অনুবাদ : সুব্রত বড়ুয়া

মায়ের মৃত্যুর ব্যাপারটা খুব আবছাভাবে মনে পড়ে ওর। প্রথমেই মনে আসে তার বার্টা খালার চেহারাটা। কাটা-কাটা কথাগুলো বলতে বলতে তিনি তাঁর শোকের পোশাকটি বাছাই করেছিলেন আর তাঁর নিরুত্তাপ ঠান্ডা চাহনিটা সবখানেই চোখে পড়ছিল। মা-র মৃত্যুর আগে বার্টা খালার কথাটা বেবীর কখনো মনেও আসেনি : একেবারে ক্ষীণকায় এক মহিলা, কথা বলতেন খুবই কম (তিরস্কারের জন্য), সারাক্ষণ অভিযোগ করে যেতেন বেবীদের পরিবারের বিশৃঙ্খলা নিয়ে।

একবার সে বলতে শুনেছিল : ‘ওদের যা ইচ্ছে তা ওরা বলতে পারে, কিন্তু সিসিলিয়া’ – বেবীর মা – ‘অই মেয়েটিকে নিয়ে যা করছে তা বলার মতো নয় -’। খালা তাঁর পাঞ্চ থেকে এক চুমুক খেয়ে তারপর আবার বলতে শুরু করেছিল, ‘- সত্যিই তো, সিসিলিয়া সবসময়েই একটু ‘দুর্বল’। ভাগ্যটা খুব ভালো বলেই এতো ভালো বিয়ে হয়েছিল ওর, কিন্তু ক্রিশ্চিনের মৃত্যুর পর থেকেই, সিসিলিয়া আর অই মেয়েটি দিন দিন যেন আরো বেশি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটাকে অই স্কুলে দেওয়ার চিন্তাটা সত্যিই খুব ভালো একটা ব্যাপার ছিল… কী যেন বলো তোমরা?’

‘হেলেনা হারলিহি হল,’ তেরেসা নির্ভুলভাবে বলল (সে সবসময় ওখানে পড়তে চেয়েছিল)।

‘হ্যাঁ, সেটাই।’ আবার এক চুমুক পান করলেন তিনি।

এরপর থেকে, বেবীর খুব অবাকই লাগে যে, সে আর কখনো তার খালাকে বলতে শোনেনি, ‘আমি যদি মেয়েটাকে বড় করে তুলতাম, আমার সঙ্গে সে ঠিকভাবেই মানুষ হতো’, ইত্যাদি। সেজন্য তার আরো বেশি অবাক লাগে যে, মৃত্যুর সময় মা তাকে মানুষ করার এবং (‘নিকুচি করি আমি ওর!’ বেবী মেঝের ওপর থুতু ফেলে) তার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য টাকা-পয়সার দায়িত্ব নিতে বার্টা খালাকে অনুরোধ করেছিল।

আর একবার ওর খালা বলেছিলেন : ‘ওরা যে ওকে বেবী বলে ডাকে এটা আমার কাছে খুবই ক্ষতিকারক বলে মনে হয়… আমি ঠিক জানি না, তবে এ-হচ্ছে একটা ছ্যাবলামি, অর্থহীন নাম।’

অন্যদিকে বেবীর বাবার নাম যে ক্রিশ্চিয়ান, এটা তাঁর জন্য ছিল একটা আনন্দদায়ক ব্যাপার, কারণ এ-হচ্ছে একটা পুরুষালি নাম (‘বুড়ো ভাঁড়!’ বেবী মন্তব্য করে), খুবই সুরেলা এবং হ্যাঁ, ক্রিশ্চিয়ান (‘আমি বমি করে ফেলব’, বেবী আরো বলে)। বেবীর কাছে ওর ডাকনামের ব্যাপারটা কিছুই নয়, ওর বাবার নামটাও নয় (‘আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও, আর তোমরা যা ইচ্ছে আমাকে তাই বলে ডাকতে পারো’, বেবী জোর দিয়ে বলে, সিগারেটে অস্বাভাবিক একটা দীর্ঘ টান দিতে দিতে) : এখন এটা তার অভ্যেস হয়ে গেছে।

বেবীর মা যখন মারা যান তখন ওর বয়স ছিল বারো বছর। শোকের চেয়ে বরং বিস্ময়ের কারণেই সে তখন বেশি কেঁদেছিল। ওর মনে আছে বার্টা খালা কীভাবে তাকে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন : ওঁর শুকনো, হাড়সর্বস্ব হাত, আর ওঁর হাতের জপমালাটি তখন দুলছিল। মাকে সমাহিত করার সময় আরো অনেক বেশি কেঁদেছিল বেবী, ওর খালার কালো স্কার্টটা জোরে আঁকড়ে ধরে। সান্ত্বনা দেবার জন্যে পরিবারের অন্যরা ওকে লুফে নেবার চেষ্টার আগে সেই হাড়সর্বস্ব হাতটি বেবীর মাথা মুছে দিয়েছিল।

