দুটি কবিতা

লেখক:

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

সুদীপ্তের একতারাটা

সুদীপ্ত বিদায় নিতেই আমার আবাসন ভেঙে পড়তে
থাকে। ইংল্যান্ডে কোন্ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়বিদ্যা
পড়ায়। বার্লিন থেকে লালন ফকির নিয়ে কাজ
করার জন্যে ডাক পড়েছিল। যাবার মুখে এসে হাজির আমার
শহরতলির ডেরায়। এসেই জুড়ে দিলো একটার পর
একটা লালন, বাড়িটা তখন থৈ থৈ কান্নার
সমুদ্র।

ফেরার সময় পুঁথিপত্তরের জন্য যতটা এক্সট্রা লাগেজ
হয়েছিল তা বড়ো কম নয়। ব্রিটিশ কাস্টম্স
সে সবই মঞ্জুর করে দিয়েছিল। কিন্তু হিথ্রোর
বিমানঘাঁটি খুব একটা সহজ পাত্র নয়। শুল্ককর্মচারীরা
তার একতারাটাকে বাজেয়াপ্ত করে কোয়ারান্টিনে
পাঠিয়ে দিলো। মোবাইলে এই খবরটা সুদীপ্ত আমায় জানানোর
সঙ্গে-সঙ্গেই আমার ঘরদুয়ার ঝুরঝুর করে ভেঙে
পড়ল।

ভাষাঞ্চল

কুন্দকলি ছুটে এলো, ঝরে তার তূর্ণ কেশভাগ
অলজ্জিত, তাকে আমি আমার নিজস্ব দেশ বলে
ঘোষণা করার আগে জানতে পারলাম ভূমণ্ডলে
রাষ্ট্রপুঞ্জে বাংলা ভাষা অবিলম্বে হবে স্বপ্রকাশ,
শেখ হাসিনা বলেছেন।
নজরুল, জীবনানন্দ দাশ
মনে হলো বলতে চান : ‘আমাদের এই ভাষাঞ্চলে
আর আন্দোলন নয়, এখন দোলনচাঁপা দোলে…’