সন্ধ্যার এ অন্ধকারে জুঁইকলি বসে আছি দেখো – নীরব রাত্রির ডাক শোনা যায়। চাঁদ জ্বলে দূরে একেবারে মুখোমুখি, সুবর্ণ আকাশ চূর্ণ করি, অপেক্ষা ঘুমের জন্যে? প্রয়োজন নেই । দেরি হবে একটু হয়তো, সাক্ষী মানি তোমাকে যে । কেউ নেই । ঘুম এসে যাবে ঠিক, হাতড়ে হাতড়ে ধীরে ধীরে শিয়রের পাশে, সেই কোথায় দূরের পথে কেউ হাঁটে স্বপ্ন কাঁধে নিয়ে। ‘নেমেসিস’ পথে নেমে আসে আমার চোখটা কেটে ফেলি তোমাকে দেখি না বলে । সন্ধ্যারাতে অন্ধকারে মুখোমুখি বসে কি এমন বাতাস হাতড়ে নেব? তুমি জানতেও পারবে না, বুঝবে না কিছু, মুখ গুঁজে পড়ে আছ কক্ষপথে ।
ইস্পাত বিদীর্ণ করে নষ্ট রেলগাড়ি চলে যায় যেমন গিয়েছে চলে সেই হাজার বছর আগে। তোমার দুহাত ছিল লোহা-জানালার শিকে ঝুলে মুখ কি বাড়িয়ে ছিলে? মনে নেই? ভুলে গেছ কেন? ‘সন্ত’ জুঁই ফুল ঝুরঝুর পড়ে শিশিরের শব্দে, মনে করি যদি নরম একটু নিদ্রা আসে চোখে কোমল একটু হাওয়া, বিস্মরণী নদী পার হয়ে এই শিয়রের কাছে হয়তো বসবে। চুমু খাবে তুমি তো জানই সুখী আমরা কেউ তো নই । কেউ… আফ্রোদিতি অভিশাপ আজো যেন পিছে পিছে ঘোরে বহু সন্ধ্যা কেটে গেছে। বহুদিন অতিক্রান্ত । তীক্ষ্ণ প্রেমটুকু পুড়ে গেছে, অগ্নি-জলে মিশে গেছ ব্ৰত – কষ্ট বুকে বেঁধে বসে আছি, জুঁইকলি দেখো তুমি পাগল প্রেমিক সন্ত, সকালের সেই ছায়া পাখি – দুপুরের নিদ্রাটুকু, অথবা রাত্রির রাজহাঁস স্বপ্নছোঁয়া পাখা, মেঘ তুমি মনে রেখো তবে, স্পর্শ করো হাত অলৌকিক । এই মন এই চোখ ছুঁয়ে ওপারেও মনে রাখা যায়, ভালোবাসা যায়, স্বপ্ন দেখা যায় । কান্না শোক প্রেম জ্বলে অন্তিম সন্ধ্যায় ।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.