প্রায় চারশো বছর আগের কথা। সতেরো শতকের আমস্টারডামের এক অভিবাসী-পল্লি। হেমন্তের এক বর্ণিল দিনে মিখাইল স্পিনোজা আর হানা ডেবোরাহ দম্পতির ঘরে এলো দ্বিতীয় পুত্র। মা হানা আদর করে সন্তানের নাম রাখলেন ‘বারুচ’। হিব্রু ভাষায় নামটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Blessed, অর্থাৎ আশীর্বাদপ্রাপ্ত। নামকরণ সার্থক হয়েছে নিঃসন্দেহে। আশীর্বাদ না থাকলে কি পৃথিবীর সেরা দার্শনিকদের একজন হওয়া যায়!
বার্ট্রান্ড রাসেল তাঁর হিস্ট্রি অফ ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি বইয়ে বারুচ স্পিনোজা (১৬৩২-৭৭) সম্পর্কে বলেছেন, ‘Spinoza is the noblest and most lovable of the great philosophers. Intellectually, some others may surpassed him, but ethically he is supreme’। আইনস্টাইনও বলেছেন, তাঁর প্রিয় দার্শনিক স্পিনোজা। তিনি বিশ্বাস করেন স্পিনোজার ঈশ্বরে। যে-ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ করে চলেছেন অস্তিত্বশীল সবকিছুর শৃঙ্খলাবদ্ধ ঐক্যের মধ্যে। তাঁর Ethics পড়ামাত্র মহাকবি গ্যেটে হয়ে পড়েছিলেন স্পিনোজাভক্ত। প্রভাবিতও হয়েছিলেন। আর হেগেলের কথা ছিল একেবারে সোজাসাপ্টা – ‘কেউ যদি দার্শনিক হতে চায় তাকে প্রথমে স্পিনোজাবিদ হতে হবেই।’ হার্বার্ট স্পেন্সার থেকে পি বি শেলি – তাঁর ভক্তকুলের মধ্যে কে নেই!
তিনি আইনস্টাইনের প্রিয় দার্শনিক শুধু নন, স্পিনোজার অধিবিদ্যায় (Metaphysics) আমরা পাই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের পদধ্বনি। তাঁর দর্শনের কিছু দিক আজকের এ-লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করব। রাসেল যাকে ‘ethically supreme’ বলে অভিহিত করলেন – স্পিনোজার সেই উত্তম নীতিদর্শনের কিছু দিকও এ-লেখায় উপস্থাপনের চেষ্টা থাকবে। তার আগে এই দার্শনিকের জীবন আর জীবনের অবসান নিয়ে দু-চারটি কথা বলা দরকার।
শৈশব, সমাজচ্যুতি ও জীবনাবসান
তাঁর জীবন শুরু হয়েছে বারুচ নামে। মায়ের কাঙ্ক্ষিত আশীর্বাদ দিয়ে। স্পিনোজা পারিবারিক পদবি। কিন্তু বিধি বাম। ছ-বছর বয়সে হারিয়েছেন মাকে। শৈশবে মাতৃহীন বালকের সান্ত্বনা যেন ছিল বিদ্যাচর্চার প্রগাঢ় অনুরাগ। কিন্তু মুক্তচিন্তার খোলা দরজার চৌকাঠে পা রাখতে না রাখতেই মাথায় নেমে এসেছে সমাজ থেকে বহিষ্কারের আদেশ। আমস্টারডামের ইহুদি সমাজ তাঁকে সমাজচ্যুত করে ‘ধর্মদ্রোহিতা’র অভিযোগে। সেকালে অভিবাসীদের – বিশেষত ভিনদেশে আশ্রয়প্রাপ্ত ইহুদিদের – নিজের সমাজ থেকে বিতাড়িত হওয়া অর্থ পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়া। তখন তাঁর বয়স মাত্র তেইশ।
শুরু হলো তাঁর নির্বাসন জীবন। একা, নিঃসঙ্গ আর কপর্দকহীন। আপনজন বলতে কোথাও কেউ নেই। উপরন্তু আততায়ীরা ছোরা হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই ‘ধর্মহীন’ পাষণ্ডকে হত্যার জন্য। একবার তো অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন। জীবিকা ছিল চশমার কাচ ঘষে ঘষে লেন্স তৈরি।
ধুলোবালি-কাচের কণা-উড়তে থাকা সিলিকায় দম বন্ধ করা জায়গায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময়ের কাজ। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে এসব শরীরে ঢুকে তাঁর ফুসফুস ক্ষয়ে যায়। তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। তারপর একদিন এক রোববারে – তাঁর চিলেকোঠার ঘরে লেখার টেবিলে মাথা রেখেই ঘটে একাকী জীবনের অবসান। তখন তাঁর বয়স চুয়াল্লিশ।
মৃত্যুর পর প্রকাশিত তাঁর বই Ethics পৃথিবীজুড়ে সাড়া ফেলে দেয়। আশ্চর্যের বিষয়, এমন মৃত্যুঝুঁকির নির্বাসন আর রোগব্যাধির জীবনেও তিনি ছিলেন মননের গভীরে সুখী এক মানুষ। নিজস্ব চিন্তার প্রকাশরূপ দিতে অর্থাৎ বই রচনায়ও ছিলেন নিরলস। ফলে পৃথিবী পেয়েছে চারটি অমূল্য দার্শনিক গ্রন্থ। সমাজ থেকে বিতাড়িত দার্শনিক হয়েছেন পৃথিবীর সম্পদ।
যে-দর্শন এমন প্রতিকূল পরিবেশেও মননে প্রশান্তি এনে সুখী আর কর্মময় করতে পারে কী তার সারকথা? স্বাভাবিকভাবেই এ-প্রশ্ন আসে। এই নিবন্ধে তারই এক সংক্ষিপ্তরূপ উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
দেউস সিভ নেচুরা (Deus sive Natura)
‘দেউস সিভ নেচুরা’ – স্পিনোজা ল্যাটিন ভাষায় লেখা তাঁর বইয়ে এভাবেই লিখেছেন। কথাটার অর্থ ঈশ্বর বা প্রকৃতি। অর্থাৎ, ঈশ্বর ও বিশ্বপ্রকৃতি এক। স্পিনোজার মেটাফিজিক্সের ভিত্তি বলা চলে কথাটাকে। তাঁর দর্শনের পরিভাষায় তিনটি শব্দ বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে উপস্থিত। সারবস্তু ( substance) গুণ (Attribute) আর প্রত্যাংশ (Modes)। খটমটে লাগলেও এই পরিভাষার অর্থ কিন্তু সরল। প্রথমে এটা স্পষ্ট করলে তাঁর দর্শনের সারাৎসার বোঝা সহজ হবে।
স্পিনোজার মতে, যে-কোনো বস্তু বা ঘটনা যে বিশেষ রূপ বা আকারে অস্থায়ী বাস্তবতা হিসেবে প্রকাশ পায় তা-ই হচ্ছে প্রত্যাংশ। যেমন – আমাদের দেহ বা চিন্তা বা বয়ে চলা একটা নদী। আর, এসবের পেছনে যে অপরিবর্তনীয় চিরন্তন বাস্তবতা রয়েছে তা-ই স্পিনোজার মতে সারবস্তু। যেমন – ঈশ্বর বা অনন্ত। সবশেষে, গুণ হচ্ছে চিরন্তন বস্তুসারের (substance) অনন্ত সত্তার মৌলিক প্রকাশরূপ। অর্থাৎ যে-পথে চিরন্তন সত্তা প্রকাশিত হন।
শাশ্বত সত্তা (substance) অনন্ত গুণসম্পন্ন। আমরা আমাদের বুদ্ধিবলে কেবল তার দুটো গুণ জানতে পারি। চিন্তা (Thoughts) আর বিস্তৃতি (Extension)। এই দুই পথে শাশ্বত সত্তা নিজেকে প্রকাশ করেন। এই দুই পথ আবার শেষে মিলেছে একবিন্দুতে – সর্বব্যাপ্ত পরম একের ধারণায়। কীভাবে এই দুই পথ পরম একের ধারণায় এসে মিলিত হয়েছে – তার ব্যাখ্যা ও দৃষ্টান্তে পরে আসছি।
স্পিনোজার মতে, এই পরম এক হচ্ছে বস্তুসারের (substance) মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। এই শ্রেষ্ঠতম বস্তুসার আবার প্রকৃতি আর ঈশ্বরের সমার্থক। স্পিনোজার ভাষায়, দেউস সিভ নেচুরা – ঈশ্বর বা প্রকৃতি। ঈশ্বর হচ্ছে চিন্তা – প্রকৃতি তার বিস্তৃতি বা বস্তুরূপ। মন বা পদার্থ – এই দুয়ের কোনোটাই ঈশ্বর নয় – এরা অনন্ত ঈশ্বরের প্রকাশ-পদ্ধতি। বিশ্বের ইতিহাস মূলত মানসিক আর আণবিক এই দুই প্রক্রিয়ার ভেতর নিহিত। এই মহাবিশ্বের কারণ আর বিধিবিধানই ঈশ্বর।
এ-বিশ্বের সবকিছু – আমাদের মাথার উপরে মহাকাশে অগণন গ্যালাক্সির পরিক্রমা থেকে আমাদের চিন্তার গতি – অরণ্য প্রান্তর থেকে ছোট্ট পাখির গান – সবই এই পরম শাশ্বত সত্তার প্রত্যাংশ (Modes) বা ছোট ছোট প্রকাশিত অংশ।
স্পিনোজার ঈশ্বর কোনো ব্যক্তিস্বরূপ নন – নৈর্ব্যক্তিক। সৃষ্টির বাইরে থাকা সৃষ্টিকর্তা নন। সৃষ্টির মধ্যে মিশে থাকা পরম সত্তা। স্বয়ম্ভু – শাশ্বত – অবিভাজ্য। এ-বিশ্বের সবকিছু পরস্পর সংযুক্ত। কারণ, সবকিছুই সারবস্তু বা ঈশ্বরের প্রকাশিত গুণের ক্ষণস্থায়ী আকার। কেউ বা কোনো কিছুই পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। সমস্ত কিছু এক অভিন্ন সত্তার প্রত্যাংশ। সূর্য-বৃক্ষরাজি-পাহাড়-নদী-মানুষ সবকিছু। কোনো কিছুই তাই বিচ্ছিন্ন নয় – সবই এক অনন্ত সত্তার বৈচিত্র্যময় প্রকাশ।
চেতনা আর বস্তু বিপরীতধর্মী ধারণা নয়
দেউস সিভ নেচুরা (Deus sive Natura) অর্থাৎ ঈশ্বর বা প্রকৃতি কথাটার আরেকটু ব্যাখ্যা দরকার। তাঁর চিন্তাকাঠামো অনুসারে পরমসত্তা অনন্ত গুণসম্পন্ন – এ-কথা আমরা আগেই জেনেছি। এও জেনেছি, এই অনন্ত গুণের মাঝে মানুষ তাঁর মাত্র দুটি গুণকে প্রত্যক্ষ ও উপলব্ধি করতে পারে। তা হচ্ছে – চিন্তন আর বিস্তৃতি। অন্যকথায় জড় ও মন (Mind and Matter)। স্পিনোজার পূর্বসূরি দেকার্তের (১৫৯৬-১৬৫০) দর্শনেও দেখা যায় বস্তু আর মন – বাস্তব সত্তার এই দুটো দিকের কথা বলা হয়েছে।
আপাতভাবে মনে হলেও, চেতনা আর বস্তু কিন্তু বিপরীতধর্মী ধারণা নয়। স্পিনোজার মতে, এ দুটি একই গভীর সত্তার দুটি দিক। আমরা অনেকেই দ্বৈতবাদী (Dualistic Model) চিন্তাজগতে বাস করি। যেখানে মন আর বস্তু আলাদা – দেহ আর আত্মা আলাদা। ঈশ্বর যেখানে সৃষ্ট জগৎ থেকে আলাদা। পাশ্চাত্যের চিন্তাধারায় এই প্রবণতার প্রাধান্য দেখা যায়।
দেকার্তও দ্বৈতবাদী ধারণায় মনে করতেন – বস্তু ও মন পৃথক। তাহলে মানুষের বস্তুরূপ দেহ আর চিন্তারূপ মনের সংযোগ কীভাবে ঘটে – এ-প্রশ্ন এসে যায়। দেকার্তের উত্তর ছিল – মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্ল্যান্ডের মাধ্যমে দেহ আর মন পরস্পরের ওপর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে। এটাই তাঁর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াবাদের মূলকথা। বিশ্লেষকরা অবশ্য এই উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ, পিনিয়াল গ্ল্যান্ড নিজেই শরীরের অংশ, অর্থাৎ বস্তু। তার পক্ষে মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন কি করে সম্ভব! জড় আর মনের চারিত্রিক পার্থক্য সত্ত্বেও প্রাণিজগতে – বিশেষত মানুষে এসে
এ-দুইয়ের ঐক্য ঘটল কোন পথে – তা অজানাই থেকে গিয়েছিল।
কিন্তু একত্মবাদী (Monist) স্পিনোজা এই দ্বৈতবাদী মোহজগৎ ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সত্তা একক। যা কিছু অস্তিত্বশীল তা এই একক সত্তার প্রত্যাংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে, দেহ বা বিস্তৃতি আর মন বা চিন্তনের সংযোগ বিষয়ে তাঁর মত দ্বৈতবাদের বিপরীতে। তাঁর এই অবস্থান একটা দৃষ্টান্তের সাহায্যে বোঝা সহজ হতে পারে।
