কাইয়ুম চৌধুরী

লেখক:

দেবব্রত চক্রবর্তী

বিশিষ্ট শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী চলে গেলেন। ওপার বাংলার শিল্পী হলেও এপার বাংলায় তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্তসংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সৌভাগ্যবশত আমি তাঁর খুব কাছে আসতে পেরেছিলাম এবং স্নেহধন্যও হয়েছিলাম। খুব বেশিদিনের জন্যে নয়। কারণ ২০১০ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আহবানে এপার বাংলার ক্যালকাটা পেইন্টার্সের পা পড়েছিল বাংলাদেশে। এপার আর ওপার বাংলার যৌথ চিত্র-কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বেঙ্গল আর্ট গ্যালারিতে ক্যালকাটা পেইন্টার্সের প্রদর্শনীও হয়েছিল। এসব কর্মকান্ডের প্রাণপুরুষ ছিলেন সুবীর চৌধুরী। তিনিও হঠাৎ করে অকালে চলে গেলেন। শ্রদ্ধেয় কাইয়ুম সাহেবের সঙ্গে ওই সময় একটা দীর্ঘ আড্ডার সকাল কাটিয়েছি।  চিত্র-কর্মশালার প্রাঙ্গণে সঙ্গে ছিলেন কাইয়ুম চৌধুরীর সতীর্থ এপার বাংলার বিশিষ্ট চিত্রী বিজন চৌধুরী। বিজনদা ক্যালকাটা পেইন্টার্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। উনিও প্রয়াত হয়েছেন কিছুকাল আগে। কাইয়ুম চৌধুরীর ছবির অনবদ্যতা দর্শকের চোখ ও মনকে ছুঁয়ে যায়। বাংলার মাঝি, বাংলার জল আর আকাশ বাতাসের কাব্যিক স্পর্শ তাঁর ছবিতে। জসীম উদ্দীনের কবিতার মতো কিংবা জীবনানন্দের কাব্যময়তাও খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর ছবির শরীরে। রেখার অনন্য ছন্দময়তা তার সঙ্গে উজ্জ্বল-অনুজ্জ্বল বর্ণবিভাজনে মানুষ ও প্রকৃতির দিবারাত্রির কাব্য ধরে রাখেন তাঁর সৃজনে। এক গল্পকথায় প্রবহণ ঘিরে রাখে সৃজনকে। এই রংরূপের খেলার জাদুকর শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। ২০১০-এর পর আবার বাংলাদেশে গেছি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে। সদ্য প্রয়াত বিজন চৌধুরীর পূর্বাপর প্রদর্শনী উদ্বোধনে। তখনো কাইয়ুম সাহেবের সঙ্গে দেখা। সেই স্নেহমাখানো হাসি, ধীরস্থির শিল্পীসান্নিধ্য পেয়েছি। নানা বিষয় সন্ধানের আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর নিজস্ব ভাবনা এবং অন্তরঙ্গ অনুভবের নানা দিক, যা তাঁর সৃজনে বরাবর প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতা শুধু স্বদেশেই নয়, বিদেশেও যার পরিব্যাপ্তি। আবার কলকাতায় ক্যালকাটা পেইন্টার্স-আয়োজিত চিত্রকর্মশালায় তাঁকে কর্মরত অবস্থায় দেখেছি। কাজের ফাঁকে আলাপচারিতায় ওই ব্যক্তিত্বকে অনুভব করেছি। তাঁর এই প্রয়াণ স্বভাবতই আমাদের বিষণ্ণ করেছে। এই মাপের একজন শিল্পীর চলে যাওয়া শিল্পজগতের অপূরণীয় ক্ষতি। ক্যালকাটা পেইন্টার্সের পক্ষ থেকে এই দলের সমস্ত শিল্পীর প্রতিনিধি হয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করলাম এই মহান শিল্পীর প্রতি।