মাটির পৃথিবী ছেড়ে, আমাদের ছেড়ে সহসাই অনন্তের দিকে যাত্রা করলেন সবার অতি প্রিয়জন আবুল হাসনাত। আমরা তাঁকে জানি স্বল্পভাষী, উদার একজন সম্পাদক হিসেবে। সম্পাদকীয় আভিজাত্যের প্রাণপুরুষ কবি আহসান হাবীব এবং আবুল হাসনাতের সাহিত্যপাতায় লেখা ছাপা না হলে কবি/ লেখকের স্বীকৃতি অধরাই থেকে যাবে এমন ভাবনায় উদ্বিগ্ন থাকতাম আমাদের তরুণ বয়সে। সাহিত্যক্ষেত্রে জনকের ভূমিকাই পালন করেছেন তাঁরা।

এর বাইরে আবুল হাসনাতের আর-একটি পরিচয় আছে, তিনি একজন কবি। মাহমুদ আল জামান নামে কবিতা লিখতেন। কবিতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন নিভৃতচারী মানুষ, হই-হুল্লোড় একদম পছন্দ করতেন না, নিজের কবিতা নিয়ে তাঁকে কিছু বলতে শুনিনি কোনোদিন। যেন কবিতা লেখা তাঁর কাছে এক ধরনের আধ্যাত্মিকতা, যেন এই পথেই মুক্তির মায়াকানন। এই আধ্যাত্মিকতা, এই আরাধনা, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা, আর এই আত্মমগ্নতা মানুষ ও কবি হিসেবে তাঁকে ঋদ্ধ ও নান্দনিক করে তুলেছে।

আমি তখন বরিশালে, তারুণ্যকে এলোমেলো করে দিয়েছে কবি/ লেখক হওয়ার সুপ্ত বাসনা। মফস্বল শহরে থাকি, সবকিছুতেই দ্বিধার পোকামাকড় তবে মফস্বলে থাকা কবি/ লেখক হবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় এমন ভাবনা কোনোদিন প্রশ্রয় পায়নি আমার মনে। লেখা পাঠাতে থাকলাম, মাস বছর চলে যায়, কোথাও প্রকাশের মুখ দেখে না সেসব লেখা! মাঝেমাঝে ভেঙে পড়া এবং হতাশার ফাঁকফোকর দিয়ে যদি কোনোদিন একটু আলোর দেখা পাই, যদি কেউ হাত বাড়িয়ে দেয় এই আশায় আবার জেগে ওঠা। এরই মধ্যে একদিন, সত্তরের পহেলা মার্চ, দৈনিক পাকিস্তানের রবিবাসরীয় সাহিত্যপাতায় ছাপা হলো আমার প্রথম কবিতা, ‘পাখিগুলো আসে না আর’। দৈনিক সংবাদে আমার প্রথম গল্প ছাপেন আবুল হাসনাত, ‘আমাদের সংসার’।

তখনো তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়নি, নানা কথা শুনি তাঁর সম্পর্কে। তিনি গম্ভীর মানুষ, আত্মমগ্ন থাকেন, কথা বলেন না নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া। তবে ‘চা খাবেন’ এটা বলেন এবং আপ্যায়ন করেন। আমার তখন অপার আগ্রহ মানুষটার সঙ্গে পরিচিত হবার।

মাঝে মাঝে পুরানা পল্টনের সংবাদ অফিসে সন্তোষদার [সন্তোষ গুপ্ত] কাছে যেতাম আমি, কখনো লেখা নিতে পূর্বাণীর সাহিত্যপাতা/ ঈদসংখ্যার জন্য, কখনো স্রেফ একটু আড্ডা দিতে। তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না।

একদিন দুপুরে সন্তোষদাকে আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আমার প্রথম উপন্যাস [আসলে উপন্যাস নয়, উপন্যাস বলে চালিয়ে দেওয়া বড় গল্প] আশ্চর্যকুহক পৌঁছে দিতে গেলে তিনি আমাকে আবুল হাসনাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। 

প্রথম দিনই টের পাই তিনি খুবই কম কথা বলার মানুষ। আমি তাঁর সামনে কাঠের চেয়ারে বসে আছি, আর তিনি তাকিয়ে আছেন জানালা দিয়ে আসা দুপুরের রোদের দিকে। সামনে বসা মানুষটির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, কিংবা সামনে আদৌ কেউ বসে আছেন কি না তা যেন তিনি বুঝতে পারছেন না! এর নাম কি তাহলে উপেক্ষা? উঠব কী উঠব-না ভাবছি, এমন সময় আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘চা খাবেন? চা দিতে বলি?

