রোকেয়া সুলতানার অদৃশ্য শহর

লেখক:

মূল : অদিতি গানীভ সাংওয়ান

অনুবাদ : আদনান মনোয়ার হুসাইন

সৃজনশীল অনুপ্রেরণায় ঋদ্ধ একজন শিল্পীই কেবল তাঁর সৃষ্টির নিত্য তাড়নার মধ্য দিয়ে কল্পনার কথা বলতে পারেন। চিত্রকর্ম তো কল্পনা, সৃষ্টি ও ছন্দের সম্মিলন, ভিন্ন-ভিন্ন মাধ্যমে নন্দনতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। সৃষ্টিশীলতার সার্বক্ষণিক তাড়নার সঙ্গে অপরিমেয়কে পরিমাপের প্যাশনের মিলন ঘটলেই তা মহৎ শিল্পের উৎস হয়ে ওঠে। রোকেয়া সুলতানার জন্য এমন উৎসের কোনো ঘাটতি নেই। রোকেয়ার চিত্রকর্ম যেন তাঁর মাটির ঘ্রাণকে ধারণ করে মন-মাতানো হাওয়া হয়ে আসে, মুক্ত করে দেয় আবেগরুদ্ধ শিল্পীকে। প্রতিটি শিল্পকর্মই তার কাল ও বৈশিষ্ট্যের ধারক। ইমাজিনেটিভ ইমেজকে চিত্রকর্মের একটি ধারায় পরিণত করতে একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকটি নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।

বিগত ২৫ থেকে ২৮ নভেম্বর, ২০১৬ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনের নন্দন জাদুঘরে রোকেয়া সুলতানার ‘ইনভিজিবল সিটিজ’ শীর্ষক একক চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে এই গুণী শিল্পীর চিত্রকর্ম, ছাপচিত্র, বই অলংকরণ, অ্যানিমেশন ইত্যাদি মাধ্যমে করা শিল্পকর্মের সমাবেশ ঘটেছিল। আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক আর্ট বিভাগের ভিজিটিং ফেলো হিসেবে তাঁর উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের সমৃদ্ধ করে থাকে। চিত্রপ্রদর্শনীর এই আয়োজন বাংলাদেশ এবং ভারতের মৈত্রীকে আরো দৃঢ় করবে।

রোকেয়ার চিত্রকর্ম নানাবিধ উপকরণের সংমিশ্রণে উজ্জ্বল রঙের পটভূমিতে দৃশ্যমানতার একটি বিমূর্ত সমীকরণ সৃষ্টির মাধ্যমে কল্পনা ও কল্পনাযোগ্য সবকিছুকে আবিষ্কার করে। এটি যেমন প্রগাঢ়, চিত্তাকর্ষক, তেমনি অনুভূতির আন্ত:বুনটের নানা স্তরকেও অনায়াসে ধারণ করে। এই দৃশ্যমানতা দর্শকের মনে একটি চমক-জাগানিয়া আবহের সৃষ্টি করে। কল্পনাজগতের ধাঁধার জট যেন খুলে যেতে থাকে। এই আকর্ষণ-প্রবণতার গুণে রোকেয়ার চিত্রকর্মের সঙ্গে দর্শক যেন একাত্ম হয়ে পড়েন সহজেই। তাঁর কিছু চিত্রকর্ম আমাদের যেন প্রবল জোয়ারের পর তীরের মাটিতে ঢেউয়ের পড়ে থাকা দাগের কাছে টেনে নিয়ে যায়। এই জোয়ারভাটা, মাটিতে তার ছাপ রেখে যাওয়ার বিষয়টি হয়তো শিল্পীর স্মৃতিজাত। কেননা, তাঁর জন্ম বন্দর এবং সমুদ্রসৈকতের শহর চট্টগ্রামে। যে-কোনো শিল্পকর্মই তার স্রষ্টার ব্যক্তিসত্তাকে ধারণ করে। এই চিত্রকর্মগুলোও রোকেয়ার একান্ত আপন প্রাণোচ্ছল স্বভাবের খুব কাছাকাছি বলেই প্রতিভাত হয়।

