জয়পুর গ্রাম। নামটা এমনিতে খুব নিরীহ শোনালেও এই গ্রামটির ঠিক পাশ দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের বিপজ্জনক সীমান্ত। বিপজ্জনক এই জন্য যে এদিকে বিজিবির কড়া পাহারা আর ওদিকে বিএসএফের নিñিদ্র নিরাপত্তা। তবে কথা হলো, সকল নিরাপত্তার মধ্যেও কিছু না কিছু ছিদ্র মনে হয় থেকেই যায়। নইলে লখিন্দরের ঘরে সাপও ঢুকত না আর লখিন্দরকেও সর্পাঘাতে মরতে হতো না। যাক সে অন্য প্রসঙ্গ। জয়পুর গ্রামে ঠিক বর্ডারের পাশ ঘেঁষে মোক্তারের বাড়ি। এই বর্ডারে আশপাশে যাদের আবাসভূমি, প্রকৃতির হিসেবে তারা মনে হয় একটু সাহসীই হয়। মোক্তারও সাহসী। তবে অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশিই মনে হয়। আর সাহসী না হলে দুদেশে লোক পারাপার করা চাট্টিখানি কথা? মোক্তার লোক পারাপার করে। যাকে এক কথায় লোকে দালাল বলে। ঢ্যাঙা লিকলিকে, দড়ির মতো পাকানো শরীর। লম্বায় ছয় ফুট। কিন্তু প্রয়োজনে স্প্রিংয়ের মতো বাঁকাতেও পারে এত দীর্ঘ 

দেহখানা। তার আসল কাজবাজ শুরু হয় মূলত রাতের বেলা। দিনে ঘর-গেরস্থালি করে। বাড়িতে আছে গরুর বাথান। সারাদিন গরুর ঘাস-বিচালি কাটে। গরুকে খাইয়ে, গোসল করিয়ে সে আয়েশে সিগারেটের ধোঁয়ার রিং বানায়। আর মনে মনে গুনগুনও করে ওঠে। এই মোক্তারের সঙ্গে রাতের সেই দুর্ধর্ষ মোক্তারের অনেক তফাত। তখন যেন সে হয়ে ওঠে ক্ষিপ্র চিতাবাঘ। গায়ে গুলি খেয়েও পলায়নক্ষম, জেদি ও নাছোড়বান্দা।

তখন সবে সন্ধ্যা হতে শুরু করেছে। পাখিরা কিচিরমিচির করতে করতে যখন প্রায় চুপচাপ, নিঃশব্দ, ঠিক তখন দুজন লোক এসে মোক্তার দালালের বাড়ির উঠোনে উপস্থিত হলো। একজন বেশ কেতাদুরস্ত। দেখেই মনে হয় আগে কখনো ব্ল্যাকে বর্ডার পেরোয়নি। অন্যজন বেশ সাদাসিধে। দুজনকেই বাড়ির প্রশস্ত উঠোনে মোড়া পেতে বসতে দেওয়া হলো।

মোক্তার দুজনকেই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বলল, ‘আরেকটু দেরি হইব, আপনেরা বসেন।’

দুই লোককে বসিয়ে রেখে মোক্তার রাত আটটার দিকে লাক্স সাবানের ফেনা তুলল সারাগায়ে, তারপর গোসল করল। গোসলশেষে এক থালা গরম ভাতে হাত ঢুকিয়ে ডালে ঝোলে করে খেলো। তারপর ঘরের সিঁড়িতে বসে সিগারেট ফুঁকতে লাগল। মনে হলো, সময় পার করতে চাইছে। তাকে খুব উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে এবং একটু পরপর ব্যতিব্যস্ত হয়ে কাকে যেন ফোন দিচ্ছে। তার মোবাইলের কথাবার্তাও বেশ সন্দেহজনক। মনে হলো, সময় পার করার জন্য আবারো লাক্স সাবানের ফেনা তুলবে সারাগায়ে, দীর্ঘ সময় নিয়ে গোসল করবে। পুরো উঠোন পায়চারি করে দুই খদ্দেরের কাছে এসে গম্ভীর গলায় বলবে – ‘আরেকটু দেরি হইব, আপনেরা বসেন!’ মোক্তার শেষ ফোনটা রাখামাত্রই তার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করা শুরু করল। সিগারেটে সুখটান দিয়ে শেষ অংশটা এমনভাবে ছুড়ে মারল যেন এটা সিগারেটের শেষ অংশ নয়, একটা হাতবোমা! সে দ্রুত ঘরের ভেতর ঢুকে গেল। আবার যখন বেরোল, তার গলায় তখন একটা লাল রঙের গামছা প্যাঁচানো। একটু আগেও যেটা ছিল না। আরো কিছু পরিবর্তনও দেখা গেল। লুঙির বদলে একটা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। খদ্দেরদের কাছে এসেই বলল, ‘লাইন ক্লিয়ার আছে, চলেন, আমরা এখনই রওনা দিমু।’

