হুরি

লেখক:

বদরুন নাহার

জরিনা যেন ঝড়ে উপড়ানো গাছ! কালবৈশাখির পর উঠান থেকে ভেঙেপড়া গাছ যেমন টেনে সরাতে হয়, তেমনি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আক্কাস আলী। যদিও তার এক বাহুতে আটকে আছে শিশুটি, আর তা যেন জন্মান্তর ধরে আটকেই আছে।

সকালের শান্ত শহর, আজ যেন আরো বেশি নীরবতায় ডুবে যাচ্ছে তাদের প্রস্থানে। অথচ গতকাল প্রচন্ড ঝড়ের বেগেই হাসপাতালে এসেছিল তারা। জরিনার পেটে আগুনের মতো জ্বালা-পোড়া! বেলা বেড়ে যাওয়া রোদের তাতানো ঝাঁজ জেগেছিল তাদের কণ্ঠে। অস্থিরতার চিৎকার-চেঁচামেচিতে সহসা নিজেদের গাঁইয়া প্রমাণ করেছিল। অভ্যস্ত নার্স, নির্বিঘ্নে ধমক দিলে তবেই থামে তারা। আক্কাস আলী ডাক্তারের শান্ত আর সুশ্রী মুখের দিকে কাঙালের মতো চেয়েছিল, তখন জরিনা তার ফুলে-ফেঁপে ওঠা পেটের জ্বালাপোড়া কমাতে হাসপাতালের দেয়াল জড়িয়ে ধরে। সেখানে চকচকে টাইলসগুলো ছিল বেশ ঠান্ডা, জরিনার মনে হলো যেন বেহেশতের মধ্যে এসে পড়েছে! এখন আর চিন্তা নেই।

কিন্তু সেই বেহেশত আর কতক্ষণ? চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকে রাত পর্যন্ত তো সারা শরীরে দোজখের ওম নিয়ে কাতরেছে। সকালে হাসপাতালটা আবার প্রচন্ড ঠান্ডা লাগলো, এবার আর তার বেহেশত বলে মনে হয়নি। বরং মনে হতে লাগলো এমন ঠান্ডা দোজখের কথা তারে কেউ কোনোদিন বলে নাই। বুকের কাছে শীতল শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো সে, আক্কাস আলী তা সহই তাকে টেনে নিয়ে চলে।

দুই

বাসস্টপে ছেড়ে যাবে যাবে কম্পন তুলেছে বাসটি, তাতে উঠে পড়ে তারা। তখনো যাত্রীদের আনাগোনা বাড়েনি। বাসের মাঝামাঝিতে গিয়ে একটা সিটে জরিনাকে বসিয়ে দেয় আক্কাস। সে বাস থেকে নেমে দাঁড়ায়, বাইরে দাঁড়িয়ে শহরটাকে আর একবার দেখবে। কিংবা কে জানে হয়তো জরিনার থেকে দূরে গিয়ে চোখে জমে-ওঠা পানি ফেলবে।

জরিনার দুর্বল শরীরটা বাসের ছোট্ট সিটে বসে যন্ত্রণায় কঁকিয়ে ওঠে। সে বুকের কাছে কাপড়ে-জড়ানো শিশুটিকে দুপায়ের ওপর রাখে। শিশুটির নিস্তব্ধ মুখ জরিনার মুখোমুখি, ক্রমশ ঝাঁপসা হয়ে ওঠে চোখ। স্থির কচি মুখ দেখে। একটা গুনগুনানি কান্নার সুর বেরিয়ে আসে গলা দিয়ে। বাসে একজন যাত্রী উঠছিল ঠিক তখনই। সামনের দিকে বসতে গিয়ে সে একঝলক জরিনার দিকে তাকালো, কিন্তু ভালো করে তাকালোও না যেন। কোথায় আবার কিসে ফেঁসে যাবে ভেবে, সে আর পেছন ফেরেনি। বাসের সুপারভাইজার কান্না শুনে পেছনে আসে। বলে – ওই মাই, কানবার লাগছেন ক্যান?

জরিনা কি এমন একটু কথার অপেক্ষায়ই ছিল! গুনগুনিয়ে জমে-ওঠা কান্নার দুয়ার এতটুকু কথাতেই খুলে গেল! সে এবার ডুকরে কেঁদে ওঠে – ওরে… আমার…  কী… হইলো… রে।

এবার সুপারভাইজারের আরো সন্দেহ হয়। সে ঝুঁকে শিশুটিকে দেখে। বলে – মরা নি?

জরিনা আরো জোরে কেঁদে ফেলে, তার কি মনে হলো, লোকটি তাকে সমবেদনা জানাবে? কাঁধে হাত রেখে বলবে, বোইন কাইন্দো না, সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

কিন্তু ছেলেটি তখন চেঁচিয়ে ওঠে – উডেন, উডেন… এই বাসে লাশ নেওন যাইবো না।

জরিনা ওঠে না, সে আরো জোরে কাঁদে, লোক জড়ো হয়। ছুটে আসে আক্কাস আলীও। সে এলে সুপারভাইজার ছেলেটির সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি বাড়ে, বাসের ড্রাইভার এসে যোগ দেয়। উপস্থিত যাত্রীরা পর্যন্ত একমত হয়, বাসে করে লাশ নেওয়া যাবে না।

সকালের নীরবতা ভেঙে শহর ক্রমশ কর্কশ হয়ে ওঠে। আক্কাস আলী আর জরিনা, তাদের নবজাতক শিশুটির লাশ নিয়ে কোনো বাসেই ঠাঁই পায় না। সবাই তাদের জানিয়ে দেয়, লাশের গাড়ি আলাদা ভাড়া করতে হয়।

তিন

পরশুদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যখন জানালো যে জরিনার অবস্থা ভালো না। শহরে নিতে হবে শুনে আক্কাস আলীর বুক শুকিয়ে গিয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু শহরে নিলে ভালো হবে এই আশার হাতছানিও ছিল তখন। তাইতো সারাদিন চরকির মতো দৌড়ে কেবল ধার-কর্য করেছে। বাচ্চা হতে যখন মাসখানেক বাকি।  শহরে নিলে যদি বাঁচে! কিন্তু গতকাল ডাক্তার যখন বলল বাচ্চাটা পেটের মধ্যেই মারা গেছে, তখন জরিনার তো কোনো হুঁশই ছিল না। আর আক্কাস কেবলই আকুতি-মিনতি করেছে। ডাক্তারের ওষুধে নরমাল ডেলিভারি না হলে অপারেশন করতে হবে শুনে আক্কাসেরই কি আর ভালো হুঁশ ছিল? সে ডাক্তারের পা ধরে কেঁদে ফেলে, ডাক্তার অবশ্য তাকে ভরসার কথা বলেছিলো। – অনেক সময় নরমাল ডেলিভারি হয়ে যায়, আল্লাহ ভরসা। দেখেন কী হয়।

জরিনা যে এবারই প্রথম পোয়াতি তা তো না, তাদের চার বছরের একটা ছেলে আছে। সেবার তো জরিনার মা একাই সব করলো। তাদের দোচালা ঘরের মাটিতে শুয়েই সাদ্দামের জন্ম। কে জানতো এবার এমন হবে? প্রায় ছয় হাজার টাকা নিয়ে শহরে এসেছিলো, সবই প্রায় হাসপাতালে ডাক্তার আর ওষুধের পেছনে গেল। ডাক্তার জরিনাকে আরো একদিন হাসপাতালে রাখতে চেয়েছিলো। তা আক্কাস খরচের কথা চিন্তা করেই, তাছাড়া লাশেরও তো দাফন দরকার। যদিও হাসপাতালের আয়া বলেছিল এইডা আবার দাফনের কী দরকার, ফ্যালাই দিলেই হয়।

আক্কাস তা করবে ক্যান? তার নিজের সন্তান নাহ্? তার হাউসের মাইয়া। বেটি কয় কি! রাতে যখন শিশুটিকে প্রথম দেখে তখন তার বুক ফেটে কান্না এসেছিলো! কী সৌন্দর মুখ! একখান পরীর নাহাল!

আক্কাস স্বপ্নেও ভাবে নাই যে, আল্লাহ তার কথা শুনবে। কতদিন ক্ষেতে নিড়ানি দিতে দিতে ভাবছে – ইস, তার যদি একখান মাইয়া হয়! একেবারে নায়িকা শাবনুরের নাহাল সাজাইয়া- গুছাইয়া রাখবো।

আল্লাহ তার হাউস মিটাইলো! তয় এ কেমুনতর দেওন… এর থন না দেওনই ভ্যালা ছিল। নিষ্প্রাণ শিশুটি দিকে তাকিয়ে আক্কাসের মনে হয়েছিলো, যদি একবার একটু নইড়া উডে, আল্লাহ চাইলে কী না হয়।

এইসব এখন শিশুটির মতো অতীত, সে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে গুনে দেখে, হাতে মাত্র তিনশো তেতাল্লিশ টাকা আছে। দুজনের বাসভাড়া মিটিয়ে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে, কিন্তু লাশের জন্য গাড়িভাড়া কোনো ক্রমেই সম্ভব নয়। সে জরিনাকে নিয়ে আবার হাসপাতালে ফিরে যায়।

