নারী

  • নোরা-বিমলা-কুসুম ও আমি

    নোরা-বিমলা-কুসুম ও আমি

    আঁখি সিদ্দিকা …for eight years I’ve been living here with a stranger, and that I’d even conceived three children — oh, I can’t stand the thought of it! I could tear myself to bits. – নোরা আমার স্বামী বরাবর বলে এসেছেন, স্ত্রী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি সমান অধিকার, সুতরাং তাদের সমান প্রেমের সম্বন্ধ। এ নিয়ে আমি তাঁর…

  • নারীর লেখা নারীর কথা

    দীপা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েরা গল্প লিখছেন শুনে উনিশ শতকের প্রায় আশি শতাংশ পুরুষের মনোভাব ছিল ‘আরশোলার পাখি হওয়ার ইচ্ছে হয়েছে।’ বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস নায়িকাপ্রধান, তাঁর নায়িকারা আত্মশক্তি এবং গরিমায় নায়কদের ছাপিয়ে গেছে। তারপরও বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্ত বলেছিলেন ‘নারিকেলের মালা বড় কাজে লাগে না, স্ত্রীলোকের বিদ্যাও বড় নয়।’ বাংলার প্রথম আত্মকথার লেখিকা রাসসুন্দরী দেবী স্বামীর ঘোড়াকে দেখে ঘোমটা দিতেন…

  • পুরাণের পঞ্চকন্যা : বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে নবরূপায়ণ

    পূরবী বসু ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যালি সাদারল্যান্ড ২০০৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে এক হাজার তরুণ ছেলেমেয়ের ওপর একটি সমীক্ষা চালান। তাদের সবচেয়ে প্রিয় নারীচরিত্র কে, সেটা যাচাই করে নেবার জন্যে প্রাচ্য মিথোলজির কয়েকটি প্রখ্যাত চরিত্রের সঙ্গে তাদের পছন্দ করার জন্যে দেওয়া হয়েছিল সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের বিখ্যাত সব নায়িকা, স্বনামধন্য কয়েকজন লেখক (জনপ্রিয়-জীবিত লেখকসহ) ও শিল্পীসহ…

  • নারীতে-নারীতে সখ্য : প্রাচ্যে-পাশ্চাত্যে

    পূরবী বসু ইদানীং বেশ কয়েকজন অভিবাসী (প্রধানত উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে) নারীর কিংবা তাঁদের কন্যাদের, অথবা যাঁরা স্বদেশে বসেই লেখেন অথচ যাঁদের মাতৃভাষা মূলত ইংরেজি নয় তেমন কিছু নারীর, ইংরেজি ভাষায় লিখিত উপন্যাস জগৎজুড়ে নাম করেছে। এঁদের মধ্যে কয়েকজন : (মূল ভারত) অনিতা দেশাই, কিরণ দেশাই, থ্রিটি উম্রিগর, অরুন্ধতী রায়, চিত্রা ব্যানার্জি দেবাকরুনী, ঝুম্পা লাহিড়ী,…

  • বিউটিকনটেস্ট

    সম্ভবত সৌন্দর্য ও প্রেমের দেবী আফ্রোদিতিই ইতিহাসের প্রথম ব্রহ্মাণ্ড-সুন্দরী যাকে নির্বাচন করে ট্রয়-রাজকুমার প্যারিস এত বড় একটা যুদ্ধের ভিত্তি রচনা করে ফেলেছিলেন। দেবীরা সেকালে অমর হলেও তাদের সৌন্দর্য-বিচার করবার ভার নশ্বর মানুষের বা আরো সঠিক বলতে চাইলে পুরুষের হাতেই ন্যস্ত হয়েছিল, যে-কানুন আজও পরিবর্তিত হয়নি। আজকের বিশ্বসুন্দরী বা ব্রহ্মাণ্ড-সুন্দরীরা কালে মিডিয়ার এক একজন দেবী বা গডেসে পরিণত হলেও তাঁদের নির্বাচক অতি-অবশ্য পুরুষই হয়ে থাকেন, কেননা সৌন্দর্য বা রূপ বা আকর্ষণীয়তার মাপকাঠি পুরুষের দ্বারাই চিরকাল নির্মিত ও বর্ণিত হয়ে আসছে, আর নারীরাও নিজেদের সেই মাপকাঠিতেই বিচার করতে ভালোবাসেন। ট্রয়ের রাজকুমার একটি আপেল পুরস্কার দিয়ে দেবী আফ্রোদিতিকে নির্বাচন করার মাধ্যমে ইতিহাসে বিউটি কনটেস্টের সূচনা করেন। সাহিত্যের এই মিথের বাইরে আদতে বিউটি কনটেস্ট বা সৌন্দর্য-প্রতিযোগিতার জন্ম ব্রাজিলে, যেখানে ১৮৮৮ সালের আগস্ট মাসে স্পা নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়ে যায় বিশ্বের প্রথম ও আদি বিউটি কনটেস্ট। রেনেসাঁসকালীন ইউরোপে শিল্পভিত্তিক সমৃদ্ধি ও উৎপাদন-ব্যবস্থায় কেবল নারী নয় সকল মানুষই যখন ক্রমে পণ্যে পরিণত হতে থাকে সেই সমাজে বিউটি কনটেস্টের কদর ক্রমশ বাড়বেই, এতে সন্দেহ কী? ইউরোপীয় নারীরা তাই দ্রুতই ফিগার-সচেতন ও মেকআপ-সমৃদ্ধ হয়ে উঠছিলেন, নগরগুলোতে ক্রমশ বাড়ছিল বিউটি-সেলুন ও ডায়েট- বিশেষজ্ঞের কদর, আর দেশে দেশে রীতিমতো প্রেস্টিজের ব্যাপারই হয়ে দাঁড়াচ্ছিল যে, কে বেশি সুন্দরী – ইতালিয় না ডাচ, নাকি পর্তুগিজ না ব্রিটিশ? আমাদের এশিয়ার নারীরা বহুদিন পর্যন্ত এ-ব্যাপারে পিছিয়েই ছিলেন নানা ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ট্যাবুর কারণে। বিংশ শতাব্দীতে এসে সে-দুঃখ অবশ্য পুরোটাই পুষিয়ে নিতে সচেষ্ট হলেন তারা, যখন প্রাচ্য-সৌন্দর্য পাশ্চাত্যকে মুগ্ধ করতে শুরু করল। এশিয় নারীর চাপা রং, সুডৌল লাবণ্য, কালো চুলের সঙ্গে পাশ্চাত্য-নারীর কোমরের চিকন মাপ, ভঙ্গিমা আর সংক্ষিপ্ত পোশাক মিলিয়ে একের পর এক ভারতীয় নারী জয় করে নিতে থাকলেন বিশ্বসুন্দরীর শিরোপা। প্রাচ্যে নারীদের পণ্যায়নের সেটি শুরুর দিক – তখনো হয়তো গ্লোবালাইজেশন, করপোরেট বাণিজ্য ইত্যাদি শব্দের আমদানি ঘটেনি। কমিউনিজমের পতনের পর সোভিয়েত-নারীরা পূর্ণ উদ্যমে এই ‘ইঁদুর-বেড়াল দৌড়ে’ নামতে দেরি করলেন না। নতুন চীনেও নাকি আজকাল কসমেটিক সার্জারির এতই কদর যে, রীতিমতো সিরিয়াল ধরতে হয়। তাহলে এই গরিব দেশের মিস বাংলাদেশও সানসিটির রৌদ্রোজ্জ্বল সৈকতে পা ফেলার ‘সৌভাগ্য’ অর্জন করছেন বলে আমরা পত্রপত্রিকা-মারফত জানতে পাই। কিন্তু এহেন আকর্ষণীয় ও উদ্দীপক ‘খেলা’ নিয়ে প্রাচ্যে তো বটেই পাশ্চাত্যেও বিতর্কের শেষ নেই। একশ্রেণির নারীবাদী গোটা বিষয়টিকে নারীকে কমোডিটি বা পণ্যে এবং দেহসর্বস্ব যৌন-সামগ্রীতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন। আরেক শ্রেণি একে নয়া সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদী সমাজের আগ্রাসনরূপে দেখতে পছন্দ করেন। আর প্রাচীনপন্থিরা নিজ নিজ মূল্যবোধের আলোকে ‘সংস্কৃতি গেল গেল’ রব তুলে চেঁচান। এই তিন শ্রেণিই আবার বিশ্বাস করেন ও করতে ভালোবাসেন যে, ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারই নারী-স্বাধীনতার প্রধান অন্তরায় এবং পাশ্চাত্যই হচ্ছে নারীবাদের সূতিকাগার। কৃষিভিত্তিক সমাজে নারীর ভূমিকা শ্রম, উৎপাদন ও সন্তানধারণ বা লালন-পালনের সঙ্গে যতখানি সম্পৃক্ত, বিনোদন ও যৌনতার বেলায় ততটা নয়। কিন্তু শিল্পোন্নত সমাজে বিষয়টি আলাদা। কৃষিভিত্তিক ও শিল্পোন্নত সমাজে নারীর পৃথক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে তুলনামূলক কোনো গবেষণা না হওয়ায় এ-নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন ও অযৌক্তিক। তবে উদাহরণ হিসেবে যদি প্রান্তিক গোষ্ঠীর কথা আনা হয় তবে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশের খাসিয়া বা সাঁওতাল সমাজে পরিবারের প্রধান হিসেবে নারীর ভূমিকা ও গুরুত্ব সেইসব সমাজের সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংস্কার দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়নি। একই কথা পৃথিবীর বহু ‘অনুন্নত’ জাতি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে প্রযোজ্য। কাজেই উন্নয়নের ও শিক্ষার তথাকথিত পাশ্চাত্য-মডেল যে নারী-স্বাধীনতার ও নারীমুক্তির একমাত্র উপায়, তা মানা কঠিন। পাশ্চাত্য-নারীবাদও এডওয়ার্ড সাঈদ-বর্ণিত ‘অপর’ করে তোলার ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত নয়। তৃতীয় বিশ্বের নারীর দুঃখ-মূল্যবোধ-জীবনদর্শন বা ভাবনাচিন্তার কথা এখানে কখনোই প্রতিফলিত হতে দেখা যায় না, বরং সর্বদাই তাদের দেখা হয়েছে অবগুণ্ঠিত, পিছিয়ে পড়া, সংস্কারাচ্ছন্ন ও নির্যাতিতের ভূমিকায়। প্রাচ্য, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নারীদের জীবনযাত্রা, হারেম-সংস্কৃতি ও অন্দরমহল সম্পর্কে পশ্চিমের কল্পিত চিত্র উন্মোচিত হয়েছে জুডি মাবরোর গবেষণায়। তালেবান-শাসনে নারীকে জোরপূর্বক পর্দা করতে বাধ্য করা এবং ফ্রান্সে মুসলিম বালিকাকে মাথায় স্কার্ফ পরার অপরাধে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া – দুইই নারীর অধিকারের ওপর সমান আঘাত বলে বিবেচ্য হওয়া উচিত। এ-প্রসঙ্গে কানাডার এক মুসলিম কিশোরী সুলতানা ইউসুফালির বয়ান বেশ চমকপ্রদ – ‘যখনই আমি নিজেকে ঢেকে ফেলি তখন অন্যের পক্ষে চেহারা দেখে আমাকে বিচার করার পথ সত্যিকার অর্থে অসম্ভব হয়ে পড়ে। আকর্ষণী-ক্ষমতা বা তার কমতি দিয়ে আমার মান বিচার করা সম্ভব হয় না। আমার শরীর আমার নিজস্ব ব্যাপার। কেউই বলতে পারে না আমার চেহারা কেমন হওয়া উচিত অথবা আমি সুন্দরী নাকি সুন্দরী নয়। আমি জানি আমি আসলে এর চেয়ে বড় কিছু।’ দুই পুঁজিবাদী সমাজে নারীর ভূমিকা ও ক্ষমতায়নের মূল্যায়নে এইসব উপকরণের কথা মনে রাখতে হবে। প্রসঙ্গত আমরা বর্তমানকালে বিজ্ঞাপনে নারীর অবস্থান সম্পর্কে উদাহরণ টানতে পারি। অবসরপ্রাপ্ত পিতা একটা অবলম্বনের অভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেললে তার কালো ও অসুন্দর কন্যাটি প্রাণপণে নিজেকে যোগ্য করে তোলার প্রয়াসে রং ফর্সা করার ক্রিমের ম্যাজিকের শরণাপন্ন হয়। এর ফলাফলে অর্জিত আকর্ষণীয় চেহারা দিয়ে অবশেষে সে বিমানবালার মোহনীয় চাকরি জুটিয়ে নিতে সমর্থ হয় এবং বিজ্ঞাপনের শেষে দেখা যায় গর্বিত পিতা-মাতা কন্যার টাকায় তারকা হোটেলে ডিনার খেতে গেছেন। এ-ই হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নের নমুনা! আবার বিজ্ঞাপনে প্রেমিক বা স্বামী প্রায়ই অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট হলে নারীকে দেখা যায় এ-জাতীয় সৌন্দর্য-উপকরণ ব্যবহার করে স্বামীকে আবার নিজের দিকে ফিরিয়ে আনছেন। এটা হচ্ছে পুরুষের চোখে নারীকে ‘দেখা’র চিরাচরিত রূপ। ‘দেখা’র এই ভূমিকা সবচেয়ে প্রকটভাবে ফুটে ওঠে বিউটি কনটেস্টের মাধ্যমে। এ-ব্যাপারে ক্যানডেস স্যাভেজের বিউটি কুইনস : আ প্লেফুল হিস্ট্রি বইটি থেকে কিছু অংশ স্মরণ করি : “সমুদ্র-সৈকতে পুরুষ বিচারকদের সম্মুখে সর্বস্ব তুলে ধরার ব্যাপারে প্রতিযোগিনীদের কোনো ওজর-আপত্তি কখনো শোনা যায়নি। সম্ভবত তাদের কখনো প্রশ্নই করা হয়নি যে, এ-ব্যাপারে তাদের অনুভূতি কী বা কোনো মতামত আছে কিনা। অথবা তারা পুরুষকর্তৃক মূল্যায়িত হতে হতে এতই অভ্যস্ত যে, আপত্তি করার কথা কারো মাথায়ই আসেনি। গৃহে এবং কর্মক্ষেত্রে – জীবনের সব জায়গায় একজন নারীর জীবন প্রতি মুহূর্তে একটি বিউটি কনটেস্টের মতো – যেখানে পুরুষ তাকে…

