সাদা রুমাল/ লাল রুমাল

লেখক:

হা স না ত আ ব দু ল হা ই

পূর্বলেখ
ধানম-ির ২৭নং রোডে বেঙ্গল গ্যালারি ভেঙে নির্মাণকাজ চলছে বেশ কিছুদিন হলো, যার জন্য সেখানে আগের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয় না। হঠাৎ যখন মোবাইলে এসএমএস পেলাম সেখানে পারফরম্যান্স আর্টসের অনুষ্ঠান হবে সে-সময় অবাক হয়েছি এই ভেবে যে, ভেঙে ফেলা দালান আর নতুন দালানের জন্য জড়ো করা সরঞ্জামের ভেতর শিল্পীরা তাদের কাজ দেখাবে কী করে? প্রথম দিন সেখানে পৌঁছাতে-পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল; ভেতরে ঢুকে দেখি সামনের জায়গায় বিশ-পঁচিশজন দর্শক দাঁড়িয়ে আছে। ছেলে এবং মেয়ে, যাদের বয়স প্রায় সবারই ত্রিশের নিচে। বয়স্ক কেবল আমি নিজে, সে-সুবাদে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা আমাকে একেবারে সামনে দাঁড়ানোর জায়গা করে দিলো। একটি যুবক নিচু হয়ে জড়ো করা পাথর এক হাতে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙছে, অন্য হাতে মাইক্রোফোন ধরে রাখা, যার জন্য পাথর ভাঙার শব্দ শোনা যাচ্ছে পাশে রাখা দুটি স্পিকারে। এভাবে কিছুক্ষণ জড়ো করে রাখা কংক্রিটের টুকরোগুলো ভেঙে ফেলার পর যুবক শিল্পী উঠে দাঁড়াল। দেখলাম শীতের সন্ধ্যাতেও তার কপাল, গলা ঘামে ভেজা। দর্শক ছেলেমেয়েরা হাততালি দিলো।
দ্বিতীয় শিল্পীও যুবক। সে আগে যেখানে কফিশপ ছিল তার ভেতর দেয়ালে পিঠ রেখে দাঁড়িয়ে দর্শকদের দিকে কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তাকাল। তারপর মেঝেতে ঝুঁকে পাশ থেকে অনেকগুলো আস্ত ইট এনে সাজিয়ে রেখে শুয়ে পড়ল উপুড় হয়ে। সেই ভঙ্গিতেই এক হাত দিয়ে পাশে রাখা ইটগুলো টেনে এনে রাখল মাথায়, গলায়, পিঠে। বেশ কষ্ট করতে হচ্ছিল তার ভারী ইটগুলো এক হাতে টেনে এনে উপুড় হয়ে থাকা শরীর ঢেকে দিতে। এক সময় ইটের ভেতর ওর একটা হাত দেখা গেল। দেখে আমি চমকে গেলাম! কিছুদিন আগে একটি গার্মেন্ট কারখানার ভবন ভেঙে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর একটি যুবক শ্রমিকের মুখ আর হাতের দৃশ্য কাগজে ছাপা হয়েছিল। যুবকের হাত ধরেছিল একটি মেয়ে শ্রমিকের হাত, যার শরীরের কোনো অংশ দেখা যাচ্ছিল না। একটা মর্মবিদারক দৃশ্য, যা ওই ট্র্যাজেডির ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। সেটি কেবল একটি দৃশ্য ছিল না, হয়ে উঠেছিল একটা গল্প, জীবনস্পর্শী গল্পের ইনস্টলেশন আর্ট।

গল্প

নতুন কেনা বিএমডাব্লু স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেলের পেছনের চামড়ার মসৃণ সিটে বসে চল্লিশ বছর বয়সী সত্তর কেজি ওজনের ফর্সা চেহারার আলি রেজা ঘামছেন। ভেতরটা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হলেও তার সারাশরীর বেয়ে বৃষ্টির পানির মতো ঘাম ঝরছে। একটু পরপর হাতে ধরে রাখা সাদা ফেস টাওয়েল দিয়ে মুখ মুছছেন তিনি, তারপর ঘাড়, গলা, বুকের ওপরের খোলা জায়গা। ঘামের পানিতে ভিজে মোটা আর মসৃণ ফেস টাওয়েল জবজবে হয়ে গিয়েছে, একটু চাপ দিলেই নিংড়ে দেওয়া কাপড়ের মতো পানি ঝরে পড়বে, সে-বিষয়ে তার সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি ভিজে রুমাল নিংড়ে নেবেন না, কেননা পাশেই আরো সাদা ফেস টাওয়েল রয়েছে। গাড়ির ভেতরের
