শিরোনামহীন

নাসরীন বেগম জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাচ্যরীতির কাজে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তাঁর প্রাচ্যরীতির ফিগারেটিভ কাজে সৃষ্টির আশ্চর্য তন্ময়তা। শারীরিক বিম্ব গঠনের মুন্শিয়ানা তাঁর শিল্পরূপকে করে তুলেছিল গহনতা-সন্ধানী। একদিকে নারীর নিঃসঙ্গতা, নারীত্বের বেদনাকে উপলব্ধি করে এক বিষাদগীতি অঙ্কন করেছেন তিনি পটে, অন্যদিকে ‘নতুন জীবনের দরোজা’ শিরোনামের চিত্রগুচ্ছে জীবনের আশার উচ্চারণও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

তিনি প্রকৃতির ভেতরমুখি সৌন্দর্য ও নারীর বেদনা অঙ্কনে বিশেষ সৃজনকুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ছবির বিষয় ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের নিয়ে যায় একটি বহুচেনা কিন্তু অল্প উপলব্ধ ভুবনে এবং চিনিয়ে দেয় এক সংবেদনশীল, অনুভূতিপ্রবণ শিল্পীসত্তাকে। প্রকৃতির কাছে তিনি ফিরে গেছেন কৈশোরকালীন অনুভাবনা থেকে; স্মৃতির নানা অনুষঙ্গ আছে এই প্রকৃতি-পাঠে। অধরা মাধুরী আর সৌন্দর্যের ধ্যানকল্পনা এখানে মিলেমিশে এক হয়েছে। প্রকৃতি, ফুল, লতাপাতা যেন এক ভালোবাসার আবেশ সৃষ্টি করেছে তাঁর চিত্রগুচ্ছে।

নাসরীন বেগম নারীর অন্তর্দহনকে নিজস্ব পরিপ্রেক্ষিতজ্ঞানে ক্যানভাসে তুলে এনেছেন তীব্র, তীক্ষè উপলব্ধির মধ্য দিয়ে, যা হয়ে ওঠে জীবনযন্ত্রণার এক অনাবিল সৌন্দর্য।

তিনি ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ইনস্টিটিউট অফ ফাইন আর্টসের ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীকালে ১৯৮৩ সালে তিনি ভারতের বরোদার এম. এস. বিশ^বিদ্যালয় থেকে প্রিন্টমেকিংয়ে এমএফএ সম্পন্ন করেন।

নাসরীন বেগমের জন্ম ১৯৫৬ সালে, চুয়াডাঙ্গায়।

প্রচ্ছদের চিত্রকর্মটি ২০১০ সালে অ্যাক্রিলিকে আঁকা। সংগ্রাহক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।