কিন্তু ওর খালাকে কখনো এ-কথা বলতে শোনেনি যে, ‘এখন যেহেতু মেয়েটা আমার কাছে আছে, সে নিশ্চয়ই শিখবে সভ্যতা-ভব্যতা বলতে কী বোঝায়’, অথবা এমন ধরনের অন্য কোনো কিছু। বেবী শুধু বিভ্রান্ত হয়ে দেখেছিল কীভাবে ওর জামাকাপড়ের যত্ন করছিল ওরা, এবং প্রায় কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মটোলিনিয়ার এই বোর্ডিং-স্কুলের ছাত্রী হয়ে গিয়েছিল, সেখানে ওর খালাতো বোন তেরেসাও পড়াশোনা করছিল।

‘আমি জঘন্য সব কাজ করেছি’, বেবী হাসল। ‘আমি তেরেকে সিগারেট খেতে উৎসাহ দিয়েছি, আর মোজা পরতে এবং কলোনিয়া দ্য ভ্যালের রাস্তাগুলোয় ঘুরতে শিখিয়েছি, গভীর চিন্তায় মগ্ন থেকে। ওই নোংরা নানরা (সন্ন্যাসিনী) যে আমাদের স্কুল থেকে বের করে দেয়নি তার কারণ ছিল ডোনা বার্টার প্রতি তাদের উচ্চধারণা। সে যাই হোক, ওই দুরাত্মা মহিলারা ছিল আমার খালার মতোই।’

 বেবীর দিকে চেয়ে দেখ : মুখে নিষ্ঠুর হাসি, তেরে এবং অন্য মেয়েরা ওর কথার বাইরে যেতে পারে না। এবং ওরা ওদের নতুন শিক্ষিকাকে আমন্ত্রণ জানাল। ‘সামান্য একটু ঠান্ডা ড্রিংক, তাহলে নিজেকে আর একা মনে হবে না আপনার। আমরা তো প্রায় একই বয়সী।’ নতুন শিক্ষিকাটি তাঁর লেখাপড়া শেষ করেছে কেবল এবং এখন মটোলিনিয়ায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছে। সে দেখল, যে-পানীয়টি তাকে খেতে বলা হচ্ছে তা হলো রাম, কিন্তু সে এতই ভয় পেয়েছিল যে, একটি কথাও না বলে ঢক ঢক করে পানীয়টুকু খেয়ে ফেলেছিল। আর শেষ পর্যন্ত সারা স্কুলজুড়ে দৌড়ে বেড়াতে হয়েছিল তাকে।

‘তোমরা, তোমরা সব নান-ই জোচ্চরের দল, আমাকে মাত্র চারশ পেসো দাও তোমরা, আর আমি গাধার মতো খেটে মরি, ঈশ্বর তোমাদের অবশ্যই শাস্তি দেবেন, তোমরা, ডাইনিরা!’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েদের সামনেই সে তার পোশাক তুলে ধরেছিল আর ভেতরের খাটো অন্তর্বাসটা দেখিয়েছিল।

‘এটা খুব লজ্জার ব্যাপার, সিনরিতা।’ করতালি দিয়ে প্রশংসা করেছিল বেবী।

 রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদার পরিচালিকা অভিযোগ করেছিলেন ডোনা বার্টার কাছে, আর বেবী দীর্ঘ বিস্তারিত একটা চিঠি পেয়েছিল খালার কাছ থেকে (‘তুমি একটা খুব খারাপ মেয়ে, আমি যেহেতু সেখানে নেই, তুমি তোমার খালাতো বোনকেও নষ্ট করছ, আমাদের পরিবারের নাম ডোবাচ্ছ। আমার বোন সিসিলিয়া বেঁচে থাকলে তোমার কারণেই লজ্জায় মরে যেতে হতো ওকে, তোমাকে কেউ মানুষ করার চেষ্টাও করেনি’), এবং সপ্তাহান্তে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দিয়ে তিনি ওকে শাস্তি দেন (‘তামাশা আর কি, আমি এক সপ্তাহান্তে কোথাও যাইনি কখনো’, বেবী ব্যাখ্যা করে এবং সে আরো যোগ করে : ‘চিঠির কাগজটি যদিও ছিঁড়ে গিয়েছিল, যখন বাথরুমে গিয়েছিলাম তখন সেটি টয়লেট পেপার হিসেবে ব্যবহার করি আমি।’) তিনি তেরেসাকেও তিরস্কার করেছিলেন (যদিও এর মাত্রাটা একটু কম ছিল)। তেরেসা হচ্ছে ইস্টার খালার মেয়ে এবং সে সবসময় মটোলিনিয়াতেই পড়াশোনা করেছে।

