থাকা না-থাকার শূন্যতা পার হয়ে

নদী মরে গেলে থেকে যায় তার সামান্য কিছু রেখা

সেখানেই নদী, স্মৃতি খুঁজে পাই। শুধু

মানুষ রাখে না, বিস্মরণেই মুছে যায় একা একা

যেন বালিয়াড়ি খাঁ-খাঁ শূন্যতা, জোছনায় জ্বলে ধু-ধু!

এই ধারণার বিপরীতে এই পৃথিবীতে কেউ কেউ

রেখে যায় স্মৃতি-বিস্মৃতিময় স্মরণের কত কিছু

নদী মরে গেলে মুছে যায় জানি ছোট বড় সব ঢেউ

কিছু মানুষের থেকে যায় তবু স্মৃতি ছায়া পিছু পিছু।

তাঁরা মৃত্যুকে অতিক্রম করে বারবার ফিরে আসে

মানবিকতায় উজ্জ্বল যেন কুয়াশায় বাতিঘর

মানুষকে ভালোবেসে আজীবন হৃদয়ের খুব কাছে,

তাঁরা যে সবার – নেই ভেদাভেদ আপন অথবা পর।

তেমনি তুমি তো দেখা-অদেখার স্মরণের স্মৃতিগাথা

অলস দিনের হাওয়ায় ভাসবে বহুদিন প্রাণে প্রাণে,

হৃদয়ে হৃদয়ে তোমার জন্য মমতা-আসন পাতা

তোমার থাকা না-থাকার কষ্ট শূন্যতা বুকে হানে।

নন্দীছড়ার যোদ্ধা তোমাকে চিনতো, এখনো চেনে

মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি সত্তা ছিল যে হৃদয় জুড়ে

গৌরব তার নিশ্বাস-বায়ু বারবার নেব টেনে

রবিঠাকুরের প্রাণের আগুনে পরশমণিতে পুড়ে।

মনে ছিল মহাজীবনের সাধ এঁকেছিলে কত ছবি!

কয়লাতলার আজগুবি রাত মানবিক মমতায়

প্রাণের পরশে জেগেছিল প্রাণে স্বাপ্নিক এক কবি

মৃত্যুকে মেরে বেঁচে থেকো তুমি সৃষ্টির মহিমায়।

জীবন্ত স্মৃতি সেই কবি আর কথকের কাছে আমি

শ্রদ্ধা জানাতে সমাধির পাশে যেন বারবার থামি।