  • পিল

    পিল

    নারী-আন্দোলনের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় ষাটের দশকে জন্মনিয়ন্ত্রণ-বড়ির আবিষ্কার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যৌনতা ও সন্তানধারণ, নারীর যে-দুটি বিষয়কে পুঁজি করে আদিকাল থেকে নারীকে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার করা হচ্ছে, সেই যৌনতাকে সন্তানধারণ থেকে আলাদা করার সুযোগ করে দিয়েছে এই জন্মনিয়ন্ত্রণ-বড়ি বা ‘পিল’। যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা ও যৌনসুখ উপভোগ করা মানুষের অতি স্বাভাবিক একটি প্রবৃত্তি বা আকাক্সক্ষা।…

  • নারীর জন্যে বিশেষ আইন শিকল ছাড়া কিছুই নয়

    নারীর জন্যে বিশেষ আইন শিকল ছাড়া কিছুই নয়

    ‘এই শিকল পরা ছল রে মোদের শিকল পরা ছল এই শিকল পরেই শিকল তোদের করবো রে বিকল।’         – নজরুল ইসলাম       পূর্বকথা ন্যায়বিচার, সমতা ও সম-অধিকারের দাবি যুগ যুগ ধরে নারী তুলেছে সংসারে, সমাজে, রাষ্ট্রে। কিন্তু পেয়েছে বিশেষ আইন, যা প্রতি ক্ষেত্রে নারীর প্রতি নিষেধাজ্ঞা ছাড়া কিছুই নয়। মূলধারা থেকে নারীকে বিচ্ছিন্ন করেছে এই…

  • নারীর প্রজ্ঞা

    নারীর প্রজ্ঞা

    ক. পৃথিবী নারীর। স্বর্গ পুরুষের অনেককাল আগের কথা। গণিতবিদ পিথাগোরাস খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮০ সালের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান গ্রীসের সাময় নামে একটি ছোট দ্বীপ। পরবর্তী সময়ে তিনি সাময় থেকে দক্ষিণ ইটালির ক্রিস্টিনা শহরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একটি ভ্রাতৃসংঘ গঠন করেন। তাঁদের প্রধান কাজ ছিল গাণিতিক চিন্তাধারার তত্ত্বঘটিত অভিমত তৈরি করা। তাঁরাই…