আলো-আঁধারিতেও সাদা রুমালগুলো বেলিফুলের মতো ঝলসে উঠছে। প্রায়-আবছা অন্ধকারে ডুবে থাকা সিটের ওই অংশটাই উজ্জ্বল, ঝলমলে। যেন কেউ হাসছে।
তিনদিন হলো আলি রেজা দাড়ি কামাননি। মুখের ফর্সা রং কালো দাড়িতে ঢাকা পড়েছে। চোখের নিচে গভীর কালো দাগ। ভোরবেলায় আয়নায় চেহারা দেখে প্রথমে একটু চমকে উঠেছিলেন, তারপর খুশিই হলেন। এই ভালো, প্রথম তাকে দেখে হঠাৎ কেউ চিনতে পারবে না। ভাঁজহীন পাঞ্জাবি-পাজামা পরার জন্য বেশ একটা ছদ্মবেশ তৈরি হয়েছে। এটা এখন তার খুব দরকার। তাকে কেউ দেখে ফেললেই বিপদের আশঙ্কা। তার মসৃণ মুখম-ল মিডিয়ার কল্যাণে প্রায় সবার চেনা।
তিনদিন হলো আলি রেজা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের বাড়িতে থাকছেন না। কোথায় থাকছেন নিজের স্ত্রী কিংবা ছেলেমেয়েদেরও বলেননি। বনানীতে নিতুকে যে-ফ্ল্যাটটা কিনে দিয়েছেন তার কথা স্ত্রী কিংবা ছেলেমেয়ে জানে না; সেখানে তিনি মাঝে-মাঝে বিকেলের পর সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটান। কখনো ছুটির দিনে সমস্ত দুপুর। দু-তিন মাস পরপর ব্যাংককে যাওয়ার কথা বলে নিতুর ফ্ল্যাটেই এসে থাকেন কয়েকদিন। ড্রাইভার জানলেও সে কাউকে বলবে না, টাকা দিয়ে তার মুখ বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া চাকরি যাওয়ার ভয়েও সে মুখ খুলবে না। একইভাবে মুখ বন্ধ করা হয়েছে ফ্ল্যাটের গার্ড, নিতুর কাজের ছেলেটার। এক বছর হয়ে গেল তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বেশ স্বাভাবিকভাবেই গিয়েছে তার দ্বৈতজীবন। শুধু মাঝে-মাঝে গোলমাল বাধিয়েছে নিতু। খুব লোভী হয়ে পড়েছে সে। তার চাহিদা বেড়েছে। টাকা-পয়সা বাড়াতে বলেনি, নিতু তাকে বিয়ে করতে বলেছে। চাপ দিয়েছে। আলি রেজা নরমে-গরমে তাকে শান্ত করেছেন। কিন্তু নিতু তার চাহিদা বাতিল করেছে বলে মনে হয় না। হয়তো সুযোগের অপেক্ষায় আছে। মাঝে-মাঝেই মান-অভিমান আর রাগ করে। সে আগে এমন ছিল না।
আলি রেজা আত্মগোপনের জন্য নিতুর ফ্ল্যাটে আসার পর সে পুরনো চাহিদা নতুন করে তুলেছে তার সামনে। তিনি শুধু অবাক হননি, রেগে গিয়েছেন। বিপদের সময় কেউ এমন প্রস্তাব দেয়? এখন কি তার বিয়ে করার সময়? ধমক দিতে গিয়েও সামলে নিয়েছেন। নিতুকে চটানো ঠিক হবে না। বলা যায় না, পুলিশকে সে-ই খবর দিয়ে দিতে পারে। ফুঁসে ওঠা সাপের মতো মেয়েরা কী না পারে? যেন খুব দুঃখ পেয়েছেন তার কথা শুনে, এমন ভঙ্গিতে তিনি বলেছেন, আমার এই বিপদের সময় তুমি নিজের স্বার্থের কথাই ভাবতে পারলে? এটা একথা বলার সময় হলো? নিতু ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। মুখ গম্ভীর করে বলল, তোমার স্বার্থ রক্ষার জন্যই বলছি। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকলে এখানকার চাকর-গার্ড কিছু বলতে পারবে না।
আলি রেজা অবাক হয়ে বলেছেন, ওরা এতদিন কিছু বলেনি, এখন হঠাৎ কাউকে কিছু বলতে যাবে কেন?
