গানে যেন অচিন পাখির দেখা পাওয়া যাবে। সেই পাখির সন্ধানে লেগেছিলাম প্রথম কৈশোরে। পরিবারের প্রভাব, গানেতে অর্থকড়ি-সমস্যায় হিল্লার সম্ভাবনা, লেগে থাকতে পারলে যশ-প্রতিপত্তি-লাভের সুযোগ, এই মতো কোনো কিছু তো আমাকে গানে টানেনি। যাকে জানি না, অথচ ঠিক জানি সে সুন্দর, জাগতিক সব ক্ষুদ্র স্বার্থ-আবেগ-উদ্বেগের ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র, তাকে যেমন করে হোক ঝলকমাত্রের জন্যে হলেও, আমার পাওয়া চাই, – এমন করে আমি সঙ্গীতের পথে তাড়িত হলাম কী করে? সে-প্রশ্নের উত্তর জানি না। শুধু মনে পড়ে ঢাকার পশ্চিম প্রান্তের পোস্তা নামের চামড়া ব্যবসায়ের ঘাঁটির এক মুদি দোকান থেকে চার পয়সার ঝাল বুট কিনে, কামরাঙ্গির চরের ওপর দিয়ে হাঁটা-পথে আমাদের গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দিতাম। একটা একটা করে সে-বুট খেতে খেতে ঘণ্টা তিনের কমেই পৌঁছে যেতাম দাদির ঘরে।
পথের দু’পাশের দৃশ্য এত নয়নাভিরাম নয় যে মন ভোলাবে। ভীষণ একা লাগত ওই দুই-তিন ঘণ্টা। হাঁটছি বটে, সে-তো কোনো কাজ নয়। আচ্ছা, আমাদের গানগুলো তিন-চার মিনিটের কেন? এমন গান হয় না যে দু’ঘণ্টায় শেষ হয় না। গানের এ ছোট মাপটা বেঁধে দিল কে? এই মতো ভাবনাক্রান্ত কিশোরটি, প্রায় যেন কোনো গুহামানবের মতোই নিজেরই কণ্ঠস্বরে খুঁজে পায় এক সঙ্গীকে, যে সারাক্ষণ থাকে সঙ্গে। সেই প্রায় অশেষ সুতোর মতো কণ্ঠধ্বনি অবশ্যই সুরেলা ছিল না। হয়তো ছিল গোঙানিরই মতো কিছু। কিন্তু তা একই ধ্বনির পুনঃপুনঃ আবর্তনও ছিল না, সে-বিষয়ে আমি নিশ্চিত। যখন প্রথম খেয়াল গান শুনি, আমার তা গ্রহণ করতে কোনোই অসুবিধা হয়নি, সম্ভবত সেই কারণে। আমার ওয়াহাবী প্রভাবের পিতামহ-পরিবারের সঙ্গীতশূন্যতা এতই নিশিছদ্র ছিল, নকল করবার মতো নিবদ্ধ কাব্যসঙ্গীত (গ্রাম্য রূপের) আমি তেমন শুনিনি সে-কাল পর্যন্ত। সেও এক কারণ হবে, ঘণ্টাবিস্তৃত খেয়ালগানে প্রথমেই বিরক্ত না হবার। পরে ভেবে দেখি ভারতবর্ষে যেমন পশ্চিমে অর্থাৎ ইউরোপে তেমন, ছোট ছোট খণ্ডে সম্পূর্ণ গান কিংবা বাদ্যকে তত সঠিকভাবে সঙ্গীত কিংবা মিউজিক বলে না। আমাদের এখানেও বিশুদ্ধ সঙ্গীতানুষ্ঠানে যত গান হয়, বাদ্য হয়, তার এক একটি ইউনিট অন্তত ত্রিশ মিনিটব্যাপী হয়। ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি – গান হলেও যেন সঙ্গীতই ভারতবর্ষের। ইউরোপের অপেরাগুলো গীতনৃত্যাভিনয় হলেও, বাখ-বীঠোফেন-মোৎসার্টের ঐকতান-কৃতির মতো সঙ্গীত – ইউরোপের। গান (খণ্ডগীতি) কিংবা খণ্ডবাদ্য ও সঙ্গীতের ভিতরকার প্রভেদটা ছেলেবেলাকার প্রচণ্ড মূর্খতাময়তার ভিতরে কেমন সুন্দর ধরা দিয়েছিল ভেবে অবাক হই। উত্তরকালে সঙ্গীত-নবীনদের কাছে আমার যে-ভাবমূর্তি – গান বিষয়ে বকি বেশি, করি কম – এরই সঙ্গে বেশ সঙ্গতিপূর্ণ আমার প্রথম কৈশোরের ভাবয়িত্রী অগ্রমানতা, কারয়িত্রী পক্ষে একেবারেই, যাকে গ্রামে বলে ফাড্ডা, তাই হলেও।