বেবী তার বিজনেস কোর্সটা শেষ করেছিল (সতেরো বছর বয়সে, কারণ সে কলেজ প্রিপারেটরি কোর্সটা নেয়নি), এবং ওর খালা বেবীকে আকাপুলকোয় থাকার ব্যাপারে বাধা দেওয়ার কোনো কারণও খুঁজে পাননি, কারণ ওর পরিবার সেখানেই থাকত।

আকাপুলকোয় বেবী কোনো কাজ করত না, কিংবা কোনো লেখাপড়াও করত না। তাকে থাকতে হতো তার খালার সঙ্গে এবং কেবল সপ্তাহান্তেই সে তেরেকে দেখতে যেত। তেরেসা তখন হোটেল ক্যালেটায় সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছিল।

সে ঘুম থেকে উঠত খুব দেরি করে। সকালের নাশতার আগেই সিগারেট খেত সে, আর এতে তার খালা আরো ক্ষেপে যেতেন। সে তাকে একটা গাড়ি কিনে দেবার জন্যে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু তার অনুরোধ ওরা কেউ রক্ষা না করায় সে ক্রুদ্ধ হয়ে পুরানো লক্কড়-ঝক্কড় হিলম্যানটিই মেরামত করে নিয়েছিল। এ-গাড়িটি ছিল তার মায়ের। মেলায় যাবার সময় এটি ব্যবহার করত ওরা। প্রতিদিন, এমনকি, বৈরী ঋতুতেও সে গাড়িটি নিয়ে কনডেসায় চলে যেত, সেখানে জমায়েত হতো ছেলেরা।

ওদের সবার সঙ্গেই মিশত বেবী, কিন্তু কেবল জোর্গের কথাবার্তাই সহ্য করতে পারত সে।

‘ও একটা নির্বোধ’, সে বলত, ‘তবে বেশ মজার।’

বাড়িতে সবাই ওকে এ-ই বলে দোষ দিত যে, সেসংশোধনের অতীত, নির্লজ্জ, ক্ষুদে শয়তান ইত্যাদি, তবে আসল সত্য ছিল, বেবী নিজে রক্ষণশীল ছিল অর্থাৎ পিউরিটান। সত্য হলো, সে প্রায়শ জোর্গেকে চুম্বন করত, কিন্তু – ‘ওতে কিছু যায়-আসে না’, বেবী ফুর্তির মেজাজে বলে।

সে পার্টিগুলোতে যেত, অনেক রাত পর্যন্ত সেখানে থাকত এবং ওর খালার তিরস্কারের জবাব দিত কেবল হ্যাঁ বা না ইত্যাদি একটিমাত্র শব্দ বলে বা ধ্বনি উচ্চারণ করে। সে র‌্যালে ফিল্টার-টিপ সিগারেট খেত আর ওর পানীয় ছিল ভোদ্কা মার্টিনি। এতদসত্ত্বেও সে কখনো সকাল নটার চার্চ-সমাবেশে না গিয়ে পারত না (রবিবারের পর রবিবার)।

তারপর একটা সময় এলো যখন সে তার খালার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিল এবং ওদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ হতো বাড়ির চাকর ও আত্মীয়দের মাধ্যমে।

মাঝে মাঝে তেরে ওকে একটু-আধটু বলতে চেষ্টা করত খালার সঙ্গে সম্পর্কটা আরো ভালো করতে।

‘দেখ, তেরে, তোমার মাথায় ছিট আছে, কিন্তু আমি তোমাকে পছন্দ করি, অতএব তোমার মুখের নালিটা বন্ধ করো এবং এ-ব্যাপারে আর কখনো কিছুই বলবে না তুমি।’

‘তুমি কী বললে, বেবী!’

এদিকে ইস্টার খালাও সপ্তাহে একবার করে উপদেশ দিয়েই যেতেন : ‘বেবী, তুমি ঈশ্বরের আইন এবং সেন্ট পিটার ও সেন্ট পলের কাছে পাপ করে যাচ্ছ। বার্টার সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসতে হবে তোমাকে, তুমি মেরে ফেলছ ওকে, বুঝতে পারছ না সেটা?’

‘অনেক হয়েছে!’ বেবী একবার ফেটে পড়েছিল। ‘হয় আমাকে বিরক্ত করা বন্ধ করো, না হলে আমি লাথ মেরে ফেলে দেবো তোমাকে। আমি যদি বুঝতে না পারি তাহলে কী হয়েছে? তুমি কি বুঝতে পারছ না যে, উনি আমার টাকা-পয়সা চুরি করছেন, বদমাশ এক মহিলা, আমার মাকে কী করেছিল কে জানে আর সেজন্য আমার ওপর খবরদারি করার ক্ষমতাটা উনি পেয়ে গেলেন। অই বুড়ির ওপর আমি বমি করি। পারলে আমি আমার নখ ঢুকিয়ে দিয়ে ওর চোখগুলো বের করে আনতাম। তারপর সেগুলো মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মাড়াতাম।’

‘শান্ত হও, বেবী।’

যেসব দিনে ভিড় একটু কম থাকত সেসব দিনে বেবী একা সমুদ্রতীরে হেঁটে বেড়াত। একদিন, কোনো চিন্তা ছাড়াই, সে বসে পড়েছিল সাগরতীরে।

বালির ছোট ছোট ঢিবি তৈরি করেছিল সে, তারপর আবার সেগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল সাগরে।

‘দেখ, খালা’, সমুদ্রকে বলেছিল সে, ‘তুমি আমাকে এতো সহজে বোকা বানাতে পারবে না। তুমি পুরো পরিবারের ওপর খবরদারি করতে অভ্যস্ত, কিন্তু আমার ওপর সেটা তুমি পারবে না। আমার কথাটা শোনো একবার। আমি এর মধ্যে সবকিছুই জেনে ফেলেছি। তুমি আমার মাকে বিষ দিয়েছিলে। তুমিই বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছিলে ওকে। আমার মা যখন মারা যাচ্ছিল তখন সেই নোংরা কাগজটা সই করতে বাধ্য করেছিলে তুমি ওকে। ওতে লেখা ছিল – আমার বাবা-মার দায়িত্ব পালন করবে তুমি আর আমার সব টাকা-পয়সার ব্যবস্থাপনাও থাকবে তোমার হাতে। আমার মা-র তখন শেষ অবস্থা, গলা আটকে যাচ্ছিল ওর আর তোমার দিকে তাকিয়ে ছিল সেই দৃষ্টিতে, যাতে মা বিশ্বাস করতে পারছিল না তুমি ওকে বিষ দিতে পারো। কারণ, তুমি সেটাই করেছিলে। তুমি ওকে হত্যা করেছ। আর এখন আমাকেও মেরে ফেলতে চাও তুমি। আমি সত্যিই এখন সবকিছুই খুঁজে পেয়েছি। পাইনি? তুমি চুপ করে আছ কেন, বেকুব কোথাকার? যদি সাহস থাকে তাহলে অস্বীকার করো। আমার সঙ্গে তুমি ওটা করতে পারবে না!’

বেবী সমুদ্রে থুথু ছুড়ে মেরেছিল।

‘কিন্তু তোমাকে কল্পনা করতে হবে একবার সে কী বলেছিল’, বেবী নির্দিষ্ট করে বলল। ওর চোখদুটো বিছানার ওপর, কিছুটা বিষণ্ন।

খুব শীতল কণ্ঠে বার্টা বলেছিলেন, ‘দেখ নীনা, সবকিছু ঠিকভাবে চালিয়ে নেবার জন্যে আমাদের পক্ষে যা সম্ভব তা আমি করেছি, কিন্তু আমি পারিনি। তোমার উপর শয়তান ভর করেছে। তোমার ব্যাপারে আমি আর     কিছুই জানতে চাই না। তোমার বয়স একুশ বছর না হওয়া পর্যন্ত তোমার টাকা-পয়সা আমি তোমাকে দিতে পারি না – ’

‘আহ্?’

‘- তুমি জানো সেটা। আর মাত্র দেড় বছর বাকি। এই সময়টায় তুমি কি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাও, অথবা কোথায় তুমি যেতে চাও?’