নিতু বলেছে ওরা কাগজে তোমার ছবি দেখেছে নিশ্চয়ই। পড়েছে অথবা শুনেছে সব কথা। তুমি পলাতক এটা জেনে গেছে। এখন ওরা বদলে যেতে পারে।
শুনে শঙ্কিত হয়েছেন আলি রেজা। নিতু ব্ল্যাকমেইল করছে বোঝা যায়, কিন্তু চাকর-গার্ডদের সম্বন্ধে যে-কথা বলল তাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তারা কাগজ পড়ে, বিশেষ করে ক্রাইম রিপোর্ট। তিনি শুকনো মুখে বলেছেন, এই তো কটা দিন। আজ না হলেও আগামীকাল জামিন পেয়ে যাব। তখন খোলামেলা হয়ে বাইরে-বাইরে ঘুরতে পারব। কারো তোয়াক্কা করতে হবে না। বলে তিনি নিতুর দিকে তাকালেন। যেন তার উদ্দেশেই বলা। শুনে নিতু গম্ভীর হয়ে গেল।
উকিল সাহেবের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে দেখা করেছেন আলি রেজা। উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনের জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। কিন্তু খোলাখুলিই বললেন, আশা কম। আগাম জামিন দেবেন না। নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলবেন তারা। কেন দেবেন না? মুখ শুকনো করে জিজ্ঞেস করেছেন তিনি।
কেসটা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দেশে-বিদেশে আলোড়ন তুলেছে। মানবাধিকার নিয়ে যারা কাজ করে সেসব সুশীল সমাজ সভা-সমিতি করছে, মিডিয়ায় ইন্টারভিউ দিয়ে আপনার বিচার আর শাস্তি দাবি করছে। এই জন্য উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের কেসটা দুর্বল হয়ে গিয়েছে।
নিম্ন আদালত? সেখানে আত্মসমর্পণ করলে জামিন পাওয়া যাবে না? আলি রেজা ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়কুটো ধরতে চায় সেভাবে অসহায় চোখে তাকান। তিনি চারদিক অন্ধকার দেখছেন।
মনে হয় না। তবে চেষ্টা করে যাব। আপনার হার্টের অসুখ আছে, ডায়াবেটিস এসব যুক্তি দেওয়া হবে। কাগজপত্র ঠিক রাখবেন। ওসবই ভরসা।
উকিল সাহেবের কথা শোনার পর তাকে বদলানোর কথা ভেবেছেন আলি রেজা। টাকা নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ভরসার কথা বলছেন না। আগে থেকেই হাল ছেড়ে বসে আছেন। গাড়িতে বসে নতুন কোন উকিল ধরা যায়, সে-কথা ভাবছেন আলি রেজা। হঠাৎ গাড়ির জানালায় ধাক্কার শব্দে চমক ভাঙল তার। তাকিয়ে দেখে শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেল হঠাৎ। ঘাম ঝরতে থাকল দ্বিগুণ বেগে। একটা পুলিশ গাড়ির জানালায় ধাক্কা দিয়ে কিছু বলছে। তাকে চিনে ফেলল কি? গজিয়ে ওঠা দাড়ির ভেতরও মুখটা শনাক্ত করে ফেলেছে সে? এখনই হাতকড়া পরাবে? ভাবতেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নামে। এতকাল একথা শুনে এসেছেন, এখন হাড়ে-হাড়ে টের পেলেন। ড্রাইভার পেছন ফিরে তার দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল। নির্দেশ চাইছে সে, কাচটা নামাবে কিনা। আলি রেজা ভাঙা গলায় বললেন, জানালা খুলে জিজ্ঞাসা করো কী চায়। তার গলার স্বর এখন ফ্যাসফেসে। ড্রাইভার কাচের জানালা খোলার পর পুলিশ হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখি? রোড পারমিট? ইনস্যুরেন্স?
