমক খেলেন ‘কী মশাই ললিত ললিত করছেন! সে তো ভোরের রাগ, উনি দরবারি কানাড়া বাজাচ্ছেন। বকর-বকর করবেন না।’ এর পর কনফারেন্সের সেরা আসর ভোরের দিকে, ভারতবর্ষ জুড়ে নামকরা বিরাট এক খাঁ সাহেবের গান। তবলা, জোড়া তানপুরো, হার্মোনিয়াম, চেলাচামুণ্ডায় স্টেজ ভরে গেছে।
খাঁ সাহেব সবে সুর লাগিয়েছেন চক্ষু বুজে। আমাদের বাবুটি আর থাকতে পারলেন না। ফিস্ফিস্ করে আবার প্রশ্ন করলেন ‘দাদা, খাঁ সাহেব কি এইবার ললিত গাইছেন?’ এবার পাশের ভদ্রলোকটি ঘুরে বসে অনেকক্ষণ ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে দেগে দেগে উত্তর দিলেন, ‘না, এ ললিত নয়। এ ললিতের সেজ ভাই বিপিন। হালে ই আই রেলে চাকরি পেয়েছে। শালা ন্যুইসেন্স্!’
খুব উচ্চদরের সূক্ষ্ম রসিকতা না হলেও এসব গল্পের মধ্যে বছর পঞ্চাশেক আগের আবহাওয়া আছে। এ প্রকারের শ্রোতাও আজকাল নেই, আর কালোয়াতী গান শুনে আজকালকার মা মাসি খুড়িরা  খুঁক্-খুঁক্ করে হাসেনও না। মধ্যবিত্তের হাতে কালচার পড়লে তার মানও মধ্যবর্তী হয়। গানের স্ট্যান্ডার্ড যেরকম, শ্রোতারও তাই।’ (পৃ ২৩৬-২৩৭, কুদরত রঙ্গিবিরঙ্গী, কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)।
কুমারবাবুর বন্ধু শাঁটুলবাবুর বলা এ-গল্পের ‘ললিত ললিত’-করা লোকটির যা নেই তাকে বলা যায় ‘উচ্চাঙ্গসাংগীতিক সাক্ষরতা’। গায়কবিশেষের গানের আবেদনে সাড়া দেবার ক্ষমতাকেই অন্যকথায় সে-ধারার গানের ‘সাংগীতিক সাক্ষরতা’ বলছি – যেমন ধ্রুপদের, খেয়ালের, টপ্পার, এমনকি রবীন্দ্রসংগীতেরও।
বলতে চাচ্ছি যে সাধারণ শ্রোতার এই সাক্ষরতাটুকুই যথেষ্ট। তাঁর জানা থাকা অপরিহার্য নয় যে রাগসংগীত ভারতবর্ষীয় উত্তরাধিকার হলেও দেশটির সব ভাষাতেই সব রাগসংগীত পাওয়া যায় না কেন। যেমন বাংলায় ধ্রুপদ আছে, কিন্তু মারাঠিতে নেই। তেমনি হিন্দিতে রাগসংগীতের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও সে-ভাষায় টপ্পা নেই।
সবচেয়ে বেশি দানাদার দ্রুতিসমৃদ্ধ জমজমার টপ্পা আছে পাঞ্জাবি ভাষায়। শোরি মিয়ার সৃষ্ট মিহি দানার সে-টপ্পা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯) ওরফে নিধুবাবু বাংলা ভাষায় এনেছেন দানা মোটা করে। রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) গানে আবার টপ্পার জমজমার দ্রুতিও কমেছে। হিন্দি ভাষায় যেমন শব্দকে নিয়ে ইচ্ছেমতো টানাটানি করা যায় এবং কথাকে হেলিয়ে দুলিয়ে সুরের চাদরে মুড়িয়ে দিয়ে এলিয়ে দেওয়া যায়, বাংলা ভাষার শব্দকে তেমন করা যায় না বলে এ-ভাষায় খেয়াল-গায়নে সীমাবদ্ধতা থাকে।
রবীন্দ্রনাথের গানের ‘সাক্ষর-শ্রোতা’রও জানা অপরিহার্য নয় যে ‘ধ্বনিল আহ্বান মধুর গম্ভীর প্রভাত-অম্বর-মাঝে’-গানটি ভৈরব বা ভৈরোঁ রাগে, ‘তব প্রেম সুধারসে মেতেছি,/ ডুবেছে মন ডুবেছে ॥’-গানটি পরজে, ‘কী রাগিণী বাজালে হৃদয়ে, মোহন, মনোমোহন,’-গানটি কানাড়াতে, ‘কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়?’-গানটি ভৈরবীতে, ‘দিন যদি হল অবসান/ নিখিলের অন্তরমন্দিরপ্রাঙ্গণে’-গানটি মুলতানে এবং ‘অশ্র“নদীর সুদূর পারে ঘাট দেখা যায় তোমার দ্বারে ॥’-গানটি পূরবী রাগিণীতে আধারিত। (শৈলজানন্দ মজুমদার)।
এর কারণটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৮৯৬ সালের ২৬শে মার্চে লেখা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের একটি চিঠিতে প্রকাশ পেয়েছে – ‘…আপনি যেন রাগরাগিণীগুলো গুঁড়ো করিয়া বাটিয়া মসলাস্বরূপ ব্যবহার করিয়া আপনার গীতিকবিতা রন্ধন করেন। কবিতাটাই যেন খাদ্য, রাগরাগিণীগুলো মসলা মাত্র’ (পৃ ১২৪, গানের ভেলায় বেলা অবেলায়, অনন্তকুমার চক্রবর্তী)।
তাই ‘ধ্বনিল আহ্বান’-গানটি ভোর বেলার আকাশের প্রথম জাগরণের, ‘তব প্রেম সুধা’-গানটি রাত্রিশেষের নিদ্রাবিহ্বলতার, ‘কী রাগিণী বাজালে’-গানটি ঘনান্ধকারে অভিসারিকা নিশীথিনীর পথবিস্মৃতির, ‘কেন রে এই দুয়ারটুকু’-গানটি সঙ্গবিহীন অসীমের চির বিরহবেদনার, ‘দিন যদি হল অবসান’-গানটি রৌদ্রতপ্ত দিগন্তের ক্লান্ত নিঃশ্বাসের এবং ‘অশ্র“নদীর সুদূর পারে’-গানটি শূন্য গৃহচারিণী বিধবা সন্ধ্যার অশ্র“মোচনের (প্রাগুক্ত) – রবীন্দ্রসংগীতগুলো এইসব বিশেষ বোধের আলো-আঁধারিতেও যদি শ্রোতাকে নিয়ে যায়, তবু বলা যাবে যে রবীন্দ্রনাথের গানে ‘অ্যাবিলিটি টু রেসপন্ড’, মানে সাড়া দানের শিক্ষা সে-শ্রোতার আছে। অন্যকথায়, শ্রোতাটির রবীন্দ্রনাথের গানের সাংগীতিক সাক্ষরতা আছে।
বিংশ শতক থেকে এই সাংগীতিক সাক্ষরতার আবশ্যকতা বহুগুণ বেড়ে গেছে, প্রধানত প্রযুক্তিগত কারণেই। বস্তুত, উনিশ শতকের শেষ পাদ থেকেই মানবজাতির মতি ফিরেছে বাণী থেকে ধ্বনির দিকে। ফরাসী প্রতীকীবাদী কবি র্যাঁবো, লোত্রেমঁ, মালার্মে প্রমুখ অলৌকিক দ্রষ্টাগণ বাস্তবকে ছাড়িয়ে অধিবাস্তবে পৌঁছানোর জন্য শব্দকে তার আদিম মন্ত্রশক্তি ফেরত দিতে চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত স্মর্তব্য যে, আদ্যকালে শব্দ উচ্চারিত হতো জাদুমন্ত্ররূপে – মনের ভাব প্রকাশের চেয়ে প্রভাব প্রসারের উদ্দেশ্যেই বেশি। ভার্লেনের মতবাদের নিহিত বার্তাটি হচ্ছে, সংগীতের মতো কবিতাকেও তাৎক্ষণিক যোগাযোগক্ষম করে তুলতে হবে তার সুনাদের মধ্যস্থতায় – অন্য কথায়, বচনীয়ের মাধ্যমে নয়, শ্রবণীয়ের মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত আরো স্মর্তব্য যে, কাব্য এবং সংগীত, এই দুটি শিল্পের কিছু মৌল পার্থক্য রয়েছে। প্রধান তফাতটা হচ্ছে – সংগীতশিল্পের তাৎপর্যে পর্যবসান ঘটে তৎক্ষণাৎ এবং প্রত্যক্ষাৎ অর্থাৎ সরাসরি। প্রতিপক্ষে কাব্যসাহিত্য গূঢ়ার্থে উপনীত হয় কিঞ্চিৎ ঘুরপথে, অন্য কিছু অবলম্বন করে; যেমন কিছু শব্দার্থ। কাব্য শব্দের ওপর নির্ভরশীল, সংগীত শুধু ধ্বনির মাধ্যমেও সম্ভব। বরং উচ্চাঙ্গসংগীতের প্রভাবশালী প্রকরণ ‘খেয়াল’ শব্দকে অন্তরায় ভাবে।
দূর-অতীত ছিল কেবলি লিপি-সংস্কৃতির। হিসেব নেওয়া হতো লোকটা ‘লিটারেট’ কি না, দেশটির ‘লিটারেসি’-রেট কত। নিকট-অতীতে এল পিসি-সংস্কৃতি। নতুন হিসেব শুরু হলো ‘লিটারেট’ লোকটা ‘কম্পিউটারেট’ও কি না। দেশটির ‘লিটারেসি’র সঙ্গে হিসেব শুরু হলো ‘কম্পিউটারেসি’রও। উপস্থিত বর্তমানে ধ্বনি-সংস্কৃতির শক্তিবৃদ্ধির রেট দেখে মনে হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে আরেকটি হিসেবও শুরু হতে পারে – লোকটি ‘মিউজিকেট’ও কি না, বা দেশটির ‘মিউজিকেসি’-রেট কত।
এদেশের ‘ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকেসি’-রেট তো খুবই পুওর। সে-রেটেরই চরমোৎকর্ষ ঘটাবে ‘বেঙ্গল আইটিসি এসআরএ উচ্চাঙ্গসংগীত  উৎসব ২০১২’-এর মতো উচ্চতম মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা।

msMxZ I mgS`vi

Ave`yk kvKzi

Avgvi g‡Z, ÔkZ©nxbÕ msMxZ kãwU †Kej †gŠwjK msMxZB †evSvq – Zv‡K gvM©msMxZ ejyb, kv¯¿xqmsMxZ ejyb, D”Pv½msMxZ ejyb, ivMmsMxZ ejyb, Avi hv-B ejyb| ˆkjxcÖavb Mvb, ivMcÖavb Mvb, ag©cÖavb Mvb, i½cÖavb Mvb, †jvKMvb, ccMvb BZ¨vw`‡K ejv hvq ÔkZ©hy³Õ msMxZ ev †hŠwMK msMxZ| G aviYvi †cÖw¶‡ZB eZ©gvb Av‡jvPbvwU Pj‡e|

cÖvPxb Kv‡j †`egw›`‡i wb‡ew`Z n‡Zv ag©msMxZ| ga¨hy‡Mi ivR`iev‡i PwP©Z n‡Zv ivMmsMxZ| be¨hy‡M GB Pvi“wkíwU `ievi †_‡K P‡j G‡jv miKv‡i| wkíPP©vq Aby`vi miKv‡ii Ach©vß Ph©vq cywónxb msMx‡Zi w`‡K Kv‡j Kv‡j mn‡hvwMZvi nvZ evwo‡q w`‡q‡Q wKQy cÖvB‡fU K‡c©v‡iU nvDm Ges Avmi ewm‡q P‡j‡Q cÖk¯— AwWUwiqvg †_‡K gy³v½‡bi c¨v‡Û‡j, Ae‡k‡l mywekvj †÷wWqv‡g| G‡Z K‡i me‡P‡q MYZvwš¿K Pvi“wkí wn‡m‡e msMx‡Zi RbMYZš¿vqb n‡jv e‡U, Z‡e Mv‡bi †kªvZv Ges Mvq‡Ki ¸YMZ cwieZ©bI N‡U †Mj GB cÖwµqvq| N‡U †Mj Mvq‡Ki ÔAv`vKvwiÕ Ges †kªvZvi Ô¸YwePvwiÕi cÖavb `ywU †¶‡ÎB|

†`egw›`i †_‡K Kjvgw›`i ch©š— Qq kZvwaK erm‡ii `xN© hvÎvc‡_ kv¯¿xqmsMxZ jvwjZ n‡q‡Q cÖavbZ wZbwU cÖwZôv‡bi gva¨‡g – `ievi, mgS`vi Avi miKvi| mgS`v‡ii ce©wU‡K `ievwi Ges miKvwi ce©-`ywUi ga¨eZx© wKsev mwܶwYK ce©I ejv P‡j| †gvUvgywU ga¨-Ebwesk kZK †_‡K ga¨-wesk kZvãx ch©š— kZel©Kvj Ry‡o e¨vß wQj wn›`y¯—vwb msMx‡Zi IB ¯^Y©ce©wU, KjKvZv wQj hvi ivRavbx|

msMxZ wel‡q `iev‡ii m¤úK© c„ô‡cvlKZvi n‡j, miKv‡ii f~wgKv KZ©e¨civqYZvi| `iev‡ii mg‡eZ mfvm` mK‡jB msMx‡Zi cÖ¯‘Z †kªvZv wQ‡jb bv| miKv‡ii Avgwš¿Z cvwil` †Zv mvaviYZ msMx‡Zi †kªvZvB bb, ¶gZvcÖv_x© `j¸‡jvi †nvZv – ivRbxwZK, wK Av_©bxwZK| wKš‘ ewY©Z `yB cÖwZôv‡bi ga¨eZx© Z…Zxq cÖwZôvb¯^iƒc mgS`v‡ii N‡i Av‡qvwRZ msMxZvm‡i Avgš¿Kmn mKj †kªvZvB _vK‡Zb msMxZ¸Yx wKsev msMxZ‡cÖgx| d‡j †mB Avm‡i wkíxi m„Rb Pj‡Zv ï× †gRv‡R Ges msMxZ m„ó n‡Zv c~Y© gwngvq|

cÖK…Zc‡¶ Z`vbxš—b KjKvZvi m¤úbœ mgS`v‡ii msMxZM„n wQj msMxZgw›`‡ii g‡ZvB, †hLv‡b D”Pv½msMx‡Zi cy‡ivwn‡Zi wbZ¨ Avbv‡Mvbv _vK‡Zv Avi mKvj-mܨv Pj‡Zv my‡ii †`exi wbqwgZ AP©bv| Ggwb msMxZgq M„‡ni HwZ‡n¨ KjKvZv bMixi Zzjbv †bB Dcgnv‡`‡k| GK‡m-GK weL¨vZ GB me MvÜe©vjq wewfbœ †jLvq Dwj­wLZ nq wewfbœ fvlvq – †hgb wgDwRK-nvDm, Mv‡bi evwo BZ¨vw`|