‘হ্যাঁ, তবে টাকাটা আমার না হওয়া পর্যন্ত। ততদিন পর্যন্ত, চলে যাও এখান থেকে, শান্তিতে থাকতে দাও আমাকে।’

‘কেমন ছিটগ্রস্ত ছিলাম আমি, তাই না?’ বেবী মন্তব্য করল। ‘তাছাড়া অই সময়ে আমার মাসিক চলছিল। আমি সমুদ্রতীরেও যেতে পারছিলাম না, কারণ আমার কোটেক্স তখন সবার চোখে পড়বে। আমি কাউকে দেখাতে চাইনি। সাংঘাতিক রেগে গিয়েছিলাম আমি।’

জোর্গে, ম্যালেনা, চুপেতা, রডোল্ফো, টোমাস এবং বেবী বেড়াতে গিয়েছিল রেবোজোতে। টোমাস হচ্ছে মিউনিসিপ্যাল প্রেসিডেন্টের ছেলে এবং সে নিজেকে আকাপুলকোর ডন জুয়ান ভাবত। সে বেবীকে নাচতে নিয়ে গিয়েছিল, জোর্গে ওদের দেখছিল ঠান্ডা চোখে, হাতের গ্লাসটা তুলে দোলাচ্ছিল সে, আর বরফগুলো টুংটাং শব্দ করছিল।

একটু পরই ভ্রƒকুটি করতে করতে ফিরে এসেছিল বেবী। টোমাস হাসছিল। এবার সে ম্যালেনাকে নিয়ে নাচতে গিয়েছিল। আট মিনিট ধরে রাম্বা বাজাচ্ছিল কম্বো। এক চুমুকেই তার ভোদ্কা মার্টিনি শেষ করে ফেলেছিল বেবী। জোর্গে এগিয়ে এসেছিল ওর দিকে।

‘কী হয়েছে তোমার, বেবী?’

‘কিছু না।’

‘টোমাস কি তোমাকে কিছু বলেছে?’

‘না।’

‘সে কি তোমায় জোরে চেপে ধরেছিল?’

‘আমরা সেভাবেই তো নাচি সবসময়।’

‘সে কি তোমার নিচে হাত দিয়েছিল?’

‘না।’

‘চলো।’

‘আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও, ভাঁড় কোথাকার।’

জোর্গে এবার তার বাবা-মা সম্পর্কে দীর্ঘ ও বিস্তারিত একটা কাহিনী শোনাল : ওরা তাকে কোনো একটা কাজে দিতে চেয়েছিল। বিরক্তিকর ব্যাপার একটা, বেবী সাগরপারে চলে গিয়েছিল।‘এটা এরকম থাকবে না, খালা’ সে সমুদ্রকে বলেছিল।

‘আমি জানতাম না কী করব আমি’, বেবী ব্যাখ্যা করছিল, যখন নার্স কমলার রসটা ওর হাতে দিয়েছিল। ‘আমি সবকিছুর ওপর বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম…’

বার্টা খালা যখন মারা গেলেন (হার্ট অ্যাটাক, ডাক্তারদের অভিমত), তখন সবাই অবাক হয়েছিল। বার্টাকে দেখতে বেশ শক্তই মনে হতো, কঠিন, তবু জীবনীশক্তি তার মধ্যে তো ছিলই। ওয়েক মানে মৃতদেহের পাশে সারারাত ধরে বিলাপ এবং সুরাপান-পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাঁর বাড়িতেই। বেবী ওর ঘর ছেড়ে বেরুতে রাজি হয়নি। প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর কোনো-না-কোনো খালা বা বোন ওর ঘরের দরজায় করাঘাত করছিল। ‘তোমাকে ওখানে যেতে হবে। বেরিয়ে এসো। ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন।’

‘গোল্লায় যাও তোমরা!’ বেবী বিড়বিড় করে বলছিল, বিষণ্ন, বিছানার মাথার দিকে কুঁকড়ে পড়েছিল সে, ঘুমোয়নি, ওয়েকে যোগদানকারীদের কথাবার্তা, নানা শব্দ সে শুনছিল। আকাপুলকোর সবাই এসেছে।

পরদিন।

সে কেবল তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল। পেছনে ওর খালারা, খালাতো-মামাতো বোনেরা দেখছিল ওকে, নিজেদের মধ্যে নানারকম কথা বলছিল, দূরে দাঁড়িয়ে।

‘সে যাই হোক, এতে আমার কিছু যায় আসে না,’ বেবী বোঝাচ্ছিল নিজেকে, চাদরগুলো টান টান করে দিতে দিতে। ‘ওদের যা ইচ্ছা ওরা তা বলতে পারে, আমার কিছুই করার নেই।’ নির্বোধ সব, নিজেকে বলল সে, একদল নির্বোধ ছাড়া আর কিছু নয়।

কালো একটা বিকিনি এবং লাল ব্লাউজ পরল সে। তারপর জানালার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেল, যাতে ওরা সবাই তাকে দেখতে পায়। তখন তার মনে হলো, কী করবে তা সে জানে না। আমি সাগরসৈকতে যাবো। একটা টেলিফোন বুথের দিকে এগিয়ে গেল সে। স্লটে কয়েন ফেলল। রিং হচ্ছিল, নিদ্রাজড়িত কণ্ঠ।

‘জোর্গে?’

‘হ্যাঁ, কে বলছ?’

‘বেবী।’

‘রাখো বেবী, এখন বিরক্ত কোরো না আমাকে। এটা কি ফোন করার সময়!’

‘এখন সোয়া বারোটা।’

‘খুবই সকাল এখন।’

‘তুমি কি আমার সঙ্গে সমুদ্রতীরে যাবে?’

‘দেখ, তোমার খালা মারা গেছে না?’

‘হ্যাঁ, উনি তো মারা গেছেনই।’

‘ওনাকে সমাধি দেবার জন্যে যাচ্ছ না তুমি আজ?’

‘আমি জানি সেটা। ঠিক আছে। তুমি যদি আসতে না চাও, কোনো অসুবিধে নেই। সিয়াও।’

‘দাঁড়াও, পাগল হয়ো না।’

‘তাহলে তুমি আমার সঙ্গে যাবে?’

‘হ্যাঁ।’

একটা ট্যাক্সি খুঁজতে লাগল সে। একবার তার মনে হয়েছিল, হিলম্যানটা নেবে সে, কিন্তু তাহলে আবার তাকে বাড়ি ফিরতে হয়। হঠাৎ তেরে পেছন থেকে এসে ওকে ধরে ফেলল। বেবী আকাপুলকোর ট্যাক্সিগুলোকে অভিশাপ দিল। (‘আপনার যখন প্রয়োজন তখন আপনি ওদের কাউকে দেখতে পাবেন না,’ সে বলল।)

‘ঝামেলা কোরো না। তোমাকে শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যেতে হবে।’

‘তুমি যা করছ তা সত্ত্বেও তোমাকে আমি পছন্দ করি, তেরে। তোমার আর কিছু না বলাই ভালো।’

‘তুমি বুঝতে পারছ কি তুমি কী করছ? কাল রাতে তুমি ওয়েকে ছিলে না। আমার মা আর ক্রাজ খালা এর মধ্যেই নানা কথা বলতে শুরু করেছে।’

‘তাহলে ওদের বলতে দাও, সুইটি। আমি আশা করছি, ওঁদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানও শিগগিরই হবে এবং আমি কোনোটাতেই যাবো না।’

‘তাহলে তুমি যেতে চাও না, – সত্যিই তুমি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যাবে না?’

‘না। দেখছ না কোন ব্লাউজ আমি পরেছি?     আমি সাগরপারে যাচ্ছি। তুমি আমার সঙ্গে আসতে চাও না?’

বেবী যখন ট্যাক্সিতে উঠে চলে গেল তখন তেরে সেখানে নিশ্চল দাঁড়িয়ে রইল।

 জোর্গে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের কথাটা আর বলেনি, আর বেবীর তো ওর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। সৈকতে ছেলেদের সঙ্গে দেখা হলো ওদের (‘অবশ্যই আমাকে দেখে ওরা অবাক হয়েছিল’, ওষুধের বোতলটার দিকে তাকিয়ে বেবীর মনে পড়ল)। ওরা তাকে কয়েকটা প্রশ্ন করেছিল। বেবী এড়িয়ে যাওয়ার মতো করে উত্তর দিয়েছিল সেগুলোর।

তারপর ওরা সবাই গিয়েছিল রেস্তোরাঁয়। সবাই বিয়ারের অর্ডার দিয়েছিল। কেবল বেবীই ভোদ্কা মার্টিনির অর্ডার দিয়েছিল, ‘একেবারে নির্জলা, প্লিজ।’ কম্বোর গান চলছিল সেই একটানা সুরে, কিন্তু কেউই আর বেশি কিছুর দাবি জানায়নি।

‘দেখ, বেবী’, টোমাস বলেছিল, ‘তোমার নতুন ধনসম্পদ-প্রাপ্তিটা আমরা উদ্যাপন করব সার্ফিং ডান্স দিয়ে।’

 বেবী এতে মোটেই বিরক্ত হলো না। ভ্রƒকুটি করে সে নাচার জন্যে উঠে গেল। টোমাস নাচল ওর সঙ্গে, তবে বেবীর দিকে তাকাল না ও। কয়েকজন ট্যুরিস্ট ছবি তুলল ওদের, বলল, ‘এরা সত্যিই দারুণ।’ জোর্গে যখন একই নাচ নাচার জন্যে আবার বেবীকে বলল, তখন বেবীর নিজেকে ক্লান্ত মনে হচ্ছিল খুব।