শুনে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো হলো আলি রেজার। রুটিন চেক, মালিকের দিকে তাকাচ্ছে না। আলি রেজা ঘামছিলেন এতক্ষণ, তাই ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার কথাই মনে এলো। যাক, তাকে চিনতে পারেনি। নতুন উকিল খুঁজে নেওয়ার একটু সময় পাওয়া গেল। অনেককেই চেনেন, তাদের মধ্যে কাকে নিলে ভালো হয়, ভাবতে থাকলেন। মোবাইল বেজে উঠল। সেটটা ইতস্তত করে তুলে দেখলেন। তার স্ত্রীর নম্বর আর নাম দেখা যাচ্ছে। তিনি বেশ বিরক্ত হলেন, রাগলেনও কিছুটা। চাপাস্বরে বললেন, বলেছি আমাকে ফোন করো না। ওরা ট্র্যাক করে ফেলবে। লোকেশন পেয়ে যাবে।
তার স্ত্রী দুশ্চিন্তাস্বরে বললেন, কাল থেকে খবর পাচ্ছি না। দুশ্চিন্তায় আছি।
আলি রেজা বললেন, দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আমি ভালো আছি। তার স্ত্রী বললেন, কাগজে সাংঘাতিক সব লিখছে। টেলিভিশনেও সব খবরে থাকছে তোমার কথা। কী হবে গো? বলে প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। আলি রেজা চাপা ক্রোধের সঙ্গে বিরক্তি মিশিয়ে বলেন, এখন কেঁদে-কেটে নাটক করো না। তাতে বিপদ আরো এগিয়ে আসবে। ফোন বন্ধ করো। আমিই তোমাকে জানাব কেমন আছি।
তার স্ত্রী বললেন, এই পর্যন্ত একবারও তো জানালে না। বলতে-বলতে আবার কেঁদে ফেললেন তিনি। কান্নার মধ্যেই বললেন, তোমাকে কি অ্যারেস্ট করবে? রেগে মোবাইল বন্ধ করে দিলেন আলি রেজা। মেয়ে জাতটার ওপর মনটা কেচকে গেল। সবাই সমান।
পুলিশ ড্রাইভারের কাছ থেকে কাগজপত্র দেখে চলে গেলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন আলি রেজা। তার দিকে তাকায়নি। তিনি সাদা রুমালে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন, যেন কাশির দমক সামলাচ্ছেন অথবা নতুন জামাই। ট্রাফিক জ্যাম একটু পাতলা হয়ে এলে তার গাড়ি শামুকের মতো এগোতে থাকল সামনে। তখন তার মনে হলো স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল দুই প্রস্থ কাপড়, শেভিংয়ের জিনিসপত্র আর ওষুধ দিয়ে ক্যারি অন স্যুটকেসটা তৈরি করে রেখেছে কিনা। যদি জামিন নাই-ই দেয়, জেলেই যেতে হয় তাহলে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা ভালো। জেলে ঢুকে যাওয়ার পর এসব ভেতরে নেওয়া ঝামেলার, একথা শুনেছেন তিনি। দুদিন আগে
যে-স্যুট পরে অফিসে গিয়েছিলেন সেটা নিয়েই এখন আত্মগোপনে তিনি। কোটের পকেটে ডলার আছে, পাসপোর্ট আর দুটো টিকেট। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর – দু-জায়গাতেই যাওয়া যায়। কাপড়-চোপড় নিয়ে সমস্যা নেই। ক্রেডিট কার্ড আছে সঙ্গে। নতুন কিনে নেওয়া যাবে, যদি হঠাৎ এক কাপড়ে যেতে হয়। কিন্তু কাগজে পড়েছেন সব এয়ারপোর্ট, বর্ডার চেকপোস্টে তার আর তার পার্টনারের নাম-ছবি পাঠানো হয়েছে। গেলেই ইমিগ্রেশন ধরে ফেলবে। সুতরাং বিদেশে যাওয়ার কথা মনে এলেও ইমিগ্রেশনের নজরদারির কথা ভেবে সেই চেষ্টা করেননি। উকিল সাহেবও নিরুৎসাহিত করেছেন।
আলি রেজা আকাশ-পাতাল ভাবছিলেন। কীভাবে রাতারাতি মানুষের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, সে-কথা চিন্তা করে অবাক হচ্ছিলেন। সবকিছু ভোজবাজির মতো হয়ে গেল যেন। এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। মনে হয় দুঃস্বপ্ন দেখছেন। বাইরে তাকিয়ে দেখলেন, রোজকার মতো গাড়ি, বাস চলছে, একটু পরপর থমকে দাঁড়াচ্ছে। ফুটপাথে মানুষের ভিড়, হকারদের পসরা। রাস্তা পার হচ্ছে মেয়ে-পুরুষ বিপদের তোয়াক্কা না করে, ট্রাফিক পুলিশ হাত নাড়ছে, চিৎকার করছে। সড়কবাতি হলুদ হয়ে লাল হচ্ছে। কাক বসে আছে টেলিফোনের তারে। বিলবোর্ড থেকে সাবানের বিজ্ঞাপন নিয়ে হাসিমুখে তাকিয়ে মডেল মেয়ে। ওপরে ধোঁয়া আর ধুলায় ঢাকা, ফ্যাকাশে আকাশ। সবকিছুই আগের মতো, স্বাভাবিক। কোথাও কোনো পরিবর্তন নেই। কিন্তু তিনদিনের ভেতর তার জীবনযাপন আমূল পালটে গিয়েছে, তিনি এখন ভীত জন্তুর মতো গর্তে লুকিয়ে আছেন। আলো সহ্য হচ্ছে না তার। অন্ধকার হয়ে এলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তিনদিনে কি বিশাল পরিবর্তন এসেছে – তার বাড়ি-গাড়ি, টাকা-পয়সা, লোকলস্কর কিছুই কাজে আসছে না। উঁচু মহলে তার সব কনট্যাক্ট এখন সাইলেন্ট। তিনি ভীষণ একা, অসহায় আর দুর্বল হয়ে পড়েছেন অসুখ ছাড়াই। এতিমের মতো মনে হচ্ছে, যেন আপন, নির্ভরশীল কেউ নেই।
আকাশ-পাতাল ভাবছেন, হঠাৎ খেয়াল হলো গাড়ি অনেকক্ষণ চলছে না। দুদিকে তাকিয়ে দেখলেন। অন্য সব গাড়ি-বাসও অচল হয়ে দাঁড়িয়ে। ট্রাফিক জ্যাম? ভিআইপি কেউ যাবেন? কতক্ষণ লাগবে এই জ্যাম শেষ হতে? আরো কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর তিনি বেশ অস্থির হয়ে পড়েন। ধৈর্য হারিয়ে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করেন, কী হলো? গাড়ি নড়ছে না কেন? ড্রাইভার সামনে তাকিয়ে বলল, জ্যাম। তার স্বর নির্বিকার। যেন তার ড্রাইভার না, টাউন সার্ভিসের বাস ড্রাইভার। জ্যাম এতক্ষণ হবে কেন? সেই কখন থেকে বসে আছি। তিনি রুষ্ট হয়ে বলেন, যেন দোষটা ড্রাইভারেরই। ড্রাইভার বলল, মাঝে-মাঝে জ্যাম শেষ হতে সময় নেয়। আলি রেজার কাছে কথাটা নতুন না। শুনে তিনি চুপ করে থাকেন। ঢাকার রাস্তায় জ্যামের কোনো নিয়মকানুন নেই। কেউ বলতে পারে না কোথায় কখন জ্যাম হবে, কখন জ্যাম শেষ হলে আবার গাড়ি-বাস চলবে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক দিন পড়েছেন তিনি। নতুন কিছু নয়। তবে আগের সময় আর এখনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তিনি অধৈর্য হয়ে পড়েন। রাস্তায়
থাকতে-থাকতে তার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তিনি নিতুর ফ্ল্যাটে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে চান, যত শিগগির পারেন।
প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেলে তিনি ড্রাইভারকে বলেন, হর্ন বাজাও।
ড্রাইভার বলল, বাজায়া লাভ কি স্যার? সামনের সব গাড়ি আটকা। তারা পথ ছাড়বো ক্যামনে? শুনে তিনি চুপ করে যান। কোনো উত্তর খুঁজে পান না। কিছুক্ষণ পর মরিয়া হয়ে বলেন, দেখো তো বেরিয়ে, সামনে কী দেখা যায়? ড্রাইভার অনিচ্ছাসত্ত্বেও গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বের হয়। পাশের গাড়ির মাঝখানে অপরিসর জায়গা দিয়ে এঁকেবেঁকে হেঁটে যায় সামনে। দশ মিনিট পর ফিরে এসে বলে, মিছিল আইতাছে।
মিছিল? কিসের মিছিল? আলি রেজা বিরক্তির সঙ্গে বলেন। উটের পিঠে শেষ খড়কুটোর মতো শোনায় তার কথা। গার্মেন্টের শ্রমিকরা মিছিল বার করছে। বিরাট মিছিল। শুনে তার মুখ চুপসে যায়। তার মাথা থেকে আবার ঘাম ঝরতে থাকে দরদর করে। তিনি সাদা রুমাল দিয়ে ঘনঘন মুখ, গলা, ঘাড়, বুকের ওপর দিকের অংশ মোছেন। সাদা রুমাল ভিজে জবজবে হয়ে যায়। তিনি ভেজা রুমাল একদিকে রেখে আরেকটা রুমাল হাতে নিয়ে ঘাম মুছতে থাকেন। একটু পর সেটাও ভিজে জবজবে হয়। নিংড়ালেই পানি ঝরে পড়বে। সিটের ওপর সাদা রুমালের স্তূপের পাশে আজকের কাগজের স্তূপ। ইংরেজি, বাংলা। আগুনে পুড়ে যাওয়া গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ছবি। পাশে আগুনে পুড়ে যাওয়া নিহত শ্রমিকদের লাশ সারি দিয়ে রাখা। রঙিন সব ছবি। লাশগুলোর রক্তাক্ত রং তার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। জবাফুলের মতো লাল রক্তে ভিজে যাচ্ছে শ্রমিকদের শরীর। তিনি আতঙ্কে শিউরে ওঠেন। রক্তভেজা লাল রঙের লাশগুলো দেখার পর পাশে রাখা সাদা রুমালের স্তূপে চোখ পড়তেই সেগুলোর রং লাল হয়ে যায়। যেন রক্তে ভেজা।
তিনি আতঙ্কিত হয়ে দেখেন তার হাতে রাখা সাদা রুমালটাও এখন লাল দেখাচ্ছে। রক্ত যেন চুইয়ে পড়ছে। তার গলা দিয়ে গোঙানির মতো অস্ফুট স্বর বের হয়ে এলো। তিনি ড্রাইভারের কাছে পানির বোতলটা চাইলেন। তার গলা দিয়ে স্বর বের হচ্ছে না। ঘুমের মধ্যে বোবায় পাওয়া মানুষের মতো তিনি গোঙাতে থাকেন। ড্রাইভার নির্বাক হয়ে তার দিকে একবার তাকায়।
সব কাগজের হেডলাইন : মালিকের অবহেলায় একশ শ্রমিকের করুণ মৃত্যু। মালিক পলাতক।
ম্যানেজার হাতের প্যাকেটটা তার গাড়িতে তুলে দিয়ে বলেছিল, এখন আমাদের তৈরি টাওয়েল, হ্যান্ড টাওয়েল, ফেস টাওয়েলের খুব চাহিদা ইউরোপের মার্কেটে। নতুন লটের কিছু নমুনা রয়েছে প্যাকেটে। ব্যবহার করে দেখেন স্যার। ফিনিশিং কেমন হয়েছে জানাবেন।
গাড়ি অফিস থেকে বেরিয়ে চলতে শুরু করলে আলি রেজা প্যাকেটটা খুললেন। ভেতরে অনেকগুলো সাদা রুমাল। মেড ইন বাংলাদেশ লেখা। যাচ্ছে ইংল্যান্ডে টেস্কো রিটেইল চেইনে। প্যারিসের আপস্কেল দোকান লাফায়েটে। জার্মানিতে ওয়ালমার্টে। সব বায়ারের নাম লেখা ছোট সাদা লেবেলে। খুব সস্তায় ক্রেতারা কেনে এসব রুমাল, অন্যান্য গার্মেন্ট। বাংলাদেশের শ্রমিক খুবই চিপ। ওভারহেড কস্টও কম। পুরনো দালান, নড়বড়ে মেশিন, এলোমেলো ইলেকট্রিক লাইন, সিলিংয়ের প্লাস্টার খসে জংধরা রড দেখা যাচ্ছে, ছাদের ওপর কালো জেনারেটর চলার সময় ফ্যাক্টরি বিল্ডিং কেঁপে ওঠে থরথর করে, ঝড়ে বাঁশপাতার মতো। তাতে কী? দিব্যি প্রডাকশন চলছে। শ্রমিকরা রোবোটের মতো মাথা নিচু করে কাজ করে যাচ্ছে। গার্ড বাইরে যাওয়ার দরজায় তালা দিয়ে বসে-বসে ঢুলছে। এসব নিয়েই ফুলেফেঁপে উঠেছে গার্মেন্ট শিল্পখাত। এক নম্বর স্থানে চীনকে প্রায় ধরে ফেলছে বাংলাদেশ।
সাদা রুমালগুলো দেখতে-দেখতে গার্মেন্ট শিল্পখাতের শনৈঃ শনৈঃ উন্নতির কথা ভাবছেন আলি রেজা। মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। তাকিয়ে দেখলেন ম্যানেজারের নাম। একটু আগে যে তাকে স্যাম্পল হিসেবে রুমালগুলো দিয়েছিল। কী বলতে চায় সে? এই মাত্র তো দেখা হলো। কী হতে পারে দশ মিনিটে।
ম্যানেজারের বিষণœ, আর্তস্বর। স্যার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। বলে সে হাঁপাতে থাকে।
কী হয়েছে?
