পাথুরে ফুল-১

বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের চিত্রকলাকে উচ্চস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন যাঁরা, কাজী গিয়াসউদ্দিন তাঁদের অন্যতম। বিমূর্ত চিত্রকলায় সিদ্ধহস্ত এ-শিল্পীর অনুপ্রেরণা প্রকৃতি। তাই তাঁর ছবিতে ফুটে ওঠে প্রকৃতির মায়াময় রূপ, প্রশামিত্ম, স্নিগ্ধতা; একই সঙ্গে পরিবর্তনশীলতা ও নস্টালজিয়ার গভীর আবেশ।
তাঁর ছবি এমন এক ভুবনের দরজা মেলে ধরে, যেখানে প্রকৃতি স্বতঃস্ফূর্ত ও সর্বদা বিসত্মৃতিমান। ক্যানভাসে তেল ও জলরঙের মিশ্রণে সৃষ্টি হয় নানা অনিয়মিত আকার-আকৃতি, যা ইঙ্গিতপূর্ণ ঘটনা বা চরিত্রের বয়ান।
১৯৭৫ সাল থেকে তিনি জাপানে বসবাস করছেন। এদেশের জল-হাওয়া-প্রকৃতি যেমন তাঁর অন্তরে গাঁথা, চিত্রকলার উৎস, তেমনি জাপানি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও দর্শনও তাঁর শিল্পভাবনার অংশ। এক কথায় দুটি ঋদ্ধ সংস্কৃতির ধারাকে তিনি বয়ে চলেছেন তাঁর সত্তায়, চিত্রকলায়।
কাজী গিয়াসউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারু ও কারুকলা অনুষদ থেকে ১৯৭০ সালে বিএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএফএ সম্পন্ন করার পর গুণী এ-শিল্পী উচ্চশিক্ষর্থে জাপানে যান। সেখানে টোকিও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস থেকে ১৯৭৯ সালে মাস্টার অব ফাইন আর্টস ইন এডুকেশন এবং ১৯৮৫ সালে টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড মিউজিক থেকে পিএইচ.ডি সম্পন্ন করেন। দেশে ও বিদেশে তিনি বহু একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন।
কাজী গিয়াসউদ্দিনের জনম ১৯৫১ সালে, মাদারীপুরে।
প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবিটি ২০১৯ সালে তেলরঙে আঁকা।
সংগ্রাহক আবুল খায়ের।

%d bloggers like this: