অশেষ রবীন্দ্রনাথ নিয়ে সবিশেষ

লেখক:

পিয়াস মজিদ

 

অশেষ রবীন্দ্রনাথ

বিশ্বজিৎ ঘোষ

 

নানদনিক

ঢাকা, ২০১৪

 

৩২০ টাকা

 

 

বিশ্বজিৎ ঘোষের অশেষ রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থে তিনটি পর্বে সাশ্রিত হয়েছে তাঁর রবীন্দ্রবিষয়ক ভাবনাচিন্তন। ছাবিবশটি লেখায় একান্ত ব্যক্তিক রবীন্দ্র-অনুভবের পাশাপাশি গভীরতাবাহী          গবেষণা-প্রবন্ধও স্থান করে নিয়েছে। গ্রন্থের ‘প্রসঙ্গত’তে লেখক বলেছেন, ‘দীর্ঘ ব্যবধানে রচিত হয়েছে বলে প্রবন্ধগুচ্ছ আপাতবিচ্ছিন্ন মনে হলেও এখানে একটা অন্তর্গত ঐক্যসূত্রও সচেতন পাঠক খুঁজে পাবেন বলে ধারণা করি।’ হ্যাঁ, রবীন্দ্রসাহিত্যের বিশ্লেষণে তাঁর কবিতা-কথাসাহিত্য-নাটক-প্রবন্ধ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার পাশাপাশি ভাবুক-কর্মী রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে তাঁর গ্রামোন্নয়ন ভাবনা-বিশ্বায়ন বীক্ষণ-সমাজসংস্কার চেতনা ও রাজনৈতিক বোধের ব্যাখ্যায় যেন নানা রবীন্দ্রনাথের এক অভিন্ন মালা রচিত হয়েছে এই পুস্তক-কাননে। অশেষ রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজিৎ ঘোষে ধরা দেয় এভাবে –

‘প্রাচ্য-প্রতীচ্যের যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা পরমজ্ঞানে আত্তীকরণ করে রবীন্দ্রনাথ নির্মাণ করেছেন বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত এক রূপ। বাঙালির মুখে তিনি ভাষা জুগিয়েছেন, বুকে দিয়েছেন ভরসা, চোখে পরিয়েছেন স্বপ্নকাজল আর চিত্তে সঞ্চার করেছেন আত্মবিকাশের অফুরান বাণী।’ (‘আমার রবীন্দ্রনাথ’, অশেষ রবীন্দ্রনাথ, পৃ ২৫৩)

‘অশেষ রবীন্দ্রনাথ’কে নব নব রূপে আমরা খুঁজে পাই এই গ্রন্থের সারবান সংশ্লেষণ আর বিশ্লেষণে। ‘রবীন্দ্রসাহিত্যে ফ্যাসিবাদ-বিরোধিতা’, ‘প্রগতি লেখক সংঘ এবং রবীন্দ্রনাথ’, ‘ব্রিটিশ সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ’ শীর্ষক প্রবন্ধত্রয়ে সাম্রাজ্যবাদের উদগ্র আস্ফালনের মুখে শান্তিবাদী-মানবিক সংহতির কবি রবীন্দ্রনাথের দেখা মেলে, যিনি শুধু কবিতা-গান আর গদ্যেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেননি, বরং সাংগঠনিকভাবেও ফ্যাসিবাদবিরোধিতায় মাঠে নেমেছিলেন। আর এই ফ্যাসিবাদবিরোধী রবীন্দ্রনাথ-অবলোকনে তৎকালীন ব্রিটিশ দৃষ্টিভঙ্গিটিও সগুরুত্বে উল্লেখ করেছেন প্রাবন্ধিক –

‘…ভাবতে অবাক লাগে, গীতাঞ্জলি-র কবি ছাড়া ইংল্যান্ড কখনোই রবীন্দ্রনাথকে জানতে চায় নি। অনুবাদের অভাব হয়তো এর পিছনে কাজ করেছে; তবু তাদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব, যার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সর্বদা প্রতিবাদমুখর, এক্ষেত্রে যে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’ (‘ব্রিটিশ সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ’, পৃ ৬৮)