ছাদ ভেঙে পড়েছে। তিনতলা, দোতলা সব একতলার সঙ্গে কলাপস্ করেছে। আগুন জ্বলছে। অনেকে মারা গিয়েছে। এখনো ফায়ার ব্রিগেড আসেনি।
আপনি কোথায়?
আমি?
আমি স্যার চলে এসেছি। আশপাশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে সব শ্রমিক বেরিয়ে এসেছে। তারা সবাই মারমুখো। উত্তেজিত। মালিক, ম্যানেজারকে খুঁজছে। আপনি এদিকে আসবেন না স্যার। মোটেও নিরাপদ নয়। আমি গ্রামে চলে যাচ্ছি।
ম্যানেজারের কথা শুনে আলি রেজার ধমনীর রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল। তারপরই তিনি ঘামতে শুরু করেন।
গার্মেন্ট শ্রমিকদের মিছিল রাস্তায় একপাশ দিয়ে হেঁটে গেল। ব্যানারে তার গার্মেন্টসের নাম। মালিকের অবহেলার জন্য শাস্তি চাই। গ্রেফতার করা হোক। এসব লেখা নিয়ে প্ল্যাকার্ড শ্রমিকদের হাতে ওপরের দিকে উঁচু করে রাখা।
আলি রেজা যতক্ষণ মিছিল পার হয়ে না যায় মুখ নিচু করে রাখেন। একটু পরপর মুখ মোছেন সাদা রুমাল দিয়ে। মুখের ঘামে ভিজে সাদা রুমাল লাল হয়ে যায়। তিনি সড়কে সেটা ফেলে আরেকটা সাদা রুমাল খুলে নিয়ে মুখ মোছেন। সেটাও ভিজে লাল টকটকে দেখায়। আলি রেজা একটার পর একটা রুমাল তুলে নেন। সব লাল। গাড়ির বাইরে মিছিলের মানুষের পদশব্দ হাতুড়ির মতো বুকে এসে লাগে। তার বুকের ভেতর হৃৎপি- কামারের হাঁপরের মতো শব্দ তোলে জোরে-জোরে। আলি রেজা বুক চেপে ধরেন, তার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার চারদিকে এখন শুধুই লাল রং। তিনি গাড়ির সিটে ঢলে পড়েন কেটে ফেলা কলাগাছের মতো। পুরু চামড়ার সিটে পড়ে ভোঁতা শব্দ হয়। রক্তে ভেজা রুমালগুলো হাতের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে, তারপর গড়াতে-গড়াতে পড়ে যায় সিটের সামনে, যেখানে তার পা দুটো হাড়-গোড় ভাঙা ‘দ’য়ের মতো পড়ে আছে। আলি রেজা মুমূর্ষের মতো হওয়ার আগে আতঙ্কিত স্বরে বলেন, হাসপাতালে। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো। ড্রাইভার তার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলে, এহনো মিছিল আসতাছে। রাস্তায় জ্যাম। আলি রেজার হঠাৎ মনে হয় ড্রাইভারটার চেহারা শ্রমিক নেতার মতো। এ তার ড্রাইভার নয়। তিনি আর ভাবতে পারেন না, জ্ঞান হারিয়ে গাড়ির সিটে শরীর বাঁকিয়ে শুয়ে থাকেন।

উত্তরলেখ
গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির সামনে কয়েকজন নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে। ময়লা-ছেঁড়া কাপড় পরে একজন যুবক এবং একজন যুবতী এসে দাঁড়াল সামনের ফাঁকা জায়গায়। দুপাশে ইট, কংক্রিট, লোহার রড। তারা দুজন নিঃশব্দে শুয়ে পড়ল ঘাস উঠে যাওয়া মাটিতে। তারপর হাত দিয়ে টেনে মাথা, কাঁধ, পিঠ, কোমরের ওপর টেনে তুলল দুপাশের ইট, কংক্রিটের ব্লক, জংধরা লোহার রড। একদম শেষে দেখা গেল তাদের দুজনের নিস্পন্দ হাত একটি অন্যটিকে প্রাণপণে জড়িয়ে ধরেছে।
হাত দুটি ক্রমেই রক্তে লাল হয়ে এলো। ক্যামেরাম্যান ছবি তুলল, ভিডিও করল স্মার্টফোনে, টেলিভিশন ক্যামেরায় বন্দি হলো দুটি মানুষের সমাধিস্থ হওয়ার দৃশ্য। মৃত্যু তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। তাদের চেহারা দেখা যাচ্ছে না, জড়িয়ে ধরা রক্তাক্ত দুটি হাত থেকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন উঠে আসছে।
পুলিশ এসে ভিড় সরে যেতে বলল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে, জানাল তারা টেলিভিশন চ্যানেলের কর্মীদের। কেউ যেন ঘটনা বিকৃত না করে তার জন্য সতর্ক করা হলো।
আলি রেজা অফিসে চলেছেন। তার সিটের পাশে অনেকগুলো সাদা রুমাল। তার উকিল বলেছে, মামলা অনেকদিন চলবে। সাক্ষীর অভাবে খারিজ হয়ে যাবে, এসব ক্ষেত্রে সাধারণত যা হয়ে থাকে। আলি রেজা সাদা রুমালে ঘামে-ভেজা মুখ মুছে নিলেন কয়েকবার। ভাবলেন, সাতদিন তার হাসপাতালে থাকাটা ছিল নিরর্থক। অযথা ভয় পেয়েছিলেন। শুধু মূল্যবান সময়ের অপচয়। যাদের অর্থ, প্রতিপত্তি আছে তাদের ভয়ের কিছু নেই। এটা তো তিনি জানতেনই। তারপরও অমন অস্থির আর আতঙ্কিত হয়ে ওঠা ছিল তার পক্ষে ছেলেমানুষি। তিনি খবরের কাগজে চোখ বোলালেন। আইএমএফের কর্ণধার ক্রিশ্চিয়ান লাগার্দের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ সম্বন্ধে লিখেছে, অবহেলা কোনো ইচ্ছাকৃত অপরাধ নয়। একে বড়জোর দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। আইনের প্রতি আলি রেজার শ্রদ্ধা বেশ বেড়ে যায়। তার নতুন উকিল বেশ স্মার্ট। সব লিগ্যাল লুপহোল তার জানা। কিন্তু ওই সুশীল সমাজের আয়োজিত পারফরম্যান্স আর্ট, নাকি এক বুজরুকি, সে-সম্বন্ধে কী করা যায়? তারা বেশ বিরক্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তার ভেঙেপড়া ফ্যাক্টরির সামনের খোলা জায়গায়। ইট, কংক্রিট আর লোহার রডে চাপাপড়া পুরুষ আর মেয়েটির ছবি চাপাপড়ার ছবির দৃশ্য তৈরি করছে তাদের নিয়ে আসা দুজন পুরুষ আর মেয়ে। লোকজন জড়ো হয়ে দেখছে, কথা বলাবলি করছে গুঞ্জনের মতো। কাগজে, টেলিভিশনেও দেখিয়েছে বলে শুনেছেন। মোবাইল বেজে উঠল। তিনি কানের কাছে নিলেন। ম্যানেজার উত্তেজিত হয়ে বলছে, স্যার দুজনের ইটের নিচে অদৃশ্য শরীর আর বেরিয়ে আসা ধরে রাখা রক্তাক্ত হাতের ছবি ইন্টারনেটে ট্রেন্ডিং হচ্ছে। ট্রেন্ডিং? হোয়াট ডু ইউ মিন? ম্যানেজার বলল, মানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সারা পৃথিবীতে খুব বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
শুনে আলি রেজা চুপ করে থাকেন। ম্যানেজারের কথার অর্থ বোঝার চেষ্টা করেন। ট্রেন্ডিং, ভাইরাল এসব কথা তিনি আগে শোনেননি। স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও কেবল কথা বলা আর শোনা, বড়জোর টেক্সট মেসেজ পড়া, এই পর্যন্ত করেছেন। তিনি অ্যাপলের আইপি সেভেন ফোনটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
তার ভ্রু কুঁচকে উঠেছে, কপালের শুকনো মাঠে লাঙল চষে যাওয়ার পর সমান্তরাল কটি রেখা। তিনি আবার ঘামতে শুরু করেছেন। সিটে তার পাশে রাখা সাদা রুমালগুলো আস্তে-আস্তে লাল হয়ে যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার