বিদেশে এসে বুকুন অন্যরকম হয়ে গেছে।

বিদেশে এসে বুকুন অন্যরকম হয়ে গেছে।
এমন একটা জায়গা যে আছে পৃথিবীর কোথাও
ও ভাবে নি কখনো।
এত ঐশ্বর্য এত স্বাধীনতা।
মা-বাবা কেবল ফিরে যেতে বলছে,
ফিরে গিয়ে কী পাবে কেউ খুলে বলছে না।
ওই ভাল্লুক আর বেড়ালের মনে দুঃখ দিয়ে লাভ নেই
ওদের কাছে ও ঋণী –
ওদের টিকিট পাঠিয়ে দিল বুকুন
আট হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তোমরা এসো
ঘুরে বেড়াও, একমাস থেকে যাও, দেখে যাও
তারপর ফিরে যাও স্বদেশে –
আমাকে আর ফিরে যাওয়ার কথা বোলো না।
বিক্রি করে দাও আমার খাট আর টেবিল।
ফেলে দাও আমার ডুগি-তবলা।
আমার ঘর খালি করে সেখানে ঠাকুরের ছবি রাখো
প্রার্থনা করো,
তারপর একে একে তোমরা বুড়ো হয়ে মরে যাও
বাড়িটা দান করে দাও মিশনকে।
ও সব সস্তা জিনিসে আমার আর দরকার নেই।
এদেশে পটল পাওয়া যায়, বড়ি পাওয়া যায়,
চাইলেই বান্ধবী মেলে,
পাবদা মাছ আসে বাংলাদেশ থেকে। দুর্গাপুজো হয়।
মায়ের হাতের মাছের ঝোল আমরা মাঝে মাঝে খাই
তবে পিৎসা আর হ্যামবার্গার আমার বেশি প্রিয়।

এই বুকুনই ইশকুল থেকে ফিরে মাকে বলতো
চাউমিন দাও, চাউমিন দাও
আমি দুধ খাবো না।