-

আগুন-ছাই
আফরোজা সবসময় বিশ্বাস করতো – ভালোবাসা শুধু অনুভূতির বিষয় নয়, বরং তা অর্জন করতে হয়, আর অর্জনের পর তা ধরে রাখার জন্য কিছু অতিরিক্ত প্রয়াস লাগে। অর্জন শব্দটা সে ইচ্ছে করেই বেছে নিত। কারণ, তার কাছে ভালোবাসা হঠাৎ নেমে আসা কোনো অলৌকিক ব্যাপার ছিল না; বরং ছিল একধরনের শ্রমসাধ্য বিনিয়োগ, রুপার বাসনের মতো – যত্নে ঘষলে উজ্জ্বল, অবহেলায় নিস্তেজ। জেলা শহরের এক প্রান্তে অবস্থিত তার বাড়িটি যেন সেই বিশ্বাসেরই প্রতিচ্ছবি। উঁচু নীল রঙের লোহার গেটের আড়ালে বাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। প্রতি বৈশাখে সে গেটটা নতুন করে রং করায়। যেন নতুন রঙের সঙ্গে সে নিজের জীবনটাকেও নতুন করে শুরু করতে চায়। ভেতরে পোলিশ করা কাঠের আসবাব, ভারি পর্দা, মেঝের ওপর ঝকঝকে টাইলস – সবকিছুতেই একধরনের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া স্থায়িত্বের ছাপ। যেন এই সবকিছু দিয়ে সে তার মালিকানার প্রমাণ দিতে চায় – তার টিকে থাকা কেউ ঠেকাতে পারবে না – এই ঘোষণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু এই আপাতস্থায়িত্ব অনায়াসে আসেনি। মোটামুটি বড় অঙ্কের টাকাটা তার জীবনে আসে বেশ কিছুটা দেরিতে। চল্লিশ পেরোনোর পর বাবার জমি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থই আফরোজার জীবনে প্রথম বড় পরিবর্তন এনে দেয়। সেই সম্পদ যেন হঠাৎ করে তার জীবনকে নতুন করে সাজানোর একটা সুযোগ তৈরি করে দেয় আর সেই চলমান সাজানোর প্রক্রিয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে মাহফুজের প্রবেশ ঘটে। সবকিছুই আকস্মিক, সবকিছুই একসঙ্গে। বয়সে দশ বছরের ছোট, চটপটে আর একধরনের নির্লিপ্ত ভদ্রতা, যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে প্রচণ্ড খ্যাপাটে আত্মবিশ্বাস – যে জানে, তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এক নিকটাত্মীয়ের বিয়ের বাগদান অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম দেখা। পরিচয়ের সেই দিনটির কথা আফরোজার এখনো পরিষ্কার মনে আছে। ‘এই ছেলেটা কে?’ সে তার খালাতো বোনকে জিজ্ঞাসা করেছিল। ‘ওই যে নীল শার্ট পরা? বড় ভাবির ভাগ্নে। খুব স্মার্ট, না?’ মাহফুজ তখন অতিথিদের মাঝে চা পরিবেশন করছিল, মাঝেমধ্যে কারো চোখে চোখ পড়লে হালকা রসিকতার সঙ্গে মনকাড়া হাসি ছুড়ে দিচ্ছিল। তার সেই হাসিতে একটা নির্লিপ্ত আত্মবিশ্বাস ছিল, যেন সে জানে, তাকেই লক্ষ করা হচ্ছে। আফরোজা লক্ষ করছিল তাকে। এক মাসের মধ্যেই তাদের বিয়ে হয়ে যায়। প্রথমদিকে সবকিছুই সহজ ছিল। মাহফুজের উদ্দীপ্ত তারুণ্য আফরোজাকে আনন্দ ভীষণ দিত। তার হাসি, তার দুষ্টুমি, তার অবহেলাভরা দম্ভ, সন্ধ্যায় বাইকের পাশে নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা – এসব যেন আফরোজার জীবনে এক নতুন তরঙ্গ নিয়ে আসে। সেই তরঙ্গের উন্মাতাল স্রোতে ভেসে মধ্য-যৌবনা আফরোজা নতুন করে বাঁচতে শেখার আগ্রহ অনুভব করে, হঠাৎ হাতে-পাওয়া জীবনের রস নিংড়ে তাকে যথেচ্ছ উপভোগ করে নিতে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। সে শুধু মাহফুজকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেই ফেলেনি, তার মধ্যে নিজের চাপা, বহুদিনের অবদমিত কামনা প্রকাশের পথও খুঁজে পেয়েছিল। একদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে মাহফুজ বলেছিল – ‘আন্টি না, এখন তো বলা যায় না, আফরোজা, তুমি হাসলে তোমাকে অনেক কমবয়সী লাগে।’ আফরোজা হেসে ফেলেছিল। ‘তুমি এসব বলতে শিখলে কোথায়?’…
-

গল্পটা লাইলি মজনুর হলেও পারত
বাপের থান থেকে এক কাপড়েই বেরিয়েছে লাইলি। মাথায় আলুঝালু চুল, পরনের কাপড়টারও দিশ নেই – ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে দেওয়া যায় যেন জেদে ফুঁসছে ভেতরটা। সন্ধের ঠিক আগে দুপদুপিয়া নদী থেকে খালের জল কেটে ইঞ্জিন বোটগুলো ঘাটের কাছে ভেড়ে। পশ্চিমের আকাশ যখন লাল এবং সেই লালিম আভা যখন চরাচরে মিশছে, লাইলি তখন ইসমতের ট্রলারে করে এসে নেমেছিল গুদারাঘাটের কাছে। লম্বা-কালো মুখখানা রাগে ফুঁসে ঢোল – ঘাটে নামার পর থেকে ডেরায় ফেরার আগ পর্যন্ত নিজের মতোই গজগজ করেছে রাগে। চর দুপদুপিয়ার গুদারাঘাটের কাছে দিদার মোল্লার বড় কাঠগোলা। তার পেছনেই লাইলিদের একচালা ঘর। ঘর মানে ঝাঁঝরা টিনের ছাউনির নিচে কাঠ-বাঁশ-বেড়া কোনোমতে জোড়া দিয়ে একটা ছাপরা। বেড়ার ফাঁক-ফোকর দিয়ে নামে রোদের আঁকিবুঁকি – দিনের বেলা আলো-হাওয়া যেমন ইচ্ছেমতো ঢোকে, ঝড়-বাদলা থেকেও তেমনি নিস্তার নেই। গেলবার আইলার সময় সেটাও প্রায় মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। রশিদ নেহাত কাঠগোলায় কাজ করে বলে এবং দিদার মোল্লার সুদৃষ্টির কারণে সেইবার ডেরাখান তবু মাটিতে মিশে যায়নি। দিদার মোল্লা ডেকে বলেছিল, তুই তো পশুরও অধম রশিদ। মেয়েডারে ভাগাইয়া আইনা সংসার পাতছিলি। কিন্তু অহন তোর নজর নাই ক্যান রে? তোরা তো তিনডা পেট। ওইডার কতা মনে আছেনি? হাত-পা ধইরা আমার বোটখান নিলি – আর ওইডাও খালে ডুবাইয়া এমনি পচাইয়া ফেললি। ইসমতের কাছে বেইচা দিলেও না হয় কডা টাহা হাতে আইত। – ওই বোটখানই তো আমার কাল হইছিল। আমি কি আর এমনি এমনি বেইচা দিছি নাকি? – নিজের বউয়ের দিকে না হয় খেয়াল নাই তোর। কিন্তু পোলাখান? ওইডারে তো মানুষ কইরা তুলতে হইব রে। ছেলের কথা ওঠায় রশিদের মুখ যেন আরো ভোঁতা হয়ে গেল। থমথমে মুখে উত্তর দেয়, আর মানুষ! আমার চেহারার লগে কি ওইডার কোনো মিল আছে নাকি? ওই পোলা আমার না। রাগ চড়ে যায় দিদার মোল্লার। ব্যঙ্গ করে মুখ ভেংচেই বলে, ইস, ওই পোলা আমার না! এইডা অহন কেডা শুনব রে? ক্যান? লাইলির লগে পিরিত কইরা ওরে ভাগাইয়া আনবার টাইমে মনে আছিল না? আমার কতা শুনছস তহন? তহন তো দুইডায় আছিলি য্যান লাইলি-মজনু। অহন আমার চখে ধুলা দিতে চাস তুই? জোঁকের গায়ে এবার ঝিনুকের চুন পড়েছে। পাংশু মুখে মাথা গোঁজ করে তখন চুপচাপ বসে থাকে রশিদ। আসলেই ছেলেটা পেটে আসার পর থেকে রশিদ যেন অন্য মানুষ। মায়া-মমতা সব উবে গিয়ে সারাক্ষণ জ্বালা-যন্ত্রণা আর নানাবিধ গঞ্জনায় তখন ঝালাপালা লাইলি। ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলেই লাইলি চুপ। রশিদেরও রাগ চড়তে থাকে চরমে। কখনো এক-দু’কথার পর হাতাহাতি, গালে চড়-থাপ্পড়। তারপর থেকে অত্যাচারের মাত্রাটা যেন বেড়েই গিয়েছিল। রশিদের মনে শুধু একটাই প্রশ্ন, এই ছেলেটা ওর নিজের তো? এভাবেই দেখতে দেখতে পাঁচটি বছর কেটে গেল। সন্দেহ এখনো অটল পাহাড়ের মতো জেঁকে বসে আছে রশিদের মনে। রশিদের দেহাতি গড়ন, লম্বা-পেটানো শরীরে একমাথা ঝাঁকড়া চুল – চোখগুলো ভাটার মতো জ¦ললেও চেহারায় একটা সরলতাগোছের মায়া আছে। কিন্তু ছেলের মুখটা ছুঁচালো – রোগে ভোগা চেহারা নিয়ে দেখতে কালো ইন্দুরের মতো। কাঠগোলায় কেউ এলে কিংবা ওর সঙ্গে হাটে-দোকানে দেখা হলে বলে, কী রে রশিদ! এইডা যে তোর পোলা মনেই হয় না। বন্ধুবান্ধব তো ঠাট্টা করেই বলে, দ্যাখ গিয়া তোর বউ আবার কোন কোন জায়গায় মজনু রাইখা আইছে। ভালা কইরা খোঁজ নিয়া দ্যাখ। খোঁজ একদিন না একদিন পাইবিই। এসব শুনে রশিদের গা জ্বলে ওঠে, অকারণে জেদ বাড়ে। সে যে বিয়ের পর দোজবর বুড়োর কবল থেকে লাইলিকে ভাগিয়ে এনেছিল এ-কথাটাও তখন বেমালুম ভুলে যায়। খোঁজ মিলুক আর না-ই মিলুক কিংবা খোকার চেহারা ইন্দুর বা বান্দর যাই হোক, ছেলেকে সঙ্গে করে আর সেই নড়বড়ে ডেরার মুখে ঝাঁটা মেরে লাইলি এখন সোজা পথ নিয়েছে বোচারহাটের দিকে – সেখান থেকে সোজা বেতুয়ার লঞ্চঘাট। লাইলি জানে, কলাকান্দির ঘাট এখন সরিয়ে আনা হয়েছে বেতুয়ায় – সেখানে রাতবেরাতে দু-চারটে বড় লঞ্চ ঠিকই থামে,…
-

নিথুয়া মংমা
আসুন, জ্যৈষ্ঠের এই বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় আমরা নিথুয়া মংমার গল্প শুনি। গল্পটি শুধু নিথুয়া মংমার নয়, সুশাং নকরেকেরও। এক বাসন্তী জ্যোৎস্নার রাতে, যখন শিমুল ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আসছিল জানালাপথে, সুশাংয়ের মনে পড়ে গিয়েছিল নিথুয়া মংমার কথা। বহুদিন আগে, এমনই এক বাসন্তী জ্যোৎস্নার রাতে, নিথুয়া মংমাকে সুশাং দেখতে পেয়েছিল শিমুলতলায় – আহত, রক্তাক্ত দশায়। সুশাং বুঝতে পারছিল না এই হাতি সেই হাতি কি না, যে এসেছিল মেঘালয়ের দুর্গম পাহাড় থেকে। একা নয়, পালের সঙ্গে। পাহাড় থেকে কোনো হাতি কখনো একা আসে না, আসে পালে পালে। কোনো পালে থাকে আটটি, কোনো পালে তেরোটি, আর কোনো পালে কুড়ি-পঁচিশটি। এসে ধান খেয়ে যায়, ফলফলাদি খেয়ে যায়, গাছগাছড়া ঘরদোর তছনছ করে দিয়ে যায়, এমনকি মানুষকেও হতাহত করে। সেবার যে-পালটি এসেছিল, তারা লিয়াং রিছিলের বাড়িতে হানা দিয়ে ধান-চাল সব সাবাড় করে, হাঁড়ি-পাতিল কাঁথা-বালিশ চেয়ার-টেবিল সব ছিত্তিসান করে রাতারাতি আবার ফিরে গিয়েছিল। শুধু ফিরতে পারেনি একটি একদন্তী হাতি। দলছুট হয়ে ঢুকে পড়েছিল বালিজুরি বাজারে। গজারিবনের ভেতর দিয়ে জিন্দাপীরের টং হয়ে চলে গিয়েছিল নকশিবাজার। বাঙালিদের ধাওয়া খেয়ে আবার ঢুকে পড়েছিল গজারিবনে। বনপথ ধরে চলে যেতে পারত উত্তরের পাহাড়ে তার স্বজনদের কাছে, যদি না ফের আচিকদের ধাওয়া খেত। ধাওয়া খেয়ে উঠে পড়েছিল গজনী-ঝিনাইগাতী সড়কে। এবার শুধু ধাওয়াই খেল না, শিকার হলো নৃশংস হামলারও। লাঠিসোটা-ধামা-যাত্থা-বল্লম নিয়ে মানুষ হামলা চালায় তার ওপর। খবর পেয়ে যাত্থাটা নিয়ে সুশাং নকরেকও ছুটে গিয়েছিল। ততক্ষণে আহত হাতিটা ঢুকে পড়েছিল শালবনের গহিনে। সন্ধ্যায় হাটে গিয়েছিল সুশাং। ফিরতে ফিরতে রাত। আটটা-নটা হবে বুঝি। তার পা ধরে আসছিল। সারাদিন হাতির পিছে ছুটতে ছুটতে জিরানোর সময় পায়নি। ভেবেছিল খেয়েই শুয়ে পড়বে। বাড়ির ঘাটায় শিমুলগাছটার কাছাকাছি এসে দেখে রাস্তার ওপর পড়ে আছে মস্ত এক গাছের গুঁড়ি। সুশাং ভেবে পাচ্ছিল না গুঁড়িটা কে এনে রাখল এখানে! কয়েক পা এগিয়ে তার ভ্রম ভাঙে। না, গাছের গুঁড়িটুড়ি কিছু নয়, যেন তেরপলে ঢাকা বালির স্তূপ। কী কাণ্ড! রাস্তার ওপর এভাবে কেউ বালি রাখে! সুশাং আরো কয়েক পা এগোয়। আবারো তার ভ্রম ভাঙে। এবার মনে হয়, তেরপলে ঢাকা বালি নয়, যেন কালো মাটির একটা টিলা গজিয়েছে। তার ধন্দ লাগে। সে কি পথ ভুল করে ফেলল! বাড়ির পথে না গিয়ে অন্য কোনো পথে চলে এলো! এই ভরা পূর্ণিমায় কোনো দেও-দানো কি তার পথ ভুলিয়ে দিলো! কিন্তু এই যে শিমুলগাছ। হ্যাঁ, শিমুলগাছই তো। এই গাছ তো তারই বাড়ির গাছ। ওই যে দেখা যাচ্ছে উঠানের কোনায় খড়ের গাদা। এ তো তারই বাড়ির গাদা। ভয়ে ভয়ে সুশাং আরো কয়েক পা এগোয়। এবার সে আঁতকে ওঠে। গুঁড়ি নয়, তেরপলে ঢাকা বালি নয়, এমনকি টিলাও নয় – গোটা রাস্তা দখল করে শুয়ে আছে মস্ত এক হাতি! মৃত অজগরের মতো শুঁড়টা পড়ে আছে শেকড়ে। নকগুবা নকগুবা! আতঙ্কে সুশাংয়ের কলিজা শুকিয়ে যায়। সে চিক্কুর দিতে চেয়েছিল, চিক্কুর দিয়ে মান্দি জড়ো করতে চেয়েছিল, অথচ গলাটা এতটাই কাঠ হয়ে গিয়েছিল যে, কোনো স্বরই বেরোচ্ছিল না। সদাইয়ের থলেটা নিয়ে সে গাদার বাঁশের মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। ক্রমে তার ভয় কেটে যায়। তার বদলে জ¦লে ওঠে প্রতিশোধের আগুন। যেন সেই পুরনো আগুনে কেউ তুষ মেরে দিয়েছে। আগুনটা নেভানোর উপায় খোঁজে সুশাং। ঘরে গিয়ে মংরেংটা নিয়ে আসার কথা ভাবে। এই সুযোগ সুশাং, এই সুযোগ। ধারালো মংরেংয়ের এক কোপে দ্বিখণ্ডিত করে দাও তোমার শত্রুর শুঁড়। শত্রু, কেননা হাতি তার পুত্রহন্তা। মাত্র সাত বছর বয়সে তার বেটা সীমন নকরেক নিহত হয়েছিল বুনো হাতির আক্রমণে। বৈশাখ মাস ছিল তখন। সূর্যদেবতা মিসি সালজং নেমে এসেছিলেন শিলংচূড়ায়। তার তেজে ঘামছিল জগৎ-সংসার। পুবের ছড়ায় পাড়ার ছেলেপিলেদের সঙ্গে হুটোপুটি করছিল সীমন। হঠাৎ মংমা মংমা বলে শোর করে ওঠে সবাই। মূর্ছা খেতে খেতে নেংটা-মোংটা সবাই ছুট দেয়, শুধু সীমন ছাড়া। হাঁটুজলে সে দাঁড়িয়ে থাকে একা। বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থাকে বাঁকা দাঁতের বিশাল মংমাটির শুঁড়ের দিকে। এতদিন সে মংমার কথা শুনেছে, কিন্তু কখনো দেখেনি। কল্পনায় মংমার যে-ছবি এঁকেছিল, বাস্তবে মংমা তার চেয়েও বিশাল। সেই বিশালতা হরণ করে নিয়েছিল তার বুদ্ধি। তার মনে হচ্ছিল, আকাশ থেকে মংমার রূপ ধরে নেমে এসেছে রাক্ষস নাওয়াং কিংবা শক্তিদেবতা গোয়েরা। খানিক পর,…
-

আগুনে আগুন পোড়ার শব্দ
উঠোনটা সামনে নিয়ে বসে থাকে খেদের দাদা। ঘরে আর ওঠে না। ঘর মানে বাড়িটার চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগ পুড়ে ছাই। কাঠবিড়ালি-খাওয়া পাকা পেঁপের গোড়ার দিকটা যেমন বোটা আটকে গাছের সঙ্গে লেগে থাকে, তেমনি আগুনে খাওয়া এঁটো বাড়িটার শেষ অংশটুকু জিদ ধরে টিকে আছে কিছুটা ছাই, কিছুটা স্মৃতি নিয়ে। পেছন ফিরে সেদিকে একবার তাকায়ও না। উঠোনে খোলা রান্নাঘর, চুলোটা আছে তেমনই, মনে হয় যেন একটু পরেই এসে রান্না চড়াবে দাদি। দাদার দুই মেয়ে কুটনা কুটতে বসবে পাশেই। ছেলেটা গরু নিয়ে মাঠে যাওয়ার আগে বোনদুটোকে একটু নেড়ে যাবে। হাসির খিলখিল শব্দ পায়রার ডাকের মতো ঝনঝন করে বেজে উঠবে। রোজকার দৃশ্যটা চোখের সামনে ভাসে। এই দৃশ্যের যন্ত্রণা ছাড়া খেদের দাদার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। দাদা বসে থাকে। আশেপাশের বাড়ি থেকে আমরা পালা করে খাবার দিয়ে আসি। তিনবার খাবার দেওয়ার মতো অবস্থা কারোরই নেই। একটা যুদ্ধ জিতিয়ে দিয়ে গেছে বটে, কিন্তু বিনিময়ে উদযাপন করার সামর্থ্যটুকু চেটেপুটে নিয়ে গেছে। কোনোদিন দুবেলা, কোনোদিন তিনবেলা, কোনোদিন হয়তো একবেলা খাবার জোটে দাদার। না দিলে চেয়েচিন্তে খায় না। মরে যেতে পারলেই যেন বাঁচে। উঠোনের গাছগুলো একটার পর একটা শুকিয়ে যাচ্ছে। বাবা বলল, আগুনের আঁচ লেগেছিল। মা বলল, শোকে। দাদা উঠোনের সর্বশেষ নারিকেলগাছটার মতো বেঁচে থেকেও শুকিয়ে যেতে থাকল। চোখের সামনে প্রতিদিন একটা মানুষকে শুকিয়ে যেতে দেখি আমরা। – দাদা, চলো, গা ধুয়ে আসি। আমি গামছাটা মাথার ওপর দিয়ে বলি। দাদা কোনো কথা বলে না। একবার আমার দিকে তাকায়। চোখদুটো প্লাস্টিকের পাখির মতো জমাটবাঁধা মনে হয়। উঠে গিয়ে কবুতরের খাঁচাটার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ত্রিশটার মতো কবুতর ছিল কালুর। দাদার ছেলে। যেদিন রাতে আগুন দেয় ঘরটাতে, গ্রামের লোকজন আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে সীমান্তের ওপাশে চলে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে, সেদিন কেউ আর মনে করে কবুতরের খাঁচাটা খুলে যায়নি। ভেতরেই মরে সব কবুতর শুকিয়ে গেছে। খাঁচাটা আর খুলে কী হবে! কেউ খোলে না। সেভাবেই আটকানো। দাদা খাঁচাটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কোনোদিন একটা জায়গায় দাঁড়ালে, সেখান থেকে সেদিন আর সরে না। আগের দিন পেয়ারাগাছটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা দিন শুধু পেয়ারাগাছের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। আজ তেইশ দিন হয়ে গেল আসার, গোসল করেনি। আমি পিঠে গামছাটা দিয়ে বের হয়ে আসি। পরদিন গিয়ে দেখি, দাদা গামছাটা ভিজিয়ে কলের পাড়ে বসে আছে। দাদি এখানে থালাবাসন মাজত। মেয়েদুটো পাশে চাটাই-ঘেরার মধ্যে পানি টেনে গোসল করত। দাদা সেদিকে তাকিয়ে বসে আছে নির্জীব। মায়ের ইশারায় আমি টিউবওয়েল চেপে বদনায় পানি নিয়ে দাদার মাথায় ঢালি। দাদা নড়ে না। মা বাড়ি থেকে সাবানটা এনে দাদার পিঠ ডলে দেয়। হাতে-গলায় সাবান মাখায় আর মুখে আঁচল কামড়ে কাঁদে। – ক্যান বেঁচে আসলা চাচা? মা বিড়বিড় করে বলে। এই পোড়ার জীবন লইয়া ক্যান আসলা ফিরে? কতজন তো যুদ্ধে মরল! মায়ের কথা শুনে আমি চোখ রাঙাই। এসব কথা বলে নাকি কেউ! – মানুষটা কান্দে না ক্যান? বলে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ছুটে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় মা। দাদার গা, হাত-পা মুছিয়ে বাবার লুঙ্গি এনে পরিয়ে দিই। সুবোধ শিশুর মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। – দাদা, ছোট ফুফুকে ওরা এইখানে মারেনি। স্কুলের ক্যাম্পে নির্যাতন করে মারছে। লাশটা আমরা কেউ দেখিনি। কিন্তু বাগানের গর্ত থেকে মরার গন্ধ এ-পর্যন্ত এসেছে। বুঝতে পারি, মায়ের মতো আমিও দাদাকে কাঁদানোর চেষ্টা করছি। ছোট ফুফুকে না দেখতে পেলেও বড় ফুফু আর দাদিকে দেখছি। ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে আগুন দিয়েছিল। বলছিল, তুমি আর চাচা যুদ্ধে গেলা ক্যান? কোথায় আছ তোমরা – জানতে চেয়েছিল। দাদি কোনো কথা বলেনি, তোমার মতো এরকম মুখ এঁটে দাঁড়িয়ে ছিল। বড় ফুফু কথা বলবে ক্যামনে? ঘরের মধ্যে নির্যাতন করার সময় চিক্কুর পাড়ছিল বলে জিবটা চাকু দিয়ে কেটে নিয়েছিল। পরদিনও জিবটা পড়ে থাকতে দেখেছি উঠানে। কাপড় বদলে দিতে দিতে কথাগুলো বলি, দাদা টিউবওয়েলের পাশে দাদির পায়ের ছেঁড়া স্যান্ডেলের দিকে তাকিয়ে থাকে। আগুন যখন দিলো, আমরা কোনো শব্দ শুনিনি। দাদির শব্দ না, ফুফুর শব্দও না। শুধু ঘর পোড়ার শব্দ হচ্ছিল। আগুনের শব্দ। দাদা আমার কথা শোনে কি না বোঝা যায় না। নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে একটা স্যান্ডেলের দিকে। তাও পুরো স্যান্ডেল নয়, স্যান্ডেলের কঙ্কাল। এ-বাড়িতে কোনো কিছুই আর আস্ত নেই। সবকিছু কেমন মরা মরা, খাওয়া খাওয়া। আমি লুঙ্গি বদলে দিয়ে চলে যাই, দাদা তেমন করেই দাঁড়িয়ে থাকে। সন্ধ্যায় আব্বা আসে আরো দুজন লোক নিয়ে। হাবু চাচা আর মফিদুল ভাই। – চাচা কি আমাদের কারো কথা শুনতে পান? প্রশ্নটা করে হাবু চাচা আব্বাকে বলে, হতেও পারে যুদ্ধে কানের কাছে গুলি লেগে বা বোমা ফেটে কালা হয়ে গেছে!…
-

অন্তঃশূন্য
পুবের জোলায় টপাস টপাস করে লাটিম পড়ার শব্দ ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু শুনছে না বাদল। ওর ঘাড়ের পেছনে বিশ্বনাথের ক্ষুর সেই যে নেমেছে আর নড়ার নামগন্ধ নেই যেন। মনে মনে খুব বিরক্তবোধ করলেও মুখে কিছুই বলে না কখনো সে। বিশ্বনাথের কাজের ধারাই যে এমন। তাছাড়া বাড়ি বয়ে এসে এখন আর কে চুল কেটে দেবে? বংশের শেষ নাপিতের খাতায় ওর নামটা লেখা হবে খুব সম্ভব। ছেলেরা কেউ এই পেশায় আসেনি। গত মাসে বাদল তার চোখ দেখিয়ে একটা ভালো চশমার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে একটুও ওর কাজের গতি বাড়েনি। ঘাড় নিচু ছিল বলে অনেকক্ষণ ধরে একটা কাকলাসকে মন দিয়ে দেখছিল বাদল। সামান্য দূরে দোপাটি ফুলের ঝোপে দুটো ফড়িং উঠি-নামি উঠি-নামি মতো খেলা খেলছিল, এদিকে গোবর ফেলানো ডালিতে কাকলাসটা ঘাপটি মেরে আছে। কিন্তু বাদলের মন বলছে, ফড়িংগুলো উড়ে যাক। অমনি কোথা থেকে মোরগের ধাওয়া খেয়ে বাসন্তী বেড়াল গিয়ে লুকালো ডালির তলায়। ওই শব্দটুকুই ফড়িংদের খেলা ভেঙে দিলো মুহূর্তে। কাকলাসটা এক লাফে মানকচুর শুকনো ডালে গিয়ে সটান হলো। এদিকে বাসন্তীর গো-গো শব্দে বিশ্বনাথের ক্ষুর অন্যমনস্ক হয়ে বাদলের ঘাড়ে হালকা হোঁচট খেল সম্ভবত। চিকন শব্দ বেরুলো তার গলা থেকে। কিন্তু বাদল তাকিয়ে ছিল কাকলাসটার চোখের দিকে, শিকার হাতছাড়া হওয়ার জন্য নিশ্চয়ই, না বাদলের মনের অভিসন্ধি টের পাওয়াতে, ব্যাটা বুঝি রক্তমস্তক। চুল কাটার পয়সা নিতে নিতে বিশ্বনাথ পা দিয়ে ডালি তুলে বাসন্তীকে উদ্ধার করল। অবশ্য তার দরকার ছিল না, এ বেড়াল যেই সেই শেয়ানা নয়, পাড়ার মাস্তান একেবারে। খালি মাঝেসাঝে মোরগের তাড়া খেয়ে বেগতিক হয়ে দৌড় দেয়। বাড়ির বউ-ঝি কামলারা গেছে পাট শুকোতে তপনের খোলায়। টানা বৃষ্টিতে কদিন সব কেমন স্যাঁতসেঁতে হয়ে উঠেছিল। ওর গোসলের জল তুলে রেখে গেছে এনামের মা। তাতে একটা সেদ্ধ নিমের ডাল ফেলা। সারা কলতলায় লাটিম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গাছটা কাটি কাটি করেও কাটায় না ওর বাপ। অথচ মদ্দা তালগাছটা কাটালো জ্যৈষ্ঠ মাসে। এ-বাড়িতে বাদলের কথা কেউ শোনে না, মা ছাড়া। ওর ভালো-মন্দের ভাবনা এখন মায়ের হাতে। বাদলের ডান হাতটায় আগের মতো জোর নেই। তবু মা এ-তাবিজ সে-তাবিজ গুঁজেই যাচ্ছে কোমরের তাগায়। আজ বুঝি কোনো শাপ লেগেছে কপালে ওর। নাভির নিচেও কেটে গেল রেজার চালাতে গিয়ে। রক্তের রেখা মুছে নিল বাঁ-হাতের চেটোয়, মুখের ভেতরটায় বিষের স্রোত বয়ে গেল সহসা। কেউ বুঝি গলায় বালতিতে চুবিয়ে রাখা নিমের ডালটা গুঁজে দিচ্ছে প্রাণপণ! কোনোক্রমে গায়ে জল ঢেলে ঘরে এসে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল বাদল। কতক্ষণ ঘুমিয়েছে জানে না, মাগরিবের আজান ভেসে আসছে দক্ষিণপাড়া থেকে। গরুর দল এসে পড়েছে মাঠ থেকে, সব ঘরে বাতি দেওয়া হয়ে গেছে। এনামের মা রুস্তমকে ঘরে তুলেছে চু-চু শব্দ তোলে। সমস্ত শব্দ মন দিয়ে শোনে বাদল। ঘোড়াটা মুখ দিয়ে একটা আওয়াজ করল, তাতে এনামের মা কলকল করে উঠল, ‘দিন দিন তোমার আহ্লাদ বাইড়েই যাচ্ছে।’ বলে চটের পর্দাটা টান দিলো, ক’খানা কাচের চুড়ি রিমঝিম করে উঠল তাতে। আবেশে ঘোর চলে এলো বাদলের সদ্য পয়পরিষ্কার করা শরীরে। সামান্যতম শব্দ বাদলের ভালো লাগে। রাতে সবার খাওয়া হয়ে গেলে মা আর ও খেতে বসলো। বাসন্তীর দিকে এঁটো ছুড়ে দিতে দিতে মা জানাল, ‘শুনছিস কাল থেকে এনামের মা আসবে না, ওর ভাশুরঝি আসবে। বাচ্চা খালাস-টালাস করে ঝরঝরা হয়ে কামে ঢুকবে। এ ক’মাস রুস্তমের চাড়িমাখা, ঘাসঘুস জলিল আর ওই মেয়েটা দেখবে।’ বাদল নীরবে ভাত খেতে খেতে শুনল সবিস্তারে। খাওয়ার পর তেল মালিশ করে দিলো ওর ডান হাতে মা। – কাল একবার আব্বাস জ্যাঠার কাছে যা না বাপ। আসার পর তো একবার দ্যাখা করা দরকার। এই আট বছর দিন-রাত কত জায়গায় গেছি, সবাই মুখ অন্ধকার করে ফেলছে; কিন্তু আব্বাসভাই একমাত্র গলা নরম করে পরামর্শ দিছেন। আমি নরেশের বাড়ি থেকে ঘি আনায় রাখছি। কাল যা একবার। – মা, আব্বা আসেনি বাড়ি? – সে তো এতো তাড়াতাড়ি আসার মানুষ না, পাটের বোঝা তুলতে গেছে নৌকায়। হাট ধরতে হবে না সকালে! তুই ঘুমা বাপ। দুই উনিশশো চুরানব্বই সাল, হেমন্তের বিকেল। হাটুরেরা সব বোয়াল মাছ নিয়ে যাচ্ছে। বোয়ালের চওড়া মসৃণ পিঠে পড়ন্তবেলার কিরণ, নাইওরে আসা কিশোরী বধূর লাজুক হাসির মতো স্মিত খেলছিল সেই আলো। বাদল মাছের দামদর জিজ্ঞেস করল, কাউকে কাউকে বাহবাও দিলো ইয়া পেল্লায় মাছ কেনার জন্য। দামে জেতার জন্য প্রায় সবাইকে এক রায় দিলো। সেই রাতে ওদের বাড়িতেও বোয়াল মাছ রান্না হয়েছে। সবাই গোল হয়ে বসে গালগল্প করতে করতে হাত ধুয়ে বসেছে কেবল, বাড়ির কুকুর দুটো গলা ফুঁড়ে চেঁচামেচি শুরু করে দিলো। গাংপাড়ার নেয়ামতদের বাড়ির লোকজন এসেছে। শাহীনকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কাল থেকে। বাদলদের সঙ্গেই ক্যারম খেলে সে দোকান বন্ধ করে। বাদল সাফ জানাল, বুধবারের হাটে ছাড়া কথাই হয়নি আর। কে যেন বলে উঠল, বউয়ের বাচ্চা হবে শুনছিলাম, ও-বাড়ি যায়টায় নাই তো। সব খোঁজখবরই নিচ্ছি আমরা, দেখি বজলু কাকার বাড়ি গিয়ে একবার। খাওয়া-দাওয়া সেরে দাদির ঘরে এসে বাদল কোলপাঁজা করে মোতালো তাকে। কোমরে আঘাত পাওয়ায় হাঁটতে পারে না তেমন, তাছাড়া বেশ আছেন। ‘শোন, তুই একবার হুসেনদের বাড়ি যা তো’, প্রায় ফিসফিস করে বলল দাদি। ‘বউ পোয়াতি হলে ব্যাটাছেলেরা এখানে-সেখানে রাত কাটায় বুঝলি। তোর দাদাও নিখোঁজ হতো।’ বাইরে এসে ভাবতে লাগলো, দাদি কী করে এতো খবর রাখে। সারাদিন ঘরে শুয়ে পুরো গাঁয়ের নাড়ি বুঝতে পারে বুড়ি! হুসেনদের বাড়ি খবর যে পৌঁছে গেছে, সেটা বাদল জানে। শাহিদার স্বামী লিবিয়া গেছে আজ প্রায় ছয় বছর। সেই থেকে বাপের বাড়ি সে। ওদের বাড়ির পাশেই খলিফাবাড়ি। সেখানেই ক্যারম খেলে বাদলদের গ্রুপটা। পরপর দুবার ডিগ্রি পরীক্ষায় ফেল করেছে ও আর মমিন। মমিন লিবিয়া যাওয়ার জন্য শাহিদার কাছে ধরনা দিতে দিতে এক প্রকার সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলেছে। এদিকে শাহিদার খালাত ভাই শাহীন ওদের যাওয়া-আসা খুব একটা ভালো নজরে দেখে না। ক্যারম খেলার সময় প্রায়ই ঝগড়াঝাটি লেগে যায় ওদের। শাহিদা উঠোন লেপে, গোবরমাখা হাতে শাড়ি ঠিক করে। তাই দেখে দেখে মমিন শালা প্রেমে পড়ল। বাদলের বাবা এ-গ্রামের দু-দফার চেয়ারম্যান, পয়সার বিচারে ওরা সাত গাঁয়ের এক মাথা। আর শাহিদা কি না মমিনের মতো হ্যাংলায় মজে গেল?…
-

প্রচ্ছদ
হাশেম খান বাংলাদেশের চিত্রকলার সৃজনধারায় এক সমাজমনস্ক চিত্রকর। তাঁর ক্যানভাসে ধরা আছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতার নানা রূপ। প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষ তাঁর চিত্রের মুখ্য বিষয়। ১৯৪১ সালের ১লা জুলাই চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী শৈশব ও কৈশোরে অবলোকন করেন নিরন্ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। এই স্মৃতি তাঁর সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলেছে। পাখি ও কাক তাঁর প্রিয়…








