তেলে বেগুনে

লেখক: কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায়

সৃজাকে দেখে গুঞ্জার মাথা গরম হয়ে গেলেও হাসিমুখে ঘরে ঢুকতে বলল। তার হাতে বেসন মাখা।
সৃজা বলল, ‘তুমি আগে থেকেই ভেজে রেখেছ নাকি? তবে তো সব এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গেছে।’
‘না না, সবে তো বেসন মাখছি। বেগুন কেটে রেখেছি। গরম গরম ভেজে দেবো।’
সৃজা হাসল। ‘আমি ভাবতে পারিনি মায়ের পাঠানো বেগুনগুলি তুমি এত ভক্তিভরে নেবে। মাকে ফোন করে বলি তোমার কথা। বেগুনির ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেবো। লিখে দেবো কত যতœ নিয়ে বেগুনের রকমারি রান্না করছ। মা তোমাকে দু-হাত তুলে আশীর্বাদ করবে।’
সৃজার কথা শুনে বেসন ফেটানোর জন্য গামলার ভেতর তার হাত চরকির মতো বনবন করে ঘুরতে লাগল। সেদিকে তাকিয়ে সৃজা বলল, ‘আস্তে আস্তে। অত জোর লাগাকে হেইওর দরকার নেই। বেসন তো সুন্দর ফেটানো হয়েছে।’
হাত কি এমনি এমনি জোরে ঘুরছে। ঘুরছে রাগে। কাউকে বলতে না পেরে মাথাটা গরম তাওয়া।
পরশু পাঁচ কেজির মতো বেগুন এনে সৃজা বলল, ‘আমাদের ক্ষেতের বেগুন। মা পাঠিয়েছে। তোমার রান্নার প্রশংসা করেছিলাম। শুনে বলল, তুই তো বেগুনের কোনো রান্নাটা ভালো করে শিখলি না। গুঞ্জাকে দিলাম। বলিস বেগুন দিয়ে নানা পদ রান্না করে তোদের খাওয়াতে। বেগুন দিয়ে যে কত রকম রান্না করা যায় সেটাও ওর কাছে তখন শিখে নিস।’
রান্না শিখবে না ঘণ্টা। সেদিন থেকে সৃজা ওর বর আর মেয়েকে নিয়ে দুবেলা খাওয়ার আগে হাজির হচ্ছে। বেশ খানিকক্ষণ হা-হা, হি-হি করে খেয়ে-দেয়ে চলে যাচ্ছে। সৃজার বর তো আবার এককাঠি ওপরে। সে গুঞ্জার হাতের রান্না ছাড়া খাবে না।
একদিন একবেলা হলে আপত্তি ছিল না বরং খুশিই হতো। এখন সন্দেহ হচ্ছে। সৃজার বাপের বাড়িতে সত্যিই বেগুনক্ষেত আছে কি না। এটা নিশ্চয়ই গুঞ্জার সঙ্গে শত্রুতা। বেগুনগুলি দিয়ে যেভাবে রোজ রোজ খাবার আগে এসে তাঁবু খাটাচ্ছে তাতে জেরবার অবস্থা।
অঢেল তেল খরচ। তারপর বেগুন ভাজা থেকে শুরু করে বেগুনি, বেগুন পোস্ত, বেগুন সরষে, বেগুন ভর্তা, বেগুন ইলিশ রান্না করে খাইয়ে নিজে খেয়ে পেট গরম হয়ে যাচ্ছে গুঞ্জার। একদিন স্বপ্ন দেখল পাঁচ কিলো বেগুন দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে আসছে। আতঙ্কে বাকি রাতটায় ঘুম আসেনি। রাগে-হতাশায় একবার এ-পাশ, আরেকবার ও-পাশ। এরপর কেউ যদি রান্নার প্রশংসা করে তবে রাগে গা-জ্বালা করে। মোটেই ভালো লাগে না। মুখ দর্শন করতে ইচ্ছে করে না তার।

এই আবাসনে গুঞ্জা যখন আসে, তখন প্রথমেই আলাপ হয়েছিল সৃজার সঙ্গে।
আগের দিন রাত অবধি গোছগাছ করেছে। সাধন গুঞ্জার পরিশ্রম দেখে বলেছিল, ‘কদিন ধরে যা করছ, এতসব করার দরকার ছিল না। যারা মালপত্র নিয়ে যাবে ওরাই সব গুছিয়ে নেবে। তখন নজর রাখলেই হবে।’
খর চোখে তাকিয়ে গুঞ্জা বলেছিল, ‘অত ফুট কেটো না।’ সাধন বুঝবে কী করে। সেদিন এমন বাছাই করল, ভাগ্যিস সে একবার দেখে নিয়েছিল, না হলে তো সবই সুইপারের ডাব্বায়। গুঞ্জা সেখান থেকে পেয়েছে চারটে কাপড় শুকাতে দেওয়ার ক্লিপ। সেফটিপিন পাঁচটা।
সেদিকে তাকিয়ে সাধন হেসে বলেছিল, ‘কোনো মানে হয়, তুমি আবার ওই নোংরায় হাত দিতে গেলে কেন? পরে ওসব দু-তিন ডজন কিনে নিতে।’
‘তুমি আর কথা বলো না। সংসারটা আমাকে চালাতে হয়। ফ্ল্যাটটা করতে আমাদের চারদিকে ধারদেনা। এখন একটু বুঝেশুনে চলতে হবে।’ গুঞ্জা বলল।
সাধন চুপ করে গিয়েছিল। ফ্ল্যাটটা নেওয়ার পেছনে ওর অবদান কিছু কম নয়। কীভাবে, কোথা থেকে টাকা জোগাড় করবে এসব ভেবে যখন মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা, তখন গুঞ্জা সবসময় পাশে থেকে সাহস দিয়েছে। সাধন আজকাল সহসা কিছু বলে না। তবু স্বভাব। বলতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসতে হলো।
সে ব্যস্ত ছিল আলো, পাখা, ডোরবেল এসব নিয়ে। মিস্তিরিদের সঙ্গে।
দুপুরে কফি আর বিস্কুট দিয়ে ডাকল গুঞ্জা। বলল, ‘সন্ধ্যায় ভাত করে নেব। এখন কিছু পারব না।’
কফিতে চুমুক দিয়ে সোনামুখ করে সাধন বলেছিল, ‘ঠিক আছে।’
ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দেখল একটু একটু করে এক বেলাতেই অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে গুঞ্জা। উৎসাহে এলিয়ে দিলো, তখনই ডোরবেলের শব্দ।
‘দেখো না কে এলো।’ গুঞ্জা বলল।
এমন মৃদু কণ্ঠস্বর! সাধন মোহিত হয়ে গেল। ভাড়া বাড়ি ছাড়তে পেরে গুঞ্জা এত খুশি!
শুয়ে ছিল সাধন। সেও কম ক্লান্ত নয়। তবু উঠল। সাধন কোনো বিষয়ে নাক গলায়নি। গুঞ্জা নিজের মতো করে সব করে নিয়েছে। ওর মোলায়েম কণ্ঠস্বর নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।
দরজা খুলে দেখল একজন মহিলা। হাতে ব্যাগ। মেজাজ তিরিক্ষি করেই বলল, ‘এখন কিছু লাগবে না।’
‘লাগবে কি লাগবে না আমি বুঝব। ম্যাডামকে ডাকুন।’
গুঞ্জাকে ডাকল সাধন। দু-হাতে খোঁপা জড়াতে জড়াতে এলো সে।
ঘরে ঢুকে সোফায় বসে মহিলা বলল, ‘আমি সৃজা। তোমার নাম কী?’
খানিকটা হকচকিয়ে গিয়েছিল গুঞ্জা।
ওর মুখের অবস্থা দেখে হেসে ফেলল সৃজা। বলল, ‘তোমার মুখোমুখি ফ্ল্যাটেথাকি। ভয় পেও না। আমি ছেলেধরা নই যে তোমার এই হ্যান্ডসামটিকে নিয়ে পালাব।’
এ তো গায়ে পড়া নয়! কাঁধে উঠে বসা। সে ভীতু নয়, এটা বোঝানোর জন্য বলল, ‘আমি গুঞ্জা। লাটাই শক্ত হাতেই ধরা।’
শুনে খিলখিল করে হেসে উঠল সৃজা। বলল, ‘বেশ সুন্দর কথা বলো তো। নিশ্চয়ই খাওয়া হয়নি। খাবার এনেছি। খেয়ে নাও।’
খেতে খেতে নানা গল্প। সৃজা বলল, ‘কত বাড়ি পালটেছি আমরা। কম হেপা! রান্না করতে ইচ্ছে করে না।’
গুঞ্জা যখন টেবিল পরিষ্কার করছিল সৃজা সাধনের সঙ্গে কথা বলেই চলল।
ঘনঘন হাই তুলছিল সাধন। তার ঘুম কম। অন্যদিন গুঞ্জা ঘুমোলে সে ম্যাগাজিনের পাতা ওলটায়। সৃজা সাধনের অত হাই তোলা দেখে বলল, ‘আমি উঠি।’
শুতে গিয়ে গুঞ্জা সাধনকে বলল, ‘তোমার খুব ঘুম পেয়েছে?’
‘না তো!’