রোকেয়া সুলতানা বাংলাদেশে নিজেকে একজন শক্তিশালী চিত্রশিল্পী হিসেবে অধিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়েছেন। একজন সক্রিয় ও অগ্রগণ্য চিত্রশিল্পী হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী চিত্রশিল্পী হিসেবে ১৯৯৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান বিয়েনাল পদকে ভূষিত হন। শান্তিনিকেতনেও কোনো বাংলাদেশি শিল্পীর একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী এই প্রথম। এখানকার কলাভবন থেকেই তিনি ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করেন। জীবন ও শিল্পের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন এবং আশ্রমের পরিবেশ-বৈশিষ্ট্যের একটি ছাপ সহজেই পরিলক্ষেত হয়। উপনিষদের উদ্ধৃতি দিয়ে নন্দলাল বোস তাঁর বইয়ে যথার্থই বলেছেন, এই মহাবিশ্ব আনন্দ থেকে উৎসারিত। এই আনন্দই সব উচ্ছ্বাস ও বেদনাকে ধারণ করে এবং ছড়িয়ে দেয়। শিল্পীরা এই সৃষ্টিশীল আনন্দময়তা থেকে কাজ করেন এবং এটিই নির্ধারণ করে কারো কাজ সৃষ্টিশীল বলে বিবেচিত হবে কিনা। একটি চিত্রকর্ম বা ভাস্কর্য যদি এই আনন্দময়তা থেকে সৃষ্টি হয় তা হলে এটি দর্শকের মনেও সে-অনুভূতি ছড়িয়ে দেবে। তখনই এই কর্ম হয়ে উঠবে সজীব ও অবিনাশী।

রোকেয়া সুলতানার ইনভিজিবল সিটিজের ক্ষেত্রে এটি সত্যি হয়ে উঠেছে। দর্শকের মনে তা সেনসেশনাল অনুভূতির জন্ম দিতে সমর্থ হয়েছে। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া চিত্রকর্মগুলোর ছিল এক উজ্জ্বল স্বাচ্ছন্দ্যময় চলিষ্ণু বর্ণচ্ছটা। কোনো-কোনো চিত্রে ভাসমান যে-ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে তা যেন অপ্রতিনিধিত্বমূলক শিল্পকে প্রতিনিধিত্বমূলকের সঙ্গে একীভূত করার পরিণতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। কোনো-কোনো পৃষ্ঠতলে ঘন সতেজ রঞ্জক ব্যবহৃত হয়েছে। কেন্দ্রাভিমুখ স্তরগুলোর দৃশ্যমানতা মানব অস্তিত্ব, সত্তা ও শিল্পের প্রকৃতির রহস্যময়তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। রোকেয়া সুলতানার এই প্রদর্শনীর পেইন্টিংগুলো রোমান্টিক স্পিরিটের। তা যেন জীবন ও ভালোবাসার চলমান গল্পেরই বর্ণনা দিয়ে চলেছে। শিল্পী আবেগকে শিল্পকর্ম হিসেবে রূপ দিতে দক্ষতার সঙ্গে টেম্পেরা ব্যবহার করেছেন। বৈশিষ্ট্য ও কৌশলগত দিক থেকে টেম্পেরায় স্তর ব্যবহার অপরিহার্য। এক্ষেত্রে রোকেয়াকে খুবই সাবলীল ও সিদ্ধহস্ত মনে হয়েছে।

প্রদর্শনীর শিরোনামটিই বুঝিয়ে দেয়, রোকেয়ার চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে অদৃশ্যতার একটি মেটাফোরিক ছোঁয়া রয়েছে। তাঁর চিত্রকর্মগুলোর বুনন এমন যে, তা কাঠামোগুলোর আত্মযোগাযোগ ও বর্ণচ্ছটার আরেক জগতে আমাদের আরো অন্য কিছু খুঁজতে বাধ্য করে। এ-জগৎ মানুষের বসতির ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্যযুক্ত। চিত্রগুলো যেন আমাদের প্রকৃতির উপাদান – মাটি, পানি, আকাশ, অগ্নি এবং শব্দের অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। শিল্পী নিজের সৌন্দর্যতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা এবং জীবনের সব নিগূঢ়তার পূর্ণ উপলব্ধি থেকেই তাঁর শিল্প সৃষ্টি করেছেন। নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাই তাঁর সব কাজের পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অভিজ্ঞতার ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যই তাঁর চিত্রকর্মকে পরিবর্তনশীল প্রকৃতিগতভাবে করে তুলেছে। প্রতিটি চিত্রকর্মই তাই দর্শকের জন্য আবেগী প্রতিক্রিয়ায় তাড়িত হওয়ার অনেকখানি ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।

পরিবেশ ও মানসিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর ব্যক্তিত্বেরও বদল ঘটে। রোকেয়া সুলতানার ‘ম্যাডোনা’ সিরিজের খোদাই ছাপচিত্রগুলোয় এ-বিষয় স্পষ্ট। একজন আত্মবলীয়ান নারী হিসেবে একেক সময়ে একেক আবেগজাত তাড়নায় তাঁর মন আন্দোলিত হয়েছে। ম্যাডোনা মেরিরই উপস্থাপনা – কখনো একা, কখনো সন্তান যিশুকে সঙ্গে নিয়ে। এটি একটি আইকনোগ্রাফিক ইমেজ, যা সর্বজনীন ভালোবাসা, মাতৃত্ব ও নারীত্বকে প্রতিনিধিত্ব করে। একজন কর্মজীবী মা ও শিল্পী হিসেবে ম্যাডোনার মধ্য দিয়ে রোকেয়া সুলতানা আসলে যেন নিজেকেই প্রতিবিম্বিত করেছেন। এই এচিংগুলোয় অনেক আবেগী চাঞ্চল্য ও তৎপরতার উপস্থিতিও তাই লুক্কায়িত থাকে না। শিল্পী তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া নারীদের সঙ্গে সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। জীবন শুধু সংগ্রাম নয়, বহু বিশ্বাস এবং স্বপ্নেরও সমষ্টি। তাই রোকেয়ার চিত্রকর্মে রং সব সময়ই উজ্জ্বল ও স্পন্দনশীল। কল্পনা তাঁর সৌন্দর্যের বোধকে শিল্পে রূপ দিয়েছে। ট্যাবু ও বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার তাঁর প্রতীতিও সুস্পষ্ট। একজন স্বাপ্নিক ও গল্প বলিয়ের স্পিরিট থেকে তিনি যা উপলব্ধি করেন, তা-ই ধরে রাখেন নিজের চিত্রকর্ম ও ছাপচিত্রে। রোকেয়া নিজেই বলেছেন, ‘আমার আবেগ, অনুভূতি ও চর্চা আমার কাজের মধ্যে গভীরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।’

রোকেয়া সুলতানা ২০১২ সাল থেকে ফুলব্রাইট রিসার্চ ফেলো হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইনের সিকাডা প্রেসের সঙ্গে নিয়োজিত রয়েছেন। ছাপচিত্রের অনন্য একটি কৌশল আবিষ্কারেরও কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে, যার কেতাবি নাম প্রেশার প্রিন্ট। এতে স্টেনসিল ও নির্দিষ্ট অবজেক্টটি সরাসরি কাগজের ওপর ছাপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ছাপচিত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিশ্ব জুড়ে ছাপচিত্রশিল্পীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোকেয়ার উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ বিষাক্ত পদার্থমুক্ত। এতে ছাপশিল্পের সহজাত সূত্রটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি হলো ইমপ্রেশন। বিশ্বভারতীর প্রিন্টমেকিং গ্রাফিক আর্টের শিক্ষার্থীদের রোকেয়া এই কৌশলটি শিখিয়ে থাকেন। জীবনে কিছু-কিছু মুহূর্ত একবারই আসে, যার পুনরাবৃত্তি কখনো ঘটে না। রোকেয়ার প্রতিটি ছাপশিল্পই যেন এমন স্বতন্ত্র। তাঁর এসব কাজ দর্শকের মনোজগতে এক দুরন্ত গতির বোধ তৈরি করে। অন্য এক মহাজাগতিক চেতনা সৃষ্টি করে। চূড়ান্ত হিসেবে এসব শেষ পর্যন্ত প্রকৃতিরই জ্যামিতিক রূপ মাত্র। তাঁর ছাপচিত্র তৈরির কৌশলে চাক্ষুষ অনুভূতি ও সার্বক্ষণিক গতির শক্তিমত্তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। বিভিন্ন পুনরাবর্তনশীল ফর্মের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া একটি ডায়নামিক স্পেসের দিকেই ধাবিত হয় যেন। প্রতিটি শিল্পকর্মই আমাদের নিজস্ব মনোজাগতিক এক মহাবিশ্বের প্রতিবিম্ব; তা যেন দর্শকের চিন্তা, সময় ও স্পেস জুড়ে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের নিজের ভেতরে বাস করা এক অদৃশ্য শহরের কল্পনাজাত তাড়নাকে ধারণ করে চিত্রকর্মগুলো।

অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রেও নিজের শিল্পচর্চার পরিধির বিসত্মৃতি ঘটিয়েছেন রোকেয়া সুলতানা। এখানে তিনি যোগ করেছেন ডিজিটাল প্রযুক্তি, যা হয়ে উঠেছিল প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ। এটি সিরিয়াস পরীক্ষণের প্রতি শিল্পীর আসক্তিরই জোরালো প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি এ-যুক্তিকেও উপস্থাপন করে যে, শিল্পের কোনো যতি নেই, কোথাও গিয়ে থমকে যাওয়ার কিছু নেই। এটি শুধু তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের রূপান্তর ঘটিয়ে থাকে। রোকেয়ার এই শিল্পকর্মগুলোয় এক ধরনের গতিময়তা এবং কালচক্রের উপস্থিতি ধরা পড়ে। একটি চিত্রকর্ম ও মাধ্যমই শেষ নয়, বরং এটি সূচনাবিন্দু মাত্র। তিনি এমন একজন প্যাশনেট শিল্পী, যিনি কাজ এবং জীবনকে উপভোগ করেন একই সঙ্গে; যা তাঁকে উপনিষদের সেই আনন্দের কাছে নিয়ে যায়।

রোকেয়া সুলতানার বই অলংকরণ-দক্ষতাও আমাদের বিমোহিত করে। এই কাজগুলো এত অন্তরঙ্গ যে, দর্শকের জন্য তা হয়ে ওঠে অংশগ্রহণমূলক। এখানে কোনো বর্ণনা নেই, তবু চরিত্রগুলোর মধ্যে অ্যালিগরি প্রকাশ্য। এই কাজগুলোয় প্যাটার্ন, ইউনিটি, ভারসাম্য ও ছন্দের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে এগুলোয় এক ধরনের ধ্যানমগ্নতার আবেশ এসেছে। বইগুলোর কাঠামো গঠনে জ্যামিতির ব্যবহার করা হয়েছে সযত্নে।

প্রথিতযশা এই শিল্পীর কাজে স্বাধীন, স্বাতন্ত্র্যের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। মানুষের মিথস্ক্রিয়ায় সব সময়ই দেখা, বোঝা ও বিশ্বাসের মধ্যে ফারাক থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এই ফারাকই এই অদৃশ্য শহরকে আমাদের ব্যক্তিত্বের অংশে পরিণত করেছে। কিছু অনুধাবন না করেই আমরা তাদের সঙ্গে পরিভ্রমণ করি। রোকেয়া সুলতানার কাজ আমাদের ভেতরে বসতি গড়া এক কল্পনার শহরকে উপলব্ধির চেষ্টাকে জাগ্রত করে। এই অভিজ্ঞতা আমাদের চিন্তা ও চর্চার সঙ্গে সৃষ্টিশীলতার সম্ভাব্য বৈপরীত্যের একটি জগৎকেও উন্মুক্ত করে দেয়। সৃষ্টির মধ্যে লুক্কায়িত আনন্দের ছন্দটি একজন শিল্পী হিসেবে রোকেয়া সুলতানা সাফল্যের সঙ্গে ধরতে পেরেছেন। তাঁর কাজগুলো যেন এক অতল মহাসাগর, এক বিপুল মহাবিশ্ব – যা মানুষকে তার কৌতূহল দিয়ে উদ্ঘাটন করতে হয়, আবিষ্কার করতে হয়। রোকেয়া সুলতানার মতো শিল্পীরা এমন এক জগতে বাস করেন, যেটিকে স্টেট অব দ্য আর্ট নামেই ডাকা যায়। 