আশ্বিনের রোদ হাসপাতালের গেটে জেঁকে বসেছে, পুলিশি কায়দায় পোশাকপরা দারোয়ান তাকে ভেতরের যেতে দেয় না, আক্কাস আকুতি-মিনতি করে জানায় যে, শিশুটির একটা কবরের ব্যবস্থা করা যায় কি-না। হাসপাতাল যে কবরের জায়গা না, তা তো সবাই জানে। তবু বারবার বোঝাবার পরও আক্কাসের মনে হয় ভিতরে গেলে একটা ব্যবস্থা হবে। আরো দু-চারজন পিয়ন-আয়া এক জায়গায় জড়ো হয়। লাশ নিয়ে আবার কোনো হাঙ্গামা বাধাবে না তো!

পিয়নদের একজন বলে – এইডা দাফন দেওয়াও পাপ, হেইডা বোঝো না ক্যা মিয়া। হেই তো আর জীবন নিয়া পিথবীতে আহে নাই।

জরিনা কোলে শিশুটিকে নিয়ে গেটের সামনে বসে পড়ে। ঝাড়ুদারটি বলে ওঠে – ডাস্টবিনে ফ্যালাই দিলেই পারো।

আক্কাসের কণ্ঠস্বর ম্রিয়মাণ ও করুণ শোনায়, সে বলে – একডু কববর দেওন দরকার।

সবাই যার যার কাজে চলে যেতে যেতে থাকে, কেউ বলে ওঠে – আজাইরা ঝামেলা। আক্কাস আলীর নিজেকে খুব অসহায় লাগে, সে বিষয়টার গুরুত্ব বোঝাতে পারে না। এইটা তার সন্তান, তারে সে কেমনে ফেলে!

দারোয়ান এবার তাড়া দেয় – যাও মিয়া, পাপ বাড়াইও না।

আক্কাসের মাথায় আসে না, পাপটা কী? মৃত শিশু পাপ! নাকি তারই পাপ। সে বেশি ভাবতে চায় না, খোঁজ করে জেনেছে, শহরের কবরস্থান আছে, তবে তাতে কবর দিতে অনেক খরচার ব্যাপার। হতাশ হয়ে তারা যখন হাসপাতাল থেকে দ্বিতীয়বার ফিরছে, তখন এক আয়া কিছুদূর এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলে, হাজারখানেক ট্যাকা দিলে আমি একখান ব্যবস্থা করবার পারি।

আক্কাসের যেহেতু টাকাও নেই, তাই সে-ব্যবস্থাও হয় না। রোদ যেন আজ তাদের পিছু ধাওয়া করছে। এইভাবে লাশ নিয়া বেশিক্ষণ ঘোরা যাবে না। আক্কাস জরিনাকে রাস্তার পাশে যাত্রীছাউনির নিচে বসিয়ে দিয়ে যায়। সঙ্গের ব্যাগটাতে ঠেস দিয়ে জরিনা বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বসলে, পাশের বেঞ্চিতে বসে থাকা এক কেতাদুরস্ত মহিলা নাক সিটকে পিচ করে থুথু ফেলে, একেবারে জরিনার পাশে। তারপর ছাতা মেলে রিকশার খোঁজে নেমে যায়।

