দেখা

লেখক:

তানভীর মোকাম্মেল

কত কী     দেখনি     তুমি

দেখেছ  কী    চীনের প্রাচীর

ব্যাবিলনের    শূন্য   উদ্যান

মায়া সভ্যতা?

 

সব সভ্যতাই মায়া

যদি না তাতে    সুপ্ত  থাকে

সৃষ্টির   প্রাণভোমরা

আর   পাঁচিল   শুধু     বিভক্তিই আনে

উদ্যান   শূন্যে নয়   চাই

সব মানুষের     হৃদ্বাগানে;

 

দেখেছ কি   দুর্ভিক্ষ     দাঙ্গা    দেশত্যাগীর অবসাদ?

 

বিষাদ    দেখতে চাই না আমি

জীবন এমনিতেই    ফেসবুক সত্ত্বেও    বড়ই বিস্বাদ;

 

আমি দেখেছি     স্কুলফেরা  বালিকার    সরল স্বর্গীয় হাসি

বিপরীত বিহারে রাধা   কীভাবে   চুরি করে

কৃষ্ণের    মোহনবাঁশি

দেখেছি   পরকীয়াশেষে      শ্রান্ত তবু

কী নিপুণ দক্ষতায়   দলামলা  বিছানা  গোছায়  গৃহবধূ;

 

আরো দেখেছি     ফোটার আগেই    নয়নতারার    করুণ বিসর্জন

ঈশানে ঝরেপড়া    কাঁঠালপাতার মতো    অসংখ্য

অপূর্ণ জীবন

দেখেছি     উর্বশী-ঊরু    রোগে    ক্ষয় হয়

অভাবের অজগরে     বালকের ইচ্ছেঘুড়ির    মলিন

পরাজয়;

 

দেখেছ    কি   ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত

সুমেরুর    শ্বেতভলস্নুক

সবজান্তা সঙ্গী    দাবি  জানায়;

 

ভিক্টোরিয়া       সে তো    কেবলই জলের ধারা

জলই জীবন   তবু তাতে    কাদম্বিনী হারা

আর    সাদাকালো   কোনো ভালুকেই      প্রয়োজন  নেই আমার

মানুষের হিংস্রতা যে  তার চেয়ে বেশি     দেখেছি তা’

অনেকবার

 

জেনেছি জীবন এক মায়ানদী ক্ষণিকের খেলা

মৃত্যুর ছায়াঘেরা বিষণ্ণ এক বটতলে

বৈশাখি মেলা;

 

যা ঘটেছে     দেখেছি তা’ যা ঘটবে তাও

যুগে যুগে   দেখেছি    বাচ্চায়ে সাকাও;

কবিকে তো      সবই দেখতে    হয়

সভ্যতার জন্মমৃত্যু    মানুষের বিশ্বাস-অবিশ্বাস

যেমনটি দেখেছিল   অন্ধ টায়ারসিয়াস;

 

আমাকে  শুধু স্পর্শ কর    হে অচিন সারথি

আমার হাতে   হাত ছোঁয়াও

তাহলেই     দেখব আমি    কৃষ্ণের মুখগহবরে

শুধু     সৃষ্টির রহস্যকথা নয়

দেখব    মানবতার    বাঁচার আর্তির   শেষ বার্তাও\