February 2024

  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    এদেশের প্রথম প্রজন্মের চিত্রশিল্পীদের মধ্যে আবহমান বাঙালির জীবন ও লোক-ঐতিহ্য কাইয়ুম চৌধুরীর তুলিতে প্রাণবন্ত, সজীব ও সৃজনের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল। তিনি ছিলেন এদেশের অগ্রগণ্য চিত্রকরদের মধ্যে অন্যতম। বিগত শতকের ষাটের দশকে তাঁর চিত্রকর্মে বাঙালির জীবনসংগ্রাম ও শ্যামলী নিসর্গ আশ্চর্য দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন তিনি। এই সময় থেকে তাঁর চিত্র শেকড়সন্ধানী ও মৃত্তিকালগ্ন হয়ে ওঠে।…

  • দুই দশকের সাহিত্যযাত্রা

    দুই দশকের সাহিত্যযাত্রা

    কালি ও কলমের দুই দশক পূর্ণ হলো। যে-কোনো সাহিত্য সাময়িকীর জন্যে এই দীর্ঘ সময়ের টানা প্রকাশনা নিঃসন্দেহে এক মাইলফলক। এখানে একটু স্মরণ করা যায় যে, কালি-কলম নামে একটি সাহিত্যপত্র ছিল অবিভক্ত বাংলায়, প্রকাশিত হতো কলকাতা থেকে, প্রকাশকাল ১৯২৬। শুরুতে সম্পাদক ছিলেন তিনজন – মুরালীধর বসু, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। তবে শেষের দুই কথাসাহিত্যিক একে…

  • হাসনাতভাইয়ের জন্য লেখা হলো পর

    হাসনাতভাইয়ের জন্য লেখা হলো পর

    হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘ঢাকা ক্লাবে’। সন্ধ্যাবেলায় সেখানে অনেক লেখক ও টিভি নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রী একত্রিত হয়েছেন। আবুল হাসনাতও ছিলেন। মানে আমাদের সবার প্রিয় হাসনাতভাই। এক ফাঁকে আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে তিনি বললেন, ‘কালি ও কলম নামে আমরা একটা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবুল খায়ের লিটুর ‘বেঙ্গল ফাউন্ডেশন’ থেকে পত্রিকাটি বেরোবে। আমাদের সঙ্গে…

  • বিংশতি বর্ষের যৌবনকাল

    বিংশতি বর্ষের যৌবনকাল

    দেখতে দেখতে কুড়িটা বছর সম্পন্ন করল বাংলাদেশের একটি সাহিত্যপত্রিকা। এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ’৪৭-এর আগে কিংবা দেশভাগের পরে এবং অবশ্যই স্বাধীন বাংলাদেশের ওই পূর্ব ভূখণ্ডে দীর্ঘজীবী সাহিত্য পত্রিকার সংখ্যা খুব কম। সেক্ষেত্রে কালি ও কলম অবশ্যই এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। লেখার মান ও মুদ্রণসৌকর্যের বিচারে এবং অঙ্গসৌষ্ঠব এবং উচ্চমানের কাগজের নিরিখে এই পত্রিকা শুধু বাংলাদেশে…

  • আমার কালি ও কলম, আমাদের কালি ও কলম

    আমার কালি ও কলম, আমাদের কালি ও কলম

    কালি ও কলম বাংলাদেশের শুদ্ধ সাহিত্য ধারায় এক অনন্য প্রগতিশীল সাহিত্যপত্রিকার নাম। ২০০৪ সালে প্রথম কালি ও কলম সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক পত্রিকা হিসেবে যখন আমাদের হাতে এলো, যারপরনাই আনন্দে আমরা কবি-লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিকবৃন্দ তুমুলভাবে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। আপ্লুত হয়েছিলাম একজন কবি হিসেবে, এই জন্যে যে, নতুন এক শুদ্ধতম পরিসর পেলাম, যেখানে নিজের সৃষ্টিশীল কাজ প্রকাশের…

  • আধুনিকতা, উত্তর-আধুনিকতা এবং আমরা

    আধুনিকতা, উত্তর-আধুনিকতা এবং আমরা

    সমকাল সব সময়ই আধুনিক। এই ধারণা কাল নির্ভর, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন ধারণা এবং বিশ্বাসের উৎপত্তি। সাধারণ আলোচনায় বর্তমানের সঙ্গে অতীতের ভেদরেখাসূচক এই অভিধায় পরিচিতিমূলক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ভূমিকা গৌণ, এমনকি  সেসব উহ্যই থাকে। সমকাল আধুনিক হবে, এটা স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেওয়াই নিয়ম। এই ‘বিবেচনায়’ ‘আধুনিক’ একবার নয়, যতদিন অতীতকে পিছনে রেখে বর্তমান এসেছে প্রতিটি সমকালকেই আধুনিক…

  • লোকসাহিত্য-সৃষ্টি ও বাঙালি নারী : জসীমউদ্দীনের অবলোকন

    লোকসাহিত্য-সৃষ্টি ও বাঙালি নারী : জসীমউদ্দীনের অবলোকন

    সংকলন ও ভূমিকা : আবুল আহসান চৌধুরী এক ‘সাহিত্য জনজীবনের বহিরঙ্গ এবং অন্তরঙ্গ লোকের আলেখ্য। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী নদীর তীরে তীরে, এদেশের উদার গগন তলে, অবারিত মাঠের কোলে যাহারা ঘর-বসতি করিয়া জীবনের কাহিনী রচনা করে, আমাদের সাহিত্য তাহাদেরই কথায় ভরপুর। কি আমরা হইতে চাহিয়াছি, কি আমরা হইতে পারিয়াছি, কি আমরা হইতে পারি নাই – যুগে…

  • সেগুনবাগিচার সারমেয়

    সেগুনবাগিচার সারমেয়

    ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গাড়িটা ডানে মোড় নেয়। ফজল খেয়াল করে, একটা সাদা-কালো ছোপ কুকুর তার গাড়ির পেছনে ভেক ভেক করে তেড়ে আসছে। বেশ অনেকটা দৌড়ে রণে-ভঙ্গ। ফজল চালককে বলে : হারুন, কুকুরটা গাড়ির পেছনে কেন দৌড় দিলো বলো তো? স্যার, গতকালও পেছনে এসেছিল, আপনি খেয়াল করেননি। কিন্তু কেন? ঠিক আছে স্যার, আমি জানার চেষ্টা করব।…

  • ইহজাগতিকতা ও আহমদ শরীফ

    ইহজাগতিকতা ও আহমদ শরীফ

    শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সমাজ রূপান্তরকামী বুদ্ধিজীবী-বহুমাত্রিক পরিচয়ে ভূষিত আহমদ শরীফ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি চিন্তাবিদ। বর্তমান প্রবন্ধের লক্ষ্য তাঁর বহুমাত্রিক পরিচয়ের স্বরূপ উন্মোচন নয়। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য আহমদ শরীফের জীবনদর্শনের ভরকেন্দ্রটিকে চিহ্নিত করা। এই ভরকেন্দ্রের নাম ইহজাগতিকতা। সেক্যুলারিজম বা ইহজাগতিকতা রেনেসাঁসের মৌল বৈশিষ্ট্য। সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগ থেকে বাণিজ্যিক ধনতন্ত্রে উত্তরণের আর্থসামাজিক পটভূমিতে যে…

  • জলচিকিৎসা

    জলচিকিৎসা

    তিপান্নতে পৌঁছে হাকিম আব্দুল্লাহর মনে হলো, শরীরটা যেন আর তার দখলে নেই, কথায় কথায় বিদ্রোহ করে। কাজের মাঝখানে অবসাদ উঁকি দেয়, অকারণ বিষণ্নতা মন দখলে নেয়। আরো বিপদ, তার শরীরে দেখা দিচ্ছে জইফ হওয়ার কিছু লক্ষণ। যেমন, তার স্মৃতিরা এখন যেন তিলনা বিলের বাইন মাছ, ধরা দিতে দিতে দেয় না, তার পেটে কিছুই যেন হজম…

  • এ ঢাক নিয়ে রাজবিহারী এখন কী করবে…

    এ ঢাক নিয়ে রাজবিহারী এখন কী করবে…

    না, শিবানন্দের মা, আর বুঝি পারলাম না। বুক-ভরা যন্ত্রণা নিয়ে মধুবালার মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলল রাজবিহারী। আর পারছি না শিবানন্দের মা, আর পারছি না। – আবার কী হলো? এ-কথা বলে স্বামীর দিকে কৌতূহলী চোখে তাকালো মধুবালা। – কী আর হবে? তোমার সুপুত্র বলে দিয়েছে ও আর কোনোদিন ঢাক ধরবে না – বাজাবে না আর…

  • ছিঃ

    ছিঃ

    প্রেম দিয়েই শুরু হয়েছিল সম্পর্ক। ক্যাম্পাস-সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তছনছ করে প্রেমের পাগলা ঘোড়া ছুটিয়ে তারপর বিয়ে করে ক্ষান্ত হলো ওরা দুজন। দুজন বলতে ধ্বনি আর আশরাফ। তাদের কথাই এখানে বলা হচ্ছে। যে-সময়ে প্রেমিক-যুগল হিসেবে ক্যাম্পাসে ওদের নিরন্তর দৌড়ঝাঁপ, সেটা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিককার সময়। ওরা সে-সময়ের নায়ক-নায়িকা। খুল্লামখুল্লা প্রেমের জন্য রীতিমতো বৈরী সময়;  তবু দেশি…