নির্দিষ্ট একজন মানুষ – ধরা যাক তার নাম ‘ইভান’। ইভান বলতে আমরা প্রথমত তার শারীরিক অবয়ব বুঝি। অজস্র দেহকোষের সমবায়ে গঠিত এক শরীর। নিরন্তর এক পরিবর্তনের প্রবাহ যেখানে চলমান। আবার ইভান বলতে এই পরিবর্তনশীল শারীরিক সত্তা (বস্তু) সত্যের সবটুকু নয় – অর্ধেক। সত্যের বাকি অর্ধেক হচ্ছে ইভানের দৈহিক সত্তার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য এক চিন্তাপ্রবাহ (মন)। এই বহিঃসত্তা ও আত্মিক সত্তা – এই দুয়ের যোগফল ব্যক্তি ইভান। স্পিনোজার মতে, ইভানের মতো কোটি কোটি মানুষ, প্রাণী, বৃক্ষ, নদী, পর্বতের বহিঃসত্তা একত্রিত হয়ে এক বস্তুপ্রবাহ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে, ইভানের মতো অগণিত মানুষ, প্রাণিজগৎ ও অন্যান্য চিন্তাশীল দ্রব্যের আত্মিক সত্তার একীভূত এক চিন্তাপ্রবাহও পাশাপাশি ছুটে চলেছে কালের রেখা ধরে। রেললাইনের মতো সমান্তরাল ধারায় ছুটে চলেছে বস্তু আর চিন্তার এই দুই ধারা। তাঁর এই মত দেহ মন সমান্তরবাদ নামে পরিচিত। বস্তু আর মনের দুই ধারায় দৃষ্টান্তের ইভান ক্ষুদ্রতম একক। ইভানের শরীরের সঙ্গে বস্তুপ্রবাহে যেমন যুক্ত মহাবিশ্বের সকল বস্তু – তেমনি ইভানের মনের বা চিন্তার সঙ্গে যুক্ত মহাবিশ্বের সকল আত্মিক সত্তার চিন্তাপ্রবাহ।
এই বস্তুপ্রবাহ আর চিন্তাপ্রবাহের রূপে গোটা মহাবিশ্ব কালের রেখা ধরে পাশাপাশি কোথায় চলেছে! এর উত্তরে স্পিনোজা বলেন, এরা চলেছে এক অনন্ত সত্তার দিকে – যে-কালহীন শাশ্বত সত্তা এই দুই প্রবাহের উৎস ও আকর। খণ্ডকালের তরী বেয়ে এরা চলেছে অনন্তের দিকে – শাশ্বত সত্তার দিকে – যেখানে কালের প্রবেশ নিষেধ। প্রবেশ নিষেধ জড় মন দ্বৈততারও। সহজ কথায় এটাই স্পিনোজার পরম একাত্মবাদ। এখানেই তিনি মেলালেন তাঁর তত্ত্ব দেউস সিভ নেচুরা – ঈশ্বর বা প্রকৃতি। ঈশ্বর হচ্ছেন চিন্তা আর প্রকৃতি তাঁর বস্তুরূপ। এই দুই মূলত এক। আর এই পরম এক একাধারে জগতের মৌল কারণ ও ফলাফল। সকল দৈহিক ও আত্মিক গতির উৎস ও উদ্দেশ্য। আর এই সত্যজ্ঞানের উৎপত্তি হয় বুদ্ধির মাধ্যমে। অভিজ্ঞতায় অনন্তমুখী যাত্রার এই সত্যজ্ঞানের উপলব্ধি সম্ভব নয়। তাই স্পিনোজা পরম একত্ববাদের (Substance Monism) পাশাপাশি বুদ্ধিবাদেরও (Rationalism) প্রবক্তা।
সৃজনশীল প্রকৃতি (Netura Naturans)
আমরা আগেই জেনেছি, বস্তুসারের সঙ্গে তিনি প্রকৃতি আর ঈশ্বরকে একাত্ম করে দেখেছেন। আবার, প্রকৃতির মধ্যে দেখেছেন এক সক্রিয় প্রাণশক্তি। যে-প্রাণশক্তি সৃজন আনন্দে পূর্ণ করে রাখে প্রকৃতিকে। এরই নাম তিনি দিয়েছেন সৃজনশীল প্রকৃতি – Netura Naturans। হেনরি বার্গস (১৮৫৯-১৯৪১) তাঁর সৃষ্টিশীল বিবর্তনবাদে যে ‘প্রাণপ্রবাহের’ (Elan Vital) কথা বলেছেন – তার সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে স্পিনোজা কথিত এই সৃজনশীল প্রকৃতির।