সঙ্গীতকে আদৌ কোনো রূপে জানবার আগে তার জন্যে যে-তৃষ্ণা তৈরি হয়েছিল কতকগুলি অজানা-মূলের পূর্ব-ধারণার বশে, যে-সঙ্গীত সুন্দরের সারাৎসার এবং পবিত্র এবং ক্ষুদ্র স্বার্থান্ধ সংঘাত-সঙ্ঘর্ষের অতীত, – সেই মতো সঙ্গীত কি বাহাত্তুরে ধরা পরিণত বয়সের বিস্তৃত পটে কখনো পড়েছে ধরা, ফেলেছে দাগ? সঙ্গীত নামের একক্ষেত ঘন সর্ষে ফুল দেখেছি, থেকেছিও তার মধ্যে কখনো কখনো। মৌমাছিও যায় সর্ষে ক্ষেতে, নিয়ে আসে মধু, চাকে জমা করে। আমি মৌমাছি নই, অত মধু পাইনি। কিন্তু জন্ম সার্থক-করা সঙ্গীত কিছু শুনেছি বলে মনে পড়ে। তার কিছু সঙ্গীতের গুণে, কিছু সঙ্গীতকারীর গুণে, কিছু সঙ্গীত আস্বাদনকারীর অবস্থা-বৈগুণ্যে হতে পারে। কিন্তু সঙ্গীতের ফলে যখন চেতনা-স্তরে উত্তরণ ঘটে, অদৃশ্য অনির্বচনীয় জগৎ-প্রবেশের পর, মন তার প্রায় সমস্ত পুরনো অভ্যেস ভুলে, মননশীলতা ফেলে বিশুদ্ধ রূপের (ফর্ম) বোধে নামতে থাকে, তখন কোন পক্ষের কারণে তা ঘটে, সে-বড় কথা হয়ে ওঠে না। প্রায়শ উদ্গাতা, শিল্পী, শ্রোতা – এই তিনের কমবেশ একযোগেই ঘটে সে-উত্তরণ। পৃথিবীর তাবৎ সঙ্গীতপ্রয়াস ও কৃতির পরমাণু-প্রমাণ অংশভাক্ হয়েও এমন বলতে পারছি যে এ-জীবন একেবারে সঙ্গীতাভিষেকবিহীন যায়নি। এই সত্যকে আমার জীবনের সত্যসমগ্রে বড় মূল্যবান বলে গণ্য করি। জীবনে সঙ্গীতের স্থান এমন অতুল ও উচ্চে হওয়ায় আমার কষ্ট বেড়েছে, ট্যান্টেলাসের যন্ত্রণার মতো। সঙ্গীতের পরম প্রাপ্তি অবশ্যই এই বিদ্যার কৃত্যেই কেবল সম্ভব। শিল্পী সহস্রবার সঙ্গীত করলে তার থেকে কয়েকবার অন্তত শিল্পরসোত্তীর্ণতা পেতে পারে সে। কিন্তু যে কেবলই শ্রোতা, সে লক্ষবার শ্রবণেও সঙ্গীতকে, তার সর্বসত্তায় না-পাবারই সম্ভাবনা তার। যদিও উত্তম শ্রোতা অনেক সময়েই মধ্যম সঙ্গীতশিল্পীর চাইতে রসগ্রাহিতা ও রুচিতে অগ্রে থাকতে পারেন। আমার সঙ্গীত করাতে – বাদ্য তেমন করে তো বাজাইনি। গান করাতেই ক্ষমতা থেকে অক্ষমতা থেকেছে বেশি অথচ বিস্তৃত এবং বিশুদ্ধ শ্রবণে আমার রসিক চিত্তের প্রসার হয়েছে বেশ। তাতে দুই জগতের ভালো যা কিছু পাওয়ার চাইতে, তাদের অপূর্ণতাগুলো মিলে আমাকে একটি মুখ ব্যাদানকারী অসার্থকতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যেন সে প্রায় কুহকিনী হয়ে আমার মন হরেছে, আত্মার শান্তির প্রতিশ্রুতি হয়ে দুলেছে অস্তিত্বের সঙ্গে, আমি পারিনি তাকে বুকে টেনে নিতে। যেন এক দুর্মর প্রকৃতিদত্ত সীমাবদ্ধতার কারণে।
ঝিলু নামের আমার নার্সিসাস-প্রায় বন্ধুটির সঙ্গে যথেচ্ছা করে বেড়িয়েছি আটচল্লিশ থেকে। বন্ধু মীর কাসিম খাঁর কাছে সেতারে সাগরেদি করবার কালে উড়ো খবর শুনলাম, ড. এস্ হেদায়েতুল্লাহ সাহেবের ফার্মগেটের লালবাড়ির পিছনের প্রমথ বাবুর পেয়ারা বাগান – সেখানে এসেছেন বোম্বে থেকে সেতারী, সুধাংশু – পদবি ভুলে গেছি তাঁর। বাড়ির মেয়ে সুষমা কর রেডিয়োতে এস্রাজ বাজান। না গিয়ে থাকতে পারলাম না সুধাংশু-সুষমা সকাশে। ক’দিন ঘোরের মধ্যে কাটল। সুধাংশু চলে গেলে সুষমার সঙ্গে বন্ধুতার অসমতা (তখনো স্কুলে পড়ি আমরা, দেশ-ভাগ সদ্যই ঘটে গেছে) আমাদেরকে নিরুৎসাহিত করল সে-বাগানময় বাড়িতে যেতে। কিন্তু সঙ্গীতাসরের আনন্দটুকু রইল মন জুড়ে। আব্বাসউদ্দীন সাহেবের বড় ছেলে মোস্তফা কামালকে চিনি মুকুল ফৌজের সূত্রে। তার সূত্রেই কিনা জানি না, ছোট বোন র্মীনা (ফেরদৌসি) ও ভাই তুলুকে (আব্বাসী) ডেকে বসি গান করবার জন্যে ঝিলুদের রহিমবখ্শ্ লেইনের গোলাপি দোতলায়। তারা তখন আবদুল গফুর খাঁ নামের এক বাঙালি শিক্ষকের কাছে শিখছে গান। বেশ গাইল দুজনে একযোগে ভূপালিতে খেয়াল একটি।
পারিবারিক বিপর্যয়ে ঘিরল আমাদেরকে অনন্তর। বাবা মাত্রই বিয়াল্লিশ বছর বয়সে ছেড়ে চলে গেলেন। মায়ের সন্তান আমরা পাঁচটি। সম্পদহীন সহায়হীন বেঁচে থাকলাম, মোটামুটি পূর্বের মানেই। বাবার আগ্রহ ছিল উচ্চ-সঙ্গীতে ও গজলে। বাবার অভাবটা মা বুঝতে দেননি আমাদের। মার জন্যে একটা সেতার সংগ্রহ করলাম। তিনিও আগ্রহ করলেন। বাবা গেলেও জ্যেষ্ঠ সন্তান আমি, অনভিজ্ঞ, সংসারে খুব একটা জড়ালাম না। মা জড়াতে দিলেন না। গয়না বেচে, আসবাব বেচে, গ্রামে বিঘা কয় যা ছিল বেচে সংসার চালাতে লাগলেন। ক্লাস সেভেন-এইটের কালে একটা বৈরাগী বাউন্ডুলে মিশ্র মানসিকতায় ঢুকে পড়েছিলাম, আবদুল করিম খাঁ ও ফিনসেন্ট ফানখখের নিশির ডাক শুনতে পাবার দোহাইতে। খাঁ সাহেবের গান কানে বাজত সারাক্ষণ, ফানখখের হলুদ শরতে বসন্তে আমাকে হানা দিত।
আতিকুল ইসলাম, বন্ধু রফিকের সুকণ্ঠ ছোট ভাই, তার মানিকজোড় দুষ্টের শিরোমণি কাজী আনোয়ার হোসেন, কেন যেন আমাকে খুব গ্রহণ করে। ওরা আমার অনুজ বাচ্চুর সহপাঠী কিন্তু চলত-ফিরত আমার সঙ্গে। আতিকের জন্যে গানের শিক্ষক প্রয়োজন, সোহরাব হোসেনকে পাকড়াও করি জিন্দাবাহার গিয়ে। কবর জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়, এ কোন মধুর শরাব দিলে আল-আরাবী সাকী – বলে তার দুটো গান ডিস্কে বেরিয়েছিল কলকাতা থেকে ঢাকা আসবার আগেই। গিরিন চক্রবর্তীর একটি গান গোপাল দাশগুপ্তের লেখা ‘আমার গানের পাখি তোমার কানন ছায়’ তখন সোহরাব ভাই খুব গাইতেন। সোহরাব ভাই আতিকদের রেলোয়ে বেড়ার ঘর-কোয়ার্টারে (আতিক-রফিক-ফারুক-মাসুমার বাবা রেলোয়ে-ডাক্তার ছিলেন) মধ্যমণি হয়ে যেন একটি সঙ্গীতের কেন্দ্রই খুলে ফেললেন। শুধু তাঁর স্বভাবসিদ্ধ নজরুলই শেখাতেন না তিনি, রবীন্দ্রনাথের গানও একটি দুটি করাতেন। আতিকের মন ছিল বিশ্বকবির গানে কিন্তু সমান দাপটে গাইত সে ভাওয়াইয়া এবং ভাটিয়ালি। গুরু-শিষ্যের স্বরচারিত্রে (টিম্বর) অদ্ভুত একটি মিল ছিল, চিকন মধুর রেশমি। আমার বাবারও কণ্ঠ ওইরকম ছিল। আমার ধারণা রবীন্দ্রনাথেরও তাই ছিল। উচ্চগ্রাম, চিকন, রেশমি। রবীন্দ্রনাথের বেলায় বাড়তি ছিল ওজস্। শিক্ষিত সঙ্গীতকারের কাব্যিকতার নাটকোচিত বলিষ্ঠতা।
কোথা থেকে একটি যেন ভড়ংয়েই জড়িয়ে ফেললাম নিজেকে। ঝোলা একটি নিলাম কাঁধে। তাতে আছে স্কেচ বই, বোর্ড আর গীতবিতান। রবীন্দ্রনাথ টানছেন খুব, গানে কবিতায়। চার অধ্যায়, চোখের বালি, ঘরে বাইরে দিয়ে। বেশিদিন লাগেনি বুঝতে এটি ভড়ং দেখাচ্ছে। ছাড়লাম স্কেচ বই, স্কেচ করাই, ছাড়লাম গীতবিতান বয়ে বেড়ানো। ঝোলাটি রইল। বছর চারেক পর পাঞ্জাবি পরতে আরম্ভ করলে, ঝোলার সঙ্গে মিলে যে-একটি পাকাপোক্ত টাইপে পড়ে গেলাম, তা বুঝেও ওই দুটি আর জীবনে ছাড়তে পারলাম না। এর বছর পাঁচেক পরে আসফউদ্দৌলা কলি আমাদের ঘনিষ্ঠ হলে দেখা গেল আনোয়ার হোসেনও (নবাব, পরে মাসুদ রানা গোয়েন্দার স্রষ্টা) বেশ ভালোই গান পারে। আমার উঠতি বয়সের, ফটিকের বয়সের যত অপরিণতি যত নীরব আত্মঘোষণা – তা সবের মধ্যে ওরা ছিল। আমার উন্মেষের কালে, আমার পবিত্রতম সব অনুভূতির কালে, আমার ভুলভ্রান্তিতে ভরা সব উপলব্ধি-আরম্ভের কালে ওরা ছিল আমার সতত-সঙ্গী। নবাব গান ছেড়েছে, লেখা ছেড়েছে কিনা জানি না। আতিক মশারিতে আগুন লেগে পুড়ে মারা গিয়েছিল যৌবনে ভাটার টান আরম্ভ হবার আগে। কী যে বাবু ছিল আতিক! শান্তিনিকেতন থেকে পাশ আর আরেক পোঁচ পালিশ নিয়ে ঢাকা ফিরে কিন্তু গোঁ ধরল ঢাকার স্থানীয় ভাঙা উর্দুভাষী মানুষকে রবীন্দ্রসঙ্গীতে টানবে সে। খুবই চেষ্টা করেছিল। সফল কতটা হয়েছিল জানি না। বাফাতে যোগ দিয়েছিল শিক্ষক হয়ে। সেখানে কলকাতার জ্যেষ্ঠ গায়ক-শিক্ষক ভক্তিময় দাশগুপ্ত ছিলেন। দু’জনে মিলে অসম্ভব করেছিলেন রবীন্দ্র-শতবার্ষিকী উৎসবে। বুলবুল একাডেমী পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বার্ষিক বরাদ্দ পেত, পেত প্রাদেশিক সরকারের কাছ থেকেও। সরকারি অসন্তোষের নিশ্চিত ঝুঁকির ভিতরে থেকেও তাঁরা শ্যামা ও চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যদুটি করিয়েছিলেন। এবং মাসাধিককাল নিবিড় মহড়ার জন্য যে বাফার ওয়াইজ ঘাটের পুরনো প্রাসাদটি পাওয়া গেছিল তার মূলে ছিল আহমদ হোসেন, যুগ্ম সচিব, বাফার। ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গন আহমদের কাছে কতভাবে যে ঋণী, কিংবা মিসেস বি-আহমদের কাছে তা বলে শেষ করা যায় না।
ধূর্জটিপ্রসাদের বই আছে ‘মনে এল’। আমিও কি তাই লিখতে বসেছি? ধূর্জটিপ্রসাদ মনে চলে আসা ভাবনাগুলি লিখেছেন। আর আমি লিখে চলেছি মনে চলে আসা মানুষদের কথা? ঠিক তাই কি? গানের মানুষদের কথা, তাও কি? না, আমার ঋণের খাতা খুলেছি আজ। কয়েক পৃষ্ঠায় দেখছি তার সাঙ্গীতিক উত্তমর্ণের তালিকা। ঋণশোধের প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু শুধুই যদি নামগুলি তাঁদের লিখে যেতে পারতাম, ঋণগুলি মনে পড়ত। তাঁদের দয়ার দানের স্মৃতি আমাকে মানুষ হিসেবে বিনম্র কোমল করে, আমার শিল্পান্বেষা, বিজ্ঞানোৎসুকতার আমাকে উন্মুখ রাখত শেষদিন পর্যন্ত। ভারত-সংস্কৃতিতে মনুষ্যত্বের সাধনায়, সঙ্গীতের সাধনায় বিনয়ের স্থান সু-উচ্চে। কিন্তু জীবনভর ‘সকল অহঙ্কার হে আমার’ বলে হাপুস চোখে কেঁদেও মনের ভিতরে লুটাতে পারলাম কই ‘ওই আসনতলের মাটিপরে’? কিন্তু আমি এও ঠিক জানি এক বসায় আমার মহাজনদের সবাইকে তো মনে আনতে পারব না। মনে করে বাকি জীবনের প্রতিদিন তাদের সকলকে মনে করতে করতে কাটিয়ে দিই।