 এই বলেই মোক্তার হাঁটা দিলো। তারপর আবার পেছনে তাকিয়ে কেতাদুরস্ত লোকটির দিকে তার চোখ গেল। ‘এই পোশাকে হইব না, খুলেন এগুলা জলদি।’

কেতাদুরস্ত লোক একটু বিব্রতবোধ করে। মোক্তার তার গলার গামছাটা খুলে লোকটির হাতে দিয়ে বলে, ‘এগুলা খুইলা এই গামছাটা পইরা নেন।’

কেতাদুরস্ত লোক অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্যান্ট খুলে গামছা পরে। মোক্তার ধমকে উঠে বলে, ‘শার্টও খুলেন মিয়া।’

লোকটি আমতা আমতা করে। মোক্তার আবারো ধমকে ওঠার আগে লোকটি তার গায়ের শার্টটা খুলে ফেলে। এবার পুরো আদুল গা। মোক্তারের কোনো ভাবান্তর নেই। সে লোকটির উদ্দেশে বলে, ‘আগে কহনো চোরাপথে বর্ডার পার হন নাই আপনারে প্রথম দেইখাই বুঝছি। যে পোশাক পইরা আইছেন মনে তো হইতাছে বিয়া খাইতে যাইতাছেন! আবার পরছেন সাদা শার্ট! অন্ধকারে সাদা রংডা চোখে লাগে বেশি। শালাগো চোখ শকুনের মতো, যা দেহে সব পরিষ্কার।’ কেতাদুরস্ত লোকের নাম জামিল। সে বুঝতে পারে এই শকুন কাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে। মোক্তারের ফোন বেজে ওঠে। অন্ধকারে জ্বলে ওঠে মোবাইলের নীল আলো। মোক্তার কিছুটা এগিয়ে গিয়ে আবার খানিকটা পিছিয়ে পড়ে। মনে হয় কারো জন্য অপেক্ষা করছে। আর তখনই সে দুজনের উদ্দেশে বলে, ‘আরেকজন আসার কথা আছে, ওই লোক আসলে আপনেরা তিনজন হইবেন। সে আসলেই আমরা রওনা হমু।’ মোক্তার দুজনকে উঁচু ভাঙাচোরা রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রেখে কোথায় যেন চলে গেল। আধঘণ্টা পর ফিরে আসে। তার গা থেকে তখন একটা উৎকট গন্ধ  বেরোচ্ছে। গাঁজার গন্ধ বলেই অনুমান হয়।

মোক্তার বলে, ‘চলেন, তিন নম্বর আইব না। আপনেরা দুইজনই ফাইনাল।’ দুজনের একজন, সাদাসিধে পোশাকের লোক একটু আগে আগে ছিল। মোক্তার তাকে পেছন থেকে থামায়।

‘খুন কইরা পালাইতেছ নাকি? আমি যেমনে কমু তেমনে পা ফেলবা। একটু এদিক-ওদিক হইলে একেবারে খালে ফালাই দিমু।’

এই কথা শোনার পর সাদাসিধে লোক, যার নাম কিনা মহব্বত, একটু ভড়কে যায়। সে তার হাঁটা সংশোধন করে বারবার মোক্তারের ঠিক পেছনেই রয়ে যেতে লাগল। একটুও এদিক-ওদিক হয় না। মোক্তার বুঝতে পারে দ্বিতীয়জনের ভেতর ভয় ঢুকেছে। সে মনে মনে হাসে। মোক্তার কতজনকে যে এভাবে রাতের পর রাত বর্ডার পার করেছে তার হিসাব নেই। কত সাহসী লোককেও দেখেছে তার এক ধমকে ইঁদুরের মতো কুঁইকুঁই করতে। এদের মধ্যে ছিল খুনি, ধর্ষক, রংবাজ! পালোয়ানও ছিল। কিন্তু মোক্তারের হাতে পড়ে একদম শিশু হয়ে গিয়েছিল। ভয়ে তো কারো কারো কণ্ঠস্বরও চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল! সে যাই হোক, এই রাস্তার রাজা সে। এই পথের সবকিছু তার মুখস্থ। সব কয়টি চোরারাস্তাও তার মুখস্থ। বাতাস কোন দিক দিয়ে বইবে, সাপ কোন রাস্তা দিয়ে যাবে, সার্চলাইট কোন দিক দিয়ে জ্বলে উঠবে – সব তার জানা। কারণ ছোটবেলা থেকেই এসব দেখতে দেখতে সে বড় হয়েছে।

মোক্তারের ছোটবেলাটা ছিল এপার আর ওপার লুকোচুরি খেলার জায়গা। সে ওপারে গিয়ে লুকাত। আর তার সঙ্গী-সাথিরা তাকে খুঁজে বের করত। বন্দুকধারী বিএসএফদের সঙ্গে তার হয়ে গিয়েছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ছোট ছেলে দেখে তারা তার সঙ্গে রং-তামাশা করত। আর মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করত, ‘তুমহারে পিতাজি মিলে?’ ঘটনা হলো, ওরকম লুকোচুরি খেলার বয়সটাতেই তার বাপ ওই দেশে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। তার আম্মা কতদিন কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। সেটাও তার ছোটবেলারই ঘটনা। মোক্তার যখন এখানের লোক ওখানে নিয়ে যায়, সে ভাবে, এইসব লোকও তার বাপের মতো হারিয়ে যাচ্ছে? হয়তো আর কখনোই ফিরবে না। কিন্তু সবাই না ফিরলেও কেউ কেউ ফেরে। মোক্তার আর ওখানকার দালালদের মধ্যে একটা রফা হয়েছে। মোক্তারের কাজ লোকেদের ইন্ডিয়া বর্ডার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। বাকিটা করে ওখানকার দালালরা।

মোক্তার তার দুই খদ্দেরকে নিয়ে

উঁচু-নিচু রাস্তা পার হয়ে একটা খালের কাছে এসে থামে। খালের পাড়ে একটা বড় নৌকা ভাসছে। অবছা আলো-অন্ধকারে হঠাৎ দেখা যায় নৌকাভরা শুধু মদের বোতল। কতরকম সাইজের যে বোতল! বেশিরভাগ অবশ্য রাম আর সিভাস সিগালের। রাত তখন নয়টার মতো। তখনো এক-দুজন বোতল কুড়ানি খালের ভেতর ডুব দিয়ে শালুক তোলার মতো বোতল তুলছে। নৌকায় বসার জায়গা নেই। এই বোতলের ওপরই বসতে হবে। মহব্বত এই অবস্থা দেখে বলল, ‘এই বোতলের ওপর বসতে অইব?’

মোক্তার শ্লেষ মেশানো ঝাঁঝালো সুরে বলে ওঠে, ‘স্যার চেয়ার তো নাই, একটু কষ্ট করে বসবেন আরকি।’ তারপরই সে ধমকে ওঠে, ‘যেমন বলুম তাই করবি, নাইলে কিন্তু খালে ফালাই দিমু কইলাম।’

মহব্বত সঙ্গে সঙ্গে চুপ মেরে যায়। আর কোনো কথা বলে না। জামিলের অসুবিধে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মহব্বতের সঙ্গে মোক্তারের এইরকম গরম মেজাজে কথা বলা ও তার চরিত্র সম্পর্কে ঠাওর করে ওঠায় সেও মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে। তাদের নৌকা ছলাৎ ছলাৎ আওয়াজ তুলে এগিয়ে যায়। এপার থেকে ওপারে লম্বা দড়ি লাগানো। মদের বোতলের নৌকার মাঝি দড়ি টানছে। আর একেক টানে নৌকা এগিয়ে যায়। নৌকায় কোনো শব্দ নেই। তিন-চারজন মানুষ যে আছে একই জায়গায় তা দূর থেকে একটুও বোঝার উপায় নেই। নৌকা তারপর ওপারে

 গিয়ে ঠেকে। মোক্তার চিতাবাঘের মতো লাফ দিয়ে নামে। তাকে অনুসরণ করে জামিল আর মহব্বত। এপারে এসে দেখা যায় এক আশ্চর্য দৃশ্য। আকাশ উলটে গিয়ে তারারা যেন ঝরে ঝরে পড়ছে! এত জোনাকি! মনে হতে পারে এই জায়গাটা জোনাকিদের অভয়ারণ্য।