সবকিছু যদি পরমসত্তার অংশ হয় – যার রয়েছে চিন্তা আর বিস্তৃতি, তাহলে সবকিছুর মধ্যে এক মানস সত্তার দিকও থাকে। তাই স্পিনোজা মনে করেন, সবকিছুর ভেতর কম-বেশি প্রাণের স্পন্দন আছে। অরণ্য বা নদীর চেতনা আর মানুষের চেতনা একরকম অবশ্যই নয়। চেতনার তারতম্য থাকলেও মহাপ্রকৃতি চেতনশীল। সবকিছুর ভেতর এক অন্তঃস্থ চেতন দিক আছে – এই ধারণা সর্বপ্রাণবাদ (Pan-Psychism) নামে পরিচিত। সমকালের দর্শনে এটা একটা প্রতিষ্ঠিত ধারণা হিসেবে স্বীকৃত। উদ্ভিদবিজ্ঞানে বৃক্ষরাজির তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় এর প্রমাণ আরো জোরদার হয়েছে। মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে গবেষণায় দেখানো হয়েছে, পৃথিবীর গভীরতম ভূ-অভ্যন্তরে প্রতি ২৬ সেকেন্ড অন্তর নাড়ির কম্পনের মতো (microseismic pulse) শব্দ তরঙ্গিত হয়। সাধারণভাবে একে পৃথিবীর ‘হৃদস্পন্দন’ বলে অভিহিত করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, খুব সম্ভবত সমুদ্রস্রোতের আঘাত সাগরতলে পৌঁছে এই কম্পন তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই কম্পনের নিখুঁত সময়-বিরতি আর অপরিবর্তনশীলতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সর্বপ্রাণবাদের ধারণা আর বিজ্ঞান এভাবে কাছে চলে আসে।
স্পিনোজার মতে, এই সচেতনতার উন্মেষ যে জটিলতর এক অবস্থায় ঘটে তা নয় বরং এটা সবসময়ই ছিল। আমাদের চিন্তা, আবেগ, সচেতনতা শূন্য থেকে জন্মায়নি। এটা এক সার্বভৌম সচেতন সত্তার একাগ্র প্রকাশ, যা প্রবাহিত হয়ে চলেছে সবকিছুর মধ্যে।
মেটাফিজিক্স শেষ গন্তব্য নয় – পথ গেছে নীতিদর্শনের দিকে
স্পিনোজার অধিবিদ্যার আলোচনা আসলে তাঁর নীতিদর্শনের যৌক্তিক ভিত্তি। তাঁর প্রধান দার্শনিক গ্রন্থের নাম তাই নীতিবিদ্যা : জ্যামিতিকভাবে প্রদর্শিত (Ethics : Geometrically Demostrated)। ইউক্লিডীয় জ্যামিতির উপপাদ্যে প্রমাণিত হয় ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণের সমান। তেমনিভাবে তিনি তাঁর দর্শনে প্রমাণ করেছেন দেউস সিভ নেচুরা – শ্রেষ্ঠতম বস্তু-সার বা ঈশ্বর আর মহাপ্রকৃতি একই সত্তা। জ্যামিতির স্বতঃসিদ্ধ আকারে উপস্থাপিত মৌলিক সত্যকে প্রমাণ করেছেন ধাপে ধাপে। দেখিয়েছেন, শাশ্বত সত্তার অজস্র ক্ষুদ্র অংশের সমষ্টিতে গড়া এই মহাবিশ্ব। জ্যামিতির নিয়মে প্রমাণ করেছেন পরম একের ধারণার নৈতিক অনুসৃতি।
এই জ্যামিতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর নীতিদর্শনের ব্যাখ্যা দেন। আমরা সবাই এবং চারপাশের সবকিছুই যখন একই সত্তার বিভিন্ন প্রকাশ, তখন ঐক্যের পক্ষে প্রাকৃতিক যুক্তি হয়ে ওঠে ভালোবাসা, মায়া আর বোধজাত সহনশক্তি। গতানুগতিক নীতিবিদ্যার মতো এসব আর ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল থাকে না। ভালোবাসা আর ঐক্যবোধ হয়ে ওঠে বুদ্ধিসঞ্জাত নৈতিক বৃত্তি।
