কবিতা

  • এই বেলা

    তাড়া নেই কোথাও যাওয়ার, অপেক্ষায়ও ব’সে নেই কেউ – বিছানায় রোদের ধমক নির্বিকার পর্দা জানালার। সাদা-কালো ফটো ঝাপসা বড়ো – কালো চুল। বিস্মিত নয়নে শুধু ওড়ে শুভ্র কেশদাম। কাজ নেই, অবসরও নেই বইপত্র নাড়াচাড়া করি, সময়ের ধুলোর আলপনা মুছে রাখি, ফেরে না সময়। মন চায় যেতে যে আড্ডায় হায় নেই শরীরের সায়। চমকে উঠি রিকশায়…

  • উই গট হিম

    দু’পাশে রাইফেল ছিল           যদি লক্ষ ভেদ করতে হয়, গুলিভর্তি পিস্তলও ছিল যদি আত্মঘাত হয় সহজ উপায়। কিন্তু এ সব তাকে করালো না কিছু – ক’মাস ইঁদুর-গর্তে নির্বাসনে থেকে দাড়ি গজিয়েছে আর ভুলে গেছে          কোন লক্ষ্যে বাঁচা। ধন্য আমেরিকা। হিরোশিমা নাগাসাকি ভিয়েতনাম               আরও আরও আরও ভয়ংকর সন্ত্রাস পেরিয়ে এখন ইরাকে পৌঁছে শিখেছ অনেক।…

  • নিজামালি মুঘলের সাফ কবলা

    হলফনামা ‘আমি, নিজামালি মুঘল, জন্মদাতা গোলামালি মুঘল হাল সাকিন হুকুমাসন, থানা কোতয়ালী, পেশা হুকুমর্বদার, কর্মসূত্রে এবং ভোগদখলে বাংলাদেশের নাগরিক বটে; দালাল আইনে আট নম্বরি ধারায় আমার আটকাদেশ নাই, রাষ্ট্রবিধানের পরিপন্থি কোনো কর্মেও যুক্ত নহি – তদুপরি তথাকথিত অস্ত্র ও বারুদ, মাদক ও ঘাতকের                                          সংস্পর্শ-রহিত, হক-হালালের উপার্জনে প্রতিপালিত হয় বৈধ পরিবার; মাথার উপরে মেঘ এবং…

  • তিন মাথার মোড়

    ১.ওয়াশিংটন দুরন্তকে বাগে এনেছ বিদ্রোহীকে আপোস কিন্তু তোমার হাত ফস্কে শোল পালালো সেটাই আপসোস আমার সেটাই আপসোস! ২. চমস্কি আপনি কারো চাকর নন আপনি কারো মাতব্বর নন ভিক্ষে দেননি, ভিক্ষে নেননি পৃথিবী জুড়ে তবু আপনার ভক্ত অগণন। গোলাপ খেয়ে গোলাপ বমি করে মরার কথা ছিল না যাদের তারাও গেছে মরে। ওরা যখন গায়ের জোরে, বোমার…

  • বেহুলা বাংলা : সনেট এক

    কী বাঁধনে বেঁধেছ এক অজানা অচিন মায়াবী সুরে কত আকুতিতে চেয়েছি মুক্তি ছুটে চলে গেছি দিগন্ত দূরে তবু সার্সির মতো মোহিনী মায়ায় রেখেছ জড়িয়ে মুগ্ধ করে বারেবারে তাই ফিরে আসি এই জলজ বাংলার বিজন নীড়ে স্মৃতির বাংলা সবুজ বাংলা এই বেহুলা বাংলার বিষাদ তীরে নৌকা আমার তেরো নদী ঘুরে নির্জন এই ঘাটেই ফেরে সব স্রোত…

  • শোনা কথা 

    শুনলাম যারা অনেক উঁচু অট্টালিকায় থাকে – আকাশের সিঁড়ি বেয়ে  অনেক ওপরে  – নামিদামি ফ্ল্যাটে তারা বৃষ্টির শব্দ শুনতে পারে না।  এই রকম ফ্ল্যাটবাসীদের আরো  কতিপয় অসুবিধা আছে। যেমন তাদের রাত্রি পোহায়  অনেক আগে  – আর সন্ধেও হয় অনেক পরে।  সূর্যের আলো ধীরে ধীরে সরে।  তারা মশকমুক্ত থাকে – জনকোলাহলমুক্ত – এটা ভালো কি না জানি…

  • আমরা, জলে-স্থলে-ছায়াপথে

    সংকীর্ণ কক্ষে নয়, রয়েছি কক্ষপথে, পৃথিবীমঞ্চে পৃথিবী ছাড়িয়ে ওই আকাশগঙ্গায়ও মঞ্চে আমরা দুজনই কুশীলব মনুষ্যদর্শকে নেই আগ্রহ আমাদের শুনবে ও দেখবে সৃষ্টিজগৎ আর অদৃশ্য ক্ষুদ্র প্রাণ এমনকি সাগ্রহে লক্ষ করবে গ্রহ-তারকারাজি স্থলভাগে আমাদের মঞ্চ চারদিক খোলা বাতাস ছাড়াও আমাদের ছুঁয়ে যায় মৃদুমন্দ আলো কখনোবা স্পর্শকাতর অন্ধকার, অবাক নৈঃশব্দ্য আমরা কী বলব, বা বলি! জ্বলে ওঠে…

  • জঞ্জাল 

    এত আবর্জনা জমছে!          বলতে পারছিনে!                   ফেলতেও পারছিনে! দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে –        আবর্জনার মধ্যে বসবাস!                 আবর্জনা ফেলল কে? জানার পরও তা বলতে পারছিনে! পরিবেশ এতটা        অসহনীয় হয়ে উঠছে! পরিচ্ছন্নতার দিনগুলো চলে গেল!     ঝকমকে থাকার দিনগুলো চলে গেল!      পরিমার্জিত থাকার দিনগুলো চলে গেল! ধোপদুরস্ত থাকবে শুধু বিশেষ এলাকার মানুষ? আস্তাকুঁড়…

  • পরিমাপ

    সে তার জীবনকে মেপেছিল ফেসবুক-ইন্টারনেটে মধ্যরাতে আকাশে আকাশে তারার নাচন অসংখ্য অজানা ঘাতক ছুরি হাতে ঘোরে –           হৃৎপিণ্ডে হৃৎপিণ্ডে ঝড়ের কাঁপন; সবকিছু বিজ্ঞানের রহস্যের আদি অন্ত বলে জানি। কিন্তু সে হেঁটেছে বাঙালির আদি অন্ত বলে জানি; কিন্তু সে হেঁটেছে বাঙালির অন্তরের জলাভূমি ঘেঁষে – সে দেখেছে শস্যক্ষেত লাউয়ের মাচা ছিন্নভিন্ন           করে গড়ে ওঠা…

  • দূতকুমার

    ধর্মগ্রন্থের মতো দেহ সংরক্ষণ করতে অতীতে ইচ্ছে হলে নতুন ভাষার শিহরণে মেলে ধরতে মধ্যরাত আবার রেহালে রেখে দিতে দিনের পর দিন অতীতে তোমরা ছিলে এমনই অপঠিত গ্রন্থের অক্ষর দূর থেকে আমরা রেহাল হতে চাইতাম বজ্রের গতির অলক্ষে রক্ষা করতে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা তোমাদের দ্রাক্ষাবন আমরাও ঝড়ের আগে যেতাম বোশেখ মেলায় প্রতিশ্রুতির লাগাম চড়িয়ে কিনে…

  • পাথরের ঘুম

    মন্ত্রমুগ্ধ হই আমি, ভালোবাসি বলে মনের ভেতরে খুব ভাংচুর চলে বুকে রেখে ভাঙা কাঁচ পা ফেলে চলি অযুত অবহেলায় নিজে নিজে জ্বলি পড়ে থাকা ছাই কেউ দেখে না তো চোখে বিষাদ পতাকা ওড়ে অনিশেষ শোকে সেই শোক পাথরের মতো হয় ভারি শোক ভেঙে আমি আর জল হতে পারি? ক্ষয় হতে শুরু হয় মনের গোপনে সেই…

  • ব্যর্থ মানচিত্র

    বাতাসের শরীর বেয়ে ভেসে আসা ডানা ভাঙা পাখির আর্তনাদ স্তব্ধ করে বেদনায় লীন হয় বিষণ্ন গোলাপ মহাকালের বুকে সবুজ ফসলের বিরান মাঠ ফিরে কি পাবে হারানো সৌন্দর্য পোড় খাওয়া প্রাস্তর কাঁদে বিরহ শোকে বুকে আগুন নিয়ে তবু কেউ সেচ হয় জীবন জুড়ে শুধু আলো-আঁধারের খেলা ধূসর মরুবুক জলের প্রত্যাশায় বৃষ্টির জন্য অনন্ত অপেক্ষা পলেস্তারা খসা…