চা-শেষে উঠতে যাব এমন সময় বললেন, ‘সঙ্গে কবিতা আছে? বললাম, ‘নেই।’ বললেন, ‘ঠিক আছে, আবার এলে কবিতা নিয়ে আসবেন।’

ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, উপেক্ষা নয়, তিনি আসলে মানুষটাই অন্যরকম।

আমার যৎসামান্য কবিখ্যাতি ও লেখক হওয়ার পেছনে যে-দুজন মানুষের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখব তাঁদের একজন কবি আহসান হাবীব এবং অন্যজন সম্পাদক আবুল হাসনাত। প্রসঙ্গত আরো দুজনের কথা স্মরণযোগ্য, শহীদ কাদরী এবং রাহাত খান।

দুই

যেন এখন এক অপার্থিব, অবাস্তব সময় অতিক্রম করছে তাবৎ পৃথিবীটা। কিন্তু কতকাল এই ভয়ানক নিঃসঙ্গ আর একাকিত্বের ঘোর ও মায়া-বিভ্রমে কাটাবে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ?

তাই মাঝে মাঝে করোনা মহামারির মধ্যেও সব ধরনের বিধিনিষেধ মেনে সীমিত আকারের আড্ডায় মেতে উঠি আমরা এই দূর-নিবাসে। সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের বাসায় এমন এক আড্ডায় কবি আসাদ চৌধুরী ও শাহানা চৌধুরী, কবি দেলওয়ার এলাহী, তরুণ বন্ধু জর্জ ও জেনিফার, শিল্পী অনুপম দাশ ও সুমিতা দাশকে আপ্যায়ন করলেন তসলিমা হাসান। নিয়ম মেনেই আড্ডা শেষ করতে হলো মধ্যরাতের আগে। একে একে সবাই চলে গেলেন। থেকে গেলেন দেলওয়ার এলাহী। একসময় হঠাৎ বললেন, বড় দুঃসংবাদ, হাসনাতভাই আবুল হাসনাত চলে গেছেন।

স্তব্ধ হয়ে গেলাম শুনে। ইতোমধ্যে ফেসবুক ছয়লাভ হয়ে গেছে এই অভাবিত মৃত্যুর খবরে।   

হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন সময়ে হাসনাতভাইয়ের দেওয়া কালি ও কলমের বিশেষ সংখ্যাগুলো দেলওয়ারকে দেখালাম, শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া সংখ্যা, শিল্পী আমিনুল ইসলাম সংখ্যা, ছোটগল্প সংখ্যা। বিভিন্ন সময় বেঙ্গল থেকে প্রকাশিত কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ আমাকে উপহার দিয়েছিলেন তিনি, দুর্ভাগ্য, সেইসব মূল্যবান  উপহার হাতছাড়া হয়ে গেছে! কালি ও কলমের প্রতিটি সংখ্যায় আছে রুচি ও নান্দনিক আভিজাত্য। কী চমৎকার মেকআপ, গেটআপ! কালি ও কলমে লেখা ছাপা হলে প্রাণিত হওয়ার এটাও একটা কারণ।

তিনি ই-মেইল করতেন লেখা চেয়ে, দুটি বাক্য আর চার শব্দের ই-মেইল। ‘ইকবাল, একটি কবিতা পাঠান। দ্রুত। হাসনাত।’ এবার বইমেলায় গিয়েছিলাম জানুয়ারির শেষদিকে। খবর পেয়ে হাসনাতভাই কবি পিয়াস মজিদের কাছ থেকে আমার ফোন নম্বর নিয়ে ফোন করে আমাকে চমকে দিলেন। বললেন, ‘দুটো কবিতা পাঠান কালকের মধ্যে, মিস করবেন না কিন্তু।’ কথা দিয়েও অনেক সময় লেখা দিতে পারিনি, তিনি রাগ করতেন না, ‘ঠিক আছে। অসুবিধা নাই।’ এবার যেন মিস না করি   হাসনাতভাইয়ের মুখে এ-কথা শোনার পর আমি ওই মুহূর্তে কী লিখি কী লিখি ভাবতে ভাবতে সারাদিন সারারাত পার করে ভোরের দিকে ‘কাছে থাকা, না-থাকা’ ও ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ নামে দুটো কবিতা পাঠালাম। ছাপলেন, চৈত্র ১৪২৬, সংখ্যায়।  

একবার, হঠাৎ করে কী মনে হলো, এক লাইনের একটা ই-মেইল করলেন, ‘একটা গল্প পাঠাতে পারবেন।’ উত্তর দিলাম, ‘পারবো।’ পাঁচদিনের মধ্যে লিখে পাঠালাম ‘তেলাপোকা’। [কালি ও কলমে তিনি আমার অনেক লেখা ছাপলেও এই প্রথম তাঁর মুখ থেকে, ‘ভালো হয়েছে’ শব্দদ্বয় উচ্চারিত হলো।]

আমার খুব দ্বিধা ছিল, ভাবছিলাম, তিনি বোধহয় আমার কাছে আর কোনোদিন লেখা চাইবেন না। কারণ, কবি শহীদ কাদরী মারা যাওয়ার পর কালি ও কলম একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল এই কিংবদন্তিতুল্য কবির প্রতি। হাসনাতভাই, এবার আর ই-মেইল নয়, ঢাকা থেকে ফোন করে একটি লেখা চেয়েছিলেন। লেখাটি আমি শুরুও করেছিলাম, কিন্তু শেষ করতে পারিনি। দেওয়া হয়নি, তিনি মনোক্ষুণ্ন হলেও আমাকে বর্জন করলেন না, শুধু বললেন, ‘আপনি লিখলে ভালো হতো। আপনি শহীদ ভাইয়ের এতো কাছের মানুষ।’ ব্যস ওইটুকু, আর আমি তখন পালাবার পথ খুঁজছি।

তিনি আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ, আমার জীবনে দেখা নিখাদ ভদ্রমানুষদের একজন। এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে হীরের উজ্জ্বলতা দিয়েছে।  

তিন

আবুল হাসনাত একজন মুক্তিযোদ্ধা, সম্পাদনা করেছেন অসাধারণ গ্রন্থ মুক্তিযুদ্ধের কবিতা। সম্পৃক্ত ছিলেন বামধারার রাজনীতির সঙ্গে। 

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। ‘এই সংকলনে মুক্তিযুদ্ধকালীন দুঃসহ দিনরাত্রির অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, আন্তরচেতনা ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’ প্রকাশক, অবসর। সংকলনটিতে হাসনাতভাই আমার একটি কবিতা নিয়েছেন দেখে প্রাণিত হয়েছি।

এই গ্রন্থের ভূমিকায় আবুল হাসনাত লিখেছেন, ‘… মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনচেতনায় ও জাতীয় কর্মপ্রবাহে হীরকখণ্ডের মতো এখনো দ্যুতিময়। যত দিন যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তাৎপর্য আমাদের সমাজভাবনা, আমাদের রাজনীতি ও শিল্প-সাহিত্যকে নতুন আলোকে সঞ্জীবিত করবার প্রেরণা দিচ্ছে; যে-কোনো সংশয়ে এই চেতনাই এখন প্রাণিত করছে বুদ্ধিজীবীর মননকে ও রাজনীতির অঙ্গনকে। বাঙালির জীবনে এ এক প্রাপ্তিও বটে। 

৭১-এর পঁচিশে মার্চ রাত থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে আপামর বাঙালি অস্ত্রহাতে অসমসাহসী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। এ ছিল বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। বৃহৎ শহরে বা গ্রামাঞ্চলে দেশের সকল শ্রেণির তরুণ যে লড়াই করেছিল সকল ক্ষেত্রে যে তা সফল হয়েছিল তা নয়। সম্মুখ বা অতর্কিত আক্রমণ করতে গিয়ে প্রাণবিসর্জন দিতে হয়েছে অগণিত মানুষকে। আজো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে না-আসা সন্তানের জন্য পথ চেয়ে বসে থাকেন অনেক মা। মায়ের হৃদয় কিছুতেই ছেলের যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন বিসর্জন মেনে নিতে চায় না। 

… এই মরণপণ যুদ্ধে অন্যান্য দেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো কবিতা আর গান মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে, কখনো অবরুদ্ধ গৃহে।

মুক্তিযুদ্ধের ন’মাসে মৃত্যু আর জীবনের উপলব্ধি এ দেশের শিল্প-সাহিত্যে এক নতুন অভিজ্ঞতা। সংকলনভুক্ত কবিতায় এই উপলব্ধি সম্প্রসারিত হয়েছে যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।’

চার

উচ্চাঙ্গসংগীত সর্বার্থে এক জটিল শাস্ত্রীয় সংগীত। এই শুদ্ধ সংগীতই সকল সংগীতের মূল ভিত্তি। স্কয়ার-নিবেদিত ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন-আয়োজিত উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলনে যাব ঠিক করলাম। গানের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও আমাদের বিশাল পরিবারে একজনও গায়ক-গায়িকা নেই। এমন পরিবারের একজন শুধুমাত্র উচ্চাঙ্গ সংগীত শোনার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রেখে দশ দিনের জন্য টরন্টো থেকে আকাশপথে সাড়ে বারো হাজার মাইল উড়ে যাবে! শুনে একজন বলল, আপনার মাথায় ছিট আছে।

শুনে হাসনাতভাইও যারপরনাই অবাক হলেন, বললেন, ‘আপনি আসবেন? বললাম, ‘হ্যাঁ আসব।’ হাসনাতভাই বললেন, ‘ঠিক আছে। আমি সব ব্যবস্থা করে রাখব।’ মনে মনে বললাম, সংগীত বুঝি বা না, বুঝি আসল কথা, ভালো লাগা, ভালো লাগলেই হলো। অনির্বচনীয় ধ্রুপদ সিঁড়ি বেয়ে আনন্দলোক আর মঙ্গলালোকের দিকে যাত্রার এক আশ্চর্য মোহনীয় অভিজ্ঞতা তো হবে। হবে শুদ্ধ সংগীতে অলৌকিক অবগাহন।

ঢাকা নেমেই হাসনাতভাইকে ফোন দিলাম। বললেন, ‘অফিসে চলে আসেন। আপনার নামে দুটো খাম আছে, নিয়ে যান।’ খাম আনতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অফিসে গেলে হাসনাতভাই বললেন, ‘আমাদের অফিস ক্যাফেটেরিয়ার খাবার খুব ভালো। লাঞ্চ করে যাবেন।’ 

এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সময় দিলেন, আপ্যায়ন করলেন দেখে আমি একটু অবাকই হলাম। বললেন, ‘স্রেফ গান শুনতে অতদূর থেকে এসেছেন দেখে আশ্চর্য হয়েছি।’

সেবার পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী, জয়াপ্রদা রামমূর্তি, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, রাহুল শর্মা, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, ড. বালমুরালী কৃষ্ণ, ওস্তাদ জাকির হোসেন, ইরশাদ খান, ওস্তাদ রাশিদ খান, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়াসহ এসেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক গুণী শিল্পী।

অনুষ্ঠানের শেষ দিনে দেখা হতেই কাছে ডাকলেন, প্যান্ডেলের মাঝবরাবর বসেছিলেন তিনি। বললেন, ‘এখানে একটি আসন খালি আছে।’ আমরা পাশাপাশি বসে আছি, শেষ দিনের শেষ প্রহরে মঞ্চে যেন আপন শক্তিতে জ্বলে উঠলেন বাঁশির জাদুকর পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। 

তখনো আলো ফোটেনি, বাঁশি হাতে নিয়ে যেন প্রভাতকেই জানালেন মুগ্ধ আমন্ত্রণ।

বললেন, ‘সকালবেলা আমি আপনাদের মিথ্যা বলব না। এরকম দর্শক আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। বাংলাদেশ বাঁশির দেশ। … আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হাতে একটি করে বাঁশি থাকুক।’ তিনি যখন রাগ কিরওয়ানি দিয়ে শুরু করে শেষে এদেশের চিরচেনা ভাটিয়ালি তুললেন বাঁশিতে আমি দেখলাম, মন্ত্রমুগ্ধ পাশের মানুষটিকে। যেন তিনি তখন ধ্যানমগ্ন গৌতম বুদ্ধের মতো আনন্দলোক, মঙ্গলালোকে ভেসে যাচ্ছেন। 

Leave a Reply