উপহার

লেখক:

বুলবন ওসমান

 

মেলামাইনের কোয়ার্টার প্লেটটা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছে ফজল। থাকে ফ্ল্যাটবাড়িতে। বাড়িটা শহরের মাঝখানে, খুব একটা অভিজাত এলাকা বলা যায় না, আবার চারিদিকে যোগাযোগের ব্যবস্থাটা ভালো বলে অনেক অভিজাত এলাকার চেয়ে সে পছন্দ করে এই সেগুনবাগিচা। কখন এখানে সেগুনগাছ ছিল কে জানে! তবে নামটি রয়ে গেছে। রমনা পার্কের পাশে টেনিস কমপ্লেক্সে বেশকটা গাছ সাক্ষী হিসেবে এখনো টিকে আছে। আর বড় রাস্তার পাশে একসময় সার দিয়ে সেগুনগাছ ছিল, সেটা সে নিজের চোখে দেখেছে। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে এই অঞ্চলটা অনেকটা বনাঞ্চলের মতো ছিল। ১৯৭১-এ স্বাধীনতা লাভের পর ঢাকা শহর ক্রমশ রাজধানীর রূপ নেওয়ার তাগিদে বাড়তে শুরু করে। যার গতি এখন প্রবল। এতো অল্প সময়ে এমন পরিবর্তন ভাবাই যায় না! তখন ঢাকায় দোতলা, তিনতলা-চারতলা, ছিল সবচেয়ে উঁচু বাড়ি। আর সে এখন বাস করছে কুড়িতলা বাড়ির দশতলায়। লিফটে নম্বর নয়। পশ্চিমদিকে রাস্তার পাশে ফ্ল্যাটটা। সকালে হালকা আলো। পশ্চিমে বলে বেলা বারোটার পর ঘর ধূপে ভরে যায়। দুটোর পর পর্দা না টানলে বেশ গরম। শীতকালটা চমৎকার। গ্রীষ্ম তেমনি রাত দশটা পর্যন্ত তাপ বিকিরণ করতে থাকে। দুপুরে এসি ছাড়া প্রায়ই চলে না।

আষাঢ়-শ্রাবণ গেল রোজার মাস। দু-বাসা থেকে ইফতারি আসত। ওরা জানে ফজলের ধর্মে তেমন মতি নেই, কিন্তু মানুষ হিসেবে তারা অপছন্দ করে না। দুজনের মধ্যে একজন পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ী, রহমান – দ্বিতীয়জনও পুরনো ঢাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিস করে হোসেন… দুজনই মধ্যপঞ্চাশ, সজ্জন ব্যক্তি, একা বসবাসকারী ফজলের প্রতি তাদের টানটা থেকেই এটা আঁচ করা যায়। ইফতারি মাঝে মাঝে নয়, আসত প্রতিদিন। কোনো কারণে বাইরে গেলে ফোন করে খোঁজ নিয়ে বাসায় পৌঁছলে পাঠিয়ে দিত, ইফতারির সময় পার হয়ে গেলেও।

এসব পালা-পার্বণ এলে ফজল মায়ের অনুপস্থিতিটা খুব অনুভব করে। আশি পার হওয়া মা রোজা রাখতে পারতেন না, কিন্তু কাজের মেয়ে দুটির জন্যে ইফতারি কিনে আনাতেন – ঘরেও করতে বলতেন… তখন ফজল খুব সহজ শেয়ার পেয়ে যেত। আজ অন্যের বাড়ি থেকে খাবার আসে। কিনে খাবার তার প্রবৃত্তি হয় না। গলব্লাডার অপারেশনের পর থেকে টের পায় হজমশক্তি অনেক হ্রাস পেয়েছে। কাজ করছে একা লিভার – সহকারী পিত্তথলি নেই… ফলে হজমশক্তি ঊণ। মা বেঁচে থাকতে বেশ কয়েক বাসায় ইফতারি পাঠাতেন – বিশেষ করে ওই দুবাসায় ছিল বাঁধা। আরো দু-একটি বাসায় পাঠাতেন। সেসব বাসা থেকে কালেভদ্রে ফজলের কাছে ইফতারি আসে – তাই ওদের কথা তার তেমন করে মনে পড়ে না।

দুটি ফ্ল্যাট থেকে রেগুলার ইফতারির সঙ্গে তার ৯ নং ফল্যাটের সামনের বাসায় আসা নতুন ভাড়াটে সরকারি কর্মচারী সাহেদের স্ত্রী সাহানা মাঝে মাঝে পাঠায়। দরজা খুললে বা লিফটে উঠতে প্রায়ই ওদের সঙ্গে দেখা, যদিও এখনো যাতায়াত শুরু হয়নি, কিন্তু মানসিক ঐক্য স্থাপিত। সাহেদের স্ত্রী সাহানার রান্নার হাত ভালো, একদিন দুপুরে খেতে নিমন্ত্রণ করল। এই প্রথম ও-বাড়িতে ফজলের প্রবেশ এবং সে খুশি। কাজের মেয়ে যা রান্না করে তার একটা ধরন আছে। এই রোজকার রুটিন থেকে বেরোতে পারলে সবারই ভালো লাগে। ফজলও ব্যতিক্রম নয়। তাই এ-ধরনের নিমন্ত্রণ সে পারতপক্ষে মিস করে না।

এই দশতলায় মোট ফ্ল্যাট ছটি। ফজলের কোনাকুনি ব্যাংকার দম্পতির কাছ থেকেও কালেভদ্রে ইফতারি এসেছে। তবে ওরা হজে যাওয়ায় ওই কোনাটা খালি। রাতে ওদের দরজার সামনে বাতি জ্বলে না। ফজল বাতি জ্বালিয়ে দেয়, অন্ধকার তাকে পীড়িত করে।

একদিন কোয়ার্টার প্লেটগুলো গুছোতে গিয়ে একটি অচেনা প্লেট দেখে আলাদা করে রাখে। যার জিনিস তাকে ফেরত দিতে হবে। এখন সমস্যা হলো, প্লেটটা কার মনে করতে পারছে না। সে ধরেই রাখে হয় রহমান অথবা হোসেনদের।

দুদিনের মাথায় একদিন অ্যাডভোকেট হোসেন এলো সাম্প্রতিক রাজনীতির আলোচনার জন্যে। ও রাজনীতিসচেতন ব্যক্তিত্ব। প্রায়ই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটা খুব স্বাভাবিক আচরণ। তার মানবতন্ত্রী চিন্তাকে ফজল স্বাগত জানায়। চিন্তার অন্বয় মানুষের বন্ধুত্বের গন্ডিকে দৃঢ় করে। বয়স ততটা ফ্যাক্টর নয়। ফজল শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছে। বয়সে ওদের সঙ্গে দশ বছরের পার্থক্য। তবে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হওয়ার পর মানুষের এই বয়সী পার্থক্য তেমন বাধা হয় না। যদিও সামাজিক মূল্যবোধ যে একেবারে কাজ করে না তা নয়।

হোসেনের সঙ্গে আলাপ করতে করতে হঠাৎ কোয়ার্টার প্লেটটার কথা মনে পড়ে ফজলের।

সে হোসেনকে বলে, আচ্ছা, তুমি কি তোমার বাড়ির তৈজসপত্র চেন?

হ্যাঁ, চিনব না কেন! আমি তো বাসায় কাজের লোক রাখি না। দু-বাচ্চা বড় হয়ে গেছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই হাতে হাতে কাজ সেরে নিই। বাচ্চারাও সাহায্য করে।

বাহ্, তুমি তো ইউরোপিয়ান হয়ে গেছ!

ফজল ভাই, ইউরোপিয়ানের কিছু নেই, সবারই তো এই পদ্ধতি ধরা উচিত। তাহলে দেশ অনেক সুস্থ হয়ে যেত। ঘুমের বড়ি খেতে হতো না। উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হতো না।

ঠিক বলেছ। তুমি বসো, তোমাকে একটা জিনিস দেখাই… বলে ফজল বসার ঘর থেকে উঠে খাবার টেবিলের পাশে রাখা প্লেট রাখার রর‌্যক থেকে মেলামাইনের কোয়ার্টার প্লেটটা হোসেনের সামনে ধরে।

দেখো তো, এটা তোমাদের কিনা?

না, ফজলভাই… এটা আমাদের নয়।

শিওর?

হ্যাঁ। এ-ধরনের ফুলতোলা নকশাঅলা আমার কোনো কোয়ার্টার প্লেট নেই। আমি পছন্দ করি আধুনিক জ্যামিতিক নকশা।

আচ্ছা। যাক, এটা তোমার নয়, জানা গেল।

ব্যাপারটা কী?

শোনো, রোজার সময় তোমার বাসা থেকে ইফতারি আসত, তাই ভাবি এটা তোমাদের হতে পারে। কারো একজনের প্লেট রয়ে গেছে। এখন খাবারও খেলাম, আবার প্লেটও হজম করব… এটা তো সুস্থতার লক্ষণ নয়। একে গলব্লাডার অপারেশন করেছি অল্পদিন হলো।

না ফজলভাই, এটা আমাদের নয়। আমি আপনাকে শতভাগ শিওরিটি দিচ্ছি।

যাক, একজনের দাবি থেকে মুক্ত হলাম। বুঝতে পারছি এটা রহমানদের হবে। রোজ আজান পড়ার পাঁচ মিনিট আগে ওর মেয়েটি দিয়ে যেত। এটা ওদেরই হবে।

পরদিন সন্ধ্যায় ক্লাবে বেরোবে এমন সময় একটা বড় মিছিল গেল… চলবে না চলবে না… করতে করতে… গাড়ি বের করার সাহস পেল না ফজল। অগত্যা প্রতিবেশী রহমানের খোঁজ নেবে মনস্থির করে। সেইসঙ্গে প্লেট ফেরত দিয়ে দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।

কলিংবেল টিপতে দরজা খুলল মিসেস রহমান।

আরে দাদা যে, ক্লাবে যাননি?

ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বিরাট এক মিছিল গেল, তাই গাড়ি বের করতে সাহস পেলাম না।

ঠিক করেছেন। কোনদিক দিয়ে যে বিপদ আসবে বোঝা মুশকিল।

ফজল হাতের প্লেটটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে, নাও তোমার প্লেট।

প্লেট! অবাক মিসেস রহমান। এ-প্লেট তো আমাদের নয়!

ভালো করে দেখো।

নিজের সংসারের জিনিস চিনব না!

এবার ফজলের অবাক হওয়ার পালা। বলে, তবে কার প্লেট এটা! একশভাগ শিওর হয়ে এসেছিলাম।

সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ফজল জানতে চাইল রহমান আছে কিনা। রহমান নেই। তবে যে-কোনো মুহূর্তে এসে যাবে বলে মিসেস রহমান ফজলকে চায়ের আমন্ত্রণ জানায়।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে রহমান এসে যাওয়ায় তারা আলাপে মাতে।

ওঠার সময় আবার প্লেট-পর্ব আসে। ফজল রহমানকে বলে, দেখো, কেমন শিওর হয়ে তোমার এখানে প্রবেশ করলাম… কিন্তু ব্যর্থ।

যাদের প্লেট তারাই একদিন এসে যাবে, আপনি অত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন!

সম্ভাব্য দুজায়গায় ব্যর্থ হয়ে ফজল এবার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, এটা তাহলে তার সামনের প্রতিবেশী সাহানাদের। ঘরে ঢোকার আগে ওদের দরজার সামনে গিয়ে ম্যাজিক আই অন্ধকার দেখে বোঝে বাসায় কেউ নেই। ওদের আর জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেল না।

পরদিন দুপুরে ফজল বাইরে থেকে ফিরে লিফটে উঠতে যাচ্ছে পেছন পেছন প্রবেশ করে সাহানা। কুশলবিনিময় হলো। লিফট থেকে নেমেই ফজল দ্রুত হাতে দরজা খোলে। আর চট করে টেবিলের ওপর রাখা কোয়ার্টার প্লেটটা নিয়ে বেরিয়ে আসে। সাহানা তখন দরজা খুলে মাত্র ভেতরে এক পা বাড়িয়েছে পেছন থেকে ফজল ডাক দেয়, সাহানা, একটু দাঁড়াও।

সাহানা ফিরে দাঁড়ায়।

তোমার প্লেটটা… ফজল প্লেটটা সামনে বাড়িয়ে ধরে।

প্লেট! সাহানার বিস্ময়।

এটা তোমাদের নয়?

না, এ-প্লেট আমাদের নয়।

আমি এর মধ্যে দুবাড়িতে দেখিয়েছি, যারা রেগুলার ইফতারি পাঠাত। তারা বলেছে তাদের নয়, তুমিও বলছ তোমার নয়… তাহলে কিন্তু এটা আমার হয়ে গেল!

কারো যখন নয়, হোক না আপনার! সাহানার কৌতুক।

গম্ভীর হয়ে ফজল ফিরে আসে। সে একেবারে হতাশ। প্লেটটা অন্যান্য প্লেটের ওপর রেখে দেয়। মনে মনে উচ্চারণ করে, কারো নয় তো নয়। কিন্তু সে মনের মধ্যে কোনো আনন্দ বোধ করে না। বরং টের পায়, মনের মধ্যে একটা চাপ বোধ কাজ করছে।