‘অত যে হাই তুলছিলে?’
‘হাই না তুললে তোমার নতুন বন্ধু সহজে যেত? তোমার তো বিশ্রাম দরকার।’ সাধনের কথা শেষ হতে দুজনেই হেসে ফেলল।
খালি বাসনপত্র ফেরত দেওয়া যায় না। পরদিন রোববার। মন দিয়ে রান্না করল গুঞ্জা। ছুটির দিন। খাবার নিয়ে দিয়ে এলো সৃজাকে।
সন্ধ্যায় সৃজা এলো বর রীতেশ আর মেয়ে টুনাকে নিয়ে। রীতেশ গুঞ্জার রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এ-কথা সে-কথা হয় তারপরই রান্নার প্রশংসা। শুনতে কার না ভালো লাগে। সেই থেকে বন্ধুত্ব।
সৃজা কিছু কিনলে গুঞ্জাকে দেখাবেই। দরকার না থাকলেও গুঞ্জা বাধ্য হয় কিনতে। দেখাতে হয় সৃজাকে। কিনতে হয় ওর চেয়ে দামি কিছু। যা দেখলে সৃজার দুচোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে।
সৃজাও কম যায় না। সেও কিনতে থাকে এটা-সেটা। বুঝিয়ে দেয় সে হেরে যাওয়ার পাত্রী নয়।
একদিন সৃজা এসে আহ্লাদে গলে জল হয়ে জানাল, ওরা ইউরোপ ট্যুরে যাবে। মুখোমুখিই তো থাকে, ফ্ল্যাটের দিকে যেন একটু নজর রাখে।
ফিরল মাসখানেক বাদে। মিষ্টি নিয়ে এলো। বলল, ‘ইউরোপের মিষ্টি।’
গুঞ্জা বলল, ‘মিষ্টিটা দেখে মনে হচ্ছে নর্থ ক্যালকাটার। ‘ন’ দিয়ে কী যেন নাম দোকানটার? ওখানকার মতো।’
একটু হকচকিয়ে গেল সৃজা। বলল, ‘কলকাতার মিষ্টির নকল তো এখন সব দেশই করছে। খেলেই বুঝতে পারবে ইউরোপ ইউরোপ গন্ধ আছে।’
দুদিন পরে গুঞ্জা বলল, ‘যে-ঝামেলায় পড়েছি কী করে উদ্ধার পাই বুঝতে পারছি না।’ কথাটা বলে মুখ ব্যাজার করে রইল।
‘কেন? কিসের ঝামেলা?’ সৃজার কণ্ঠস্বরে উৎকণ্ঠা। ‘গ্যাস ফুরিয়ে গেছে?’
‘না, না। গ্যাস ফুরালে তুমি তো আছই। অন্য ঝামেলা।’
‘তবে? চুপ করে না থেকে চট করে বলো না। আমি আর টেনশন নিতে পারছি না।’
‘দেখো না, সাধনের যে কী খেয়াল। বলছে চীনে বেড়াতে যাবে। কোনো মানে হয়!’
মনে হলো সৃজার মুখে কালি ঢেলে দিলো কেউ। সামলে নিয়ে বলল, ‘সে তো ভালোই। একটু এদিক-ওদিক না গেলে মনটা ভালো থাকে না। চাঁদের পাহাড় দেখার পর থেকেই তো রীতেশ বলছে, খুব শিগগির আফ্রিকাটা ঘুরে দেখে আসতে হবে।’
গুঞ্জা ঢোক গিলল। বলল, ‘তবে বলছ। চীনে যাব?’
‘যাবে না মানে! আলবাৎ যাবে।’
‘চীন শুনলে আমার ভয় ভয় করে। মনে হয় কেমন যেন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব।’
সৃজা বলল, ‘কয়েকটা দিন তোমরা চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলিতে গিয়ে জমিয়ে খাও। দেখবে চীনে যাওয়ার ভয়টা কেটে যাবে।’
কথাটা বলে আর ফেরানো যায় না। বাধ্য হয়ে গুঞ্জা সাধনের সঙ্গে শান্তিপুরে শ্বশুরবাড়ি গেল। সেখানে শাশুড়ি আর ছোট জা তার কাছে চীনের চেয়ে কিছু কম ভয়ের নয়। সাধনকে অফিস করতে হলো ট্রেনের ভিড়ে যাতায়াত করে। অফিসে ঢুকতে হলো লুকিয়ে লুকিয়ে। রীতেশের সঙ্গে যদি অফিসপাড়ায় দেখা হয়ে যায় তবে প্রেস্টিজে গ্যামাকসিন।
দিন কুড়ির মাথায় তারা ফিরল। চোখেমুখে এমন ভাব ফুটিয়ে রাখল, যেন চীনের প্রাচীরের ওপরে তারা সবসময় হাঁটছে।
চাঁদনীর বাজার ঘুরে সাধন কিছু চায়নিজ খেলনা এনেছিল। সৃজার হাতে তুলে দিতে দিতে গুঞ্জা বলেছিল, ‘এগুলি টুনার জন্য এনেছি। ও খেলবে।’
সৃজা বলেছিল, ‘এগুলি তো কলকাতার ফুটপাতেও পাওয়া যায়। শুধু শুধু কষ্ট করতে গেলে কেন? এরকম খেলনা টুনার আলমারিতে আবর্জনার মতো জমে আছে। সুইপারকে ফেলে দেওয়ার জন্য বলতেই বেচারা কেমন আঁতকে উঠল। এসবের বদলে তুমি যদি আমার জন্য চীন থেকে শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ি গোটাকতক আনতে খুব ভালো হতো।’
সেদিন অনেক কষ্টে সৃজার খোঁচা হজম করেছে গুঞ্জা। তখনই আইডিয়াটা মাথায় এসেছিল। শিয়ালদা থেকে সাধনকে দিয়ে আটটা তাল আনিয়ে সৃজাকে দিয়ে বলেছে, ‘মা তোমাকে ভালোবেসে পাঠিয়েছে। বাড়ির গাছের।’
সেই তাল দিয়ে কম ঘোল খাওয়ায়নি গুঞ্জা। তাল ছাড়ানো থেকে শুরু করে নানা পদ সৃজাকে দিয়েই করিয়েছে। সন্ধ্যা হলেই সে হাজির হতো। টুনার সঙ্গে খেলত। গল্প বলত। রাইম শেখাত। সৃজা হয়রান হয়ে সাহায্যের জন্য ডাকলে টুনা বলত, ‘আন্টিকে ডেকো না মা। দেখছ তো খেলছি। আন্টি কেমন মজার গল্প বলছে।’
অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে সাধন আসত। রীতেশের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা মেরে তালের রকমারি পদ খেয়ে তারপর উঠত।
সে তাল দিয়েছিল তাই এখন বেগুন দিয়ে শোধ নিচ্ছে সৃজা। তেল খরচের সঙ্গে বেগুনের নানা পদ খাওয়ানোটা কি কম হেপার!
কেন যে প্রথমদিন সৃজার আনা খাবার খেল তারা! তারপর সেই যে বাটি চালাচালি শুরু হলো তা থামছেই না।
রীতেশের আজ পোস্ত বেগুনি খাওয়ার বায়না। একটা সিনেমা দেখে পোস্ত খাওয়ার ইচ্ছাটা হয়েছে। টুনা খাবে সুজি বেগুনি আর সৃজার চাই সাদাতিল বেগুনি। তিলকে তাল করে অনেকে। তিলবেগুনি খেতে চাওয়া কি তবে গুঞ্জা যে তাল দিয়েছিল তা মনে করিয়ে দেওয়া। তলে তলে এত!
বেগুনি ভাজতে গিয়ে মেজাজ ঠিক রাখা মুশকিল হচ্ছে। গুঞ্জা সৃজাকে ডাকলেও সে এখন আসবে না। সাধনের সঙ্গে বসে কী যে হা-হা, হি-হি করছে কে জানে! মনে হলো সাধনও কেমন যেন নিষ্ঠুরের মতো আচরণ করছে। ও কি এই সময় ঘনঘন হাই তুলতে পারত না!
রীতেশ বলল, ‘বউদি বিলম্বের আর কত দেরি?’
বোকা বোকা রসিকতায় গা জ্বলে যায়। গুঞ্জাকে সাড়া দিতে হলো। বলল, ‘এই তো হয়ে এলো।’
খেতে বসে গুঞ্জা বলল, ‘বেগুন তো ফুরিয়ে গেল। মন খারাপ লাগছে। তোমরা আসতে। গল্প হতো। জানো, সেদিন
ফোনে মা তালের কথা বলছিল। আমাদের গাছের …।’
কথা শেষ হওয়ার আগেই সৃজা আঁতকে উঠল। বলল, ‘না – আ-আ। মাসিমাকে বলো আমি আর তাল খাব না। এ বছর যা খেয়েছি তাতে আগামী দশ বছরেও তাল খেতে ইচ্ছে হবে না।’
তিলবেগুনিতে কামড় দিয়ে গুঞ্জা হেসে বলল, ‘ঠিক বলেছ, আমারও আজ শেষ বেগুন খাওয়া। ঠিক করেছি আগামী পনেরো বছরেও আমি বেগুন ছুঁয়ে দেখব না।’

Leave a Reply