জরিনা লাশটাকে জড়িয়ে ধরে, হালকা দুলে, নাকি কেঁপে-কেঁপে উঠছে তাঁর শরীর। সে গুনগুন করে কেঁদে চলে। পথচারীদের কেউ কেউ একবার ফিরে তাকায়। রোদ সরাসরি না লাগলেও প্রচন্ড আঁচ এসে লাগছিল, সেইসঙ্গে সারাক্ষণ কান্নাকাটির মধ্যে থেকে জরিনার গলা ব্যথায় টনটন করে। সামনের রাস্তায় রোদের ঝলকে কেমন যেন চোখের মধ্যে ঝিলিক দেয়। হঠাৎ মনে হয় তাদের গ্রামের অচলা নদীটা শহরে চলে এসেছে! আজলা তুলে পানি খেতে ইচ্ছে হয়; কিন্তু শরীর উঠে দাঁড়াবার সাই দেয় না। জরিনা যেন একটা ঘোরের মধ্যে পতিত হয়, সে নদীর পানি শুষে খেতে চায়, কিন্তু সামান্য দূরে থাকা নদী সে কিছুতেই ছুঁতে পারে না। হঠাৎ একটা কয়েন এসে পড়ে শিশুটির ওপর। সহসা ঘোর কাটিয়ে দেখে নিষ্প্রাণ কংক্রিটের রাস্তা। সে কয়েনটাকে শিশুটির গা থেকে ফুটপাতে সরিয়ে রাখে। জরিনা আবার শিশুটির মুখে তাকায়, আহ… হা… রে কচি মুখ! একফোঁটা চোখ মেলে নাই! দুধ খায় নাই! হঠাৎ জরিনার মনে হয়, বাচ্চাটার মুখে যদি তার বুকের দুধ দুই-এক ফোঁটা দেওয়া যায়, তাইলে বেঁচে উঠতে পারে! মায়ের দুধের কেরামতির কত কিচ্ছা সে গ্রামে শুনেছে। জন্মের পর জব নাই পোলাপাইনও মুখে দুধ পাইলে কাঁইদা উডে। সে নিজের শাড়ির ভেতরে মৃত শিশুটির মুখ ঢোকায়। ব্লাউজ ফেটে এমনিই দুধ দুটো ভারে বেড়িয়ে আসতে চেয়েছিলো। দুটো বোতাম খুলে শিশুটির মুখ সেখানে চেপে ধরে। ঠান্ডা অনুভূতি। কতক্ষণ কে জানে…। কোনো সাড়া না পেয়ে কাপড়ের ভেতরে হাত দিয়ে নিজের স্তনের বোঁটাটা চাপ দেয়, কষের মতো কিছুটা বের হয়। যদিও নিজের শরীরে ব্যথা লাগে, তবু জরিনা আরো জোরে চাপ দেয়, খানিকটা তরল শিশুটির মুখে পড়ে তা গড়িয়ে জরিনার কাপড়ে মেশে।

মনটা যে-আশায় ভরে উঠেছিল তা আবার মিলিয়ে যায়। জরিনা শিশুটিকে এবার বুক থেকে নামিয়ে ফুটপাতে শোয়ায়। তারপর করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে। যেন অভিমানী মেয়েটির কাছে করুণা চায়, একটিবার নড়ে উঠুক! হাত-পা ছুড়ে কেঁদে উঠুক! জরিনার চোখ বেয়ে আবার নতুন স্রোতের মতো পানি গড়িয়ে আসে।  শিশুটির কি কোনো ভাবনা নেই? সেও কি চায় মায়ের উষ্ণতায় মুখ গুঁজে দিতে; কিন্তু কী আশ্চর্য অদ্ভুতভাবে তাদের সেই মিলন ঘটে না। তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো যেন একই, কেবল ইচ্ছে ঘুড়ি আর ডানা মেলবে না, নাটাইটা তাদের হাতে নেই। মৃত শিশু আর তার অসহায় মায়ের ভাষা কেউ বোঝে না। এমন মুহূর্তকে কঠিন বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে এক পথচারী, যে যেতে যেতে মন্তব্য করে – লাশ নিয়া ব্যবসা?

চার

আক্কাস আলী খোঁজখবর নিতে এসে কোনো সমাধান পায় না। বরং নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হয় – কয় মাসের বাচ্চা? – চোখমুখ ফুটছিলোনি?

কেউ বা প্রশ্ন করে – জন্মাইয়া কান্দে নাই?

সামনের হোটেল থেকে সদ্য প্রাতরাশ শেষে বেড়িয়ে এলো একজন, লাল দাঁতের কোনায় খিলাল দিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে জিজ্ঞাস করে – পোচ্ছাপ-পায়খানা করছিলনি?

এসব প্রশ্নে আক্কাসের ভেতরটা হু-হু করে, এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবে নাই। সে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলে, চোখের মধ্যে শিশুটির মুখ ভেসে উঠে, ঠিক শাবনুরের মতো। তার ভেতরটা কেঁদে ওঠে – মা… মারে…

কিন্তু সহসা আক্কাস ভীত হয়ে পড়ে অচেনা শহরে। মানুষের প্রশ্নে যখন উঠে আসে – অবৈধ সম্পর্কের ফল না-কি?

সে আর কোনো কথা বলে না, গ্রাম দেশ হলে লোকটির নাকে কষে একটা ঘুষি লাগাতো। রাগটা চেপে সে হনহন করে হেঁটে চলে আসে বেশ খানিকটা, একটা ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। লাশটা এনে এখানে ফেলে দেবে না-কি? প্রচন্ড দুর্গন্ধে তার খালি পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসতে চায়। দু-চারবার ওয়াক্-ওয়াক্ করে তিতকুটে থুতু ফেলে। দুটি নেড়িকুত্তা একটা মরা মুরগির চামড়া নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে করতে কেঁই-কুঁই শব্দ তুলছে, তার পাশেই এঁটো ভাতে পেট পুরছে কাকেদের ছোট দল। তা দেখে আক্কাস আলীর মাথা ঘোরে, তার সামনে নিজের সদ্যজাত সন্তানের বীভৎস পরিণতি চিত্রিত হয়, সেখান থেকে সে দৌড়ে পালায়।

গলা ধরে আসে তার, ফিরতি পথ ধরে আসতে আসতে ভাবে – মাইয়াডার জান নাই তাতে কী, না-হয় বাপ বলে ডাকেনি। তাও তো সে তাদের আদরের মাইয়া, তারে কুকুরের মুখে তুলে দেবে! মনের মধ্যে আবেগ এতটাই ঘনীভূত হয় যে, আক্কাস ভাবনায় এমনভাবে স্থান করে, মনে হবে কতদিন আদর-সোহাগের মেয়েটি তার! অথচ তাকে সে মাত্র গতরাতে হাতে মৃত পেয়েছে! সে ভাবে, গ্রামে তো তার একটা ভিটাবাড়ি আছে। সেখানে বাপ-মায়ের কবরের পাশে তার মেয়েটিরও জায়গা হবে। শহরে সে-মেয়েকে ফেলে যাবে না।

পাঁচ

কাছে ফিরে এসে ছাউনিতে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে বেশ কয়েকজন বাবা-মাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আক্কাস। জরিনাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে নতুন জায়গার উদ্দেশে হাঁটতে থাকে। শহরে জলাটলাও নেই যে এক আজলা পানিতে চোখমুখে মেখে নেবে। সামনে একটা খেলার মাঠের মতো, দু-চারটা বেঞ্চিও দেখতে পায়; কিন্তু রোদে সব খাঁ-খাঁ করছে। মাঠের পাশে বয়স্ক কালো শরীরের রেন্ডি-কড়াই তার ছাতার মতো মাথাটা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বলেই যেন আক্কাস এক টুকরো ছায়া খুঁজে পেল। সে জরিনাকে নিয়ে গাছের গা-ঘেঁষে বসে পড়ে। জরিনা এতটুকুতেই মাছের মতো হাঁ করে বড় বড় শ্বাস নেয়। তার মুখের ভেতরের থুতুটুকুও যেন শুকিয়ে চামড়ায় টান ধরায়। আক্কাস জরিনার এমন হাঁসফাঁস দেখে আবার যাত্রীছাউনির দিকে হাঁটা শুরু করে, তা পেরিয়ে একটা স্টেশনারি দোকান। সেখানে পানির খোঁজ করলে দোকানি একটা বোতলজাত পানি ধরিয়ে দেয়। পানির দাম মেটাতে যেয়ে আক্কাসের মনে হয় শহরটাই প্রাণহীন। কোথাও কোনো জংলা আর জলা নেই। সবুজ লতাপাতা নেই, মাটিতে রস নেই।

ফিরে এসে দেখে, একহাতে শিশুটিকে ধরে কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে জরিনা। সে একটু পানি আঙুলে নিয়ে জরিনার খরখরে ঠোঁটে মেখে দেয়। জরিনা জেগে ওঠে। আক্কাস শিশুটিকে সামনের ঘাসে শুইয়ে দেয়। জরিনা কিছুটা পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়ে।

শিশুটি ক্রমশ ফুলে উঠছে। আক্কাস এক দৃষ্টিতে শিশুটিকে দেখতে থাকে। সহসা তার মনে হয় শিশুটি জরিনার মতোই গায়ের রং পেয়েছে, টুকটুকা গোলাপি। সে বলে ওঠে – জরি রে দেখ, গায় রংটা তোর মতো টুকটুইকা!

জরিনা কিছু বলে না। সে ব্যথা আর শোকে গুংড়াতে থাকে। কিন্তু আক্কাসের কী হয় সে বলে চলে – নাকটা সরিষার ত্যাল দিয়া টাইনা দিলে, আরো খাড়া হইতো।

সে এও বলে – বড় হইলে ঠিকই শাবনুরের মতো সৌন্দর হইতো।

জরিনা আর নিতে পারে না, সে চিৎকার করে ওঠে – আপনে একডু চুপ করেন। আমার পোলাডা বাইতে কানতাছে মনকয়।

আক্কাস তবু পরম যত্নে শিশুটিকে দুই হাতে তুলে নেয় – দ্যাখ জরি কেমুন সৌন্দর। গালে মন কয় টোস-খাওয়া, আমার দাদির গালে এমুন ছিল। বুড়ির হাসিডা অহনও মনেপড়ে।

জরিনা এবার কী মনে করে মুখটির দিকে ফিরে দেখে। হঠাৎ উঠে বসে জ্বলজ্বলে চোখে বলে, ঠোঁডের পাশে আপনের নাহাল তিল পড়ছে! দেখছেনি…

তারা মৃত সন্তানের সাদৃশ্য আর সৌন্দর্যে ডুবে ভুলে থাকতে চায় বর্তমান সংকট। নাকি পরিমাপ করতে চায় কতখানি হারালো! খানিক পড়ে আক্কাসের চিন্তা ফিরে আসে, এখন সে কী করবে? এতো সুন্দর শহরে কোথায়ও তার মেয়েটির জন্য কোনো কবরের জায়গা নেই। গ্রামে কত ঝোঁপ-জঙ্গল থাকে, শহরে কেবল দেওয়াল। জরিনা ব্যাগ থেকে নিজের পরনের একটা কাপড় বের করে। দুই হাতে টেনে খানিকটা কাপড় ছিঁড়তেও সে কেমন হাঁপিয়ে ওঠে। তবু সে রুমালের মতো টুকরা করে ছিঁড়ে নেয় কাপড়। তারপর আক্কাসের হাত থেকে শিশুটিকে কেড়ে নেয়।

আক্কাস বলে – কী করস?

জরিনা রুমালটাকে ভাঁজ করে নেংটির মতো লাশটিকে পরাতে থাকে। – এমুন ন্যাংটা রাখোন ঠিক না! মাইয়া মানুষ!

ছয়

ক্ষেতে কাজের সময় আক্কাসের কতদিন মনে হয়েছে – আশ্বিনে দুপুর হুরতুর কইরা গড়ায় যায়, কিন্তু আইজ যেন বেলডারও কোনো তাড়া নেই। কিনে আনা কলা-পাউরুটির প্যাকেট খুলে সে জরিনাকে দিলে, খায় না। আক্কাস নিজে কিছুটা খেয়ে নিয়ে জোর করে জরিনার মুখে খানিকটা গুঁজে দেয়; কিন্তু খানিক পরেই জরিনা বমিতে তা বেরিয়ে আসে। তারা তখন সব গুটিয়ে আবার সামনে এগোতে থাকে।

বেলা এবার বেড়ে চলছে যেন, লাশের শরীর কালচে হতে দেখে আক্কাসের মনে হয়। মনে মনে আকাশ-পাতাল ভেবে কোনো কিনারা পায় না, আপনা থেকেই বলে উঠে – না, কোনো উপায় নেই, ডাস্টবিনেই ফেলন লাগবো।

জরিনা বেঁকে বসে – এইডা কী কন, মাইডারে ফ্যালাই দিবেন?

আক্কাস সহসা রেগে যায়। – এত মাইয়া … মাইয়া করবার লাগছিস ক্যান? তোরে হেই মা কইছে? হেই পিথবীতে বাইচা আইছে? হেই তো জন্মাই নাই।

জরিনা এবার বিলাপ করে। আক্কাস তখন গলায় খড়তা ঝেড়ে ফেলে বলে – জরি রে… ওরে দেশে নেওনের সমত্ত আমাগো নাই।

তারপর শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে অসহায় বাবা-মা কাঁদতে থাকে। ধর্মীয় তত্ত্ব আর আর্থিক অসংগতিকে ছাপিয়ে তাদের ভালোবাসা কেঁদে চলে। সারাদিন যে-প্রেম তাদেরকে কটাক্ষ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই মৃত্যুর বাস্তবতায় তাদের জীবন যেন পরাস্ত।

সাত

লাশ থেকে গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। পেটের মধ্যেই মারা  গেছে যে-শিশু তার জন্য তাদের যেন আর কিছুই করার নেই। শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে এবার তারা ডাস্টবিনের দিকে এগোয়। জরিনা শিশুটিকে খুব শক্ত করে আঁকড়ে ধরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। একটু পড়েই সারাজীবনের জন্য যাকে ফেলে দেবে, তাকে শরীরের শেষ উষ্ণতা ঢেলে দিতে চায়।

আক্কাস ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে দেখতে থাকে, কুকুরগুলো এখন নেই। সে বেশ কয়েকটা চক্কর দেয়। ঠিক তখনই কানে কথাটা আসে –

কী ব্যাপার? ধান্দা কী?

পুলিশের পোশাকপরা লোকটিকে দেখে আক্কাস চমকে ওঠে। সে তোতলাতে থাকে – কী-কী-ইচ্ছুই না,

পুলিশটি এবার বলে – কী বোমা-টোমা রাখবানি?

আক্কাসের গা থেকে দরদর করে ঘাম ছুটতে থাকে, সে বলে – পানি…

– পানি? খচ্চর কয় কী? ডাস্টবিনে পানি? পুলিশটি আক্কাসের ভিমরি খাওয়া চেহারা দেখে নিশ্চিত, ব্যাটা তেমন কোনো ধান্দাবাজ না। ছেঁচড়া চোরটোর হতে পারে, এর পেছনে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। সে ধাওয়া দিয়ে বলে – যা… শালা… পানি তোর…

আক্কাস দৌড়ে জরিনার কাছে ফিরে যায়। জরিনাকে টানতে টানতে নিয়ে চলে, বেশ খানিকটা পথ পেরিয়ে একটা খেলার মাঠের কোণে এসে দাঁড়ায়।

লাশের গন্ধ ক্রমেই বিকট আকার ধারণ করছে। আক্কাস কিছু কর্পূর কিনে এনে লাশের ভেতর মেখে দেয়। তারা শহরের অলিগলি ঘোরে, তাও বা কতটুকু। জরিনার হাঁটতে ভীষণ কষ্ট। কিন্তু কোথাও লাশটা দাফন বা ফেলার অবকাশ পায়নি। শহরটা কেবল বাড়ি-ঘর-বাজারের। সব পাকা পাকা উঁচু দেওয়াল, সেখানে ঝোপ-ঝাড় নাই, নেই কোনো ছাইয়ের গাদা।

বিকেলে তারা মাঠের কোণে বসে নিজেদের কপালের দোষগুলো ভাবতে থাকে। একটা ফকির ভিক্ষা শেষে ওই পথ দিয়েই যাচ্ছিল। সহসা ওদের দেখে থামে। তারপর উঁকি দিয়ে শিশুটির মুখ দেখে বলে – মইরা গ্যাছে?

আক্কাস কিছু বলে না, নীরবে তার চোখ বেয়ে পানি ঝরে। ফকিরটা নিজ থেকেই ওদের পাশে বসে – আহা রে… কচি মুখ।

কিন্তু আক্কাস আর জরিনা কোনো কথা বলে না। ফকিরটা তবু উপযাচক হয়ে বলতে থাকে – বেহেস্তে যাইবো, বেহেস্তের হুরি হইবো। আল্লাহ এর লিগা নিয়া গেল।

জরিনার আর ভালো লাগে না, সে বলে, আপনে এনথন জান তো…

ফকিরটা এবার জরিনার দিকে তাকিয়ে বলে – মাই গো… এই মাইয়াই তুমগো বেহেস্তে নিবো। হেই তো মানুষ না, হুরি…

আক্কাস আলীর মনে হয় সারাদিনে এই একটা মানুষ তার মৃত মেয়েটিকে মূল্য দিলো, গরিবই গরিবের দুঃখ বোঝে এসব ভেবে তার মাথায় চিন্তাটা আসে, ফকিরটা যদি কোনো ব্যবস্থা জানে। সে ফকিরের উদ্দেশে বলে, চাচামিয়া, আমার মাইডার একখান কববরের ব্যবস্থা করবার পারেন?

ভিক্ষুকটি এবার লজ্জার হাসি হাসে – আমি কেমনে করুম, আমার কি আর কিছু আছে?

আক্কাস আলীর মাথায় তবু চিন্তা আসে – ফকিরদের তো কবরের একটা ব্যবস্থা নিশ্চয় আছে, লোকটার শরীরে মায়াও আছে, সারাদিনে এমুন মায়া করে কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলে নি। সে কণ্ঠে মিনতি ভরে বলে, করেন না চাচা একখান ব্যবস্থা।

ফকিরটা যেন এবার অস্বস্তিতে পড়ে – আমি তো মিয়া ইস্টিশনে ঘুমাই…

আক্কাস আলী বলে, আপনেগো মতো মানুষ মরলে কী হয়, শহরে?

ফকিরটা আমতা-আমতা করে বলে, আমাগোও দ্যাশ-বাড়ি আছে-না, গেরামে যাই… যাই গা…

আক্কাস আলীর যেন মাথায় কিছুই ধরে না, বোকার মতো হলেও সে বলে বসে – ক্যামনে?

ফকিরটা কেমন যেন হাসে। অদ্ভুত এমন কঠিন হাসির মানে আক্কাস বুঝবে কেমনে, তার কাছে শহরের সবার ভাষা দুর্বোধ্য ঠেকে। সে গ্রামের চাষাভুষা মানুষ।

আক্কাস তবু বলে, হয়তো ফকিরটাকে আপন ভেবেই বলে – আমার মাইডার একটা ব্যবস্থা করেন না, আপনেও তো একদিন মরবেন। আমরা হগলেই মরমু…

এবার ফকিরটা যেন কিছুটা ক্ষেপেই যায় – আরে মিয়া বাইত্তে নিয়া যাও… না পারলে ফ্যালাই দ্যাও, এইডা তো আর আমগো মতো মানুষ না..

বলে সে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা শুরু করে। ফকিরের শেষ কথায় আক্কাস আলীর মাথার রগ ফুলে যায়। সে অগ্নিদৃষ্টিতে সে প্রস্থান দেখে।

আট 

বিকেলে মাঠে নানা রকম মানুষের ভিড়, জরিনা মাঠের এককোণে শুয়ে আছে। আক্কাস সংকুচিত বসে থাকে শিশুটিকে আড়াল করে। কেউ কেউ এক ঝলক তাদের সামনে দাঁড়ায়, কেউবা খেয়ালই করে না। ঝুপ করেই যেন সন্ধ্যা নেমে আসে। লোকজন কমে যায়। হালকা হিম বাতাস মাঠের মধ্যে ছুটে চলে। বিষাদ আর অন্ধকার ক্রমশ রঙিন হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় কাক আর কী সব পাখি শহুরে গাছের ডালে অধিকারের ঝগড়া করছিলো, তাও থেমে যায়। স্থির অন্ধকারে আক্কাসের কানে ভেসে আসে দূরের কানকুয়া পাখির আর্তনাদ। তার বাড়ির কথা মনে হয়, ছেলে সাদ্দাম হয়তো নানির কোলে বসে কাঁদছে।

সে ভাবে, অন্ধকার মাঠে লাশটা ফেলে রাতের শেষ বাসে চেপে গ্রামে ফিরে যাবে; কিন্তু মনটা সায় দেয় না। জরিনা মাঠেই ঘুমিয়ে পড়েছে। তার শরীরের কাপড় রক্তে ভেজা। আক্কাসের দম বন্ধ লাগে। একটানা একটা ঝিঁঝি পোকা তার কানের কাছে শব্দ তুলে মাথাটাকে শূন্য করে ফ্যালে।

শুনেছে শহরের বাইরেও একটা টেম্পো স্ট্যান্ড আছে। সেখানে গেলে ভেঙে ভেঙে বাড়ি পৌঁছে যাওয়া যাবে। সামনে তাকিয়ে মাঠটাকে আবার দেখে, ভীষণ অন্ধকার। বাচ্চাটাকে জরিনা বুকের কাছে নিয়ে শুয়ে আছে। আক্কাস সেখান থেকে লাশটা হাত বাড়িয়ে নিতেই, জরিনা জেগে যায় – কী করবা?

– কিছু না।

জরিনা এবার কান খাড়া করে কী যেন শোনার চেষ্টা করে। – কানকুয়া?

আক্কাস কথা বলে না। তারাদের নিঃশব্দের সুযোগে রাতের অন্ধকার বাড়ে। সহসা তাদের মধ্যে চঞ্চলতা দেখা দেয়। জরিনা উঠে বসে। আক্কাস আলী ব্যাগের চেন খুলে একটি শাড়ি জরিনার দিকে বাড়িয়ে দেয়। দু-একটা রিকশার টুং-টাং ভেসে আসে দূরের। এদিকটা খুব তাড়াতাড়ি যেন বিরান হয়ে উঠেছে। আক্কাস আরো কিছু টুকরা কাপড় বের করে। ব্যাগের সব বের করে, সে কাপড়ে প্যাঁচানো লাশটাকে ব্যাগে ভরে। জরিনা কাপড় পাল্টে নেয়। কিছু ছেঁড়া কাপড় রক্তের স্রোতের মুখে গুঁজে দেয়। তার সারা শরীর ব্যথা, দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যেতে চায়। সারা শরীর কাঁপে। আক্কাস আলী ব্যাগে লাশের ওপর কিছু কাপড় দেয়, তারপর ব্যাগের চেন আটকে, জরিনাকে হাত ধরে বলে – চল যাই।

আক্কাসের এক হাতে লাশের ব্যাগ, অন্য হাতে জরিনা।

জরিনা মাঠের অন্ধকারে কী দেখার চেষ্টা করে, বলে – কই?

– বাইত্তে যাই, মাইডারে কবর দিমু না।

কেমন যেন কঠিন হয়ে যায় তার গলার স্বর। সে জরিনাকে আর ব্যাগটাসহ এগিয়ে যেতে থাকে। অন্ধকার মাঠে পড়ে থাকে জরিনার পরিত্যক্ত রক্তাক্ত শাড়ি।

সোশ্যাল মিডিয়া

নিউসলেটার