এই একটা প্লেট নিয়ে সে তো আর নববইটা ফ্ল্যাটে ঘুরে বেড়াতে পারে না! তাই একরকম ভুলেই থাকতে চায়। কিন্তু কোনো প্লেট তুলতে গেলে কেন জানি এই প্লেটটাই তার হাতে প্রথম উঠে আসে। এমনিতে সে সবসময় সিরামিক প্লেট ব্যবহার করে। এক ভাই সিরামিক-শিল্পী, তাঁর প্রভাবও হতে পারে। তবে মেলামাইনের প্লেটটা হালকা বলে এটা হাতে নিয়ে সে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ভাবে, ভবিষ্যতে কিছু মেলামাইন প্লেট কিনবে। এভাবে তার প্লেটের মধ্যে মেলামাইনের প্লেটটা স্থায়ী আসন গেড়ে বসে।

মাসখানেক পর। গবেষণার কাজে রাজশাহী গিয়েছিল ফজল। ফেরার পথে সে কিছু মিষ্টি কেনে সহফ্ল্যাটিদের জন্যে। রাজশাহীর লাড্ডুটা তার খুব পছন্দ। স্বাদ ভালো। বেশ কয়েকদিন রাখাও যায়। আর ছানার মিষ্টি নয় যে এক্সপায়ারি হয়ে যাওয়া গুঁড়ো দুধের ছানা মেশাবে। লাড্ডু সব দিক দিয়ে সার্থক।

সামনের ফ্ল্যাট ও অন্য দু-ফ্ল্যাটে মিষ্টি বিলানো শেষ। এবার বাকি আছে কোনাকুনি ফ্ল্যাটের ব্যাংকার দম্পতি : মিশির আর কিরণ।

কিরণ সবসময় ফজলকে দেখলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। ফজল নাকি দেখতে অনেকটা তার বড়ভাইয়ের মতো। কিরণ যৌবনে অ্যাথলেট ছিল। মেদহীন সুন্দর চেহারা। চল্লিশ পার হয়েছে, কিন্তু বয়সের কোনো ছাপ পড়েনি। ফজলও কিরণকে খুব পছন্দ করে – ওকে পেয়ে বিদেশে অবস্থানরত একমাত্র সহোদরার অভাব কিছুটা পূরণ হয়। ফজল গোটা আটেক লাড্ডু মেলামাইনের কোয়ার্টার প্লেটটায় সাজিয়ে নিয়ে রওনা দেয়।

রাত তখন প্রায় নটা। ওরা ব্যাংকার, ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়। বেল বাজাতেই দরজা খোলে কিরণ।

কবে ফিরলে কিরণ?

এই তো তিনদিন হলো।

আপনার হাতে কী?

এই কটা লাড্ডু। রাজশাহী গিয়েছিলাম…

ঢাকনা উঠিয়ে প্লেটটা বাড়িয়ে দেয় ফজল।

বাহ্, পেলটটা দেখি আমাদের প্লেটের মতো।

কী বললে?

প্লেটটা হুবহু আমাদের প্লেটের মতো। আপনিও দেখছি এই ফুলের নকশাটা পছন্দ করেছেন। এটা আমার পছন্দে কেনা। আপনার ভাই আবার এসব ফুলটুল পছন্দ করে না।

আমিও পছন্দ করি না। আর এই প্লেটটা আমারও নয়। এটা তোমার।

আমার! কবে কী পাঠালাম। ও হ্যাঁ, সাতাশে রোজার দিন মনে হয় ইফতারি পাঠিয়েছিলাম।

যাক, বাঁচা গেল। প্লেটের মালিক খুঁজে পেলাম। এটা তো আমারই হয়ে গিয়েছিল!

মানে!

ফজল সব বৃত্তান্ত খুলে বলে।

সব শোনার পর কিরণ বলে, আচ্ছা ভাইয়া, প্লেটটা কি আপনার অপছন্দ?

অপছন্দ হবে কেন! বেশ ব্যবহার করছিলাম মালিক না পেয়ে, এখন যখন মালিক পেয়ে গেছি…

আপনাকে একটা কথা বলি?

বলো।

একটা শর্ত আছে।

কী?

আমি যে-প্রস্তাবটা দেব তা আপনার পক্ষে যাবে। সুতরাং আশা করি শর্তটা মেনে নেবেন। না করবেন না।

ঠিক আছে শর্ত যখন বিপক্ষে যাবে না, না করতে যাব কেন?

ঠিক আছে। বলে কিরণ প্লেটটা নিয়ে মিষ্টিগুলো উঠিয়ে রাখে। তারপর প্লেটটা ফজলের সামনে নিয়ে বলে, এটা ধরুন।

ফজল প্লেটটা ধরে।

কিরণ বলে, এটা ছোট বোনের পক্ষ থেকে আপনাকে উপহার।

ফজল দ্বিধায় পড়ে, কিন্তু ভদ্রলোককে তো শর্ত মেনে চলতে হবে!