আমি পক্ষীগোত্র

বায়তুল্লাহ্ কাদেরী

আমি কি বলতে পারি না ঘোড়াটি কাহার লেজে
নেচেছিল লেজের ওপর?
ডিম্বাণুর ঘোড়া মেঘের ভেতরে মুখ
ডোবায়-ভাসায়
আবার ঘুরতে থাকে… উপত্যকা বেয়ে
গিরিখন্দে কিংবা অদ্ভুত পাতালে
জলডুবি কলসির ভিতরের গতিপথে
ওই আসিতেছে পুণ্যবতী আসিতেছে
আর্যতের মগধের মটকাতে
পুরনো স্নানের কীর্তি আমি যার ভাগ্যের উদোম
সৌন্দর্যের সঙ্গে
কিছু আড়িয়াল, কিছু পৈকগাছা, কিছু গঙ্গাফুঁর
কিছু বা কালিন্দী আমি যার চালকুমড়ো –
ধবধবে স্তন, যত অন্ধকার … সিন্ধু বা মহেঞ্জোদারো
উদারা হরপ্পা আমি ঠিক নেমে কোনদিকে? বলছি শুধুই
ওঁ ওঁ ওঁ… বাবারা ওলান কোনদিকে… বলো দিকি… ধবলা কোনদিকে
ওলান ঝুলিয়ে দিয়েছে? বাস্তবিক
পালের হামানদিস্তা… গুপ্তকাল… সেনের সুন্দরতমায় একটি কি দুটি সকালের পর
কী করতে পারতাম আর আমি? যেহেতু
আমার ঘোড়া প্রতিবেশীর ছাদের ওপর উঠে যায় যখন-তখন?
যদিও বঙ্গেরা আমি, যদিও আমি পক্ষীগোত্র তবুও,
পাঠক, তবুও… দেখুন দিকি, ‘টিকিটা কোথায় গেল রে বাবা’ বলে
পাড়ার ছেলেরা আমাকে খেপিয়ে তুলে, দেখুন দিকি, বামুন মানুষ…
এইভাবে দিন যায়… এইভাবে শীতকাল… গ্রীষ্মকাল… বর্ষাকাল…
একদিন ঘরের দোরে সেই এলামেলো মুখের ঘোড়া
ভাষার ভিতরে ভীষণ যবন… একদিন দুপুরবেলায়…
একদিন আমি পৈতে নিয়ে দারুণ চিন্তিত… দেখুন দিকিন…
এইভাবে পক্ষীগুলো ফের উলটে যায়? গাছেই ওড়াল পারে
আরেক উড়ালে? স্বর্ণ-কলসির মতো রাজপুতানির অগ্নিঝাঁপ
আর যাত্রাপালা-মহাযাত্রা ভঙ্গ করে মিশে যায় মাটির পরতে
আরেক রক্তাক্ত মাটি, মিশে যায় স্রোতধারার তেজস্বী স্রোত
হয়তো ওলান ধবলার আরো বেগবতী…
যবন-বামুন-রাজপুত মিলে মহাসংসারের আয়োজন
কোনদিকে ওলান তাহলে কোনদিকে ঝুলিয়ে দিয়েছে ধবলায় অতঃপর?
ঘুরি, তুঘলক মোগলের গাট্টি-বোঁচকা, পাগড়ি-পিরহান
বলুন দিকিন… আমি বামুন মানুষ কী বা করতে পারি?
হেরেমে হেরেমে জ্যোৎস্না-মেঘ-রৌদ্র-ছায়া-চাকু-অসূয়া-বিষ-মধুচক্র
শুধু মধুচক্র ঘোর জীবনব্যাপ্তির এরকম ঘোর আয়োজন-তৃষ্ণা
এই উপত্যকায় গিরিখন্দে কখনোই নাবে নাই!
আমিও অতীতচারী হাঁ… কখনোই নাবে নাই, আচমকাই দেখি সেই উন্মাতাল
ঘোড়াই পৌঁছে যায় তার মানবীর জঙ্ঘার তরলে… শোরগোল আর ষড়যন্ত্রে
ক্ষুর তার ছিন্নভিন্ন… ঠগের বিস্তার বর্গির উৎপাত… এদিকে-ওদিকে ভুঁইয়াগিরি
চলছে তো চলছেই, দেখুন দিকিন তবুও হেরেম-জ্যোৎস্না… আমি বামুন মানুষ
কী বা করতে পারি যবনে-ইংরাজে টানাটানি… একটি ঘোড়াও নাই
আম্রতল ফাঁকা!… আমি পক্ষীগোত্র… দেখুন দিকি, আবারো ওড়াল
একই গাছে… পুচ্ছ তুলে… পায়ু দেখিয়ে আবারো ওড়াল… আর কত সহ্যি হয়
খানের জমানা শুরু হলো বলে দলবেঁধে পেন্নাম পেন্নাম… সেলাম সেলাম… আদাব আদাব…
গুডমর্নিং… বেডমর্নিং… পশ্চিম সাগরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে উদোম
ঘোড়ার পাল নৃত্যরঙে আমি কী বা করতে পারতাম… আখক্ষেতে ফাঁস লাগিয়ে?
ও মৃত্যু আমার নয়… যার মৃত্যু হলো সে তো বাপু ওই পৈতে…
আমার পো-ই-তে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: