হৈমন্তিকা

প্রবালকুমার বসু

ভেবে দেখেছি গত সাঁইতিরিশ বছরে আমার

যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, আলাপ হয়েছে

তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আমার পরেও একাধিকবার দেখা হয়েছে

শুধুমাত্র হৈমন্তিকা ছাড়া

 

হৈমন্তিকার সঙ্গে আমার আলাপ সেই কত কত বছর আগে

ঠিক কোথায় এখনই মনে করতে পারছি না

বোধহয় আলো কমে এসেছিল

হয়তো দু-এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছিল, না-ও পড়তে পারে

যতদূর মনে পড়ে একটা গলির বাঁকে

কে বা কারা আলাপ করিয়ে দিয়েছিল

সে-কথা আজ অবান্তর

 

আমিও হৈমন্তিকাকে ভুলেই গিয়েছিলাম

ওর মুখটাও ঠিক মনে নেই

হয়তো দেখা হলে চিনতেও পারব না

সত্যি কথা বলতে কী, আমি যে খুব চাই ওর সঙ্গে দেখা হোক

তা-ও নয়

তবু যেন মনে হয় দেখা হলে মন্দ হতো না

ভিতরটা হু-হু করে ওঠে

যে-কথাগুলো কখনো কাউকে বলতে পারিনি

জমে জমে পাথর

হয়তো সেই পাথর সরিয়ে উপচেপড়া ঝর্ণার মতো

বলে ফেলতাম কিছু কথা

একটু হালকা হওয়া যেত

 

মানুষ তো একটু হালকা হতেই চায়

কিন্তু যাকে বললে হালকা হওয়া যায়

তার সঙ্গে তো দেখাই হয় না

দৈবাৎ দেখা হয়ে গেলেও চিনতে পারে না

Leave a Reply

%d bloggers like this: