লিবার্টি, স্ট্যাচু কিংবা অসহায় মুসলমানদের কথা

লেখক:

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর 

 

যেখানে লিবার্টি মানে স্ট্যাচু

সাজ্জাদ শরিফ

 

সন্দেশ

ঢাকা, ২০০৯

 

৭৫ টাকা

 

সাজ্জাদ শরিফ-সৃজিত গ্রন্থ যেখানে লিবার্টি মানে স্ট্যাচু মূলত এক বাসনার নাম, যাতনার নামও হতে পারে কিন্তু এর মূল ভাষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মুসলমান সম্প্রদায় ও মুসলমান-অধ্যুষিত দেশগুলোর ভেতরকার সম্পর্ক যাচাইকরণ এবং তা থেকে উত্তরণের এক নিপুণ প্রচেষ্টা। মাত্র সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার ছয়টি প্রতিবেদনধর্মী নিবন্ধের স্বল্পায়নের এ-বই পাঠককে ভাবাবে, – তার ভাবনাকে পুনর্নির্মাণই করবে বলা যায়। বহু দিক গ্রন্থটিতে উঠে এসেছে। তাতে নিজেকে নতুনভাবে দেখার বিষয় যেমন আছে, আছে নিজেকে আবিষ্কারের এক প্রণোদনাও। গ্রন্থটির ভেতর দিয়ে উপস্থাপনার আলাদা একটা নিপুণতা তো আছেই। তাই এসব নিয়ে বিস্তৃত কিছু কথন হতেই পারে।

আমরা বরং গ্রন্থটির একেবারে প্রথম নিবন্ধ ‘এশীয় মুসলমানদের চোখে আমেরিকা রাষ্ট্রটা কেমন’-এর কিছু অংশ পাঠ করি, তাহলে গ্রন্থটির মূল উদ্দেশ্য কিছুটা হলেও জানা যাবে, – ‘আমরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব কিছু সাংবাদিক একত্রিত হয়েছিলাম প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে, হাওয়াইয়ের হনলুলুতে। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এসেছিলেন কিছু সাংবাদিক। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের দৌত্যে এ-সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলমান-অধ্যুষিত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা। এই দুই ভূখন্ডের সম্পর্ক নানা পটভূমি থেকে বোঝানোর জন্য ছিল আরও বিস্তর আয়োজন; রাজনীতিক-আমলা-বুদ্ধিজীবী-সমাজকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, গণমাধ্যম আর ধর্মশালা পরিদর্শন, ঐতিহাসিক ও অভিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় ভ্রমণ, আরও কত কী! এতকিছুর পেছনে ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টার-কর্তৃপক্ষের সুদূর আকাঙ্ক্ষাটুকুও একেবারে চাপা ছিল না। তারা আশা করেছিলেন, সবকিছুর শেষে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মনের গভীরে হয়তো ঘাই মারতে থাকবে ভিন্নতর উপলব্ধি, নবতর ভাবনা, এক অন্য যুক্তরাষ্ট্রের ছবি।’

এটা সত্যি যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুসলিম দেশ তথা মুসলমান সম্প্রদায়ের সম্পর্কটি অতি জটিল আর অসহিষ্ণু পর্যায়ে আছে। কিছু কার্যক্রমের ফলে মুসলমান সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্রকে এক নম্বর শত্রুও মনে করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতির ফলে তা ক্রমান্বয়ে জান্তব পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সে-বিষয়গুলোই বিভিন্ন কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে এখানে আরো স্পষ্ট হয়েছে। আমরা জানতে পারি, প্রথমেই সাংবাদিকদের ভেতর আলোচনা দিয়ে এর কাজ শুরু হয়। আশরাফ আলী নামের বিবিসির পেশোয়ারের প্রযোজক মনে করছেন যে, এ-দ্বন্দ্ব প্রাচীন সংঘর্ষের আধুনিক রূপান্তর। এ-সম্পর্কীয় ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকই তার প্রমাণ দেবে। তাতে আছে দেশ দখলের ইতিহাস। একসময় মুসলমানরা যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, এ যেন তারই একধরনের প্রতিশোধ। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ছিল অপরিহার্য। ক্রমান্বয়ে তা মূলত ইসলামি রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখানে লেখক তাঁর বক্তব্যে স্যামুয়েল হান্টিংটনের বিখ্যাত সেই ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্বের সুর শুনতে পান! আবার কলকাতার সাংবাদিক শাহীদ আহমেদের কথায় খানিক যুক্তরাষ্ট্র-বান্ধবতার ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। তা তো অন্য সাংবাদিকরা মানেন না। ফলে হইচইয়ের মতোও হয় তখন। এভাবে নানা কথার ভেতর দিয়ে আত্মসমালোচনাও হয়। মুসলমানরা যে ভুল নেতা নির্বাচন করেছে, তা নিয়ে কথা চলে। ধর্মীয় উগ্রবাদীরাও তাদের স্বার্থের লড়াই সব সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। তাতে কেউ কেউ হুল্লোড়ে মেতেও যাচেছ! এ থেকে পরিত্রাণের নানা কথাই সেখানে বেশি করে জায়গা পায়। এর দ্বিতীয় নিবন্ধ ‘ইরাকের অতীত আছে, ভবিষ্যতে’ ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আক্রমণের কথা স্থান পেয়েছে। কবে জর্জ বুশের এ জান্তব খেলা যে শেষ হবে, তা নিয়ে কথা হয় – যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও তাকে সহজভাবে নিচ্ছে না, তার প্রমাণও আমরা পাচ্ছি। একজন গাড়িচালকও তাকে ‘সাদা তালেবান’ বলছেন! সবই যে সাম্রাজ্যবাদী প্রবণতার ফল, তাও আমরা বুঝতে পারি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যতই সাদ্দামের স্বৈরতন্ত্র বিনাশের কথা বলুক, তাদের তেলের লোভ, অস্ত্রের লোভ, মাতববরির লোভই একেবারে স্পষ্ট হচ্ছে। তখনকার বুশের জনপ্রিয়তায় ধস নামার কারণ যে এ অন্যায় আচরণ, তাও লেখক স্পষ্ট করেছেন। তার অবজারভেশন খুবই চমৎকার। এশিয়ার কথিত কিছু মুসলমান সাংবাদিকের চোখে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখার বিষয়টা খুবই যথার্থ লেগেছে। আসলেই তো যুক্তরাষ্ট্রের জান্তবতার শেষ নেই। তবে তাদের দেখার ধরন মানে সেমিনার, ধর্মশালা দেখা, রাজনীতি-গণমাধ্যমকথন ইত্যাদি বেশ দরকারি কাজ হয়েছে। আশরাফ আলী আর শাহীদ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এ যেন প্রাচ্য-প্রতীচ্যের ভেতর সদাজাগ্রত এক যুদ্ধংদেহী অবস্থা। আর সবকিছুর নাটের গুরু তো যুক্তরাষ্ট্রই। লাদেন কিংবা ইরাককে নিয়ে তারা কী খেলাটাই না খেলল। তাদের খেলার কোনো কূল-কিনারা আছে বলে মনে হয় না। ইসরায়েলকে তারা কত জঘন্যভাবেই না লালন করছে।

‘সত্য, তথ্য ও মত্ত গণমাধ্যম’ নামের নিবন্ধে অতি চমৎকার কিছু বিষয় আমরা পাঠ করি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারমাধ্যম কর্তৃক মুসলমানদের গড়পড়তাভাবে সন্ত্রাসী দেখানোর প্রবণতা তো আছেই, তার নানান স্তরও আছে। একেবারে স্কুলের ছেলেপেলেরাও তা-ই জানে। এর প্রকৃত চেহারা বা অল্টারনেট কারণ তারা খুব একটা খোঁজেন না। ১১ সেপ্টেম্বরের পর তা একেবারে উলঙ্গ আকারে প্রচারিত হচ্ছে। এতে ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। তাতে অন্য কথাও উঠে আসে – আমরা এও জানতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্র যেন পরিকল্পিতভাবেই তা করছে। মার্কিন পত্র-পত্রিকা তা কৌশলে প্রচারও করছে। বাজারমূল্য হিসেবেও তা প্রচার পাচ্ছে। মুক্তচিন্তার মানুষরাও সেখানকার বাণিজ্যের কাছে প্রায় অসহায় হয়ে আছে। এশিয়ান সাংবাদিকরা এসব আলোচনায় হইচই করতে থাকেন। মূল সমস্যা হচ্ছে চাওয়ার ওপর, মনের আকাঙ্ক্ষার ওপর নিয়ত পালটানো দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর কত যে বাজে অবস্থা! কীভাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদের মেজাজ বানাচ্ছে! সবখানেই মুসলমানদের হেয় করার প্রচেষ্টা। আসলে প্রচারণার মনোভাবই মূল বিষয়। মন শুদ্ধ করতে না পারলে কিছুই হবে না। এজন্য ওয়াজ নসিহত করেও কিছু হয়তো হবে না, দরকার ব্যবস্থাপনার ব্যাপক পরিবর্তন। তা তো একদিনে বা একসময়েই হবে না, অনেক ত্যাগের দরকার।

‘ধর্মে ধর্মে কথাবার্তা’ নামের লেখাটি খুবই চিত্তাকর্ষক। এখানে সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধর্মের ভেতরকার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন। ডেট্রয়েট অব ট্যাম্পলস বেথে ইহুদিদের একটা ধর্মালয়ে যান তারা। সেখানকার গুরুগম্ভীর চমৎকার বর্ণনা পাই আমরা। নুহের নৌকা উলটো করে কল্পিতভাবে করা স্থাপত্য মুগ্ধ করার মতোই জিনিস। তাদের অভ্যর্থনা জানান ইহুদি নেত্রী শেরি শিফ। অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা হয় সেখানে। ধর্মে ধর্মে সহনশীলতা বাড়ানোর কথাও হয়। তবে খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, এ-সিনাগগের ভেতরেই পেছনদিকে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলি পতাকা রাখার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দৃশ্যত তারা দিতে পারেন না! এ-অবজারভেশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘মার্কিন মুলুকে বাংলাদেশ নিয়ে কয়েক পশলা’ নামের নিবন্ধে মজাদার কিছু আলোচনা আছে। বাংলাদেশ নিয়ে নানান কৌতূহল, দেখার বা জানার আকাঙ্ক্ষা বেশ মজাই লাগল। লেখকের দেখানোর কৌশলে তা আরো প্রাণময় হয়েছে। হাসিনা-খালেদা, দুর্নীতি, এরশাদ, জান্তবনীতি সম্পর্কে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। চীন আর ভারতের উত্থানকালে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ তো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির থাকতেই পারে। রাজনীতি বলে কথা! লেখকের রসবোধ এখানে ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবজারভেশন প্রকাশ পেয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভেদ’ নামের লেখায়। লেখাটির বর্ণনাশৈলীও অত্যন্ত চমৎকার। মূল লেখাটি ছিল ইংরেজিতে, এখানে তার তর্জমা পড়ি আমরা। আমরা তো যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু একটা ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবেই চিনি না, এর তো সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক, জাদুকরী একটা ইতিহাসও আছে। আমরা আব্রাহাম লিংকন, অ্যালেক্সিস দ্য তকভিল, মার্টিন লুথার কিং, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, ম্যালকম এক্সের মতো চমৎকার সব ব্যক্তিত্বের কর্মযজ্ঞের ভেতর দিয়ে আলাদা ইতিহাস দেখি। হলিউড আর ফ্যাশনজগতের বৈচিত্র্যের কথাও হয়তো এখানে স্মরণ করা যায়। সব মিলিয়ে একটা দারুণ কৌতূহল তো আমাদের আছে। কিন্তু তা তো জান্তবরীতির কারণে আমাদের কাছে ভিন্ন চেহারায় দেখতে হচ্ছে। তারা যেন সবই নিজের মুঠোয় রাখতে চায়। তাই বলে মানুষ তো আর মাথা নত করে তার কাল পার করতে পারে না। মানুষ তার বিবেক-বুদ্ধি-চৈতন্য দিয়ে কাজ করে বলেই সে মানুষ। জনে জনে সহমর্মিতা দরকার, পরস্পর মতবিনিময় দরকার, ধর্মীয় জঙ্গিদের বিষয়ে আরো ইতিবাচক কিছু কাজ করা দরকার। আমরা এখানেই স্মরণ করব যে, লিবার্টি মানেই তো স্ট্যাচু নয়। এর অন্তর্গত শক্তিকেই তো স্পষ্ট করে যথাযথ মমতা দিয়ে লালন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী অদ্ভুত দেশপ্রেমকে (!) চিহ্নিত করতে হবে। এ-দেশকে মানুষের নাগালে আনতে হবে। আলাদা জাতি হওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই। এটা তো নিজেই এক মিশ্র জাতি। পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষই তো সেখানে যাচ্ছে। সেখানকার নাগরিকরা জাত্যাভিমানে মত্ত থাকলেও অনেকেই মানবিক হতে চায়। তারা গণমাধ্যমের প্রকৃত মানবিক চেহারা চায়। সেখানকার সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। তারা সংবিধান, প্রতিষ্ঠান আর সংস্কৃতির শোধন চায়। ক্রমান্বয়ে এর অন্তর্জগৎ বদলে যাচ্ছে, – মার্কিন সরকার আর মার্কিন জনতার ভেতর ফারাক দেখা যাচ্ছে। এটাই  এ-গ্রন্থের সবচেয়ে দরকারি আর আশাবাদী এক অবজারভেশন। আমরাও এ-ধ্বনি আর তর্ককে সাধুবাদ জানাই।

তবে এক-দুদিনে বা দুই-এক কথায় সব ঠিক হয়ে যাওয়ার নয়। এর জন্য সাংস্কৃতিক লড়াইটা লম্বা সময় নিয়েই করতে হবে। এটাও সত্যি যে, কোনো কোনো মুসলমানের মধ্যে সহমর্মিতা নেই, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও কম। মিশর আর সিরিয়ার সঙ্গে তো বাংলাদেশকে এক করা যায় না। আরব জাতিসমূহের অনেকেরই তোষণনীতি আছে। তাদের আধুনিক গণতন্ত্রের তেমন কিছুই নেই। একধরনের প্রভুবাদ ছাড়া তারা কিছুই যেন জানে না। তাদের অনেকেই বাংলাদেশের মানুষকে মিসকিন মনে করে। যুক্তরাষ্ট্রকে সদাই তোষণ করতে চায়।

সবচেয়ে বড়ো কথা, একধরনের আবহ গ্রন্থটিতে আছে, যেখানে মানুষের মুক্তির স্পষ্ট কিছু বক্তব্য পাওয়া যায়। লেখকের বলার ধরন বেশ উপভোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কলোনিয়াল জান্তবতার যে-অনুসন্ধান তিনি করেছেন, তা খুবই শ্রুতিগ্রাহ্য। আবারো ঘুরেফিরে একই জায়গায় আসতে হয়, সবকিছুর মানবিক চেহারা তো একদিনে বা এককথায় বা এক গ্রন্থে আসে না। তবে আমাদের চর্চার জায়গাটা ঠিক করে নিতে হবে। এমন একটা সেনসিটিভ, অতি-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলাও খুব সহজ বিষয় নয়। সেখানে তিনি ভালোভাবেই তার মনোবাসনা প্রকাশ করতে পেরেছেন।                     সে-জায়গায় চমৎকার বর্ণনাশৈলী-সংবলিত এ-গ্রন্থের অনেক অবজারভেশন অবশ্যই প্রয়োজনীয় কর্মযজ্ঞ বলে আমরা মনে করি।