গীতাঞ্জলির নোবেলপ্রাপ্তির শতবর্ষ (২০১৩) উপলক্ষে এর পূর্বাপরও আলোচিত হয়েছে সবিস্তারে। রবীন্দ্রনাথের অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা বিশ্বজিৎ ঘোষ অন্বেষণ করেছেন পণ্যায়িত বিশ্বায়ন-বিরোধিতায়। এর বিপরীতে যে মানবিক বিশ্বায়নের উত্থান কামনা করেছেন তা রবীন্দ্রসাহিত্যের আলোকে উন্মোচিত হয় এরূপে –

‘…রক্তকরবী-র শোষিত খোদাইকরদের মতোই একালের মানুষ বিশ্বায়নের সুড়ঙ্গে ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে যেন। আগ্রাসী এই বিশ্বায়নের বিপ্রতীপে রবীন্দ্রনাথ প্রত্যাশা করেছেন মানবিক বিশ্বায়ন – পণ্যের বিশ্বায়ন নয়, রবীন্দ্রনাথের বিশ্বায়ন মনুষ্যত্ববোধ বিস্তারের বিশ্বায়ন।’ (‘রবীন্দ্রনাথের বিশ্বায়নচেতনা’, পৃ ২৪)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবিরোধিতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নাম যুক্ত করে সমসময়ে যে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা সংঘটিত হয়, তার তথ্যবহ জবাব দিয়েছেন লেখক। জানাচ্ছেন – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ১৯২২-এর ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে বিরাট জনসভা হয় বলে যে-তথ্য প্রচার করা হয়, তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত – কেননা, সেদিন রবীন্দ্রনাথ কলকাতাতেই ছিলেন না, ছিলেন পূর্ববঙ্গের শিলাইদহে।

দুটো ভিন্ন চারিত্রিক প্রবন্ধ ‘রবীন্দ্রনাথের কবিতায় শৈব-পুরাণ’ এবং ‘রবীন্দ্র-কবিতায় গৌতম বুদ্ধ : একটি ভিন্নমাত্রিক অনুষঙ্গ’। ১৯৩৭ সালে জাপান কর্তৃক চীন আক্রান্ত হলে এই অন্যায় যুদ্ধযাত্রার পূর্বকালে অহিংস বুদ্ধের মূর্তির সামনে জাপানি সৈনিকদের যুদ্ধজয়ের প্রার্থনাকে বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করে রচিত রবীন্দ্রনাথের ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’, ‘বুদ্ধভক্তি’, ‘বুদ্ধ ও যুদ্ধ’ কবিতাগুলো রচনার ইতিহাস বয়ানের পাশাপাশি এ-সম্পর্কে ব্যাখ্যাসম্পাত করেন এভাবে –

‘…গৌতম বুদ্ধকে নিয়ে জাপানি সমরনায়কদের ভন্ডামির মুখোশটাই উন্মোচন করে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এই ব্যঙ্গ রচনাত্রয় রবীন্দ্রনাথের প্রগতি ও প্রতিবাদীচেতনার ভিন্ন এক প্রকাশ – রবীন্দ্র-সৃষ্টিশীলতার উজ্জ্বল ও স্মরণীয় এক প্রান্ত।’ (পৃ ১৭১)