জীবনের জন্য এত আলো নেই – এই আলো শুধু চোখ ভরে দেখে যাওয়ার জন্য। মোক্তার ইশারায় তাকে অনুসরণ করতে বলে দুজনকে। তারা মোক্তারকে অনুসরণ করে। এক চিলতে ঘাসের মাঠে তারা। বিএসএফদের ডিউটি চলছে – ঝোপের ওদিকে – বড় সড়কটাতে। একটু এদিক-সেদিক হলেই সব শেষ। তাই মোক্তার এখন অনেক বেশি মনোযোগী আশপাশের ব্যাপারে। তার কান হরিণের মতো সতর্ক। ফিসফিস স্বরে সে কার সঙ্গে যেন জরুরি কথা সেরে নেয়। সবার কানের কাছে পিনপিন করতে করতে একদল রক্তখেকো মশা ঝাঁপিয়ে পড়ল। রক্ত খাচ্ছে সুচ বিঁধিয়ে দিয়ে, কিন্তু প্রতিবাদ বা টুঁ-শব্দটি করারও জো নেই, এমন একটা মুহূর্ত! মনে হচ্ছে, এই এলাকাটা সম্পূর্ণই মশাশাসিত। আর এই বন্যমশাগুলো অনেকদিন পর মানুষের রক্তের স্বাদ পেয়েছে! কিছু মশা রক্ত খেয়ে ঢোল। মহব্বত নয়তো জামিলের গায়েই ঢলে পড়ছে। মোক্তারকে কামড়াচ্ছে কি না বোঝা যাচ্ছে না। তাকে একটু উসখুসও করতে দেখা গেল না।

এভাবে অনেক অনেক সময় কেটে যায়। মনে হয় এক যুগ! বাতাস এসে বড় বড় ঘাস দুলিয়ে যায়। বড় বড় ঘাসের পর্দায় একটা আড়াল তৈরি হয়েছে এখানে। এত বড় বড় ঘাসও জামিল বা মহব্বত দুজনের কেউ আগে দেখেনি। সামনে কপালে কী আছে – এই নিয়েই তিনজন উদ্বিগ্ন। জোনাকিদের এত সুন্দর আলো দেখার দিকে কারো আর মনোযোগ নেই। তিনজনের শরীরে ঘামের রেখা, হালকা আগুনের তাপ নিয়ে সেই ঘাম টপটপ করে ঝরছে তো ঝরছেই। যেন শীতের শিশিরবিন্দ্।ু মোক্তারসহ তিনজনের চোখে এখন শুধু পৌঁছানোর সংকল্প। সেই পেঁৗঁছানোর মধ্যে ভবিষ্যৎ আছে কি নেই ওরা জানে না। শুধু ওদের মধ্যে পৌঁছানোর গুঞ্জন উঠেছে। সুযোগ পেলে সেই গুঞ্জনই মহাবিস্ফোরণের রূপ পাবে।

মোক্তার বিড়বিড় বা স্বগতোক্তি করে ‘ভুল খবর দিছে শালা, নাইলে টাইম চেইঞ্জ করছে!’

মোক্তার কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়। বরং প্রশ্ন করলে বিরক্ত হয়ে কখন কী বলে বসে সে-কারণে কেউ কিছু আর বলেও না। মনের প্রশ্ন মনেই চেপে রাখে।

মোক্তার ওধার থেকে সিগন্যাল পেয়ে জামিল ও মহব্বত দুজনকেই ইশারা করে হাঁটতে থাকে দ্রুত। মোক্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাঁটাটা অনেক কঠিন। মনে হয় বাতাসের আগে ছোটে। হাঁটাতে কোথাও ভারিক্কি চালের সামান্য মেদও জমে না। এমনিতেও যেমন তার শরীরে এতটুকু মেদ নেই, তাই সবকিছুতেই মনে হয় সে মেদ ঝেড়ে ফেলতে চায়। জামিল বারবার পেছনে পড়ে যেতে থাকে। অনভ্যস্ততা, পেরে না ওঠা এই অসুবিধাগুলো নিয়েই সে দ্রুত পদসঞ্চার করে। মনের জোরকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। মহব্বত বরং জামিলের চেয়ে একটু এগিয়ে। তার হাঁটা দেখে বোঝা যায়, খালি পায়ে হেঁটেও সে অভ্যস্ত। শুধু হাঁটার শব্দ ছাড়া অনেকক্ষণ আর কোনো শব্দ শোনা যায় না। মনে হয় তিনজন মানুষ বহু বছর ধরে হাঁটছে।  কারো দিকে কারো তাকানোর ফুরসত নেই এতটুকু। হঠাৎ অনেকটা পথ যাওয়ার পর মোক্তার দূর থেকে দ্রুত হাঁটার জন্য ইশারা করে। জামিল দ্রুত দৌড়াতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে পিছলে পড়ে যায়। কিসের সঙ্গে যেন পা জড়িয়ে যায়। ছাড়াতে গিয়ে বুঝে মৃত একটা শকুন। এই পলায়নপর যাত্রায় শকুনও যেন কোনো বেদনার ইঙ্গিত করে তাকে জড়িয়ে ধরেছে। যাই ঘটুক জামিলকে এখন ওই দুজনকে ধরতে হবে যেভাবেই হোক। ওরা যদি তাকে ফেলে চলে যায় – এমন একটা ভয়ও দুর্বল মনে উঁকি দেয়! এই অন্ধকার রাত, এই চেনাজানাহীন গন্তব্যহীন কোথায় না তার পড়ে থাকতে হয় শেষে। জামিল দ্রুতবেগে হাঁপাতে হাঁপাতে ওদের ধরতে পারে। মোক্তার একবার জামিলের দিকে তাকিয়ে চোখ-মুখ শক্ত করে কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায়। হয়তো ভাবে, বেচারা কেন এলি এই পথে মরতে! পরে ওরা যেখানে গিয়ে পৌঁছে সেটা একটা বাঘের গুহার মতো জায়গা। গুহার মুখ তারাকাঁটা দিয়ে বন্ধ ছিল, এখন সেই তারাকাঁটা কেটে মানুষ ঢোকার মতো সুগম করা হয়েছে। কিন্তু এই গুহার ভেতর শুধু পানি আর পানি, নদীর স্রোত। এমন স্রোত যে সোজা লাঠি বাঁকা হয়ে যাওয়ার জোগাড়। জামিলের এক হাতে শুকনো কাপড়-চোপড়, মোবাইল, অন্য হাতে পরিধেয় গামছাটা ধরা। গুহার ভেতর ক্রমশ পানির স্রোত বাড়ছে। হঠাৎ ফট করে জামিলের কোমর থেকে গামছাটা খুলে যায়। নিচে আন্ডারওয়্যার থাকায় রক্ষে। পায়ের পাতায় ধারালো কিছু একটা লাগে তার। কিন্তু তাতে মনোযোগ দেওয়ার সময় নেই। গুহা থেকে বেরোবার মুখে মোক্তার একটা হাত বাড়িয়ে তাকে টেনে তোলে। গুহার ভেতর থেকে বের হয়ে আসে জামিল। গামছার ভেতর থেকে ভেজা আন্ডারওয়্যারটা খুলে প্যান্ট পরে নেয়। তারপর ওপরে শার্ট চাপায়। এতক্ষণ উত্তেজনায় সে বুঝতেই পারেনি ঠিক কতখানি কেটে গেছে। পায়ের পাতা রক্তে লাল হয়ে গেছে একেবারে! পানি দিয়ে রক্ত মুছে নেয় সে। স্বস্তি হচ্ছে ওরা শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়ার মাটিতে পা রাখতে  পেরেছে। মোক্তার দুজনকেই একবার ভালো করে দেখে নেয়। প্রতিদিন কত ঘটনা ঘটে এখানে। মোক্তার এসব ঘটনার নীরব সাক্ষী। এই এখান থেকে কিছুটা দূরে গেলে বর্ডার বাজার বলে একটা জায়গা আছে। ওখানে ছদ্মবেশে অনেক গোয়েন্দা  ঘোরাফেরা করে। এর মধ্যে একটি গল্প বেশ চাউর আছে। একবার কে একজন তার মতো দালালের মাধ্যমে এদেশে আসে। উঠেছিল শহরের ভেতরে কোথাও। একদিন ফোনে কথা বলতে বলতে বর্ডার বাজার পর্যন্ত চলে আসে। এখান থেকে বাংলাদেশের সিমে কথা বলা যায়। কথা বলার মতো মোটামুটি নেটওয়ার্ক থাকে। সে-লোক যখন কথা বলতে বলতে হাঁটছিল, হঠাৎ তার খেয়াল হয়, ছালাপরা একটি লোক ঠিক রাস্তার পাশেই দাঁড়ানো। কিন্তু লোকটির চোখে চোখ পড়তেই আগতজনের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। লোকটির চোখের মণি পাগলের মতো না। আগতজন ওই জায়গাটা আর নিরাপদ মনে না করে দ্রুত পা চালাতে থাকে। আর যেতে যেতে পেছন ফিরে একবার তাকায়। দেখতে পায়, পাগল লোকটি রাস্তায় ড্রেনে দাঁড়িয়ে সরসর করে পেচ্ছাপ করছে। লোকটি আরো আগায়। তার বুক ঢিপঢিপ করছে। সে ফাঁকামতো একটি বাড়ির প্লটের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। প্লটের চারদিকে টিনের বেড়া। একটি খোলামতো গেটও দেখতে পায়। গেট খোলা পেয়ে সে ঢুকে পড়ে। তারপর যেই ফোন দিতে যাবে অমনি দেখে সেই পাগল তাকে ফলো করতে করতে এ-পর্যন্ত চলে এসেছে। পাগল আস্তে আস্তে কথা বলছে। কিন্তু মনে হলো তার পোশাকের মধ্যে কোনো ওয়াকিটকি লুকানো আছে। আগতজন বুঝে যায় এবার আর রক্ষে নেই। মানি লন্ডারিং কেসে এবার কয়েক বছর সাজা। কারণ তার পকেটে বাংলাদেশি কিছু টাকা তখনো রয়ে গেছে। কিন্তু সে এসেছিল মূলত ভাগ্যবদলের আশায়। ওখান থেকে বেরোবার পরপর একটু আগাতেই দেখে দুই গাড়িভর্তি সাদা পোশাকের পুলিশ এদিকেই আসছে। ঠিক তার পথ অবরুদ্ধ করে ব্রেক কষে একটি গাড়ি। আগতজন যা হওয়ার হবে এই ভঙ্গিতে ফুটপাতের ওপর উঠে হনহন করে হাঁটতে থাকে। আবার মূল রাস্তায় নামে। আর দেখে পেছন থেকে সাদা পুলিশদের কারো গম্ভীর গলা – ‘রুকো, ইঁহা আও।’

আগতজন দেখে ফুটপাতের লাইন ধরা সারি সারি দোকান থেকে অসংখ্য চোখ তার দিকে তাকিয়ে। রাস্তায় অন্য লোকগুলো পেছন ফিরে তাকায়। কিন্তু সে একবারও তাকায় না। তার কেন জানি একটা বিশ্বাস ছিল, পুলিশ পেছন থেকে তাকে গুলি করবে না। কারণ গুলি করার মতো কোনো কাজ সে করেনি। তারপর সে ভিড়ের ভেতর মিশে গেল। এরকম আরো অনেক কাহিনি আছে, যা এই বর্ডার বাজারকে ঘিরে। এসব কাহিনি যেন মানুষের ধোকাবাজি, বৈষম্য, আর ফাঁপা রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয়েছে।

মোক্তার জামিলের কাছে এসে বলে, ‘আর ভয় নাই, আমার কাজ শেষ। আপনে এখানে খাড়ান। একটু পর একজন আপনারে নিয়া যাইব, তারে ঠিকানা দিলে জায়গামতো পৌঁছাইয়া দিবো।’

তারপরই সে আবার বলে, ‘আমি কাজ শেষ না হইলে পেমেন্ট নেই না, পেমেন্ট দেন, যাইগা।’ মোক্তার এখন কারো চোখের দিকে তাকালেই বুঝে ফেলে দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্য। তাই সে আর এসব নিয়ে ভাবতেও চায় না। অন্তরালের দৃশ্যটি বেরিয়ে এলেই আরো ভারী হবে কাহিনির ওজন, সে সবে তো তার কাজ নেই। বরং পেশাদারিত্বের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সে অনেক বেশি সজাগ। সে নগদে দেখে জীবনকে। সেখানে বাকি চলে না। নেই অতীত-ভবিষ্যৎ বলেও কিছু। জামিল ও মহব্বত দুজনেই যে কোনো মামলায় ফেঁসে দেশান্তরি হয়েছে, তা সে প্রথমেই ওদের দেখে অনুমান করতে পেরেছে। এই পথে ভিসা-পাসপোর্টের কোনো ঝামেলা নেই। শুধু একটু ঝুঁকি থাকে, এই যা! মানুষের পুরো জীবনটাই তো ঝুঁকি আর হিসাব মেলানোর জটিলতায় ভরা। কত ইঞ্চি বাই কত ইঞ্চি পদক্ষেপ, কোন মাটিতে সে দাঁড়িয়ে আছে? তা কি চোরাবালি, না শক্ত মাটি? সে ঠিক দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে তো? বহুরকম ঘটনার ধাক্কা খেয়ে খেয়ে মোক্তারের মনের কাঠামো এখন অনেক শক্ত। এখানে আবেগ এসে পাত্তা পায় না। বরং বুকে গহন তল্লাশি চালিয়ে সে আবেগ লেজকাটা কুকুরের মতো পালিয়ে যায়। জামিল একটা চকচকে এক হাজার টাকার নোট মোক্তারকে ধরিয়ে দিতেই সে টাকাটা ছোঁ মেরে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে হাওয়া। মোক্তার চলে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে জামিল ও মহব্বত দেখতে পায় মোক্তারের পায়ের বুড়ো আঙুলটা নেই।

মোক্তার – জামিল ও মহব্বতের চোখে ভয় ও হাহাকারের মধ্যেও দেখেছিল পৌঁছানোর সংকল্প! কিন্তু সে কোথায় পৌঁছে দেবে তাদের? তার কাজ তো শুধু এধার থেকে ওধার আর ওধার থেকে এধার পর্যন্ত। এর বেশি তো তার আয়ত্তে নেই। ঠিকমতো পৌঁছাতে পারলেই মানুষের মুক্তি! আর সারাজীবন সেই মুক্তিরই সন্ধান করে চলেছে মানুষ। মোক্তার ভাবে, তার আব্বার কি মুক্তি মিলেছে? তিনি কি পৌঁছাতে পেরেছেন মুক্তির সেই প্রান্তে?

পৃথিবীর একই কক্ষপথে বিচরণের মতো আবার ওদের তিনজনেরই দেখা হয়ে যায়। জামিল বা মহব্বত যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিল ওরা হয়তো ওখানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে আবার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। ওদের চোখে-মুখে তবু পৌঁছানোর আকাক্সক্ষা!

ওরা তিনজন একসঙ্গে হাঁটে, আবার একইসঙ্গে পিছিয়ে পড়ে। যে-গুহা দিয়ে ওরা এসেছিল আবার সেই গুহা দিয়ে বেরিয়ে যেতে প্রস্তুত! মোক্তার তার দুই খদ্দেরকে নিয়ে থকথকে কাদার ধানক্ষেত মাড়িয়ে যখন পানির পাইপটার কাছাকাছি প্রায় হঠাৎ হঙ্কার দিয়ে উঠল বন্দুকধারী একজন বিএসএফ।

‘তুম ইহা ক্যায়া করতে হো?’

মোক্তার বলল, ‘হাম খ্যাত মে কাম করনে আয়ে হে সাব।’

বিএসএফ আবার হঙ্কার দিয়ে ওঠে, ‘নেহি তুম ঝুট বলরেহে হো। রুকো, ইয়া গুলি মারু।’ বলে বন্দুকধারী তিনজনের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে ধরে।

মোক্তার জামিল ও মহব্বতের উদ্দেশে বলে, ‘যদি গুলি করে তাইলে প্রথম গুলিটা আমি বুক দিয়া ফিরামু, ভয় পাইয়েন না। আমার ওপর বিশ্বাস রাখেন। আপনাদের পৌঁছাইয়া দেওয়াই আমার ধর্ম!’

বন্দুকধারী উঁচু সড়ক থেকে এবার সমান্তরালে নেমে আসে। তখনো বন্দুক উঁচিয়ে আছে। জামিল ও মহব্বত দুজনেই

দোয়া-দরুদ পড়ে নেয়।

পেছন থেকে মোক্তার বলে, ‘মাথা নিচু কইরা জমিতে শুইয়া পড়েন আপনারা, পেছনে কেউ তাকাইবেন না।’

ওরা দুজন মোক্তারের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। কেউ পেছন ফিরে তাকায় না। এই যুদ্ধমাঠের কমান্ডার মোক্তারের পরবর্তী নির্দেশ শোনার জন্য ওরা আকুল কানে অপেক্ষা করে।

মোক্তার যেন এই মুহূর্তে সত্যি সত্যি একজন দুুর্ধর্ষ কমান্ডার। হঠাৎ সে পেছন থেকে চিৎকার করে বলে, ‘দৌড়ান, দৌড়,  দৌড়।’ ওরা দুজন প্রাণপণে দৌড়ায়।

তৃষ্ণায় দুজনেরই বুকের ছাতি ফেটে যাওয়ার জোগাড়। তবু ওরা দৌড়ায়। একসময় লোকালয়ের ভেতর এসে পৌঁছে। কোনো কমবয়সী বালিকা বিস্ময়ে তাদের দেখে। কোনো নতুন বউ পুকুরে গোসল করতে করতে ওদের দেখে। তারপর বড় করে একটা ঘোমটা টেনে নেয়। ওরা জেল পালানো আসামির মতো ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। ওদের প্রত্যেকের নিজেদের পরিবার-পরিজনের কথা মনে পড়ে।

মোক্তার অস্থির হয়ে কাকে যেন ফোন দেয়। স্পিকার ভুলে না এমনিই অন করা সেটা অবশ্য বোঝা যায় না। সে বলে, ‘জো ডিউটিমে হ্যায় বো আচ্ছা নেহি হ্যায়, পয়সামে কাম নেহি করেগা, তু উসে আপনে ঘর লে যা।’ কিন্তু একটু পরে দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলল, ‘মাগি ফোন অফ করে দিছে।’

