2024

  • June-July 2024
  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    বাঙালির লোকায়ত শিল্পরূপকে নবীন আলোক সঞ্চার করে বাংলাদেশের চিত্রকলাকে সমৃদ্ধ করেছেন শিল্পী আবদুস শাকুর শাহ্। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারা তাঁর হাতে নতুন ব্যঞ্জনা অর্জন করেছে। বিশেষত ময়মনসিংহ গীতিকার কাহিনিকে অবলম্বন করে তিনি অঙ্কন করেছেন অগণিত চিত্র। এই গীতিকার কাহিনির মধ্যে প্রেম, বিরহ ও জীবনসংগ্রাম নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মানবিকবোধ ও প্রকাশ শিল্পী আবদুস শাকুরকে অনুপ্রাণিত করেছে এ-বিষয়কে…

  • সম্পাদকীয়

    সাহিত্যে বিস্তৃত পরিসর ও পটভূমি নিয়ে মানবজীবনের নানা অনুষঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে থাকে ছোটগল্পে। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পে মননধর্মিতার সঙ্গে সাধারণ লোকজীবন-উপলব্ধিকে প্রসারিত চেতনায় বিস্তৃত করেছিলেন। তাঁর হাতেই বাংলা ছোটগল্প সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের চেতনাধারায় স্নাত হয়ে গল্পের ভুবন আরো সমৃদ্ধ ও বিচিত্র বৈভবে ঋদ্ধ হয়ে উঠেছিল। এই সময়ে বেশ কয়েকজন গল্পকারের গল্প ছিল জীবনচেতনার…

  • কাশফুল এবং একটি নদীর গল্প

    কাশফুল এবং একটি নদীর গল্প

    এক পরিণতি ওসমান পড়ার পর একগাল হেসে বললো, ফিল গুড স্টোরি। কিন্তু খাবে না। কে খাবে না? আমি বুঝতে না পেরে তার দিকে তাকাই। ওসমান চেয়ারের পিছনে হেলান দিয়ে বললো, কে আবার? যাদের খাবার। পাঠক। কেন খাবে না? আমি ভ্রু কুঁচকে তাকাই তার দিকে। ওসমান আগের মতোই  মুচকি  হাসতে হাসতে বললো, ফিল গুড, বাট ফ্যান্টাসি।…

  • সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার ও ভাণ্ডারী

    সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার ও ভাণ্ডারী

    পশ্চিম গগনে সূর্য। মা’কে সঙ্গে নিয়ে নিজের আবাস বিক্রি করে সেগুনবাগিচায় ফ্ল্যাটে উঠতে হলো ফজলকে। ফার্নিচার খুব সামান্য। ভাণ্ডার বই-পুস্তকের। একটা কামরায় সব বই ঢেলে রাখল। পরে র‌্যাক তৈরি করে সাজাবে। রান্নাঘরে কোনো তাক নেই। ফলে মিস্ত্রিকে ডাক দিতে হবে অচিরে। রাস্তার পাশে পশ্চিমদিকের কামরা, তার শয়নকক্ষ, অথচ সকালটা কি নীরব। পাখ-পাখালির ডাক নেই। নেই…

  • একটি সোনার দুল

    একটি সোনার দুল

    এরকম হবার কথা ছিল না, কিন্তু কখন যে মানুষের কী হবে, তা  কি কেউ বলতে পারে? নইলে আজ যখন হানুফা বেগম বাজারে যাচ্ছিল তার ছোট ছেলেটির হাত ধরে, তখনো সে ভাবেনি তার কপালে এই নতিজা লেখা আছে। হানুফা বেগমের বাজার খুব সংক্ষিপ্ত ছিল। শাশুড়ির বায়না অনুযায়ী কিছু চুঁইঝাল আর ছোট মাছ। চুঁইঝাল এই এলাকায় বেশ…

  • কাপুরুষ 

    কাপুরুষ 

    চন্দন ট্রেন থেকে নেমেছে ভোর পাঁচটায়। শীতের ভোর পাঁচটা মানে ঘরের বিছানায় গভীর রাত। স্টেশনটাকে দেখে তাই মনে হচ্ছে। যাত্রী নামিয়ে ট্রেন চলে যাওয়া মাত্র স্টেশনে নেমে এলো নীরবতা। এতো কুয়াশা নেমেছে যে, স্টেশনের লাইটগুলি যেন ঘোলাটে চোখে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। অস্বচ্ছ ঘোলাটে একটা পরিত্যক্ত ভৌতিক স্টেশনের মতো লাগছে। এতো শীত করছে যে কান-মাথা…

  • মর্জিনার শূন্য যাত্রা

    মর্জিনার শূন্য যাত্রা

    লা ল গেঞ্জি পরা ছেলেটির দিকে আমি তাকিয়েছিলাম। আমার মতো আরো দু-একজন দেখছিল ছেলেটিকে। ছেলেটি রাস্তার পাশের ছোট্ট চায়ের দোকানটির সামনে দাঁড়িয়ে – চা-ওয়ালার সঙ্গে কী নিয়ে যেন তর্কে জড়িয়ে গিয়েছে। কিছুটা দূর থেকে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না আসলে তর্কটা কী নিয়ে হচ্ছে! অমল আমার পাশে পাশে হাঁটছিল। আমার দিকে একবার তাকিয়ে, একটু থেমে হাত…

  • কুসুম বাগান

    কুসুম বাগান

    নিমতার মানুষ একটা ভয়কে চাদরের মতো গায়ে জড়িয়ে ঘুমায়। ভয়টা হারিয়ে যাওয়ার। পদ্মা এখনো তিন মাঠ দূরে, হয়তো পাড় ভাঙতে ভাঙতে ক্লান্ত, কিছুকাল জিরিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু তারা জানে, যে-কোনো রাতে পদ্মা ছোবল মারতে পারে, যখন মানুষজন ঘুমায়, পশুপাখিও। পদ্মা, কেন জানি, রাতটাকেই বেশি পছন্দ করে, কিছু মানুষের মতোই। মুরুব্বিরা বলেন, পদ্মার দশটা ভাঙনের গল্পের সাতটাই…

  • মেয়াদকাল

    মেয়াদকাল

    এক সকালে বাহাত্তর  বছর বয়স পার করে ফৈয়াজ খান হঠাৎ করে রাস্তায় মরে পড়ে থাকেন। উত্তরা মডেল টাউনের প্রশস্ত রাজপথ পেরোচ্ছিলেন। ব্যস্ত রাস্তা – সকাল, বিকাল, রাত্রি বলে কথা নেই – শা-শা করে নানা পদের দ্রুতগতির যানবাহন সব সময় ছুটছে। অত্যাধুনিক জীবনের ফরমেট বদলাচ্ছে। কেবল বদলাচ্ছে না, গতি বাড়ছে। এটা ঠিক, ফৈয়াজ তাল মেলাতে পারছিলেন…

  • মুখোশ পরা মানুষ

    মুখোশ পরা মানুষ

    রিসেপশন থেকে ফোন এলো। ‘স্যার, এক ভদ্রমহিলা আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।’ চায়ে চুমুক দিতে দিতে আসিফ সেদিনকার খবরের কাগজ দেখছিল। এখন খবরের কাগজ আর পড়া হয় না। শুধু চোখ বোলানো। হেডলাইনগুলি দেখা। ওসব হেডলাইন দেখতে দেখতে বলল, ‘কী নাম?’ ‘নাম বলেননি।’ আসিফ তেমন অবাক হলো না। সে যেখানেই যায় এরকম অনেক মহিলাই তার সঙ্গে…

  • অনাহূত স্বপ্নের চিৎসাঁতার

    অনাহূত স্বপ্নের চিৎসাঁতার

    ঘরে ঢোকার মুহূর্তে ভেবেছিল ভেতরটা অন্যরকম হবে। হওয়ারই কথা। বেলা দুপুর, শেষ ফেব্রুয়ারির আলো-হাওয়ায় রমরমা আকাশ-মাটি। কিন্তু তার মন বলছিলদরজা-জানালা আটকানো ঘরে পা দিয়ে দেখবে অল্প ওয়াটের বাল্বে ঝিমঝিমেআলো-আঁধারি। বাস্তবে মোটেও সেরকম হলো না। মাঝারি আয়তনের ছিমছাম ঘর – করপোরেট অফিসে যেমন অভ্যাগতদের জন্য বসার বা অপেক্ষা করার সুব্যবস্থা থাকে। পর্যাপ্ত আলো ঘরের ছাদে-দেয়ালে-মেঝেতে, এসি…