Gme evwoi gvwjKMY cÖ_gZ wb‡Riv Zvwjg †bIqvi Rb¨ gyRiv ev m¤§vbxi wewbg‡q wKsev gvwmK e„wË w`‡q Rxeš— wKse`wš—iƒcx D¯—v`‡`i Dcgnv‡`‡ki wewfbœ cÖ‡`k †_‡K Avgš¿Y K‡i G‡b wbR wbR M„‡n AvevwmK wn‡m‡e ivL‡Zb| Zuv‡`i †K›`ª K‡i Gu‡`i N‡i N‡ivqv Avmi em‡Zv me©¯—‡ii msMxZ¸Yx mgv‡e‡k| GB myev‡` Gme cwiev‡ii †jvKRb msMxZgn‡j M„nxZ n‡Zb kv¯¿xqmsMx‡Zi Awffve‡Ki f‚wgKvq|

†KD †KD ¸i“gyLx we`¨vwU‡Z gvSvwi gv‡bi L¨vwZI †c‡Zb, Nivbv`vi D¯—v‡`i ZË¡veav‡b †iIqv‡Ri cÖwµqvq| wKš‘ IB ch©š—B| K‡Vvi mvabvi c‡_ wecyj kªg Keyj K‡i eo gv‡ci MvqK-ev`Kiƒ‡c M‡o bv-D‡V, msMx‡Zi mgS`vwi AR©bKvix Gme abx M„‡ni M„nKZ©vMY h_v A‡_©B msMx‡Zi c„ô‡cvlK n‡q DV‡Zb| †mUvI msMx‡Zi cÖwZ Zuv‡`i AcÖwZ‡iva¨ †cÖ‡gi Kvi‡YB| †m hv-B †nvK, Zuv‡`i †cvlKZvq cÖ‡qvRbxq cywó †cZ †gŠwjK msMxZ|

GB †kªYxi mgS`vi weËevb‡`i M„‡n c~R¨cv` AvevwmK nevi Avkvq Dcgnv‡`‡ki †kªô MvqK-ev`KM‡Yi AvMgb NU‡Zv KjKvZvq| Gi d‡j AvevwmK D¯—v` †c‡Zb Aeva mvabvi my‡hvM Avi KjKvZv †c‡Zv Ag~j¨ wk¶v I kÖ“wZi my‡hvM| GB m~‡Î jv‡nvi, evivYmx, AvMÖv, ivgcyi, Rqcyi, e‡iv`v, B‡›`vi, f~cv‡ji g‡Zv gnvb MvqK-ev`K Z‡Zv ˆZwi Ki‡Z Aek¨ cv‡iwb KjKvZv, Z‡e eogv‡ci †kÖvZv ˆZwi K‡i‡Q †“vi|

K_vUv ejv n‡jv, †mLv‡b G‡m ¯’vqx evwm›`v n‡q hvIqv Bg`v` Luv-nvwdR Avjx Luv mv‡ne‡`i g‡Zv cwð‡g-Nivbv`vi‡`i ev` w`‡q| Z‡e Zuv‡`iB gv‡ci mgS`vi †kªvZv GgbB cÖ¯‘Z Ki‡Z †c‡i‡Q, †hgbwU mgmg‡qi fviZe‡l©i Avi †Kv‡bv kniB cv‡iwb| Ges GR‡b¨B cwð‡gi gnv¸wYRbI c~‡e©i GB kniwUi ¯^xK…wZ‡K wb‡Ri K…wZi P‚ovš— AR©b Ávb Ki‡Zb|

D”Pv½msMx‡Zi wePvi-we‡k­lY I i‡mvcjwä‡Z cvi½g †kªvZv wnmv‡e Avgwš¿Z †ckv`vi Mvq‡Ki Acwimxg K…wZZ¡ I A¨v‡gPvi bwe‡ki Mfxi mgS`vwiZ¡ Gme Avmi‡K K‡i Zzj‡Zv Awe¯§iYxqiKg †ivgvÂKi| kZel©e¨vcx KjKvZvi ivMmsMxZPP©vi GB GKK L¨vwZ wewfbœ iv‡R¨i bvbvb Nivbvi gnËg MvqK-ev`K‡`i †U‡b wb‡q Avm‡Zv Z`vbxš—b c„w_exi wØZxq e„nËg bMix Ges fviZe‡l©i AwØZxq msMxZ‡cÖgx †mB ivRavbx kniwU‡Z|

mgMÖ †`‡ki w`Kcvj wkíx‡`i msMxZ ï‡b ¯’vbxq †kªvZvwkíx‡`i cwiYZ msMxZ‡ev×v n‡q IVvi cÖwk¶Y‡K‡›`ª cwiYZ n‡qwQj Dcgnv‡`‡ki GB cÖkvmb‡K›`ªwU| `ievwi c„ô‡cvlKZvi cwie‡Z© weËevb msMxZiwm‡Ki Avš—wiK msMxZPP©vi nvZ a‡i wb‡ew`ZcÖvY wkíx‡`i m‡½ GKwbôwPË †kªvZ…‡Mvôxi ms‡hvM m¤¢e n‡qwQj GLv‡b, wkíxKzj †c‡qwQj AvZ¥cÖKvk Ges AvZ¥cÖwZôvi weivU GKwU †K›`ª|

†KD †Kv‡bv m~Î a‡i my‡hvM K‡i msMx‡Zi †Kv‡bv w`Kcvj‡K KjKvZvq wb‡q G‡jv, Agwb `xN©w`‡bi HwZ‡n¨ ˆZwi †kªvZv-wkíxi `jwU †QvUvQywU K‡i LeiwU †cuŠwQ‡q w`‡jv weËevb‡`i wewfbœ RjmvN‡i wK msMxZM„‡n| ZuvivI Avm‡ii e¨e¯’v Ki‡jb G‡Ki ci GK, D`vi n‡¯— h_v‡hvM¨ Dc‡XŠKb mn‡hv‡M| Rgv n‡Z jvMj Awe¯§iYxq ¯§„wZi ci ¯§„wZ, mgS`vi †kªvZvi Aš—‡ii AZ‡j| Avm‡i KL‡bv n‡jv †kªô‡Z¡i jovB, KL‡bv eo n‡jv Nivbvi Awfgvb| wKš‘ mewKQy‡K Zz”Q K‡i †e‡o Pjj kv¯¿xqmsMx‡Z KjKvZvi mgS`vwii †MŠie|

nvi‡gvwbqg-Rv`yKi, ÔmyNiwcqvÕ fwbZvq Vygwi iPwqZv Ges Vygwi¸i“, †Mvqvwjqi ivRes‡ki MYcr ivI Ii‡d ÔfvBqv mv‡neÕ (1852-1920)-Gi wkl¨ wewkó nvi‡gvwbqgwkíx k¨vgjvj †¶Îxi (1860-1928) 101 b¤^i n¨vwimb †iv‡Wi †`vZjvi ˆeVKLvbvwU wQj e¨wZµgagx© GK gvB‡d‡ji  Av¯—vbv| GwU wQj ¸Yx wkíx‡`i wgjb‡¶Î| Awgqbv_ mvb¨vj (1895-1978) wj‡L‡Qb, ÔMvb KLb n‡e, wKQy wVK †bB|           Aš—i½`j ivwÎ AvUUvi g‡a¨B LuywU †M‡o em‡Zb| ¸i“Rxi ˆeVK †hb GKUv ÔnU&nvDmÕ; ¸Yx Avi ¸Ygy» †jv‡Kiv G‡m Zvc mÂq K‡i wb‡Zb bvbviK‡gi Avkv-AvKv•¶vi g‡a¨, bvbviK‡gi Ríbv-Kíbv K‡i|Õ

GLvbKvi Avmi¸wj Ab¨vb¨ Avmi †_‡K wfbœ wQj, wµqvwm× msMxZwk‡íi Dfq w`‡Ki mgvb PP©vi Rb¨ – wµqvZ¥K Dc¯’vcbv Ges ZË¡xq Av‡jvPbv| AK…Z`vi Ges eªþPvix GB M„nKZ©vi †`vZvjvi divk-weQv‡bv NiwU‡Z cÖvq cÖwZ mܨvq gn&wdj em‡Zv| †mLv‡b cÖvqkB ga¨gwY n‡q _vK‡Zb e`j Luv mv‡ne| Zuv‡K †K›`ª K‡i Avm‡i Avm‡Zb fvBqv mv‡ne MYcr ivI, Bg`v` Luv, AvjvDwÏb Luv, gwR` Luv, nvwdR Avjx Luv, gykZvK †nv‡mb Luv, mv¾v` †nv‡mb, wgR©v mv‡ne, wd`v û‡mb, †gŠRyÏxb Luv, ewki Luv, wek¦bv_ ivI, exi“ wgkª, ivwaKvcÖmv` †Mv¯^vgx, wMwiRvk¼i cÖgyL|

k¨vgjvjRxi wkl¨‡Z¡i m~‡Î Avm‡Zb MniRvb, AvMÖvIqvjx gvjKvRvbI| GKw`b G‡mwQ‡jb ˆdqvR Luv mv‡neI, Zuvi wkl¨v Ges wcÖqcvÎx GB AvMÖvIqvjxi m‡½| †m Avm‡i G‡m c‡owQ‡jb MniRvbI (gRwj‡m Dcw¯’Z Awgqbv_ †m-AvmiwUi Awe¯§iYxq weeiY w`‡q‡Qb Zuvi ¯§„wZi AZ‡j MÖ‡š’)| wbZ¨ Avm‡Zb Zb&byjvjRxi g‡Zv D”Pv½msMx‡Zi D”P¸YMÖvnx †kªvZ…e„›` Ges Aek¨B †gŠwjK msMx‡Zi imcwÊZ Awgqbv_ mvb¨vj, whwb i‡mvËxY© fvlvq GB ˆeVKLvbvi gnwd‡ji PwiÎ A¼b K‡i‡Qb Zuvi Ô¸i“Rxi ˆeV‡K e`j Luv mv‡neÕ-kxl©K iPbvq|

msMx‡Zi imwmœ» GB †K‡›`ª wbw`©ó msMxZvbyôvb QvovB huviv me©`v Avm‡Zb Zuviv †KD wQ‡jb msMxZwk¶v_x©, †KD Ab¨ Nivbvi cwicK¡ MvqK, Z‡e im‡PZbvi mg¨K D`&‡eva‡bi Rb¨ Ab¨vb¨ wkíx‡`i mvabvi cwiPqjv‡f Db¥yL| †gvUK_v, mK‡jB msMx‡Zi bvbvwea myjyKmÜv‡b e¨vKzj| ¯^fveZB GKÎ nIqvgvÎB Gu‡`i DcRxe¨ n‡Zv my‡ii in‡m¨i Av‡jvPbv Avi iv‡Mi a¨vbiƒ‡ci Ríbv, e‡m _vK‡Zb eyRyM©‡`i msMxZwµqv Ges msMxZK_v †kvbvi AvKzj Avkvq| †Kbbv D”Pv½msMx‡Zi kv¯¿xq wePvi we‡ePbv Ges ivMivwMYxi in‡m¨i nw`m I iƒcvqY m¤úwK©Z e¨vL¨v I we‡k­lYvZ¥K Av‡jvPbvi Rb¨ k¨vgjvjRxi gvB‡dj AwØZxq wQj KjKvZvq| 

Av‡jvPbvq gZ‡f‡`i †¶‡Î e`j Luv mv‡ne‡K ÔwPd Aviwe‡UªUiÕ gvbv n‡Zv GKev‡K¨, Ges Zuvi gZ A_ev ivq bZg¯—‡K MÖnY Ki‡Zb mK‡jB| 1928 mv‡j †¶ÎxRxi g„Zz¨ ch©š—B Zuvi ˆeVKLvbvwU wQj msMxZmªóv I msMxZ‡fv³v‡`i cÖvZ¨wnK AvÇvLvbv Ges KjKvZvi †kªvZv-wkíx ˆZwii †kªôZg KviLvbv| GB Ô¸i“RxÕi wkl¨ Awgqbv_ mvb¨vj kv¯¿xqmsMx‡Zi Awe¯§iYxq fvl¨Kviiƒ‡c M‡o D‡VwQ‡jb cÖavbZ GB ˆeV‡KiB cÖwk¶‡Y|

mvb¨vj gkv‡qi Ô¯§„wZi AZ‡jÕ Ag„Ziƒ‡c ¯’vqx AvgvbZ wnmv‡e Rgv n‡q‡Q †Kej Lvm †kªvZvi N‡ivqv Avm‡ii ï×Zg cwi‡e‡k gnvb Mvq‡Ki m„ó msMxZ, Zuv‡`i Avg †kªvZvi ev‡ivqvix m‡¤§j‡b m„ó msMxZ bq| wZwb wb‡RB wj‡L‡Qb, Ô†Lqvj Z †LqvjB! Avi ¸Yxi Avcb †LqvjB Pig K_v| c‡ii †Lqv‡j Mvb Kiv Z PvKwi Kivi mvwgj| gvÎ GB K_vwU g‡b Ki‡j Kv‡j Luv mv‡ne, †gŠRyÏxb Luv Avi Ave`yj Kwig Luv mv‡ne Qvov Avi KvD‡K g‡b Ki‡Z cvwi‡bÕ (c„ 178 ¯§„. A.)|

A_P cig ¯^Zš¿ GB Îqxi g‡a¨I mvb¨vj gkv‡qi ¯§„wZi AZ‡j Rgv c‡o‡Qb wZbR‡bi g‡a¨ †Kej `yRb| KviY Z…Zxq Rb‡K, gv‡b Ave`yj Kwig Luv mv‡ne‡K, (1872-1937) wZwb Lvm Avm‡i †kv‡bbwb| ï‡b‡Qb Avg Avm‡i – BDwbfvwm©wU Bbw÷wUD‡Ui n‡j ÔwbwLj e½ msMxZ m‡¤§j‡bÕi Z…Zxq evwl©K Abyôv‡b, 1937 mv‡j|

Avg †kªvZvi m‡¤§j‡b cwi‡ewkZ msMxZ Avi Lvm †kªvZvi Avm‡i m„ó msMx‡Zi cÖfvewel‡q `„óvš—¯^iƒc ˆdqvR Luvi K_vB ejv hvq| KjKvZvi wm‡bU n‡ji 1934 mv‡ji ÔwbwLj e½ msMxZ m‡¤§jbÕ †_‡K 1940 mvj ch©š— wewfbœ wgDwRK Kbdv‡i‡Ý †kvbv ˆdqvR Luv mv‡n‡ei msMxZI A¯’vqx m¤ú`iƒ‡c Rgv c‡o‡Q Awgqbv‡_i mÂqx wnmv‡ei Lv‡Z|

wKš‘ ¯’vqx AvgvbZiƒ‡c Zuvi ¯§„wZi AZ‡j Rgv n‡q Av‡Q – 1915 mv‡ji GK mܨvq m¨vb¨vj gkv‡qi ¸i“ k¨vgjvj †¶Îxi msMxZM„‡n A¨v‡gPvi MvqK myavsïiÄb evMwP Ii‡d bbx Avi †ckv`vi MvwqKv gvjKvRvb AvMÖvIqvjxmn GKB div‡k cvkvcvwk e‡m †kvbv ˆdqvR Luv mv‡n‡ei m„ó wPi¯§iYxq msMxZ| ¯§„wZa„Z †mB AwfÁZvwU muvBwÎk ermi ciI KjKvZvi mvßvwnK †`k cwÎKvi (1952 mv‡j †`k cwÎKv mvßvwnK wQj) iPbvq ûeû eY©bv Ki‡Z wM‡q wKQyB LuyR‡Z nqwb mgS`vi GB msMxZ‡kªvZvi| Zuvi †m-¯’vqx AvgvbZwU evsjvfvlviB ¯’vqx AvgvbZ n‡q Av‡Q ¯§„wZi AZ‡j MÖš’iƒ‡c|

Dwj­wLZ welqwU mwe¯—v‡i ewY©Z n‡q‡Q, XvKvi gvIjv eªv`vm© I KjKvZvi cÖwZfvm cÖKvwkZ Avgvi gnvb †kÖvZv eBwU‡Z| gnvb †kÖvZv AvL¨vwqZ n‡q‡Q GKwU ¯’vb Avi GKwU cvÎ| ¯’vbwU KjKvZv, Avi cvÎwU ZviB m„ó Awgqbv_| MÖš’wUi AvavwiZ welq Z`vbxš—b Awef³ e½‡`‡ki kv¯¿xqmsMxZ PP©vi ¯^Y©ce© – wLªóxq ga¨DwbkkZK †_‡K ga¨wekkZK ch©š— kZel©|

eBwU‡Z †`Lv hv‡e †h, ivMmsMx‡Zi mgS`vi kni KjKvZvi wbwg©wZ‡Z c~e©e‡½i wkíx-†kªvZv-D‡`¨v³v‡`i †ek mvievb Ae`vbB wQj| Ae`vbUv ivLvi ¯’vb XvKv  bv-nIqvi KviY, ZLb KjKvZvB wQj civaxb †`kUvi mKj Kg©Kv‡Êi †K›`ª| GLb †hgb Avgv‡`i ¯^vaxb †`kUvi hveZxq Kg©Kv‡Êi †K›`ªiƒ‡c M‡o D‡V‡Q XvKv, weMZ PviwU `kK a‡i|

GB XvKv‡K KjKvZvi g‡Zv D”Pv½msMx‡Zi mgS`vi †kªvZvi kniiƒ‡c AvgivI wK M‡o Zzj‡Z cvwi bv? Dcgnv‡`‡ki †kªôZg kv¯¿xqmsMxZ-wkíx‡`i h_v‡hvM¨ AvwZ‡_qZvq wbqwgZ eiY K‡i? msMxZwkíx Ges †ev×v †kªvZvi RjmvN‡i mK‡j wg‡j Abya¨vb mnKv‡i Zuv‡`i mm¤£g kªeY K‡i?

D”Pv½msMxZwkíxi m‡½ mgS`vi †kªvZvi m¤úK©wU †h Kx, †mwU mg¨K gg©½g n‡e D¯—v` wem&wgj­vn& Luvi (1916-2006) `xN© RxebwU Abyaveb Ki‡j| wZwb BD‡ivc-Av‡gwiKvi `vwg Mvwoevwo, Kuvwo Kuvwo UvKvKwo, GgbwK bvMwiK‡Z¡i my‡hvM-myweav msewjZ Avgš¿YI cÖZ¨vL¨vb Ki‡Zb †Kej GB e‡j †h, †mme †`‡k wZwb mewKQy †c‡jI, Zuvi cÖvwZw¯^K wk‡íi †emygvi mgS`vi †Zv cv‡eb bv| 

G-I Avgiv Rvwb †h, A‡bK we¯§qKi cÖwZfvai kv¯¿xqmsMxZwkíx evsjv‡`‡kiI GLv‡b †mLv‡b c‡o Av‡Qb Abeav‡b, †hb cwiZ¨³| d‡j Zuviv AcwPZ n‡”Qb AweKwkZiƒ‡cB – mgS`vi †kªvZvi †cÖiYvi Afv‡e Ges msMxZ cwi‡ek‡bi AbyK‚j cwi‡e‡ki AbU‡b| h_v D`¨‡g Avwe®‹…Z Ges h_v D‡`¨v‡M cwi‡ewkZ n‡j GuivI gvwZ‡q Zzj‡Z cvi‡Zb XvKv‡K, †hgb 1931 mv‡j KjKvZv‡K gvwZ‡q Zz‡jwQ‡jb AvMÖvi ARvbv-A‡Pbv †Lqvwjqv gykZvwi evC|

[KjKvZvi AKvjcÖqvZ Uc‡Lqvwjqv jvjPuv` eov‡ji ¯§„wZ‡Z Zuvi msMxZÁ cyÎ ivBPuv` eovj KZ…©K Av‡qvwRZ ÔjvjPuv` Drm‡eÕ ZuviB mgS`vi cyÎ welYPuv` eovj KZ…©K AvMÖv †_‡K AvbxZ I cwi‡ewkZ gykZvwii †Lqv‡ji †iwW‡qv-wi‡j †Rvovmuv‡Kvi evwo‡Z e‡m ï‡b Awff‚Z n‡q, eovj-evwo‡Z †Uwj‡dvb K‡i, ¯^qs iex›`ªbv_ VvKzi ivBPuv` eovj‡K e‡jwQ‡jb – GB wKbœiKÉ †`ex‡K †Kv_vq †c‡j? Ggb Mvb †Zv mPivPi †kvbv hvq bv| Gui Mvb Avwg mvg‡b e‡m ïb‡Z PvB| e¨e¯’v K‡iv|]

KjKvZvi eovj‡`i g‡Zv m”Qj mvsMxwZK cwievi wKsev wg·`i g‡Zv abvX¨ msMxZ‡cÖgx M„n XvKv‡ZI Av‡Q| Av‡Q ivRavbx Qvov e„nËi evsjv‡`‡kI| †bB †Kej †mB gvbwmKZv, PP©v Ges D‡`¨vM| _vK‡j, Kv‡j Kv‡j, †KvwU-†jv‡Ki GB gnvbMiwUI n‡q DV‡Z cv‡i D”Pv½msMx‡Zi mgS`vi kni| †mB myev‡` †`kgq cÖmvi jvf Ki‡Z cv‡i kv¯¿xqmsMxZ Ges D‡V Avm‡Z cv‡i ivMmsMx‡Zi KvjRqx wkíx, G‡Ki ci GK – cÖRb¥ ci¤úivq| 

†bB ejvUv AbeavbekZ| gvbwmKZv, PP©v Ges D‡`¨vM bv-_vK‡j AvR †_‡K GKkZ Qq ermi c~‡e© PÆMÖv‡gi ey‡K 1906 mv‡j cÖwZwôZ n‡Zv bv ÔAvh© msMxZ mwgwZÕ| 1920 mv‡j cÖwZwôZ n‡Zv bv ZviB DËivwaKvix Awef³ e½‡`‡ki cÖ_g msMxZ we`¨vjq wn‡m‡e ÔAvh© msMxZ we`¨vcxVÕ| G cÖwZôvb †`kfv‡Mi Av‡MB eo gv‡ci me©fviZxq D”Pv½msMxZ m‡¤§j‡bi mdj Av‡qvR‡bi gva¨‡g G‡`‡ki kv¯¿xqmsMx‡Z wb‡ew`ZwPË A‡bK D‡j­L‡hvM¨ wkíxi m„wó K‡i‡Q| wKš‘ m½wZi Afv‡e GB e‡bw` cÖwZôvbwU axi-A_P-wbwðZ MwZ‡Z gwjb n‡Z _v‡K – Z‡e Av‡Rv G‡Kev‡i wejxb n‡q hvqwb|

