নাটক
-

জসীমউদ্দীনের নাটক : লোকজ সংস্কৃতির রূপায়ণ
জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তিনি উপনিবেশের স্রোতে গা না ভাসিয়ে মাটির কাছাকাছি থাকা সাধারণ মানুষের জীবনবোধকে সাহিত্যের মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুধু কবিতায় নয়, নাট্যসাহিত্যেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য এবং স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে যখন বাংলা নাটকে ছিল শহরকেন্দ্রিক নাগরিক জটিলতা, আধুনিকতার নামে পাশ্চাত্যরীতির অন্ধ অনুকরণ, তখন জসীমউদ্দীন কলম ধরেছিলেন বাংলার গ্রামীণ পটভূমি ও…
-

বাংলাদেশে ব্রেখ্ট চর্চা : আলোচনা, পর্যালোচনা এবং অপূর্ণতা
প্রথম কথা ব্রের্টল্ট ব্রেখ্ট (Eugen Berthold Friedrich Brecht, 1898-1956) নাম নিয়ে একটি আশ্চর্যরকমের বিভ্রান্তিতে আমরা আছি। অবশ্য বিদেশি যে-কোনো ভাষার যে-কোনো নাম নিয়েই আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি। তার প্রথম কারণ ভিনদেশি ব্যক্তি বা স্থানের নামের ক্ষেত্রে পত্রিকাগুলি এক এক নামের এক এক অক্ষর সহযোগে শব্দ তৈরি করে পত্রিকায় ছাপায়; দ্বিতীয় কারণ, লেখক-গবেষকগণও তাঁদের রচিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ বা…
-

ইনামুল হক : নাটক ও অন্যান্য
ড. ইনামুল হক (১৯৪৩-২০২১) স্বাধীন বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় অবিস্মরণীয় এক শিল্পীর নাম। স্বাধীনতা-উত্তর নাট্য-আন্দোলনকে যাঁরা বেগবান করেছেন, যাঁরা নাটককে জনগণের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ, আকাঙ্ক্ষা-প্রতিবাদের ভাষায় রূপ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন সামনের সারির একজন। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক ও শিক্ষক। নাটক ছিল তাঁর জীবনের অংশ। টেলিভিশন, রেডিও ও মঞ্চে প্রায় হাজারখানেক নাটকে অভিনয়…
-

সাঈদ আহমদের নাটক তৃষ্ণায় রূপসজ্জা ও পোশাক-পরিকল্পনায় অভিনব মুক্তি
সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) বাংলাদেশের নাট্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি এদেশীয় নাট্যধারায় অভিনব আঙ্গিক সংযোজন করে স্বীয় স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দিয়েছেন। সাঈদ আহমদের নাট্যরচনার কৌশল সামুদ্রিক। আর তাঁর নাটকগুলোকে ঘিরে বর্তমান প্রবন্ধের বিচরণ প্রকৃতপক্ষে অপরিপক্বতায় আক্রান্ত হবার শামিল। তাঁর সাতরঙা জীবনের মহিমাকীর্তন নয়, বরং তাঁর তৃষ্ণায় নাটকটির বিশ্লেষণ এবং এই নাটকের রূপসজ্জা ও পোশাক-পরিকল্পনার মূল্য নিরূপণের উদ্দেশ্যে…
-

শাঁওলী মিত্রের সীতাপাঠ শুধুমাত্র পাঠ নয়, অভিনয়ও
অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস প্রেক্ষাগৃহের পরদা খুলতেই দেখা যায় মঞ্চের মাঝে বসে আছেন শাঁওলী মিত্র। পেছনে দোহারের দল। শুরুর আগেও শুরু থাকে। সেটা ছিল কথকের প্রাক্কথন। তিনি বলেন, পাঠের আগে আমি কয়েকটি কথা বলে নিতে চাই। এটা আশির দশকের কথা। আজকে আমার দুজনের কথা খুব মনে পড়ছে। একজন হলেন সুকুমারী ভট্টাচার্য। যিনি বলেছিলেন, ‘সীতা’কে নিয়ে…
-

সরযূবালা দেবী : যে জন আছেন মাঝখানে
অংশুমান ভৌমিক ‘দেহপট সনে নট সকলি হারায়’ – আমাদের রংমহলে চালু থাকা এই প্রবচনটি সরযূবালা দেবীর বড় প্রিয় ছিল। তাঁর বেলায় যে সেটি সত্য হয়নি। তবু সত্যি বলতে কী সরযূবালাকে আজকের বাঙালি তেমন চেনে না। বাংলা মহল্লার বাইরে আরো কম। যদিও ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে দিলিস্ন দরবারে গিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সংগীত নাটক আকাদেমির দেওয়া সম্মান…
-

