মুর্তজা বশীর – কেবল শিল্পের কাছেই হাত পেতেছেন

লেখক: তারিক সুজাত

গত ১১ ফেব্রুয়ারি চিত্রচর্চা বইটি নিয়ে শিল্পী মুর্তজা বশীরের মনিপুরিপাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে যাই – সে-দিনটির কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। একজন বড়মাপের মানুষ, যিনি এ-দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তরুণ বয়স থেকে। ভাষা-আন্দোলনের ওপর প্রথম যে-কজন ছবি এঁকেছেন, এর নান্দনিক দিক ও চেতনার রংকে ভাষায় রূপ দিয়েছেন, তিনি তো তাঁদেরই একজন। ৮৭ বছরে এসেও সৃজনে নির্মাণে সক্রিয়। বয়স বা অসুস্থতা কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি। সদ্যপ্রকাশিত নিজের লেখা বইটির পাতা উলটোচ্ছিলেন, একই সঙ্গে অনর্গল বলে যাচ্ছেন কী কাজ নিয়ে সে-মুহূর্তে ব্যস্ত আর সামনের দিনগুলোতে আরো কী কী করবেন। তাঁর বলায় এমনই সম্মোহনী শক্তি যে, কয়েক ঘণ্টা মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে কথা শ্রবণ করলেও আকর্ষণ ফুরোয় না। দুপুর গড়িয়ে গেছে প্রায়, এর মধ্যে টেবিলে গাজরের সুপ-জাতীয় খাবার এলো। বহুদিন থেকে সর্বক্ষণ নাকে অক্সিজেনের পাইপ নিয়ে চলাফেরা-ঘুম-স্নান করতে হয়। বিন্দুমাত্র অস্বস্তির চিহ্ন নেই। চিত্রচর্চা মূলত চিত্রকলাবিষয়ক এমন একটি বই যেখানে ছবির আঙ্গিক, রং, ফর্ম, প্যাটার্ন ইত্যাদি টেকনিক্যাল বিষয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কালজয়ী শিল্পীদের শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যের রেফারেন্সসহ একজন প্রাজ্ঞ শিল্পী ও শিক্ষক বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক জটিল-কঠিন প্রশ্নের সহজ ভাষায় উত্তর খোঁজার প্রয়াস নিয়েছেন। খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম, বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রন্থটি নকশা করার যে সাহস দেখিয়েছি সেটি তাঁর পছন্দ হয় কি না। হঠাৎ একটা বই হাতে তুলে নিয়ে কিছু কথা লিখে আমার হাতে দিলেন।
‘আমার সহপাঠী তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র তারিক সুজাতকে এই বই বের করার জন্য অভিনন্দন জানাই।’

  • মুর্তজা বশীর, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
    আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলাম না।
    এই করোনা ক্রান্তিকালে গত ১৪ মে ২০২০ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন আরেকজন শ্রদ্ধার মানুষ – ড. আনিসুজ্জামান। ভাষা-আন্দোলন থেকে শুরু করে এই প্রিয় দেশটি নির্মাণের প্রায় প্রতিটি ধাপে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরেছিলেন প্রগাঢ় ঋজুতায়।