গ্রন্থের একটি মূল্যবান সংযোজন ‘বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চা’। এ-বিষয়ে পূর্বে স্বতন্ত্র নানা গ্রন্থ রচিত হলেও ড. ঘোষের প্রবন্ধে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে সুপ্রযুক্ত হয়েছে বিশ্লেষণী দৃষ্টি। তিনি পূর্ব প্রজন্মের রবীন্দ্রচর্চার স্বরূপ উন্মোচন ও তার চারিত্র্যবৈশিষ্ট্যের নিকষে দেখতে আগ্রহী বর্তমানের রবীন্দ্র-দর্শন। ১৯৪৮ সালে ভবানী সেন প্রমুখ মার্কসবাদীর উত্থাপিত রবীন্দ্রবিতর্ক, ১৯৬১-তে অর্থাৎ জন্মশতবর্ষে রবীন্দ্রচর্চা ও বিরোধিতা, ১৯৭১-এ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মুক্ত-আলোয় নতুন করে রবীন্দ্রনাথকে আপন করে নেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের পর সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত ড. আহমদ শরীফের রবীন্দ্রবিরোধী মতামতের প্রতিক্রিয়ায় আমাদের বিভিন্ন প্রজন্মের কবি-লেখকদের রবীনদ্রভাবনার প্রসঙ্গ আলোচনার মধ্য দিয়ে লেখক দেখান ‘রবীন্দ্রনাথের জমিদারি-মুসলিম সমাজজীবনের অনুপস্থিতি’ ইত্যাদি নানান তর্কমূলক-শিল্পরহিত প্রসঙ্গে একদেশদর্শী সমালোচনার মাধ্যমে রবীন্দ্রবর্জনের যে-রেওয়াজ ছিল, তা ধীরে ধীরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রগতিশীল বাতাবরণে নবরূপ পরিগ্রহ করে, যে-কারণে আজকের প্রজন্মের রবীন্দ্রচর্চা পোস্ট-কলোনিয়াল ডিসকোর্স এবং উত্তরাধুনিকবাদী তত্ত্বের আলোকে নির্ধারিত হয়। এমন অগ্রগমনের পাশাপাশি হতাশার চিত্রও জাজ্জ্বল্য করেন লেখক – ‘অনেকের রবীন্দ্র অধ্যয়নই পাঠ্যপুস্তকের ‘জুতা আবিষ্কার’, ‘বলাই’, ‘ছুটি’-ধর্মী রচনা কিংবা একখানা শেষের কবিতা-র তরল-মুগ্ধ পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’ (পৃ ২৩৩)

রবীন্দ্রনাথের বিচিত্রগামী পরিচয় অন্বেষণের এক মাত্রায় তাঁর সম্পাদকসত্তা নিয়ে আলোচনা করেন বিশ্বজিৎ ঘোষ। রবীন্দ্র-সম্পাদিত বাংলা কাব্য-পরিচয় সংকলনের আনুপূর্ব ইতিহাস ও এর সমকালীন প্রতিক্রিয়ার সমাবেশে আমরা বুঝে উঠি আপাত- নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আধুনিক বাংলা কবিতা বিষয়ে রবীন্দ্রদৃষ্টির এক ফোঁটা সৃষ্টিসম্পাত রয়ে গেছে এই সংকলনে। লেখক যেমন এই সংকলন সম্পর্কে বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সংকলন করেছেন, তেমনি শঙ্খ ঘোষের শরণ নিয়ে এমন সত্যও জ্ঞাপন করেছেন যে, আধুনিক বাংলা কবিতা বিষয়ে রবীন্দ্রমানসের দ্বিধা-সংশয় ও পরিগ্রহণী পরিসরের দেখা মেলে এখানে। ‘সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ’ বিষয়ে অনেকানেক নতুন তথ্যের সন্ধান পাওয়া যাবে আলোচ্য রচনাটিতে।

‘রবীন্দ্রসঙ্গীতে নারী’ শীর্ষক এক মিতলেখনে প্রাবন্ধিক শনাক্ত করেন গানের ভুবনে রবীন্দ্র-নারীচেতনা। এক্ষেত্রে তাঁর আবিষ্কার মৌলিক। নারীর জন্য সংগীতকার কবির আকুলতা-আকাঙ্ক্ষাকে তিনি ঈশ্বরপ্রেমের দ্যোতক জ্ঞান করেন। শতরূপে শতবার দেখা নারী প্রেমে-বিচ্ছেদে যে রবীন্দ্রনাথের জীবনদেবতারই নানারূপী বহুভঙ্গিম প্রকাশ; তাঁর তত্ত্বতালাশ করেন তিনি। দেখে ওঠেন রবীন্দ্রনারীর পথরেখা আসলে সীমার পথ ধরে অসীমেরই পানে। তাই কৃষ্ণকলির মধ্য দিয়ে চিরায়ত সীমানাভাঙা নারীর অখন্ড রূপ-চাতক রবীন্দ্রনাথকে আমরা দেখতে পাই প্রাবন্ধিকের সংবেদী বিশ্লেষণে।