D”Pv½msMxZgb¯‹Zv, PP©v I D‡`¨v‡Mi civKvôv †`wL‡q P‡j‡Q XvKvi msMxZ‡cÖgx `¤úwZ kwdDi ingvb I Elv ingvb cÖwZwôZ Ôï× msMxZ cÖmvi †MvôxÕ-kxl©K cÖwZôvbwUI – †mB 1974-75 mvj †_‡K| cÖvq Pvi `kK eqmx G-cÖwZôvb m½wZi Afv‡e kv¯¿xqmsMx‡Zi Avš—‡`©kxq m‡¤§j‡bi Av‡qvRb †Zgb GKUv Ki‡Z bv cvi‡jI evsjv‡`‡ki cÖZ¨š— AÂj †_‡K wbôv mnKv‡i Luy‡R †c‡Z D”Pv½msMx‡Zi D”Pgv‡bi wkíx‡`i XvKv gnvbM‡i G‡b cÖvqkB GKiv‡Zi, KL‡bvmL‡bv `y-wZb w`‡bi w`evivwÎi AbyôvbI, wbqwgZ g¯’ K‡i hv‡”Q| ¯^vgxi g„Zz¨i ci †_‡K cÖwZôvbwU cwiPvjbv K‡i hv‡”Qb Zuvi mnawg©Yx I mvabmw½bx Elv GKvB|

PÆMÖv‡gi K…Zx D”Pv½msMxZwkíx ¯^cœgq PµeZx© KZ…©K cÖwZwôZ Ôm`vi½ D”Pv½msMxZ cwil`Õ 1998 mvj †_‡K wbqwgZ K‡i hv‡”Q †`kxq wkíx wb‡q wØgvwmK Ges Avš—‡`©kxq wkíx mgš^‡q evwl©K D”Pv½msMxZ m‡¤§jb| G cÖwZôvbwUi GKK Ae`vbwU nj Ômyik„½viÕ-kxl©K D”Pgvbm¤úbœ Avbylw½K GKwU D”Pv½msMxZ-cÎ cÖKvkb| A_©MZ mxgve×Zvi Kvi‡Y g‡bi g‡Zv Av‡qvRb K‡i DV‡Z cvi‡Q bv GivI|

Dwj­wLZ †cÖ¶vc‡UB evsjv‡`k I fvi‡Zi D”Pv½msMxZ‡cÖgx †e½j Ges AvBwUwmi g‡Zv Ki‡cv‡iU KvjPv‡ii mw¤§wjZ AvbK‚j¨ jvf G‡`‡ki D”Pv½msMxZPP©v I G-msMx‡Zi mgS`vi m„wói eZ©gvb‡K m”Qj Ges fwel¨r‡K D¾¡j K‡i Zzj‡e| msMxZevÜe GB hyMjmw¤§jbB †gŠwjK msMx‡Zi RM‡Z `xN©cÖZxw¶Z ÔmvsMxwZK mv¶iZvÕi cÖmv‡iI eûjevwÃZ MwZ Avb‡e| GLv‡b ÔmvsMxwZK mv¶iZvÕ-welqwUi wKwÂr cÖvmw½K e¨vL¨v`vb cÖ‡qvRb|

msMx‡Zi gnvb Abyôv‡b mywkw¶Z AwZw_‡`i fvl‡Y MZvbyMwZK K_vevZ©v ï‡b me©`vB Avgvi g‡b n‡q‡Q †h †Kej kvwãK mv¶iZv Avi mvs¯‹…wZK mv¶iZvB †klK_v bq, mvsMxwZK mv¶iZvI Acwinvh©| AZtci aviYvUv Av‡iv †Rvi`vi n‡Z _v‡K gnvb wkíx‡`i Abyôvb ïi“ nevi ci †_‡K, mvg‡bi mvwi‡Z emv m¤§vwbZ †kªvZv‡`i fzj Zv‡j fzj j‡q nvZ-cv Pvjv‡bvi Drcv‡Z| Guiv cÖvqkB Abyôv‡bi e¨qwbe©v‡n Ask-†bIqv ev D”PZg nv‡ii wUwKU-†Kbv mykxj mgv‡Ri cÖ_g mvwii wkw¶Z bvMwiK| Gu‡`i Afve ïay mvsMxwZK wk¶viB| †m AfveUzKz †gvP‡bi `vwqZ¡ cÖ_gZ ms¯‹…wZaviK‡`i Ges wØZxqZ msMxZKviK‡`i|

ZvB e‡j Avwg eje bv †h †Kvb&Uv KvRix, †Kvb&wU ˆPZx, †Kvb&Uv gv›`&, †Kvb&wU jvDbx, †KvbwU cÖeÜ, †KvbwU aª“c`, †KvbwU †Lqvj, †KvbwU Uàv, †KvbwU Vzswi- GmeI Rvb‡Z-eyS‡Z n‡e †kªvZ…mvavi‡Yi| ejwQ †Kej, Bs‡iwR‡Z hv‡K e‡j, ÔA¨vwewjwU Uz †imcÛ&Õ – Zv-B _vKvi K_v| gv‡b Mvb ï‡b mvov w`‡Z cvivi K_v, b~¨bZg ¸Yveavi‡Yi ¶gZvi K_v|

cÖm½µ‡g ebdz‡ji GKwU M‡íi K_v g‡b co‡Q| GK M„n¯’ Mv‡bi Avmi †_‡K wd‡i G‡m K¬vš— n‡q ï‡q c‡owQ‡jb| M„wnYxi cÖkœ ÔwK ïb‡j nu¨vMv, AvovB NÈv a‡i?Õ Ôeyu‡`wiqvÕ e‡j f`ª‡jvK cvkevwjk AuvK‡o P¶z eyR‡jb| ZvB e‡j Avwg ejwQ bv †h cwÊZ I¼vibv_ VvKzi Kx K‡i †KejgvÎ ÔwgZIqvÕ-kãwU w`‡q bvbviK‡gi Ôfve©vj †kcÕ ev evwPK AvK…wZ Ges ÔmvDÛ‡¯‹cÕ ev aŸwbwP‡Îi mvnv‡h¨ bZzb bZzb ÔkÖ“wZg~wZ©Õ I Ôkªve¨MVbÕ Dcnv‡ii Wvwj mvwR‡q GKwU ew›`k‡K Awe¯§iYxq K‡i Zzj‡Zb †mUvI eyS‡Z n‡e †kªvZvi|

welqe¯‘-we‡klÁ nIqvi K_v Avwg Av‡`Š ejwQ bv| †mUv mgqwe‡k‡l †Kgb weiw³i m„wó K‡i Zvi GKUv `„óvš— w`w”Q| Avwg ZLb PÆMÖvg K‡j‡R AvBGmwmi QvÎ, mvj 1957| kn‡ii e‡bw` D”Pv½msMxZ-cÖwZôvb ÔAvh©msMxZÕ-Gi wZb w`be¨vcx evrmwiK msMxZvbyôv‡b KjKvZv-evivYmx †_‡KI eo eo wkíxMY G‡m‡Qb| wewfbœ †mk‡b fvM Kiv w`evivwÎi Abyôvb – cÖfvZx, ˆeKvjx, mvܨ, ˆbk BZ¨vw`| 

gxiv e‡›`¨vcva¨vq, cÖm~b e‡›`¨vcva¨vq cÖgyL MvB‡Qb †Lqvj Avi mZxbv_ gy‡Lvcva¨vq, gvb‡e›`ª gy‡Lvcva¨vq cÖgyL ivMcÖavb Mvb| Zejv m½Z Ki‡Qb †ebvi‡mi Avï‡Zvl fÆvPvh© I XvKvi †gvnv¤§` †nv‡mb cÖgyL| gÂmsjMœ cÖ_g-wØZxq mvwii wewkó †kªvZ…gÊjx wb‡R‡`i AvOz‡ji K‡i ¸‡Y ¸‡Y mg-duvK Avi Lvbvcywi-Pµ`vwii Ggb cv°v wnmve Ki‡Qb, †hb cix¶KgÊjx MvqK-ev`‡Ki cix¶vB wb‡”Qb|

`ycyi bvMv` g‡Â G‡m GKZv‡ji GKUv ivMcÖavb Mvb ai‡jb gvb‡e›`ª gy‡Lvcva¨vq| Av¯’vwUB evi `yB-wZb Ny‡i-wd‡i †M‡q – †gRvR cv‡”Qb bv e‡j D‡V †M‡jb| ewÂZ †kÖvZv‡`i K_v w`‡jb, iv‡Zi Avm‡i †kvbv‡eb| ZL‡bv wZwb ZZ cwiwPZ n‡q I‡Vbwb e‡j Avgiv, K‡j‡Ri Zu¨v‡`vo QvÎiv, wkíxi IB bvUKxq AvPiY‡K cvKv‡gv Ávb K‡i †mkb †k‡l wR‡Ám Kijvg – Agb K‡i D‡V †M‡jb †Kb? bvq‡KvwPZ †Pnvivi Rwg`vwi VvUev‡Ui gvbylUv gyPwK †n‡m ej‡jb : Avgiv g‡Â DwV †gRv‡R Mvb Kievi Rb¨, Zvj-jq-mg-duv‡Ki cix¶v †`evi R‡b¨ bq| GK cvj fvUcvovi cwʇZi cvj­vq c‡o Mv‡bi ¯^Ztù‚Z© †gRvRUvB nvwi‡q †d‡jwQjvg|

G †Zv †Mj Mvq‡Ki †gRvR nviv‡bvi K_v| Gevi †kªvZvi gyW nviv‡bvi K_v ïbyb KzgvicÖmv` gyLvwR©i fvlvq :

ÔGK evey bZzb Kbdv‡i‡Ý Mvb ïb‡Z †M‡Qb, wZwb `ywU iv‡Mi bvg ï‡b‡Qb Rxe‡b| cÖ_‡g GK †mZvwi G‡m em‡jb, Zuvi evRbv ïi“ n‡Z cv‡ki f`ª‡jvK‡K wR‡Ám Ki‡jb ÔKx ivM evRv‡”Q gkvB, RqRqš—x bv jwjZ?Õ f`ª‡jvK gb w`‡q ïbwQ‡jb, ms‡¶‡c Reve w`‡jb Ôcywiqv a¨vbkªxÕ| c‡ii AvwU©÷ Mv‡b em‡ZB Avevi †mB cÖkœ| cv‡ki f`ª‡jvK Gevi GKUz wei³ n‡qB ej‡jb Ôïb‡jb bv Dwb Av‡M †envM †M‡q Zvi              ci gvj‡Kvl MvB‡eb, A¨vbvD݇g‡›UB †Zv ejv nj|Õ

Zvici Avevi evRbvi cvjv| Gevi IB GKB cÖkœ Kivq Avgv‡`i eveywU agK †L‡jb ÔKx gkvB jwjZ jwjZ Ki‡Qb! †m †Zv †fv‡ii ivM, Dwb `ievwi Kvbvov evRv‡”Qb| eKi-eKi Ki‡eb bv|Õ Gi ci Kbdv‡i‡Ýi †miv Avmi †fv‡ii w`‡K, fviZel© Ry‡o bvgKiv weivU GK Luv mv‡n‡ei Mvb| Zejv, †Rvov Zvbcy‡iv, nv‡g©vwbqvg, †PjvPvgyÊvq †÷R f‡i †M‡Q|

Luv mv‡ne m‡e myi jvwM‡q‡Qb P¶z ey‡R| Avgv‡`i eveywU Avi _vK‡Z cvi‡jb bv| wdm&wdm& K‡i Avevi cÖkœ Ki‡jb Ô`v`v, Luv mv‡ne wK GBevi jwjZ MvB‡Qb?Õ Gevi cv‡ki f`ª‡jvKwU Ny‡i e‡m A‡bK¶Y a‡i wPwe‡q wPwe‡q †`‡M †`‡M DËi w`‡jb, Ôbv, G jwjZ bq| G jwj‡Zi †mR fvB wewcb| nv‡j B AvB †i‡j PvKwi †c‡q‡Q| kvjv by¨B‡mb&m&!Õ

Lye D”P`‡ii m~² iwmKZv bv n‡jI Gme M‡íi g‡a¨ eQi cÂv‡kK Av‡Mi AvenvIqv Av‡Q| G cÖKv‡ii †kªvZvI AvRKvj †bB, Avi Kv‡jvqvZx Mvb ï‡b AvRKvjKvi gv gvwm Lywoiv  LyuK&-LyuK& K‡i nv‡mbI bv| ga¨we‡Ëi nv‡Z KvjPvi co‡j Zvi gvbI ga¨eZx© nq| Mv‡bi ÷¨vÛvW© †hiKg, †kªvZviI ZvB|Õ            (c„ 236-237, Kz`iZ iw½wei½x, KzgvicÖmv` gy‡Lvcva¨vq)|

Kzgvieveyi eÜz kuvUzjeveyi ejv G-M‡íi ÔjwjZ jwjZÕ-Kiv †jvKwUi hv †bB Zv‡K ejv hvq ÔD”Pv½mvsMxwZK mv¶iZvÕ| MvqKwe‡k‡li Mv‡bi Av‡e`‡b mvov †`evi ¶gZv‡KB Ab¨K_vq †m-avivi Mv‡bi ÔmvsMxwZK mv¶iZvÕ ejwQ – †hgb aª“c‡`i, †Lqv‡ji, Uàvi, GgbwK iex›`ªmsMx‡ZiI|

ej‡Z Pvw”Q †h mvaviY †kªvZvi GB mv¶iZvUzKzB h‡_ó| Zuvi Rvbv _vKv Acwinvh© bq †h ivMmsMxZ fviZelx©q DËivwaKvi n‡jI †`kwUi me fvlv‡ZB me ivMmsMxZ cvIqv hvq bv †Kb| †hgb evsjvq aª“c` Av‡Q, wKš‘ gvivwV‡Z †bB| †Zgwb wnw›`‡Z ivMmsMx‡Zi e¨envi me‡P‡q †ewk †`Lv †M‡jI †m-fvlvq Uàv †bB|

me‡P‡q †ewk `vbv`vi `ª“wZmg„× RgRgvi Uàv Av‡Q cvÄvwe fvlvq| †kvwi wgqvi m„ó wgwn `vbvi †m-Uàv ivgwbwa ¸ß (1741-1839) Ii‡d wbayevey evsjv fvlvq G‡b‡Qb `vbv †gvUv K‡i| iex›`ªbv‡_i (1861-1941) Mv‡b Avevi Uàvi RgRgvi `ª“wZI K‡g‡Q| wnw›` fvlvq †hgb kã‡K wb‡q B‡”Qg‡Zv UvbvUvwb Kiv hvq Ges K_v‡K †nwj‡q `ywj‡q my‡ii Pv`‡i gywo‡q w`‡q Gwj‡q †`Iqv hvq, evsjv fvlvi kã‡K †Zgb Kiv hvq bv e‡j G-fvlvq †Lqvj-Mvq‡b mxgve×Zv _v‡K|

