রাজ্যহারা দুঃখিনী এক রানি। শত্রুরা বন্দি করে রেখেছে তাঁকে। সেই রুদ্ধদ্বারের অন্তরালে সঙ্গিনীদের নিয়ে রঙিন সুতার নানান ফোঁড়ে তৈরি করলেন আশ্চর্য এক কাঁথা। তাতে ধরা রইল তাঁর বন্দিজীবনের টুকরো কথা, তাঁর হারিয়ে ফেলা রাজ্যের কত না অপরূপ চিত্র! মনে হতে পারে, এ যেন রূপকথার কোনো এক রানির গল্প, অথচ এ-কাহিনি কিন্তু সত্যিকারের!
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। গত শতকের শেষভাগে, ১৯৮৫ সালে এক অজ্ঞাতপরিচয় প্রেরকের কাছ থেকে হাওয়াইয়ের প্রধান নগরী হনলুলুতে অবস্থিত আয়োলানি প্রাসাদ কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছায় জীর্ণকায় একটি কাঁথা। কিন্তু, সাধারণ কাঁথা তো নয়, এ যেন ভেলভেট, স্যাটিন আর সিল্কের তৈরি একখণ্ড ইতিহাস! এর প্রধান কারিগর, প্রায় একশ বছর আগে এই প্রাসাদেরই বন্দিনী – রানি লিলিউওকালানি। ভিনদেশিদের
লোলুপথাবায় যখন টালমাটাল নয়নাভিরাম এই দ্বীপমালা, বিপন্ন তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অবমানিত তার ধর্ম-শিক্ষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, তখন অমূল্য এই সীবনশিল্পকর্মটি যেন সমস্ত অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তেজোদীপ্ত অথচ শিল্পিত এক প্রতিবাদ, স্বভূমির প্রতি মমত্ব আর অঙ্গীকারের অবিনশ্বর স্মারক। ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব নিদর্শনটি Queen’s Quilt বা ‘রানির কাঁথা’ নামেই আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একাধিক দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশ হাওয়াই। সেই হাওয়াইয়ের হনলুলুতে ১৮৩৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর জন্মেছিলেন লিডিয়া, ঘটনাচক্রে যিনি হয়ে উঠেছিলেন এই দ্বীপরাজ্যের প্রথম নারী শাসক, রাজতান্ত্রিক হাওয়াই-এর শেষ প্রতিনিধিও বটে।
লিডিয়া ছিলেন সংগীতে সমর্পিত এক প্রাণ। তাঁর ভাষাতেই,‘… to compose was as natural to me as to breathe …’। সুর সংযোজন করেছেন অজস্র সংগীতে, বাজাতেন অর্গ্যান ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র। সব মিলিয়ে ১৬০টির বেশি সংগীতের রচয়িতা তিনি। ১৮৬৬ সালেতাঁর রচিত He Mele Lahui HawaiÕI (ÔThe Song of the Hawaiian Nation’) হাওয়াই এর জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয়। হাওয়াইয়ের অন্যতম প্রধান লোকপ্রিয় সংগীত Aloha Oe (Farewell to thee), তাঁরই রচনা। বিরহী এক প্রেমিকযুগলের বিচ্ছেদের গভীর মর্মবেদনা এই গানের মূল ভাব।
১৮৭৪ সালে লিডিয়ার ভাই ডেভিড কালাআকাওয়া হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের রাজা নির্বাচিত হন। এর তিন বছর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী কনিষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যু হলে জীবনের মোড় ঘুরে যায় লিডিয়ার। পরবর্তী শাসক হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাঁর নাম; রাজকীয় রীতি অনুযায়ী নতুন নাম ধারণ করে তাঁর জীবনের নবযাত্রা শুরু হয় – ‘লিলিউওকালানি’ হিসেবে। ভবিষ্যৎ শাসক হিসেবে নিজেকে উপযুক্তরূপে গড়ে তোলার জন্য সংসদীয় রাজতন্ত্রের ভূমিকা ও কার্যপরিধি নিয়ে গভীর অধ্যয়ন করেন তিনি। এসব প্রস্তুতি বৃথা যায়নি। বিবিধ কারণে রাজার অনুপস্থিতিতে দুবার শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, প্রমাণ রাখেন দক্ষতার।
১৮৮৭ সালে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী লিলিউওকালানি ও তৎকালীন রানি কাপিওলানি হাওয়াই এর প্রতিনিধি হিসেবে রানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসন আরোহণের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দিতে লন্ডন যান। তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন স্বয়ং রানি।
তবে, সেখানেই খবর আসে, দেশে যেন ঠিকপথে চলছে না সবকিছু। তড়িঘড়ি করে ফেরেন তাঁরা। ততক্ষণে অবশ্য হাওয়াই-এর রাজনীতির দাবার চাল গেছে উলটে। এর পটভূমি বুঝতে হলে একটু পিছিয়ে যাই। ১৮২০ সালে আমেরিকান মিশনারিদের প্রথম পদার্পণ ঘটে হাওয়াইয়ে। কিন্তু কেবল ধর্মপ্রচার ছাড়াও তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা ক্রমশ আগ্রহী হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক, এমনকি রাজনৈতিক বিষয়াদিতে। একরের পর একর আবাদি জমির মালিক হয়ে বসে তারা, নিয়ন্ত্রণ নেয় বাণিজ্যের। বিশেষ করে চিনিশিল্পে এদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদেশি ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠতা ছিল হাওয়াইয়ের প্রভাবশালী অভিজাত গোষ্ঠীর সঙ্গে, যারা দেশটিতে পরিচিত ছিল আলি’ইরা নামে। আলি’ই এই মিশনারিদের বিভিন্ন সরকারি পদে নিয়োগ দিলে স্বভাবতই আরো ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে বিদেশি বণিকমহল।
এদিকে, সার্বভৌম অবস্থানের পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীভূত হলে নানান অর্থনৈতিক সুবিধা, বিশেষত শুল্কমুক্ত চিনি রপ্তানির সম্ভাবনা ও এর বিশাল অর্থকরী লাভ বুঝতে পেরে এই বিদেশিরা হাওয়াইকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার উপায় খুঁজতে থাকে। শুরু হয় হাওয়াইয়ের সার্বভৌমত্ব হরণের বিবিধ প্রয়াস। আর তারই অংশ হিসেবে ১৮৮৭ সালে অভিজাত ব্যবসায়ীদের একাংশ (যাদের অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ) রাজা কালাআকাওয়াকে বাধ্য করেন নতুন এক সংবিধান অনুমোদনে, যেখানে রাজতন্ত্রের
কর্তৃত্বের পরিসর আগের চাইতে অনেকটাই সীমিত, হাওয়াইয়ের জনগণের নাগরিক অধিকার হয় ক্ষুণ্ন। অস্ত্রের মুখে জোর করে এতে রাজার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলে বিতর্কিত এই শাসনবিধানটি ইতিহাসে ‘বেয়নেট সংবিধান’ নামেই পরিচিত।
নতুন সংবিধান প্রবর্তনের চার বছরের মাথায় ১৮৯১ সালে রাজা ডেভিডের আকস্মিক মৃত্যু হয়। শোকাহত লিলিউওকালানি, হাওয়াইএর ইতিহাসের প্রথম নারী শাসক হিসেবে সিংহাসনে বসেন স্বভূমির হৃত-গৌরব পুনরুদ্ধারের দৃঢ় সংকল্প মনে নিয়ে। নানান ধরনের হুমকির মধ্যেও তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তাঁর দেশের জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে। তাঁর সামর্থ্য ও প্রস্তুতি ছিল প্রশ্নাতীত, তবে বিভিন্ন কারণে সময়টা ছিল বৈরী। এরই মধ্যে রানির ব্যক্তিগত জীবনেও নেমে আসে বিপর্যয়। সিংহাসনে আরোহণের মাত্র সাত মাস পরই ১৮৯১ সালের আগস্টে প্রয়াত হন স্বামী জন ওয়েন ডমিনিস, লিলিউওকালানি হারান বিশ্বস্ত এক পরামর্শক।
পরবর্তী দু’বছর ধরে রাজশাসনের প্রতিভূ হিসেবে তিনি ব্যাপৃত থাকেন রাজ্য পরিভ্রমণে, শোনেন জনমানুষের কণ্ঠস্বর। দেশের কল্যাণার্থে ‘বেয়োনেট সংবিধান’ বাতিল করে একটি নতুন সংবিধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহ হন। এরই প্রতিফলন হিসেবে ১৮৯৩ সালের গোড়ায় মন্ত্রিসভার কাছে পেশ করেন নতুন শাসনবিধান, যেখানে চলমান ধারার বিপরীতে হাওয়াইয়ের শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় ঐতিহ্যিক কর্তৃত্বের সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়, সংরক্ষিত হয় নাগরিকদের ভোটের অধিকার।
কিন্তু, রানির প্রস্তাবনাটি সাদরে গৃহীত হয়নি; তার চেয়েও বড় কথা, তাঁর অভিপ্রায়ের কথা জানাজানি হলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপন্ন বোধ করেন অনেকেই। রানি লিলিউওকালানি হয়ে ওঠেন শ্বেতাঙ্গ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের প্রধান প্রতিপক্ষ।
অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পটপরিবর্তন হতে থাকে
হাওয়াই-এর ভাগ্যাকাশের। ক’দিনের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতায় এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাওয়াইয়ের শাসনভার গ্রহণ করে, রানিকে বাধ্য করা হয় রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে তাঁর ব্যক্তিগত আবাসস্থলে চলে যেতে। পরের বছর, ১৮৯৪ সালে হাওয়াইকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে, যখন
১৮৯৫-এর জানুয়ারি মাসে রানির সমর্থক তরুণ রবার্ট উইলকক্সের নেতৃত্বে প্রতিবিপ্লবের ডাক দেওয়া হয়। ক্ষমতাসীনরা দ্রুতগতিতে নিষ্ঠুরভাবে এই বিদ্রোহ দমন করে। বিদ্রোহের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৬ জানুয়ারি আটক করা হয় লিলিউওকালানিকে। চাপের মুখে ২৪ জানুয়ারি সিংহাসন ত্যাগ করেন লিলিউওকালানি, তবে বিনিময়ে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। কিন্তু এর পরেও আটক এবং বিচার করে তাঁকে পাঁচ হাজার ডলার জরিমানাসহ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রাসাদের শয়নকক্ষেই অন্তরীণ রাখা হয় তাঁকে। তাঁর অনুগত, শুভানুধ্যায়ীদের কেউ কেউ নানান সময়ে সঙ্গ দিয়েছেন তাঁকে। জীবনের সেই দুঃসহ ক্ষণটির স্মরণে ডায়রিতে লিখেছিলেন, ‘বন্দি জীবনের সেই প্রথম রাতটি আমার জীবনের দীর্ঘতম রজনী’। তাঁর জীবনে প্রভাত বুঝি আর এলোই না। তবে, মনোবল হারিয়ে ভেঙে পড়ার মানুষ নন লিলিউওকালানি। আটক অবস্থায় রচনা করলেন দেশপ্রেমের চেতনায় ভাস্বর সংগীতের মূর্ছনা, হাত দিলেন হাওয়াই-এর প্রাচীন কাব্য অনুবাদে, আর নির্মাণ করতে শুরু করলেন একটি ঐতিহ্যবাহী কুইল্ট বা কাঁথা, স্বদেশভূমির দুর্যোগময় ইতিহাসের এক প্রামাণ্য দলিল।
শৈল্পিক সুষমা কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্ব যে-কোনো বিচারেই ৯৫ x ৯৭ ইঞ্চি মাপের এই নির্মাণটি অনন্য। নয়টি চৌকোনা খোপে বিভক্ত কাঁথাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অসংখ্য টুকরো কাপড়। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো একেবারে কেন্দ্রস্থিত খোপটি। হাওয়াইয়ের সর্বশেষ রাজপ্রতিভূ লিলিউওকালানির জন্ম, সিংহাসন আরোহণ ও চ্যুতি, রাজতন্ত্রের চূড়ান্ত অবসানের ইতিহাস সংক্রান্ত ঘটানাবলির সংক্ষেপিত ক্রমানুপঞ্জি উজ্জ্বল লাল আর নীল কাপড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ঠিক মাঝখানটিতে সাদা স্যাটিনে কালি, পেনসিল আর পলিক্রম রঙে সূক্ষ্মভাবে আঁকা হয়েছে হাওয়াইয়ান কোট অফ আর্মস। তাছাড়াও, কুইল্টে একাধিকবার হাওয়াইয়ের পতাকা, নানান স্মারক, ‘আমার প্রিয় পতাকা’ লেখা রিবনের অন্তর্ভুক্তি স্বদেশভূমির এই ক্রান্তিকালে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থানের নিঃশঙ্ক প্রকাশ। একাধিক ব্যক্তির নামেরও উল্লেখ আছে কাঁথায়, প্রায় সকলেই রানির শুভানুধ্যায়ী, অনুগত সমর্থক। সব মিলিয়ে, নানা রঙের সিল্কের সূতায় বৈচিত্র্যময় ফোঁড়, এপ্লিক ও হ্যান্ডপেইন্টে সজ্জিত কাঁথাটি শেষ পর্যন্ত তাই কেবলই এক দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম থাকে না, হয়ে ওঠে অমূল্য এক ঐতিহাসিক দলিলও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁথার বিভিন্ন ব্লকে দৃশ্যমান বিচিত্র সেলাই নিশ্চিত করে এক হাতে তৈরি হয়নি এটি। রানির সুহৃদদের কেউ কেউ বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছিলেন এর নির্মাণপ্রক্রিয়ায়। সেলাই করে এতে লেখাও আছে, ‘Imprisoned at Iolani Palace … We began this quilt there.’ যদিও,
কাঁথাটির নির্মাণ আয়োলানি প্রাসাদে শুরু হলেও এতে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী, এটি সমাপ্ত হয় ১৮৯৬ সালে রাণির কারামুক্তির পর।
আটকাবস্থা অবসানের পরপরই লিলিউওকালানি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন স্বভূমির অধিকার অর্জনের সংগ্রামে। মনে রাখতে হবে, তাঁর সময়ের একজন অশ্বেতাঙ্গ নারীর জন্য এই সংগ্রাম সহজ ছিল না মোটেও। আগাগোড়াই মার্কিন পত্র-পত্রিকাগুলো তাঁকে উপস্থাপন করেছে অত্যন্ত অমর্যাদাকর ভাষায়। তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘a black pagan queen who wanted nothing short of absolute monarchy’। কিন্তু তিনি ছিলেন লক্ষ্যে অবিচল। তাঁর ভাষায়, ‘আমার জনগণের কল্যাণের জন্য আমি সবই করতে প্রস্তুত। আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দুও তাদের জন্যই উৎসর্গিত’।
যদিও প্রতিপক্ষের সাম্রাজ্যবাদী জিগীষার সঙ্গে পেরে ওঠা ছিল শক্ত। ১৮৯৮ এর গোড়ায় স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি বিবেচনা করে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ম্যাকিনলে একই বছরের ৭ জুলাই হাওয়াইকে যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেন। লিলিউওকালানি তীব্র ভাষায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিবাদ জানান।
এরও প্রায় দুই দশক পর, ১৯১৭ সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে ৭৯ বছর বয়সে তাঁর নিভৃতে জীবনাবসান হয়।
রানির মৃত্যুর পরে কাঁথাটি সযত্নে সংরক্ষিত হয় রাজপরিবারের এক ঘনিষ্ঠজনের কাছে। পরবর্তী সময়ে এটি জাদুঘরে রূপান্তরিত আয়োলানি প্রাসাদ কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছলে কালের করালগ্রাসে দুর্বল, ক্ষয়িষ্ণু কাঁথাটির সংরক্ষণ ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে নানান উদ্যোগ গৃহীত হয়। আর, আয়োলানি প্রাসাদের যে কক্ষটিতে বন্দি ছিলেন রানি লিলিউওকালানি, সেখানেই বর্তমানে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে Queen’s Quilt.লিলিউওকালানির সংগ্রাম হয়তো সফল হয়নি। কিন্তু তিনি তো স্বভূমি আর তার মাটির সন্তানদের ভালোবেসেছিলেন। হাওয়াইবাসী তাই আজো গভীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করে রানি লিলিউওকালানিকে। তাঁর সকল সৃষ্টি – গান কিংবা কাঁথা – প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পরম যত্নে সংরক্ষিত হয় তাদের অনিঃশেষ প্রেরণার অমর প্রতীক হয়ে। আজো তারা পরম আবেগে গায়, Ô¸ love for my homeland and my beloved people, the bones of my bones, the blood of my blood! Aloha! Aloha! Aloha!’


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.