তিলোত্তমা মজুমদার

  • শুয়ে আছি কড়া বিছানায়

    ফুল ফুটে আছে। ভূমির চরিত্র বাঁকাচোরা শুধু আমি তাকাইনি। আজ এ বৃষ্টির দিন – বিন্দু বিন্দু চুম্বনবারতা নেমে এল সন্তর্পণে। আমি বাড়িয়ে দিইনি হাত ফুরিয়ে যাবার ইচ্ছা মৃত্যুর সমান ক্লান্তি দিন দিন এত রুগ্ন, বালিশ সাপটে থাকে মাথা কতভাবে মারা যায় তোমাকে আমাকে। এমনকী আমরাও মারি পরস্পর  পদ্ধতি আবহমান – যদি বলা যায় সমস্বরে – চোর তুমি চোর – মাছিদের উত্তেজিত করে ঝাঁকে ঝাঁকে  হাসাহাসি উড়ে আসে আগুনের ধ্বক লাগে গায়ে আর  জ্বলে যাই জ্বলতে জ্বলতে ছুটি রাস্তার দুপাশ থেকে দয়া শব্দ করে লোক ছাই হয়ে যাই এত মরি ঘৃণিত হয়েছি এতবার তবু ভেজা ঘাসে বসে শীতল প্রার্থনা করি ঘাস লেগে থাকে গায়ে চড় পড়ে গালে চড় পড়ে ফাটে বীজতুলো ছড়াতে ছড়াতে চলে যায় ঘুরতে ঘুরতে ফের সিলিং ফ্যানের থেকে ঝুলিয়ে দিয়েছি দড়ি কী আদরে আশ্চর্য গলায়… এই আমি ভূমণ্ডল গভীর শ্যাওলাধরা কুয়োয় পড়েও দেখি আজ ভোর আমারই জন্য জেগেছিল কত পাকে, মিথ্যা পাকে জড়িয়ে যন্ত্রণা বেনারসি শাড়ি পোকা ধরা, ফুটো ফুটো মিথ্যের নির্মম ক্ষমতা চন্দনে সাজিয়ে দেয় ঘৃণ্য সহবাস ভয় পাই আতঙ্কিত শুয়ে থাকি যুগ যুগান্তর কঠিন মিথ্যের মারে মেরুদণ্ড ভাঙা  শুয়ে আছি কড়া বিছানায় তাল তাল কাদামণ্ড আমার শিয়রে।

  • আমাকে সন্তান করো

    আমাকে সন্তান করো। টেনে নাও বুকের নিকট ঠোঁট রাখো গালে ও কপালে। চোখ স্নিগ্ধ করে দাও চুম্বন ক্রিয়ায় আমাকে সন্তান করো। গোলাপি বর্ণের হাতে শুইয়ে আমাকে শূন্যে তুলে দাও, লুফে নিয়ে শিশুঘ্রাণ পেতে আমার বুকের মধ্যে থাকো আমাকে চিনিয়ে দাও আকাশের তারা হয়ে গিয়েছে যে পূর্বপুরুষেরা। যে-মাটিকে মর্দিত করেছ আর ফসল তুলেছ Ñ চেনাও সে-মাটি।…