    বায়ান্নোর কলমযোদ্ধা, নাট্যকার আনিস চৌধুরী – একুশের প্রথম সংকলনে যাঁর একটি কবিতা ছাপা হয়েছিল। তাঁর কন্যা শিল্পী-স্থপতি লুভা নাহিদ চৌধুরী পিতৃবন্ধু আনিসুজ্জামানকে নিয়ে ‘এক মহীরুহের কথা’ শিরোনামে একটি লেখায় আবেগমথিত ভাষায় যে-কথা লিখেছেন, ‘পিতৃবিয়োগের ব্যথা কিছুটা লাঘব হয় আনিস স্যারের সান্নিধ্যে।’ লুভা আপা কথাটি অত্যন্ত সহজ ভাষায় প্রকাশ করতে পেরেছেন। ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আমার বাবা কবি-ভাষাসংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেনের প্রয়াণের পর যখনই ড. আনিসুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, কামাল লোহানী, মুর্তজা বশীর – তাঁদের স্নেহ-সান্নিধ্যে এসেছি, আমার ভেতরও একই অনুভূতি হতো। যে-কথায় ছিলাম, সেদিন বশীর চাচার কাছে জানতে চেয়েছিলাম ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান-সম্পাদিত ঐতিহাসিক একুশে ফেব্রুয়ারী সংকলনের নেপথ্যের কিছু কথা। প্রায় সত্তর বছর পর তিনি চিহ্নিত করে দিলেন সেই সংকলনের প্রচ্ছদ ও অলংকরণে ব্যবহৃত শিল্পকর্মগুলো কোনটি কে করেছিলেন। পূর্ব থেকে জানা ছিল প্রচ্ছদ করেছিলেন শিল্পী আমিনুল ইসলাম, শুরুতে একটি লিনোকাট ব্যবহৃত হয়েছিল মুর্তজা বশীরকৃত আর উৎসর্গপত্রের লেখা ও হস্তাক্ষর ছিল ড. আনিসুজ্জামানের। কেন আমরা আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির ‘রেনেসাঁ দশক’ বলবো ‘পঞ্চাশের দশক’কে সেটি বোঝার জন্য ড. আনিসুজ্জামানের স্মৃতিকথা কাল নিরবধি বইটিকে অবশ্যপাঠ্য বলে বিবেচনা করি। ড. আনিসুজ্জামানের স্মৃতিকথায় একুশে সংকলনের উৎসর্গপত্রের প্রসঙ্গটি তিনি নিজেও উল্লেখ করেছেন। বাকি প্রায় ১২টি শিল্পকর্মের সঙ্গে কোনো নামোল্লেখ ছিল না। সেদিন তিনি একটি মাত্র বাক্যে প্রায় সাত দশকের একটি জিজ্ঞাসার জট খুলে দিলেন; ‘লিনোকাটটি এবং মোটা তুলির ড্রইংগুলো আমার আর সরু রেখার ড্রইংগুলো বিজনের’ – শিল্পী বিজন চৌধুরীর। এরপর একে একে সব ছবি চিনিয়ে দিলেন; দুর্লভ প্রাচীন মুদ্রা চেনানোর মতো করে।
    ঢাকায় গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অফ আর্টসে (বর্তমানে ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউট) পড়াশোনা করেছেন শিল্পী বিজন চৌধুরী, ভাষা-আন্দোলনের ওপর প্রথম ছবি এঁকেছেন যে-কজন তাঁদের অন্যতম। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গনিবাসী শিল্পী বিজন ভারতবিখ্যাত হয়েছেন। যখনই ডাক পেতেন ছুটে আসতেন নাড়ির টানে বাংলাদেশে। দুঃখ পাই যখন দেখি এদেশের শিল্প-আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর নাম নেই। মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি, পরিতোষ সেন, সোমনাথ হোর, গণেশ
    হালুই – যাঁদের শৈশব-কৈশোর কেটেছে এদেশের জল-মাটি-আবহাওয়ায় – তাঁরা কী আমাদের শিল্পকলার ইতিহাসের বাইরে।
    শিল্পী মুর্তজা বশীর ১৯৫৪ সালে ঢাকায় গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অফ আর্টস থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ মিউজিয়াম থেকে টিচার্স ট্রেনিং সার্টিফিকেট (আর্ট অ্যাপ্রিসিয়েশন) লাভ করেন। ১৯৫৬-৫৮ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে অ্যাকাদেমি দ্যেল বেল্লে আরটিতে চিত্রকলা ও দেয়ালচিত্র বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৭১-৭৩ সালে প্যারিসের ইকোলে ন্যাশনাল সুপিরিয়র দ্য বোজার্ট ও আকাদেমি গোয়েৎসে মোজাইক ও ছাপচিত্র বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে এক মাসের জন্য আমেরিকায় আটটি স্টেটের বিভিন্ন মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। ১৯৮৮ সালে ভারতের আইসিসিআর ফেলোশিপে দিল্লি, বেনারস ও কলকাতার বিভিন্ন জাদুঘরে বাংলা চিত্রকলা ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেন। ১৯৯৩, ১৯৯৫-৯৬ সালেও একই প্রতিষ্ঠানের অনুদানে ‘মন্দির টেরাকোটা শিল্পে’র ওপর পশ্চিমবঙ্গের প্রায় তিনশো গ্রামে সরেজমিন পর্যবেক্ষণের জন্য মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করেন।
    বিচিত্র বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেছেন সহজাত প্রতিভার উজ্জ্বলতা নিয়ে। ডাকটিকেট থেকে শুরু করে দুর্লভ মুদ্রার বিশাল সংগ্রহ ছিল তাঁর। মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে প্রাক-মুঘল যুগে বাংলার সুলতানদের শাসনামল নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে আরো একটি দিনের কথা মনে পড়ছে। ইতিহাসবিদ লেখক মুনতাসীর মামুন, স্থপতি রবিউল হুসাইন ও শিল্পী হাশেম খানের তত্ত্বাবধানে সে-সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা জাদুঘর নির্মাণের দুর্লভ সুযোগ হয়েছিল আমার। তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানের ঐকান্তিক আগ্রহে এ-উদ্যোগটির প্রথম পর্ব আলোর মুখ দেখে। যাই হোক, সেই থেকে মামুনভাইয়ের হাত ধরে ইতিহাসের গহিন অরণ্যে আলোর ইশারা খুঁজে পেয়েছি প্রাচীন মুদ্রা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে। একই বিষয়ে আগ্রহের সূত্র ধরে বশীর চাচার কাছে যাওয়া শুরু হলো। মামুনভাই ও আমি সেদিন বশীর চাচার মুদ্রা সংগ্রহ, গবেষণা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে এদেশের একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানের অন্তর্গত বেদনার হাহাকার দেখে স্তব্ধ হয়ে যাই। একুশে ও স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত শিল্পী মুর্তজা বশীর নিজের গালে চড় দিয়ে স্বগতোক্তির মতো বলছেন, ‘আমি একটা … বাচ্চা।’ আবেগে কণ্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছিল, চোখ অশ্রুসজল। স্ত্রী-বিয়োগের পর একাকিত্ব তখন তাঁর নিত্যসঙ্গী। বড় মেয়ে মুনিরা বশীর জুঁই বাবার দেখাশোনা করেন। তাঁর আক্ষেপের জায়গাটি বুঝতে বেশি সময় লাগল না। শপথ করার ভঙ্গিতে নিজের ডান হাত উত্তোলিত করে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘একটুও কি হাত কাঁপছে?’ আমরা একসঙ্গে বললাম, ‘না।’ উনি বললেন, ‘প্রায় ৮৭ বছর চলছে, এখনো ছবি এঁকে খাই, জীবনে কোনো ধান্ধাবাজি করিনি। সবাইকে কি রাজনীতি করতে হবে? আমি তো শিল্পী, শিল্পীর ধর্ম তাঁর কাজ।’
    যৌবনের শুরু থেকে প্রতিভার ঔজ্জ্বল্যে দীপ্যমান এই শিল্পী ৮৮তম জন্মদিনের মাত্র কয়েকদিন আগেও হাসপাতালের ইমার্জেন্সির বেডে শুয়ে ফোনে যখন কথা বলেছেন, তখন সেই একই দৃঢ়তায় কথা বলেছেন। ফুসফুসের বেয়াড়াপনাকে অগ্রাহ্য করে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সৃষ্টিশীল থাকতে দেখেছিলাম বায়ান্নোর আরেক সন্তান কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হককে। একই বছরে ঐতিহাসিক একুশে সংকলনের তিনজন – বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, আনিসুজ্জামান, মুর্তজা বশীর ‘রক্তরেখার আল্পনা আঁকা পথের যাত্রীদল’ একে একে বিদায় নিলেন – ‘জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রথম শিল্পিত রূপ’ তৈরি হয়েছিল যাঁদের হাতে। শিল্পী মুর্তজা বশীরের জীবনের শেষ দিনগুলোয় নানা বিষয়ে ক্ষোভ-দুঃখ-আনন্দ-স্নেহ-মমতার স্পর্শ মাখানো কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল – যার সব হয়তো কখনো প্রকাশ পাবে না! যা কিছু সত্য তাকেই ধ্রুব মেনেছেন বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা, ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র কনিষ্ঠ পুত্র শিল্পী মুর্তজা বশীর।
    ‘প্রথম যৌবনের অহংকারে একদিন ভাবতাম সবাই বলবে শিল্পী মুর্তজা বশীরের বাবা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ – আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন ভাবি আমার পিতা বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের কথা যে সময় বলেছিলেন সে সময় অনেক মহারথী জীবিত থাকলেও তাঁরা এতো দৃঢ়তার সাথে সেই সত্য উচ্চারণ করেননি।’ ‘আমি সত্যিই সন্তান হিসেবে গর্ব বোধ করি আমার পিতার জন্য’ – এ-কথাও বলেছিলেন বিদায়ের মাত্র কিছুদিন আগে। কন্যা জুঁইকে বলেছিলেন, ‘আগামী মে মাসে একটি প্রদর্শনী করব। সেখানে সমগ্র জীবনব্যাপী যত রকম নিরীক্ষা করেছি তার প্রতিটি পর্বের প্রতিনিধিত্বশীল দুটি করে শিল্পকর্ম নিয়ে হবে সেই প্রদর্শনী। বেশ কিছু নতুন ছবি আঁকবো সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর কেবল সাদা রঙের ব্যবহারে’ আর গোটা প্রদর্শনী উৎসর্গ করবেন প্রিয়তমা স্ত্রী তুলুকে। এ প্রসঙ্গে ভাদ্র ১৪০৮ চট্টগ্রামের ‘পূর্বা’ থেকে প্রকাশিত মুর্তজা বশীর : মূর্ত ও বিমূর্ত বইয়ের উৎসর্গপাতার লেখাটিকে আরেকবার স্মরণ করি –

তুলু
একজন আত্মসমাহিত ব্যক্তির স্ত্রী,
দুঃখ যে নীরবে সহে …

আরো কত পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিনিয়তই উদ্বেলিত হতেন, কত নতুন বিষয়ে বই প্রকাশের কথা বলে যেতেন প্রবল উচ্ছ্বাসে। ‘শিল্পের যাত্রায় কোনো যতিচিহ্ন নেই।’
শিল্পের তৃষ্ণায় তিনি সুন্দরকে খুঁজেছেন। সুন্দরের ভেতর খুঁজেছেন সত্যকে। তাঁর সৃষ্টিসম্ভার শিল্পের প্রভায় স্থান-কালের সীমানা ছাড়িয়ে কালজয়ী শিল্পের কাতারে স্থান করে নিয়েছে।
এই বিলয়ের কালে গত কয়েক মাস তিনি প্রায় প্রতিদিন ছোট ছোট নোট নিয়েছেন, স্কেচ করেছেন। পরিকল্পনা করছিলেন আরো একটি প্রদর্শনীর। তাঁর নিজের ভাষায় যদি বলি, ‘কোরান শরিফের বিভিন্ন আয়াতে ‘আল্লাহ্’ – এই পবিত্র শব্দের বর্ণনায় যে গভীরতা, যে রূপ-ঐশ্বর্য – রঙের মধ্য দিয়ে তাকে মূর্ত করার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’ ইতোপূর্বে ‘কলেমা তৈয়বা’ নিয়েও তিনি ক্যালিগ্রাফি করেছেন।
এই আত্ম-অভিমানী শিল্পী কেবল শিল্পের কাছেই হাত পেতেছেন – ‘নগ্ন-নির্জন হাত’ ভরে উঠেছে নানা সৃষ্টি-সম্ভারে।

Leave a Reply