iex›`ªbv‡_i Mv‡bi Ômv¶i-†kªvZvÕiI Rvbv Acwinvh© bq †h ÔaŸwbj AvnŸvb gayi M¤¢xi cÖfvZ-A¤^i-gv‡SÕ-MvbwU ˆfie ev ˆf‡iuv iv‡M, ÔZe †cÖg myavi‡m †g‡ZwQ,/ Wy‡e‡Q gb     Wz‡e‡Q \Õ-MvbwU ci‡R, ÔKx ivwMYx evRv‡j ü`‡q, †gvnb, g‡bv‡gvnb,Õ-MvbwU Kvbvov‡Z, Ô†Kb †i GB `yqviUzKz cvi n‡Z mskq?Õ-MvbwU ˆfiex‡Z, Ôw`b hw` nj Aemvb/ wbwL‡ji Aš—igw›`icÖv½‡YÕ-MvbwU gyjZv‡b Ges ÔAkÖ“b`xi my`~i cv‡i NvU †`Lv hvq †Zvgvi Øv‡i \Õ-MvbwU c~iex ivwMYx‡Z AvavwiZ| (ˆkjRvb›` gRyg`vi)| 

Gi KviYUv iex›`ªbv_ VvKzi‡K 1896 mv‡ji 26‡k gv‡P© †jLv w؇R›`ªjvj iv‡qi GKwU wPwV‡Z cÖKvk †c‡q‡Q – Ô…Avcwb †hb ivMivwMYx¸‡jv Muy‡ov Kwiqv evwUqv gmjv¯^iƒc e¨envi Kwiqv Avcbvi MxwZKweZv iÜb K‡ib| KweZvUvB †hb Lv`¨, ivMivwMYx¸‡jv gmjv gvÎÕ (c„ 124, Mv‡bi †fjvq †ejv A‡ejvq, Abš—Kzgvi PµeZx©)|

ZvB ÔaŸwbj AvnŸvbÕ-MvbwU †fvi †ejvi AvKv‡ki cÖ_g RvMi‡Yi, ÔZe †cÖg myavÕ-MvbwU ivw·k‡li wb`ªvwenŸjZvi, ÔKx ivwMYx evRv‡jÕ-MvbwU NbvÜKv‡i AwfmvwiKv wbkxw_bxi c_we¯§„wZi, Ô†Kb †i GB `yqviUzKzÕ-MvbwU m½wenxb Amx‡gi wPi wein‡e`bvi, Ôw`b hw` nj AemvbÕ-MvbwU †iŠ`ªZß w`M‡š—i K¬vš— wbtk¦v‡mi Ges ÔAkÖ“b`xi my`~i cv‡iÕ-MvbwU k~b¨ M„nPvwiYx weaev mܨvi AkÖ“‡gvP‡bi (cÖv¸³) – iex›`ªmsMxZ¸‡jv GBme we‡kl †ev‡ai Av‡jv-Auvavwi‡ZI hw` †kªvZv‡K wb‡q hvq, Zey ejv hv‡e †h iex›`ªbv‡_i Mv‡b ÔA¨vwewjwU Uz †imcÛÕ, gv‡b mvov `v‡bi wk¶v †m-†kªvZvi Av‡Q| Ab¨K_vq, †kªvZvwUi iex›`ªbv‡_i Mv‡bi mvsMxwZK mv¶iZv Av‡Q|

wesk kZK †_‡K GB mvsMxwZK mv¶iZvi Avek¨KZv eû¸Y †e‡o †M‡Q, cÖavbZ cÖhyw³MZ Kvi‡YB| e¯‘Z, Dwbk kZ‡Ki †kl cv` †_‡KB gvbeRvwZi gwZ wd‡i‡Q evYx †_‡K aŸwbi w`‡K| divmx cÖZxKxev`x Kwe iu¨v‡ev, †jv‡Îgu, gvjv‡g© cÖgyL A‡jŠwKK `ªóvMY ev¯—e‡K Qvwo‡q Awaev¯—‡e †cuŠQv‡bvi Rb¨ kã‡K Zvi Avw`g gš¿kw³ †diZ w`‡Z †P‡q‡Qb|

cÖm½Z ¯§Z©e¨ †h, Av`¨Kv‡j kã D”PvwiZ n‡Zv Rv`ygš¿iƒ‡c – g‡bi fve cÖKv‡ki †P‡q cÖfve cÖmv‡ii D‡Ï‡k¨B †ewk| fv‡j©‡bi gZev‡`i wbwnZ evZ©vwU n‡”Q, msMx‡Zi g‡Zv KweZv‡KI Zvr¶wYK †hvMv‡hvM¶g K‡i Zzj‡Z n‡e Zvi mybv‡`i ga¨¯’Zvq – Ab¨ K_vq, ePbx‡qi gva¨‡g bq, kªeYx‡qi gva¨‡g|

cÖm½Z Av‡iv ¯§Z©e¨ †h, Kve¨ Ges msMxZ, GB `ywU wk‡íi wKQy †gŠj cv_©K¨ i‡q‡Q| cÖavb ZdvZUv n‡”Q – msMxZwk‡íi Zvrc‡h© ch©emvb N‡U Zr¶Yvr Ges cÖZ¨¶vr A_©vr mivmwi| cÖwZc‡¶ Kve¨mvwnZ¨ M~pv‡_© DcbxZ nq wKwÂr Nyic‡_, Ab¨ wKQy Aej¤^b K‡i; †hgb wKQy kãv_©| Kve¨ k‡ãi Ici wbf©ikxj, msMxZ ïay aŸwbi gva¨‡gI m¤¢e| eis D”Pv½msMx‡Zi cÖfvekvjx cÖKiY Ô†LqvjÕ kã‡K Aš—ivq fv‡e|

`~i-AZxZ wQj †Kewj wjwc-ms¯‹…wZi| wn‡me †bIqv n‡Zv †jvKUv ÔwjUv‡iUÕ wK bv, †`kwUi ÔwjUv‡iwmÕ-†iU KZ| wbKU-AZx‡Z Gj wcwm-ms¯‹…wZ| bZzb wn‡me ïi“ n‡jv ÔwjUv‡iUÕ †jvKUv ÔKw¤úDUv‡iUÕI wK bv| †`kwUi ÔwjUv‡iwmÕi m‡½ wn‡me ïi“ n‡jv ÔKw¤úDUv‡iwmÕiI| Dcw¯’Z eZ©gv‡b aŸwb-ms¯‹…wZi kw³e„w×i †iU †`‡L g‡b n‡”Q A`~i fwel¨‡Z Av‡iKwU wn‡meI ïi“ n‡Z cv‡i †jvKwU ÔwgDwR‡KUÕI wK bv, ev †`kwUi ÔwgDwR‡KwmÕ-†iU KZ|

G‡`‡ki ÔK¬¨vwmK¨vj wgDwR‡KwmÕ-†iU †Zv LyeB cyIi| †m-†i‡UiB Pi‡gvrKl© NUv‡e Ô†e½j AvBwUwm GmAviG D”Pv½msMxZ  Drme 2012Õ-Gi g‡Zv D”PZg gvbm¤úbœ Avš—R©vwZK Abyôv‡bi avivevwnKZv|