পরগাছা, অথবা অগ্নিস্রোতের ঢেউ

লেখক: নাসরীন জাহান

দুপাশের ঝাঁক ঝাঁক প্রকৃতি উদ্ভ্রান্ত হয়ে পেছনদিকে পালাচ্ছে।

গাড়িটা ছুটে চলছে। মুরাদের এই এক স্বভাব, নিজের মরদাঙ্গি দেখাতে প্রায়ই বেপরোয়া হয়ে পড়ে। এই স্বভাব এমনই তার রক্তে-মাংসে মিশে থাকে, ওমরের মনে হয়, অন্ধকারে একা থাকলেও সে যে-কোনোভাবে বেপরোয়া হয়ে কিছু একটা করে দেয়ালের সঙ্গে কষে ধাক্কা খায়।

নইলে প্রায়ই তার মাথা ফাটা, হাত ফাটা থাকে কেন। এসব দেখে তার অফিসের এমপ্লয়িরা ফিসফিস করে, নিশ্চয়ই স্যার গতকাল বেশি খেয়ে ফেলেছিল।

হ্যাঁ, তুমুল ড্রিংক করে সে।

যত খায় তত তার আলাদা রং বদল হতে থাকে। ভেসে যাওয়া সুরের মতো সে উড়ে উড়ে যেতে থাকে। সে তার চেয়েও অধস্তন কিছু মানুষের সঙ্গে ড্রিংক করতে পছন্দ করে। যারা তাকে স্যার স্যার তোষামোদ করতে পারে। তাদের মধ্যে ওমরও একজন।

তবে ওমর ড্রিংক করে না। সে সবকিছু সাজিয়ে দিতে থাকে কিছুক্ষণ পরপর।

একটা পর্যায়ে গিয়ে মুরাদ আমূল হাত-পা নাড়তে থাকে। তখন ওমরের প্রয়োজনটা বেশি হয়।

পেছন থেকে মিলি প্রশ্ন করে, আমরা কদ্দূর এলাম?

এই তো, মুরাদ ঘাড় ঘুরিয়ে বলে। এরপরই মুরাদের শুরু হয় ব্যাকভিউ মিরর দিয়ে মাঝেমধ্যেই পেছনের মিলির সঙ্গে ইশারায় বাক্যালাপ করা, বিশ্রী ইশারা দেওয়া চোখ দিয়ে যতটা সম্ভব। এমন সময় ওমর ভয়ে প্রায় সময়ই সিঁটিয়ে থাকে। মস্ত একটা অ্যাক্সিডেন্টের ভয়ে তার আত্মায় থরকাঁপুনির ঢোল বাজতে থাকে। মাঝে মাঝে উচ্চারণ করে, অস্ফুটে, স্যার সাবধানে, আস্তে।

মুরাদ রাজহাঁস গলা বাড়িয়ে মুখটা ওমরের সামনে মেলে ধরে – কিছু বললে?

তখন ওমরের আলাদা রং বদল ঘটে। কণ্ঠে তোতলা খেয়ে বলে, না না, কিচ্ছু না।

চারপাশে সন্ধ্যার বেলাভূমিতে রক্তজবা রঙের সূর্য দ্রৌপদীর লম্বা শাড়ির মতো দীর্ঘ আঁচল বিছিয়েই যাচ্ছে, বিছিয়েই যাচ্ছে। পাখিরা কক্ষে ফিরছে আড়মোড়া ভেঙে ভেঙে। প্রকৃতির মধ্যে নিঃশেষিত মূর্ছনার একটা অদ্ভুত মিহি সুর বেজে চলছে। যেন-বা গাড়িটা আচমকা চলা বন্ধ করে ডুবে যাচ্ছে অতল গহবরে।

ওমর গাড়ির উইন্ডশিল্ডের দিকে তাকিয়ে দেখে, সন্ধ্যার ছায়া আঁধারে কী একটা জ্যোতিষ্কের মতো ঢেউ খাচ্ছে।

সে টানা বিমূঢ় তাকিয়ে থেকে জ্যোতিষ্কের পালানো দেখে ভয়ে ধড়ফড় খায়, ওটা কী? কী?