একটি সবিস্তারী বিশ্লেষণী-ভাষ্য ‘রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য : গদ্যরীতি’। তিনি আদি-মধ্য-অন্ত এই তিন পর্বে ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের প্রান্ত পর্যন্ত বিষয় ও ভাষারীতির বিবর্তনের আলোকে রবীন্দ্রকথাসাহিত্যের গদ্যরীতিকে ব্যাখ্যা করেছেন। লেখক এ-বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের নিজের ভাষ্য সংগ্রহ করেন, বুদ্ধদেব বসু-দেবেশ রায় প্রমুখের পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন এবং সবশেষে তাঁর সুসিদ্ধান্ত ‘রবীন্দ্রনাথের ভাষাশিল্প এমনই সমৃদ্ধ যে কখনো কখনো ভাষা অতিক্রম করে গেছে ভাবকে, কখনো-বা বস্ত্তদৈন্য ছাপিয়ে ভাষাই হয়ে উঠেছে মুখ্য।’ (পৃ ১৫৬)

‘রবীন্দ্র-ছোটগল্প’ এই গ্রন্থে বিশেষ বিশ্লেষণের বিষয়। ‘রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প পাঠের ভূমিকা’, ‘রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে নিম্নবর্গ’, ‘রবীন্দ্র-ছোটগল্পের নাট্যচারিত্র্য’, ‘রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে বাংলাদেশের জীবন ও প্রকৃতি’, ‘ছোটগল্পের শিল্পরূপ : ‘শাস্তি’ – এই পাঁচটি প্রবন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথের গল্পকার-সত্তার সুলুকসন্ধান করেন, যে-সত্তা সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর মূল্যায়ন – ‘বিশ্বসাহিত্যে আমরা আর কোনো লেখকের কথা জানি না যিনি একই সঙ্গে বিরাট কবি এবং মহৎ গল্পলেখক।’ সাম্প্রতিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার পরিসরে নিম্নবর্গ এক বিশেষ চর্চিত বিষয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ‘রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে নিম্নবর্গ’ প্রবন্ধটি আলোচনার দাবি রাখে। আন্তনিও গ্রামশি-গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, রণজিৎ গুহ প্রমুখের তত্ত্বকাঠামোর আলোকে ঔপনিবেশিক শাসন এবং জাতিবর্ণের পীড়নে পিষ্ট উভয় নিম্নবর্গ-সত্তা কীভাবে রবীন্দ্র-ছোটগল্পে চরিত্ররূপে বিকশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করেন প্রাবন্ধিক। প্রথম ছোটগল্প ‘ভিখারিনী’ (প্রকাশ ১২৮৪ বাংলা) থেকে ‘সুপরিণত শাস্তি’, ‘মেঘ ও রৌদ্র’, ‘একটা আষাঢ়ে গল্প’, ‘ত্যাগ’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘মুসলমানির গল্প’ পর্যন্ত নিম্নবর্গ যে বহুর্থব্যঞ্জনায় সমুপস্থিত, তার নিবিড় পরিচয় এখানে আলোচনাবদ্ধ।

এভাবে রবীন্দ্রনাথের জীবন, সাহিত্য, সমকালীন প্রপঞ্চ ও নানান তুলনামূলক আলোচনা-প্রত্যালোচনায় তথ্য ও তত্ত্ববান অশেষ রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠে রবীন্দ্রবিষয়ক এক পূর্ণায়ত গ্রন্থ যা রবীন্দ্রচর্চায় যোজনা করবে নবতর মাত্রা। সিদ্ধান্ত নির্মাণের লক্ষ্যে লেখক বহু তথ্য সমাহরণ করেন, তবে তা গুরুভার হয়ে ওঠে না মোটেও। রবীন্দ্রনাথকে চিনতে তিনি এক স্বচ্ছ দৃষ্টিপথ সৃষ্টি করেন পাঠকের পটে। এক একটি বিশেষ বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করেন তিনি কিন্তু তা উদ্দিষ্ট বিষয়ে সীমায়িত না থেকে অন্তে গিয়ে মেলে অশেষ রবির আলো-মোহনায়।