দেখা

লেখক:

আশিস সান্যাল

দেখা হলো পুনর্বার
বরাকের পাশে
তখন নদীর জলে ছড়ায়েছে গোধূলি রোদ্দুর
ঘরে ফেরা পাখিদের
শোনা যায় চারদিকে নিবিড় কূজন।
বললাম মৃদু হেসে :
আবার এখানে তুমি?
তার চেয়ে ভালো এই বেঁচে থাকা
পৃথিবীর দুই দিকে আমরা দুজন।

শীর্ণা হীরার মতো হাত তার
মুখে তার
অপরূপ উদ্ভাসিত রোদের প্লাবন,
চোখে তার স্বচ্ছ আভা
যেন শত শতাব্দীর স্বপ্নময় দিঘির মতন।
দূরের আকাশে ওড়ে
দেখি চেয়ে এলোমেলো একঝাঁক চিল –
এখন কোথায় যাবে?
রেখেছি উন্মুক্ত করে আজো সব দরোজার খিল।

সে নারী বলল হেসে :
যা কিছু হারায়
কেউ কি পেয়েছে ফিরে আর কোনোদিন?
ক্রমশ অতীত এসে
ছায়া ফেলে
ঢেকে যায় অন্ধকারে ব্যবহৃত সব একদিন।

জানি, জানি – সব জানি
তবু মনে হয়
হারানো অতীত হবে
একদিন ক্রমে ক্রমে ক্ষয়।
প্রেম যায়, প্রীতি যায়
বেঁচে থাকে মুখোমুখি প্রত্যহের দিন –
তুমি হবে বৃষ্টিধারা
আমি হবো কৃষ্ণমেঘ শ্রদ্ধায় রঙিন।