গুরু কৃপাহি কেবলম্

গুরুদেব আমায় প্রচুর চিঠি লেখেন, কিন্তু পাঠানোর সময়

ছিঁড়ে ছিঁড়ে দেন, আমি জমিয়ে জমিয়ে তৈরি করি ছিন্নপত্র

আমি গুরুদেবকে প্রচুর পোয়েট্রি পাঠাই, তিনি তা জমিয়ে জমিয়ে 

মহাভারত করেন।

কালোর দোকানে চা খেতে খেতে বলেন, গুন্ডা-মাস্তানে

জগৎ ভরে গেল, এখন আর কবি কোথায়? দুপুরে খেতে বসে বলেন,

কী অপূর্ব ডাল ভাই ছুটি! আর একটু দাও।

সূর্যাস্তের সময় জানলা দিয়ে চেয়ে থেকে বলেন, দুনিয়া পুরো

পুরিয়া হয়ে আছে গো। নাঃ ভাবছি দ্রুত্ ছেড়ে দেব, অলওয়েজ

হোলহার্টেডলি বিলম্বিতে চলে যাব। মাঝে মাঝে ‘কাটিতে কাটিতে ধান

এলো বরষা’য় টপ্পার সুর দেন, তিন তেহাই মেরে সমে এসে

জিগ্যেস করেন, কাকে ডাকি বলো দেখি গাইতে?

রামকুমার না শ্রীকুমার, বাপ না ব্যাটা, সেপাই না ঘোড়া?

উত্তর করি না। জানি সমাধান সব তাঁর কাছেই। আমি শুধু তাঁর

আয়না। সামনে বসিয়ে হাল্কা করে গোঁফ-দাড়ি ছেঁটে নেওয়া।

উত্তর করি না। বরং নীরবে একটা-দুটো করে

সাত-সাতটা কাণ্ড ঘটাই আর নিরীহ মুখে জিগ্যেস করি,

‘আচ্ছা সীতা কি আপনার বাবামশায়?’ জিগ্যেস করি, কেননা

এত কাণ্ডর পরও, যদি তিনি রামায়ণটা শেষ করে দেন।