আমরা, জলে-স্থলে-ছায়াপথে

সংকীর্ণ কক্ষে নয়, রয়েছি কক্ষপথে, পৃথিবীমঞ্চে

পৃথিবী ছাড়িয়ে ওই আকাশগঙ্গায়ও

মঞ্চে আমরা দুজনই কুশীলব

মনুষ্যদর্শকে নেই আগ্রহ

আমাদের শুনবে ও দেখবে সৃষ্টিজগৎ

আর অদৃশ্য ক্ষুদ্র প্রাণ

এমনকি সাগ্রহে লক্ষ করবে গ্রহ-তারকারাজি

স্থলভাগে আমাদের মঞ্চ চারদিক খোলা

বাতাস ছাড়াও আমাদের ছুঁয়ে যায় মৃদুমন্দ আলো

কখনোবা স্পর্শকাতর অন্ধকার, অবাক নৈঃশব্দ্য

আমরা কী বলব, বা বলি! জ্বলে ওঠে দীপাবলি

পাখিদের ভারে নুয়ে পড়ে ডাল, কিংবা

পাখিসমেত উড়ে উড়ে মঞ্চের সম্মুখে আসতে চায়

শীর্ণ ও স্ফীতকায় শাখা, প্রকৃষ্ট প্রশাখা

আমাদের সংলাপ রচনার সাধ্য নেই কোনো নাট্যকারের

কোনো মহড়া হয়নি, নেই কোনো নির্দেশক

কথোপকথনকে যদি শিল্প বলি, তবে তার রচয়িতা

আমরা দুজন, জীবন ও শিল্পের এই পরস্পর প্রোথিত

থাকাটাই আমাদের স্বপ্নের সময়, প্রচ্ছন্ন প্রণয়

যদি বলি এ শিল্পগভীর জীবন, বা জীবনবিধৌত শিল্প

উপভোগ করবে বলে অরণ্য থেকে আসছে

পাশাপাশি বাঘ ও হরিণ, সাপ ও সিংহ, তবে

আপনারা কি আমাদের উন্মাদ ভাববেন!

ভাবুন না, আপনারা আমাদের ভাবনায় নেই

শুধু কপটচতুরস্বার্থান্ধ মানবসমাজ ছাড়া

আর সবাই সবকিছুই আমাদের মিত্র

আমাদের পরম নিকটজন

একটা তিমির পিঠে চড়ে আমরা যখন সাগরতলে

আমাদের সংলাপ তখন বদলে যাবে গানে

তারামাছেদের উল্লাসনৃত্য তখন দ্যাখে কে

প্রাচীন ডুবোজাহাজ বিরক্তি জাগাবে মহাকাশগামী

কোনো যানের মতো দেখতে একহারা এক মাছের

হাঙর নোঙর করে বসে থাকবে সদলবলে

আমরা কী বলি তা হা করে শুনতে

আর জলের বাজনায় আমাদের দশটি করে আঙুল

যখন হবে নৃত্যপর, নেচে উঠবে জলজ উদ্ভিদও

ধ্বংসোন্মুখ বিশ্বে একমাত্র জীবিত যুগল নই আমরা

তবু শুধু আমরাই সবখানে স্বাগত সতত

এমনকি জল-স্থল ছাপিয়ে ছায়াপথে আমরা যখন

মহাজাগতিক মেঘে কাটছি সাঁতার, আর তা প্রত্যক্ষ করে

তিনটি নক্ষত্র আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, ঠিক তখন

সদ্য জন্ম নেওয়া নতুন কবিতার ভাষায় আমাদের প্রেমালাপ

উচ্চারণমাত্র নীহারিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে অভূতপূর্ব সৌন্দর্য

আর, সে-শোভার শক্তিতে আমরাও পাবো নতুন প্রেমশক্তি

হয়ে উঠবো এক-একক-একীভূত পরম প্রাণ, এরপর …

তখন, কী জলে কী স্থলে কী আকাশগঙ্গায়, কোথায় আমরা নেই!

সর্বত্র সর্বক্ষণ সঘন আলিঙ্গনাবদ্ধ আমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড-বিস্ময়

মৌলিক অলৌকিক দৃষ্টান্ত হয়ে আমাদের প্রেম জগৎ-মহাজগতে

বিচ্ছুরিত হতে থাকবে, বিস্তৃত ও বিকশিত হবে অনন্তকাল ॥


Comments

Leave a Reply