স্পিনোজার মতে তাই সর্বোচ্চ জ্ঞান হচ্ছে – ঈশ্বরের প্রতি বুদ্ধিবৃত্তিক ভালোবাসা। যুক্তিবোধবর্জিত আচারসর্বস্ব উপাসনা বা ভয় হতে পরিত্রাণের অজ্ঞ উপায় হিসেবে নয়। ঈশ্বরের স্বরূপ জেনে সেই অসীমের উদ্দেশে নিখাদ ভালোবাসার অঞ্জলি – এই হচ্ছে সত্যিকার জ্ঞান। স্পিনোজার ভাষায়, ‘যারা পুণ্যের প্রতিদান চায় তারা পুণ্যের সত্যিকার মূল্য বুঝতে অক্ষম … ঈশ্বরকে ভালোবাসা যে নিজেই কত বড় আনন্দ আর কত বড় স্বাধীনতা তারা তা বুঝতেই পারে না।’ প্রজ্ঞাবানের রয়েছে সবকিছুর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ঐক্যের গভীর অনুভব। যখন এই অনুভব স্পষ্ট হয় তাই, তখনই আসে প্রকৃত মুক্তি।
আর কিছু নই – আমরা অস্তিত্বশীল এক পরমসত্তার অন্য আকারে প্রকাশমাত্র। অস্তিত্বশীল একটা বস্তুই আছে – তা হলো পরমসত্তা – ঈশ্বর বা প্রকৃতি। এর বাইরে অন্য যা কিছুর কল্পনা তা হচ্ছে – ভুল ধারণা থেকে জন্ম নেওয়া মানবমনের সীমাবদ্ধতা। ঘৃণা ভয় বিচার এসব আসে অজ্ঞতা থেকে। যে-অজ্ঞতামোহ আমাদের বলে, আমরা সবাই আলাদা। সবকিছু বিচ্ছিন্ন।
অজ্ঞলোক নিজের সম্বন্ধে সচেতন নয় – সচেতন নয় ঈশ্বর কি বস্তু সে সম্বন্ধেও। অন্যদিকে বিজ্ঞলোক এক চিরন্তন প্রয়োজনের তাগিদে নিজেকে জানেন। সচেতন হন বস্তু আর ঈশ্বর সম্বন্ধে। অপার এক শান্তির দরজা তাঁর সামনে থাকে খোলা। আমরা যখন আমাদের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, উপলব্ধি করি এক বিশাল সমগ্রের অংশ হিসেবে, আমরা তখন প্রকৃতির প্রবাহের মাঝে লীন হয়ে যাই। এতেই সত্যিকারের মুক্তি মেলে।
বিজ্ঞানের সঙ্গে মেলবন্ধন
স্পিনোজার মেটাফিজিক্স আর আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান প্রায় অভিন্ন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেছেন এক পরম একের কথা – যেখান থেকে সমস্ত অস্তিত্বশীল সত্তার উদ্ভব। জোর দিয়েছেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের উপর, যা সবকিছুকে এক ঐক্যবন্ধনে যুক্ত করে রেখেছে।
বিজ্ঞানেও রয়েছে এই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা। স্থান ও কালের (Space Time) সঙ্গে সবকিছুর অস্তিত্ব নিবিড়ভাবে যুক্ত। আধুনিক পদার্থবিদ্যায়, মূলত আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে স্থান ও কাল স্বাধীন নয়। পরম বা চূড়ান্তও নয়। যেমনটা নিউটন বিশ্বাস করতেন। স্থান-কাল নামে পরিচিত ধারণা আসলে একটা চার মাত্রার ধারাবাহিকতা (Continuum) হিসেবে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত। স্থানের তিন মাত্রা (dimension) – দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার কথা আমরা জানি। এর চতুর্থ মাত্রাই কাল বা সময়। এরা বিচ্ছিন্ন নয়। স্থানকাল প্রসারণশীল, একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্যাব্রিকের অংশ। স্থানকালের বৈশিষ্ট্যগুলো একটা ঐক্যবদ্ধ, পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সমগ্র (Interactive Whole) হিসেবে মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামো থেকে উদ্ভূত হয়।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স আর কোয়ান্টাম ফিল্ড তত্ত্বও বলে সমষ্টিগত অস্তিত্ব আর একক সমগ্রের কথা। পার্টিকল বা বস্তুকণা স্বনির্ভরভাবে অস্তিত্বশীল নয়। পার্টিকল বা বস্তুকণাও সংযুক্তি – প্রত্যক্ষণ আর প্রেক্ষাপট (Context)-এর সমবায়ে অস্তিত্বশীল। স্বনির্ভর বা স্বাধীন অস্তিত্ব বস্তুকণার নেই। কোয়ান্টাম ফিল্ড তত্ত্ব আরো এগিয়ে বলে কণা বা পার্টিকলের পেছনে রয়েছে ক্ষেত্র। এই একক সম্মিলিত ক্ষেত্র বা ফিল্ড এক শক্তিতরঙ্গ, যা থেকে সব পদার্থের উৎপত্তি। পরস্পর সংযুক্ত (Entangled System) এই পদ্ধতি একক সমগ্র হিসেবে কাজ করে।
দেখা যাচ্ছে, স্পিনোজার দর্শনে অস্তিত্বশীল সবকিছুর যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আর ঐক্যের কথা বলা হয়েছে, বিজ্ঞানেও শোনা যাচ্ছে একই সুর। কোয়ান্টাম মেকানিক্সও বলছে একই কথা। স্বনির্ভর বস্তু বা পার্টিকল বলে কিছু নেই – সবই পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত। কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব বলছে একক সম্মিলিত শক্তিতরঙ্গের কথা – যেখানে সব বস্তুর উৎপত্তি। স্থানকালের পরস্পর-লগ্নতা যা মহাবিশ্বের মূল কাঠামো থেকে আসে। মহাবিশ্ব একক সমগ্র হিসেবে কাজ করা এক Entangled system। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান স্বীকার করছে, এই মহাবিশ্ব অনেক বস্তুর সমষ্টিমাত্র নয়। একটা মাত্র বস্তু বিকশিত হয়ে হয়ে সমস্ত কিছুর সৃষ্টি করছে। এ যেন স্পিনোজার দর্শনেরই প্রতিধ্বনি। সেই সতেরো শতকে তিনি তাঁর নিজস্ব মতে ছিলেন একনিষ্ঠ। কিন্তু জানতেন না, তাঁর এই চিন্তা ভিত্তি স্থাপন করতে চলেছে এক নতুন যুগের।
ভারতীয় দর্শন ও চীনা দর্শনের সঙ্গে সাদৃশ্য
প্রাচ্য দর্শনের অদ্বৈত বেদান্ত ও বৌদ্ধদর্শনের মহাযান ধারার সঙ্গে স্পিনোজা দর্শনের সাদৃশ্য রয়েছে। অদ্বৈত বেদান্তে দৃশ্য ও দ্রষ্টা এক। ব্যক্তিসত্তা ও ব্রহ্মাণ্ড এক। খণ্ডিতভাবে দেখলে – সীমাবদ্ধতা নিয়ে দেখলে পৃথক মনে হয়। মূলে একক সত্তা, বাইরে বিভিন্ন রূপ। অদ্বৈত বেদান্তমতে, যাবতীয় দৃশ্যমান বস্তুর পেছনে রয়েছে ব্রহ্ম – অনন্ত, অপরিবর্তনীয় সত্তা। মহাযান বৌদ্ধ দর্শন মতে, শূন্যবাদের শূন্যতা নাইহিলিজম নয়, বরং এটা স্বীকার করে নেওয়া যে, সব বস্তু পরস্পর সংযুক্ত। পৃথক সত্তার উপস্থিতির শূন্যতা। এখানে অস্তিত্বশীলতা মানেই সংযুক্ততা।
চীনের প্রাচীন দর্শন তাওবাদের সঙ্গেও মিল পাওয়া যায় স্পিনোজার দর্শনের। মানবজীবন এবং প্রকৃতির মধ্যে যে অনন্তকালের ভারসাম্য রয়েছে সে-কথাটাই বলে তাওবাদ। এর মূল ধারণা হলো ‘তাও’ (Tao), যার অর্থ ‘পথ’, ‘নীতি’ বা মহাবিশ্বের স্বাভাবিক প্রবাহ, যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা। তাওবাদের মূলকথা প্রকৃতি ও জীবনের ভারসাম্য।
স্পিনোজার দর্শনের সঙ্গে যে আরেকটি চিন্তাধারার মিল রয়েছে তা হচ্ছে রবীন্দ্র-দর্শন। রবীন্দ্রনাথের শিল্প সাহিত্য সংগীতের অন্তঃস্থ দর্শনের সঙ্গে স্পিনোজার প্রকৃতিকেন্দ্রিক একত্ববাদের সাদৃশ্য অনেক। রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর/ আমার মাঝে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর’। অথবা ঈশ্বরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এই তো তোমার প্রেম ওগো হৃদয়হরণ/ এই যে পাতায় আলো নাচে সোনার বরণ…।’ তখন তা যেন স্পিনোজার চিন্তার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
ভারতীয় দর্শনের অদ্বৈত বেদান্ত ধারা সম্পর্কে স্পিনোজা জানতেন – এমন তথ্য মেলে না। তবু প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের চিন্তাধারার এই মিল আমাদের অভিভূত করে। প্রাচ্যদর্শনে সমজাতীয় চিন্তাধারার প্রাধান্য থাকলেও পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে স্পিনোজার চিন্তাকে বলা চলে ব্যতিক্রম।
স্পিনোজার দর্শনে ব্যক্তি ও তার নীতিপথ
আমাদের অস্তিত্বে – শ্বাস-প্রশ্বাসে, চিন্তাস্রোতে রয়েছে অনন্তসত্তার স্পর্শ। এ সবকিছুর সামনে এসে দাঁড়ায় ছোট্ট একটা প্রশ্ন – কে আমি? স্পিনোজার উত্তর, আমরা চিরন্তনভাবে প্রকাশিত হতে থাকা শাশ্বত সত্তার অংশ। আমাদের আনন্দ-বেদনা-সংগ্রাম-অন্তর্দৃষ্টি সবই এক পরম সত্তার অন্তহীন তরঙ্গ। এতে আমাদের অস্তিত্বের মূল্য কমে না, বরং আরো মর্যাদাবান হয়। এই জ্ঞান আমাদের দায়িত্বশীল করে মানবসমাজের সবাইকে কেবল নয়, মহাপ্রকৃতির সবকিছুকে সম্মানের সঙ্গে সাথে রাখতে।
স্পিনোজার মতে, বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে মনের যে-সংযোগ এই সচেতনতা সবচেয়ে উত্তম। এতে আমাদের মন থেকে ঘৃণা সরে গিয়ে স্থান নেয় ভালোবাসা, ঐক্যবোধ। আমাদের ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্নতা এক অর্থে ভুল ধারণা। আমরা কার্যকারণ আর বিশ্ববিধানের বিরাট স্রোতধারার অংশ। সে অর্থে ঈশ্বরের অংশ আমরা। আমাদের জীবন বিশাল এক অস্তিত্বের এক ক্ষণস্থায়ী রূপ। মৃত্যুর পর আমরা মিশে যাই অনন্তে।
সবকিছুই ঈশ্বরের অংশ – প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সূর্যোদয়, প্রতিটি ঝরে যাওয়া পাতায় এই বিশ্বপ্রকৃতি নিজেকে প্রকাশ করে চলেছে। এটা আমরা যত অনুভব করতে পারব ততো একাত্ম হবো এর সঙ্গে। আমাদের চেতনা জাগ্রত হবে, বুঝতে পারব – আমি কে। অনন্য এক প্রকাশ আমরা অনন্ত ঈশ্বরের। এই বিভাজনের কালে, এই বিচ্ছিন্নতার যুগে, এই খণ্ড বিখণ্ড চিন্তাচেতনা আর কর্মপ্রবাহের অশান্ত সময়ে স্পিনোজার দর্শন আমাদের শান্ত করে – অস্তিত্বের মুখোমুখি করে। অনন্তের অংশরূপে সব সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে শুভবুদ্ধির পথ দেখায়।
স্পিনোজা তাঁর Ethics শেষ করেছেন এ-কথা বলে –
আমার দেখানো এ-পথ কঠিন হতে পারে তবু একে পাওয়া সম্ভব। এর সন্ধান সহজে মেলে না বলে এটা এক কঠিন যাত্রা। মুক্তি যদি এতই সহজ হতো তাহলে প্রায় সবাই একে উপেক্ষা করার কারণ কি? কিন্তু সবচেয়ে সেরা জিনিস যে শুধু দুর্লভ তাই না, অনেক কষ্টে তার সন্ধান পাওয়া যায়। সন্দেহ নেই, বহুকষ্টে তিনি এ-পথের সন্ধান পেয়েছিলেন। তাঁর কষ্ট বৃথা যায়নি, এমন একটি পথের প্রদর্শকরূপে তিনি প্রজ্ঞাবানদের কাছে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক হয়ে আছেন।


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.