হ্যাঁ, আতিক আর নবাব কত যে দিয়েছে আমাকে। তাদের ছেলেমানুষী অবিচ্ছেদী অত্যাগসহন লগ্নতায় ডুবে ছিলাম আমি দীর্ঘ দিন। এবং আমাতে অঙ্কুর কত যে গজিয়েছিল সে-সময়ে। এবং কত যে আকর্ষে ছেয়ে যাচ্ছিল আমার অস্তিত্ব, যে-রিসেপ্টর অ্যানটেনাগুলি দিয়ে নিয়ে নিয়ে আমার জীবনের পথ কাটলাম। কিন্তু সে-পথ ফুরায় না মোটে। চলেছি অনুক্ষণ, কিন্তু এগিয়েছি কিছু বিশেষ নয়। সঙ্গীতের বেলায় আমার চলা বিশেষ করে অসার্থক বলেই আজ আমি আমার অন্তঃস্থ মহাপ্রাণীকে পায়ে পড়ে বলছি, এখনো বেলা আছে বুঝি, আমার উপায় কিছু করো। আমি যেন গানে সব উজাড় করে কাঁদতে পারি, আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরা পলে পলে কবে আমার শেষ হবে!
মনে পড়ে সেই আতিকদের বেড়ার ঘরের বৈঠকখানা। সোহরাব ভাই প্রাণপণ চেষ্টায় যমুনা কা তীর-এর কপি গাইছেন, কিংবা বগুড়া অঞ্চলের কালোমতো গীতিকার নুরুল ইসলাম তার নতুন গানের বিষয়ে বলছেন। আতিকদেরকে নিয়ে ভিন্ন আড্ডা ছিল, কায়েতটুলি আগা সাদেক রোডের সালেহীনদের বাড়ি। মজার এক চরিত্র ছিল ওই মকসুদুস সালেহীন, একদা মধুর গ্রাম্যতা ছিল তার চলায়-বলায় যা শহুরে অগভীর চটপটে-পনার চাইতে অনেক ভালো ছিল। তার বাবা
ছিলেন শিক্ষক, ময়মনসিংহ অঞ্চলে। বাড়ি থাকত খালি। আশ্চর্য, সেই শিক্ষকের ছিল গ্রামোফোন রেকর্ডের সংগ্রহ – এবং তাতে বেশকিছু ফৈয়াজ খাঁ। কেমন যে টানত তাঁর ওই তিন চার মিনিটের গানগুলি। আর ছিল এন্তার পঙ্কজ মল্লিক মশায়ের রবীন্দ্রসঙ্গীত। সেই রেকর্ড¯তূপ
থেকে আতিক, মানে মরু – এমন ডাকনাম আর কোথাও কখনো পাইনি – সযত্নে তুলেছিল সেই ব্যতিক্রমি – আঁধার অম্বরে প্রচণ্ড ডম্বরু বাজিল গম্ভীর গরজনে।
একদিন সেই বেড়ার ঘরে সোহরাব ভাইকে বলি, ভাই আপনার পাশেই তো বসে থাকি, আমি গানটা ধরে ফেলি না কেন? শুনে সোহরাব ভাই প্রচুর হেসেছিলেন, থামতে পারছিলেন না। তাঁর রাণাঘাটি মিষ্টি বাংলায় ঠাট্টায় ভরা কিছু কথাও বলেছিলেন তখন, যা শুনে আমার গান করবার আগ্রহ সারা জীবনের জন্যেই যেন দূর হয়ে গেছিল। আমার মনের এই সুপ্ত ইচ্ছার কথা জানত আতিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের বেয়ারা কানু। হারমোনিয়াম বেচতে চায়। দোকানে দিয়েছিল, সারাবার খরচ না দিতে পারায়, বেচেই দেবে সে সাধের জিনিসটা। ষাট টাকায় কেনা কানুর হারমোনিয়াম ঘরে ঢুকিয়ে মাকে বললাম, বাবাকে বোলো টাকাটা দিয়ে দিতে। আমার ঘরে সঙ্গোপনে অতি সন্তর্পণে টেপাটেপি করি সেই যন্ত্র। ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে রেণুবুজির – সৈয়দ ফারুকুর রহমানের মার কাছ থেকে নিয়ে আসি স্বরবিতান নবগীতিকা। তার থেকে সহজেই তুলে ফেলতে পারি ‘হায় গো, ব্যথার কথা যায় ডুবে যায়, যায় গো’। বইয়ের পিছনে ছাপা নিয়মগুলি ভালো করে পড়ে নিয়ে। কিন্তু গান শুনে তুলতে পারি না কিছুতে। আবদুল রেডিওতে শেখাচ্ছেন ক’দিন ধরেই বাচ্চাদের ছড়াগান, টুপ টুপ টুপ, বৃষ্টি পড়ে কান পেতে শোন, থাকরে সবাই চুপ। সুরটা ছেলেমানুষি, সরল। যেন সারেগামা শেখাবার একটা কৌশল। তুলতে চেষ্টা করি। এক স্বরে টুপ বাজিয়ে আর এগোতে পারি না। বহুপরে দাউদ খান মজলিশের সুনীতি কুটিরের চিলেকোঠায় লুভার বাবা আনিস চৌধুরির যেমনটা হয়েছিল ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ গাইতে গিয়ে। নিঃসীম শূন্যের শ্রাবণ বর্ষণ-সঙ্গীতে বলে সেই যে একটা স্বরে আটকে গেল, – সে আটক আর খোলে না। দম ফুরিয়ে আবার দম ধরে, তারপরও ছোটে না। পিঠের ওপর কে সজোরে আঘাত করে তাকে সে-যাত্রা উদ্ধার করে। কিন্তু আমার একলা ঘরে আমাকে পিঠে মারবে কে? একটা পর্দা টিপছি, টুপ্ টুপ্ টুপ্। কখন আতিক ঘরে ঢুকেছে, টের পাইনি। অনুচ্চ কণ্ঠের চাপতে না পারা হাসি শুনে তাকিয়ে দেখি আতিক। বললে, অনেক হয়েছে, আপনাকে দিয়ে হবে না। তার কথাতে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ ছিল না। ছিল মায়া। তার কথা জানি না কেন থেকে থেকে এত মনে পড়ে। অমন চোখ, অনেকটাই কাজলী গরুর চোখের মতো, আমি আর দেখিনি। কৃষ্ণকে কালো বললে অনেক ভক্ত কষ্ট পান। তারা বলেন, ও রকম গায়ের রং আর কারো কখনো হয়নি। আতিকের গায়ের কালো বরণ যেন আর কখনো কারো হয়নি। চিকচিক করত তা।
ওই তো সুরের অবস্থা! সেই অবস্থায়ই মূর্খের অন্তহীন সাহস নিয়ে সমানে ফৈয়াজ খাঁ কপি করি। সুনাম তার পৌঁছায় গিয়ে নবাবদের অর্থাৎ কাজি মোতাহার হোসেন সাহেবদের অন্দরে। শান্তিনিকেতনের সর্বোচ্চ ডিগ্রি কৃতিত্বের সঙ্গে বাগিয়ে নিয়ে শ্রীমতী সন্জীদা ঢাকা ফিরবার তিন মাসের মধ্যে আমার মায়ের কাছে এক ঢাউস স্যুটকেসসহ উপস্থিত হয়ে বলে যে, খালাম্মা আমি আর যাবো না। সেই কথাকে সম্মান করতে গিয়ে মা সেইদিন বিকালেই কাজি (গোলাম আযমের যারপরনাই ভদ্র পিতা) ডাকিয়ে বিয়ে পড়িয়ে আমাকে তাঁর জীবনের একমাত্র নির্দেশটি দেন, চোখের জলে ভেসে, যিনি এলেন তাঁর যেন কোনো অসম্মান হয় না কোনোদিন, তোমার থেকে। জানি না,
নির্দেশ তাঁর পালতে পেরেছি কতটুকু। তিনি থাকলে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতাম।
কিন্তু তিনি আমার সম্মান রেখেছেন সারাজীবন। সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ছিল বিয়ের তিনদিনের মাথায়। তা সহজেই পেরিয়েছেন। কী ব্যাপার, তোমার এত নাম শুনি গানের, তুমি সারাদিনে একটু গুনগুনও করো না। গান শোনাবে একটা? পঞ্চাশ সনে চার বন্ধুতে মিলে রংপুর বেড়াতে গিয়ে সহপাঠিনী ভাগ্নি আভার সুন্দর গলায় শুনেছিলাম ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা। তাই মনে করে করে গাইলাম। তিনি নির্বাক গম্ভীর রইলেন অনেকক্ষণ। আমি রয়েছি আশঙ্কায় টইটম্বুর, নীরবতা ভাঙলেন তিনি। এই কথাবার্তা হলো –
– গানে তো সুর লাগে, না?
সে আর বলতে।
তোমার তো লাগলো না।
তাই?
গানে তাল থাকতে হয় না?
না হলে গান হবে কী করে?
তোমার তো থাকলো না।
বেশ।
গানতো, কথা তাতে থাকবেই।
অতি অবশ্য।
তোমার যে কথাগুলো একেবারে ঠিক নেই।
আমি আর কিছু বলতে চাই না। আমার নিজের লজ্জার বোধকে ছাপিয়ে ঘিরেছে আমাকে তাঁর উভয়-সঙ্কটে পড়া যন্ত্রণাকাতর মুখচ্ছবি। অনেক পরে তাঁর কাছ থেকে সত্যেন দত্তের চারটা লাইন পেয়েছিলাম, – নাক ডাকানো নিয়ে।
স্বামী নয়, ঘুমের শনি।
প্রাণ কাঁপে নাকের ডাকে।
মা-বাপ যখন পাত্র দেখেন
দেখেননি ঘুম পাড়িয়ে তাকে।
আমাকে ওই মার্চের মধুমাসের আগে পছন্দ করবার আগে তাঁর উচিত ছিল গাইয়ে বাজিয়ে নেওয়া। এখন আমাকে বরখাস্ত করাটা কেমন হবে? অথচ এই রকম একটা আকাট মূর্খ বিকট ফ্রডকে নিয়ে চলাই-বা যাবে কী করে/ আমি তো তুচ্ছ, মহিলাকে উপস্থিতমতো উদ্ধার করবার জন্যে ওয়ল্টর স্কটের আইভানহো পড়া সমস্ত শিভল্রি একযোগে জেগে ওঠে। বলি, তার চাইতে (কিসের চাইতে, আমাকে ডিসমিস করবার চাইতে?) আমাকে একটা গান শেখাও তুমি। তাই ভালো বলে তিনি হারমোনিয়ামটা টেনে নেন। কিন্তু আমার আজন্ম জ্যাঠামো ওই দুর্ঘটনায় আদৌ স্তিমিত হয়নি। বলি, “তুমি ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ গানটা শেখাও।” কয়েকদিন আগে আতিকের মুখে শুনে ভারি ভালো লেগেছিল। ‘মেঘ বলেছে যাব যাব, রাত বলেছে যাই। সাগর বলে কূল মিলেছে আমি তো আর নাই’। এটা স্থায়ী বা গানের লোকদের আস্থাই। সে-সব আমি জানি কত কাল থেকে। শুধু গাইতেই পারি না। হারমোনিয়ামে সুর তুলে কণ্ঠ সহযোগে তিনি আমাকে উৎসাহিত করেন গলায় তার নকল তুলতে। চরণদু’টি কোনোমতে উঠে যেতেই আমি বলি আর নয়। আমি তোমাকে এটুকু তোমার পছন্দমতো শোনাতে পারলেই, আবার দিয়ো।
কয়েক মাসে সহস্রবার কলিটি ফিরে ফিরে গেয়ে, আমার দখলে যতটাই ভাবয়িত্রী ক্ষমতা আছে তা দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করে, নিউজরুমে টেলিপ্রিন্টার মোটরের একটানা তানপুরা-প্রায় শব্দের সঙ্গে গেয়ে, একদিন সাহস করলাম, শোনালাম। বললেন তিনি, বেশ হয়েছে। হয়তো আমাকে উৎসাহ দেবার জন্যেই। দ্বিতীয় কলি অন্তরাটি নিলাম। মাসেক মাসদুই একেক কলি তৈরি করে জমা দিয়ে প্রায় বছরখানেক পরে সবটা গান হলে, তিনি বাহ্যত খুব প্রসন্ন হন। আমি কিন্তু জানি ওই দৃশ্যমান প্রসন্নতার অনেকটাই ছিল উৎসাহ-দান সবারণ পক্ষপাতের ময়ানে তৈরি। আমার গানের ব্যাপারে সারা জীবনেই তিনি কখনোই নিশ্চিত সুস্থির হতে পারেননি।
ওই আমার প্রথম গানের গুরু। সন্জীদা। এই গানের পরেই বুঝি শিখি ‘এই তো তোমার প্রেম ওগো, হৃদয়-হরণ’। ওই সময়ে তিনি খুব গাইতেন ‘আমার মল্লিকা বনে’। গাইতেন ‘জানি জানি কোন আদিকাল হতে’। এবং ‘যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা, তোমায় জানাতাম’। আমার শত পাকামির ভিতর দিয়েও খুব মনে করতে পারি এই গানগুলি আমি আমার জীবনে আরো ভালো কারো কাছে শুনিনি। এইমতো অনেক গানের কথা মনে হতেই তাঁর কণ্ঠটি আমার মনে। রীতিমতো গাণ্ডন বেঁধে ছোলাগুড় খেয়ে গুরু মেনেছিলাম আমি রামপুরের সখাওয়াৎ হুসেনকে। কিন্তু আমার বেকার নিরন্ন দিনে, আমি সুবিচার করতে পারিনি আমার শিষ্যত্বের ব্যাপারে। বৃথায় গেছে তা। সখাওয়াৎও গুরুর আসন থেকে চট করেই নেমে কাঁধাকাঁধি বন্ধু হয়ে গিয়েছিলেন।
আমার মতো জ্যাঠা ছেলের পক্ষে কারো পায়ের নিচে বসে উপদেশ নেওয়া খুবই কঠিন। রবীন্দ্রনাথেরও এই সমস্যা ছিল। কিন্তু তার কারণ জ্যাঠামি ছিল না। অসম্ভব মুখচোরা ছিলেন তিনি। আমি বহু বৎসর পরে আমার দ্বিতীয় গুরুকে খুঁজে পাই। সেও সন্জীদা-প্রসাদাৎ। মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দায়িত্ব পড়ে গানের দল গড়বার। সেই দলের গান শুনে আমার সন্তোষদা, সন্তোষ সেনগুপ্ত, গ্রামোফোন কোম্পানির বড় কর্তা, আমাকে বলেন, আমাদের কিছু গান রেকর্ডে বার করতে চান তিনি। একটি থাকবে তাতে একক। সন্জীদা গাইবেন। সার্থক জনম আমার, জন্মেছি এই দেশে। সেই গান দেখে নেবার জন্যে তিনি যাবেন শৈলজারঞ্জন মজুমদারের কাছে। আমি বললাম, আমিও যাবো। সুদূর আটচল্লিশ থেকেই আমি কী করে তাঁর ভক্ত অথচ তাঁকে চোখে দেখিনি, তাঁর বাঁশিও শুনিনি তখনো। ক্রিস্টোফার রোডের সিআইটি ফ্ল্যাটগুলোর ঘুপচি ঘরে শিক্ষাদান চললো। আমি বাইরে বারান্দায়। সন্জীদার আওয়াজ পাই। আর আওয়াজ এস্রাজের। শৈলজাদা বাজাচ্ছেন। তাঁর গলা পাই না। যেটুকুই তাতেই আমার দ্বিতীয়, জীবনগুরুকে বরণ করে নিতে অসুবিধা হয় না।
সন্জীদা আমাকে উদ্ধার করেন অনিবদ্ধ গানের বেসুর আবৃত্তি থেকে। একটা জগৎই খুলে দেন। কেবল গান দিয়ে নয়, হাত দিয়েও। যতবার লোককে বলি বুড়ো হয়ে গেলাম রে ভাই, ততবারই ভিতরে ভিতরে বলি, বুড়ো না কচু। বাইরে লোকে ভাবে, একী, বুড়ো কি নতুন হলেন নাকি! এবারে মনে মনেও মানতেই হয় বুড়ো হয়েছি। আমার প্রাণপ্রিয় সঙ্গীতগুণী কানাইলাল শীলের মূর্তিটা মনের চোখে ভাসে, আর আমি স্থির থাকতে পারি না। কুলপেশায় নরসুন্দর শীলেরা। তাদের কেমন যেমন একটা আলাদা ছাপ আছে মুখে। কানাইদার তাই ছিল। তাঁর সরোদ আকারের দোতরাটিতে তিনি যখন মত্ত হয়ে ঝংকার তুলতেন, ওই চেহারাটি তাঁকে দেবত্বে উন্নীত করত। সেই কানাইদার কথা লিখতে গিয়ে কিনা আমি তাঁকে দিব্যি ফটিকচন্দ্র শীল বানিয়ে ফেললাম! তাঁর সঙ্গে একই কালে আমার পরিচয় আমার বেহালাবাদক ফটিক দত্ত মশায়ের। আটচল্লিশেই। কী করে একের নাম অপরের ঘাড়ে গেল, কী লজ্জা! বুড়ো বলে হাজারবার নাকখপ্তা দিলেও এ-পাপের যথোচিত মোচন হবার নয়।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.