2015

  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    শিরোনামহীন   এদেশের চিত্রকলা আন্দোলনে প্রথম প্রজন্মের শিল্পী কাজী আবদুল বাসেত শিল্পী-ঐশ্বর্যের গুণে ও মৌলিকত্বে বিশিষ্ট এক চিত্রকর। তাঁর সৃজনধারায় বহু ভাবনার ছাপ আছে। বাস্তবধর্মী ও বিমূর্ত এই দু-ধারাতেই তিনি কাজ করেছেন। ১৯৬৩ সালে চিত্রকলায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যে তিনি শিকাগো যান। এই সময়ে পাশ্চাত্যের শিল্পভুবনে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে এবং আলোড়িত হওয়ার মতো…

  • প্রকাশকের পত্র

    কালি ও কলম এখন একাদশ বর্ষ পার করে দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ করল। আমাদের পক্ষে তা যেমন আনন্দের তেমনি গৌরবের কথা। এক অনিশ্চিত পথে শুরু হয়েছিল আমাদের যাত্রা। সে-মুহূর্তে আমরা জানতাম না, পাঠকসমাজ কীভাবে গ্রহণ করবে কালি ও কলমকে, কতখানি সহযোগিতা পত্রিকাটি পাবে লেখকদের, কী দাঁড়াবে এর চরিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল প্রতি ক্ষেত্রেই আমরা…

  • জীবনপঞ্জি

    ১৯৩৪             :   ৯ মার্চ, ফেনী, নোয়াখালিতে জন্ম। ১৯৪৯              :   প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। ১৯৪৯-৫৪         :   গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস (বর্তমানে চারুকলা ইনস্টিটিউট) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ। ১৯৫১-৫২        :   লিটন হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা আর্ট গ্রুপের প্রদর্শনী। ১৯৫৪              :   বর্ধমান হাউস ঢাকায় অনুষ্ঠিত অল পাকিস্তান আর্ট এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ। ১৯৫৫-৫৬        :   গ্রন্থ চিত্রণে কর্মজীবন শুরু। প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত…

  • নদী আমায় ডাকে

    কাইয়ুম চৌধুরী হাতের আঙুলের মতো নদী বাংলাদেশজুড়ে। তবু, অনেকের নিজের একটা নদী থাকে, অনেকের থাকে না। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক ও কবি মোহাম্মদ রফিক বলেছেন তাঁদের নদীর গল্প। নদী আমাকে হাতছানি দেয়, ডাকে আমি প্রলুব্ধ যৌবনবতীর আহবানে, ভেসে যাই তার দুকূল প্লাবিত যৌবনের টানে। আমি অবগাহন করি – দুহাতে উন্মোচিত করি তার…

  • জন্মশতবর্ষে কুমার শচীন দেববর্মণ

    কুমার শচীন দেববর্মণকে কখনো চাক্ষুষ করিনি। কিন্তু শৈশবকাল থেকেই তাঁর নাম কর্ণকুহরে প্রবেশ করেছে। তাঁর কণ্ঠ তো বটেই, তবে আরেকটি কারণ ছিল। তিনি আমার পিতার সহপাঠী ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ১৯২১-২২ সালে। পিতার মুখে তাঁর নাম, তাঁর বংশপরিচয় এবং তিনি যে রাজকুমার, তা জানা হয়ে গিয়েছিল সেই শৈশবকালেই। রাজকুমারসুলভ কোনো অভিব্যক্তি তাঁর চলনে-বলনে ছিল না।…

  • পুরানো সেই দিনের কথা

    পুরানা পল্টনের মোড় ঘুরে রাস্তা যেখানে হাইকোর্টমুখী, সেখান থেকে আমাদের বাসরুট। উত্তরদিকে সবুজের সমারোহ। সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ একেবারেই জনাকীর্ণ। সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলের সামনে দিয়ে ছোট্ট এক চিলতে রাস্তা চলে গেছে দক্ষিণ দিকে। চলন্তিকা চায়ের আসর পেরিয়ে পুরানা পল্টনের মোড়ে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা। এক সময় নবাবপুর রেলগেট পেরিয়ে মানসী সিনেমাহল, রথখোলা, কোর্ট-কাছারি, মুকুল সিনেমাহল, ভিক্টোরিয়া পার্ক –…

  • দৃশ্যকলার বাঁশিওয়ালা

    অশোক কর্মকার ইয়েলো অকার যাঁর প্রিয় রং। সোনালি আভায় উদ্ভাসিত যাঁর ক্যানভাস আর প্রচ্ছদপট। বাংলাদেশের চিত্রকলা আর ব্যবহারিক শিল্পে যাঁর তুলির আঁচড়ে আমাদের রুচির নির্মাণ। তাঁর আঁকা একটি পোস্টার প্রথম দেখি ১৯৭২ সালে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-প্রকাশিত ‘লাখো শহিদের আত্মদানে মুক্ত স্বদেশ এসো দেশ গড়ি’, অসাধারণ এক পোস্টার – যা আজো আমার চোখে লেগে আছে। তখন…

  • বাংলাদেশে চারুকলার ৫০ বছর শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতিচারণ

    হাসান হাফিজ তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের চারুকলার জগৎ অনেকটাই এতিম হয়ে গেছে বলা চলে। আমাদের গ্রেট মাস্টারদের অন্যতম ছিলেন মহান এই শিল্পী। প্রগতির লড়াইয়ে তিনি সবসময় ছিলেন অগ্রসেনানী। জাতির মননে তিনি জারিত করে চলেছিলেন নান্দনিকতার চেতনা, রুচি ও সৌন্দর্যবোধ। এই দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননের অঙ্গনে তিনি ছিলেন অভিভাবকপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। রীতিমতো একটি প্রতিষ্ঠান। ৮২ বছর…

  • আমার বাবার মুখ

    মইনুল ইসলাম জাবের ‘অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি’ প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে বাড়ি থেকে বেরুতে হতো আমার আর আমার বাবার। স্কুলে পৌঁছুতে হবে পৌনে ৮টার মধ্যে – কারণ তখন পিটি করে ক্লাস ধরতে হতো সকাল ৮টায়। বাবা ঘুম থেকে উঠতেন সকাল সাড়ে ৬টায় আর তার পরপরই মা আর আমি ৭টায়। বাবার প্রথম কাজ স্যান্ডউইচ তৈরি…

  • প্রিয় কাইয়ুমভাই, কাইয়ুম স্যার

    প্রিয় কাইয়ুমভাই, কাইয়ুম স্যার

    কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর জীবনে কত রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তা কি আমি জানি?

  • তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে

    রাতুল দেব বর্মণ ঢাকায় গেলে কাইয়ুমভাইয়ের সঙ্গে দেখা হবেই। তাঁর সঙ্গে দেখা না হলে, কথা না হলে ঢাকা সফর বা বাংলাদেশ বেড়ানোর কোর্স পুরো হয়নি। দাওয়াত থাকত প্রতিবারেই। কখনো তাঁর বাড়িতে, কখনো ঢাকা ক্লাব কিংবা অন্য কোনো বন্ধু-গুণিজনের বৈঠকখানায়। দেখা-সাক্ষাৎ, আড্ডায় ডুবে যেতাম দীর্ঘসময়। এমন প্রাণোচ্ছল, প্রকৃতি ও মৃত্তিকালগ্ন মানুষ আমি কজন দেখেছি জানি না।…

  • এত দূরে চলে গেলেন কী করে?

    রফি হক শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী প্রসঙ্গে লিখতে বসে আমার আর্ট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার দিনটির কথা মনে পড়ে গেল। সেই বিরাশি সালে কুষ্টিয়া থেকে অনেকটা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে আর্ট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল এমন যে, ঢাকার আর্ট কলেজটিতে গেলেই আমাকে ভর্তি করে নেবে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে হলো নানারকমের। সেখানেই প্রথম দেখি কাইয়ুম…