‘আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে, ধনী মহিলারা আকাপুলকো থেকে চলে গেছে। সেই সোনালি দিনগুলো কোথায় যখন এমনকি টেবিলের নিচেও থাকত ছোট ছোট ট্র্যাম্প? আমরা বুড়ো হয়ে গেছি…’

‘বুড়ো হয়েছে তোমার মা।’ সবাই চিৎকার করে বলল। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে জোর্গে প্রেসিডেন্টেতে বেলবয় হিসেবে তার নতুন চাকরির কথা বলল। সে প্রায় বিষণ্ন হয়ে গেছে। সেই ছেলেবেলা থেকেই জোর্গে বেবীকে চিনত।

‘জোর্গেরও মাথায় গোলমাল আছে’, বেবী বলতে লাগল।

 বেবী সৈকতের দিকে নেমে গেল। সে দেখছিল, অবদমিত হিংস্রতা নিয়ে ঢেউগুলো তার পায়ের ওপর আছড়ে পড়ছে। তার অনেকদূর হাঁটা দরকার (‘ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত’) – এই কথাটি তাকে অধিকার করে রেখেছিল। লোকজন যেখানে প্রায়ই যায় সে-এলাকাগুলো ছাড়িয়ে সে এগিয়ে গেল। সে হাঁটতে লাগল কেবল, তারপর থামল গিয়ে সেখানে, যেখানটায় কিছু পাথর সৈকতটাকে আলাদা করে দিয়েছে। সেখানে বসল সে। বালির ছোট ছোট ঢিবির ওপর তার আঙুলগুলো খেলা করছিল এবং ভীষণ কষ্টের হাসি হাসল সে। বালি ছড়িয়ে ফেলতে লাগল তার পায়ের ওপর। আমি কিছুই ভাবতে চাই না, আমি এখন স্বাধীন, এবার আমি এই নোংরা পরিবার থেকে অনেক দূরে চলে যাবো, আমার যা ইচ্ছা তা হতে পারব আমি, আমি যা পছন্দ করি তা শিখতে পারব, আমি একা থাকতেই বেশি পছন্দ করি, চুপচাপ থাকতে পারব আমি, শান্তিতে বাঁচব…। কিন্তু সে মনের মধ্যে শান্তি পাচ্ছিল না; স্নায়ুর শেষপ্রান্তে      পৌঁছে গিয়েছিল সে; সমুদ্রের পানি ছুঁয়ে যাচ্ছিল তার পা আর তাকে যেন মৃত্যুর পরশ দিয়ে যাচ্ছিল সেই সঙ্গে।

‘আমার খারাপ লাগছিল কারণ, আমি যখন উঠে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন আমার গায়ের জামাটিতে বালি লেগে ছিল, বালি ছিল আমার বিকিনিতে, আমার পায়ে,’ বেবী হাসল। ওষুধের বোতলটা একবার ওপর দিকে একবার নিচের দিকে করছিল সে।

তারপর সে খুব রেগে গিয়েছিল, কারণ কয়েকজন লোক একদৃষ্টে তাকে দেখছিল। ওরা একটু দূরে ছিল। কয়েক পা হাঁটল সে, তারপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। চোখ ভিজে আসছিল তার, মনে হচ্ছিল কেঁদে ফেলবে সে।

‘ধাড়ি মেয়ে কোথাকার, বোকার মতো কাজ কোরো না’, চিৎকার করে বলল জোর্গে, কিন্তু অনুতপ্ত হলো সে তখনই। ‘আমাকে ক্ষমা করো, বেবী’, কাছে আসতে আসতে বলল সে।

নির্বোধ একটা!

ওরা দুজনে ফিরে গেল রেস্তোরাঁয়। ততক্ষণে অন্যরা টোমাসের বাড়িতে যাবার জন্যে সেখান থেকে চলে গেছে। ওরা দুজনে পাগলের মতো পান করল। (‘আমি কোনায় মেঝের ওপর বসে, হাতে গ্লাস নিয়ে’, বেবী বলল।) সে নাচতে অস্বীকার করল। ওর কৌতুক শুনে সবাই ওর কাছ থেকে দূরে রইল।

টোমাস যখন টেবিলের ওপর উঠে গিয়েছিল তখন বেবী নেশায় একেবারে বুঁদ।

‘শোনো, রডোল্ফো এইমাত্র জেল থেকে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। খুব খারাপ আচরণ করার জন্যে ওরা ধরে নিয়ে গেছে ওকে। বোকা একটা! এখন ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে হবে আমাদের, তাই না?’