কোনটা কী, মুরাদ গলা চড়িয়ে বলে।

মুরাদ সামনের দিকে তাকিয়ে বলে, কই কিছু নাই তো! এই তো তোমাকে ধরেছে না? মদ না খেয়েও মাতলামি, কারণ ছাড়া মেয়েদের মতো ভয় পাওয়া? ‘মেয়েদের মতো’ কথাটা মিলির গায়ে লাগার কথা। কদাচিৎ কোনো পরিপ্রেক্ষিতে ওমর এটা বললে অগ্নিকা- ঘটে যেত।

কিন্তু সে হাসছে মুরাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে। জবরদস্ত আঁটসাঁট পোশাক পরেছে সে। দেহের অনেক উত্তপ্ত জায়গা দেখা যাচ্ছে। দেখার পর থেকে শিরশির করছিল ওমরের দেহ। প্রতিবাদ করে লাভ নেই। বরং তার চিমসে শুকনা দেহটায় এমন এক ধাক্কা দেবে হিসহিস উচ্চারণে পেরাসাইট বলে। নিজের মধ্যে নিজে কাঁচু মেরে যাবে সে।

মুরাদ নিজেও কি পথটা চেনে?

রক্তিমার ছায়াপথ দিয়ে গাড়িটা ছুটতে থাকে।

মুরাদের স্ত্রী দেশের বাইরে থাকে এক ছেলেকে নিয়ে। সহসাই ডিভোর্স হবে তাদের। ওমর কি ওইদিনটার দিকে ভয়ে ভয়ে কল্পনার চোখ মেলে থাকে?

আমরা মন্দারমণির কাছে এসেছি কি না, কাউকে জিজ্ঞেস করুন না।

কথাটা মুরাদকে বলেছে মিলি। মুরাদ চুপ হয়ে থাকে। ওমর ঘাড় ঘুরায়, কাছেই এসেছি হয়তো, সময়ের হিসাব তা-ই বলে। আরেকটু যাই, তারপর আমি জিজ্ঞেস করব না হয়।

ইস! মুক্তা আর ঝিনুকের খেলা দেখতে গিয়ে আনন্দ হয় আমার! মিলি বলে, যতবারই সমুদ্রে যাচ্ছি মনে হয়, আমার কী যে শিহরণ লাগতে থাকে!

কলকাতা এসেছে দুদিন হয়।

দেশে থাকতে মুরাদ-মিলি দুজনেই একটা দূরত্বের ভান করে থাকত লোকসমাজে, ওমরের সামনেও। যদিও ওমর বুঝত সবটা। তার ভেতরটা হুহু নোনাস্রোতে ডুবজল খেতে থাকত।

মিলিদের আর্থিক অবস্থা তুমুল খারাপ ছিল। ওমর মিলিকে বিয়ে করে যেন উদ্ধার করেছিল, তার বাবা-মার চোখ-মুখে সে-কি কৃতজ্ঞতার হাসি ছিল।

কিন্তু এত সুন্দরী মিলি, শতচ্ছিন্ন ঘরে সে পদ্মর মতো ফুটে থাকত।

এমন একটি সুন্দরী মেয়ের কাছে তো অভাব কোনো বিষয় না। দিব্যি রাজপুত্র পাওয়ার কথা। কিন্তু ওর দেহটা অনেক কাপড়ে ঢাকা থাকলেও কেমন জানি বেখাপ্পা লাগত, মিলির রূপসী মুখ থেকে ওমরের এঁটে থাকা চোখ একটু নিচে নামলে ওমরের কী যেন এক খটকা লাগে। তারপরও বিয়েটা হয়ে গেলে জবুথবু নিশ্চুপ মিলি আছড়ে পড়েছিল ওমরের দিকে।

সাত মাসের প্রেগন্যান্ট সে। নষ্ট করার উপায় ছিল না, যখন টের পায়।

এমন একটি মহৎ কাজ নিজের অজান্তে করে ফুরফুরে নীলিমায় ভাসতে থাকে ওমর। তার যা চেহারা আর চাকরি, এমন একটি রাজকন্যা এই জীবনে পেত, মিলির যদি এই খুঁতটা না থাকত? প্রথমদিকে মিলির সে কি সমীহ ওমরকে। কিন্তু বাচ্চাটা মৃত জন্ম নিলে, ওমরের চরিত্রের মিনমিন ভাবটার প্রকাশ ঘটতে থাকলে,
সাঁইসাঁই করে নিজেকে পালটাতে থাকে মিলি।

গাড়ি থামিয়ে একে-ওকে প্রশ্ন করছে মুরাদ, আর নবাবের মতো বসে ধ্যানমগ্ন হয়েছে মিলি, টের পেয়ে জানালা খুলে শূন্যতায় ঝাঁপ দেয় ওমর।

হা-হা করে ওঠে মুরাদ, আরে নামলে কেন, আমি তো জিজ্ঞেস করছিই।

রাস্তার কাছের এক-দুজনকে জিজ্ঞেস করে গাড়িতে উঠে ওমর বলে, এসেই গেছি, সামনের ডানদিকের রাস্তা ধরতে হবে।

আমি তো এখানে বসেই তা জানলাম, সবকিছুতেই তোমার বেশি বেশি। তুমি যা, তাই থাকো, আমাকে অন্তত বেশি দেখিও না। এরপর হাসতে থাকে মুরাদ, পেছনদিক থেকে মস্ত এক চিমটি কাটে মিলি। আহা! পরানে আরাম লাগছে। সে ভেবেছিল, এই বুঝি মুরাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে মিলিও হাসতে থাকে। না, যে-চিমটিটা দিয়েছে মিলি, নিশ্চয়ই তা নিজের স্বামীর অপমান না সইতে পারার। মিলির মধ্যে তাকে কেন্দ্র করে এখনো কিছু আছে?

বাঁয়ের গলি ধরে গাড়িটা চলছেই। আগেই হোটেলের বুকিং দেওয়া। অনেকটা পথ কোনো হোটেলই চোখে পড়ে না। ভুলপথে আসিনি তো? মিলির এই উচ্চারণে মুরাদ বিরক্তি প্রকাশ করে, আমি কি বোকা? ভালো করে জেনেই এসেছি।

 

ওমর চারপাশের ঘন আঁধারের দিকে চক্ষু বিস্তার করে। ঢাকায় থাকতে মুরাদ জনগণকে খুব তোয়াক্কা করে। মিলিকে প্রকাশ্যে ওমরের বউ হিসেবেই রাখতে পছন্দ করে। শহরের বাইরে গেলে সে একাই যায়, মিলি যায় অন্য পথ ধরে। মিলি যখন তৈরি হতে থাকে, ওমর নিজেকে প্রবোধ দেয়, মিলি তার বন্ধুদের নিয়ে বাইরে কোথাও যাচ্ছে, মিলি বলেও তাই, আমরা বন্ধুরা মিলে আউটিংয়ে যাচ্ছি।

এইটুক সম্মান করার চেষ্টা করে সে।

মিলি চলে গেলে যতটা সময় যায়, নিজেকে প্রবোধ দেয় সে, না না, মিলিকে স্পর্শ করছে না মুরাদ। এই যে মনে হচ্ছে, মিলিকে আমূল গ্রাস করেছে মুরাদ, এই যে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, এ তার পুরোটাই অবচেতন মনের ভ্রম।

কলকাতায় আসার আগে, পুরো রাস্তায় দুর্মর টেনশনে ছিল ওমর, এখানে তো কাউকে তোয়াক্কা করার নেই। মুরাদ তার চোখের সামনেই রুমে টেনে নেবে না তো?

একেবারে চাক্ষুষ! তখন কি গাধা ওমর নিজেকে এই বলে প্রবোধ দেবে যে, ঘরের মধ্যে ওরা ওইসব কিচ্ছু না করে দুজন বসে বসে লুডু খেলছে?

হ্যাঁ, সে গাধাই তো! মেরুদণ্ড হারানো পরজীবী! পরজীবী? কীভাবে? সে তো মুরাদের অফিসের অফিস সহকারীর ছোট একটা চাকরি করে। এসএসসি পাশ করা ওমর এর চেয়ে ভালো চাকরি কীভাবে পাবে? এটাও পেত না। এই পদে চাকরি করতে হলে কমপক্ষে গ্র্যাজুয়েট হতে হয়। মুরাদের কারণেই এই সহানুভূতিটা পেয়েছে ওমর। তবে এই চাকরিতে এই চৌকস জীবনযাপন করতে পারত ওমর? এই অফিসেরই মুরাদের প্রাইভেট সেক্রেটারির চাকরি করে মিলি। স্বভাবতই কাপড়-চোপড়ে ওয়েস্টার্ন, আর নিখুঁত টিপটপ থাকতে হয় মিলিকে। বিড়বিড় করে ওমর, টিপটপ না কলা, সং সেজে থাকে! সেই মিলিই এত উপার্জন করে, এত বেতন! তার ঘরের মধ্যে সারাক্ষণ গর্জিয়াস ছায়া প্রবাহিত হয়, যা ওমরের টুঁটি চেপে ধরে প্রায়শ। এক আহ্লাদী বাতাসে মিলি উড়াল উড়াল দিয়ে কেমন যেন সুখানুভূতিতে গড়ায় প্রায়ই।

এদের মধ্যে ওমর কেন থাকছে? লাত্থি দিয়ে চলে যায় না কেন?

অভ্যাস! শুধুই তাই? তুমুল তর্ক ওঠে মনোরাজ্যে। এই চাকরিটা গেলে এই পড়াশোনায় কোথায় পাবে অন্য একটা চাকরি? এছাড়া দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া ওমরের এই বিলাসী জীবনটায় কি এমনই অভ্যস্ত হয়েছে যে, ঘর কিছু ছেড়েছুড়ে ওই অন্ধকার গহবরের অতল নীলিমার রাক্ষুসী হাঁর মধ্যে কোনো একটা ঝাঁপ দেওয়ার জন্য ভেতরে কোনো শক্তিই পায় না সে? কেন এভাবে নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছে? আসলে প্রবল প্রেমঘোরে বিয়ে করেছিল মিলিকে সে। মিলি গর্ভবতী হয়ে ওমরকে বিয়ে করে প্রথমবার ঠকায় তাকে। কিন্তু এর পরের দিনগুলোতে মিলিকে নিয়ে ওমরের জীবন প্রগাঢ় প্রেমের গেছে। যাই করুক মিলি, ওমর নিজেকে তার সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার কথা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারে না। পারে না। আত্মায় গুনগুন বাজে, বয়স হয়ে গেলে নিশ্চয়ই মিলি জীবনের জন্য ওমরের হবে। প্রায়ই ভাবে, মিলির কোনোকিছুর জন্য কোনো কষ্ট পাবে না সে। পরক্ষণেই নিজেকে বিশ্লেষণ করে এভাবে, সামান্য কষ্টই তো। এটাও কি তার সয়ে গেছে? মিলিকে ভালোবাসে সে, না ঘৃণা করে? উত্তর ধেয়ে আসে, দুটোই। মুরাদ তাকে দিয়ে যখন ড্রিংকের কাজগুলো করায়, ভেতরে মাঝেমধ্যে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সে, পরক্ষণেই এই বোধকে দাবিয়ে দীর্ঘ হয়ে ওঠে অন্য একটা বোধ। দেশ-বিদেশে এত বিজনেস যার, সে ইচ্ছা করলেই এজন্য কোনো সাকি রাখতে পারত। কিন্তু সে কাজটা ওমরকে দিয়ে করায়। ড্রিংক না করে এত নিখুঁতভাবে কীভাবে মদ ঢেলে দেয় একদম মুরাদের চাহিদামতো। কীভাবে মুরাদের অসংলগ্ন পরিবেশ সংলগ্ন করে ওমর, মুরাদ রীতিমতো অভিভূত বোধ করে।

একটা ধাক্কা খেয়ে অন্তরাত্মা হুড়মুড় লাফিয়ে বলে, এবার সীমারেখা টানি।

এসে গেছি, উচ্চকণ্ঠে বলে মুরাদ, কী হে, ওমর ঘুমোচ্ছিলে নাকি? হোটেল খুঁজতে কত জায়গায় থামলাম, তোমার দেখি হুঁশই নেই।

কণ্ঠ উচ্চকিত হয় মিলিরও, তুমিও না, একটা থার্ডক্লাস…।

কী জানি কেন ভেতরে থেকে আগুনের শিখা উচ্চকিত হয়, মিলিটাকে একটা লাত্থি দিক মুরাদ। আমি হাজার অনুরোধেও তখন তাকে নিজের সঙ্গে আর জড়াব না। পরক্ষণেই উলটো স্রোত প্রবাহিত হয়, মুরাদ তো মিলির মতো সমান পাপী, একটা ভয়ংকর শাস্তি তারও কি প্রাপ্য না?

দুই

হোটেলে যা গোছগাছ তা করে মিলি চলে গেল গোসলে আর ওমর বারান্দায় দাঁড়িয়ে জ্যোৎস্নাকৃত সমুদ্রের বহু বর্ণিল রূপ দেখতে থাকে। কী অপরূপ জলের কল্লোল! নক্ষত্রলোকের সীমাহীন পরিব্যাপ্তি ওমরের বুকের মধ্যে আসন পাতে। যেন জ্যোৎস্না নয়, মিহি রৌদ্রেরও অধিক কিছু একটা চারপাশে অগ্নিকা- ঘটাচ্ছে।

আমি একটা কীট, ঘুণে-খাওয়া আসবাব, এত সুন্দরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বোধে কাঁপতে থাকে ওমর। এখানে আমার চোখের সামনে মিলিকে ঘরে টেনে নেবে মুরাদ আর অগ্নিচুল্লির দাহে পুড়তে থাকব আমি। অসাধারণ সমুদ্রস্রোত চুড়োয় ফেনার মুকুট পরে কী সুন্দরই না উচ্ছলিত হচ্ছে। কলকাতায় বিজনেস পার্টনারদের সঙ্গে সারারাত আড্ডা দিয়ে নিজেদের মতো উলটাপালটা ঘুমিয়ে পড়েছিল। হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল ওমর।

মিলি নিজেকে ছুঁতে দেয় না অনেকদিন হলো। কিন্তু ছুঁতে দেওয়ার দিনগুলো নিয়ে প্রায়ই নিজের সঙ্গে মগ্ন থাকে ওমর। আজো ভীষণ আকুতিতে সেই মুহূর্তগুলোর ভাঁজ, তরঙ্গ তার শরীরকে উদ্দীপ্ত করে তোলে।

যেন সামনে অনেক জোনাকির কলরোল।

যেন স্বপ্ন কুড়ুনো সার সার খুকি জলের ফেনায় ফেনায় উচ্ছ্বসিত হয়ে তীরের মধ্যে আছড়ে পড়ছে। না, মিলির দোষ নেই, দোষ মুরাদেরও নেই। আমিই এক মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো ওদের জীবনের মধ্যে কুৎসিত অবয়ব নিয়ে আটকে পড়ে আছি। সিঁড়ি ভেঙে নিচে যায় সে।

পূর্ণিমা-প্লাবিত, ঘোর আচ্ছন্ন হয়ে সীমাহীন সমুদ্রজলের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সে। জলস্রোতের ফেনা ওমরের পা ভেজাতে ছুটে আসছে।

চোখের পাপড়িভাঁজে মিলির দেহটা এক ঝিলিক এসে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায়। মাঝসমুদ্রে যাওয়ার জন্য ওমর জলের স্রোতের দিকে পা বাড়ায়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply