১৯৪৫ : ১৭ জুলাই ১৯৪৫ সালে পুরনো ঢাকায় জন্ম আবুল হাসনাতের। তাঁর কবি নাম মাহমুদ আল জামান। তাঁর পিতা মোহাম্মদ হোসেন এবং মা মোমেনা খাতুন। আবুল হাসনাত পিতামাতার আট সন্তানের (তিন মেয়ে ও পাঁচ ছেলে) মধ্যে প্রথম।
১৯৫৩ : ঢাকা নবাবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৫৮-৫৯ : ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ঢাকার প্রথম ডিভিশন ক্রিকেটে অংশগ্রহণ।
১৯৬১ : গ্রাজুয়েট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশনে পাশ করেন।
ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান।
১৯৬৫ : জানুয়ারিতে দৈনিক সংবাদে যোগদান।
১৯৬৬ : জগন্নাথ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি।
১৯৬৭ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ।
১৯৬৮ : সংস্কৃতি সংসদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ।
১৯৭০ : তাঁর প্রথম গ্রন্থ পশতু গণমুখী কবিতা প্রকাশ।
১৯৭১ : ২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছাত্রসমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে শপথ পাঠ করান।
২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে শহিদ মিনারে ছাত্র-জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সপক্ষে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রথম সমর্থন ঘোষণা করেন।
মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ২৯ মার্চ গৃহত্যাগ। ১৩ এপ্রিল পায়ে হেঁটে যাত্রা করে ১৪ এপ্রিল আগরতলায় প্রবেশ। পরে কলকাতায় গমন।
২৪ এপ্রিল থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দফতর পরিচালনার ও সমন্বয়কের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ২২ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন।
১৯৭২ : তাঁর রচিত নৃত্যনাট্য লাল গোলাপের জন্য প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীমেলায় মঞ্চস্থ হয়।
গণসাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে এক বছরের প্রশিক্ষণার্থে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে (বর্তমানে রাশিয়া) গমন।
১৯৭৩ : রাশিয়া থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও পুনরায় সংবাদে যোগদান।
১৯৭৪ : ১৬ জানুয়ারি সাংবাদিক নাসিমুন আরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বৈরুতে লেখক ইউনিয়নের সম্মেলনে যোগদান।
১৯৭৫ : সংবাদের সাহিত্যপাতা সংবাদ সাময়িকীর সম্পাদকের দায়িত্বগ্রহণ।
১৯৮২ : সমুদ্র ও টুকুর গল্প উপন্যাসের জন্য, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার (স্বর্ণপদক) লাভ।
১৯৯৬ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হিসেবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রদত্ত সম্মাননা গ্রহণ।
২০০৩ : কালি ও কলমের সম্পাদক হিসেবে যোগদান। ২০২০ সালে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
২০০৫ : গণসাহিত্য সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের প্রগতিবাদী সাহিত্য-আন্দোলনে অবদানের জন্য চট্টগ্রাম লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরী গবেষণা কেন্দ্র সম্মাননা পরিষদ কর্তৃক সম্মাননা লাভ।
২০১১ : চিত্রকলাবিষয়ক পত্রিকা শিল্প ও শিল্পীর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও আমৃত্যু দায়িত্ব পালন।
২০১২ : প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও আমৃত্যু দায়িত্ব পালন।
২০১৪ : সম্পাদনা-ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ অর্জন।
২০২০ : অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০’ লাভ করে।
২০২০ : শারীরিক অসুস্থতার জন্য ১৪ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি। ১ নভেম্বর সকাল ৮টা ১০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ। ওইদিনই বিকালে জানাজাশেষে তাঁকে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এছাড়া তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ষাট দশক থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সংস্কৃতি সংসদ, আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদ, আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতি ও আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (ITI) সঙ্গে নেতৃত্বের দায় নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
১৯৬৬ সাল থেকে ছায়ানটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছায়ানটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল বই ও চিত্রকলা সংগ্রহ। ভারত ও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীদের চিত্রকর্ম তাঁর সংগ্রহে রয়েছে।
তিনি নানা সময়ে সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন; যেমন – ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, লেবানন, জার্মানি, উত্তর কোরিয়া, মিশর, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ইত্যাদি।
– গ্রন্থনা : নাসিমুন আরা হক ও আশফাক খান

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.