ঢাকার অভিজাত চিত্রশালা শিল্পাঙ্গনে আটজন শিল্পীর চিত্রশালা নিয়ে একটি আকর্ষণীয় চিত্রপ্রদর্শনী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে তাঁরা শিল্পাঙ্গনে একটি আর্টক্যাম্প বা চিত্রকর্মশালা স্থাপন করেন যেখানে কয়েকদিন যাবৎ নিজেরাই নিজেদের চিত্রাঙ্কন-সামগ্রী যেমন ইজেল, রং, তুলি সরবরাহ করে সেই জায়গায় আড্ডা দিতে দিতে গান শুনতে শুনতে চা-নাস্তা খেতে খেতে খুব আটপৌরে এবং সত্তার স্বাধীন পরিবেশে নির্দিষ্ট ছবি যাঁর যাঁর মতো করে এঁকে গেছেন। সেইসব ছবি দিয়েই চিত্রপ্রদর্শনীটি শুরু হয়। প্রদর্শনীতে ৫৮ বছরের যুবক ভাস্কর ও শিল্পী হামিদুজ্জামান যেমন ছিলেন, তেমনি ৩০ বছরের তরুণ অনুকূল মজুমদারের শিল্পকর্মও দেখতে পাওয়া যায়। কর্মশালায় যোগ দিয়ে ছবি আঁকা আজকাল বহু শিল্পসংস্থা উৎসাহিত করছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ভালো এবং অনুপ্রেরণাদায়ী শিল্প-পৃষ্ঠপোষকতাপূর্ণ কর্ম। যতই এই ধরনের শিল্পউদ্যোগ গ্রহণ করা হবে ততই দেশের শিল্প ও শিল্পীদের জন্যে উৎসাহব্যঞ্জক, ইতিবাচক এবং গঠনমূলক কাজ হবে বলে মনে করা যায়। লক্ষণীয়, বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ এই ধরনের যৌথ কর্মশালার বাস্তবায়ন হচ্ছে। শিল্পসৃষ্টি যদিও দাবি করে একান্ত নির্জনতা যেখানে শিল্পী একরকমের আত্মসমাহিত হয়ে নিবিষ্টমনে নিজের কাজ করে যাবেন, যেখানে বাইরের কোনোকিছুই তাঁর কোনো বিরক্তি উৎপাদনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। অর্থাৎ শিল্পী তাঁর নিজস্ব ভুবনে একীভূত হয়ে শিল্পসাধনায় মগ্ন হয়ে শিল্পসৃষ্টি করে যাবেন। এই মনোভঙ্গি আজকাল প্রায় শিল্পীই আর পছন্দ করছেন না, তাঁরা দলবদ্ধ হয়ে কাজ করাটাকে দারুণ উপভোগ করছেন। সনাতনী ধারণা থেকে তাঁরা সরে আসছেন। তবে কোনো কোনো শিল্পী আগের নির্জন পরিবেশটিকেই নিজের শিল্পসৃষ্টির জন্যে উপযুক্ত মনে করে থাকেন, দলে-বলে হৈচৈ করে কাজ করতে উৎসাহিত বোধ করেন না। আসলে তা হতেই পারে। শিল্পসৃষ্টিতে শিল্পীরা সবসময়ে উন্মুক্ত, উদার এবং স্বাধীন পরিবেশ আশা করেন। যেমন তাঁরা স্বাধীন তাঁদের বিষয়-নির্বাচনে, শৈলীসন্ধানে, রং-বাছাইয়ে কিংবা স্থান এবং পরিবেশ-পছন্দে, এতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই কোনো দিক দিয়ে। যার যেমন ইচ্ছে তেমন করে আঁকো। দলগত কর্মশালায় প্রাগুক্ত বচনই যথাযথ এবং সেইমতো ছবিসৃষ্টি করে এই আলোচ্য প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছে। এখানে শিল্পীদের শিল্পসৃষ্টি-প্রক্রিয়ার এই দিকটি খুব ভালোভাবে লক্ষ করা যায় এবং তা এই যে, একজন শিল্পী একা-একা বা দলগত হয়ে যেভাবেই শিল্পসৃষ্টি শুরু করেন না কেন সেই নির্দিষ্ট সময়টিতে তিনি নিজের কাজে নিজেই প্রাকৃতিকভাবে নিবিষ্ট হয়ে যান, যেখানে হাজার ভিড়ের মধ্যে তিনি আত্মমগ্ন হয়েই কাজ করতে থাকেন, কোনোকিছুই তাঁর জন্যে বাধাস্বরূপ হয়ে দেখা দেয় না। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো যেখানে যেভাবে যে-পরিবেশেই একজন শিল্পী শিল্পসৃষ্টি করেন না কেন সেখানে সেই শিল্পকর্মে তাঁর নিজস্ব শৈলী, রং-লেপন-ক্রিয়া, বিষয়-নির্ধারণ – সবকিছুই তাঁর মতো করে ফুটে ওঠে, এর অন্যথা হয় না। আটশিল্পীর শিল্পকর্মে তাই আমরা বিভিন্ন রকমের শিল্পরচনাশৈলী অবলোকন করতে সক্ষম হই। যদিও সবাই একই জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করেছেন, তথাপি তাঁদের কাজের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ব্যক্তিগত, নিজস্ব, ভিন্ন ভিন্ন শিল্পরূপাবলি। তবে আরেকটি কথা এখানে উল্লেখ করা যায়, সেটি হলো, যদি তাঁরা ঢাকার বাইরে কোনো মনোরম নৈসর্গিক দৃশ্যাবলি-ঘেরা স্থানে এই চিত্রকর্মশালাটি করতেন তাহলে দেখা যেত প্রায় শিল্পীই সেই নিসর্গদৃশ্য তাঁদের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন, সেখানে এইভাবে বিষয়ের দিক দিয়ে একটি সাযুজ্য পাওয়া যেত শিল্পীদের ভিন্ন ভিন্ন শিল্পকর্মে, যেমন আগে দেখা গেছে সুন্দরবন বা গাজীপুরে অনুষ্ঠিত কর্মশালায়। যেহেতু এই চিত্রকর্মশালাটি ঢাকার একটি চিত্রশালায়, যেখানে একই ছাদের নিচে একটি বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ সন্নিবেশিত, নিজস্ব খানিক বহিরাঙ্গন এবং অতি ছোট একটি ভেতরাঙ্গন রয়েছে, সেখানে সার্বিকভাবে শিল্পরচনা-বিষয়ের নৈসর্গিক মনের মতো একই সাযুজ্য খুঁজে পাওয়া ভার। তাই দেখা যায়, স্থান বা পরিবেশের গুণে বা নির্গুণে শিল্পীদের শিল্পবিষয় যাঁর যাঁর নিজস্বতায় পরিস্ফুট।
ভাস্কর ও শিল্পী হামিদুজ্জামান অতি ক্ষিপ্র টানে মানুষের বেশকিছু মুখ এঁকেছেন, মনে হয় সব মুখোশ। এই মুখোশসমৃদ্ধ সমাজে মানুষেরা মুখে মুখোশ এঁটে নিজের চেহারা লুকিয়ে রেখেছে, তাদের আসল পরিচয় গোপন রেখে যাচ্ছে, যাতে তাদের অপকর্ম প্রকাশিত না হতে পারে। মানুষের মুখের কথা মনে হলে জয়নুল আবেদিনের শেষ বয়সে আঁকা সেই মুখাবয়বের প্রসঙ্গ এসে যায়। হামিদের এই মুখগুলো এক-একটি এক-এক আদলের বিচিত্রধর্মী, তবে এখানে আশ্চর্যরকমভাবে তাঁর ভাস্কর্যকর্মের কোনো প্রভাব দেখা যায় না। এতে কোনো বিরূপতা নেই, তবে একজন ভাস্করের কাছে ভাস্কর্যশিল্পের কাজই আমরা আশা করেছিলাম। আবদুস শাকুর বরাবরই লোকজ শিল্পধারা দ্বারা প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত এবং ইতোমধ্যে শিল্পী তাঁর নিজস্ব শিল্পটিপসই আয়ত্ত করতে পেরেছেন বহুবিধ কর্মসাধনা এবং শিল্পচর্চার অবিরাম কর্মধারায় অবগাহন করে, যেখানে দেশের মাটি, মানুষ, গাছ, পাখি, প্রজাপতি, মধ্যযুগের সেই লৌকিক চরিত্রাবলি বেহুলা সুন্দরী, চাঁদ সওদাগর, মহুয়া ইত্যাদি প্রধান হয়ে দেখা দেয়। সচেতনভাবে নাঈভধারা দিয়ে শিল্পরচনার মাধ্যমে মধ্যযুগীয় সাহিত্য-ঐতিহ্যের বিভিন্ন লৌকিক কাহিনীর চরিত্র যতখানি পরিস্ফুট হয় সেইমতো এর সঙ্গে মিলিয়ে সেই সময়ের চিত্রশৈলীর ব্যবহার দ্বারা একটি সুন্দর সেতুরচনার উজ্জ্বল নিদর্শন তাঁর চিত্ররচনায় খুঁজে পাওয়া যায় ঠিকই, তবে তা এক ধরনের অলংকরণধর্মী হয়ে পড়ে বলে মনে হয়। শিল্পী এই বিশেষ দিকটির কথা এবং এসব থেকে উত্তরণের দিকটি ভবিষ্যতে বিবেচনায় আনবেন বলে আশা করি। শিল্পী রণজিৎ দাশ সবসময়েই একজন সাহসী এবং দক্ষকৌশলী শিল্পী। আধুনিক শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গি, পরিসর-বিভাজনে জ্যামিতিক বিন্যাস, স্থাপত্যগুণে বিভাজন – সব তাঁর ক্যানভাসে অনায়াসে উঠে আসে। শিল্পীর অঙ্কনশৈলী ও উপস্থাপনা যতখানি মনোগ্রাহী সেই তুলনায় ছবির বিষয়াবলি একটু গভীরধর্মী হলে তা আরো অনুপম হবে বলে মনে হয়।
আইভি জামান, যিনি মূলত একজন ভাস্কর, তিনি স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁর বিভিন্ন চেহারার দ্বিতল বিশিষ্ট ধাতুনির্মিত মানুষের মুখাবয়ব রচনার মাধ্যমে। এইসব কাজে চিত্ররচনাধর্মই বেশি ফুটেছে ভাস্কর্যরচনার তুলনায়। তবে গৌতম বুদ্ধের পদ্মাসনের অভয়মুদ্রা নিয়ে অনুপম জ্যামিতিক ত্রিভুজের বুদ্ধিদীপ্ত ছ্ট্টো উপস্থাপনা খুব হৃদয়গ্রাহী। বিভিন্ন মুখাবয়বের বদলে যদি সব রচনা এইরকম ত্রিমাত্রিক যোজনায় শুধুমাত্র বিভিন্ন ভাস্কর্যকর্মের চর্চা-নিদর্শন টেবিল-টপের কায়দায় প্রদর্শিত হতো, তাহলে তা খুবই আকর্ষণীয় হতো।
ইফফাত আরা দেওয়ান একজন স্বশিক্ষিতা পরিশ্রমী শিল্পী। তাঁর প্যাস্টেলসমৃদ্ধ শিশুতোষ আঁচড়, রং-লেপন, বিষয়-নির্বাচন বেশির ভাগ জড়জীবন, ফুল, ফুলের টব বা ফুলদানি নিয়ে ছবি-রচনা এক ধরনের সরল, জটিলতাহীন এবং স্পষ্ট প্রকল্পের পরিচয় দেয়, যা স্বল্প, অল্প বা পূর্ণতাপ্রয়াসী অপূর্ণতার ইঙ্গিতধর্মী। এ-কারণে তাঁর ছবি এক ধরনের শিল্প-আকর্ষণ করে, যা তাঁর ছবির অন্যতম গুণ, তবে ভবিষ্যতে শিল্পী আরো গভীর দৃষ্টিবোধ, চর্চা এবং শিল্পশৈলী দ্বারা শিল্পরচনার ক্ষমতা আয়ত্ত করা এবং সেইসঙ্গে সচেষ্ট হওয়ার দাবি রাখেন। একথা ঠিক যে, সবদেশেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রাপ্ত শিল্পীদের শিল্পকর্মের পাশাপাশি স্বশিক্ষিত শিল্পীদের শিল্পরচনা সবকিছুর ভিড়ে একটি ভিন্নতর শিল্পস্বাদ দেয়, যার মূল্য অপরিসীম, তাই তাঁদের শিল্পকর্মের প্রতি সবারই আগ্রহ যেখানে একমাত্র বিচার্য বিষয় শিল্পমূল্য, অন্য কিছু নয়।
শিল্পী রশিদ আমিন এই দলের একমাত্র শিল্পী, যিনি সম্পূর্ণভাবে নৈর্ব্যক্তিক, নিরাবয়ব এবং বিমূর্ত শিল্পশৈলীতে মগ্ন। বিমূর্ত প্রকাশ বা অভিব্যক্তিতে তিনি জলরঙে মূলত কালো মোটা তুলির বিচ্ছিন্ন বহুদিকে প্রবাহিত দিকহীন আঁচড়ে প্রেক্ষাপট বিভাজিত করেছেন এবং সেইসবের মূল্য বিভিন্ন পরিসর বিভিন্ন রং দিয়ে পূরণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন। বিষয়টি যথার্থ রং ও ছন্দ এবং চক্ষুপ্রিয় হওয়ার কারণে তা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। উজ্জ্বল রঙের প্রলেপে ছবিগুলো চঞ্চল, গতিশীল এবং বাক্সময়, তবে আরো গভীর অর্থের আর প্রকাশের আশা রাখে, যেহেতু বিমূর্ত ছবি সবসময়ে গভীর অনুভূতির বহির্প্রকাশ হিসেবে সাধারণত উপস্থাপিত হয়।
জাভেদ জলিলও একজন স্বশিক্ষিত নিরন্তর শিল্পকর্মী। সংগীতের ভেতর মাছের গান – এরকম বিষয় নিয়ে শিল্পী ছবি নির্মাণ করতে এগিয়ে আসেন। তাঁর অতিবাস্তবতাময়ী ছন্দিত রেখাশৈলী, রং-লেপনে অনায়াসভঙ্গি, ছবি-নির্মাণে পরিসরের সাজানো বিন্যাস – সবই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিমূর্ত-মূর্ত শিল্পশৈলী তাঁর বিষয়ের সঙ্গে মেলবন্ধনের প্রয়াস পায়। তবে ছবির নামের সঙ্গে ছবির বিষয় এমন হওয়া দরকার যাতে শিল্পপ্রকাশ ও তার শিল্পমূল্য নামের মহিমাকে অতিক্রম করে যায়।
অনুকূলচন্দ্র মজুমদারের ছবি ড্রইং-নির্ভর এবং তিনি রং-লেপনে বেশ ক্ষিপ্র, গতিশীল এবং সিদ্ধহস্ত। স্মৃতিমেদুরতা, বাল্যকাল, মা ও শিশুর স্বর্গীয় মানববন্ধন, দেশ, মানুষ, নিসর্গ, প্রকৃতির প্রকাশ তাঁর ছবির বিষয়বস্তু ড্রইংয়ে কিছুটা অজন্তা-ইলোরার প্রতিচ্ছাপ দেখা গেলেও সেগুলো শিল্পীর নিজস্ব অলংকারে রূপ নিয়েছে। তাঁর ছবির মানুষগুলো, নারী ও শিশু অথবা মা ও সন্তান বিচ্ছিন্নধর্মী বিমূর্ততায় রূপান্তরিত হলেও অবশেষে বাস্তবতাময়তার রূপে উদ্ভাসিত। শিল্পীর রং-বাছাই এবং রং-লেপন বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। ছবিগুলো প্রথমে আপাত জটিলতামুখী বলে প্রতীয়মান হলেও সেই পরিপ্রেক্ষিতে তা আরো সরল, সরাসরি ও স্পষ্ট হলে বেশ হয়।আটজন শিল্পীর এই চিত্রকর্মশালা প্রত্যেক শিল্পীর নিজস্ব সৃষ্টিশৈলীর চর্চায় প্রভূত অবদান রেখেছে, এ-কথা অস্বীকার করা যায় না। শিল্পকর্মের প্রসার, প্রচার, বিপণন, প্রদর্শনী – সব রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগঠিত হওয়ার বদলে এখন রুচিবান শিল্পপতিদের শৈল্পিক মনের সদিচ্ছা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক মূল্যের পাশাপাশি শিল্পপতির ব্যক্তিগত শিল্পরুচির প্রমাণ এবং ভোক্তাসমাজের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার সূচক-সন্ধানও এতে করে পাওয়া যায়। শিল্পের বহমান ক্রমধারা এভাবেই কালে কালে প্রবাহিত হয়। শিল্পী ও বোদ্ধা সেই অবস্থার ক্রীড়নক মাত্র। কথাগুলো প্রসঙ্গক্রমে এসে গেল, কেননা এখনো শিল্পচর্চা আমাদের দেশে সর্বজনস্বীকৃত নয় বরং তা একটি সীমান্তবর্তী বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে পরিচিহ্নিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে এ-যাবৎকালের মধ্যে সংঘটিত এতসব ভয়াবহ হৃদয়বিদারক অমানবিক ঘটনাবলির মধ্যেও যে শিল্প ও সৌন্দর্যের চর্চা প্রসারিত ও প্রচারিত হচ্ছে, তা সবাইকে আগামী সময়ের জন্যে আশাবাদী, কল্যাণমুখী ও শ্রেয়তর করে তুলতে সাহায্য করে বৈকি।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.