আবার এদিক-ওদিক পায়চারি করে কাকে যেন ফোন দেয়।

তাড়া দিয়ে বলে, ‘আসেন, আরেক পথে যাইতে হইব, ওইটা একটু দূর, কিছু করার নেই।’

সিএনজি নিয়ে ওরা আঁকাবাঁকা রাস্তা পার হয়ে যায়। যেতে যেতে চোখে পড়ে বড় বড় টিলা। টিলার ওপর থোকা থোকা ফুলেভরা গাছ। আকাশ রোদে ঝলমল করছে। আর কাঁঠালগাছের সারি। কাঁঠাল পেকে কোষ ঝরে ঝরে পড়ছে। মনে হয় এসব জায়গা বনভোজন করার জন্য পড়ে আছে, শুধু মানুষ নেই। সিএনজি চলাচলের এই রাস্তাটা অনেকটাই নির্জন। মোক্তার ওদের নিয়ে যেখানে যায় পরে শোনে ওই রাস্তাটা কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে দুদিন হলো। সে আবার লক্ষ্মী না কাকে যেন ফোন দেয়। এবার তার মুখে একটু হাসির ঝিলিক দেখা দেয়। লক্ষ্মীর ফোন খোলা পাওয়ার কারণে হয়তো বা। একটু কথা বলে সে দুজনকে তাড়া দিয়ে ওঠে, ‘জলদি উইঠা পড়েন গাড়িতে, আমরা আগের রাস্তা দিয়াই বাইর হমু।’

সিএনজি ঝড়ের বেগে ছুটতে থাকে। আবার সেই পানির পাইপ। যার ওপরটা কালো পিচের সড়ক। পানির পাইপ নয় যেন কোনো নারীর জলজ গর্ভাশয় তাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে। অন্য দুজনের চোখে-মুখে ভয়ভীতির অন্ধকার। হৎপিণ্ডের ধ্বনি ক্রমশ জোরালো হয়ে বেজে উঠছে। মোক্তার আগে আগে, দুজন পেছনে। সেই পাইপের ভেতরের পানি স্রোতের গতিতে ঠেলে নিচ্ছে যা পাচ্ছে তাই। ওরা সেই পাইপের ভেতর নিজেদের সঁপে দিতেই শরীরের অর্ধেক দেবে যায় পানিতে। বাকি অর্ধেকে রাজত্ব করতে পানি নাগিনীর মতো ফোঁস ফোঁস করছে। ওরা কিছু বুঝে উঠতে পারার আগেই হঠাৎ দেখে একটি লাশ সেই পাইপের পানিতে ভাসছে! এদিক-ওদিক ধাক্কা খেয়ে লাশটা চক্রাকারে ঘুরে যাচ্ছে। মোক্তার, মহব্বত ও জামিল বাকরুদ্ধ। মনে হলো, ওরা আর কোনো দিন কথা বলতে পারবে না। ওদের গা গুলিয়ে ওঠে। বিএসএফকে ফাঁকি দিলেও এই লাশের চোখকে ওরা ফাঁকি দিতে পারেনি। সুঠাম দেহের একটি লাশ, পুরো পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গ করে ভেসে আছে। মোক্তার চিৎকার করে ডেকে ওঠে আব্বা বলে! তারপর আবার থেমে যায়। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে – শুয়োরের বাচ্চা তুই আমার আব্বা হবি ক্যামনে। ও তো অনেক আগেই মরছে। তার লাশও নাই। ওই শুয়োরের বাচ্চার লাশটাও যদি পাইতাম! অন্যরা এতক্ষণে বোঝে তার বাপ হারিয়ে গেছে। আর এই লাশটি তার আব্বার নয়, হয়তো আব্বার মতোই দেখতে! মোক্তার শামুকের খোলের মতো তার স্বভাবের বাইরে বেরিয়ে আসে এই প্রথম। হঠাৎ সে হুহু করে কেঁদে ওঠে। লাশটাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে। লাশের নাক, মুখ, চোখ, চুল। তারপর সে ভারী লাশটাকে পিঠে ওঠানোর চেষ্টা করে একবার ফেলে দেয় শুয়োরের বাচ্চা বলে। তারপর আবার পরম যত্নে উঠিয়ে নেয় পিঠে। তার পিঠ বেঁকে যায়, কিন্তু সে থামে না। পেছনে জামিল ও মহব্বত কমান্ডারের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।

Leave a Reply