শেক্সপিয়র ইন দ্য পার্ক
শেক্সপিয়রের করিওলেনাস আমি কখনো পড়িনি, পড়ার আগ্রহও জাগেনি। এটি তাঁর শেষ রচনা, প্রবল রকম রাজনৈতিক, প্রবল রকম অগণতান্ত্রিক। পড়া বা সে-নাটক দেখার কোনো সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার আগেই মনে মনে তা বাতিল করেছিলাম। নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চ, ডেলাকোর্ট থিয়েটারে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সে-নাটক দেখার পর এ-ব্যাপারে মতামত যে বদলাল তা নয়, তবে নাটকটির অসাধারণ মঞ্চায়ন দেখে…
-

বিষয় : কাব্যনাটক
অভিমুখ বিষয় ও আঙ্গিক – সব শিল্পকর্মের প্রধান দুটি দিক। কাব্যনাটকে বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্টতা নেই, যে-কোনো বিষয় নিয়েই কাব্যনাটক রচিত হতে পারে। এর উদাহরণ সব যুগের কাব্যনাটকেই বিদ্যমান। গ্রিসীয়-ফরাসি-এলিজাবেথীয়-সংস্কৃত-মৈমনসিং গীতিকা বা পরবর্তীকালের এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপের কাব্যনাটকে নানা বিষয়ই স্থান পেয়েছে – মিথকথা-রূপকথা-উপাখ্যান-পৌরাণিক কাহিনি-উপকথা-ধর্মকথা-লোকগাথা-সমাজপ্রসঙ্গ প্রভৃতি অগ্রাধিকার পেয়েছে বিষয় হিসেবে। তবে কাব্যনাটকের আঙ্গিকের ক্ষেত্রে কিছুটা নির্দিষ্টতা দেখা যায়।…
-

শকুন্তলার বঙ্গায়ন ও সেলিম-সপর্যা
শকুন্তলা অর্দ্ধেক মিরন্দা, অর্দ্ধেক দেস্দিমোনা। পরিণীতা শকুন্তলা দেস্দিমোনার অনুরূপিণী, অপরিণীতা শকুন্তলা মিরন্দার অনুরূপিণী। – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ‘শকুন্তলা, মিরন্দা এবং দেস্দিমোনা’, বিবিধ প্রবন্ধ শকুন্তলা। নামটি শুনলেই আমাদের অনেকের মনে অচিনকালের এক অরণ্যবালার ছবি ভেসে ওঠে। কত বাঙালি বাপ-মা যে সাধ করে মেয়ের নাম শকুন্তলা রেখেছেন তার ইয়ত্তা নেই। অথচ শকুন্তলার সঙ্গে বাঙালির আলাপ অনেক দিনের নয়।…
-

বাংলা নাট্যের আত্মসন্ধিৎসা
প্রতি জাতিগোষ্ঠীরই থাকে কি অন্তস্থ, আত্মস্থ, নিহিত এক স্বভাব – যা তার মৌল সত্তাস্বরূপ, প্রবণতা-গড়ন? যার আদলে গঠিত হয় তার তাবৎ সংস্কৃতি-বিশ্ব, শিল্পপ্রকরণ, রীতিনীতি? যাকে বলে তার মানসের সমগ্র এক তত্ত্ববিশ্ব। এমন বুঝি মনে করা যেতেই পারে – যেমন ব্যক্তিরও থাকে বৈশিষ্ট্যের আদি কোনো কাঠামো-বিন্যাস। ভারত-উপমহাদেশের আদি নাট্যতত্ত্ব মীমাংসাগ্রন্থ ভরতের নাট্যশাস্ত্রে, নানা অঞ্চলের নাট্যরীতির এক…
-

নাট্যচর্চায় বাংলাদেশ
আশিস গোস্বামী বাংলা নাট্যচর্চার ইতিহাস বললে এখন আমাদের বুঝে নিতে হয় ভারতের একটি রাজ্য এবং পার্শ্ববর্তী আর একটি দেশ, যার নাম বাংলাদেশ। আসলে ১৯৪৭-পূর্ববর্তী নাট্য-ইতিহাস এই উলিস্নখিত ভূখ– আলাদা কিছু নয়। একই নাট্যচর্চার বহমান স্রোত বিভক্ত করল দেশভাগ। শুধু নাটক নয়, সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক চর্চাটারই ওলটপালট হয়ে গেল তখন। তাতে এই বাংলার লাভ হয়েছে। অপরিসীম ক্ষতি…
-

লোকসংস্কৃতি : রূপবান-কাহন
প্রবল বৃষ্টির তোড়ে গাড়ির কাচ ঝাপসা হয়ে আসছিল। ভেতর থেকে রাস্তাঘাট ঠিক ঠাহর করা সম্ভব হচ্ছিল না। কেবল চোখে আবছা-আবছা ধরা পড়ছিল জনবসতি-বিপণিবিতান-যাত্রীবাহী বাস। [….]