টোমাস বিচারক ধরনের একটা লোকের সঙ্গে তর্ক করেছিল।

‘আমরা জানি বন্ধু, ওপরতলার কোনো প্রভাবে আমাদের লম্বা-পায়ের রডোল্ফো রডিল্লাকে জেলে পুরেছে ওরা। আমরা ওকে নিয়ে যেতে এসেছি।’

বিচারক মনে-হওয়া লোকটি বলল, রডিল্লাকে এক হাজার পেসো জরিমানা দিতে হবে (‘এক হাজার পেসো!’ ওরা সবাই র্গর্গ করছিল), কারণ একটা বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে খারাপ কাজ করার সময় সৈকতে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ও। তবে মেয়েটা পালিয়ে গেছে।

‘খুব খারাপ’, বেবী বোঝাল নিজেকে। ‘আমার কেবল এটুকু মনে আছে যে, টোমাস ওর বাবাকে বলবে বলে ভয় দেখাচ্ছিল।’

অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিচারক লোকটি রডোল্ফোকে ছেড়ে দিয়েছিল। বেশ হৈচৈ করে স্বাগত জানানো হয়েছিল ওকে। বেবী ছিল পুরো মাতাল, গ্লাস তার হাতেই ছিল।

‘আমি একটা টোস্ট প্রোপোজ করছি, বুঝতে পারছ?’ বেবী হাসতে হাসতে বলেছিল। ওষুধের বোতলটা তখনো ওর হাতে।

বেবী ওদের সঙ্গে ওদের গাড়িতে গিয়ে উঠেছিল, বসেছিল টোমাস আর রডোল্ফোর মাঝখানে। রডোল্ফো ওকে বলল, ‘দেখ, তোমার খালা মারা গেছে না?’

বেবী ওর চোখের দিকে তাকাল। ওর মাথায় কিছুই ঢুকছিল না, চোখের পাতা ভারি হয়ে আসছিল, তারপর সে উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ, আমি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যাবো।’

‘হ্যাঁ, আমি সে-কথাই বলেছিলাম,’ বেবী স্বীকার করল, চাদরগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে।

গাড়িটা থামানোর জন্যে ওদেরকে অনুরোধ করেছিল সে, তারপর রাস্তায় নেমে গিয়েছিল, পাদুটো টলছিল তার, বমি আসছিল।

সমাহিতকরণের কাজ তখন শেষ হয়ে গেছে আর বার্টা খালার কবরের ওপর অনেকগুলো ফুলের তোড়া পড়ে ছিল, অসংখ্য। বেবী জানত না কী সে করছিল ওখানে। মাটির স্তূপ দেখে, সোঁদা গন্ধ আসছিল ওগুলো থেকে, আর তার ওপর সস্তা ফুলের তোড়াগুলো, আর ক্রাউনগুলো যেন দ্যুতির বলয় – বমি এসেছিল ওর।

‘আমি, শপথ করে বলছি, সামলাতে পারিনি’, বেবী ফিসফিস করে বলল, চাদরগুলো জোরে আঁকড়ে ধরেছিল সে। নার্স ওর পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।

সে নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করল, কিন্তু পারেনি। তারপর সেই ফুলগুলোর ওপর অনেকক্ষণ বমি করেছিল সে (‘আমি মানসিক রোগীর মতো বমি করেছিলাম,’ বেবী স্পষ্টভাবে বলল)। এরপর সে উঠে বসেছিল মাটির ওপর, বিড়বিড় করে কিছু বলতে বলতে, কবরের দিকে তাকিয়ে :

‘প্রিয় খালা আমার, যেহেতু আমরা একই পরিবারের, তাহলে সবকিছু বুঝিয়ে বলো আমাকে।’

এবং সে সেখানে মাটির ওপর বসে রইল; অপেক্ষা করছিল কখন ওর খালা কথা বলতে শুরু করবে তার জন্যে। [জোসে অগাস্টিন রামিরেজের জন্ম ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর পুরো নাম জোসে অগাস্টিন রামিরেজ। তিনি জন্মেছিলেন মেক্সিকোর জালিস্কো স্টেটের গুয়াদালজারায়। তাঁর বাবা ছিলেন মেক্সিকান এয়ারলাইন্সের একজন পাইলট। তাঁর প্রথম উপন্যাস (ঔপন্যাসিকা) লা টুম্বা প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। তাঁর এ-বইটিতে মেক্সিখো শহরের অভিজাত বড়লোকদের ছেলেমেয়েদের নানারকম অনৈতিক কাজের বর্ণনার মাধ্যমে তিনি সমাজের কালো দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন। এ-গল্পটি সেই লা টুম্বা বইটিরই একটি কাহিনী।]